Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

রূপগড় কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা রূপসা চক্রবর্তী
#3

রাজের রক্ত তখনও ফুটছিল। ইকবালের বলা সেই কুরুচিকর কথাগুলো তার কানের মধ্যে ড্রামের মতো বাজছিল—“ফর্সা পিঠ দেখে আমার সেক্স উঠে গেছিল... হ্যান্ডেল মেরেছি...”। এই বিষাক্ত শব্দগুলো রাজের কিশোর মনটাকে বিষিয়ে দিয়েছিল। সে কোনোভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছিল না।
কলেজের মেইন গেটের বাইরে রূপসা চক্রবর্তী তখন তাঁর স্কুটির হ্যান্ডেলে হাত রেখে দাঁড়িয়েছিলেন। গায়ে হালকা কটন সিল্কের শাড়ি, চুলে পরিপাটি করে বাঁধা খোঁপা আর চোখে রোদচশমা—সবমিলিয়ে তিনি বরাবরের মতোই অনিন্দ্যসুন্দরী ও গ্ল্যামারাস। মায়ের মুখের সেই নির্ভেজাল স্নেহমাখা হাসিটা সেদিন রাজের বুকের ভেতর এক অদ্ভুত যন্ত্রণার সৃষ্টি করল। রূপসা স্কুটি স্টার্ট করে একটু পেছন ফিরে রাজকে বললেন, “কী রে রাজ? দাঁড়িয়ে রইলি কেন? ওঠ তাড়াতাড়ি, বাড়ি যেতে হবে তো। খিদে পেয়েছে নিশ্চয়ই?”
রাজ একটু ঢোক গিলল। তার গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে মাকে বলল, “মা, তুমি এক কাজ করো... তুমি স্কুটি নিয়ে বাড়ি চলে যাও। আমার কলেজের লাইব্রেরি থেকে একটা বই নেওয়ার আছে, আর একটু জরুরি কাজ আছে বন্ধুদের সাথে। আমার একটু দেরি হবে। তুমি চিন্তা কোরো না, আমি হেঁটে বা বাসে চলে আসব।“রূপসা একটু অবাক হলেন। ছেলের এই অদ্ভুত আচরণ তাঁর চোখ এড়াল না। তিনি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, “বই নেওয়ার তো কথা ছিল না! তাছাড়া তুই একা আসবি কেন? ওঠ স্কুটিতে, একসাথে যাব।“



কিন্তু রাজ সেদিন অনড়। সে জোর গলায় একটু কঠিন স্বরেই বলল, “না মা, প্লিজ তুমি যাও। আমার একটু সময় লাগবে।“
ছেলের জেদের সামনে হার মানলেন রূপসা। তিনি আর বেশি কথা বাড়ালেন না। বললেন, “ঠিক আছে, বেশি দেরি করিস না কিন্তু। আর সাবধানে আসিস।“ এই বলে রূপসা স্কুটি স্টার্ট দিলেন। হাই হিল সমেত তাঁর পারফেক্ট ফিগারের সেই চেনা ছন্দ তুলে স্কুটিটা যখন ধুলো উড়িয়ে চোখের আড়াল হলো, তখন রাজের মুখটা আরও কঠিন হয়ে গেল। সে জানত, ইকবাল এখন কোথায় থাকতে পারে। কলেজ ছুটির পর ইকবাল আর তার কয়েকজন বন্ধু সাধারণত মাঠের ধারের ওই পুরনো বটগাছটার নিচে সাইকেল নিয়ে আড্ডা দেয়।
রাজ দ্রুত পায়ে হেঁটে সোজা সেই বটগাছের তলায় গিয়ে পৌঁছাল। দূর থেকেই দেখা গেল ইকবাল তার দুই-তিনজন চামচাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে   হাসাহাসি করছে। রাজকে একা ওইভাবে হেঁটে আসতে দেখে ইকবালের মুখের হাসিটা একমুহূর্তের জন্য উবে গেল। সে হয়তো ভেবেছিল ক্লাসের ওই মারামারির পর ব্যাপার ওখানেই মিটে গেছে। ইকবাল একটু আড়ষ্ট হয়ে ইশারা করে বন্ধুদের বলল, “আরে ওই দেখ, রাজ আসছে।“



রাজ কোনো কথা না বলে সোজা গিয়ে ইকবালের সামনে দাঁড়াল। তার চোখে তখন কোনো ভয় বা দ্বিধা ছিল না, ছিল শুধু পৈশাচিক আক্রোশ। ইকবাল একটু আমতা আমতা করে বলে উঠল, “কী রে রাজ? আবার কী হয়েছে মেরে এখনো শান্ত হসনি ? তুই তোর মায়ের সাথে বাড়ি গেলি না...”
ইকবালের সেই বাক্যটা সম্পূর্ণ হওয়ার কোনো অবকাশই দিল না রাজ। তার বুকের ভেতরে জমে থাকা সমস্ত ঘৃণা, ক্ষোভ এবং মাতৃভক্তির অবমাননার জ্বালা একবিন্দুতে এসে মিলিত হয়েছিল। রাজ এক ঝটকায় এগিয়ে গিয়ে সজোরে ইকবালের কলার চেপে ধরল। সেই আকস্মিক আক্রমণে ইকবাল কোনো প্রতিরোধের সুযোগই পেল না। রাজের ডান হাতটা তখন যেন কোনো বজ্রপাতের মতো নেমে এল ইকবালের মুখের ওপর। একটা শক্ত, ভারী মুষ্টিবদ্ধ ঘুসি সরাসরি গিয়ে লাগল ইকবালের নাকে আর ঠোঁটে।ইকবালের বন্ধুরা ভয়ে পেছনের দিকে সরে গেল, কেউ রাজকে আটকানোর সাহস পেল না।




একটা আর্তনাদ করারও সুযোগ পেল না ইকবাল। সেই প্রথম ঘুসির আঘাতেই তার নাক দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে বের হলো।  রাজ একটা বন্য পশুর মতো ইকবালের বুকের ওপর চেপে বসল এবং একের পর এক ঘুষি চালাতে লাগল ইকবালের মুখ, বুক আর চোয়ালের ওপর। ইকবালের দুই বা তিন জন চামচা বন্ধু দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। রাজের সেই উন্মত্ত রূপ এবং চোখে রক্তের নেশা দেখে তাদের এতটুকু সাহস হলো না এগিয়ে এসে ইকবালকে রক্ষা করার। তারা কেবল ভয়ে থরথর করে কাঁপতে লাগল।

ইকবাল যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আর্তনাদ করে উঠল, “বাপরে! মারিস না! মরে যাব তো! ছাড় আমাকে রাজ! ভুল হয়ে গেছে! আর কোনোদিন বলব না!”

কিন্তু রাজের কান তখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে ইকবালের শার্টের কলার দুই হাতে শক্ত করে মুঠো করে ধরে তার মাথাটা সজোরে মাটিতে থাকা একটা পাথরের টুকরো বা পাকা রাস্তার ধারের সঙ্গে ঠুকে দিল। একটা ভারী শব্দ হলো—‘ঠাস!’ ইকবালের কপাল ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগল। তার মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ ছাড়া আর কোনো ভাষা বের হচ্ছিল না। ইকবালের মুখের চামড়ায় রক্তের লাল ছোপ আর ধুলোর আস্তরণ মিলে তাকে এক করুণ ও শোচনীয় রূপ দিয়েছিল।




রাজ যখন দেখল ইকবালের মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে এবং সে আর প্রতিরোধ করার বিন্দুমাত্র শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে, তখন তার ভেতরের সেই দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনটা একটু কমল। সে হাঁপাতে হাঁপাতে ইকবালের কলার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার নিজের হাত দুটো সামান্য কাঁপছিল, জামার কাপড়ে ইকবালের নাক ও কপাল থেকে ছিটকে আসা রক্তের কয়েকটি ফোঁটা লেগে গেছে। রাজ তার সেগুলো   তার  হাতের শার্ট এর উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে ফেলল। তারপর মাটিতে পড়ে থাকা যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকা ইকবালের দিকে রক্তিম ও শীতল চোখে তাকিয়ে ঠান্ডা, চাবুকের মতো জখম করা গলায় বলে উঠল, “আজ তো শুধু তোর কপাল ফাটিয়ে দিলাম। এরপরে যদি আমার মা বা আমার ফ্যামিলি নিয়ে একটাও নোংরা কথা তোর এই জঘন্য মুখ দিয়ে বের হয়, তাহলে জিব টেনে ছিঁড়ে নেব। মনে রাখিস, আজকের এই রক্ত তোকে শুধু একটা ছোট্ট ওয়ার্নিং দিয়ে গেল!”



বাকি বন্ধুরা ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রাজ আর সেখানে এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে দ্রুত পায়ে সেই স্থান ত্যাগ করল এবং মূল রাস্তা দিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল।
ইকবাল যখন কষ্টে উঠে বসল, তখন তার চোখের কোণ দিয়ে গড়িয়ে পড়া জলের সঙ্গে মিশে ছিল এক তীব্র, হিংস্র ও পিশাচসুলভ জিঘাংসা। তার সমস্ত শরীর তখন রাগে ও অপমানে কাঁপছে। সে জীবনে এই প্রথম কোনো ছেলের কাছে এমন জনসমক্ষে মার খেলো, তাও আবার একটা মহিলার জন্য —যার সম্পর্কে সে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিল, সেই মহিলার নিজের ছেলের হাতে! ইকবালের ভেতরে প্রতিশোধের আগুন এমনভাবে দাউদাউ করে জ্বলে উঠল যে তার সাধারণ কিশোর মনটা যেন একটা অপরাধী ও বিকৃত মস্তিষ্কের রূপ নিল।
সে তার রক্তমাখা হাত দিয়ে কপাল ও নাকের রক্ত মুছতে মুছতে দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে উঠল, “শালার রাজ! তুই ভাবলি তোর মাকে নিয়ে একটা কথা বলেছি বলে আমাকে মেরে তুই জিতে গেলি? তুই আমার মাথা ফাটিয়ে দিলি, আমাকে সবার সামনে অপমান করলি? আজ তুই যে রক্তের ঝরালি , সেই রক্তের বদলা আমি নেব। তোকে এমন জায়গায় আঘাত করব যে সারা জীবন তুই কুঁকড়ে মরবি!”




তার এক ঘাবড়ে যাওয়া বন্ধুকে ইশারায় কাছে ডাকল। বন্ধুটি ভয়ে ভয়ে কাছে আসতেই ইকবাল তার শার্টের কলার খামচে ধরে ফিসফিস করে, উন্মত্তের মতো গলে বলল, “শোন... ভালো করে শুনে রাখ! আজ এই রাজ যে আমার মাথা ফাটিয়েছে, এই রক্তের প্রতিটি ফোঁটার শোধ আমি তুলব। চিৎকার করে রাজের উদ্দেশে বললো, “যাকে বাঁচানোর জন্য তুই আমার এই অবস্থা করলি, সেই তোর মাকে—ওই রূপসা ম্যাডামকে,যদি আমি তোর চোখের সামনে ওই দাম্ভিক অহংকার ভেঙে চূর্ণ করে দিতে না পারি, তবে আমার নামও ইকবাল নয়!”
ইকবালের চোখ দুটো তখন লাল রক্তের মতো জ্বলছে। তার মাথার ভেতরে তখন কেবল একটা রূপসী নারীর শরীর ঘুরপাক খাচ্ছে। সে প্রতিজ্ঞা করল, সে যা করতে হয় তাই করবে—দরকার পড়লে সমস্ত সীমালঙ্ঘন করবে, কিন্তু ওই অহংকারী রাজের মাকে সে ছাড়বে না। সে মনে মনে বলতে লাগলো এতদিন তো শুধু দূর থেকে চোখের দেখা দেখেছি, আর মনে মনে কল্পনা করে হ্যান্ডেল মেরেছি। কিন্তু আজ থেকে খেলা অন্য লেভেলে হবে।



সে মনে মনে বলতে লাগল, “তোর মায়ের ওই ধবধবে ফর্সা শরীর, ওই ৩৬সাইজের মায়াবী ভাঁজ, আর ওই ৩০ কোমর—যা নিয়ে তোর এত বড়াই, সেই শরীরটাকে আমি আমার হাতের মুঠোয় এনে ছাড়ব। ওর ওই দুধের মতো ফর্সা শরীরটাকে আমি এমনভাবে কলুষিত করব, যাতে তুই আর কোনোদিন কারোর গায়ে হাত তোলার সাহস না পাস।”ওই রূপসী শরীরটাকে আমি নিজের ইচ্ছেমতো কলুষিত করব, ভোগ করব! রাজ, তুইও বাঁচাতে পারবি না, তোর মাকে। একটু অপেক্ষা কর... তোকে আমি তিলে তিলে শেষ করব!”
প্রতিশোধের এই বিষাক্ত নেশা তার গোটা সত্তাকে গ্রাস করে ফেলল।ইকবালের এই পৈশাচিক ও গা হিম করা প্রতিজ্ঞা চারপাশের ভারী বাতাসকে যেন আরও বেশি বিষাক্ত করে তুলল। তার বন্ধুরা ভয়ে আচ্ছন্ন হয়ে ফিসফিস করে বলল, “ইকবাল, বাদ দে ভাই! রাজ এখন যা উগ্র হয়ে উঠেছে, এসব করলে  ও তোকে মেরেই ফেলবে!”
ইকবাল রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে চিৎকার করে উঠল, “মরলে মরবো ! প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত আমার রক্ত ঠান্ডা হবে না! তুই শুধু দেখ, আমি কেমন করে ওই রাজের চোখের সামনে তার মায়ের ইজ্জত ধুলোয় মিশিয়ে দিই!”



অন্যদিকে  এসবের বিন্দুমাত্র আঁচ না পেয়ে রাজ যখন বাড়ি পৌঁছাল, পথে আসতে আসতে রাজের বুকটা তখনও ধড়ফড় করছিল। সে বারবার তার শার্টের হাতার রক্তের দাগটা লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। সে মনে মনে ভাবছিল, সে কি খুব অন্যায় কিছু করে ফেলল? কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল ক্লাসরুমে ইকবালের সেই কুৎসিত হাসির মুখটা। না, রাজ একটুও অনুতপ্ত ছিল না। সে বুঝতে পেরেছিল, এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে মায়াবী মুখের আড়ালে থাকা মানুষগুলোকে বাঁচাতে হলে মাঝে মাঝে নিজের হাতও রক্তে রাঙাতে হয়।



কিছুক্ষণ পর রাজ যখন হেঁটে বাড়ি ফিরল, তখন তার নিজের হাত সামান্য কাঁপছিল। জামার হাতায় রক্তের ছিটে লেগেছে কি না সে বারবার চেক করে নিচ্ছিল। সে বাড়ির সদর দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।
দোতলার ড্রয়িংরুমে রূপসা তখন সবেমাত্র হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসেছেন। তিনি সোফায় বসে একটা ম্যাগাজিন ওল্টাচ্ছিলেন। রাজকে একা ফিরতে দেখে তিনি দ্রুত এগিয়ে এসে চিন্তিত সুরে বললেন, “কী রে রাজ? এতক্ষণ লাগল ফিরতে? আমি তো কখন থেকে তোর জন্য টেনশন করছি! আর তোর মুখটা এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেন?”
রাজের বুকটা ধপ ধপ করে উঠল। মায়ের ওই ধবধবে ফর্সা মুখ, চোখে কিছুটা উৎকণ্ঠা আর স্নেহের সেই চাউনি দেখে সে ভেতরে ভেতরে কেঁপে উঠল। মায়ের এতটুকুও ধারণা নেই যে এই ছেলেটি ঠিক একটু আগেই কার মাথা ফাটিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে, আর সেটা কেন করেছে।
রাজ নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করল। সে জোর করে মুখে একটা হাসির আভা এনে বলল, “না মা, লাইব্রেরির সেই বইটা খুঁজতে একটু ঝামেলা হয়েছিল, তাই লাইব্রেরিয়ান স্যারের সাথে কথা বলতে দেরি হয়ে গেল। আর গরমে একটু ক্লান্ত লাগছে, এই যা।“
রূপসা ছেলের কপাল থেকে ঘাম মুছে দিয়ে নরম গলায় বললেন, “যঃ! পাগল একটা! সারাক্ষণ শুধু পড়াশোনা আর বই নিয়ে থাকিস। যা, হাত-মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়, আমি গরম গরম খাবার দিচ্ছি।“



রাজ মাথা নিচু করে নিজের ঘরে চলে এল। সে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে খাটের ওপর বসে পড়ল। তার চোখের সামনে তখন বারবার ভেসে উঠছে ইকবালের ফেটে যাওয়া মাথা আর রক্ত। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, মায়ের এই সরল স্নেহময় রূপটাকে বাঁচানোর জন্য সে যা করল, তাতে তার নিজের মনে অপরাধবোধের চেয়ে একটা অদ্ভুত পুরুষালি তৃপ্তি কাজ করছিল। সে বুঝল, তার এই পৃথিবীটা এখন আর আগের মতো সরল নেই—এখানে তার মাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এখন তার নিজের কাঁধেই এসে পড়েছে।
রাজ নিজের দুই হাতে মাথা চেপে ধরে খাটের ওপর বসে মনে মনে ভাবল, সে আজ তো ইকবালকে মেরে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু কাল যখন ইকবাল দলবল নিয়ে আরও বড় কোনো চক্রান্ত করবে, তখন সে কী করবে? সে কি একা পেরে উঠবে এই হিংস্র দুনিয়ার নোংরামো থেকে তার মাকে রক্ষা করতে? রাজের কিশোর মন বুঝতে পারল, তার এই শান্ত, নিরাপদ পৃথিবীটা আর আগের মতো নেই; তার অজান্তেই এক ভীষণ ঝড় ধেয়ে আসছে তাদের এই পরিবারের দিকে, যার হাত থেকে নিজের মাকে বাঁচানোর জন্য তাকে আরও অনেক বেশি শক্ত হতে হবে, আরও অনেক বেশি রক্তাক্ত পথ বেছে নিতে হবে।





 
Reply


Messages In This Thread
রূপগড় কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা রূপসা চক্রবর্তী - by Bad Boy - 09-03-2026, 05:33 AM
RE: রূপগড় কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা রূপসা চক্রবর্তী - by Bad Boy - 09-14-2026, 05:28 AM
RE: রূপগড় কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা রূপসা চক্রবর্তী - by Bad Boy - 09-14-2026, 05:29 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)