গল্প: শখের পদ্মফুল (০৩)

লেখনীতে:লুনা আক্তার নূর
পর্ব:০৩

 

 

আইরা বেডের ওপর বসে বসে সেই থেকে কান্না করেই যাচ্ছে। কারণ একটু আগে যা যা হয়েছে সে রুমের ভেতর থেকে সব কিছুই শুনেছে। মিসেস শারমিন অনেক চেষ্টা করেছেন নিজের ছেলেকে আটকানোর তবে তিনি পারেন নি।

মিসেস শারমিন দেরি না করে আইরার কাছে আসেন আর তাকে জ’ড়ি’য়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেন,

__:- কাঁদিস না মা আর কাঁদিস। শরীর খা’রা’প করবে তো এবার।

আইরা:- তুমি কেনো জোর করে আমার সাথে উনার বিয়েটা দিলে আন্টি। আমার জন্য তোমাকে সবাই ভুল বুঝছে। (কাঁদতে কাঁদতে)

__:- চুপ কর। এইভাবে বলিস না। আমি যে তোর মা কে কথা দিয়েছি। তোকে নিজের মেয়ের মতো করে আগলে রাখবো। তোর মায়ের সাথে আমার শেষ দেখা হয়নি। সে তো এটাই চেয়েছিল আমি যেনো তার মেয়েটাকে নিজের মেয়ের মতো করে রাখি। তুই একদম চিন্তা করিস না আমি আছি না।

আইরা:- আন্টি আমার নিজেকে এখন খুব অ’প’রা’ধী মনে হচ্ছে। আমার জন্য তোমাদের মা ছেলের মধ্যেকার সম্পর্ক ন’ষ্ট হলো। আংকেল ও তোমাকে ভুল বুঝছে। এখন মনে হচ্ছে সেইদিন কেনো আল্লাহ্ আমাকে তুলে নিলো না। সেইদিন যদি ম’রে যেতাম তাহলে কারোই কোনো সমস্যাই হতো না। ছোট আম্মু ঠিকই বলে আমি অ’প’য়া। যেখানে যাই সেখানেই কোনো না কোনো অশান্তি হয়। আমি এখন সবার ঘা’ড়ে’র উপর একটা বোঝার মত। (ভাঙ্গা গলায়)

__:- আইরা, কি আবোল তাবোল কথা বলছিস এইসব। তুই অ’প’য়া না। আর তুই কেনো ম’র’বি হ্যাঁ। আমি যতদিন আছি তোর কিছুই হতে দেবো না। আর কখনো যেনো তোর মুখে এইসব কথা না শুনি। আজকে থেকে আমিই তোর মা। তুই আমাকে আম্মু বলে ডাকবি কেমন। আর কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবি। ওহ্ দেখেছিস তুই তো কিছুই খাস নি। সেই দুপুরে একটুখানি খাবার মুখে তুললি। তুই বোস আমি তোর জন্য খাবার নিয়ে আসি।

বলেই মিসেস শারমিন চলে যান আইরার জন্য খাবার আনতে। কিছুক্ষণ পর তিনি প্লেট ভর্তি করে খাবার আনেন আইরার জন্য। খাবারের প্লেট টা নিয়ে তিনি আইরার পাশে বসেন আর বলেন,

__:- নে এবার আ করতো আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি।

আইরা:- আমি একা একা খেতে পারব আন্টি।

__:- আচ্ছা তুই কি আমাকে নিজের আপন ভাবতে পারছিস না। অবশ্য ভাববি কি ভাবে আমি তো আর তোকে জন্ম দেইনি। সেই জন্যই হয়তো তুই আমাকে নিজের মা ভাবতে পারছিস না, আম্মু বলেও ডাকতে পারছিস না। নিজের মা হলে তো ঠিকই আমার হাতে খেয়ে নিতি। (অভিমানের সুরে)

আইরা:- না না আম্মু। তুমি রা’গ করো না। ঠিক আছে আমাকে খাইয়ে দাও তাহলে।

বলেই আইরা মুখ খোলে। মিসেস শারমিন পরম যত্নে আইরা কে খাইয়ে দেই। মিসেস শারমিন গল্পের ছলে আইরা কে বেশ অনেকটা খাবার খাইয়ে দেই।

আইরা:- আর খেতে পারব না আমি, আম্মু।

__:- আরেকটু খা মা।

আইরা:- সত্যি আমি আর খেতে পারব না। আমার পেটে আর একটুও জায়গা নেই।

__:- আচ্ছা আর খেতে হবে না। দাড়া হাত টা ধুয়ে আসি।

মিসেস শারমিন হাত ধুয়ে এসে আইরার হাতে একটা থ্রি পিস ধরিয়ে তাকে ওয়াশরুমে দিয়ে আসেন চেঞ্জ করার জন্য। এরপর মিসেস শারমিন নিচে চলে যান সব কিছু গুছিয়ে রাখতে। আইরা চেঞ্জ করে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে হাতরিয়ে হাতরিয়ে বেডের কাছে যায়।

সব কিছু গুছিয়ে রেখে মিসেস শারমিন রুমে এসে আইরা কে দেখে অবাক হয়ে যান। আইরা একটা জলপাই রঙের থ্রি পিস পড়েছে আর তাকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে। মিসেস শারমিন, আইরার কাছে গিয়ে বলেন,

__:- মাশাল্লা, আমার মেয়ে টাকে কত মিষ্টি লাগছে। চল অনেক রাত হয়ে গিয়েছে ঘুমোতে হবে তো।

এরপর মিসেস শারমিন, আইরার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়াতে লাগেন। আইরার বেশ ভালোই লাগছে। জীবনে প্রথম সে মায়ের মত কাউকে পেয়েছে যে তাকে যত্ন করে খাইয়ে দিচ্ছে, ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছে।

সেও তো এমন টাই চেয়েছিল। ছোট থেকে আইরা ছিলো ভালোবাসার কাঙাল। মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য সে সবসময় মিসেস ইলার পেছন পেছন ঘুর ঘুর করত।

মিসেস ইলা এতে বেশ বিরক্ত হতেন। পেছন পেছন ঘুর ঘুর করার জন্য আইরা মা’র ও খেতো। তবুও সে মিসেস ইলার পিছন ছাড়ত না।

তারপর যখন বড় হয় তখন আস্তে আস্তে বুঝতে পারে যে মিসেস ইলা তার নিজের মা নয়। তিনি তার সৎ মা। মিসেস ইলা যখন ইমা আর তাশীফের জন্য তাদের পছন্দের খাবার রান্না করতো আইরা দূরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতো।

মিসেস ইলা, ইমা আর তাশীফ কে পরম যত্নে নিজের হাতে খাইয়ে দিতো আর আইরা লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতো। কারণ মিসেস ইলার আদেশ ছিল যখন তিনি ইমা আর তাশীফ কে খেতে দেবেন তখন যেনো আইরা তার অ’প’য়া মুখটা তাদের সামনে না দেখায়।

আইরার মুখ দেখলে নাকি তার ছেলে মেয়ে খাবারই মুখে নেবে না। মিসেস ইলা, ইমাকে নিজে ঘুম পাড়িয়ে দিতেন। এটা দেখে একদিন আইরা মিসেস ইলা কে বলে যে মিসেস ইলা যেনো আজকে তাকেও নিজেদের সাথে শুতে নেন।

কিন্তু মিসেস ইলা আইরার গালে একটা থা’প্প’র বসিয়ে রুম থেকে ঘা’ড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। মিসেস ইলা, আইরার জন্য একটা ছোট্ট রুম দিয়েছিলেন।

রুমটা বেশ অন্ধকার। এটা আগে একটা স্টোররুম ছিলো। রুমটা খুব অপরিষ্কার আর স্যাঁতস্যাঁতে। রুমে একটা ছোট্ট চৌকি পাতা ছিলো। আইরা কে সোয়ার জন্য একটা তোসুক ও দেননি মিসেস ইলা।

প্রথম প্রথম আইরার বেশ ক’ষ্ট হতো এইসবে কিন্তু সে ধীরে ধীরে সব মানিয়ে নিয়েছিল।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

দীর্ঘ ৫ বছর পর দেশের মাটিতে পা রাখলো ইভান। যদিও দেশে ফেরার কোনো ইচ্ছাই ছিল না তার। বাবার এত অনুরোধেও সে দেশে ফিরতে চাইনি। তবে এক অদৃশ্য শক্তি যেনো তাকে দেশে ফিরতে বাধ্য করেছে।

এই ৫ বছর যে সে খুব একটা ভালো ছিল তাও বলা যায় না। কারণ ৫ বছর আগে দেশ ছেড়ে চলে আসার পর তার মন যেন খুব অস্থির করছিল। কিছুতেই বিদেশের মাটিতে তার মন টিকছিল না। কত রাত যে তার নির্ঘুম কেটেছে সেটা শুধু সেই জানে। ঠিক মতো খেতেও পারত না সে।

এর আগে ও সে দেশের বাইরে একা থেকেছে দিনের পর দিন। কই তখন তো এমন হয়নি!! কিন্তু যখন আইরা কে বিয়ে করে দেশে ফেলে এসেছে তারপর থেকে যেনো দেশের বাইরে তার মনই টেকে না।

কিন্তু এমন যে কেনো হচ্ছিল তার সাথে সেটা সে বুঝতেই পারছিল না। নিজের মনকে এই অস্থিরতা থেকে দূরে রাখতে সে রিলেশন ও করেছে তবে রিলেশনের ২ দিনের মাথায় সে নিজেই ব্রেকআপ করে ফেলে। কিন্তু কেনো করে সেটা সে নিজেও বুঝতে পারছে না।

একরকম মন ও মস্তিষ্কের সাথে যুদ্ধ করে মন কে জিতিয়ে সে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়। কেনো জানি আজকে তার খুব খুশি খুশি লাগছে। অজানা এক ভালো লাগা অনুভূত হচ্ছে তার ভেতর। কিন্তু কেনো, ৫ বছর আগে নিজের ফেলে আসা সেই পিচ্চি বউ কে দেখতে পাবে বলেই কি তার মনে এত আনন্দ লাগছে।

এত কিছু ভাবতে ভাবতে ইভান নিজের লাগেজ নিয়ে গাড়িতে উঠে। গন্তব্য এখন কক্সবাজার। কারণ তার একমাত্র মামার একমাত্র মেয়ের যে বিয়ে। বাড়িতেই ফিরত তবে বাড়িতে হয়তো এখন কেউই নেই। তার বাবা, মা হয়তো বিয়ে অ্যাটেন্ড করতে কক্সবাজারেই গিয়েছে।

ইভান:- আচ্ছা ঐ মেয়েটা ও কি কক্সবাজারে গিয়েছে। না না আমি ঐ মেয়েটার কথা কেনো ভাবছি। এত দিনে হয় তো ও নিজের বাড়ি ফিরে গিয়েছে। (মনে মনে)

না চাইতেও সে বার বার আইরার কথাই ভাবছে ইভান। নানান কথা ভাবতে ভাবতে ইভানের চোখে নেমে আসে ঘুম। ইভান তলিয়ে যায় ঘুমের রাজ্যে। এতটা পথ জার্নি করে এসেছে তাই হয়তো এত ঘুম আসছে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,

নওমী, আইরার গায়ে নানান রঙের শাড়ি ফেলে দেখছে আর আইরা চুপ করে বসে আছে।

নওমী:- সব গুলোই তো তোমার গায়ে বেশ মানাচ্ছে এখন তাহলে কোন শাড়িটা তোমাকে পড়ায় বলতো ভাবী!! যেই শাড়ি তোমার গায়ে ফেলছি মনে হচ্ছে ঐটাই তোমার জন্য তৈরি হয়েছে।

তখন নওমির খালামনি পাশ থেকে বলেন,

__:- এ মা তুই এই মেয়েকে শাড়ি পড়তে কেনো বলছিস। তুই জানিস না ও অন্ধ। শাড়ি পরে কোথায় উল্টে পড়ে থাকবে তখন আবার আমাদের দোষ হবে।

বলেই তিনি হাসতে থাকেন। সাথে নওমির মামী ও তার সাথে তাল মিলিয়ে হাসতে থাকেন আর বলেন,

__:- ঠিক বলেছেন আপা। শুধু দেখতে সুন্দর হলে তো হয়না। দেখার ক্ষমতা টাও থাকতে হয়। যেটা এই মেয়ের ভিতর নেই। আবার নিজের স্বামী টাকেও তো ধরে রাখতে পারল না। বিয়ে করে বউকে বাসর ঘরে ফেলে চলে গিয়েছে। দেখো ছেলে আর বাড়ি ফেরে নাকি।

__:- হ্যাঁ শুনেছি জোর করে বিয়ে দেওয়ার জন্য বাবা মায়ের সাথেও তো কোনো সম্পর্ক রাখেনি ইভান। দেখো হয়তো এতদিন ঐখানে নতুন সংসার ও পেতে বসেছে।

__:- ঠিকই আছে। এই অন্ধ মেয়েকে নিয়ে চলা যায় নাকি। ইভান চলে গিয়েছে ভালোই করেছে। কত দিন ঘা’ড়ে বোঝা নিয়ে থাকবে।

আইরার চোখ গুলো টলমল করছে তাদের এমন ঠেস মে’রে কথা বলাই। মনে হচ্ছে এক্ষণই টোকা দিলে চোখের পানি গুলো বৃষ্টির মতো ঝর ঝর করে পড়বে। নওমি তাদেরকে কিছু বলতে যাবে তখনই পেছন থেকে মিসেস শারমিন বলে উঠেন,

__:- ছি ছি ছিঃ আমার ভাবতেও ঘৃ’ণা হচ্ছে। আচ্ছা আপনারা কি মানুষ!! এইভাবে একটা মানুষের অক্ষমতা নিয়ে আপনারা এতো কথা শোনাচ্ছেন।

নওমির খালামনি তখন বলেন,

__:- ভুল কিছু তো বলিনি আপা। যা যা বললাম তা তো সবই ঠিক। আর অন্ধ মেয়ে শাড়ি পরে সামলাতে না পেরে পড়ে গেলে তো আমাদেরই দোষ তাই না।

__:- এই কথাটা তো আপনি ভালো ভাবে ও বলতে পারতেন। এইভাবে ওকে খোঁচা মে’রে কেনো বলছেন। শুনে রাখুন আমার মেয়েকে যে বা যারা অপমান করবে আমি তাদের কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। (রা’গী কন্ঠে)

বলেই মিসেস শারমিন, আইরার কাছে গিয়ে ওকে দাড় করান। তারপর ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে ওর হাত ধরে রূম থেকে বের হয়ে যান। নাওমি ও ওদের পিছন পিছন যায়। মিসেস শারমিন নিচে গিয়ে জোরে জোরে তার ভাই জাহিদ খান কে ডাকতে লাগেন,

__:- ভাই, ভাই তুমি কোথায়??

মিস্টার জাহিদ খান তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। মিসেস শারমিনের ডাক শুনে তিনি ভেতরে আসেন। নাওমি হলো মিসেস শারমিনের একমাত্র ভাই জাহিদ খানের একমাত্র মেয়ে। আর মিসেস শারমিন নাওমির বিয়ে অ্যাটেন্ড করতে এসেছে।

__:- কি হয়েছে বোনু। এত ডাকাডাকি কেনো করছিস।

মিসেস শারমিন কিছু বলতে যাবে কিন্তু আইরা তাকে আটকে বলে,

আইরা:- আম্মু তুমি প্লিজ মামাকে কিছু বলো না। মামা ক’ষ্ট পাবেন।

__:- তুই চুপ কর। তুই যে ক’ষ্ট পেলি এতে কিছু না। আর তুই ওদেরকে চিনিস না। ওরা যাকে পাই তাকেই এইভাবে অপমান করে। আমি যদি এখন ভাইকে না বলি তাহলে ওরা তোকে অপমান করার আরো সুযোগ পেয়ে যাবে তাই আমাকে বলতে দে।

বলেই মিসেস শারমিন বলতে শুরু করেন,

__:- ভাই, ভাবির বোন আর উনার ভাবী রা আমার মেয়েকে রুমে একা পেয়ে যা নয় তা বলে অপমান করেছে। তাই আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি আমার মেয়েকে নিয়ে। তোমাদের সবার তো আমার মেয়েকে নিয়ে সমস্যা, তাই আমরাই চলে যাচ্ছি।

__:- কি বলছিস বোনু তুই এইসব। তুই নাওমির একমাত্র ফুপি। তুই না থাকলে কি বিয়ে টা হবে নাকি। তুই দাড়া আমি দেখছি যে ওরা আইরা মাকে কেনো অপমান করেছে।

বলেই তিনি ওপরের চলে যান। মিসেস শারমিন, আইরার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন,

__:- তুই একদম চিন্তা করিস না মা। আমি যতদিন আছি তোকে কেউ খা’রা’প কথা বলতে পারবে না। সকাল থেকে তো মনে হয় কিছুই খাস নি। আমি কাজে ব্যস্ত ছিলাম আর এই ফাঁকে তুমি খাওয়া দাওয়াই ও অনিয়ম করে বসে আছো। চল আমি খাইয়ে দিচ্ছি। মুখটা কেমন শুকিয়ে গেছে তোর।

মিসেস শারমিন, আইরা কে একদম নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসেন। মেয়ে না থাকার আক্ষেপটা আইরাই তার মিটিয়েছে।

মিসেস শারমিন, আইরা কে নিজের রুমে নিয়ে যান আর তাকে বসিয়ে রেখে খাবার নিয়ে আনেন। এরপর আইরা কে সুন্দর করে নিজের হাতে খাইয়ে দেন। তখনই রুমে ইমরান রহমান প্রবেশ করেন।

__:- কই আমার মা টা কোথায়। দেখো আমি আইরার জন্য কি এনেছি।

মিসেস শারমিন, ইমরান রহমানের কাছে যান।

__:- কি এনেছ??

__:- আমার মেয়েটার তো পদ্ম ফুল খুব পছন্দ তাই ওর জন্য একটা সুন্দর পদ্ম ফুল নিয়ে এসেছি।

মিসেস শারমিন, ইমরান রহমানের হাত থেকে পদ্ম ফুল টা নিয়ে আইরার কাছে যান আর আইরার হাতে দেন।

__:- নে তোর বাবাই শখ করে তোর জন্য পদ্ম ফুল এনেছে।

আইরা হাতড়িয়ে মিসেস শারমিনের হাত থেকে পদ্ম ফুল টা নিয়ে নেয়। আইরা পদ্ম ফুলটা হাতে নিয়ে স্মিত হেসে নাড়তে নাড়তে বলে,

আইরা:- বাবাই আমার কাছে তো দিন আর রাত দুইটাই সমান। আমি কিভাবে দেখব এই সুন্দর পদ্ম ফুলটাকে!!!

আইরার কথা শুনে মিসেস শারমিন আর ইমরান রহমানের খুব খা’রা’প লাগে। ইমরান রহমান, আইরার কাছে গিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেন,

__:- এই ভাবে কেনো বলছিস রে মা। আমাদের তো খা’রা’প লাগে তাই না। আর বেশি দিন তোকে এইভাবে থাকতে হবে না। এই বিয়ের ঝামেলাটা মিটিয়েই আমরা তোকে নিয়ে খুব জলদি দেশের বাইরে যাবো। ঐখানে গিয়ে ভালো করে তোর ট্রিটমেন্ট করব। দেখবি তুই আবার আগের মত সব কিছু দেখতে পারবি।

আইরা:- আমার পিছনে এত টাকা খরচ করতে হবে না বাবাই।

__:- বাবাই বলে যখন ডেকেছিস তখন বাবার দায়িত্বটা তো পালন করতে হবে নাকি।

আইরার চোখ দুইটা আবার ভিজে উঠে। তার নিজের বাবা বেঁচে থাকার সত্ত্বে কোনোদিনও তার খোঁজ নেননি। এই ৫ টা বছরে একবারও তার সাথে দেখা পর্যন্ত করতে আসেন নি।

নিজের বাবা হওয়ার সত্ত্বেও নিজের সন্তানের প্রতি নূন্যতম দায়িত্ব টুকুও পালন করেন নি তিনি। জন্ম থেকেই আসিফ নূর, আইরা কে অবহেলা করে এসেছে। কখনো ঠিক মতো কথাও বলেনি।

অথচ এরা তো তার র’ক্তে’র সম্পর্কের কেউ না। তাও তো তারা আইরা কে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছে। এই ৫ টা বছরে কোনো আঁচ তার ওপর আসতে দেননি।

আইরা:- আমাকে কেনো এত ভালোবাসো বাবাই। (কাঁপা কাঁপা কন্ঠে)

ইমরান রহমান মুচকি হেসে বলেন,

__:- কারণ তুই যে আমার মা। মা কে কি না ভালোবেসে থাকা যায়।

আইরা আর নিজেকে আটকে রাখতে পারে না। সে ইমরান রহমান কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগে আর বলে,

আইরা:- আমার নিজের বাবা কোনোদিনও আমার খোঁজ খবর নেয়নি। কখনও জিজ্ঞাসাও করেনি যে আমি ভালো আছি নাকি আর তোমরা, আমি তোমাদের র’ক্তে’র সম্পর্কের কেউ না তবুও কত ভালোবাসো আমাকে। সত্যি আজকে নিজেকে খুব সৌভাগ্যবতী মনে হচ্ছে তোমাদের মত এমন বাবা মা পেয়ে।

মিসেস শারমিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের বাবা মেয়ের কথা শুনছেন। ইমরান রহমান শুরু শুরু তে আইরা কে একদমই সহ্য করতে পারতেন না। তিনি মনে করতেন আইরার জন্যই ইভান দেশ ছেড়ে চলে যায়। তবে এত মিষ্টি একটা মেয়ের ওপর কি আর রা’গ করে থাকা যায়।

তাই তো তিনি আর আইরার ওপর রা’গ করে না থেকে মিসেস শারমিনের মতো আইরা কে নিজের মেয়ে হিসেবে ভালোবাসেন।

ইমরান রহমান:- আচ্ছা আমি যায়। বাইরে অনেক কাজ আছে।

মিসেস শারমিন:- হুম।

তারপর ইমরান রহমান রুম থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পর নাওমির মা মিসেস রুবিনা খান রুমে আসেন আর মিসেস শারমিন কে ডেকে নিয়ে যান। এখন রুমে শুধু আইরা একাই আছে।

চলবে……..

{কেমন লাগলো সবাই জানাতে ভুলবেন না। ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। আর আজকে গল্প দিতে দেরি হয়ে গেলো 🙂🙂}

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x