09-01-2026, 10:43 AM
07
রুমের এক কোণে গালে হাত দিয়ে চরম করুণ একটা মুখ বানিয়ে সোফায় বসে আছে আয়ান। অপরদিকে ডেঞ্জারজোন আঁচ করতে পেরে আরিশা আর এক মুহূর্তও ঝুঁকি নিল না। সে তাড়াহুড়ো করে নিজের ফোনটা বের করে এমন একটা ভাব করল যেন সে মেডিকেলের অত্যন্ত জটিল কোনো নোট অতি মনোযোগ দিয়ে মুখস্থ করছে!ফারিশ দুজনের দিকেই একবার তীক্ষ্ণ চাউনি দিয়ে পুনরায় টেবিলের ফাইলের দিকে মন দিল। ফারিশকে ফাইলে ব্যস্ত দেখতে পেয়ে আরিশা এবার ফোন থেকে চোখ সরাল। সে আয়ানের দিকে তাকিয়ে নিজের চোখ জোড়া বড় বড় করে, ভ্রু নাচিয়ে ইশারায় কিছু একটা বলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল। আয়ানও ফারিশের হাত থেকে বাঁচার শেষ উপায় হিসেবে আরিশার সেই চোখের ভাষা অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়ে ডিকোড করার চেষ্টা করছে।কিন্তু ফারিশ ফাইলে ব্যস্ত থাকলেও তার তীক্ষ্ণ চোখ দুটো কিন্তু ফাঁকি দেওয়া অসম্ভব! এই দৃশ্য দেখা মাত্রই ফারিশের ভেতরের রাগ আবারও জেগে উঠল। কেন ওই ছেলের সাথেই আরিশাকে চোখের ইশারায় এত গোপন কথা বলতে হবে?! যা বলার, ডিরেক্ট তার সাথে বলতে পারে না? সে কোনো বাক্যব্যয় না করে, পাশের সোফায় রাখা একটা ভারী কুশন টেনে নিয়ে সজোরে ছুড়ে মারল আয়ানের মুখ বরাবর। হঠাৎ এই অতর্কিত কুশন-আক্রমণে আয়ান ‘ওরে বাপ রে’ বলে এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে ছিটকে নড়েচড়ে উঠল।
"বুঝলি আয়ান, কলেজে পড়াকালীন আমাদের ক্লাসে একটা মেয়ে ছিল না রে??"
কথাটা বলতে বলতেই ফারিশ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর দুই হাত প্যান্টের পকেটে গুঁজে দিয়ে ধীর কিন্তু গম্ভীর পায়ে আয়ানের সোফার কাছে এসে দাঁড়াল। সে আরিশাকে এমনভাবে সম্পূর্ণ ইগনোর করছে, যেন আরিশা নামের কেউ এই রুমে এক্সিস্টই করে না! ওদিকে আয়ান তো পুরো আকাশ থেকে পড়ল। ফারিশের মাথায় আবার কোন নতুন ভূত চাপল? মাঝখান থেকে ভূত-ভবিষ্যত ভুলে সে এখন কলেজের মেয়ের গল্প কেন তুলছে?
"একটা কেন ভাই!! আমাদের ক্লাসে তো অনেক মেয়েই ছিল!!"
আয়ানের এই অতি-লজিক্যাল উত্তর শুনে ফারিশের মন চাইল এই ফাইলটা দিয়েই ওনাকে কয়েকটা উত্তম-মধ্যম দিতে! তবুও সে নিজের ভেতরের রাগটা কোনোমতে গিলে ফেলে মুখে এক কৃত্রিম শান্ত ভাব এনে বলল,
"আরে, ওই যে সুন্দর করে মেয়েটা!!"
"সুন্দর!! আর এই কথা তুই বলছিস??"
আয়ান এবার সত্যিই ভীষণ অবাক হলো। যে ফারিশ নওয়ান মেয়েদের থেকে দশ হাত দূরে থাকে, সে আজ নিজে থেকে একটা মেয়ের সৌন্দর্যের সার্টিফিকেট দিচ্ছে!
"হুমমম, মেয়েটা সত্যিই খুব সুন্দর!!"
ফারিশ যেন বেশ আয়েশ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।
"কী নাম তার ভাই? একবার বল তো! আমার তো মনে পড়ছে না।"
আয়ানের এই ডিরেক্ট প্রশ্নে লয়ার ফারিশ নওয়ান এবার নিজের তৈরি ফাঁদেই পা দিয়ে বেশ থতমত খেয়ে গেল। মনে মনে ভাবল—‘ধুর! মিথ্যে গল্প বানাতে গিয়ে তো নামের কথা মাথায় ছিল না! এখন কোন নাম বলি?’ সে নিজের আমতা আমতা করে বলল,
"ওই তো... আমম... ওই আর... আর... আররা!!"
"আররা!!"
আয়ান আর আরিশা দুজনেই একসাথে এক সুরে অবাক হয়ে চেঁচিয়ে উঠল। আররা আবার কেমন অদ্ভুতুড়ে নাম!
"কিন্তু ভাই, আমাদের পুরো কলেজ লাইফে আররা নামের তো কোনো মেয়েই ছিল না!!"
"তুই বেশি জানিস নাকি আমি?!"
ফারিশ এক ধমক দিয়ে আয়ানকে থামিয়ে দিল। তারপর আরিশার দিকে আড়চোখে এক পলক তাকিয়ে বেশ জোর দিয়েই বলল,
"তুই শুধু এটা শোন, মেয়েটা আমায় গতকাল রাতে ফেসবুকে নক করেছিল। ওহ হো, মেয়েটা কিন্তু আগের থেকেও অনেক বেশি সুন্দর হয়েছে এখন! মাশআল্লাহ!!"
ফারিশ মুখে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটিয়ে ‘মাশআল্লাহ’ শব্দটা এমনভাবে উচ্চারণ করল, যেন বিষাক্ত তীরের মতো ওটা সরাসরি আরিশার কানে গিয়ে বিঁধল।ওদিকে আরিশার ভেতরের আগুন এবার ধপ করে জ্বলে উঠল। সুন্দর!! আবার তার ওপর মাশআল্লাহ!! বাহ রে বাহ! এই মাইগ্রেন নামক মি লয়ারের তো দেখছি দিন দিন বেশ প্রমোশন হচ্ছে! ঘরে বউ রেখে মাঝরাতে ফেসবুকের আররাকে নিয়ে মাশআল্লাহ জপ করা হচ্ছে?!আরিশা আর নিজের রাগ ধরে রাখতে পারল না। সে হাতের ফোনটা সোফার ওপর আছাড় মারার মতো করে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে, রেগে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,
" যারা নিজের বৌ রেখে অন্য মেয়ের প্রসংশা করে বুঝলে আয়ান ভাই, তাদের গালে ঠাস ঠাস দুটো থাপড়া মেরে নদীতে ভাসাই দেওয়া উচিত। "
কথাটা বলেই রেগে বেরিয়ে যায় আরিশা। ফারিশ শুকনো ঢোক গিলে। নাহ, মেয়েটা সত্যিই ডেঞ্জারাস। ফারিশও আরিশার পিছু নেয়। অপরদিকে আয়ান কিছুই বুঝে উঠে না। এরই মধ্যে হঠাৎ ইনায়ার ফোন আসে।
" উফফ, আবার কোন ঝামেলা!! "
বিরক্তিতে কথাটা বলেই ফোন ধরে আয়ান।
" হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন আয়ান!! "
আয়ানের এবার সত্যিই হার্ট অ্যাটাক করার দশা।
" লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ!! এতো সুন্দর ভাবে কথা বললো!! ওই শয়তান জিন, ইনায়াকে ছেড়ে দে বলছি। মেয়েটা এমনিতেই ডাইনি, কেন নিজের বিপদ নিজে ডেকে আনছিস?? একবার যদি ও জানতে পারে না তবে তোরেও আস্ত রাখবে না জিন ভাই। ছেড়ে দে ওকে!! "
ইয়ানা অনেক কষ্টে নিজেকে বুঝিয়ে আয়ানকে ফোন করেছিল এই বিয়ে আটকানো নিয়ে কোনো প্যান করতে কিন্তু আয়ানের কথায় এবার তার মাথা গরম হয়।
" তোরে উস্টা শয়তান। সামনে পাইলে তোর চুল ছিড়বো!! "
কথাটা বলেই ফোন কাটে ইনায়া। নাহ, এবার প্যান বি কাজে লাগাতে হবে।
__________
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হঠাৎ ফারিশ আরিশাকে ডাক দেয়।
" আরিশা !! "
আরিশা পেছন ঘুরে দাঁড়ায়। কপাল কুচকে বলে,
" বলুন!! "
"তোমার কিছুক্ষণ পরেই তো ক্লাস আছে, তাই না? যাওয়ার সময় তোমার বাসা থেকে প্রয়োজনীয় বইগুলো নিয়ে নিবে। তোমাকে আর ড্যাডকে একসাথে ড্রপ করে আমি সরাসরি কোর্টে যাব।একটা ইম্পর্ট্যান্ট কেসের কাজ আছে। হারি আপ!!"
ফারিশের এমন এক লাইনের অর্ডার শুনে আরিশা এবার একটু কাঁচুমাচু করতে লাগল। আসলে আজ ওর ক্লাসে যাওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নেই। সে আমতা আমতা করে বলল,
"আজ... আজ না যাই? !"
ফারিশ এক হাত পকেটে পুরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল,
"উঁহু, কোনো বাহানা চলবে না! এভাবে ফাঁকিবাজি করলে পরে দেখা যাবে পেশেন্টের হার্টের চিকিৎসা করতে গিয়ে ওনার হার্টের বদলে হাতই কেটে ফেলেছ!!"
ফারিশের এই উপহাস শুনে আরিশা রেগে উঠল। সে ফারিশের দিকে এক পা এগিয়ে এসে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
"হাঁ! যদি সেই পেশেন্টটা কোনোভাবে আপনি হন, তবে আমি সত্যিই তাই করব! যত্তসব!!"
রেগে কথাটা বলেই এক ঝটকায় মুখ ঘুরিয়ে হনহনিয়ে দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল আরিশা। ফারিশ অবাক হয়ে কিছুক্ষণ ওর যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার মুখের ওপর জবাব দেওয়ার এই ধৃষ্টতা দিন দিন বেড়েই চলেছে!
"কী রে? এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রেম করা হচ্ছে বুঝি??"
আচমকা মি. নাসিরের রসিক কণ্ঠস্বর শুনে ফারিশ চমকে সেদিকে তাকাল। বাবার এমন রোমান্টিক তত্ত্বে ফারিশ চরম বিরক্ত হয়ে বলল,
"কিসব ফালতু কথা বলছ ড্যাড!! তোমার কি চোখের সমস্যা হয়েছে? কোনটা ঝগড়া আর কোনটা প্রেম—এটুকুর পার্থক্যও বোঝো না??"
মি. নাসির এবার ফারিশের একদম কাছে এসে ওর কাঁধে হাত রাখলেন। চোখ টিপে বললেন,
"আরে তোদের এই ঝগড়া তো রোমান্টিক প্রেমকাহিনীকেও হার মানাবে রে বাপ!পছন্দ যেহেতু করিস তবে বিয়েটা করে নে না বাপ! আমার আরিশা মামণিকে বিয়ে করে ধুমধাম করে এই ঘরের লক্ষ্মী বানিয়ে নিয়ে আয়!!"
"অসম্ভব! আমি আর ওকে পছন্দ? দুঃস্বপ্নেও না!!!"
মি. নাসির এবার ফারিশের এই তীব্র অস্বীকৃতি দেখে ওকে কিছু বলতেই যাবে, তার আগেই ফারিশ নিজের হাত বাড়িয়ে চট করে মি. নাসিরের ডান হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। ফারিশের হাতের এই আকস্মিক ও অনমনীয় বাঁধনে মি. নাসির ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে তার মুখের দিকে তাকাল।
"বুধবার, সকাল ৯টা ৩০ মিনিট। কোথায় ছিলে তুমি, ড্যাড??"
মি. নাসির এবার বুঝলেন তিনি কত বড় বিপদে পড়েছেন! মনে মনে নিজেকেই একটা থাপ্পড় মেরে বললেন—‘কে বলেছিল রে তোকে একে জ্বালাতে আসতে?! এখন সামলা ওকিল ছেলের জেরা!’মি. নাসির নিজের হাতের কবজিটা ফারিশের মুঠো থেকে ছাড়ানোর একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে আকাশ থেকে পড়ার ভান করলেন,
"কবে... কবে যেন বললি সময়টা রে বাপ??"
"বুধবার!"
"ওহ, বুধবার!! আরে কোথায় আর থাকবো?? হসপিটাল!! ওই দিন ওয়ান অ্যান্ড ওনলি হসপিটালেই ছিলাম আমি। খুবই সিরিয়াস এক পেশেন্ট এসেছিল রে ফারিশ! ওনার হার্ট প্রায় বন্ধই হয়ে যাচ্ছিল।"
মি. নাসির বুক ফুলিয়ে এক্কেবারে খাঁটি মিথ্যে কথাটা বলে দিলেন।ফারিশ এবার ঠোঁটের কোণে এক বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলল।
"তাই নাকি, ড্যাড? তবে যে তোমার ফোনের লোকেশন হিস্ট্রি বলছে—গত বুধবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে তুমি হসপিটাল তো দূর, শহরের সবচেয়ে বড় মেইন কাজী অফিসের ঠিক পেছনের গলিটায় দাঁড়িয়ে ছিলে!!"
কাজী অফিসের নাম শুনতেই মি. নাসিরের কলিজা যেন এক লাফে মুখের কাছে চলে এল। তাও নিজেকে সামলে নিয়ে মুখে একটা বিশাল কৃত্রিম আর নার্ভাস হাসি ঝুলিয়ে বলে উঠলেন—
"হেহে... দেখেছিস!! এই মেডিকেল স্টুডেন্ট আর হার্টের পেশেন্টদের জ্বালায় আমার ব্রেইনটা না একেবারে ড্যামেজ হয়ে গেছে রে বাপ! কাজী অফিস? হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়েছে! আরে ওই দিন তো ওইখান দিয়েই আমি আমার এক বন্ধুর মেয়ের দাদির ছেলের নাতির মায়ের কাকার শ্বশুরের মামার ছেলের মেয়ের নাতির মায়ের মেয়ের ইমার্জেন্সি চিকিৎসা করতে গেছিলাম! মারাত্মক ক্রিটিক্যাল কন্ডিশন ছিল ওনার, একদম স্পট ডেথ হওয়ার অবস্থা! !"
মি. নাসিরের এই চোদ্দ পুরুষের সম্পর্কের আজগুবি সমীকরণ শুনে ফারিশ চোখ ছোট ছোট করে তাকাল। সে খুব ভালো করেই জানে, আরিশার সেই জোর করে বিয়ে করার নাটকের আসল ডিরেক্টর কে ছিল!ফারিশ মি. নাসিরের হাতটা ছেড়ে দিল তারপর গম্ভীর গলায় বলল,
"তোমার ওই মহাজাগতিক পেশেন্টের চিকিৎসার গল্পটা না হয় আমি কোর্ট থেকে ফিরে পরে শুনব। এখন আর কথা না বাড়িয়ে সোজা গিয়ে গাড়িতে বসো, ড্যাড!!"
কথাটা বলেই ফারিশ আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না, লম্বা লম্বা পায়ে বাইরের দিকে বেরিয়ে গেল। ওদিকে মি. নাসির আর এক মুহূর্তও দেরি করা নিরাপদ মনে করলেন না। তিনি হাফ ছেড়ে বাঁচলেন যে ছেলে আজ আর বেশি জেরা করেনি। জুতো জোড়া কোনোমতে পায়ে গলিয়ে, প্রায় এক প্রকার দৌড়েই গিয়ে ফারিশের গাড়ির ফ্রন্ট সিটে একদম বাধ্য ছেলের মতো সিটবেল্ট বেঁধে বসে রইলেন।
গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো মাত্রই মি. নাসির যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। তিনি গাড়ি থামার সাথে সাথেই তাড়াহুড়ো করে নেমে পড়লেন। গাড়ি থেকে এবার আরিশা নামতেই ফারিশ ঠোঁটের কোণে এক চিলতে নরম হাসি ফুটিয়ে তুলল। বেশ মিষ্টি গলায় বলে উঠল,
"আল্লাহ হাফেজ!! ভালো করে পড়ো !"
আরিশাও ফারিশের দিকে তাকিয়ে হেসে বিদায় নিল। কিন্তু এই সুন্দর আর সাবলীল দৃশ্যটি দূর থেকে একজনের চোখে একদম তীরের মতো গিয়ে বিঁধল। সে আর কেউ নয়, আরিশার সেই ক্লাসমেট লিজা। লিজা অনেকদিন ধরেই লয়ার ফারিশ নওয়ানের ওপর ক্রাশ খেয়ে বসে আছে।
ফারিশের গাড়িটা চলে যেতেই লিজা চোখমুখ শক্ত করে পাশে থাকা বান্ধবী নওরীনের দিকে তাকিয়ে হিংস্র গলায় জিজ্ঞেস করল,
"গাড়ির ভেতরে কে ছিল রে, নওরীন?? আমার লয়ার নয়তো!!"
নওরীন লিজার কথা শুনে একচিলতে উপহাসের হাসি হাসল। সে আরিশার দিকে তাকিয়ে লিজাকে খোঁচা দিয়ে বলল,
"আমার লয়ার?! আরে রাখ তো তোর লয়ার! তোর লয়ার তো তোকে চিনেও না রে লিজা। লিজা বলে যে এই পৃথিবীতে কোনো মেয়ে এক্সিস্ট করে, লয়ার ফারিশ নওয়ান তা জানেও না। সো স্যাড!!"
নওরীনের এমন উপহাসে লিজার রাগ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেল। সে আরিশার যাওয়ার পথের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
"ডক্টর নাসির স্যারের বন্ধুর মেয়ে হয়ে এই মেয়েটা বেশ অতিরিক্ত সুবিধা পাচ্ছে! সারাক্ষণ দেখি আমার লয়ারের আশেপাশেই ঘোরে। ফারিশ আজ আমায় না চিনলেও, কাল ঠিকই চিনবে। আই সোয়ার!!"
"সেগুড়ে বালি! তুই জাস্ট স্বপ্নই দেখে যা!"
হঠাৎ পেছন থেকে রুবেলের কণ্ঠস্বর শুনে লিজা ঝটকা মেরে সেদিকে তাকাল। রুবেলও লিজার ফ্রেন্ড সার্কেলেরই একজন।লিজা এবার রুবেলের একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আঙুল উঁচিয়ে বলল,
" চ্যালেঞ্জ করিস না রুবেল! আমি লিজা, ভুলে যাস না!! যা আমি চাই, তা আমি কেড়েই নিই।"
কথাটা বলেই রাগে ফুসতে ফুসতে ক্লাসরুমের দিকে চলে গেল লিজা। রুবেল তখন ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা, রহস্যময় হাসি দিল।
অপরদিকে আরিশা আর ড্যাডকে ড্রপ করার পর ফারিশ যখন কোর্টের দিকে যাচ্ছিল, তখনই তার ফোনে একটা অত্যন্ত গোপন ও জরুরি কল এল। ওপাশ থেকে আসিফের উত্তেজিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল—
"স্যার, এক মারাত্মক কারচুপি হয়ে গেছে! খুনের মামলার প্রধান আসামি জগুকে আইনি ফাঁকফোকর দেখিয়ে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে! অথচ আপনি ওর বিরুদ্ধে সমস্ত অকাট্য প্রমাণ আর জ্যান্ত সাক্ষী পেশ করেছিলেন!"
খবরটা কান অব্দি পৌঁছানো মাত্রই মুহূর্তের মধ্যে ফারিশের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। রাগে ও ক্ষোভে তার ফর্সা মুখাবয়ব একদম রক্তবর্ণ ধারণ করল। সে আর এক মুহূর্তও নষ্ট করল না। স্টিয়ারিং হুইলটা শক্ত করে চেপে ধরে, পায়ের নিচে থাকা এক্সিলারেটরে সজোরে চাপ দিল সে।গাড়িটা তখন শহরের ব্যস্ত রাস্তা ছিঁড়ে হাই স্পিডে কোর্টের উদ্দেশ্যে ছুটে চলল।

