Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট)
#6

পর্ব - ৬

জ্যোৎস্নালোকিত রাতে নদীর বুক চিরে আমাদের নৌকা এগিয়ে চলেছে। নৌকায় আমি আর মা দুজনে বসে আছি পাশাপাশি । মা আমার কাঁধে মাথা রেখে সামনের দিকে চেয়ে রয়েছে। কোনো কথা বলার প্রয়োজন আজ নেই, শুধু একে অপরের সান্নিধ্যেই আমরা মুগ্ধ। আজ যে সে আমার স্ত্রী হয়ে, আমার অর্ধাঙ্গিনী হয়ে আমার ঘর করবে বলে আমার সঙ্গে পালিয়ে এসেছে, আমার সন্তান নিজের গর্ভে নিয়ে আমার সন্তানের মা হবে বলে লজ্জায় রাঙা হয়ে আড়চোখে আমার পানে চেয়ে চেয়ে দেখছে, আমার বুকে আশ্রয় নেবে বলে তার সমস্ত অতীতকে এই নদীর বুকে বিসর্জন করে আমার বুকে সে মাথা রেখেছে একটুখানি সম্মান, আশ্রয় ও ভালোবাসার আশায়! আমি তাকে আমার সঙ্গে জড়িয়ে ধরে রেখেছি, যাতে আর তার অভাব কোনোদিন বোধ না হয় আমার! চারুলতা শুধু আমার, আমার জন্যেই এই মায়াবী রূপ নিয়ে ধরিত্রীর বুকে তার জন্ম হয়েছিল! পেছন দিক দিয়ে তার বাঁ কাঁধ ধরে আমি তাকে আমার শরীরে চেপে ধরেছি....আজ কত শতক, কত যুগ পরে আমি তোমায় পেলাম চারুলতা! কত ধ্যান, কত অনুপস্থিতি, কত ছলনার জালে জড়িয়ে শেষে তোমায় নিজের করে পেলাম।

আমরা চলেছি দূরে। দূরের পুব আকাশে ঊষার ক্ষণ উপস্থিত হয়েছে লাল ছটার স্বল্প আভা প্রকাশ করে। মাঝি বলে উঠলো,

- দাদাবাবু, আমরা অনেকটা এসে পড়েছি। এবার বৌদিমনিকে নিয়ে তবে ওই ঘাটটায় নামুন।

মাঝির মুখে 'বৌদিমনি' কথাটা শুনে মা চারুলতার মুখ লজ্জায় নত হলো। আমি মাঝিকে জিগ্যেস করলাম,

- তারপর কি আমাদের নামিয়ে তুমি চলে যাবে?

মাঝি একটু হেসে বলে,

-  কি যে বলেন দাদাবাবু! ওই ঘাটে জঙ্গলের মধ্যে একটা মন্দির রয়েছে, ওখানে পুরোহিত থাকেন। ওখানেই আপনাদের বিয়েটা সেরে পুবদিকে রওনা দেবো আবার!

আমার সঙ্গে বিয়ে শুনে আমার মাকে আর দেখে কে! ঘোমটা দিয়ে তার অবশিষ্ট মুখটুকুও ঢেকে নিয়ে আমার বুকে মুখ লুকালো। আমি আরও ভালোভাবে জড়িয়ে ধরে আমার চারুলতার চিবুক ধরে তার মুখখানা আমার দিকে ঘুরিয়ে তার চোখে চোখ রেখে জিগ্যেস করলাম,

- বিয়ে করবে তো আমায় মা?

মা চোখ বন্ধ করে দিলো লজ্জায়। নিজের ছেলেকে বিয়ে করার জন্য, তার সঙ্গে সংসার বাঁধার জন্য, তার সন্তানকে নিজের গর্ভে ধারণ করে একটা ঘর বাঁধার জন্য সে আজ এসেছে! নিজের সন্তানকেই বিয়ে করে তাকে এক সন্তান উপহার দিতে চলেছে সে! এ যে এই জগতের একইসঙ্গে জটিল ও মধুর মুহূর্ত! চারুলতার মাতৃত্ব জটিলতার জালে, সামাজিক রীতিনীতির বন্ধনে, এই দুনিয়ার নিষিদ্ধ ও অনুমোদিত ঘটনার জাঁতাকলে পিষে ছারখার হয়ে যাচ্ছে এই শেষ মুহূর্তে এসে, এই শুভ লগ্নের মুখে এসে....! অবশেষে মাতৃত্বই হার স্বীকার করলো নারীত্বের পদতলে! সন্তানের পুরুষত্বের প্রেমে পড়ে গিয়ে, চারুলতা চোখ খুলে আমার দিকে, নিজের পেটের সন্তানের দিকে লজ্জা ভরা চোখে তাকিয়ে উপর নীচে মাথা নেড়ে সায় দিল....! সে, আমার মা, চারুলতা আমায় বিয়ে প্রস্তাবে সম্মতি জানালো। 

মাঝিকে আর কিছু বলতে হলোনা, হাসতে হাসতে নৌকার মুখ ঘোরালো সেই ঘাটের দিকে!

আজ এই ব্রহ্মান্ড সাক্ষী থাকলো বিবাহ, যা কিনা এক পবিত্র রীতি, তা একজন মা ও তার নিজের সন্তানের মধ্যেও ঘটতে পারে, এই প্রকৃতি, এই নদী, জলরাশি, এই নৌকা, এই মাঝি ভাই সাক্ষী থাকলো দুই হৃদয় জোড়া লাগলে সামাজিক রীতিনীতিকে টলানো যায়, এই মন্দিরটা সাক্ষী থাকবে, যদি কারোকে প্রকৃতই ভালোবাসা যায়, তার সঙ্গে ঘর বাঁধাও একদিন হবে, হবেই!

পুব আকাশে তখন সূর্যের উপরিভাগ তার পবিত্র আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে এই জগত সংসারে। আমি মাকে বিয়ে করতে চলেছি এই নদীতীরের জঙ্গলাকীর্ণ এক পুরনো মন্দিরে। তারপর? তারপর আবার এই নৌকায় করে আমার নববধূ, আমার চারুলতাকে নিয়ে পাড়ি দেবো দূরে, অনেক দূরে... যেখানে আমরা জীবন কাটাবো দুই প্রাণ এক হয়ে গিয়ে!

ঘুমটা ভেঙে গেল। ধড়মড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলাম। এটা কি দেখলাম.... স্বপ্ন? এইতো মা আমার পাশেই বসেছিল, মাঝি হাসতে হাসতে আমাদের নৌকায় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছিল নদীর ঘাটের এক মন্দিরে, 'দাদাবাবু, আমরা অনেকটা এসে পড়েছি, এবার বৌদিমনিকে নিয়ে তবে ওই ঘাটটায় নামুন'...এই কথাগুলো যেন‌ মাঝির মুখ থেকে স্পষ্ট আমার কানে এখনই স্পর্শ করলো, এই সবকিছুই স্বপ্ন? জানালা দিয়ে দেখলাম ভোর হয়েছে, পুবদিকের আকাশ লাল হয়ে আহ্বান করছে এক নতুন জীবন শুরু করার! আমি এই ভোরে স্বপ্ন দেখছিলাম! কিন্তু এতো বাস্তব মনে হলো এটা! এইতো আমি যেন এখনও নদীগর্ভে দুলছি! স্বপ্নের এই বাস্তবায়ন, এই অনুভূতি, এই নিবিড়তা আমি জীবনে এই প্রথমবার উপলব্ধি করলাম। শুনেছি ভোরের স্বপ্ন নাকি সত্যি হয়!

মনটা কেমন হয়ে গেল। এক পরম প্রাপ্তির সুখ থেকে হঠাৎ বঞ্চিত হয়ে নিজেকে এক দিশেহারা পথিক মনে হতে লাগলো। দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়ালাম। ভোরের আলো এখনও সেভাবে ফোটেনি। পাখিরা বাসা ছেড়ে এর মধ্যেই বেরিয়ে পড়েছে। ভোরের এই নির্জনতা, এই শীতল বাতাস, এই আধো অন্ধকারে ঢাকা চারপাশ আমায় মুগ্ধ করলো!

মা বাবা এখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। লতাও না। হঠাৎ কাল রাতের কথা মনে পড়লো, বাবা লতাকে ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজায় শেকল তুলে দিয়েছে, ঠিক এমনসময় লতার দরজায় মৃদু করাঘাত আর‌ ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ! আমি লতার কষ্ট আর যে দেখতে পারছি না। শেকল নামিয়ে তার ঘরের দরজা খুলে দিলাম। ভেতরে তাকিয়ে দেখলাম, লতা চোখ মুখ ফুলিয়ে বসে আছে দরজার কাছে, কাঁদছে, বোঝাই যায় সারা রাত ঘুমোইনি বেচারি। আমি তার কাছে হাঁটু মুড়ে বসলাম। সে যে অসহায় আজ! সে তার ভালোবাসার মানুষটার কাছে ছুটে যেতে চায়! কিন্তু এক বিরাট বাধা যে তাকে শেকলে আটকে ধরে রেখেছে পেছন থেকে, কিছুতেই সামনে এগোতে দিচ্ছে না। আমার বুকটা ফেটে গেল লতার এই অবস্থা দেখে। সে এত কেঁদেছে যে তার চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। সে একদৃষ্টিতে আমার দিকে শুধু তাকালো, কিছু বললো না মুখে। বুঝলাম এবার আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে!

আমি যে ভুক্তভোগী! মায়ের কাছে যতবার যেতে চাইছি, বাবার আদেশে মা ততই আমার থেকে দূরে চলে যাচ্ছে। মাকে যত কাছে পেতে চাইছি, ততই যেন তাকে হারিয়ে ফেলছি....এই বেদনা সে-ই বোঝে যে ভোগ করে! আমি ধীরে ধীরে মাকে ভালোবেসে ফেলেছি....তার সারল্য, তার এড়িয়ে চলা, তার স্নেহ, তার ভালোবাসা, তার সবকিছুই আমি নিজের প্রাণের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিয়েছি। তার সব আমার! কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য যে প্রথমে বাবার আধিপত্যকে মায়ের‌ মন থেকে ভেঙে চুরমার করতে হবে, তারপর মায়ের হৃদয়ে আমার ভালোবাসার বীজ বপন করতে হবে, তারপর শেষে গিয়ে একদিন আমরা মিলিত হবো, আমরা ছেলে-মা হবো স্বামী-স্ত্রী! 

আমি যে জানি নিজের কাছের মানুষের কাছে ছুটে যাওয়ার এক অদম্য ইচ্ছা কতখানি প্রবল, আমি দেখেছি নিজের আপন-জনকে সামনে আছে জেনেও তার থেকে দূরে থাকার অন্তর্দ্বন্দ্ব, আমি যে শুনেছি জগতের কাঠিন্য, সংসারের ষড়যন্ত্র আমাকে আমার মা চারুলতার কাছ থেকে দূরে রেখে তার দাঁত বের করা অট্টহাসির কান ফাটানো উচ্ছাস! তাই আর কোনো বাধা আমায় আজ বাধা দিতে পারলো না!

আমি লতার দুই অসহায় চোখের দিকে চেয়ে বললাম,

- তুই চলে যা, তুই ছুটে চলে যা এখান থেকে এক্ষুনি তোর প্রেমের কাছে, গিয়ে তার বুকে আছড়ে পড়, নিজের ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দে....যা চলে যা! বাবা এক্ষুনি উঠে পড়বে, আর দেরি করিস না!

লতার মুখে মুক্তির আনন্দ ফুটে উঠলো, তার কাঁপা হাত দুটো দিয়ে আমার গালে হাত বুলিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো,

- দাদা......!

আমি তার‌ মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলাম,

- তুই সুখী হ।

বেলা এগোরোটা বেজে গেছে। মাঠে যাইনি আজ। নিজের ঘরেই প্রস্তুত হয়ে বসে ছিলাম। কারণ আজ যে আমাদের বাড়িতে বড়ো একটা কান্ড ঘটেছে! দরজায় জোরে জোরে ধাক্কার শব্দে ঘুমের ঘোর কেটেছে এই ভাব মুখে এনে দরজা খুলতেই দেখি বাবা লাল চোখে ফুঁসতে ফুঁসতে আমার দিকে তাকিয়ে। আমি স্বাভাবিক গলায় জিগ্যেস করলাম,

- কি হয়েছে?

বাবা রাগে ফেটে পড়লো, তার ডান হাত দিয়ে আমার গালে চড় বসাতে গেল, কিন্তু পারলো না। আমি আমার শক্ত মজবুত হাতে তার হাত ধরে ফেলে একটু হেসে বললাম,

- মুখে বলো।

এই সংক্ষিপ্ত এবং একইসঙ্গে তার প্রতি আমার এক জ্বালা ধরানো হাসিমুখ দেখে সে গর্জে উঠলো,

- কি হয়েছে! লতার ঘরের দরজাটা কে খুলেছিল?

- আরে কি হয়েছে সেটা তো বলো, লতা কোথায়....দেখি সরো।

বলে বাইরের বারান্দায় গিয়ে লতার ঘরে উঁকিঝুঁকি মেরে অবাক হওয়ার অভিনয় করলাম। তাকিয়ে দেখলাম মা বারান্দার দাওয়ায় বসে কাঁদছে, চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে তার আঁচল ভিজিয়ে দিচ্ছে। আমার মন গোপনে মায়ের মনকে কথা বলে গেল,

- মা গো....তোমার মেয়েকে আমি মুক্ত করেছি তার ভালোবাসার মানুষটাকে নিয়ে জীবন কাটানোর জন্য! তুমি কেঁদোনা মা। সে ভালো থাকবে!

আমার ভাবনায় আঘাত পড়লো বাবার ক্রুদ্ধ গর্জনে,

- কোথায় লতা?

- আমি কিভাবে জানবো? তবে যেখানেই যাক, খুঁজে বের করতে হবে।

- থাক। আমি খুঁজে আনবো ওকে, তারপর ঘরে তালা বন্ধ করে রেখে দেবো বেশ্যাটাকে।

মনে মনে বললাম,

- লতা যে তোমার নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে বাবা!

আমাদের গোবাদা থেকে দুটো গ্রাম পেরিয়ে তারপর পড়ে বনদুলি গ্রাম, সেই গ্রামেই লতা নিশীথের ঘরে উঠেছে। ওই গ্রামে বাবা যায় না। বলা ভালো যেতে পারে না। কারণ বাবার বদমেজাজ, মুখের ভাষা ও খারাপ মানসিকতার জন্য ওখানকার চাষীদের সঙ্গে বাবার কিছু বছর আগে একবার হাতাহাতি হয়ে গিয়েছিল। দোষ বাবার-ই ছিল। ফসল ওঠানোর পর তার ন্যায্য পাওনা তাদের মেটাইনি বাবা, উল্টে তাদের অপমান করে বিদায় দিয়েছিল। সেই কারণেই তারা ক্ষেপে আছে বাবার ওপর। একবার ওদের গ্রামে বাবার পা পড়লে একটা লাঠির ঘা-ও মাটিতে পড়বে না। তাই বাবা ওদিকে ভয়ে কখনো যায়নি তারপর থেকে, আজও যাবে না, কারণ বাবা জানে তার নিজের ইতিহাস! 

আমি তাই নিশ্চিন্তে একটু মজা করেই বাবাকে পরীক্ষা করার জন্য বললাম,

- বনদুলি একবার ঘুরে আসতে পারো!

- তোর মুখের কথায় লাগাম টান চয়ন, ভুলে যাসনা তুই বাবার সঙ্গে কথা বলছিস।

বুঝলাম বাবা সেখানে যাবে না। নিশ্চিত হলাম। তারপর পেছন ফিরে সাইকেল নিয়ে একবার মায়ের দিকে বাবা তাকালো, তারপর মায়ের কান্না দেখে ঝাঁঝিয়ে উঠে বললো,

- রান্নাটা কে করবে মাগী? এরকম বসে বসে মড়া কান্না কাঁদলে মেয়ে ফিরবে না!

বাবা রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল। আমি ভাবলাম, সত্যিই, এই হল এক স্বামী! যে ভালো সময়েও স্ত্রীকে ভোগ করে দেহ সুখ নিয়ে, আবার খারাপ সময়েও ভোগ করে তার দিকে নোংরা কথার বুলি ছুঁড়ে। আর এই নারীরা, আমার‌ চারুলতা-রা চিরকাল নির্জনে বসে চোখের জল ফেলে যায়! কেউ দেখতে আসে না, কেউ পড়তে আসে না তার মনের কথা!

আমি মায়ের কাছে গিয়ে তার হাত দুটো নিজের হাতে আলতো করে ধরলাম। বললাম,

- মা, লতা ভালো থাকবে, নিশীথ ভালো ছেলে। তুমি কেঁদো না মা, আমার যে তোমার কান্না দেখে খুব কষ্ট হচ্ছে গো!

মায়ের কান্না থামলো, সজল চোখে মায়াবিনী আমার মুখের দিকে কিছুক্ষন তাকালো, তারপর মৃদু স্বরে বলল,

- ও আমায় একবারও বললো না.... জানেনা যে তার মা তার সন্তানদের ছেড়ে এক মুহূর্তও বাঁচতে পারে না! জানেনা যে তারা এক মুহূর্তও চোখের আড়াল হলে আমার ভেতরটা ফাঁকা হয়ে যায়...আমার কষ্ট কি কেউ বুঝলো না!

আমার বুকটা হু হু করে উঠল। মায়ের এই অঝোর অশ্রুজলে আমার হৃদয় যেন সিক্ত হয়ে গলে গলে ঝরে পড়তে লাগলো বেদনার অনন্ত সাগরে! আমি মায়ের হাত দুখানি নিজের হাতে শক্ত করে ধরে বললাম,

- মা....লতা তোমায় ভালোবাসে মা, সে তোমার কষ্ট বোঝে! আর আমি.....!

মা আমার চোখের দিকে তখনো তাকিয়ে আছে, আমি থামতে মা চোখের জল মুছে জিগ্যেস করল,

- আর তুই....? কি রে....থামলি কেন? আর তুই....?

আমি মায়ের হাত জোড়া নিজের বুকে স্পর্শ করে স্থির দৃষ্টিতে তার চোখে চেয়ে দৃঢ় অথচ কোমল কন্ঠে বললাম,

- আমি তোমায় ভালোবাসি মা।

মা কিছুক্ষন তাকিয়ে রইল আমার দুই চোখে! এই কথা এর আগেও আমি বহুবার বহুভাবে মাকে বলে এসেছি। কিন্তু সেই সময় এর অর্থ ছিল অন্য, আজ অন্য! অর্থ বদলে গেলে মানুষের কথা বলার ভাবেও নাকি বদল আসে! মা কি সেই বদলটাই দেখলো আমার চোখে? মা কি আমার কথার‌ অর্থ বুঝলো কিছু? মা কি শুনতে পেলো আমার ভেতরের কথা?

মা আমার বুক থেকে তার হাতদুটো টেনে নিয়ে উঠে নিজের ঘরে চলে গেল। আমি সেদিকেই তাকিয়ে আমার মাকে মনে মনে প্রশ্ন করলাম,

- ও মা, মা....শুনেছি মায়েরা অন্তর্যামী, তুমি কি আমার অন্তরের বাক্য পড়তে পেরেছো মা? তুমি কি আমার বুকে হাত রেখে তোমার স্পর্শে আমার হৃদয় স্পন্দনের তীব্রতা অনুভব করেছো মা? তুমি কি আমার দুই চোখে চারুলতার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার আলো দেখতে পেয়েছো? পেয়েছো মা? পেয়েছো.....? 
উত্তর দিয়ে যাও মা....
না বলে চলে যেও না মা.....
বলে যাও মা!!!
Reply


Messages In This Thread
চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:21 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:22 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:22 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:23 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:24 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:28 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:29 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:29 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:30 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:31 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:47 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:48 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:48 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:49 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:55 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:56 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:56 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:57 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:58 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-23-2026, 05:58 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:16 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:17 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:17 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:18 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:18 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:22 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:24 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:24 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:25 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:26 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:26 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:27 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:28 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:28 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:29 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:48 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:48 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:49 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:49 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:53 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:53 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:54 AM
RE: চারুলতা (লেখক:কামসম্রাট) - by Erotic Lovers - 09-26-2026, 10:54 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)