Thread Rating:
  • 0 Vote(s) - 0 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5

ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007)
#6

পর্ব -৫




ইন্দ্রাণী মুচকি হাসলো আমার কথা শুনে। ও বললো, “ব্যাপারটা ওরকম না সমুদ্র দা। আমাদের পরিবারে কেউ আজ পর্যন্ত প্রেম ভালোবাসা করেনি। আর আমরা তো থাকতাম না এখানে, গ্রাম থেকে এসেছি বছর তিনেক হলো। আমাদের গ্রামের পরিবেশও অন্যরকম। প্রেম করলে লোকজনের জানাজানির ব্যাপার থাকে। লোকেরাও ভালো চোখে দেখে না বিষয়গুলো।”

আমি বললাম, “তা আমাদের শহরে তো এরকম ব্যাপার নেই, লোকজনও বেশ খোলামেলা। এখানে তো তুমি একটা প্রেম করতেই পারো!”

ইন্দ্রাণী হেসে ফেললো আমার কথা শুনে। ও বললো, “ঠিক বলেছো, তবে কলেজটা পাশ করে নিই তারপর এসব ব্যাপারে ভাববো। বিয়ে-টিয়ের ব্যাপারও তো রয়েছে!”

আমি বুঝলাম ইন্দ্রাণীর নিজেরও প্রেম করার ইচ্ছে আছে অল্প অল্প, শুধু পারিবারিক আর সামাজিক বাধার জন্য ও ঠিক সাহস পায় না। যাক, আমার লাইন তাহলে পরিষ্কারই রয়েছে। একটু চেষ্টা করলেই ইন্দ্রাণীকে ঠিক পটিয়ে ফেলতে পারবো আমি। আমি নিজেও এবার আমার ছেলের শিক্ষিকা ইন্দ্রাণীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভুত প্রেমের সম্পর্কের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে শুরু করলাম।

এর মধ্যেই ইন্দ্রাণীর সাথে গল্পের ছলে ওর সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করে নিলাম আমি। তাছাড়া ইন্দ্রাণী কখন কোথায় যায়, কাদের সাথে মেলামেশা করে সেইসব সম্পর্কেও যথেষ্ট খবরাখবর নিয়ে নিলাম আমি। এমনকি বাইরেও আমার সোর্স লাগিয়ে ইন্দ্রাণীর সম্পর্কে বেশ কিছু খবর নিয়ে নিলাম। ইন্দ্রাণীর সম্পর্কে যা যা তথ্য পেলাম তা মোটামুটি এই, ওরা আগে থাকতো নদীয়া জেলার একটা গ্রামে। এমনিতেও পরিবার হিসেবে ওদের পরিবার ভীষন ভদ্র সভ্য। গ্রামেও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। ইন্দ্রাণী নিজেও ভীষন ভালো একটা মেয়ে। স্বভাব চরিত্রও ভীষন ভালো। গ্রামের বাড়িতে ওদের যৌথ পরিবার, তবে এখানে ওর বাবা আর মা থাকে ওর সাথে।

ইন্দ্রাণীর সম্পর্কে পুরোপুরি খোঁজ নেওয়ার পর আমি যেন একটু দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। আমার মনে হতে লাগলো এই মেয়েকে আগে কেন চোখে পড়লো না আমার। যেন এই মেয়ে আমার জন্যই তৈরি। ঈশ্বর আমার জন্যই সৃষ্টি করেছে ওকে। সত্যি বলতে গেলে আমার বিয়ের আগে যদি আমার ইন্দ্রাণীর সাথে পরিচয় থাকতো তাহলে আমি শ্রীপর্ণাকে নয়, ইন্দ্রাণীকেই বিয়ে করতাম। কিন্তু এখন যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমার যেকোনো মূল্যে ইন্দ্রাণীকে চাই এখন।

কিন্তু এইসব ভাবনার সাথে সাথে আরও কয়েকটা ভাবনা আমার মাথায় এলো। ইন্দ্রাণী যখন এতো ভালো একটা মেয়ে, ও তাহলে আমাকে আদেও পাত্তা দেবে তো? যদি আমি অবিবাহিত হতাম তাহলে আমি নিশ্চিত ইন্দ্রাণী আমাকে ফিরিয়ে দিতো না। কিন্তু যেহেতু আমার বিয়ে হয়ে গেছে, আবার একটা সন্তানও আছে তাই আমার মনে হচ্ছে ইন্দ্রাণী যেন ধাতব্যের মধ্যেই ধরবে না আমায়। আমার মতো বিবাহিত একটা পুরুষের সাথে কি আদেও ইন্দ্রাণী একটা রিলেশনে জড়াতে চাইবে? কিন্তু আমি মনে মনে এটুকু স্থির করলাম যে যাই হোক না কেন, ইন্দ্রাণীকে আমি নিজের করে পাওয়ার একেবারে চূড়ান্ত চেষ্টা করে তবেই ছাড়বো। ইন্দ্রাণীর মতো সুন্দরী নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবো আমি।

দেখতে দেখতে আরও কয়েক মাস কেটে গেল। বুবাই এর মধ্যে অনেক কিছুই শিখে ফেলেছে। ওর সেকেন্ড টার্ম পরীক্ষাও হয়ে গেছে এর মধ্যে। আমি নিশ্চিত বুবাই এইবারও দারুণ রেজাল্ট করবে। কারণ ইন্দ্রাণী সত্যিই দারুণভাবে তৈরি করছে আমার ছেলেকে। অবশেষে কয়েকদিনের মধ্যেই আবার রেজাল্ট আউট হলো, বুবাই আবার ফার্স্ট হয়েছে। পেরেন্ট টিচার মিটিংয়ে আমার সামনেই ওর শিক্ষক শিক্ষিকারা দারুণ প্রশংসা করলো ওর। এতগুলো ছেলে মেয়ে আর গার্জেনের সামনে নিজের ছেলের প্রশংসা শুনতে আমার নিজেরও ভীষণ গর্ব বোধ হচ্ছিলো।

সেদিন রেজাল্ট নিয়ে কলেজ থেকে ফিরে আমি সত্যিই ভীষন খুশি ছিলাম। আমার ভীষন ইচ্ছে করছিল ইন্দ্রাণীকে একটা দারুণ কোনো উপহার দিয়ে আবার চমকে দিতে। কারণ আমার ছেলের এই সাফল্যের পেছনে যদি কারোর হাত থাকে সেটা শুধুমাত্র ইন্দ্রাণীর। ওই আমার ছেলেকে বাকি পাঁচটা ছেলের থেকে আলাদা তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে ইন্দ্রাণীকে একটা দামী মোবাইল উপহার দিয়ে দিয়েছি আমি। আর কি গিফট দেওয়া যায় ওকে? কারণ শুধুমাত্র উপহার দেওয়াই তো আমার উদ্দেশ্য নয়, ওর মন পাওয়াও একটা বিশেষ উদ্দেশ্য আমার। আমি ভাবতে বসলাম।

ভাবতে ভাবতেই আমার হঠাৎ মনে পড়লো, ইন্দ্রাণী সাজগোজ করতে খুব ভালোবাসে। পড়াতে আসার সময় ইন্দ্রাণী সবসময়ই কোনো না কোনো প্রসাধনী মেখে আসে প্রতিদিন। কিন্তু সেগুলো যে খুবই সাধারণ মানের সেটা দেখেই বুঝতে পারি আমি। কারণ বাজার চলতি কসমেটিক্স এর যা দাম তাতে ওর পক্ষে হয়তো সেসব কিছু কেনা সম্ভব হয় না। আমার হঠাৎ মনে হলো, ইন্দ্রাণীর মতো সুন্দরী মেয়ে যদি এরকম দামী ব্র্যান্ডেড কোম্পানির কসমেটিক্স পায় তাহলে হয়তো ও খুব খুশি হবে। আমি তখনই মার্কেটে গিয়ে ইন্দ্রাণীর জন্য নামি দামী কোম্পানির সাজগোজ আর প্রসাধনের জিনিস কিনে ফেললাম। কিন্তু সবকিছু কিনেও আমার যেন তৃপ্তি হচ্ছিলো না। তখন হঠাৎ আমার একটা শাড়ির দোকানে চোখ পড়লো। দোকানের বাইরে একটা ডামির ওপর নীল রঙের একটা ভীষন সুন্দর সিল্কের শাড়ি জড়ানো ছিল। শাড়িটা দেখেই ইন্দ্রাণীর কথা মনে হলো আমার। আমার মনে হলো ওই শাড়িটাতে ইন্দ্রাণীকে দারুণ মানাবে, দারুণ সেক্সি দেখতে লাগবে ওকে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ওই শাড়িটাও কিনে নিলাম ইন্দ্রাণীর জন্য।

সবকিছু নিয়ে আমি এবার সুন্দর করে প্যাক করে রেডি করলাম ইন্দ্রাণীর জন্য। এমনিতেও সামনে পুজো আসছে, ইন্দ্রাণী নিশ্চই দারুণ খুশি হবে এইগুলো পেয়ে। আমি এবার গিফট গুলো নিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম ইন্দ্রাণীর জন্য।

সেদিনও ঠিক ছটার সময় ইন্দ্রাণী এলো বুবাইকে পড়াতে। আমি এবার ইন্দ্রাণীকে পড়ানোর ঘরে বসিয়েই গিফটের প্যাকেটটা এনে রাখলাম ওর সামনে। ইন্দ্রাণী এতো বড়ো প্যাকেট দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। ইন্দ্রাণী বড়ো বড়ো চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, “এসব কি সমুদ্র দা?”

আমি হেসে বললাম, “বুবাইয়ের রেজাল্ট বেরিয়েছে আজ। পেরেন্ট টিচার মিটিংও ছিল। বুবাই এই টার্মেও ফার্স্ট হয়েছে। ওর টিচাররাও আমার কাছে ভীষন প্রশংসা করেছে ওর। কিন্তু আমি জানি এই সব কৃতিত্ব বুবাইয়ের একার নয়, তোমারও। তুমি না থাকলে বুবাই কখনই এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতো না। তাই তোমার জন্য আমি সামান্য কিছু উপহার কিনেছি ইন্দ্রাণী। তুমি প্লীজ খুলে দেখো এগুলো।”

ইন্দ্রাণী তখনই এক এক করে খুলে দেখলো সব। ইন্দ্রাণী জিনিসগুলো দেখে খুবই অবাক হয়ে গেল। কারণ ওকে আমি প্রায় সব রকমেরই কসমেটিকস কিনে দিয়েছি। আর প্রত্যেকটা জিনিসই নামি ব্র্যান্ডের, ভীষন দামী। ইন্দ্রাণী হয়তো জীবনেও এইসব জিনিস ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি। তার ওপর ওই নীল রঙের শাড়িটা দেখে ইন্দ্রাণী তো একেবারে বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। ইন্দ্রাণী অবাক হয়ে আমায় বললো, “এসব কি সমুদ্র দা? এগুলো তো খুবই দামি জিনিস! আপনি আমার জন্য এতো খরচ করতে গেছেন কেন?”

আমি মুচকি হেসে বললাম, “কোথায় দামি ইন্দ্রাণী, তুমি আমার ছেলেকে যেভাবে তৈরি করে দিচ্ছ তার তুলনায় এগুলো খুবই সামান্য জিনিস। তুমি কিন্তু একদম এগুলো ফিরিয়ে দেবে না। তুমি যদি এগুলো নাও তাহলে আমি খুবই খুশি হবো।”

ইন্দ্রাণী এবার মুচকি হাসলো মাথা নিচু করে। তারপর বললো, “ঠিক আছে সমুদ্র দা, আপনি যখন ভালোবেসে আমায় দিচ্ছেন তখন আমি এগুলো না করবো না। আমি নিলাম এই জিনিসগুলো।”

আমি তখন বললাম, “তোমার বেতনও আমি মাসে আরও পাঁচশো করে বাড়িয়ে দিলাম। আর পুজোর জন্য দু হাজার টাকা বোনাস দিলাম তোমাকে। তুমি আরও মন দিয়ে পড়াও আমার ছেলেকে।”
Reply


Messages In This Thread
ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:48 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:49 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:49 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:50 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:51 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:51 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:52 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:52 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:53 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:53 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:54 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:55 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:56 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:56 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:57 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:57 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:58 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:59 AM
RE: ইন্দ্রাণী তুমি শুধুই আমার (By:Subha@007) - by Erotic Lovers - 10-15-2026, 08:59 AM

Forum Jump:


Users browsing this thread: 1 Guest(s)