বাংলা ছোট গল্প
লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
★★★ দাদা ভাই তোমাকে মাম্ম খেতে ডাকছে,,
– জি মামুনি আমি আসছি
৬৩ বছর বয়স হবে এক কালের সুদর্শন সুঠাম দেহি যুবক সেই সুন্দর্য এখন বয়স এর ভারে কেমন নিতিয়ে গেছে শরীর এর চামড়া গুলো কুচকে গেছে এক নামে সবাই চিনে “””আহনাফ অয়ন চৌধুরী,,,
এখন সময়টা বিকেল বেলা আসর নামাজ পড়ে অয়ন চৌধুরী একটা কবর এর সামনে বসে আছে দেখে মনে হচ্ছে সে নিজের ঘরে বসে বসে তার স্ত্রী এর সঙ্গে কথা বলছে
– দাদা ভাই আজকে তোমার থেকে দাদু মনির গল্প শুনবো কেমন চিলো সে, যে তোমার মত একজন সুদর্শন মানুষকে এই ভাবে গায়েল করেছে,,
তেরো বছর এর আনাহিতা, আর আসিয়ান তার দুই নাতি নাতনি
– আমিও শুনবো,, আসিয়ান বললো,,
আসিয়ান এর বয়স পনেরো কি ষলো হবে
– হুম বলবো ,,
কবর এর উপর থেকে লতা পাতা গুলো পরিষ্কার করতে করতে বললো,,
একটা কবর এমন ভাবে সাজানো দেখে বুজার উপায় নেই এইটা কবর পুরো কবর যেন ডেইজি ফুলের বাগান,,
কবর এর মধ্যে গুটি গুটি অক্ষরে লেখা
মৃত: নুর নাহার শ্রাবণী
স্বামী : আহনাফ অয়ন চৌধুরী
তারিখ: ২৩.৬.২০৪৩
– এখন বলো তোমাদের গল্প “”আসিয়ান বললো “”
অয়ন চৌধুরী একটা ছবি হাতে নিয়ে বললো
– তার আগমন ছিলো আমার জিবনে বৃষ্টি ন্যাই যা রহমত হয়ে আমার কাছে এসেছে যা ছোয়া ছিলো আমার জন্য বইদো
– দাদু মনিতো কালো ছিলো আর তুমি কত সুন্দর ছিলে তাহলে কিভাবে এত ভালোবাসো? “””আনাহিতা বললো””
– আরে মামুনি তুমি ছোট তুমি বুঝবেনা সত্যিকারের ভালোবাসা কি,,
– কে বলেছে বুজবোনা,,
– আনাহিতা চুপ কর দাদা ভাইকে বলতে দে “”আসিয়ান বলল,,
– মানুষ এর রঙ রুপ দিয়ে কিছু হয়না দেখ আমি আগে কত সুদর্শন ছিলাম এখন কি সে রুপ যোবন আমার আছে? নেই তো, একটু থেমে আবার বলতে লাগলো মানুষের রুপ চিরস্থায়ী নয় মানুষ এর মন যত সুন্দর মানুষ ততটাই সুন্দর,,
আসিয়ান ছেলেটার কি হলো কে যানে সে তার দাদা ভাই এর হাত থেকে ফটোটা নিয়ে সে মুগ্ধ নয়নে দেখতে লাগলো সে সতেরো বছর এর যুবতি শ্যামকন্যাকে ফটোতে গর্বভতি দেখাচ্ছে এইটা আসিয়ান এর বাবা পেটে থাকতে ছবিটা তোলা হয়েছে,,
– দেখ দাদু মনি তুমি কত ভাগ্যবান দাদা ভাই এখনো তোমাকে কত ভালোবাসে আমি যানিনা আগে কতটুকু ভালোবাসতো আমার বুঝ হয়েছে যেই দিন থেকে সেই দিন থেকে দেখি তোমার প্রতি দাদা ভাইয়ের প্রখর ভালোবাসা।
– যানো তোমরা আমি কিন্তু তোমার দাদু মনির প্রথম ভালোবাসা ছিলাম না কিন্তু সে আমার প্রথম ভালোবাসা ছিলো
,,আসিয়ান ভ্রু কুচকে তাকিয়ে তার দাদা ভাই এর উদ্দেশ্য বলল,,,
– কি বলো দাদা ভাই এইটা সত্যি নাকি?
আনাহিতার দৃষ্টি ও তার দাদা ভাই এর দিকে গেলো
– হুম সত্যি তার প্রথম ভালোবাসার মানুষ এর নাম রিফাত ছেলেটাকে অনেক ভালোবাসতো কিন্তু যেইদিন তোমার দাদু মনিকে বোরকা পরিহিত দেখি নেকাপ এর আড়ালে মুখ না দেখা গেরেও আমি কিন্তু তার অভিমানি চোখ দুটো দেকেছিলাম।
তোমাদের বাবার জর্ন্মের পর থেকে আস্তে আস্তে সেও আমাকে ভালোবাসতে শুরু করল।
– তার পর কি হলো,, আনাহিতা বললো,,
– আমি তোমার দাদু মনির বাবার সাথে কথা বলে তোমার দাদু মনিকে বিয়ে করে নিয়েছি,,
,,, আচ্ছা একটা কথা দাদা ভাই তুমি দাদু মনিকে ডেইজি কেন ডাকো?
,,,আনাহিতা বললো,,,
– কারন সে ছিলো ডেইজি ফুলের মত শুভ্র নির্মল কমল যা আমার অত্যাধিক প্রিয় ছিলো,,,
,,তাদের গল্পের মাঝে মাগরিব এর আজান পড়ে গেলো,,
“”আজকে সকাল থেকেই আকাশটা কেমন নিস্তব্ধ হয়ে আছে যে কনো সময় কাল বৈশাখি ঝড় উঠতে পারে ”
খনিকের মধ্যেই ঝড় নিজের শক্তি দেখাতে লাগলো,,
অয়ন চৌধুরী জানালা দিয়ে তার স্ত্রীর কবরের প্রানে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরছে,,
ঝড়ের তান্ডবে কবরের উপরের ফুল গাছ গুলো আর নিজের অবস্থায় নেই,,
– আমি জানি ডেইজি ঝড়ের সময় তোমার একা থাকতে খুব ভয় করে আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমাকে একা রাখার জন্য ওরা আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দিচ্ছে না।
আর না অয়ন চৌধুরী আর থাকতে পারছেনা স্ত্রীকে একা রেখে তিনি একদোড়ে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো
– বাবা তুমি অসুস্থ পাগলামি করোনা প্লিয,, অয়ন চৌধুরীর একমাএ ছেলে আনান চৌধুরী সুবহান,,
সে বাবার উদ্দেশ্য বলল,,,,
অয়ন চৌধুরী কবর টাকে হেফাজত করার চেষ্টা করছে কিন্তু নিষ্টুর ঝড়ের তান্ডব থামার কনো নাম নেই,,
বাবার পিছু পিছু আনান ও ছলে এসেছে,, সে কান্না করছে বাবার এহেন কাহিনি দেখে কিন্তু কিছু করার নেই বাবাযে তার কথা শুনবেনা,,,,
অনেক্ষন পরে ঝড় থামলো বৃদ্ধ অয়ন চৌধুরী আর আনান বিজে একাকার হয়ে গেছে,,
অয়ন চৌধুরী কবরটাকে পরিষ্কার করতে করতে অস্পষ্ট স্বরে বলতে লাগলো,,,
– সন্তুষ্ট আমি তোমার প্রতি, আল্লাহ তুমি আমার ডেইজিকে কষ্ট দিওনা।ওকে তুমি জান্নাতুল ফেরদৌস দান করিও। জান্নাতে আমার অপেক্ষাই থেকো। তোমার স্বামী তোমার উপর সন্তুষ্ট শুনছো আমি সন্তুষ্ট।
আবার সুন্দর করে তিনি কবরটাকে পরিষ্কার করে ফুল গাছ গুলোকে সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়েছে।
চলবে,, আমি আগে কখনো অনুগল্প লিখিনি এই প্রথম লিখলাম কেমন হয়েছে বলবেন আর ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ,,