গল্প:মৃত কাঠগোলাপ(০১)

লেখনীতে:আইরা নূর

পব:০১

বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে নিজের চোখের অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছে আরুহি।

নীলাধ্র:- এই ছোটলোকের বাচ্চা তোর সাহস কিভাবে হয় যে তুই আমার নামে মি’থ্যে অ’প’বা’দ দিস। কার না কার বাচ্চা পেটে বাঁধিয়ে আমার ঘা’ড়ে চা’পি’য়ে দিতে চাইছিস। যেই দেখেছিস বড়লোক ঘরের ছেলে অমনি তোর গলায় ঝুলে পড়ার ধা’ন্দা।

নাজিয়া চৌধুরী:- ছি ছি ছি। আমার ভাবতেও ঘৃ’ণা হচ্ছে তোমার মতো এমন চ’রি’ত্র’হী’ন মেয়েকে আমি আমার বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলাম। আমার বাড়িতে থেকে আবার আমার ছেলের নামেই মি’থ্যে অভিযোগ দিচ্ছো। কোথায় না কোথায় গিয়ে এইসব কু’কাজ করে আমার ছেলের জীবনটা কেনো ন’ষ্ট করছো!

আরুহি কিছুই বলে না। শুধু মাথা নিচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। তার গাল বেয়ে শুধু টুপ টুপ করে পানি পড়ছে। সে যেনো নিজেকে সামলাতে পারছে না। আশেপাশে থেকে মানুষের কথা তার কানে ভেসে আসছে।

__:- দেখেছো কি নির্লজ্জ মেয়ে। বিয়ের আগেই এইসব কু কাজ করেছে, সেটা আবার বড় মুখ করে বলতেও এসেছে। এইসব মেয়ের কি কোনো শিক্ষা দীক্ষা নেই নাকি। যত্ত সব ন’ষ্টা মেয়ে মানুষ।

__:- শিক্ষা দীক্ষা থাকলে তো আর এমন কাজ করত না। আরে বোঝো না বাবা মাই হয়তো মেয়েকে লে’লি’য়ে দিয়েছে বড়লোক ছেলে দেখে। শুনেছি এই মেয়ে নাকি গ্রামের।

__:- আমার জানা মতে গ্রামের মেয়েরা নাকি খুব ভালো হয়। কিন্তু এই মেয়ে একদম উল্টো। এই রকম মেয়েদের জন্যই তো সব মেয়েদের দোষ হয়।

আরুহি তাদের সব কথাই শুনতে পাচ্ছে। তার মনে হচ্ছে এক্ষণই ম’রে যেতে। কিন্তু আ’ত্ম!হ:ত্যা করা যে মহা পাপ।

আরুহির ভাবনায় ছেদ পড়ে তার ভাইয়ের থা’প্প’ড়ে। তাল সামলাতে না পেরে আরুহি নিচে পড়ে যায়। নিচে বসে থেকেই আরুহি ছল ছল নয়নে তাকাই নিজের পিতা তুল্য বড় ভাইয়ের দিকে। যে ভাই আজ পর্যন্ত তার গায়ে ফুলের টোকা ও পড়তে দেইনি সেই ভাই ই আজকে তাকে এত গুলো মানুষের সামনে চ’ড় মা’র’ল।

রিহান, আরুহির হাত ধরে টে’নে তুলে আরেকটা চ’ ড় মা!রে। বাবা মায়ের মৃ’ত্যু’র পর যাকে খুব যত্নে নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করেছে। একটাও আঁচ আসতে দেইনি যার ওপর রিহান, আজকে সেই সন্তান তুল্য বোনের জন্যই তার সবার সামনে অ’প’মা’নি’ত হতে হচ্ছে।

রিহান:- ছি ছি ছি। আমার ভাবতেও ঘৃ’ণা হচ্ছে যে তুই আমার বোন। আমি তো ভাবতেও পারছি না যে তুই এমন কাজ করতে পারিস। তোকে কি আমি এই জন্য শহরে পাঠিয়ে ছিলাম। মানুষ হওয়ার বদলে একটা অ’মা’নু’ষ হয়ে গিয়েছিস তুই ছি। (রা’গী কন্ঠে)

তখনই পাশ থেকে রিহান চৌধুরীর স্ত্রী ফারাহ চৌধুরী বলে উঠে,

ফারাহ:- ছি আরুহি তুই কিভাবে পারলি এমন একটা কাজ করতে। একবারও কি নিজের এই ভাইয়ের কথা মনে হয়নি তোর। যে তোকে ছোট থেকে কো’লে পিঠে করে মানুষ করেছে। নিজের সবকিছু ত্যাগ করেছে শুধু মাত্র তোর খুশির জন্য। আর তুই কি করলি। আজকে এতোগুলো মানুষের সামনে সেই ভাইকে ছোট করতে লজ্জা করছে না তোর।

বলেই ফারাহ, আরুহির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতক্ষণ চুপ করে থাকলেও এখন আর চুপ করে থাকতে পারে না আরুহি। তাই সে বলে,

আরুহি:- বিশ্বাস করো ভাবীমা, আমি কোনো খা’রা’প কাজ করিনি। আমি সত্যি বলছি। নীলাধ্র র সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। এই বাচ্চা অ’বৈ’ধ নয়। আমি চ’রি’ত্র’হীন না। তুমি অন্তত আমাকে বিশ্বাস করো। ভাইয়া ও ভাইয়া তুমি, তুমি আমাকে বিশ্বাস করো প্লিজ। আমি মি’থ্যে কথা বলছি না। ভাইয়া তুমি তো তোমার বোনকে চেনো। ভাইয়া আমার কথা বি…

রিহান:- চুপ কর, একদম চুপ কর। আর একটাও কথা বলবি না তুই। আর কত মি’থ্যে বলবি তুই বল আর কত! (ভাঙ্গা গলায়)

আরুহি:- ভাইয়া বিশ্বাস করো আমি সত্যি কথা বলছি। আমি কেনো মি’থ্যে কথা বলব বলো। মি’থ্যে কথা বলে কেনো নিজের মান সম্মান আমি ন’ষ্ট করব বলো। তোমাদের আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না, দাড়াও।

আরুহি কথা বলতে বলতে খুব হাইপার হয়ে যায়। সে নিজে কে সামলিয়ে চোখের পানি মুছে নীলাধ্র র সামনে দাঁড়ায় আর বলে,

আরুহি:- নীলাধ্র আপনি সত্যিটা বলুন না সবাইকে। সবাই তো আমাকে ভুল বুঝছে। আপনি বলুন না যে আপনি আমাকে বিয়ে করেছিলেন। প্লিজ সবাইকে বলুন না। এই সন্তান অ’বৈ’ধ নয়। আপনি কেনো চুপ করে আছেন। বলুন না, প্লিজ কিছু বলুন। (অস্থির কন্ঠে)

আরুহি, নীলাধ্র-র বাহু ঝাঁকিয়ে এক নাগাড়ে এসব কথা বলছে। নীলাধ্র, আরুহি কে ধা’ক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দেই আর বলে,

নীলাধ্র:- কি প্রমাণ আছে যে আমি তোমাকে বিয়ে করেছি!! কোনো প্রমাণ আছে তোমার কাছে। (বাঁকা হেসে)

আরুহি:- প্রমাণ!!

নীলাধ্র:- হ্যাঁ প্রমাণ। দেখাও সবাইকে প্রমাণ। দেখাও আমাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি পেপার।

আরুহি আবার নীলাধ্র-র কাছে এসে বলে,

আরুহি:- রেজিস্ট্রি পেপার!! সেটা তো নেই। আমাদের তো ধর্মীয় ভাবে বিয়ে হয়েছে। তিন কবুল বলে আপনি আমাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করেছেন। তাহলে এখন কেনো অস্বীকার করছে। প্লিজ সবাইকে বলে দিন না সব সত্যিটা। (করুন স্বরে)

নাজিয়া চৌধুরী, আরুহির কাছে আসেন আর তাকে টে’নে নীলাধ্র-র থেকে দূরে সরিয়ে দেন আর বলেন,

__:- এই ন’ষ্টা মেয়ে মানুষ সর এখান থেকে। আমার ছেলের ধারের কাছেও আসবি না।

আরুহি:- আমার কথা বিশ্বাস করুন বড় আম্মু। আমি সত্যি কথা বলছি। নীলাধ্র র সাথে আমার বিয়ে হয়েছে ধর্মীয় ভাবে।

আরুহির কথা শুনে নীলাধ্র-র বাবা আদনান চৌধুরী বলে উঠেন,

__:- চুপ একদম চুপ। সেই কখন থেকে তোমার নাটক দেখে যাচ্ছি। প্রমাণ তো দেখাতে পারছ না। আর আমরাই বা তোমাকে কিভাবে বিশ্বাস করবো যে তুমি আমার ছেলেকে বিয়ে করেছ। আর যদি বিয়ে করেই থাকো তাহলে নীলাধ্র কেনো বলছে না। ও কেনো চুপ করে আছে।

আরুহি:- আমি বুঝতে পারছি না বড় আব্বু কেনো নীলাধ্র চুপ করে আছেন। কেনো সবাইকে সব সত্যিটা বলছেন না। নীলাধ্র আপনি তো বলেছিলেন যে আপনি আমাকে খুব ভালোবাসেন। যত বড় ঝড় আসুক, যতই বিপদ হোকনা কেনো আপনি আমার হাত ছাড়বেন না। তাহলে এখন কেনো এমন করছেন। কেনো সবাইকে সব সত্যিটা বলছেন না।

নীলাধ্র:- আম্মু এই ন’ষ্টা মেয়েকে বের করো তো এখান থেকে। তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে একে ঘাড় ধা’ক্কা দিয়ে বের করে দাও। একে দেখলেই আমার গাঁ জ্বলে যাচ্ছে। (রা’গী গলায়)

আরুহি:- না আমি কেনো বের হবো। এটা আমার শশুর বাড়ী। এখানে আমার স্বামী থাকে। আমি কোত্থাও যাবো না।

নীলাধ্র:- আম্মু আমার মনে হয় এই মেয়ে পা’গ’ল হয়ে গিয়েছে। কখনো তো এত বড়লোক বাড়ি দেখেনি তাই হয়তো এই বাড়িতে থাকার জন্য বানিয়ে বানিয়ে মি’থ্যে কথা বলছে।

আরুহি চি’ৎ’কা’র করে বলে উঠে,

আরুহি:- না না না আমি মি’থ্যে বলছি না। আপনারা বিশ্বাস করুন। আমি কেনো মি’থ্যে বলবো।

আরুহি আবার নীলাধ্র র কাছে যায় আর দুইহাত দিয়ে তার মুখটা আগলে নিয়ে নরম স্বরে বলে,

আরুহি:- আপনি কেনো সবাইকে সব সত্যিটা বলছেন না। আপনার আর আমার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। তাহলে আপনি কেনো আবার অন্য কাউকে বিয়ে করছেন। আপনি কেনো আমাকে আর আমাদের সন্তানকে অস্বীকার করছেন। বলুন না, চুপ করে কেনো আছেন বলুন না।

হঠাৎ করেই আরুহি নিজের চুলে টান অনুভব করে। চুলে টান অনুভব হতেই আরুহি চোখ গুলো আবার ভিজে যাই। কেউ তার চুলের মু’ঠি’টা খুব শ’ক্ত করে ধরে পেছনে থেকে বলে উঠে,

__:- এই ছোট লোকের বাচ্চা সেই কখন থেকে তোর নাটক দেখছি, হ্যাঁ। তোর কত্ত বড় সাহস। আমি না তোকে নীলাধ্র র থেকে দূরে থাকতে বলেছি। তবুও তুই ওর কাছাকাছিই থাকছিস, হ্যাঁ। আবার আমাদের বিয়েও ভাঙতে এসেছিস তাই না। তুই না সেইদিন বড় মুখ করে বললি যে তুই আর নীলাধ্র র ধারের কাছেও ঘেষবি না তাহলে এখন কেনো ঘেষছিস।

জোরে চি’ৎ’কা’র দিয়ে কথা গুলো বলে নিরা কায়সার। আজকে নীলাধ্র চৌধুরী আর নিরা কায়সারের বিয়ে। নিরা আর নীলাধ্র একি ভার্সিটি থেকে পড়াশোনা করেছে আর তাদের বিয়ে টাও ছোট থেকেই ঠিক করা ছিল।

হাফিজ কায়সারের একমাত্র আদরের মেয়ে নিরা কায়সার। আদনান চৌধুরী মানে নীলাধ্র র বাবা এবং হাফিজ কায়সার বিসনেস পার্টনার বহু বছর ধরে। সেই সুবাদে হাফিজ কায়সার আর নিরা কায়সারের আসা যাওয়া প্রায় লেগেই থাকতো চৌধুরী বাড়িতে।

নিরা আর নীলাধ্র র বিয়েটা সেই ছোট বেলায় ঠিক করেছিল যাতে কাজের সম্পর্কটা এবার আত্মীয়র সম্পর্কে রূপ নেয়।

তবে একটু আগে ঘটে যাওয়া ঘটনায় হাফিজ কায়সার আর নিরা কায়সার যেনো তব্দা বনে গিয়েছে।

ফ্ল্যাশব্যাক…….

চৌধুরী বাড়ি সেজে উঠেছে নানান রঙের ফুলে আর বাতিতে। কারণ চৌধুরী বাড়ির ছেলে নীলাধ্র চৌধুরীর যে বিয়ে।

এ যেনতেন বিয়ে না। দেশের টপ বিসনেস ম্যান হাফিজ কায়সারের এক মাত্র মেয়ে নিরা কায়সারের বিয়ে।

যেমন তেমন ভাবে তো আর মেয়ের বিয়ে দেবেন না হাফিজ কায়সার। বিয়েটা চৌধুরী বাড়িতেই হচ্ছে। কারণ নাজিয়ে চৌধুরীর খুব ইচ্ছা যে তার একমাত্র ছেলের বিয়ে এখান থেকেই হবে।

যদি ও মেয়ের বাড়িতেই বরযাত্রী যায়। কিন্তু এখানে বিষয়টা সম্পূর্ণ উল্টো। কন্যযাত্রী এসে উপস্থিত হয়েছে চৌধুরী বাড়িতে।
,,,,,,,,,,,,,,,,,

কদিন ধরে শরীর খা’রা’প আরুহির। জ্বর, বমি, মাথা ঘোরা সব মিলিয়ে শরীরটা ও বেশ ভেঙ্গে পড়েছে। খাবার তো মুখেই তুলতে পারছে না। খেলেই বমি করে সব বের হয়ে যাচ্ছে।

তার ওপর হোস্টেলে আছে। শরীর খা’রা’প হলেও দেখার কেও নেই। কিন্তু হঠাৎ করেই এমন হওয়াটা কেনো জানি আরুহির ঠিক মনে হচ্ছে না।

তাই সে বেশি দেরি না করে নিধি কে দিয়ে দুটো প্রে’গ’ন্যা’ন্সি কিট অনিয়ে রাখে টেস্ট করার জন্য। নিধি হলো আরুহির খুব ভালো বন্ধু। আরুহি সব কথাই নিধির সাথে শেয়ার করে।

নিধির আনা দুটো প্রে’গ’ন্যা’ন্সি কিট নিয়ে আরুহি ওয়াশরুমে চলে যায় টেস্ট করার জন্য। প্রথম বার টেস্ট করাই পজেটিভ আসে।

আরুহি একটু ঘাবড়ে যায়। তার যেনো বিশ্বাসই হচ্ছে না। তাই সে দ্বিতীয় বার টেস্ট করে এবার ও পজেটিভ আসে। এবার যেনো আরুহি নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না।

খুশিতে তার চোখ দিয়ে টুপ টাপ করে পানি পড়ছে। কিন্তু সে তো জানে না যে তার এই খুশি হয়তো বেশিক্ষণ থাকবে না। তার এই খুশি সাময়িক।

আরুহি ওয়াশরুম থেকে বের হয়েই নিধি কে জড়িয়ে ধরে আর কান্না করে বলতে লাগে,

আরুহি:- নিধি আমি, আমি তো বিশ্বাসী করতে পারছি না যে আমি মা হবো। আমার ভেতর একটা ছোট্ট প্রাণ বেড়ে উঠছে।

নিধি, আরুহি কে ছেড়ে দিয়ে হেসে হেসে বলে,

নিধি:- কি সত্যি। এক রাতেই বাবু পে’টে, বাহ্।

আরুহি:- দুর, এভাবে কেনো বলছিস। (লাজুক হেসে)

নিধি:- দেখো মেয়ের লজ্জায় গাল লাল হয়ে গিয়েছে। আচ্ছা বাদ দে। নীলাধ্র ভাইয়াকে খবর টা দিবি না। আর তোর ভাইয়া মানে রিহান ভাইয়াকে ও বল। বিয়ের কথাটা তো বললি না।

আরুহি:- তুই তো জানিস আমি কি চা’পে’র মধ্যে ছিলাম। তাই তো বলা হয়ে উঠেনি। আমি ভাবছি ভাইয়া কি রিয়েক্ট করবে। যদি রা’গ করে।

নিধি:- আরে রা’গ কেনো করবে। তুই নীলাধ্র ভাইয়াকে বলে একসাথে দুইজন মিলে রিহান ভাইয়ার সামনে যাবি। সব কিছু রিহান ভাইয়াকে খুলে বললে ভাইয়া ঠিক বুঝবেন।

আরুহি:- হুম দাড়া। নীলাধ্র ভাইয়া কে কল করি।

নিধি:- এখনো বর কে ভাইয়া বলেই ডাকবি। তাহলে বাবু বাবা কে কি বলবে, মামা।

বলেই নিধি হেসে দেই। আরুহি ওকে একটা চি’ম’টি কে’টে বলে,

আরুহি:- এই তুই চুপ করবি, মুখ ফসকে বের হয়ে গিয়েছে। আগে তো ভাইয়া বলেই ডাকতাম।

নিধি:- আচ্ছা তুই কল কর আগে।

আরুহি:- হুম।

আরুহি, নীলাধ্র কে ফোন করে তবে নীলাধ্র তার ফোন রিসিভ করে না। তাই আরুহি আবার কল দেয়, কিন্তু এবার ও নীলাধ্র রিসিভ করে না। এইভাবে প্রায় ২০ বার কল দেয় তাও নীলাধ্র কল রিসিভ করেনা।

কল হচ্ছে তবে কেউ ওঠাছে না। সেই রাতের পর থেকে নীলাধ্র আর তার সাথে ঠিক ভাবে কথা বলছে না। সাথে ভার্সিটিতে আসাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নিরা কেও আরুহি ভার্সিটিতে আসতে দেখেনি।

আরুহি:- ফোন কেনো তুলছে না। (চিন্তিত গলায়)

নিধি:- হয়তো ব্যস্ত আছে। কয়দিন ধরেই আমি দেখছি নীলাধ্র ভাইয়া ঠিক মতো ভার্সিটিতে আসছে না।

আরুহি:- হুম তাই হবে।

তখনই আরুহির ফোনটা বেজে উঠে।

নিধি:- হয়তো নীলাধ্র ভাইয়া কল ব্যাক করেছেন,দেখ।

আরুহি:- না ভাইয়া কল করেছে। দাড়া দেখি ভাইয়া আবার কি বলছে।

বলেই আরুহি কল রিসিভ করে।

রিহান:- আরু তুই কি হোস্টেলে?

আরুহি:- হ্যাঁ ভাইয়া। কেনো কিছু কি হয়েছে।

রিহান:- হ্যাঁ রে বড় আব্বু ফোন করেছিলেন, যেতে বললেন। অনুষ্ঠান আছে বাড়িতে তাই। তুই কি আধা ঘন্টার মধ্যে রেডি হতে পারবি। আমি ততক্ষণে চলে আসবো তোর ভাবিমা কে নিয়ে।

আরুহি:- আচ্ছা আমি রেডি হচ্ছি তোমরা তাড়াতাড়ি এসো।

আরুহি কল কে’টে দেয়। নিধি কৌতূহলী ভাবে আরুহির দিকে তাকিয়ে আছে। নিধি জিজ্ঞাসা করে,

নিধি:- কি বলল ভাইয়া??

আরুহি:- ভাইয়া বলল রেডি হতে। ঐ বাড়িতে নাকি কি অনুষ্ঠান আছে।

নিধি:- এই জন্যই হয়তো নীলাধ্র ভাইয়া ফোন তুলছেন না। যা তাহলে তারাতারি রেডি হয়ে নি।

আরুহি:- হুম।
,,,,,,,,,,,,,,,,,

গাড়ি থেকে মেনেই আরুহির চোখ পড়ে বাড়ির গেটে। চৌধুরী বাড়ির গেটে বড় করে ঝোলানো আছে, নীলাধ্র চৌধুরী আর নিরা কায়সার এর শুভু বিবাহ। যেটা দেখে আরুহির বুকটা ধ’ক করে উঠে।

তার ভাই রিহান চৌধুরী আর ভাবী ফারাহ চৌধুরীর সাথে বড় চাচার বাড়িতে এসেছে সে। আরুহির পা যেনো স্থির হয়ে গিয়েছে। সে যেনো হাঁটার শক্তি পাচ্ছে না লেখাটা দেখে। রিহান আরুহি কে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে,

রিহান:- কি হলো আরু দাঁড়িয়ে গেলি যে। ভেতরে চল।

আরুহি যেনো নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না। আরুহি কাঁপা কাঁপা কন্ঠে তার ভাইকে জিজ্ঞাসা করে,

আরুহি:- ভাইয়া আজকে কার বিয়ে! এইভাবে বাড়ি সাজানো যে।

রিহান:- লেখায় তো আছে আরু। আজকে তোর নীলাধ্র ভাইয়ের বিয়ে।

রিহানের কথা শুনে আরুহির ডান হাতটা আপনাআপনি তার পে’টে’র ওপর চলে যায়। যখন থেকে সে জানতে পেরেছে যে তার ভিতর একটা ছোট্ট প্রাণ বেড়ে উঠছে, তার আর নীলাধ্র র ভালোবাসার ফল আসতে চলেছে তখন থেকেই সে এই বাচ্চাকে ফিল করতে পারছে।

যদিও সে এখন একটা ভ্রূণ। তবুও আরুহি তার সাথে একটা কানেকশন ফিল করতে পারছে। রিহানের ডাকে আরুহি বাস্তবে ফেরে। আরুহি চোখ গুলো ছল ছল করছে। আরুহি কে দেখে রিহান বলে,

রিহান:- কি হলো আরু তোর চোখ ছল ছল কেনো করছে?

আরুহি:- না না ভাইয়া কিছু না। জ্বর জ্বর লাগছে তো তাই।

রিহান:- কি জ্বর জ্বর লাগছে। আগে কেনো বলিস নি। আর আমি তো এতক্ষণ খেয়ালই করি নি। তোর চোখ মুখ এমন শুকনো কেনো লাগছে। শরীর কি বেশি খা’রা’প নাকি? শরীর বেশি খা’রা’প লাগলে চল তোকে বাড়িতে নিয়ে যায়। হোস্টেলে আর যাওয়া লাগবে না। কয়দিন বাড়িতে থেকে সুস্থ হয়ে তারপর আবার আসিস।

আরুহি:- আরে না না ভাইয়া তুমি চলো ভেতরে চলো। দাওয়াতে যখন এসেছি এটেন্ড করেই না হয় বাড়ি যাবো। চলো ভেতরে যায়।

ফারাহ:- হ্যাঁ আরু ঠিকই বলেছে। এতো গুলো টাকা খরচ করে এত দূর থেকে এলাম। ভেতরে চলো বিয়ের কাজ শুরু হলো বলে।

রিহান:- ঠিক আছে চলো।

বলেই রিহান আর ফারাহ আগে আগে যেতে লাগে আর আরুহি বু’কে পাথর চা’পা দিয়ে এক পা এক পা করে এগোতে থাকে।

আরুহি:- এটা কিভাবে করতে পারেন আপনি নীলাধ্র। আপনি না আমাকে বিয়ে করেছিলেন। আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসতে চলেছে আর আপনি আরেকটা বিয়ে করছেন। কেনো এমন করলেন। না না আমি ভেঙ্গে পড়বো না। আজকেই আমি সব সত্যি বলব সবার সামনে। আমি জানি হয়তো আপনি বড় আম্মু চা’পে পড়ে বিয়েতে মত দিয়েছেন। (মনে মনে)

আরুহি নিজের মনকে এইসব বলে শান্তনা দিচ্ছে। আরুহি এবার তার হাঁটার বেগ বাড়ায়। রিহান আর ফারাহ তার আগেই ভেতরে চলে গিয়েছে। কাজী সাহেব কেবল বিয়ে পড়াতে শুরু করেছেন।

নীলাধ্র কে বেশ খুশি খুশি লাগছে। বার বার নিরার দিকে তাকাচ্ছে যা আরুহির চোখ এড়ায়নি। নীলাধ্র কবুল বলতেই যাবে এমন সময় আরুহি বলে উঠে,

আরুহি:- আপনি এই বিয়ে করতে পারেন না নীলাধ্র। আপনি বিবাহিত হয়ে কিভাবে আরেকটা বিয়ে করতে পারেন। আর সবচেয়ে বড় কথা আপনি আমার সন্তানের বাবা হতে চলেছেন।

আরুহির কথা শুনে সবাই তার দিকে তাকাই সাথে নীলাধ্র ও তাকাই। আরুহি কে দেখে নীলাধ্র অবাক হইনি মোটেও। কারণ সে জানতো তার বাবা আরুহি দের তার বিয়েতে আসতে বলবে।

আর তাছাড়াও সেও চাইছিল যে আরুহি যেনো তার বিয়েতে আসুক। তাকে করা অ’প’মা’নে’র শো’ধ তুলতেই তো সে আরুহির সাথে ভালোবাসার অভিনয় করেছিল। শুধু একটা ভুল বোঝাবুঝির জন্য এই মেয়েকে বিয়ে করতে হয়েছিল তাকে।

সেটার ও কোনো প্রমাণ কারোর কাছে নেই। যারা বিয়ে দিয়েছিল তাদের দেখা দূরদূরান্ত পর্যন্ত ও পাওয়া যাবে না। তাই নীলাধ্র বেশ নিশ্চিন্ত। এমনিতেও আরুহির কথা কেউই বিশ্বাস করবে না। তার বাবা মা তো তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে।

নীলাধ্র, আরুহির কাছে আসে আর তাকে খুব জোরে একটা চ’ড় মা’রে। আরুহি তো বেশ অবাক হয়ে যায়।

নীলাধ্র:- কি রে চলে এসেছিস ছোট লোকের মতো। তোকে না সেইদিন কলে বলেছিলাম আমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা ও করবি না। তাও নির্লজ্জের মতো চলে এসেছিস।

আরুহি হতভম্ব নয়নে তাকিয়ে আছে নীলাধ্র র দিকে। সে যেনো বিশ্বাসই করতে পারছে না যে নীলাধ্র তার গায়ে হাত তুলেছে। তার সাথে এমন খা’রা’প আচরণ করছে।

আরুহি:- আপনি.. আপনি এমন কেনো করছেন। আমি জানি আপনি বাধ্য হয়েই এই বিয়েটা করছেন তাই না।

নীলাধ্র:- এই মেয়ে তোর কি কানে কোনো কথা যায় না। আমি তোকে আমার থেকে দূরে থাকতে বলেছি।

আরুহি:- আপনি তো সেইদিন একটু রে’গে:ই এমন কথা বলেছেন আমি জানি। আপনি ঐদিন ওইসব কথা মন থেকে বলেন নি। আপনি কেনো ফোন তুলছিলেন না!!

নীলাধ্র:- এই মেয়ে তোর কি কানে কথা যাচ্ছে না। তুই কেনো এসেছিস আবার হ্যাঁ কেনো।

আরুহি, নীলাধ্র র একটু কাছে যায় আর একটু হেসে বলে,

আরুহি:- আপনি বাবা হতে যাচ্ছেন নীলাধ্র। একটা ছোট্ট প্রাণ আপনার আর আমার মাঝে আসতে চলেছে। আপনি খুশি না। আমি তো অনেক খুশি।

আরুহি কে স্বাভাবিক লাগছে না নীলাধ্র র। কারণ এমন একটা সময় ও আরুহি নিজের মতো কথা বলেই যাচ্ছে আর তাও হেসে হেসে। আরুহির এই হাসি যেনো নীলাধ্র র সহ্য হচ্ছে না তাই সে আরুহি কে আবার আরেকটা চ’ ড় মা’রে।

ফ্ল্যাশব্যাক এন্ড…

নাজিয়া চৌধুরী, আদনান চৌধুরীর কাছে যান আর বলেন,

__:- তোমাকে পোই পোই করে বলেছিলাম যে এদের মতো ছোট লোকদের বিয়েতে ডেকো না। কিন্তু না কে শোনে কার কথা। মৃ’ত ভাইয়ের ছেলে মেয়েদের ওপর উনার দরদ উতলে পড়ছে।

__:- নাজিয়া চুপ করো। এটা কি ধরনের কথা তোমার। ওদেরকে তুমি ছোট লোক কেনো বলছ।

__:- ছোট লোক বলব না তো কি বলব। নির্লজ্জ মেয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে এই আশাই যে ওকে আমরা মেনে নেবো। কার সাথে কি করে এসেছে আর দো’ষ চা’পা’চ্ছে আমার নির্দোষ ছেলের ওপর। নিজের চ’রি’ত্রে’র তো কোনো ঠিক নেই এই মেয়ের। ন’ষ্টা মেয়ে কোথাকার।

মুখ বাঁকিয়ে আদনান চৌধুরী কে কথা গুলো বলেন নাজিয়া চৌধুরী।

রিহান, আরুহি আর ফারাহ, নাজিয়া চৌধুরীর সব কথাই শুনতে পাই। নাজিয়া চৌধুরীর কথা শুনে তাদের তিনজনের চোখেই পানি তে টলমল করছে। রিহান নিজের জীবনে আগে এতটা অ’প’মা’নি’তো হয়নি যতটা আজ নিজের আদরের ছোট বোনের জন্য হচ্ছে।

রিহান দেরি না করেই আরুহির হাত ধরে টা’ন’তে টা’ন’তে নিয়ে যেতে লাগে। আরুহি ছাড়া পাওয়ার জন্য হাত মো’চ’ড়া’মু’চ’ড়ি করছে।

আরুহি:- ভাইয়া আমাকে ছাড়ো। আমাকে নীলাধ্র র কাছে যেতে দাও। আমি জানতে চাই কেনো উনি সত্যিটা সবার সামনে বলছেন না। আমাকে প্লিজ ছেড়ে দাও ভাইয়া।

রিহান এবার দাঁড়িয়ে যায় আর পেছনে ফিরে আরুহির হাত ছেড়ে দিয়ে আবারো আরুহির গালে সজোরে একটা থা’প্প’ড় মা’রে। আরুহি তাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নিলেই ফারাহ ওকে ধরে ফেলে। তার ঠোঁ’ট কে’টে ঠোঁ’টে’র কোণ থেকে র’ক্ত বের হতে থাকে। ফর্সা গালে পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ ফুটে উঠেছে।

রিহান:- আর কত অ’প’মা’নি’ত হতে হবে তোর জন্য আর কত বল। তোর কি লজ্জা করছে না এত গুলো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অ’প’মা’নি’ত হতে। আমার তো লজ্জায় ম’রে যেতে ইচ্ছে করছে। হ্যাঁ রে তুই এতটা নির্লজ্জ কবে হলি আরু। আমি কি তোকে কখনো কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দিয়েছি। তাহলে কেনো আজকে সবার সামনে তুই আমার মাথাটা হে’ট করলি।

আরুহি:- ভাইয়া আমাকে ছাড়ো। আমি নীলাধ্র র কাছে যাবো। তুমি বিশ্বাস করো ভাইয়া আমি সত্যি কথা বলছি। আমার আর নীলাধ্র র বিয়ে হয়ে গিয়েছে।

আরুহি হঠাৎ করে কেমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তার ভাই যে তাকে এত কথা বলছে সে যেনো তা আমলেই নিচ্ছে না। সে নিজের মতো করে কথা বলেই যাচ্ছে।

রিহান বুঝতে পারছে যে কেনো আরুহি এমন ব্যবহার করছে। কেনো সে এত হাইপার হয়ে যাচ্ছে। রিহান, ফারাহ কে কিছু একটা ইশারা করে। এরপর ফারাহ নিজের ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করে আরুহি কে খাইয়ে দেই।

সাথে সাথেই আরুহি নিস্তেজ হয়ে যায়। আসলে আরুহির যখন ৩ বছর তখন তাদের বাবা মা একটা কার এক্সিডেন্ট মা’রা যায়। রিহানের তখন ১৫ বছর বয়স ছিল। আরুহি আর রিহান ও সেই গাড়িতে ছিল।

তবে তারা পেছনের সিটে থাকায় তাদের তেমন ক্ষ’তি হয়নি। কিন্তু এই ঘটনা আরুহির চোখের সামনে হওয়ায় সে খুব ভয় পেয়ে যায় আর অজ্ঞান হয়ে যায়।

এক্সিডেন্ট টা একটা নির্জন জায়গায় হওয়ায় ঐখানে গাড়ির যাতায়াত ও কম ছিলো। রিহান অনেক ক’ষ্টে গাড়ি থেকে বের হয়। সে আরুহি কে ও গাড়ি থেকে অনেক ক’ ষ্টে বের করে।

এরপর সে উল্টে যাওয়া গাড়ি টাকে সোজা করার চেষ্টা করে তবে পারে না। তার একার পক্ষে গাড়িটাকে সোজা করা এত সহজ না।

তাই সে গাড়ির জানালা দিয়ে তার বাবা মাকে ডাকতে থাকে। কিন্তু তার বাবা মা কেউই সাড়া দিচ্ছিল না। কিছুক্ষণ ডাকার পর তার মায়ের থেকে সে সাড়া পাই।

তার মা নাইরা চৌধুরী অনেক ক’ষ্টে ছেলেকে বলেন,

__:- বাবা আমাদের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। তুই তোর বোনটার খেয়াল রাখিস। ওকে কখনো ক’ষ্ট দিস না। তুই তো বাবা মা পেয়েছিস কিন্তু ও তো কিছুই পেলো না। ওকে নিজের সন্তানের মতো করে আগলে রাখিস।

বলেই নাইরা চৌধুরী সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আবির চৌধুরী গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময়ই মাথায় আ’ঘা’ত পেয়ে তখনই মা’রা গিয়েছেন।

ঐ এক্সিডেন্ট এর পর থেকেই ছোট খাটো বিষয়ে খুব হাইপার হয়ে যায় আরুহি, যার ফলে সে নিজেকে ক’ন্ট্রো’লে রাখতে পারে না। তখন সে একরকম পা’গ’লা’মি শুরু করে দেই।

অনেক ডাক্তার দেখানো হয় কিন্তু তার এই রো’গ দিনকে দিন বেড়েই যায়। রিহান আর ফারাহ তো রীতিমত হিমসিম খাই তাকে সামলাতে গিয়ে।

মেডিসিন নিলে কিছুক্ষণের জন্য সে নিস্তেজ হয়ে যায়। তারপর যখন আবার জ্ঞান ফেরে তখন আবার সে হাইপার হয়ে যায়।

রিহান:- ফারাহ, তারাতারি চলো এখান থেকে। ওর জ্ঞান ফিরে এলে আবার হাইপার হয়ে যাবে। ওকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

ফারাহ:- হুম তাড়াতাড়ি চলো।

বলেই রিহান আর ফারাহ, আরুহি কে নিয়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। রিহান বের হয়ে একটা সিএনজি দেখে আরুহি কে হসপিটালে নিয়ে যায়।

চলবে…..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Most Voted
Newest Oldest
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x