Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

উপার্জন (By:Mymomindian)
#1

আমার নাম শুভ। শুভ দাশগুপ্ত। সবাই ডাকে শুভ বলেই। কলকাতার টালিগঞ্জের সরু গলির ভেতর আমাদের ছোট্ট ভাড়াবাড়ি। বাবা মার্কেটিং এর কাজে, মা সীমা গৃহবধূ, আর আমি ক্লাস টুয়েলভ-এ পড়ি। বয়স সবে আঠারো। ব্যাস, এইটুকুই আমাদের সংসার।

সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বরের কুয়াশা-মাখা বিকেল। টিউশন থেকে ফিরছি। মাথায় হুডি টানা, নাক দিয়ে সাদা ধোঁয়া বেরোচ্ছে। কিন্তু অবাক কাণ্ড, টিউশন ক্লাসটা ছুটি হয়ে গেছে। স্যার মেসেজ দিয়েছিলেন বটে, আমি সেটা দেখিনি। এখন ভাবুন, ফিরতে হবে আবার বাড়ি।

বাড়ির সামনে এসে দেখি দরজার বাইরে দুজোড়া চটি পড়ে আছে।

একটা পুরুষের, কালো স্ট্র্যাপ-ওয়ালা। আরেকটা মেয়েদের, লাল ফিতে দেওয়া। আমি ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থাকি। আমাদের তো অতিথি বলতে কেউ আসে না প্রায়। জয়া মাসি ছাড়া। কিন্তু পুরুষটা কে?

খটকা লাগল।

আমি খুব সাবধানে দরজা ঠেললাম। কব্জা থেকে কোনও শব্দ নয়—খুব ধীরে ধীরে। ভেতরে ঢুকেই থমকে গেলাম। প্যাসেজটা অন্ধকার, কিন্তু বেডরুমের দরজা আধখোলা। ভেতর থেকে মায়ের গলা ভেসে আসছে।

আমার বুকটা ধপ করে উঠল। পায়ের পাতা দুটো মেঝেতে আটকে গেল যেন। শরীরের সমস্ত রক্ত তলায় নামছে আর মাথাটা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ালাম। নিঃশ্বাস বন্ধ করে কান পাতলাম।

"না, জয়া... আমি পারছি না... এটা ঠিক হচ্ছে না..."

ওটা মায়ের গলা। নরম, কাঁপা কাঁপা।

"আহা, কী যে বলো তুমি সীমা," জয়া মাসির গলা চিনতে অসুবিধে হল না। "একবার ভেবেই দ্যাখো। তোর এই কষ্ট দেখে আমার ঘুম হয় না। সংসার চলে না, শুভর পড়ার খরচ, ওষুধের দাম—বল না, সামলাচ্ছিস কী করে?"

কোনও উত্তর নেই। শুধু হালকা ফিসফিসানি।

আমি আস্তে করে এক কদম এগোলাম। দরজার ফাঁকটা বড় করে ধরলাম আঙুল দিয়ে। ভেতরে বিছানার এককোণায় মা বসে আছে, পরনে সবুজ পাড়ের টাঁট লাল শাড়ি। আঁচলটা মাথায় তোলা ছিল, এখন নেমে গেছে ঘাড়ে। পাশে জয়া মাসি, সাধারণ পরিবারের মহিলা, কিন্তু পাড়াতে ওনাকে নিয়ে হাল্কা ফিসফিসানি হয়। আরেকজন পুরুষ—সে জানলার পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে। লম্বা, ফরসা, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। চোখে চশমা। বয়স পঞ্চাশের আশপাশ। অচেনা। তবে বেশ সম্ভ্রান্ত ঘরের পুরুষ মনে হল।

ওই লোকটাকে দেখেই মনে হল যেন রক্ত জমাট বেঁধে গেল। আঙুলগুলো কেঁপে উঠল। দরজার কাঠ শক্ত করে চেপে ধরলাম।

জয়া মাসি মায়ের পিঠে হাত রাখল। বড় দিদির মতো। "একদম ভয় নেই মা। অজয় বাবু খুব ভালো মানুষ। শুধু একটু সঙ্গ চান, শুধু একটু সময় কাটাতে চান। নিজের মতো করে। তোর কোনও ক্ষতি হবে না। আর আমি তো এই ঘরেই থাকছি বসে। তুই একদম চিন্তা করিস না।"

মা মুখ নামিয়ে রইল। তার ঠোঁটের কোণ কাঁপছে। চোয়ালটা কেমন শক্ত হয়ে রয়েছে।

জয়া মাসি বলেই চলেছে, "দেখ, এ কিন্তু কোনও অন্যায় কাজ না। তোর নিজের ইচ্ছাই আসল। কেউ জোর করছে না। অজয় বাবু নিজে চান যাতে তুই রাজি হোস, খুশি থাকিস। তিনি মহিলাদের খুব সম্মান করেন। কত মেয়ের সঙ্গে মিশেছেন, কেউ কোনওদিন অভিযোগ করেনি।"

অজয় বাবু এতক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়েছিলেন। এই প্রথম কথা বললেন, "আমি আসলে..."

মৃদু গলা। ধীর, থেমে থেমে।

"আমি চাই আপনি আরামে থাকেন। স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন। কিছু নিয়ে তাড়াহুড়ো নয়। যদি খারাপ লাগে, সরাসরি বলে দেবেন। আমি উঠে চলে যাব।"

মা মুখ তুলে দেখল ওঁকে। তারপর আবার চোখ নামিয়ে নিল। ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হল, কিন্তু কোনও কথা বেরোল না।

জয়া মাসি ফের বলতে লাগল, "অজয় বাবু পূর্ণিমার রাতের গল্প বলবেন তোকে, গান শোনাবেন। তিনি কিন্তু বেশ ভালো ক্ল্যাসিক্যাল জানেন। শুধু সময় কাটাবেন একটু। নিজের ভালো লাগার জন্য। আর পনেরো হাজার টাকা—একেবারে অ্যাডভান্স। কাল সকালেই বায়না পাঠিয়ে দেবে। তোর শুভর পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপ হবে, বাকিটা দিয়ে ওষুধপত্তর..."

মায়ের চোখেমুখে তখন যা দেখলাম, সেটা ভাষায় বোঝানোর নয়। বিভ্রান্তি। দ্বিধা। কৌতূহলের আভাস। আর তার নিচে কোথাও—হয়তো বা স্বস্তি? নিজের একটা সিদ্ধান্তের ভার অন্য কারও কাঁধে ছেড়ে দেওয়ার এক ধরনের আরাম?

জয়া মাসি হাত বাড়ালো। "আরে তোর শাড়ির আঁচলটা একটু ঠিক করে দিই। পাড়টা বেরিয়ে আছে। একদম বউদি সেজেছিস।"

মা হেসে ফেলল। কী জানি কী মনে করে। হাসিটা একটু নার্ভাস, একটু লাজুক।
Reply


Messages In This Thread
উপার্জন (By:Mymomindian) - by Bad Boy - 09-19-2026, 09:01 AM
RE: উপার্জন (By:Mymomindian) - by Bad Boy - 09-19-2026, 09:02 AM
RE: উপার্জন (By:Mymomindian) - by Bad Boy - 09-19-2026, 09:03 AM
RE: উপার্জন (By:Mymomindian) - by Bad Boy - 09-19-2026, 09:03 AM
RE: উপার্জন (By:Mymomindian) - by Bad Boy - 09-19-2026, 09:04 AM
RE: উপার্জন (By:Mymomindian) - by Bad Boy - 09-19-2026, 09:04 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)