Thread Rating:
  • 1 Vote(s) - 5 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

গল্প:অঘোষিত হৃদয়সন্ধি (Writer: Raisa Mehran)
#10

10
 

বিশাল, রাজকীয় অট্টালিকার ভেতরের পরিবেশটা থমথমে। আলিশান ড্রয়িংরুমের মাঝখানে রাখা মখমলের সোফাটায় হেলান দিয়ে বসে আছেন শহরের উচ্চ ক্ষমতার অধিকারী, অত্যন্ত উচ্চপদস্থ এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। চারপাশের দামি ঝাড়বাতি আর দেয়ালে ঝোলানো প্রাচীন চিত্রকর্মগুলো তার আভিজাত্যের জানান দিলেও, ঘরের ভেতরের বাতাসটা এই মুহূর্তে এক অদ্ভুত নৃশংসতায় ভারী হয়ে আছে। তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছে তার এক অনুগত সহযোগী রাশেদ এবং রাশেদের পাশে তার ছেলে।রুমের পিনপতন নীরবতা ভেঙে সেই ক্ষমতাধর ব্যক্তিটি হাতের দামি চুরুটে একটা লম্বা টান দিলেন। ধোঁয়াটা বৃত্তাকারে বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে অত্যন্ত ধীর, কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় বললেন,

"তবে শেষ পর্যন্ত জগুর শাস্তিটা হলোই...!"

ব্যক্তিটির এই শীতল কণ্ঠস্বর শুনে রাশেদ এক পলক তার দিকে তাকাল। রাশেদের চোখের মণি দুটো অপমানে আর তীব্র ক্ষোভে জ্বলজ্বল করে উঠল।রাশেদের ভেতরের সেই দহন টের পেয়ে সোফায় বসা ব্যক্তিটি ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিদ্রূপের হাসি ফোটালেন। চুরুটের ছাইটা অ্যাশট্রেতে ঝেড়ে তিনি আবার বলতে শুরু করলেন,

 "তোদের বংশের ছেলেগুলোর জেদ কিন্তু মারাত্মক রাশেদ! সত্যি বলতে, আই লাইক ইট! কিন্তু মনে রাখিস, অতিরিক্ত জেদ পতনের কারণ হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই লয়ার ফারিশকে আমাদের পথ থেকে সরাতে হবে। আন্ডারস্ট্যান্ড? ফারিশ আমাদের অনেক বড় ক্ষতি করে দিয়েছে, ওকে আর সময় দেওয়া যাবে না।"

একটু থেমে, ব্যক্তিটি সোজা হয়ে বসলেন।

" ভালো কথা!!তোর ওয়াইফের খোঁজ পেলি??"

" নাহ, ফারিশ তাকে নতুন কোনো গোপন জায়গায় নিয়ে গেছে!!"

" যা করার তাড়াতাড়ি কর। ওর কাছে কিন্তু আমাদের অনেক তথ্য আছে!!"

কথাটা বলা শেষ হতেই হঠাৎ ব্যক্তিটির চোখের চাউনি এবার পৈশাচিক হয়ে উঠল। রাশেদের কাঁধে হাত রেখে অত্যন্ত নিচু কিন্তু বিষাক্ত স্বরে বললেন,

 "তবে তোদের বংশের ছেলেগুলোর জেদ যতই হোক না কেন রাশেদ, দিনশেষে তারা কিন্তু আমার পায়ের নিচেই থাকবে। বুঝলি? ঠিক... তোর মতো!"

কথাটা শেষ করেই লোকটা একটা উচ্চস্বরে শয়তানি আর তাচ্ছিল্যের হাসি দিল। সেই অট্টহাসি পুরো রাজকীয় রুমটায় প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। রাশেদকে চরম অপমানের সাগরে ডুবিয়ে দিয়ে, নিজের ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে ধীর পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল সেই উচ্চপদস্থ ব্যক্তি।সে আড়াল হতেই এতক্ষণ ধরে চেপে রাখা ক্ষোভে ফেটে পড়ল রাশেদের ছেলে। সে বাবার দিকে এগিয়ে এসে উত্তেজিত গলায় বলল,

 "ড্যাড! লোকটা তোমাকে এভাবে অপমান করল? তুমি মুখ বুজে সহ্য করলে?!"

ছেলের রাগ দেখে রাশেদের ঠোঁটের কোণে এবার এক রহস্যময়, কুটিল হাসি ফুটে উঠল। চোখের ভেতরের ক্ষোভটা নিমেষেই এক ঠান্ডা প্রতিশোধের নেশায় রূপ নিল। সে ছেলের পিঠে হাত রেখে অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় গলায় বলল,

 "ক্ষমতা আছে রে ছেলে, ক্ষমতা আছে! ওর হাতে এখন এমন শক্তি আছে যে, এই মুহূর্তে ওর দেওয়া চরম অপমানটাও আমাদের হাসিমুখে সহ্য করতে হবে। কিন্তু মনে রাখিস, দিন একরকম যায় না। সঠিক সময়টা শুধু আসতে দে... তখন এই প্রতিটা অপমানের জবাব আমি সব সুদে-আসলে ফিরিয়ে দেব! একটা হিসাবও বাকি থাকবে না।"

_________

গাড়িতে ক্যাজুয়ালি হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফারিশ। পরনে তার অত্যন্ত নিখুঁত কাটের ব্লেজার আর শার্ট। এক হাত পকেটে গুঁজে অন্য হাতে সে নিবিষ্ট মনে ফোনে স্ক্রল করে চলেছে, যেন চারপাশের কোনো কিছুতেই তার কোনো আগ্রহ নেই। আজ ইনায়া আর আয়ানের এনগেজমেন্ট।  উৎসবের আমেজ। মি. নাসির আর নাভান এতক্ষণ ধরে ফারিশের ঠিক পাশে দাঁড়িয়ে অনবরত দাঁত বের করে হেসেই চলেছে। তাদের হাসির পেছনের খোঁচাটা ফারিশ খুব ভালো করেই বোঝে, কিন্তু সে তাদের একবিন্দুও পাত্তা দিচ্ছে না; বরং সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে নিজের গাম্ভীর্য ধরে রেখেছে। কাল রাতে কোনোমতে সে আর আয়ান নিজেদের ইজ্জতটুকু বাঁচিয়ে অক্ষত অবস্থায় ফিরতে পেরেছে। এক্কেবারে ঝাঁড়ু নিয়ে তাড়া করা হয়েছিল তাদের! ভাবা যায়? লয়ার ফারিশকে ঝাঁড়ু পেটা করার উপক্রম! সময় আসুক! তখন সেও দেখে নিবে। ঠিক তখনই আয়ান হন্তদন্ত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল। আয়ানকে দেখা মাত্রই বাড়ির বাকি সদস্যরা একে একে গাড়িতে গিয়ে উঠতে লাগল। চারপাশের এই ব্যস্ততার মাঝেই হুট করে যেন পুরো পৃথিবীর গতি স্তব্ধ হয়ে গেল ফারিশের জন্য। তার হাতের ফোনের স্ক্রিনটা অনাবশ্যকভাবেই সচল রইল, কিন্তু ফারিশের গভীর চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিটা গিয়ে আটকে গেল সামনে।সেদিক থেকে হেঁটে আসছে আরিশা। পরনে তার এক চমৎকার খয়েরি রঙের গাঢ় শাড়ি। কাল রাতের ঝামেলার পর মিসেস ফাতেমা আরিশাকে আর নিজের বাসায় ফিরতেই দেননি। জোর করেই নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন এবং আজ নিজের আলমারি থেকে বের করে নিজের পছন্দের এই অপূর্ব খয়েরি শাড়িটা আরিশাকে পরিয়েছেন।হেঁটে আসতে আসতে আরিশার চোখও একসময় গিয়ে থমকে গেল ফারিশের ওপর। লোকটাকে আজও বরাবরের মতোই অসম্ভব, তীব্র রকমের সুন্দর লাগছে। আরিশার বুকটাও ক্ষণিকের জন্য কেঁপে উঠল। তবে সেই মুগ্ধতা পরক্ষণেই আড়াল করে নিল সে। আজ ফারিশের মুখ থেকে নিজের প্রশংসা শুনতেই হবে—এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আরিশা এগিয়ে গেল ফারিশের দিকে। তার একদম মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শাড়ির আঁচলটা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে, চোখের পলক দ্রুত ফেলে এক অদ্ভুত মিষ্টি ঢং করা শুরু করল সে। কখনও এদিক ওদিক তাকাচ্ছে, কখনও শাড়ির কুঁচি ঠিক করার বাহানা করছে, যেন সে ফারিশকে বাধ্য করছে তাকে দেখতে।ফারিশ এতক্ষণ ধরে অপলক, মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে ছিল আরিশার দিকে। মেয়েটার এই চঞ্চলতা, এই ঢং তার খুব ভালোই লাগে। আরিশার দিকে তাকিয়ে ফারিশের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে ওঠে, আর সে নিজের মনের গহীনে অত্যন্ত আকুল হয়ে বলে উঠল—

" অসম্ভব সুন্দর লাগছে, অসম্ভব!! কিন্তু মরে গেলেও তা স্বীকার করবো না। যাস্ট অসাধারণ!! "

তবে পরক্ষণেই ফারিশ নিজেকে সামলে নিল
গম্ভীর হয়ে সে ফোনের স্ক্রিনটা লক করে পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে ধীর ও নিচু গলায় বলল,

 "ঢংটা শেষ হলে এবার দয়া করে গাড়িতে উঠুন । যত্তসব পাগলামি!! "

ব্যাস, আরিশার মাথাটা এবার এক্কেবারে গরম হয়ে গেল! এত কষ্ট করে শাড়ি পরে ঢং করা, আর এই লোকটার মুখে প্রশংসা তো দূরের কথা, উল্টো খোঁচা? রাগে মুখ লাল করে আরিশা আর এক মুহূর্তও ভাবল না; ধপাধপ করে ফারিশের চওড়া কাঁধ লক্ষ্য করে কয়েকটা  কিল বসিয়ে দিল। ফারিশ স্বাভাবিক ভাবেই দাঁড়িয়ে রইল যেন কিছুই হলো না, কিন্তু আরিশা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে হনহন করে গিয়ে গাড়ির পেছনের সিটে ধপাস করে বসে পড়ল।ঠিক তখনই আয়ান বেশ আয়েশি ভঙ্গিতে বলল,

 "ফারিশ, তুই ড্রাইভ কর, আমি পেছনে বসছি!!"

কথাটা বলেই আয়ান যখন আরিশার পাশের খালি জায়গাটাতে বসতে যাবে, ঠিক তখনই ঘটল অঘটন। ফারিশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে এসে পেছন থেকে আয়ানের কোটের কলারটা খপ করে ধরে নিজের দিকে টেনে এক কর্কশ ধমক দিয়ে উঠল,

 "মানে কী, হ্যাঁ?! ফাজলামি পেয়েছিস?!"

আয়ান ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। সে নিজের কলারটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতে করতে করে বলল,

 "আরে! আবার কী হলো তোর? সেকেন্ডে সেকেন্ডে শুধু রাগ ওঠে! আঙ্কেল তো সামনে বসছে, তো আমি কোথায় বসব শুনি?!"

ফারিশ আয়ানের কোনো অজুহাত শুনল না। সে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে আয়ানকে একপাশে সরিয়ে দিয়ে নিজে আরিশার ঠিক পাশের সিটটাতে গিয়ে জাঁকিয়ে বসল। তারপর জানালার কাচ দিয়ে বাইরে তাকিয়ে অত্যন্ত শীতল কিন্তু ভারী গলায় বলল, 

"তুই ড্রাইভ কর!!"

"কী?!" 

 আয়ান প্রতিবাদ করতে গিয়েও ফারিশের সেই চোখ-মুখের তপ্ত আর গরম চাউনি দেখেই চুপ হয়ে গেল। সে আর কথা বাড়ানোর সাহস পেল না; তাড়াহুড়ো করে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ল।গাড়ি স্টার্ট দিতেই চলতে শুরু করল। আরিশা তখনো অভিমানে গাল ফুলিয়ে ফারিশের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজের ফোনের স্ক্রিনে মগ্ন হওয়ার ভান করছে। অপরদিকে, সামনের লুকিং মিররে ফারিশের চোখ। সে একদৃষ্টিতে মিররের দিকে তাকিয়ে আছে এবং আরিশার ওই রাগী রাগী মুখটা দেখে তার ঠোঁটের কোণে এতক্ষণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠেছে।গাড়ির পেছনের সিটের এই নীরব প্রেমের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধটা সামনের সিটে বসা মি. নাসিরের চোখ এড়াতে পারল না। তিনি লুকিং মিররে নিজের ছেলের ওই বোকা প্রেমে পড়ার চাউনিটা খুব ভালো করেই লক্ষ্য করলেন।মি নাসিরের ঠোঁটের কোণে এক রহস্যময় হাসি খেলা করে গেল। তিনি বেশ আয়েশ করে গাড়ির সিটে পিঠ ঠেকিয়ে, মৃদু গুঞ্জন তুলে গানের সুরে বলে উঠলেন—

"তুমি বন্ধু আছাড় খেয়ে প্রেমে পড়েছ...
আর আমি বন্ধু বললেই তখন হয়ে যাবে যত দোষ!!"

মি. নাসিরের এই আকস্মিক গানের সুরে গাড়ির বাকি সদস্যরা কেউই কিছু বুঝতে পারল না। তারা সবাই যে যার মতো বোকা বনে রইল।
পরস্পর কোনো কথা না হলেও, যাকে উদ্দেশ্য করে এই মোক্ষম তীরটি ছোঁড়া হয়েছে, সে কিন্তু ঠিকই বুঝেছে। ফারিশ লুকিং মিরর থেকে চোখ সরিয়ে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত আর রেগে নিজের বাবার দিকে তাকাল। মি. নাসির তখনো দাঁত বের করে সামনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসছেন। 

_______

"ওওও দরদ-এ-দরদ দে মেঁ টুকুড়ে মঙ্গদা,
 ওতে মঙ্গকে করদা..."

গানের সেই চড়া সুর আর চিৎকার মেশানো তালে আরিশা তখন এতটাই মগ্ন যে, তার নিজের হাত-পায়ের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণই ছিল না। গিটারে স্ট্রাম করার মতো করে সে তার হাতের  চামচটা বাতাসে দোলাচ্ছিল। আর ঠিক তখনই, সুরের এক চরম মুহূর্তে চোখ বন্ধ করে তান দিতে গিয়ে আরিশা তার হাতের ভারী চামচটা দিয়ে পাশে বসা বেচারা আয়ানের নাকে সপাটে এক বাড়ি বসিয়ে দিল!

"আউচ!" 

আয়ান নিজের নাকটা চেপে ধরে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠল।অপরদিকে, এতক্ষণ ধরে আরিশার গান শোনার জন্য মি. নাসির যেখানে সবচেয়ে বেশি লাফালাফি করছিলেন, অনবরত আবদার করছিলেন—তিনি এখন বাকিদের মতো ভয়ে একেবারে সিট ছেড়ে এক লাফে দাঁড়িয়ে পড়লেন। ড্রয়িংরুমের  বাকি সবাইও তখন ভয়ে বুক চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কোনো ভয়ানক বোমাবাজি থেকে এইমাত্র তারা অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরল।আরিশা গান থামিয়ে চোখ খুলল। চামচটা হাতে নিয়ে সবার এমন আতঙ্কিত মুখভঙ্গি দেখে সে বেশ অবাক হয়ে বলল, 

"কী ব্যাপার?! তোমরা সবাই এভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছ কেন? গানটা কি সুন্দর হয়নি?!"

ইনায়ার বাবা নিজের বুক থেকে হাতটা নামিয়ে, ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বললেন,

 "না... মানে... গান এতই সুন্দর আর প্রভাবশালী হয়েছে যে, আমাদের পা আপনাআপনি সোজা হয়ে গেছে মা! বসে থাকার সাহস পাচ্ছিলাম না।"

মি. দিদার এতক্ষণ ধরে এক কোণে দাঁড়িয়ে কপালে হাত দিয়ে ছিলেন। এবার তিনি জামার হাতা গুটিয়ে সামনে এগিয়ে এলেন এবং মি. নাসিরের দিকে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন,

 "এই জন্য! ঠিক এই জন্যই আমি মানা করেছিলাম! নাহ, নাসিরের আজ আমার মেয়ের লাইভ কনসার্ট শুনতেই হবে। কবে কোন ছোটবেলায় একটু সুন্দর করে গুনগুন করে গেয়েছিল, তাতেই উনি গায়ক আবিষ্কার করে ফেললেন! আরে, ওকে তো আর আমি এমনি এমনি ডাক্তারি পড়াচ্ছি না। ও..."

মি. দিদারের কথার মাঝপথেই মি. নাসির এবার হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিলেন। তিনি খোঁচা মেরে বললেন,

 "হ হ দিদার, তুই কেন ওরে ডাক্তারি পড়াচ্ছিস, সেই আসল রহস্য আমার খুব ভালো করেই জানা আছে!"

"কেন?!" 

 সবাই এবার ভীষণ কৌতূহলী হয়ে একসাথে সমস্বরে জিজ্ঞাসা করে উঠল। মি. দিদার এবার সবার উৎসুক চাউনি দেখে একটু গলা ঝেড়ে, বেশ একটা গাম্ভীর্য আর ভাব ধরে সোজা হয়ে বসলেন। তারপর বললেন,

 "আরে ভাই, ঘটনা হলো—একবার নাহার হঠাৎ করে বেশ বড়সড় অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমার পকেট থেকে এক্কেবারে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা খসে যায়! টাকা দেওয়ার সময় বুকটা আমার হু হু করে উঠেছিল। তখনই মনে মনে  সিদ্ধান্ত নিই—মেডিক্যালের খরচ যেভাবেই হোক ফ্যামিলির ভেতরেই রাখতে হবে! মেয়েকে কষ্ট করে হলেও ডাক্তার বানাব। নিজের চিকিৎসা তো বটেই, এটলিস্ট ভবিষ্যতের লাখ লাখ টাকার চিকিৎসা খরচ তো বাঁচবে!"

কথাটা শেষ হতেই পুরো ড্রয়িংরুমে এক অদ্ভুত পিনপতন নীরবতা নেমে এল। সবাই একেবারে হাঁ করে মি. দিদারের দিকে তাকিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে রইল। 
 "হায়রে কিপ্টা!"

সবাই একত্রে কথাটা বলে উঠে। এরই মাঝে ইনায়া এবার একটু লাজুক  ভঙ্গিতে সবার উদ্দেশ্যে বলল,

 "আঙ্কেল, এনগেজমেন্টের মূল পর্ব তো হয়েই গেল। এবার আপনারা কিছু মনে না করলে... আমি কি আয়ানের সাথে একটু আড়ালে, একা কথা বলতে পারি?"

কথাটা শুনেই এতক্ষণ ধরে নাক ডলে লাল করে রাখা আয়ানের বুকের ভেতরটা ছ্যাৎ করে উঠল। তার মনে চরম এক সন্দেহ দানা বাঁধল। ইনায়ার চোখের কোণের ওই রহস্যময় চাউনি দেখে তার সুবিধার লাগলো না।আয়ান পেছনে পা বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করতে চাইল, 

"না মানে... এখন একা কথা বলার কী দরকার..."

কিন্তু তার কথা শেষ করার সুযোগই কেউ দিল না। আরিশা আর বাকিরা মিলে একপ্রকার জোর করেই, পিঠে হাত দিয়ে ঠেলে ধাক্কাতে ধাক্কাতে বেচারা আয়ানকে ইনায়ার সাথে পাশের রুমের দিকে পাঠিয়ে দিল। ফারিশ শুধু আড়াল থেকে  ভাইয়ের এই বলির পাঁঠা হওয়ার দৃশ্যটা দেখে ঠোঁট টিপে একটু হাসল, আর তার চোখ আবারও গিয়ে থমকাল চামচ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই খয়েরি শাড়ি পরা মায়াবিনীর ওপর।

( ইনায়া আয়ানকে একা কেন ডাকলো?? ??)
Reply



Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)