Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin)
#38

৩৮





আনিকার মুখে কথাটা শোনার পর থেকে আমার পেটের ভেতর একটা বমি বমি ভাব শুরু হলো। আনিকা উনার সুন্দর, সাদা হাত দিয়ে কপালটা জোরে চেপে ধরলেন। উনার আঙুলগুলো কাঁপছিল। চোখের কোণে জল চিকচিক করছিল, কিন্তু সেটা কান্নার জল নয়—রাগের, অপমানের আগুনের ফুলকি। "আমার রাগে, অপমানে সারা শরীর রি রি করতে লাগল," উনি বললেন। উনার গলার স্বরটা ভেঙে যাচ্ছিল, কিন্তু সেই ভাঙা স্বরের মধ্যেও একটা তীক্ষ্ণ ধার ছিল।

যে স্বামী লন্ডনের ওই বিলাসবহুল বেডরুমে আমার মতো একজন সুন্দরী, শিক্ষিতা, রূপবতী স্ত্রীকে ছুড়ে ফেলে রেখেছিল, যে স্বামী দাবি করেছিল তার নাকি আমার শরীরে আর কোনো থ্রিল বা আগ্রহ নেই—সেই একই স্বামী আমারই কেনা বিছানায়, আমারই ফ্ল্যাটের কাজের মেয়েকে নিয়ে শুয়েছে! কল্পনাটা মাথায় আসতেই আমার শরীরের রক্ত যেন জমে বরফ হয়ে গেল। আনিকা ময়নাকে চুল ধরে টেনে তুলেছিলেন। উনার হাতের আঙুলগুলো ময়নার চুলের গোড়ায় কড়া হয়ে বসেছিল। "সত্যি করে বল শুয়োরের বাচ্চা! ও আর কী কী করেছে? ও কবার এসেছে তোর কাছে?" উনার গলায় তখন আর মানুষের স্বর ছিল না, যেন কোনো আহত বাঘিনীর গর্জন।

ময়না কাঁদতে কাঁদতে, ভয়ে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে সবকিছু উগরে দিল। ও বলল, বেলাল এই ফ্ল্যাটে সাত দিন ছিল। আর এই সাত দিনের প্রায় প্রতিটি রাতেই সে ময়নাকে নিজের বিছানায় ডেকে নিত। ময়না বলল—'স্যার তো আমার লগে অনেক খারাপ কাজ করছে ম্যাডাম। উনি আমারে কাপড় খুইলা বিছানায় ফালাইয়া রাখত। উনি উনার মুখে আমার...'

আনিকা একটু থামলেন। উনার শ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে। উনি সিগারেটের বাটটা সজোরে লেকের পানিতে ছুড়ে ফেললেন। পানির উপর ছোট ছোট ঢেউ তৈরি হলো, যেন সেই ঢেউগুলোও উনার অপমানের সাক্ষী। উনার মুখমণ্ডলে এক চরম ঘৃণা আর বিতৃষ্ণার অভিব্যক্তি ফুটে উঠল। উনার ঠোঁট দুটো কাঁপছিল, চোখের পাতা ভারী হয়ে নেমে এসেছিল। লেকের পাড়ের হালকা বাতাসে উনার ভেজা চুল উড়ছিল, আর সেই চুল থেকে একটা মিষ্টি, ভেজা ফুলের গন্ধ ভেসে আসছিল। আমি উনার দিকে তাকিয়ে আমার বুকের ভেতর একটা অদ্ভুত যন্ত্রণা অনুভব করলাম। এই অপমান কোনো নারীর পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। কোনো স্ত্রীর পক্ষে এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা মেনে নেওয়া তো দূরের কথা, কল্পনা করাও কষ্টকর।

কিন্তু ধাক্কাটা শুধু এখানেই শেষ হয়নি। আনিকা উনার গলার স্বর আরও নিচে নামিয়ে আনলেন। উনার চোখ দুটো এখন একদম কালো হয়ে গেছে, যেন কোনো গভীর অন্ধকার কুয়ো। "ময়না আমাকে আরেকটা তথ্য দিল, যা শোনার পর আমার ভেতরের শেষ সতী নারীটা চিরকালের জন্য মারা গেল।" উনার কথাগুলো বলতে বলতে উনার শরীরটা যেন শক্ত হয়ে গেল। "ময়না বলল, শুধু সে একাই বেলালের বিছানায় যায়নি। এই বিল্ডিংয়ের চার তলার আরেকটা ফ্ল্যাটের কাজের মেয়ে আছে, তার নাম রহিমা। বেলাল ওই সাত দিনের মধ্যে চার দিন ময়না আর রহিমাকে একসাথে উনার বেডরুমে ডাকত।"

আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। আমার মুখ হাঁ হয়ে গেল। হৃদপিণ্ডটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গিয়েছিল। 

"একসাথে? মানে থ্রি-সাম?" আমার গলা দিয়ে শব্দ বের হচ্ছিল না।

"হ্যাঁ!" আনিকা একটা বন্য, পাগলাটে হাসি হাসলেন। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না—শুধু বিষ, ঘৃণা আর ভাঙা আত্মার আর্তনাদ। "ময়না বলল—'ম্যাডাম, আমি যখন একদিন স্যাররে কইলাম রহিমারে ডাকছেন ক্যান? স্যার হাসল। স্যার আমাগো দুইলারে একসাথে কাপড়া খুলতে কইল। উনি আমাগো দুইলারে নিয়া একসাথে ফুর্তি করছে। স্যার আমাগো দুইলারে একসাথে বিছানায় শোয়াইয়া উনার জিনিস আমাগো মুখে...'"

আমি আর শুনতে পারলাম না। আমার নিজেরই গা গুলিয়ে উঠল। বমি আসার মতো অনুভূতি। লেকের পানি, পাখির ডাক, দূরের গাড়ির শব্দ—সবকিছু যেন মিলিয়ে গেল। শুধু আনিকার কথাগুলো আমার মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছিল। বেলাল সাহেব লোকটা তো আস্ত একটা জানোয়ার! সে লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় প্রফেসরের মুখোশ পরে থাকে, সভ্য সমাজের সামনে নিজেকে শিক্ষিত, সংস্কৃতিমান মানুষ হিসেবে প্রচার করে, আর নিজের দেশে এসে নিজের ফ্ল্যাটে দুজন কাজের মেয়েকে একসাথে নিয়ে উনার বিছানায় নোংরা, পশুর মতো খেলায় মেতে ওঠে! কল্পনায় যখন সেই দৃশ্যটা ভেসে উঠল—দুজন অসহায় মেয়ে, একজন শিক্ষিত, ক্ষমতাবান পুরুষের লালসার শিকার—আমার হাতের মুঠো আপনা-আপনি শক্ত হয়ে গেল।

আনিকা আরও বললেন। ময়না নাকি বলেছে, বেলাল তাদের দুজনকে একসাথে জড়িয়ে ধরে বলত—'তোদের এই কালো, নোংরা শরীরগুলোর যে গন্ধ, এই গন্ধের যে থ্রিল, এটা আমার ওই মেমসাহেব বরের শরীরে নাই।' সে তাদের উনার ইচ্ছেমতো ব্যবহার করত। তাদের মুখে উনার বীর্য স্খলন করত, আর উনারা সেটা নিতে বাধ্য হতো টাকার লোভে, চাকরি হারানোর ভয়ে। আনিকা উনার কথা শেষ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। উনার বুকটা উঠানামা করছিল। উনার কুর্তির কাপড়টা সামান্য সরে গিয়ে উনার ফর্সা, মসৃণ ঘাড় আর কলারবোনের অংশটা দেখাচ্ছিল।

উনার চোখের সামনে এখন আর কোনো কান্নার জল নেই। উনার চোখ দুটো এখন সম্পূর্ণ পাথরের মতো শক্ত, ঠান্ডা। "এই কথাগুলো শোনার পর আমি আমার ড্রয়িংরুমে বসে প্রায় দুই ঘণ্টা চুপচাপ কাঁদলাম," আনিকা বললেন। উনার কণ্ঠস্বরে সেই দুই ঘণ্টার যন্ত্রণা এখনও লেগে ছিল। "আমার মনে হলো, আমি বেলালের জন্য যে নিজেকে এতদিন ধরে খাঁচায় বন্দি করে রেখেছিলাম, আমি যে নিজের কামনার আগুনটাকে চেপে ধরে সতী সেজেছিলাম—তা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বোকামি। আমি কার জন্য সতিত্ব আগলে রাখছি? যে লোকটা আমার বিছানায় দাঁড়িয়ে দুজন নোংরা কাজের মেয়েকে নিয়ে ফুর্তি করছে! যে লোকটা আমার শরীরকে 'বোরিং' বলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, সে নিজে কত নোংরা, কত নিচু স্তরের লালসায় ডুবে আছে!"

আমি আনিকার হাতটা আমার হাতের মুঠোয় নিলাম। উনার হাতটা বরফের মতো ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে একটা কাঁপুনি ছিল। আমি আলতো করে উনার আঙুলগুলোতে চাপ দিলাম, যেন বলতে চাইলাম—আমি এখানে আছি।

"আমি সেদিনই সিদ্ধান্ত নিলাম," আনিকা আমার চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললেন। উনার চোখে এখন এক বন্য, সর্বগ্রাসী জিঘাংসা জ্বলছিল। "অনেক হয়েছে। আমি আর সতী সেজে থাকব না। বেলালের এই বিশ্বাসঘাতকতার দাম আমি আমার একাকিত্ব দিয়ে দেব না। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি ইংল্যান্ডে ফিরে গিয়েই ওকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেব। আমাদের এই বিয়ের কোনো মানে নেই। আর যেদিন আমি এই সিদ্ধান্ত নিলাম, ঠিক সেদিন থেকেই আমি তোমাকে পাত্তা দেওয়া শুরু করলাম। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমার শরীরটা আমি সেই পুরুষকে দেব, যে আমার রূপের কদর বোঝে, যে আমার এই সুধার স্বাদ নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে থাকে।"

আমি উনার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। উনার এই কথাগুলো আমার বুকের ভেতর এক অদ্ভুত, আদিম উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছিল। আমার শরীরের প্রতিটি রোমকূপ জেগে উঠছিল। আমি রাশেদ আহমেদ। একজন পঁচিশ হাজার টাকা বেতনের অনুবাদক। সাধারণ জীবন। কিন্তু আজ আমি বুঝতে পারছি, আনিকা নাওহারের এই বন্য রূপের পেছনে কতটা বড় একটা ক্ষত লুকিয়ে আছে। উনি উনার স্বামীর ওই নোংরা বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ নিচ্ছেন উনার নিজের শরীর দিয়ে। আর উনার সেই প্রতিশোধের মাধ্যম হিসেবে উনি বেছে নিয়েছেন আমাকে। এই চিন্তাটা আমার মধ্যে একইসাথে গর্ব আর দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলল।

আমি উনার ফর্সা, মসৃণ কাঁধের ওপর আমার হাত রাখলাম। উনার ত্বকটা ছিল নরম, উষ্ণ। "আনিকা..." আমি খুব নিচু গলায় বললাম।

"হুম?"

"তুমি ঠিকই করেছ। ওই জানোয়ারটার জন্য তোমার এই শরীরটাকে বন্দি করে রাখার কোনো মানেই হয় না। আই অ্যাম উইথ ইউ।"

আনিকা উনার মাথাটা আমার কাঁধের ওপর এলিয়ে দিলেন। উনার ভেজা চুলের সেই মিষ্টি সুবাস আবার আমার নাকে এসে ধাক্কা দিল। উনার কুর্তির সামনের অংশটা আমার বুকের সাথে লেপ্টে আছে। আমি উনার পিঠে হাত বুলিয়ে দিলাম, ধীরে ধীরে। লেকের পানি শান্ত হয়ে গেছে। চারপাশে নীরবতা। শুধু দুটো হৃদয়ের ধুকধুক শব্দ।

আনিকা একটা অভিমানী সুরে বললেন, তাহলে এভাবে আমাকে একা রেখে পালাচ্ছ কেন!

মানুষের মনস্তত্ত্ব এক বিশাল গোলকধাঁধা। এই গোলকধাঁধার ভেতরে কখন যে কোন্ অনুভূতির জন্ম হয়, আর কখন যে কোনটা হারিয়ে যায়, তা পৃথিবীর তাবৎ বাঘা বাঘা দার্শনিকরাও নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।

রবীন্দ্র সরোবরের অন্ধকার লেকের পাড়ে বসে আনিকা নাওহারের মুখ থেকে উনার স্বামী বেলাল সাহেবের নোংরা, কদর্য এবং বিকৃত জীবনের গল্প শোনার পর আমার মাথার ভেতরে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা নেমে এসেছিল। আমি ভাবছিলাম, এই যে আমরা বাইরে থেকে মানুষের দামি গাড়ি, ব্র্যান্ডের শার্ট, আর নিখুঁত হাসিমুখ দেখে তাদের জীবনের বিচার করি, তার ভেতরটা আসলে কতটা পচা আর দুর্গন্ধযুক্ত হতে পারে!

মাটির ভাঁড়ের চা ততক্ষণে জুড়িয়ে বরফ হয়ে গেছে। আমি আনিকার ফর্সা, নরম হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে খুব আলতো করে একটু চাপ দিলাম। উনার আঙুলগুলো বরফের মতো ঠান্ডা। "আনিকা," আমি খুব শান্ত কিন্তু গভীর গলায় বললাম, "আমি পালাচ্ছি না। আর তোমাকে পাশ কাটানোর তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তুমি আমাকে ভুল বুঝো না। আমি আসলে গত এক মাসের এই বিশাল মানসিক রোলারকোস্টার, তোমার স্বামীর নিখোঁজ হওয়া, পুলিশের জেরা— সবকিছু মিলিয়ে মানসিকভাবে চরম এলোমেলো হয়ে আছি। আমার মস্তিষ্ক এখন কোনো লজিক্যাল সিগন্যাল প্রসেস করতে পারছে না।"

আনিকা আমার কাঁধে মাথা রেখে চুপচাপ শুনছিলেন। উনার নিঃশ্বাসের একটা মৃদু গরম ভাপ আমার গলার কাছে এসে লাগছিল।

"আমি গ্রামে গেলে হয়তো একটু শান্তি পাব," আমি বলতে থাকলাম। "খোলা বাতাস, বাবা-মায়ের মুখ, আর আমার ওই পুরোনো ঘরটা আমাকে হয়তো আবার স্বাভাবিক হতে সাহায্য করবে। আমি আশা করছি, এর মধ্যে পুলিশ বেলাল সাহেবকে খুঁজে বের করতে পারবে। উনি কোথায় গেছেন, কী হয়েছেন— সেই সত্যিটা সামনে আসা খুব দরকার। একবার এই মেঘটা কেটে গেলে, তারপর আমরা দুজনে খুব শান্ত মাথায় আমাদের ফিউচার নিয়ে ভাবব।আমাদের সম্পর্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা তখন ঠিক করা যাবে।"

আমি ভেবেছিলাম, আমার এই অত্যন্ত পরিণত, যৌক্তিক এবং দায়িত্বশীল কথাবার্তা শুনে আনিকা হয়তো খুশি হবেন। হয়তো বলবেন— "হ্যাঁ রাশেদ, তুমি ঠিকই বলেছ।"

কিন্তু নারীদের লজিক আর পুরুষদের লজিক কখনো এক সরলরেখায় হাঁটে না। আনিকা হঠাৎ উনার মাথাটা আমার কাঁধ থেকে তুললেন। উনার চোখদুটো লেকের ওই ঘোলাটে অন্ধকারেও অদ্ভুত এক বন্যতায় চকচক করে উঠল। উনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উনার কালো শালটা একটু সরিয়ে দিলেন।

"রাশেদ," আনিকা খুব নিচু, কিন্তু কেমন যেন একটা স্যাঁতস্যাঁতে, ভেজা গলায় ফিসফিস করে উঠলেন। "আমি এই কারণেই এই ভারিক্কি আলাপগুলো করতে চাইনি। এসব অতীত, স্বামী, সমাজ, পুলিশ— এসব নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার মাথা ধরে যায়।"

উনি একটু থামলেন। উনার দৃষ্টি আমার ঠোঁট থেকে নেমে আমার কলারবোনের কাছে স্থির হলো। "জানো," আনিকা উনার ডান হাতের তর্জনী দিয়ে আমার শার্টের বোতামের ওপর একটা অদৃশ্য বৃত্ত আঁকতে আঁকতে বললেন, "এইসব সিরিয়াস আলাপ করতে গিয়ে আমার শরীরের ভেতরে কেমন যেন করছে। আমার শরীরে রসে টানছে রাশেদ। আমার পুরো শরীরটা তোমার একটুখানি আদরের জন্য নিশপিশ করছে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।"

আনিকার কথাগুলো শোনার পর আমার বুকের ভেতর যেন এক হাজার ওয়াটের একটা জেনারেটর স্টার্ট নিল। আমি ঢোঁক গিলে নিজেকে সামলানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলাম।

"আনিকা... প্লিজ," আমি একটু নার্ভাস গলায় বললাম। "এটা আসলে আমাদের দুজনের জন্যই একটা পরীক্ষা। আমাদের আপাতত কিছুদিন আলাদা থাকার পরীক্ষা দিতে হবে। এই দূরত্বটা আমাদের সম্পর্কটাকে হয়তো আরও স্ট্রং করবে।"

আনিকা উনার ঠোঁটটা একটু কামড়ে ধরে আমার দিকে আরও একটু ঝুঁকে এলেন। উনার স্তনযুগলের সেই ভরাট, মোহনীয় স্ফীতিটা আমার বাহুর সাথে হালকা ঘষা খেল। "পরীক্ষা দেব। অবশ্যই পরীক্ষা দেব," আনিকা একটা ঘাতক হাসি দিয়ে বললেন। "কিন্তু আজকের পর থেকে পরীক্ষা দিই না! আজকে, এই মুহূর্তে আমাকে একটু আদর করো রাশেদ। প্লিজ।"

"আরে, কী বলছ এসব!" আমি প্রায় আঁতকে ওঠার ভান করলাম। "আমি একটু পরে গাড়িতে উঠব। আমার সাড়ে আটটায় পান্থপথ থেকে নওগাঁর বাস। টিকিট কাটা হয়ে গেছে। আমি এখন তোমাকে আদর করতে যাব কীভাবে?"

আনিকা উনার হাত দিয়ে আমার শার্টের কলারটা খামচে ধরলেন। "চুলোয় যাক তোমার গাড়ি! চুলোয় যাক তোমার পান্থপথ!" আনিকা প্রায় হিসহিস করে উঠলেন। "সকালের গাড়িতে যাবে। কী সমস্যা? একটা টিকিটের টাকাই তো নষ্ট হবে। ওই টিকিটের ডাবল টাকা আমি তোমাকে এখনই গুগল পে-তে ট্রান্সফার করে দিচ্ছি। প্লিজ রাশেদ... আজ রাতে আমাকে একটু আদর করো। প্লিজ!"

উনার গলার স্বরে এখন আর কোনো জেদ নেই, আছে একটা তীব্র, অসহায় হাহাকার। "এই গত কয়েকদিনের ব্যস্ততা, পুলিশের জেরা, বেলালের নিখোঁজ হওয়া— এই সাসপেন্স আর টেনশন আমি আর নিতে পারছি না রাশেদ। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। আমার মনে হচ্ছে আমার ব্রেনের শিরাগুলো ছিঁড়ে যাবে। তুমি যদি আজ রাতে আমাকে একটু আদর করো, তোমার ওই শক্ত বাহুর বাঁধনে যদি আমাকে একটু পিষে ফেলো, তাহলে আমি হয়তো সব কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকতে পারব। আমাকে এই যন্ত্রণা থেকে একটু মুক্তি দাও।"

উনার এই কাতর অনুনয় শোনার পর আমার ভেতরের সেই পঁচিশ হাজার টাকা বেতনের 'ভদ্রলোক' সত্তাটা আর টিকতে পারল না। আমি নিজেও তো ভেতরে ভেতরে এই শরীরটার জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে ছিলাম। "আরে, সে না হয় বুঝলাম," আমি একটু নরম হয়ে, প্র্যাকটিক্যাল পয়েন্টে ফিরে এলাম। "কিন্তু এখন জায়গা পাব কোথায়? আমরা যাব কোথায়?"

"কেন? আমার বাসায় চলো!" আনিকা সাথে সাথে বললেন।

"পাগল হয়েছ!" আমি চোখ কপালে তুলে বললাম। "তোমার বাসায় তো এখন পুলিশের পাহারা থাকার কথা। তোমার স্বামী নিখোঁজ। কে জানে, হয়তো সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা তোমার ফ্ল্যাটের নিচে নজর রাখছে। তুমি কোথায় যাচ্ছ, কার সাথে মিশছ— সব হয়তো তারা নোট করছে। আমি যদি এখন তোমার সাথে তোমার ফ্ল্যাটে ঢুকি, কাল সকালেই আমাকে ডিবি অফিসে উল্টো করে ঝুলিয়ে জেরা করবে। আমি পুলিশকে ভয় পাই আনিকা।"

আনিকা একটু বিরক্তি নিয়ে মুখ বাঁকালেন। "তাতে কী যায় আসে! আমি কি তোমাকে লুকাতে চাই? আমি কি আমার প্রেমিকের আদরের অধিকার রাখি না? পুলিশ জানলে জানবে। আমরা তো কোনো খুন করিনি!"

আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। "আরে আনিকা, সেটা তো তুমি আর আমি বুঝি। আমাদের প্রেম হয়তো আমাদের কাছে পবিত্র, আমরা হয়তো কোনো আইনি অন্যায় করছি না। কিন্তু সমাজ তো এভাবে দেখে না! পুলিশ তো এটাকে 'পবিত্র প্রেম' বলবে না, তারা এটাকে বলবে 'পরকীয়ার জেরে স্বামীকে গুম'। খামোখা একটা জঘন্য স্ক্যান্ডাল হবে। তোমার আর আমার— দুজনেরই সম্মান রাস্তায় লুটোপুটি খাবে।"

আনিকা বুঝতে পারলেন আমার লজিকটা অকাট্য। উনি একটু দমে গেলেন। "তাহলে চলো কোনো হোটেলে যাই। ফাইভ স্টার কোনো হোটেলে চেক-ইন করি," আনিকা বিকল্প প্রস্তাব দিলেন।

"হোটেল? ঢাকা শহরের হোটেলে কোনো ব্যাগেজ ছাড়া, একজন বিবাহিত নারী আর একজন অবিবাহিত পুরুষ গিয়ে বলবে আমাদের একটা রুম দেন? রিসিপশনিস্ট তো আমাদের আওয়ার-বেসিসে আসা কাস্টমার ভাববে! তাছাড়া এনআইডি কার্ড স্ক্যান করার ঝামেলা আছে।"

"তাহলে তোমার মেসে চলো! তোমার রুমমেটদের দশ হাজার টাকা দিয়ে বলব আজ রাতে অন্য কোথাও গিয়ে থাকতে!" আনিকার পাগলামি যেন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল।

আমি হেসে ফেললাম। "আমার মেস! আনিকা, আমার মেসে রাজু নামের যে ছেলেটা থাকে, সে এখন বাংলাদেশ বিষয়াবলি মুখস্থ করছে। আমি যদি তোমাকে নিয়ে মেসে ঢুকি, সে হয়তো মনে করবে আমি বিসিএস ভাইভার কোনো নারী অধিকার বিষয়ক প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে এসেছি! মেসে সম্ভব না।"

"তাহলে ঢাকার বাইরে চলো। গাজীপুর বা পূর্বাচলের কোনো রিসোর্টে।"

"ওখানে যেতে যেতেই রাত বারোটা বাজবে। কাল সকালে আবার আমাকে গ্রামের বাসে উঠতে হবে। সেটাও প্র্যাকটিক্যাল না।"

আনিকা হতাশ হয়ে বেঞ্চের ওপর হেলান দিয়ে বসলেন। উনার মুখটা কালো হয়ে গেল। আমি চুপচাপ সিগারেটের শেষ অংশটুকু টানছিলাম। আমার মাথার ভেতর তখন একটা ডিরেক্টরের মতো নানা সিনারিও প্লে হচ্ছে। কোথায় যাওয়া যায়? এমন কোনো জায়গা, যেখানে কোনো পুলিশের নজরদারি নেই, কোনো এনআইডির ঝামেলা নেই, অথচ একটা বিলাসবহুল, চলন্ত, রোমান্টিক বিছানা পাওয়া যাবে?

হঠাৎ করে আমার মাথার ভেতর একটা বিদ্যুতের মতো আইডিয়া খেলে গেল। আমি আনিকার দিকে ঘুরে বসলাম। আমার চোখে একটা বুনো, অ্যাডভেঞ্চারাস ঝিলিক। "আনিকা... একটা আইডিয়া আছে," আমি খুব নিচু, রহস্যময় গলায় বললাম।

"কী আইডিয়া?" আনিকা একটু সোজা হয়ে বসলেন।

"একটু রিস্কি, একটু আনপ্রেডিক্টেবল। কিন্তু দারুণ মজা হবে। এমন একটা অ্যাডভেঞ্চার, যা তুমি হয়তো জীবনেও করোনি।"

"কী সেটা? বলো না!" আনিকা অধৈর্য হয়ে আমার হাত চেপে ধরলেন।

আমি উনার চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললাম, "চলো, বরিশাল যাই!"

"বরিশাল!" আনিকার চোখ দুটো আক্ষরিক অর্থেই রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে গেল। "বরিশাল মানে? তুমি কি পাগল হয়ে গেলে?"

"একদম পাগল হইনি। খুব ঠান্ডা মাথায় বলছি," আমি আমার প্ল্যানটা ছকতে শুরু করলাম। "আমরা সদরঘাট যাব। সেখান থেকে বরিশালগামী কোনো একটা বিলাসবহুল লঞ্চের টিকিট কাটব। ধরো 'এমভি মানামি' বা 'সুন্দরবন'-এর মতো কোনো লঞ্চ। লঞ্চের একদম টপ ফ্লোরে একটা ডিলাক্স সুইট বা ভিআইপি কেবিন নেব। রাত আটটা বা নয়টায় লঞ্চ ছাড়বে।"

আমি আনিকার মুখের দিকে তাকালাম। উনার চোখের সেই হতাশা কেটে গিয়ে সেখানে এখন একটা তীব্র, বন্য রোমাঞ্চের ছায়া। "আমরা কেবিনের দরজা ভেতর থেকে লক করে দেব," আমি ফিসফিস করে বলতে লাগলাম। "লঞ্চ চলবে বুড়িগঙ্গা, মেঘনা আর কীর্তনখোলার বুক চিরে। নদীর কনকনে ঠান্ডা বাতাস, লঞ্চের ইঞ্জিনের সেই মৃদু ভাইব্রেশন, আর বিশাল একটা বিছানা। আমি সদরঘাট থেকে শুরু করে বরিশাল পৌঁছানো পর্যন্ত সারা রাত ধরে তোমাকে আদর করব। তোমার শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি আমি আমার জিভ দিয়ে ছুঁয়ে দেব।"

আনিকার শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হতে শুরু করেছে। উনার বুকটা ওঠানামা করছে। "তারপর?" উনি রুদ্ধশ্বাসে জিজ্ঞেস করলেন।

"তারপর সকালে বরিশাল নেমে আমরা কিছুক্ষণ নদীর পাড়ে ঘুরব। ব্রেকফাস্ট করব। তারপর দিনের বেলায় যে লঞ্চটা ঢাকার দিকে ব্যাক করে, আমরা সেটার আরেকটা ভিআইপি কেবিন নেব। বরিশাল থেকে ঢাকা ফেরার পুরোটা পথ, আমি আবারও তোমাকে আমার বাহুডোরে আটকে রাখব। তোমাকে আদর করতে করতে আমি আবার ঢাকায় ফিরব। বিকেলে তোমাকে ঢাকায় নামিয়ে দিয়ে, আমি রাতের বাসে সোজা নওগাঁ চলে যাব।"

আমার এই মাস্টারপ্ল্যান শোনার পর আনিকা কয়েক সেকেন্ড কোনো কথাই বলতে পারলেন না। উনার মুখটা হাঁ হয়ে আছে। "মাই গড রাশেদ!" আনিকা হঠাৎ একটা চাপা, বন্য আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলেন। "তুমি সত্যি বলছ? এমন করা যাবে? এটা তো একটা আস্ত মুভির প্লট! নদীর বুকে, ভাসমান একটা রুমে সারা রাত... ওহ গড! আমার এখনই শরীর কাঁপছে।"

"অবশ্যই করা যাবে," আমি একটা কনফিডেন্ট হাসি দিলাম। "চল দেখি, কতদূর কী হয়।"

আমাদের প্ল্যান খুব দ্রুত সেট হয়ে গেল।

"আমরা একসাথে সদরঘাট যাব না," আমি গোয়েন্দাদের মতো নির্দেশ দিতে শুরু করলাম। "তুমি এখান থেকে একটা উবার নিয়ে সোজা সদরঘাট চলে যাবে। আমি যাব আরেকটা বাহনে। আমরা লঞ্চ ঘাটে গিয়ে মিট করব। তারপর একসাথে উঠে সোজা আমাদের সুইটে ঢুকে যাব।"

আনিকা একটু চিন্তিত মুখে বললেন, "কিন্তু রাশেদ, লঞ্চের বুকিংয়ের সময় যদি আমাদের পরিচয় জানতে চায়? আমরা কী পরিচয় দেব? স্বামী-স্ত্রী?"

আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। "স্বামী-স্ত্রী! আরে দূর! কী বলছ তুমি? তুমি কি আয়নায় নিজেকে দেখেছ? তোমার মতো এমন একজন আভিজাত্যে মোড়ানো, হাই-ক্লাস, বিলিয়নিয়ার নারীর সাথে আমার মতো একটা পঁচিশ হাজার টাকা বেতনের ম্যাড়ম্যাড়ে ছেলেকে দেখে কেউ জীবনেও স্বামী-স্ত্রী ভাববে না। বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা না। তারা ভাববে আমি হয়তো কোনো পালিত প্রেমিক বা গিগলো, যে বড়লোকের বউ ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে!"

আনিকা আমার কথায় শব্দ করে হেসে ফেললেন। "খুব ফাজিল হয়েছ তুমি! তাহলে কী বলবে?"

"সেটা আর তোমার জানা লাগবে না," আমি চোখ টিপে বললাম। "তুমি লঞ্চে ওঠার পর ওই আইডিয়া আমি ম্যানেজ করে নেব। তুমি শুধু একটা কাজ করবে।"

"কী?"

"তুমি এখন সোজা তোমার ধানমন্ডির বাসায় যাও। খুব দ্রুত একটা ফ্রেশ শাওয়ার নাও। তারপর একদম সাধারণ, ক্যাজুয়াল একটা বাঙালি পোশাক পরো। একটা সিম্পল সালোয়ার কামিজ। কোনো দামি গয়না বা মেকআপ না। আর হ্যাঁ, সাথে কোনো লাগেজ, ভ্যানিটি ব্যাগ বা ট্রলি কিচ্ছু নেবে না।"

"লাগেজ নেব না? কিন্তু আমার তো কিছু চেঞ্জিং ক্লথস বা দরকারি জিনিস লাগবে!" আনিকা অবাক হয়ে বললেন।

আমি খুব সিরিয়াস গলায় বললাম, "একদম না আনিকা। তোমার বাসার নিচে হয়তো পুলিশের সোর্স দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। তারা যদি দেখে যে বেলালের নিখোঁজ হওয়ার পর তুমি হাতে লাগেজ বা ট্রলি নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছ, তারা সাথে সাথে সন্দেহ করবে যে তুমি পালাচ্ছ। তখন গোপনে তোমার পিছু নিতে পারে।  তুমি জাস্ট খালি হাতে, একটা ছোট পার্স নিয়ে বের হবে। যেন তুমি জাস্ট নিচে কোনো সুপারশপে বা একটু হাঁটতে বের হয়েছ। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার এটাই একমাত্র পথ।"

আনিকা মুগ্ধ হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

"কিন্তু আমার কাপড়চোপড়? ব্রাশ? তোয়ালে?"

আমি উনার দিকে একটু ঝুঁকে এসে উনার কানের খুব কাছে ফিসফিস করে বললাম, "আমার ট্রাভেল ব্যাগে তোয়ালে, ব্রাশ, সব আছে। আর কাপড়ের কথা বলছ? আনিকা, একবার লঞ্চের ওই ভিআইপি সুইটে ঢুকে দরজাটা লক করার পর... তোমার আর কোনো কাপড়ের দরকার হবে না। পুরো বরিশাল ট্রিপে তোমাকে কোনো কাপড় পরতেই হবে না। আমিই তোমার কাপড়।"

কথাটা শোনার পর আনিকার সারা শরীরটা একটা প্রবল শিহরণে কেঁপে উঠল। উনার চোখের মণি দুটো কামনায় কালো হয়ে গেল। "তুমি সত্যিই একটা জাদুকর রাশেদ," আনিকা একটা চাপা, ভেজা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন।

"আর কোনো কথা না," আমি উঠে দাঁড়ালাম। "প্ল্যান অনুযায়ী কাজ শুরু করো। তুমি বাসায় যাও, ফ্রেশ হয়ে সদরঘাটের জন্য উবার নাও। আর আমি এখান থেকে ডিরেক্ট সদরঘাট চলে যাচ্ছি লঞ্চের টিকিট ম্যানেজ করতে।"

আনিকাও উঠে দাঁড়ালেন। উনার চোখে এখন একটা বন্য, আদিম রোমাঞ্চের নেশা। আমি আমার ট্রাভেল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে রিকসার খোঁজে মোড়ের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম, আর আনিকা উনার ধানমন্ডির ফ্ল্যাটের দিকে।

আমাদের সামনে এখন বুড়িগঙ্গার কালো জল, একটা ভাসমান বিলাসবহুল কেবিন, আর একটা অনন্ত কামনার রাত অপেক্ষা করছে। আমি জানি না এই অ্যাডভেঞ্চারের শেষ কোথায়, কিন্তু এই মুহূর্তের রোমাঞ্চটা পৃথিবীর যেকোনো থ্রিলার মুভিকে হার মানানোর জন্য যথেষ্ট।
Reply


Messages In This Thread
দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:51 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:52 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:52 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:53 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:54 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:54 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:55 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-21-2026, 05:55 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:26 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:27 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:28 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:55 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:56 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:57 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:58 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Erotic Lovers - 09-24-2026, 04:58 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 08:58 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 08:59 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:00 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:01 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:02 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:03 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:06 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:07 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:08 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:08 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:09 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:10 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:12 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:13 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:14 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:16 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:17 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:17 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:18 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:20 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:22 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:23 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:25 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:25 AM
RE: দরজার ওপাশে কার নিঃশ্বাস( By:Orbachin) - by Bad Boy - 09-27-2026, 09:26 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)