লেখিকা:অলকানন্দা ঐন্দ্রি
পর্ব:০৩
“ মিথি? তুই রেডি তো এবরশন করাতে? তোর অনাগত সন্তানের অস্তিত্ব নিঃশেষ করার অনুভূতি কেমন হবে মিথি? কষ্ট হবে তোর? ”
আদ্রর বিচ্ছিরি ভঙ্গিতে বলা কথাটায় মিথির মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠে যেন। অথচ সন্তানটা আদ্ররও। মিথির ভেতর বেড়ে উঠা অংশটা তার নিজের, আদ্রর। আদ্র কতোটা নিষ্ঠুর! কতোটা কাপুরুষ!মিথি শুনে। শরীরটা ক্লান্ত লাগছে তার। এমন বোধ হচ্ছে যেন তার শরীর সে সামলাতেই পারবে না। কাঁপছে বোধহয় দুর্বলতায়। মিথি গাড়ির জানালা দিয়ে চেয়ে দেখল ব্যস্ত শহরের ব্যস্ত দৃশ্য। আদ্র খুব স্পিডেই ড্রাইভ করছে। স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত গতিতে। মিথি চাইল। মুখে বিদ্ঘুটে হাসি নিয়ে ড্রাইভ করতে থাকা আদ্রকে দেখে উত্তর করল ছোটশ্বাস ফেলে,
“ আদ্র, একটা ছোট্ট ভ্রূণকে এত ভয় আপনার? কিসের এত রাগ তার প্রতি? কিসের এত তাড়া ওকে শেষ করার? কিসের এত ভয় আদ্র? ”
আদ্র পাশ ফিরে চাইল দ্রুতই। চাহনি ক্ষ্রিপ্ত। এতোটাই তীক্ষ্ণ যে মিথিকে সে মেরে ফেলবে এমন ভঙ্গি।রাগে হাঁসফাঁস করতে করতে সে দ্রুতই গাড়িটা ব্রেক কষল। এতোটাই আকস্মিক এই ঘটনাটা ঘটল যে মিথি তাল সামলাতে পারল না। মাথাটা ঝুঁকে গেল সামনের দিকে। কপালের কাছটায় আবারও আঘাত লাগল গাড়ির সাথে। আদ্র শাঁসাল। একহাতে মিথির চোয়াল চেপে ধরে আরেক হাতেন আঙ্গুল উঁচিয়ে শাসানোর ন্যায় শুধাল,
“ তোকে ইচ্ছে করছে আমার কি জানিস মিথি? লা’থি মেরে গাড়ি থেকে বের করে দিতে। তোকে আমার স্রেফ মেরে ফেলতে ইচ্ছে হচ্ছে মিথি! ঐটুকু ভ্রুণকে আমি ভয় পাব? আমি? আমি আদ্র মিথি। চৌধুরী বাড়ির একমাত্র ছেলে আদ্র, যে কাউকে ভয় পায় না। ”
কতোটা গর্ভ করে বলছে আদ্র নিজের পরিচয়টা। কতোটা দম্ভ! মিথি এই দম্ভবটা দেখল স্থির চোখে। একটা সুদর্শন পুরুষ মানুষ আদ্র। দেখতে কি ভীষণ সুদর্শন। অথচ তার স্ত্রী প্র্যাগন্যান্ট হওয়াতে সে মেনে নিতে পারছে না। তার নিজেরই সন্তান পৃথিবীতে জম্মাক সে চাইছে না। তার নিজেরই বাচ্চাকে সে দুনিয়ায় আসার আগেই এবরশন করিয়ে মে’রে ফেলতে চাইছে। তার নিজের স্ত্রী সন্তানসম্ভাবা জেনেও সে স্ত্রীর গায়ে হাত তুলেছে, এই মাঝরাত্রিতে গাড়ি থেকে লা’থি মে’রে বের করে দেওয়ার কথা বলছে। এমন ভদ্র পুরুষের দম্ভ করা মানায়? লজ্জা হয়না একবারও? একবারও ঘৃণা হয়না নিজের প্রতি? মিথির তো হচ্ছে। এমন কাপুরুষের দিকে মিথির তাকাতেও ইচ্ছে হলো না। ঘৃণা হলো, কেবলই ঘৃণা! ঘৃণায় তার ভেতর থেকে বমি উগড়ে আসবে যেন। আদ্রর শক্তপোক্ত শরীরের শক্তির সাথে মিথির পারার কথা নয়। তার উপর এখন ক্লান্ত সে, দুর্বলতায় শরীর এলিয়ে আসছে কেমন। চোয়াল চেপে ধরায় ব্যাথা হচ্ছে। অথচ প্রতিক্রিয়া দেখাল না ও। ওভাবেই তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল,
“ আমি জানি না, জম্মের আগে ফুফাও আপনাকে এবরশন করিয়ে দুনিয়া থেকে আপনার অস্তিত্ব মুঁছে ফেলার কথা ভেবেছিল কিনা আদ্র। তবে দুনিয়াতে এনেও খুব মহান কাজ করেনি তারা। আপনি, আপনি একটা অমানুষ আদ্র। আপনার নিজের পরিচয় নিয়ে এতোটা গর্ব করা মানায় না। ”
আদ্র ক্ষেপে গেল। এবারে চোয়ালটা এতোটাই শক্ত করে চেপে ধরল যেন ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে যাবে মুখ। ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে মেয়েটা। আদ্র রাগে হিসহিস করে শুধাল,
“ কি বললি? তোর খুব সাহস বেড়েছে তাই না মিথি? অনেক বেশি? তুই জানিস ও না আমি তোর কি পরিণতি করতে পারি! ”
এইটুকু বলেই মুখ ছাড়ল। মিথি তখন জোরে জোরে শ্বাস ফেলে কেবল। শ্বাস নিয়ে শুধাল,
“ মেরে ফেলবেন তাই তো? আপনার মতো জা’নো’য়ারের পাশে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো আদ্র। ”
আদ্র চোখ রাঙ্গাল। রক্তলালাভ চক্ষু নিয়ে চাইল মিথির দিকে। এই মেয়েটাকে সে মারতে পারবে না, নয়তো কত আগেই মেরে ফেলত সে এই মেয়েকে। নানার বংশের একমাত্র মেয়ে, তার আম্মুর আদরের মেয়ে। তাই তো এই মেয়েকে মারার সাহস হয় না তার, নয়তো সে সত্যিই এই মেয়েকে এই মুহুর্তে মে’রে দিত। আদ্র রক্তলালাভ চক্ষু নিয়ে তাকিয়েই হিসহিস করে বলে,
“ মিথি, ওয়ার্ন করছি। বারবার ওয়ার্ন করছি। তোকে আমি রাগের বশে মেরে ফেলতেও দুবার ভাবব না। ”
“ নিষেধ করল কে? প্লিজ মারুন! ”
“ আগে তো ভয়ে ভীতু হয়ে থাকতি। ভাবখানা এমন ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারিস না। এখন প্রাণের ভয়ও হচ্ছে না তোর? ”
মিথি হাসল। বলল,
“ একটা ছোট্ট প্রাণ যেখানে আমার মধ্যে অনিশ্চায়তা নিয়ে বেড়ে উঠছে সেখানে নিজের প্রাণের মায়ার গুরুত্ব দিই কি করে আদ্র? জানেন তো আদ্র, মা মা অনুভূতিটা মেয়েদের খুব প্রিয় হয়! খুব!”
আদ্র এই পর্যায়ে গাড়িতেই ঘুষি বসাল অতিরিক্তি রাগে। শুধাল,
“ লেইম কথাবার্তা। তোর এই টিপিক্যাল মেয়েদের মতো মা- মা অনুভূতি নিয়ে পড়ে থাকাটাকে আমি সহ্য করতে পারছি না মিথি। না তোকে সহ্য করতে পারছি, আর না তো ঐ বাচ্চাটাকে সহ্য করতে পারছি । ”
“ তাহলে আমায় ছেড়ে দিন। আমি সত্যিই আপনার সন্তানকে জম্ম দিব না। আমার,আমার সন্তানকে জম্ম দিব। সে একান্তই আমার হবে আদ্র। ”
এইটুকু বলেই শেষ চেষ্টা স্বরূপ যখন গাড়ির দরজা খোলার চেষ্টা করল লাভ হলো না। খুলল না। আদ্র তা দেখে হেসেই শুধাল,
“ লকড! পারবি না তুই মিথি। এতোটাও বোকা আমি নই যে তোকে এত সহজেই ছেড়ে দিব মিথি।তুই জানিসও না তোর জীবনটা কতোটা দুর্ভোগে কাঁটবে। ”
“ কিসের এত রাগ আদ্র? যেতে দিন না..”
আদ্র ক্ষ্রিপ্ত, জেদি, রাগী।গর্জন করে উঠা সিংহের ন্যায় ও হঠাৎই বলে উঠল,
“ তুই চালাকি করে কনসিভ করেছিস এটাই রাগ। তুই বেবি নিয়েছিস এটাই রাগ। তুই আমার সন্তান গর্ভে ধারণ করে আমারই সামনে বসে আছিস এটাই রাগ। সবটা স্বাভাবিক ছিল, আমি গুঁছিয়ে আনছিলাম সবটা। তুই এরমধ্যে সব এলোমেলো করে দিয়েছিস মিথি। অনেক বড় ক্ষতি করতে যাচ্ছিলি তুই আমার।এটাই রাগ! ”
এইটুকু বলেই গাড়ি পুণরায় ড্রাইভ করল আদ্র। মিথি শুধু চেয়ে আছে। কি বড় ক্ষতি করতে যাচ্ছিল ও? কি এলোমেলো করেছে? কিই বা গুঁছিয়ে আনছিল? আদ্র শেষবারে গাড়ি চালিয়ে থামাল একটা হসপিটালের সামনে। বড়বড় অক্ষরে উপরে নাম লেখা আছে হসপিটালটার। পরপরই ভয় চেপে ধরল হৃদয়ে। সে কি হেরে গেল? সত্যিই হেরে যাবে? বাচ্চাটাকে সে মুঁছে ফেলতে দিবে? আদ্র মুঁছে ফেলবে এইটুকু প্রাণটাকে?মিথি তাকাল আদ্রর দিকে। ঘৃণায় চোখমুখ লাল হয়ে উঠছে তার।একজন বাবা কি করে পারে এমন করতে? এতোটা পি’শাচ হতে কি করে পারে? আদ্রর মাঝে কি একটুও মায়াদয়া অবশিষ্ট নেই? মিথি দ্রুত বলল ছোটশ্বাস ফেলে,
“ এবরশন আমি করাব না আদ্র।শেষবার বলছি, যেতে দিন। যেতে দিন আমায়। ”
“ তোকে বিশ্বাস করছি না আপাতত মিথি। কি গ্যারান্টি আছে যে তুই আম্মু আব্বুকে কিছু বলবি না? ”
আদ্র মানবে না জেনেও মিথি তবুও বলল,
“ গ্যারান্টি এটাই আমি আমার ভেতরে বেড়ে উঠা প্রাণটাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি। তাকে আজীবন বাঁচিয়ে রাখতে হলেও আমি কাউকে কিচ্ছু বলব না আদ্র। আমি জানি, আপনি কতোটা নির্দয়। আপনি কি করতে পারেন তাও জানি। বিশ্বাস করুন আমায়। ”
আদ্র বিশ্বাস করল না।অনেকটা জোরজবরদস্তি করে গাড়িটা পার্কিং এরিয়ায় রেখে মিথিকে নিয়ে প্রবেশ করল হসপিটালে। অতঃপর নির্দিষ্ট দিকে পা বাড়িয়ে নিজেরই পরিচিত ফ্রেন্ড ডক্টর ফাজরিনের কাছে গেল। মিথিকে অনেকটা শক্তি দিয়েই হাত চেপে ধরে রেখে ফাজরিনকে সর্বপ্রথম শুধাল,
“ শি ইজ প্র্যাগন্যান্ট ফাজরি….”
ফাজরিন বাকিটুকু শোনার আগেই মিথিকে দেখে নিয়ে দ্রুত বলল,
“ এই অবস্থা কেন ওর? মুখেচোখে এত আঘাত কেন আদ্র? ”
আদ্র ফাজরিনের উপরেও রাগল। রুষ্ট স্বরে বলল,
“ তোকে তো এসব দেখতে বলিনি। যা করতে বলেছি তাই কর। ওর দিকে নজর না দিয়ে তাই কর। ”
“ রুডলি বিহ্যাব করছিস আদ্র। তুই কি ওকে মেরেছিস আদ্র? উত্তর দে। ”
আদ্র ক্ষ্রিপ্ত ভঙ্গিতে চাইল। বলল,
“ তুই ডক্টর। ডক্টরের মতোই কাজ কর। এর বেশি না। ওকে? ”
ফাজরিন রাগে নাক ফুলাল বোধহয়। আদ্র ওর কলেজ লাইফের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু ওর সাথে এভাবে কথা বলার রাইট ওর নেই নিশ্চয়? এইটুকু মনে মনে রাগ পুষেই ও মিথিকে নিয়ে গেল। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করাল। মিথির ততক্ষনে চিন্তায়, ভয়ে, অস্থিরতায় শরীর কাঁপছিল। চোখ ঝাপসা ঠেকছিল। তবুও বারবার ও ডক্টর ফাজরিনকে কেবল একটাই কথা বলল,
“ আমি এবরশন করাব না ডক্টর, প্লিজ। আমি এবরশন করাব না। ”
এতোটাই ভয় চেপে ধরেছিল যে আল্ট্রাসোনোগ্রাপিকেও মিথি এবরশনই ধরে নিয়েছিল বোধহয়। অস্থিরতা দেখাচ্ছিল। অবাধ্য হচ্ছিল। একপর্যায়ে ফাজরিন ধমকাল। এর অনেকটা সময় পর ফাজরিন আদ্রর কাছে এল। একটা রিপোর্ট দেখিয়ে বলল,
“ সে সাত সপ্তাহের প্র্যাগনেন্ট আদ্র। তুই তার সাথে এমন অমানুষের মতো বিহ্যাবিয়ার করেছিস? নেশা করেছিলি রাতে? এমনটা কি করে করতে পারলি তুই?”
“ ঐ জা’নো’য়ারটা বলেছে আমি ওর সাথে কি করেছি? ওই বলেছে তাই না? ওর সাহস এতটা? ”
“ ও বলেনি। আমি বুঝতে পেরেছি। তোকে দেখেছি কলেজ লাইফে কতোটা উগ্র ছিলি।”
আদ্র ফাজরিনের দিকে অসন্তুষ্ট চোখে চাইল। বড্ড ভাব মাখিয়ে ফাজরিনকে শুধাল,
“ আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু কিপ দ্যা বেবি ফাজরিন। এবরশন করানোর জন্য নিয়ে এসেছি তোর কাছে। ফোনে বলেছিলাম না তোকে? আমার হাতে সময় নেই বেশি। দ্রুত এবরশন করা। ”
ফাজরিন কপাল কুঁচকে বলল,
“এই অবস্থায়? ওর শরীর দুর্বল অনেক আদ্র। ”
আদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ তো ? সমস্যা কি? এখনই এবরশন করাবি। আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে আবার ওকে নিয়ে। ফার্স্ট ফাজরিন। ঐ বাচ্চাটা আমি চাই না। ”
ফাজরিন চেয়ে রইল কিভাবে। একটা পুরুষের মধ্যে কতটুকু মনুষত্বের অভাব ঘটলে এমনটা বলতে পারে? কতোটা কাপুরুষ আদ্র! বলল,
“ সিরিয়াসলি? ”
আদ্র রাগী ভঙ্গিতে বলল,
“ স্টপ, জ্ঞান দিবি না ফাজরিন। তোর জ্ঞান শুনতে বসে নেই আমি। জাস্ট এবরশন করাতে এসেছি। তুই করাবি কিনা বল নয়তো আমি নিজেই অন্য কোথাও গিয়ে করাব। ”
এটুকু বলেই আদ্র মিথির কাছে গেল হুড়মুড় করে। হাতে তখনও রিপোর্টটা। মিথির মুখে ক্লান্তি, ভয় যা দেখে আদ্র শান্তি পেল। অদ্ভুত এক পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে।আদ্র খুব উল্লাস করে আল্ট্রাসোনোগ্রাফির পাতাটা দেখল। তার নিজের সন্তানের অস্তিত্ব, অথচ আদ্রর চোখেমুখে পৈশাচিক হাসি। একটুপর সে এই অস্তিত্বটা চিরতরে মুঁছে দিবে। একটুপরই সব শেষ। এমনটা ভেবেই পৈশাচিক হেসে সে মিথির দিকে চাইল। ব্যঙ্গ স্বরে বলল,
“ বলেছিলি না তোর গর্ভের বাচ্চাটা রাখবি তুই? আমার সন্তান জম্ম দেওয়ার বহু শখ না মিথি তোর? খুব তো বলেছিল, এবরশন করাবি না? ফাইনালি কি হলো মিথি? তোকে হসপিটালে আসতে হলো তো মিথি সোনা। হেরে গেলি তুই।সো স্যাড, তোর তো আমার বাচ্চার মা হওয়া হলো না মিথি। ”
মিথির চোখ ভিজে আসে। শরীর ক্লান্ত লাগে। ব্যাথায় শরীর টনটন করে। চোখজোড়াও নিভু নিভু। জুড়ে আসে যেন। তবুও আদ্রর দিকে চেয়ে হুট করেই হাসল সে। আদ্র সুদর্শন, সুন্দর। দেখতেই কি সুন্দর সুপুরুষ লাগে। অথচ একটা পুরুষ সুন্দর হলেই যে মানুষটা আসলেই সুন্দর হয় এই ধারণা মিথ্যে। মিথি তা প্রমাণ পাচ্ছে বিয়ের রাত থেকেই। এই যে, মিথি সন্তানসম্ভাবা নারী এবং তার স্বামী এই বাচ্চাটা চায় না। এবরশন করাতে জোরজবরদস্তি করে এই মাঝরাতে হসপিটালে নিয়ে এসেছে, গর্ব করে নিজের সন্তান শেষ করার খবর দিচ্ছে এইটুকু ভেবেই মিথি তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসল। বিধাতা তার ভাগ্যটা এমন ভাবে না সাঁজালেও পারত। কেন এমন করল বিধাতা? কেন তার ভাগ্যে এই কাপুরুষটাই জুটল?মিথি ঠোঁট এলিয়ে বলল,
“ নিজেরই অংশ, নিজেরই সন্তানকে নিয়ে আপনার এত ষড়যন্ত্র আদ্র? একটা ভ্রূনের অস্তিত্ব মুঁছতে আপনি উঠে পড়ে উম্মাদ হয়েছেন এমন? এবরশন নামক পৈশাচিক শব্দটা সাত সপ্তাহের ছোট্ট প্রাণটার উপর ছাপিয়ে দিচ্ছেন তো? দোয়া করি কখনো শুধু এরজন্য আপনি আপসোস না করুন আদ্র। ”
“ আপসোস করার প্রশ্নই উঠে না আমার। ”
.
অতিরিক্ত দুর্বলতায় আর ক্লান্তিতে মিথি জ্ঞান হারিয়েছে । অতঃপর যখন জ্ঞান ফিরল তখনই অজানা ভয়ে, আতংকে ও কেঁদে ফেলল। সর্বপ্রথম নিজের পেটের উপর হাত রেখে হাউমাউ করে কেঁদে বলতে লাগল,
“ ওরা মেরে ফেলেছে আমার বাচ্চাকে? মেরে ফেলেছে? আমার প্রথম অনুভূতি…”
চলবে…..
[ বড় পর্ব! কেমন হয়েছে জানাবেন সবাই দয়া করে, ভুল ত্রুটি গুলো তুলে ধরুন। ]