গল্প:রাগে অনুরাগে(০২)
লেখিকা-জান্নাতুল ফারিয়া প্রত্যাশা
পর্ব:০২
এক হাতে শাড়ি নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রইল তনিমা। এ তো মহা ঝামেলা। রাতে তো সে প্লাজু আর লং টি শার্ট পড়ে ঘুমিয়েছিলো এখন তো আর সে এসব পরে বাইরে যেতে পারবে না। আর শাড়িটাই বা এখন পরবে কি করে? সে তো শাড়িও পরতে পারেনা। হালকা গোলাপি রঙের একটা জামদানী শাড়ি। শাড়িটা হাতে নিয়েই দরজাটা খোলে বাইরের দিকে একটু উঁকি দেয় তনিমা। উদ্দেশ্য বাইরে কাউকে দেখলে হেল্প চাইবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাইরে কাউকেই সে দেখতে পাচ্ছে না। সবাই হয়তো নিচে। হতাশ মনে দরজাটা আটকে দিয়ে আবারও রুমের আয়নার সামনে দাঁড়ালো সে। কি করা যায় ভাবতে ভাবতে হঠাৎই তার মনে পড়ল ইউটিউবের কথা।খুশিতে তনিমার চোখ মুখ চকচক করে উঠল। ইউটিউব যেখানে আছে সেখানে এত প্যারা কিসের। তনিমা আর দেরি না করে ইউটিউবে শাড়ি পরার টিওটোরিয়াল গুলো দেখতে লাগলো। এক পর্যায়ে সে পেরেও গেলো। আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই চমকে উঠলো। এত সুন্দর করে সে শাড়ি পরেছে। তনিমা তখন খুশি খুশি মনে নিজেকে নিজে বাহবা দিতে দিতে বললো,’বাহ! তনু তু তো লাজাবাব হে। একবার দেখেই কি সুন্দর শাড়ি পরে নিলি। ইউ আর বেস্ট তনু,ইউ আর বেস্ট।’
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তনিমার কথা শুনেই হেসে ফেললো ফায়াজ। ফায়াজের হাসির শব্দে তনিমা পেছন ফেরে কপাল কুঁচকে তার দিকে তাকালো। তারপর কোমরে হাত দিয়ে রাগি গলায় বললো,
‘কি সমস্যা দাঁত কেলাচ্ছিস কেনো?’
ফায়াজ হাসতে হাসতে তনিমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো,
‘না আসলে এই প্রথম দেখলাম কেউ নিজেকেই নিজে এইভাবে বেস্ট বলতে বলতে যে শহীদ হয়ে যাচ্ছে। আহারে তোকে বুঝি অন্য কেউ বেস্ট বলে না? অবশ্য তুই বেস্ট হলেই না অন্য কেউ তোকে বেস্ট বলতো।’
কথাটা বলে আবারও আরেক দফা হাসে ফায়াজ। তনিমা কিছু বলতে গিয়েও বললো না। এই মুহূর্তে এই অসভ্য ছেলেটার সাথে সে কোনরূপ তর্কে জড়াতে চায় না। এমনিতেই অনেক লেইট হয়ে গিয়েছে। তাই তনিমা ফায়াজের কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে ড্রেসিংটেবিলের সামনে গিয়ে চুল আছড়াতে লাগলো। তনিমার কোনরূপ রিয়েকশন না দেখে ফায়াজ ডান দিকের ব্রু টা খানিকটা উঁচিয়ে তনিমার দিকে তাকালো। আয়ানার স্বচ্ছ কাঁচে তনিমার এক মিষ্টি অবয়ব ফুটে উঠেছে। হালকা গোলাপি রঙের শাড়িটা বেশ মানিয়েছে তার উজ্জ্বল ফর্সা গায়ে। তনিমার ধুতনির উপর কালো কুচকুচে ছোট একটা তিল আছে। আর ফায়াজের কাছে এই তিলটা কেবল একটা তিল না পুরো একটা নেশার খোরাক। মেয়েটা যখন হাসে তার থুতনির তিলটা তখন আরো বেশি জ্বলজ্বল করে উঠে। ফায়াজের অসভ্য মনটা তখন ছটফট করতে থাকে ভয়ানক কিছু করে ফেলার জন্য।আজও তার এমন কিছুই করতে ইচ্ছে করছে। মারাত্মক কোনো ভুল করতে ইচ্ছে করছে। চুল আচ্ছড়ানো অবস্থাতেই তনিমা খেয়াল করলো ফায়াজ কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। ফায়াজের গভীর চোখে তনিমার চোখ আটকে গেলো। সবেই গোসল করে এসেছে,ফায়াজ। চুল থেকে এখনো টপটপ করে পানি পড়ছে তার। উন্মুক্ত বুকে আধ ভেজা পশম গুলো লেপ্টে আছে। তনিমা এই প্রথম ফায়াজকে খালি শরীরে দেখছে। ফায়াজের বুকের পশম গুলো তনিমাকে খুব বেশি আকৃষ্ট করছে। হঠাৎই দরজা নকের শব্দে দুজনেরই ঘোর কাটে। তনিমা এতক্ষণ হ্যাংলার মতো ফায়াজের দিকে তাকিয়ে ছিলো,ভাবতেই তার লজ্জা লাগছে। ফায়াজ গিয়ে দরজা খুললো। দরজা খুলতেই ফিহা তীক্ষ্ণ গলায় বলে উঠল,
‘শেষ পর্যন্ত আল্লাহ রহম করেছে তাহলে তোদের উপর।’
ফায়াজ ব্রু কুঁচকে বললো,
‘মানে?’
‘মানে এই যে এতক্ষণ পর তোদের দরজা খোলার প্রয়োজন পড়ল। মনে তো হয়েছিলো আজ আর দরজাই খুলবি না।বাপরে বাপ,কি মরার মতো ঘুমায় রে বাবা,বাইরের মানুষ চিল্লাতে চিল্লাতে মরে গেলেও এদের হুশ ফিরবে না। দুজনেই সেইম। যাকগে এখন সামনে থেকে সর আমি রুমে যাবো।’
ফিহা রুমে ঢুকতে নিলেই ফায়াজ তার কান মুচড়ে ধরে।তারপর তিক্ত কন্ঠে বলে,
‘আগে এতক্ষণ যে ফালতু কথা গুলো বলেছিস সেই গুলোর জন্য একটু মার খেয়েনে তারপর রুমে আসিস।’
ফিহা এবার চেচিয়ে উঠে বললো,
‘ভাবি গো..তোমার জামাই আমাকে মেরে ফেলছে। ও ভাবি কই তুমি বাঁচাও আমায়।’
ফিহার চিৎকারে তনিমা দৌঁড়ে দরজার কাছে আসে।তনিমাকে দেখা মাত্রই ফিহা ন্যাকা কান্না জুড়ে দিয়ে বললো,
‘ও ভাবি বাঁচাও আমাকে। দেখো তোমার জামাই আমার কান ছিড়ে ফেলছে। কিছু বলো..!’
তনিমা রাগি গলায় ফায়াজকে বললো,
‘ঐ তুই কি শুরু করলি? ফিহুর কান ছাড় বলছি। মেয়েটা ব্যাথা পাচ্ছে তো।’
‘পাক ব্যাথা। মেয়েটা ভীষণ ফাজিল হয়ে গিয়েছে। কি বলে জানিস,বলে কিনা আমরা মরার মতো ঘুমাই। কত বড় কথা!’
‘ভুল কি বলেছে? আমরা দুজনেই তো ঘুমে গাঁধা। একবার ঘুমালে শেষ আর কোনো খবরই থাকে না। এক্ষেত্রে তো ওর বলা কথা একদমই ঠিক।’
ফায়াজ কপাল কুঁচকে বললো,
‘বাহ! খুব ভালোই তো ননদকে সাপোর্ট করছিস!’
ফিহা তার কান থেকে ফায়াজের হাতটা সরিয়ে তনিমার পাশে গিয়ে তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো,তারপর মিষ্টি হেসে বললো,
‘উম্মা ভাবি,আই লাভ ইউ।’
তনিমাও মিষ্টি হেসে বললো,
‘আই লাভ ইউ টু,ফিহু সোনা।’
ওদের দুজনের এমন ভালোবাসা দেখে ফায়াজ ক্ষেপে গিয়ে তাদের ভেঙ্গিয়ে বললো,
‘হু,সারাদিন খালি আলাবু,আলাবু। ঢং দেখলে বাঁচি না।’
ফায়াজের মুখ ভেঙ্গানো দেখে দুজনেই ফিক করে হেসে দেয়।ওদের হাসি দেখে ফায়াজও হেসে ফেলে।
হাসি থামিয়ে ফিহা বললো,
‘এই ভাবি এবার নিচে চলো তো। কবে থেকে সবাই তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।’
‘হ্যাঁ,হ্যাঁ চল।’
এইবলে তনিমা ফায়াজের দিকে তাকিয়ে বললো,
‘এই তুই তৈরি হয়ে আয়, আমরা নিচে যাচ্ছি।’
‘ঠিক আছে।’
সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ফিহা তনিমাকে বললো,
‘এই ভাবি তোমরা দুজন এখনও এক জন অন্য জনকে তুই করেই বলো?’
তনিমা হুট করেই মনে পড়ল কাল রাতে ফায়াজ তো তাকে বাইরে কারোর সামনে তুই করে বলতে বারণ করেছে। তনিমা তখন বোকা বোকা হাসি দিয়ে বললো,
‘না না তুমি বলেছি তো,কাল রাতে তুমি করেই বলেছি।আসলে এত দিনের অভ্যেস তো তাই আরকি মুখ ফসকে তুই বলে ফেলি।’
‘ওহ আচ্ছা,তবে শুনো বড় জেঠী মার সামনে কিন্তু ভুলেও ভাইয়াকে তুই করে বলো না। উনি কিন্তু এইসব ব্যাপার খুব খেয়াল করেন। তাই একটু সাবধানে থেকো।’
তনিমা ব্রু কুঁচকে বললো,
‘ভয় দেখাচ্ছিস নাকি?’
‘আরে না ভয় কেন দেখাবো? আমি তো জাস্ট তোমাকে সাবধান করছি। আসলে জেঠী ভীষণ স্ট্রিক্ট তাই আরকি..’
‘আরে চাপ নিস না। আমি সব দিক সামলে নিতে পারবো।’
কথা বলতে বলতে দুজনেই নিচে নেমে গেলো। ড্রয়িং রুমের সকলে গোল গোল চোখে তনিমার দিকে তাকিয়ে আছে। এত এত মানুষের এমন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে তনিমা প্রথমে কিছুটা ঘাবড়ে যায়। পরক্ষণেই আবার নিজেকে সামলে নিয়ে দাঁত কেলিয়ে হেসে বলে,
‘আসসালামু আলাইকুম।’
উপস্থিত সকলে তনিমার সালামের জবাব দেয়। সালামের জবাব দেওয়া শেষ হতেই মধ্যবয়স্ক একজন মহিলা পান চিবুতে চিবুতে তনিমার সামনে এসে দাঁড়াল। তনিমার আপাদমস্তক একবার পরখ করে নিয়ে মহিলাটি চাপা গলায় বললো,
‘তা মা এত তাড়াতাড়ি উঠে গেলে যে,আরেকটু ঘুমাতে পারতে তো।’
তনিমা তখন অসহায় কন্ঠে বললো,
‘তাই না? হ্যাঁ আমারও মনে হচ্ছে আমি খুব তাড়াতাড়ি উঠে গিয়েছি। কিন্তু আম্মু না ফোন দিয়ে বকাবকি করছিলো,এত বেলা হয়েছে এখনো কেন পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছি। তাই আরকি এত তাড়াতাড়ি উঠতে হলো, না হলে তো আরো কিছুক্ষণ ঘুমাতাম।’
তনিমার কথা শেষ হতেই ফিহা তাকে চিমটি কেটে কিছু একটা ইশারা করে। কিন্তু তনিমা সেই ইশারা বুঝতে পারে না।তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাটি হঠাৎই চেচিয়ে উঠেন,
‘কই গো ফায়াজের মা,জলদি আসো। শুনো তোমার ছেলের বউ কি বলে? সকাল দশটায় ঘুম থেকে উঠে বলে সে নাকি তাড়াতাড়ি উঠে গিয়েছে। তার মা তাকে না ডাকলে সে নাকি আরো কিছুক্ষণ ঘুমাতো।’
বড় জা এর গলা ফাটা চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসে ফায়াজের মা,রিনা রহমান। শাড়ির আঁচল দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলে,
‘কি হয়েছে,ভাবি?’
‘কি হয়নি সেটা বলো? তোমার ছেলের বউ সকাল দশটায় ঘুম থেকে উঠে বলে তার নাকি আরো ঘুমানোর ইচ্ছে ছিলো।তার মার জন্য নাকি পারেনি। তা কোন রাজা বাদশার মেয়েকে তুলে নিয়ে এসেছো যে সকাল দশটার আগে তার ঘুমই ভাঙ্গে না।’
তনিমার রাগে শরীর রি রি করতে লাগলো। বেশ বড় মাপের ফাজিল মহিলা তো। উনিই তো তনিমাকে বললো আরেকটু ঘুমানোর কথা এখন নিজেই উল্টো পল্টি মারছে। তনিমার হঠাৎ মনে হলো উনিই কি ফায়াজের সেই স্ট্রিক্ট জেঠী মা যার কথা ফিহা বলছিলো?
ফায়াজের মা,মিসেস রিনা রহমান বেশ শান্ত গলায় বললেন,
‘আসলে ভাবি,প্রথম প্রথম তো তাই একটু লেইট করে ফেলেছে। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।’
রিনা রহমানের কথা শুনে শেফালি খাতুন তেতিয়ে উঠে বললেন,
‘শুনো,তোমাকে আগে থেকে সাবধান করে দিচ্ছি,ছেলের বউকে বেশি মাথায় তুলো না। নয়তো মাথায় উঠে বানরের মতো নাচবে। সব ব্যাপারে এত ছাড় দেওয়া ভালো না। প্রথম থেকেই আঁটসাঁট বেধে রাখা ভালো। পরে নয়তো বসে বসে কপাল চাপড়াতে হবে।’
কথাগুলো বলেই তিনি বড় বড় মা ফেলে নিজের রুমে চলে যান। তনিমার এই মুহূর্তে ইচ্ছে করছে এই মহিলাটাকে একদম ধুইয়ে দিতে। একেবারে ফাউল একটা মহিলা। মনে মনে রাগে ফুঁসতে থাকে সে। এইভাবে চুপ থাকার মেয়ে তনিমা নয়।তাকে কেউ কথা শুনিয়ে ছাড় পাইনি। নেহাৎ এটা তার শ্বশুর বাড়ি আর আজ বিয়ের পর প্রথম দিন তাই কোনোরকমে দাঁতে দাঁত চেপে সবটা সহ্য করে গিয়েছে নাহলে এখনি ঐ মহিলাকে সে নাকানি চুবানি খাইয়ে দিতো।
রিনা রহমান তার বউমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
‘মা,ভাবির কথায় কিছু মনে করিস না। উনি একটু এমনই। যা বলার সামনাসামনি বলে ফেলেন। এমনিতে খুব ভালো মানুষ।’
তনিমা হেসে বললো,
‘হ্যাঁ,মা উনি যে খুব ভালো মানুষ তা উনার কথার ধরনেই বুঝতে পেরেছি। যাকগে বাদ দাও সেসব। ওহ,একটা কাজ তো করাই হয়নি!’
কথাটা বলেই তনিমা নিচু হয়ে তার শ্বাশুড়ি মার পা ধরে সালাম করলো,তারপর মুচকি হেসে বললো,
‘মা,একটু দোয়া করে দাও তো যেনো আমি তোমার ভালো বউমা হয়ে উঠতে পারি।’
রিনা রহমান তনিমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন,
‘দোয়া করি মা,যেনো আমার ভালো মেয়ে হয়ে উঠতে পারিস।’
তনিমা মুচকি হেসে উঠে দাঁড়াল। রিনা খান তখন তার হাত দিয়ে তনিমার থুতনিটা আলতো করে ছুঁইয়ে আবার সেই হাতে চুমু খেয়ে বললেন,
‘আমার মেয়েটাকে তো আজ ভারি মিষ্টি লাগছে।’
তনিমা লজ্জাভরা হাসি দিল। রিনা রহমান তখন বললেন,
‘তা স্যার কোথায়? উনাকে দেখছি না যে?’
‘এইতো মা,এসে পড়েছি।’
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ফায়াজ কথাটা বললো।তনিমা পেছন ফেরে তাকালো। হালকা নীল রঙের একটা টি শার্ট পরা, ফায়াজের উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ গায়ের রঙের সাথে টি শার্টটা বেশ মানিয়েছে। তবে তনিমার কাছে মনে হয় এই মানুষটাকে সবকিছুতে একটু বেশিই মানায়। ফায়াজকে যখন কলেজ ফাংশনে প্রথম কালো পাঞ্জাবীতে দেখেছিল,তখনই প্রথম বারের মতো তনিমা ফিল করতে পেরেছিল যে সে ফায়াজের প্রতি দুর্বল। আর তারপর থেকে দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে তার সেই দুর্লবতাও বাড়তে থাকে।আর সেই দুর্বলতা গুলো একদিন চরম আকার ধারণ করে তার কানে ফিসফিস করে বলেছিল,’জানিস তনু,তুই না ফায়াজকে ভালোবেসে ফেলেছিস।’ নিজের ভাবনাই নিজেই তখন লজ্জায় কুঁকড়ে উঠেছিল। ইশ!সেকি ভয়ানক অনুভূতি। তবে সেই অনুভূতি গুলো আজও তার মনের ভেতর চাপা পড়ে আছে। ফায়াজকে কখনো কিছু বলা হয়নি। কিছু বলতে গেলেই বন্ধুত্ব নামক এক কঠিন আবরণ তাকে আষ্টে-পৃষ্টে জড়িয়ে ধরতো। মন বলতো,বেশি লাফাস না,যদি ফায়াজকে হারিয়ে ফেলিস। ফায়াজকে হারানোর কথা ভাবলেই ভয়ে মেয়েটা কেঁদে ফেলতো। ভীষণ ভালোবাসে যে সে তাকে। লুকিয়ে লুকিয়ে,সবার অগোচরে সে ফায়াজকে ভালোবাসে। আর ফায়াজও তাই। হয়তো কোনো একদিন পড়ন্ত বিকেলে ক্লান্ত সূর্যের ম্লান ছায়ায় তাদের অনুভূতির মিশ্রণ ঘটবে।সেদিন হয়তো আবার নতুন করে দুজন দুজনকে ভালোবাসবে। নতুন করে দুজনের মাঝে দুজন বিভোর হয়ে যাবে।তবে কবে আসবে সেই দিন..?কবে..
চলবে…….