Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin)
#20

২০

আনিকা আমার দিকে ফিরে একটা রহস্যময় হাসি দিলেন। "কাজ আছে। আমি তোমাকে বলেছিলাম না যে তোমার মেসে যাওয়ার দরকার নেই? তোমার যা লাগবে আমি ম্যানেজ করব? একজন মানুষের আট দিন থাকার জন্য তো কিছু বেসিক জিনিস লাগে। জামাকাপড়, স্লিপিং সুট, আরও কিছু দরকারি জিনিস। আমি তোমাকে আড়ং থেকে ওগুলো কিনে দেব।"

আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। "আরে, এটা কেমন কথা! আমি আমার কাপড়..."

আনিকা আমার ঠোঁটের ওপর উনার একটা আঙুল রেখে আমাকে থামিয়ে দিলেন। "শশশ! কোনো কথা না। আমি বলেছি, তুমি এখন আমার। আর আমার মানুষের কী লাগবে না লাগবে, সেটা দেখার দায়িত্ব আমার।" আমি আর কোনো কথা বলতে পারলাম না। উবারের গাড়িটা শাহবাগ পেরিয়ে সায়েন্স ল্যাবের দিকে এগোতে লাগল। আমার মাথার ভেতর তখন একটা অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে। একজন নারী যখন একজন পুরুষকে এতটা যত্ন করে, এতটা অধিকার নিয়ে শাসন করে— তখন সেই পুরুষের আর কোনো নিজস্ব ফিলোসফি বা ইগো অবশিষ্ট থাকে না।

গাড়ি এসে সায়েন্স ল্যাবের আড়ংয়ের সামনে থামল। 

পৃথিবীতে পুরুষ মানুষের জন্য সবচেয়ে বিরক্তিকর কাজগুলোর একটি হলো শপিং করা। আর সেই শপিং যদি হয় কোনো শপিং মলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুরে ঘুরে জামাকাপড় কেনা, তাহলে তো কথাই নেই। সাধারণ মধ্যবিত্ত পুরুষদের শপিংয়ের একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে। তারা দোকানে ঢোকে, চোখের সামনে যে শার্ট বা প্যান্টটা প্রথম পড়ে সেটা হাতে নেয়, দাম দেখে, সাইজ ঠিক থাকলে পেমেন্ট করে পাঁচ মিনিটের মধ্যে দোকান থেকে বেরিয়ে আসে। কোনো দরদাম নেই, কোনো বাছবিচার নেই। কিন্তু নারীদের শপিংয়ের ব্যাকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা শপিং মলে যায় পৃথিবী জয় করার প্রস্তুতি নিয়ে।

সায়েন্স ল্যাবের আড়ংয়ের সামনে যখন উবারের গাড়িটা থামল, তখন রাত আটটা বাজে। ঢাকা শহরের রাস্তায় তখন গাড়ির হর্ন আর মানুষের কোলাহলের চূড়ান্ত রূপ। আমরা গাড়ি থেকে নেমে আড়ংয়ের সেই বিশাল, আলো ঝলমলে কাঁচের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। আড়ংয়ের ভেতরে ঢোকার সাথে সাথেই এক ধরনের অদ্ভুত, আভিজাত্যের গন্ধ নাকে এসে লাগে। নতুন কাপড়ের গন্ধ, দামি পারফিউমের গন্ধ, আর এসির কনকনে ঠান্ডা বাতাস মিলেমিশে একটা এলিট পরিবেশ। আমি রাশেদ আহমেদ, মিরপুরের মেসে থাকা পঁচিশ হাজার টাকা বেতনের এক সাধারণ অনুবাদক, এই পরিবেশে নিজেকে সবসময় একটা মিসফিট বা বেমানান প্রাণী বলে মনে করি। আমার মনে হয়, এখানকার সিকিউরিটি গার্ডরাও হয়তো বুঝতে পারে যে এই লোকটার পকেটে আড়ং থেকে কিছু কেনার মতো কোনো টাকা নেই, সে স্রেফ হাওয়া খেতে ঢুকেছে।

কিন্তু আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। আজ আমি একা নই। আমার পাশে আছেন আনিকা নাওহার। উনার পরনের নীল শাড়ি, উনার হাঁটার রাজকীয় ভঙ্গি আর উনার চোখের সেই প্রখর আত্মবিশ্বাস পুরো আড়ংয়ের পরিবেশটাকে যেন উনার নিজের ড্রয়িংরুমের মতো ক্যাজুয়াল বানিয়ে দিল। আমরা সোজা দোতলায়, মেনজ ওয়্যার বা ছেলেদের কাপড়ের সেকশনে চলে গেলাম।

আমি ভেবেছিলাম, উনি হয়তো আমার ওই ফ্ল্যাটে থাকার জন্য একটা সাধারণ ট্রাউজার আর একটা স্লিপিং শার্ট কিনে দেবেন। কিন্তু আনিকা নাওহারের ডিকশনারিতে 'সাধারণ' বলে কোনো শব্দ নেই। উনি একটা ট্রলির ঝুড়ি হাতে নিলেন। তারপর একদিক থেকে শুরু করলেন। প্রথমে ট্রাউজার বা ক্যাজুয়াল প্যান্টের সেকশন। উনি খুব মনোযোগ দিয়ে কাপড়ের টেক্সচার দেখছেন। কয়েকটা ট্রাউজার আমার কোমরের কাছে এনে মাপ বুঝার চেষ্টা করলেন। "আনিকা, একটা প্যান্ট হলেই তো হয়। রাতে ঘুমানোর সময় তো আর ফ্যাশন শো করব না," আমি উনার পাশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বললাম।

উনি আমার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে নীল, ছাই রঙ, আর জলপাই রঙের তিন-চারটে ট্রাউজার ঝুড়িতে ফেলে দিলেন। তারপর উনি আমার খুব কাছে ঘেঁষে দাঁড়ালেন। উনার ঠোঁটটা আমার কানের কাছে এনে এমন একটা নিচু, রেশমি গলায় ফিসফিস করে বললেন, "তোমার কোমরের সাইজটা একদম পারফেক্ট রাশেদ। আমি জাস্ট দেখছি, এই প্যান্টগুলো তোমার শরীর থেকে খুলে ফেলা কতটা সহজ হবে।" কথাটা শোনার সাথে সাথে আমার কানের লতি লাল হয়ে গেল। আমি চারদিকে আড়চোখে তাকালাম। সেলসম্যানরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। এই নারী কি পাগল? আড়ংয়ের মতো একটা পাবলিক প্লেসে দাঁড়িয়ে কেউ এমন কথা বলে! আমার শরীরের ভেতর দিয়ে একটা বিদ্যুতের ঝলক বয়ে গেল।

এরপর আমরা গেলাম ফতুয়ার সেকশনে। আমি জীবনে কখনো আড়ংয়ের ফতুয়া পরিনি। নিউমার্কেটের ফুটপাত থেকে কেনা দুই-তিনশো টাকার ফতুয়াই আমার ভরসা। আনিকা খুব সুন্দর ডিজাইনের, হালকা সুতোর কাজ করা দুটো ফতুয়া বেছে নিলেন। "এই ফতুয়াগুলো পরলে তোমাকে একদম খাঁটি বাঙালি বাবু মনে হবে," আনিকা আবার আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এলেন। উনার পারফিউমের গন্ধটা আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল। উনি খুব দুষ্টু একটা হাসি দিয়ে ফিসফিস করে বললেন, "বাঙালি পুরুষ ফতুয়ায় কত সুন্দর লাগে জানো? তবে ফতুয়ার নিচের শরীরটা তার চেয়েও বেশি সুন্দর।"

আমি একটা ঢোঁক গিললাম। "আনিকা, আপনি কিন্তু পাবলিক প্লেসে আমাকে নার্ভাস করে দিচ্ছেন। আমি তো শপিং বাদ দিয়ে অন্য কিছু ভাবতে শুরু করব।"

"ভাবো না! কে মানা করেছে?" উনি চোখ টিপে হাসলেন।

এরপর উনি গেলেন টি-শার্টের দিকে। সেখান থেকে নিলেন তিনটা খুব সফট এবং দামি ফেব্রিকের ক্যাজুয়াল টি-শার্ট। আমি বললাম, "কী শুরু করলেন? এত টি-শার্ট দিয়ে আমি কী করব?" আনিকা উনার হাত দিয়ে একটা টি-শার্টের কাপড় পরখ করতে করতে ফিসফিসিয়ে বললেন, "আমার ফ্ল্যাটে ঘুমানোর জন্য খুব আরামদায়ক কাপড় লাগে রাশেদ। আর তা নাহলে, কোনো কাপড় না হলেও চলে। অপশনটা তোমার।"

আমার বুকের স্পন্দন আবার বেড়ে গেল। এই নারীর প্রতিটি কথার ভেতর একটা করে সুপ্ত আগ্নেয়গিরি লুকিয়ে আছে। কাপড়ের পাট চুকিয়ে আমি ভাবলাম শপিং শেষ। কিন্তু না। আনিকা আমাকে টেনে নিয়ে গেলেন শার্টের সেকশনে। "অফিসে যাওয়ার জন্য তো কিছু শার্ট লাগবে, তাই না? ওই একই শার্ট পরে তো আর আট দিন অফিসে যেতে পারবে না," আনিকা বললেন।

আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। "আনিকা, অফিসের শার্ট আমার মেসেই আছে। আমি ম্যানেজ করে নেব। প্লিজ, আর কিছু কিনবেন না।" আনিকা শুনলেন না। উনি চারটা খুব এক্সক্লুসিভ, ফর্মাল এবং সেমি-ফর্মাল শার্ট পছন্দ করলেন। একটা শার্ট আমার বুকের ওপর ধরে ফিটিং দেখতে দেখতে উনি উনার সেই বিখ্যাত, ঘাতক ফিসফিসানিটা আবার শুরু করলেন। "শার্টে তোমাকে দারুণ মানাবে রাশেদ। তোমার চওড়া কাঁধের সাথে খুব ভালো যাবে।" উনি একটু থামলেন। তারপর উনার চোখের দৃষ্টিটা একটু নিচে নামিয়ে, ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে তুলে বললেন, "তবে সত্যি কথা বলতে কী... আমার বেশি ভালো লাগে তোমাকে শার্ট ছাড়া দেখতে।"

উনার এই কথাটা আমাকে আক্ষরিক অর্থেই বোবা করে দিল। আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ আমাদের শুনছে কি না। আড়ংয়ের এই কর্পোরেট, শান্ত পরিবেশে দাঁড়িয়ে আমরা দুজন যেন একটা গোপন, আদিম প্রেমের খেলা খেলছি। শার্ট কেনা শেষ হলো। আমি মনে মনে হিসাব করছি, বিল কত আসতে পারে। কিন্তু আনিকার শপিংয়ের লিস্ট তখনো শেষ হয়নি। উনি আমাকে নিয়ে গেলেন অ্যাকসেসরিজ সেকশনে। সেখান থেকে উনি একটা খুব সুন্দর, ভারি ক্রিস্টালের ছাইদানি (অ্যাশট্রে) নিলেন।

"এটা কেন?" আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

"তুমি যে চেইন স্মোকার, সেটা আমি জানি। আমার ফ্ল্যাটে তো কোনো অ্যাশট্রে নেই। তুমি তো ছাই ফেলে আমার বিছানা নোংরা করে ফেলবে। তাই এটা নিলাম," আনিকা বললেন।

তারপর উনি একটা খুব দামি, খাঁটি চামড়ার মানিব্যাগ নিলেন। "মানিব্যাগ কেন? আমার তো মানিব্যাগ আছেই," আমি আমার পকেট থেকে আমার পুরনো, জীর্ণ, চামড়া-ওঠা মানিব্যাগটা বের করে দেখালাম। আনিকা সেটার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন। "ওই মানিব্যাগের দিন শেষ রাশেদ। নতুন মানিব্যাগে নতুন স্মৃতি জমা করে রাখবে।" সবশেষে উনি একটা সানগ্লাসের স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়ালেন। সেখান থেকে একটা বেশ স্টাইলিশ, কালো ফ্রেমের সানগ্লাস তুলে নিয়ে আমার চোখে পরিয়ে দিলেন।

"পারফেক্ট!" আনিকা একটু পিছিয়ে গিয়ে আমাকে দেখে বললেন।

"সানগ্লাস দিয়ে আমি কী করব? আমি তো আর হিরো না।"

"হিরো না, কিন্তু তোমার চোখ দুটো খুব ডেঞ্জারাস রাশেদ। ওই শিকারি চোখ দুটো মাঝে মাঝে লুকিয়ে রাখা দরকার," আনিকা খুব নিচু গলায়, চোখে চোখ রেখে বললেন।

আমি পুরোপুরি পরাস্ত। আমার আর কোনো কথা বলার ক্ষমতা অবশিষ্ট নেই। আমরা কাউন্টারে গেলাম বিল পেমেন্ট করার জন্য। ক্যাশিয়ার একে একে জিনিসগুলোর বারকোড স্ক্যান করছে, আর মনিটরে দাম উঠছে। আমি জীবনে সবসময় বঙ্গবাজার বা নিউমার্কেট থেকে ৬০০-৭০০ টাকার শার্ট পরা লোক। আমি আড়চোখে দেখলাম, আনিকার পছন্দ করা একটা শার্টেরই দাম ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা। ট্রাউজারগুলোর দামও আকাশছোঁয়া।

স্ক্যানিং শেষ হওয়ার পর ক্যাশিয়ার ছেলেটা খুব বিনীত গলায় বলল, "ম্যাম, আপনাদের মোট বিল এসেছে ঊনত্রিশ হাজার তিনশো পঞ্চাশ টাকা।" ২৯,৩৫০ টাকা!

সংখ্যাটা শোনার পর আমার মনে হলো, আমার মাথার ওপর দিয়ে একটা রকেট উড়ে গেল। আমার সারা মাসের বেতন পঁচিশ হাজার টাকা। আর এই নারী মাত্র আধঘণ্টার শপিংয়ে আমার এক মাসের বেতনের চেয়েও বেশি টাকা স্রেফ আমার জামাকাপড় আর ছাইদানির পেছনে উড়িয়ে দিলেন! আমি মানসিকভাবে চরম একটা ধাক্কা খেলাম। মধ্যবিত্ত পুরুষদের একটা বড় সমস্যা হলো তাদের ইগো। তারা চায় নারীদেরকে প্রটেক্ট করতে, তাদের জন্য খরচ করতে। কিন্তু যখন উল্টোটা ঘটে, তখন তাদের ইগোতে খুব সূক্ষ্ম একটা আঁচড় পড়ে।

আনিকা খুব দ্রুত উনার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা প্ল্যাটিনাম ক্রেডিট কার্ড বের করে ক্যাশিয়ারের হাতে দিলেন। আমি আনিকার দিকে তাকালাম। আমার হঠাৎ করে নিজেকে খুব দামি একজন ‘মেল প্রস্টিটিউট’ বা এসকর্ট বলে মনে হতে লাগল। যেন আমার কোনো ধনী, অভিজাত 'ওনার' বা মালিক আমাকে খুশি করার জন্য, আমার সার্ভিসের বিনিময়ে আমাকে দামি দামি গিফট কিনে দিচ্ছেন। ব্যাপারটা আমার কাছে অপমানজনক মনে হলো না, বরং খুব হাস্যকর এবং পরাবাস্তব মনে হলো। আমি, মিরপুরের মেস নিবাসী রাশেদ আহমেদ, একজন বিলিয়নিয়ার নারীর ‘কিপ্ট’ বা পালিত পুরুষ হয়ে গেছি! এই ফিলিংসটার ভেতরে একটা অদ্ভুত, নিষিদ্ধ আনন্দ আছে।

আমি উনার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, "কী শুরু করলেন আনিকা? পুরো আড়ংটা কিনে নেবেন নাকি?" আনিকা কার্ড পাঞ্চ মেশিনে পিন কোড দিতে দিতে আমার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন। উনার সেই বাদামি চোখে একটা অদ্ভুত অধিকারবোধ। উনি খুব নিচু গলায়, শুধু আমি যেন শুনতে পাই এমনভাবে বললেন, "তুমি তো আমাকেই কিনে নিয়েছ রাশেদ। আমার পুরো সত্তাটা এখন তোমার। আমি আর কী-ই বা দিতে পারি তোমাকে?"

কথাটা আমার বুকের ভেতরটা এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিল। এই নারী জানে কীভাবে একজন পুরুষের সমস্ত ইগো, সমস্ত লজিককে একটা মাত্র বাক্য দিয়ে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে হয়।

বিল পেমেন্ট করে আমরা বিশাল দুটো শপিং ব্যাগ নিয়ে আড়ং থেকে বের হলাম। বাইরে এসে দেখি, আমাদের জন্য অপেক্ষমাণ উবারের ড্রাইভার বেশ বিরক্ত মুখে গাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে। ঢাকা শহরের উবার ড্রাইভাররা এমনিতেই খুব সেনসিটিভ প্রজাতির মানুষ। তাদের পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করালেই তারা ট্রিপ ক্যানসেল করে দেওয়ার হুমকি দেয়।

আমি একটু অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। "ভাই, একটু দেরি হয়ে গেল। সরি।" ড্রাইভার মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে বলল, "ভাই, আপনাদের তো পাঁচ মিনিট বইলা আধা ঘণ্টা পার কইরা দিলেন। আমার তো অন্য ট্রিপ ধরার টাইম পার হইয়া যাইতেছে। ঢাকা শহরে ওয়েটিংয়ের যে টাকা দেয় অ্যাপে, ওইটা দিয়া তো আমার পোষায় না।" আমি কিছু বলার আগেই আনিকা খুব শান্ত, কনফিডেন্ট গলায় বললেন, "প্যারা নাই ভাইয়া। অ্যাপে ওয়েটিংয়ের যে টাকা আসবে, আমি আপনাকে তার চেয়ে অনেক বেশি বকশিশ দিয়ে দেব। আপনি জাস্ট রিল্যাক্স করে ড্রাইভ করেন।"

টাকা যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যাজিক, সেটা আবার প্রমাণ হয়ে গেল। 'বকশিশ' শব্দটা শোনার সাথে সাথেই ড্রাইভারের বিরক্তি একদম কর্পূরের মতো উড়ে গেল। সে তড়িঘড়ি করে গাড়ির পেছনের ডিকি খুলে আমাদের শপিং ব্যাগগুলো যত্ন করে রাখল।"ঠিক আছে ম্যাডাম, ওঠেন। কোনো সমস্যা নাই," ড্রাইভার দাঁত বের করে হাসল। আমরা গাড়িতে উঠলাম। গন্তব্য ধানমন্ডি।

"রাশেদ, বাসায় তো খাবার নেই। চলো রাস্তার পাশ থেকে কিছু দেশি খাবার কিনে নিই," আনিকা গাড়িতে বসেই বললেন।

"ঠিক আছে। স্টার কাবাব বা কোনো দেশি রেস্টুরেন্ট থেকে পার্সেল নিয়ে নেব।"

আমরা ধানমন্ডির ভেতরে একটা ভালো রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি থামালাম। আমি নেমে গিয়ে রাতের খাবারের জন্য সাদা ভাত, গরুর কালা ভুনা, লইট্টা শুঁটকি ভুনা, আর ঘন ডাল পার্সেল নিলাম। আনিকা গাড়ি থেকেই আমাকে ইশারা করে বললেন রাস্তার পাশের একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে কিছু স্ন্যাকস, চিপস, চকোলেট আর কয়েক বোতল স্প্রাইট নিয়ে আসতে। সব কেনাকাটা শেষ করে আমরা যখন আনিকার সেই ষোলো তলা বিল্ডিংয়ের সাত তলার ফ্ল্যাটে এসে পৌঁছালাম, তখন রাত প্রায় দশটা।

ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই সেই পরিচিত, শান্ত, এসির ঠান্ডা বাতাস আমাদের স্বাগত জানাল। আনিকা উনার শাড়িটা পাল্টে একটা খুব আরামদায়ক, ঢিলেঢালা ম্যাক্সি টাইপের ড্রেস পরে নিলেন। আমি আড়ংয়ের ব্যাগ থেকে একটা নতুন ট্রাউজার আর ফতুয়া বের করে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। নতুন ফতুয়া গায়ে দিয়ে, ড্রয়িংরুমের সেই বিশাল লেদার সোফায় বসে আমি একটা অদ্ভুত শান্তি অনুভব করলাম।

আমি নতুন অ্যাশট্রেটা টেবিলের ওপর রাখলাম। পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালাম। আনিকাও আমার পাশে এসে বসলেন। আমি উনার দিকে সিগারেটের প্যাকেটটা এগিয়ে দিলাম। উনি একটা সিগারেট নিয়ে আমার লাইটার থেকেই ধরালেন। দুজনে পাশাপাশি বসে সিগারেট খাওয়ার ভেতরে একটা খুব গভীর, ইমোশনাল ইনটিমেসি আছে। সিগারেটের ধোঁয়াগুলো বাতাসে মিশে যাচ্ছে, আর আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছি। কোনো কথা নেই, শুধু নীরবতার এক অদ্ভুত বোঝাপড়া। সিগারেট শেষ করে আমরা ডাইনিং টেবিলে খেতে বসলাম।

মাটির পাত্রে বা সিরামিকের প্লেটে দেশি খাবার খাওয়ার মজাটাই আলাদা। গরুর কালা ভুনা আর লইট্টা শুঁটকি দিয়ে ভাত মেখে খাওয়ার সময় আনিকার মুখটা একটু লাল হয়ে গেল।

"উফফ! দারুণ ঝাল, কিন্তু কী টেস্ট!" আনিকা স্প্রাইটের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বললেন। "বিদেশে বসে এই কালা ভুনা আর শুঁটকির স্বাদ পাওয়া যায় না আনিকা। এটা শুধু ঢাকা শহরের জ্যাম আর ধুলোবালির সাথেই মানায়," আমি হাসিমুখে বললাম।

আমরা খুব আস্তে-ধীরে, আড্ডা দিতে দিতে খাওয়া শেষ করলাম। আনিকা উনার লন্ডনের জীবনের কথা বলছিলেন, আমি বলছিলাম আমার মেসের বন্ধুদের কথা। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আমরা হাত ধুয়ে আবার ড্রয়িংরুমে এলাম। রাত তখন সাড়ে এগারোটার মতো বাজে।

আমি ভাবছিলাম, এবার হয়তো আমরা বেডরুমের দিকে যাব। গতকাল রাতের সেই অপূর্ণতা, সেই বন্যতা আজ হয়তো পূর্ণতা পাবে। আমার শরীরের ভেতর আবার সেই পরিচিত উত্তেজনা কাজ করতে শুরু করেছে। কিন্তু আনিকা হঠাৎ করে একটা অদ্ভুত প্রস্তাব দিয়ে বসলেন। উনি ডাইনিং স্পেসের পাশের একটা কাঠের ক্যাবিনেটের দিকে হেঁটে গেলেন। ক্যাবিনেটের দরজা খুলে উনি একটা বেশ পরিচিত শেপের বোতল বের করে আনলেন।

বোতলটা দেখে আমার চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। একটা ব্ল্যাক লেবেল হুইস্কি! আনিকা বোতলটা আর দুটো ক্রিস্টালের গ্লাস হাতে নিয়ে সোফায় আমার পাশে এসে বসলেন।

"রাশেদ," আনিকা খুব শান্ত, অথচ চরম একটা উত্তেজক গলায় বললেন, "আজ রাতে আমরা দুজনে মদ খাব।" 

আমি হতভম্ব হয়ে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম। "মদ? মানে অ্যালকোহল?"

"হ্যাঁ। অ্যালকোহল। লন্ডনে এটা আমাদের খুব রেগুলার ব্যাপার, কিন্তু দেশে আমি খুব একটা খাই না। আজ আমার খেতে ইচ্ছে করছে।"

আমি একটু নার্ভাস হয়ে গেলাম। "কিন্তু আনিকা, আমি তো ওসবের খুব একটা অভ্যস্ত না। আমি তো সাধারণ মানুষ।" আনিকা খিলখিল করে হেসে উঠলেন। "আরে বাবা, ভয় পাচ্ছ কেন? আমি তো তোমাকে মাতাল করে ড্রেনে ফেলে দেব না। আমরা জাস্ট হালকা ড্রিংক করব। একটু রিল্যাক্সড হবো।" উনার চোখের দৃষ্টিটা এবার একটু পাল্টে গেল। সেই দৃষ্টিতে এখন একটা বন্য, আদিম এবং চরম কামনার আগুন জ্বলছে।

উনি আমার কানের খুব কাছে মুখ নিয়ে এসে ফিসফিস করে বললেন, "রাশেদ, আমি দেখতে চাই, মাতাল অবস্থায় তুমি আমাকে কীভাবে আদর করো। কাল রাতে তো তুমি পুরো সেন্সে ছিলে, তাতেই আমাকে পাগল করে দিয়েছ। আজ আমি দেখতে চাই, যখন তোমার মাথার ভেতরের সমস্ত লজিক, সমস্ত কন্ট্রোল হারিয়ে যাবে, তখন তুমি কতটা বন্য হতে পারো। আমি তোমার সেই বন্যতাটা ফিল করতে চাই।"

উনার কথাটা শোনার পর আমার শরীরের সমস্ত রক্ত যেন এক মুহূর্তে মাথায় উঠে এল। মাতাল অবস্থায় আদর! এই নারী আমাকে নিয়ে এমন সব ফ্যান্টাসির জগতে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, যে জগতের দরজা আমি জীবনেও খোলার কথা ভাবিনি।

"ঠিক আছে," আমি একটা গভীর শ্বাস নিয়ে বললাম। "আজ রাতে তাহলে আপনার রুলস।"

আনিকা হাসিমুখে গ্লাসে হুইস্কি ঢাললেন। আমরা গ্লাস দুটো হাতে নিয়ে ফ্ল্যাটের সাথে লাগোয়া বিশাল বারান্দাটায় গিয়ে বসলাম। বারান্দায় দুটো বেতের চেয়ার আর একটা ছোট টেবিল রাখা। আমরা সেখানে বসলাম। রাত তখন বারোটা পেরিয়েছে। ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট এখন অনেকটা শান্ত। দূর থেকে দুই-একটা দূরপাল্লার বাসের হর্ন বা ট্রাকের শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের একটা খুব মিষ্টি, ঠান্ডা বাতাস বারান্দা দিয়ে আমাদের গায়ে এসে লাগছে।

আমি আমার ফোনটা বের করে ইউটিউব ওপেন করলাম। "একটা গান ছাড়ি আনিকা?" আমি জিজ্ঞেস করলাম। "ছাড়ো। তোমার যা ইচ্ছে।" আমি সার্চ করে আমার খুব প্রিয় একটা গান প্লে করলাম। কবীর সুমনের গান। ফোনের স্পিকার থেকে খুব মৃদু, কিন্তু স্পষ্ট ভলিউমে গানটা বাজতে শুরু করল।


অচেনা নদীর স্রোতে চেনা চেনা ঘাট দেখে নামি
চেনা তবু চেনা নয়, এভাবেই স্রোত বয়ে যায়
খোদার কসম জান, আমি ভালোবেসেছি তোমায়।

গানের সুরটা রাতের এই নিস্তব্ধতা, বারান্দার এই ঠান্ডা বাতাস, আর আমাদের হাতের হুইস্কির গ্লাসের সাথে এমন একটা অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করল, যে মনে হলো আমরা যেন পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো এক মায়াবী দ্বীপে বসে আছি। আমি আনিকার দিকে তাকালাম। উনি চোখ বন্ধ করে গানের সুরটা শুনছেন। উনার ঠোঁটে একটা শান্ত হাসি। উনার এক হাত আমার হাতের ওপর রাখা। আমি হুইস্কির গ্লাসে একটা ছোট চুমুক দিলাম। তরল আগুনটা গলা দিয়ে নেমে গিয়ে বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত উষ্ণতা তৈরি করল।

রাত মাত্র শুরু হয়েছে। এবং আমি জানি, এই রাতের শেষটা হবে এমন কিছু, যা আমার জীবনের সমস্ত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দেবে।

মানুষের জীবন আর সিনেমার স্ক্রিপ্টের মধ্যে একটা খুব বেসিক পার্থক্য আছে। সিনেমায় যখন নায়ক-নায়িকা রাতে বারান্দায় বসে মদ খায়, ব্যাকগ্রাউন্ডে রোমান্টিক গান বাজে, তখন দর্শকরা খুব ভালো করেই জানে এর পরের দৃশ্যটা কী হতে যাচ্ছে। তারা সোজা বেডরুমে যাবে, এবং সারা রাত ধরে এমন এক প্রলয়ঙ্করী প্রেমের ঝড় বইবে যা দেখে আটলান্টিক মহাসাগরের ঢেউও লজ্জা পাবে। কিন্তু বাস্তব জীবন কোনো স্ক্রিপ্ট মেনে চলে না। বাস্তব জীবনে মানুষের একটা অদ্ভুত বায়োলজিক্যাল যন্ত্র থাকে, যার নাম শরীর।

গত রাতে বারান্দায় বসে হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে আমি যে লেভেলের ফ্যান্টাসির রাজ্য তৈরি করেছিলাম, তার দশ ভাগও যদি বাস্তবে রূপ নিত, তাহলে আজ হয়তো ঢাকার কোনো এক পত্রিকায় খবর বের হতো— "ধানমন্ডিতে অতিরিক্ত রোমান্সের কারণে এক অনুবাদকের করুণ মৃত্যু।" কিন্তু বাস্তবে ঘটল অন্য ঘটনা। হুইস্কির ওই কয়েক পেগ, সারাদিন বইমেলায় হাঁটা, আড়ংয়ে শপিং করা এবং তারও আগে বাথটাবের সেই নার্ভ-কাঁপানো আদিম ধকল— সব কিছু মিলিয়ে আমাদের দুজনের শরীরেই একটা চরম ক্লান্তি ভর করেছিল। অ্যালকোহল জিনিসটা খুব অদ্ভুত। এটা কখনো আপনাকে উড়তে সাহায্য করে, আবার কখনো আপনাকে আক্ষরিক অর্থেই মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। গতকাল রাতে আমাদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়টাই ঘটেছিল।

বারান্দা থেকে আমরা যখন টলমল পায়ে বেডরুমে এসে বিশাল সেই বিছানায় পড়লাম, তখন আমাদের মাথার ভেতর কোনো গভীর রোমান্স কাজ করছিল না। কাজ করছিল এক অদ্ভুত অবসাদ মেশানো ঘুম। অবশ্যই, এক বিছানায় সম্পূর্ণ অনাবৃত দুজন নারী-পুরুষ শুয়ে থাকলে একদম সন্ন্যাসীদের মতো ঘুমিয়ে পড়ে না। আমাদের মধ্যেও কিছু হলো। আমি আনিকাকে জড়িয়ে ধরলাম, উনার ঠোঁটে কিছু এলোমেলো, ক্লান্ত চুমু খেলাম। আমার হাত উনার সেই সুডৌল, ভরাট স্তনের ওপর গিয়ে আশ্রয় নিল। আনিকাও উনার একটা পা আমার কোমরের ওপর তুলে দিয়ে আমাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলেন। উনার হাত আমার বুকে, পেটে কিছুটা আদর করল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। আমাদের শরীর আমাদেরকে খুব কড়া ভাষায় জানিয়ে দিল, "ভাইসব, আজকের মতো কোটা শেষ। এবার দয়া করে ঘুমাও।"

আমরা সেই এলোমেলো, আধা-জাগ্ৰত, আধা-ক্লান্ত অবস্থাতেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লাম। রাত তখন কটা হবে? হয়তো সাড়ে বারোটা কি একটা। সেন্ট্রাল এসির ঠান্ডা বাতাস আর কমফোর্টারের ওম— এই দুইয়ের মাঝখানে আমরা দুজন যেন শীতকালের দুটো সাপের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে গভীর, নিশ্ছিদ্র ঘুমে তলিয়ে গেলাম। 

সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় আটটা।

আমি আগেই বলেছি, আমার ভেতরের বায়োলজিক্যাল অ্যালার্মটা খুব বেইমান। সে জানে না আমি আজ ধানমন্ডির রাজপ্রাসাদে আছি নাকি মিরপুরের মেসে। সে তার ডিউটি পালন করে আমাকে ঠিক আটটায় জাগিয়ে দিল। আমি চোখ মেলে তাকালাম। আমি আর আনিকা এমন একটা অবস্থায় শুয়ে আছি, যেটা কোনো সভ্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। উনার ডান হাতটা আমার গলার নিচ দিয়ে গিয়ে আমার কাঁধ খামচে ধরে আছে। উনার একটা পা আমার দুই পায়ের মাঝখানে। আমার বাঁ হাতটা উনার কোমরের নিচে চাপা পড়ে অবশ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। উনার ফর্সা, মসৃণ পিঠটা আমার বুকের সাথে একেবারে লেপ্টে আছে। উনার চুলের সেই শ্যাম্পু আর অ্যালকোহল মেশানো একটা অদ্ভুত বুনো গন্ধ আমার নাকের ডগায়।

দৃশ্যটা এতই মায়াবী এবং এতই সুন্দর যে, আমার ইচ্ছে করছিল সময়টাকে এখানেই থামিয়ে দিই। এই নারী, যার রূপের আগুনে আমি গতকাল পুড়ে ছাই হয়েছি, সে এখন একটা ছোট্ট শিশুর মতো আমার বুকে মুখ গুঁজে ঘুমাচ্ছে। কিন্তু আমাকে উঠতে হবে। আমার পঁচিশ হাজার টাকার অনুবাদকের চাকরি আমাকে ডাকছে। আজ অফিসে গিয়ে আমাকে লিভ অ্যাপ্লিকেশনটা ফর্মালি জমা দিতে হবে।

আমি খুব সাবধানে, যেন একটা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করছি, এমন ভঙ্গিতে নিজেকে আনিকার বাঁধন থেকে মুক্ত করতে শুরু করলাম। প্রথমে উনার হাতটা খুব আলতো করে সরিয়ে বালিশের ওপর রাখলাম। তারপর আমার অবশ হয়ে যাওয়া বাঁ হাতটা উনার কোমরের নিচ থেকে টেনে বের করলাম। আনিকা ঘুমের ঘোরেই একটু "উমমম" শব্দ করে পাশ ফিরলেন। কমফোর্টারটা উনার বুক থেকে কোমর পর্যন্ত নেমে গেল। সকালের এই মিষ্টি আলোয় উনার উন্মুক্ত পিঠ এবং নিতম্বের বাঁক দেখে আমার আবার শ্বাস আটকে আসার উপক্রম হলো। আমি খুব দ্রুত চোখ সরিয়ে নিলাম। এখন এইসব দেখার সময় না। এখন দেখলে অফিসে যাওয়া হবে না।

আমি বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গেলাম।
Reply


Messages In This Thread
দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:51 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:52 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:52 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:53 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:54 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:54 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:55 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:55 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:26 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:27 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:28 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:55 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:56 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:57 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:58 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:58 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 08:58 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 08:59 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:00 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:01 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:02 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:03 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:06 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:07 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:08 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:08 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:09 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:10 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:12 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:13 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:14 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:16 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:17 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:17 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:18 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:20 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:22 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:23 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:25 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:25 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:26 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)