গল্প:রহস্য ঘেরা বাড়ি(১)

লেখক:রাকিবুর রহমান আতিক
===🏠🏠💀💀🏠🏠===
রান্না ঘরে ডিম ভাজি করছিলাম। অফিস থেকে ফিরে অনেকটাই ক্লান্ত তাই অন্যকিছু রান্না না করে ডিম ভাজি করতে লেগেছিলাম। একা মানুষ এ দিয়েই রাত চলে যাবে। সকালে বাইরে কোথাও খেয়ে নেবো।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল- টুং টাং।।

যা বাবা এই অসময়ে কে এলো। চুলার আঁচ কমিয়ে গিয়ে দরজা খুললাম।
আরে শফিক ভাই যে? আসুন ঘরে আসুন।
শফিক ভাই ঘরের ভিতরে এসে বসলো। আমি তাকে বললাম- ভাই আপনি বসেন আমি চা নিয়ে আসছি।
তুমি চা বানাবে কেন? তোমার স্ত্রী কোথায়?

সে তো তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেছে। আপনি বসেন আমি চা নিয়ে আসি তারপর না হয় বসে গল্প করবো। এই বলে আমি বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। শফিক ভাই আমার হাতে ধরে বললেন- দাঁড়াও আতিক তোমার সাথে কথা আছে এখানে বসো।
শফিক ভাইয়ের কথায় আবার বসে পড়লাম।
শফিক ভাই বলতে শুরু করলেন – দেখো আতিক তুমি যে অবিবাহিত সেটা আমি জেনে গেছি। ঠিক আমি না তোমার ভাবি মানে আমার স্ত্রী প্রথমে বিষয়টি জেনেছেন।

মানে বুঝলাম না শফিক ভাই?
মানে টা তো খুবই সোজা তুমি আমাদের মিথ্যা বলেছো। তুমি বিবাহিত নও। তুমি যাকে তোমার স্ত্রী সাজিয়ে ঘরে নিয়ে এসেছিলে গতকাল তোমার ভাবি তাকে একবাড়িতে প্রবেশ করতে দেখে। পরে খোঁজ খবর নিয়ে দেখলো এটা তারই বাড়ি এবং তার প্রতিবেশিরা বলল যে সে বিবাহিত নয়। আমি মনে মনে বললাম- খাইছি ধরা। তারা তো সব কিছু জেনে গেলো। এখন কী করে বাঁচা যায়।
শফিক ভাইকে বললাম- ভাই আমার তো মিথ্যা বলা ছাড়া উপায় ছিল না। ব্যাচেলর বলে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না তাই মিতাকে আমার স্ত্রীর পরিচয়ে এখানে নিয়ে এসেছিলাম যাতে আপনারা আমাকে বাড়িটি ভাড়া দেন। প্লিজ ভাই আমাকে আপনাদের বাড়িতে থাকতে দেন আমি না হয় আর পাঁচশত টাকা বাড়িয়ে দিবো।
তুমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকতে পারবে না, বলতে বলতে রুমে প্রবেশ করলেন শফিক ভাইয়ের স্ত্রী।
ভাবি আমি এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে থাকবো কোথায়? আমাকে কিছুদিন সময় দেন। আমি একটি বাড়ি খুঁজি। বাড়ি খুঁজে পেলেই এখান থেকে চলে যাবো।

ভাবী রাগের স্বরে বললেন- কিছুদিন নয় আজ ২৫ তারিখ। এক তারিখ তুমি বাসা ভাড়া চুকিয়ে এখান থেকে বিদায় হবে। বাসা পাও অথবা না পাও তুমি এক তারিখ এখান থেকে যাবে এটাই ফাইনাল। এই বলেই ভাবী চলে গেলেন সেখান থেকে। ভাবীর পেছন পেছন শফিক ভাই ও রুম থেকে বের হয়ে গেলেন।
তারা চলে যাওয়ার পর আমি আবার রান্নাঘরে গেলাম। চুলার আঁচ কমিয়ে দিয়েছিলাম তারপরও ডিম পুড়ে গেছে। কী আর করার, বাড়ি থেকে বের হয়ে বাহিরে গিয়ে খেয়ে এলাম।
রাতে শুয়ে চিন্তা করতে লাগলাম কী করা যায়।
বাড়ি কোথায় পাওয়া যায়। ব্যাচেলর ম্যাচে থাকতে ও আমার ভালো লাগে না। কারণ সবার সাথে খাপ খাইয়ে উঠতে পারি না। কেউ সিগারেট খায় কেউ রাতে আড্ডা দেয়। আবার মাঝে মাঝে টাকা পয়সা ও চুরি হয়ে যায়। তাই চিন্তা করলাম বাসা ভাড়া নেবো। কিন্তু ব্যাচেলর বলে কেউ বাসা ভাড়া দিচ্ছিল না তাই মিতাকে স্ত্রী সাজিয়ে এখানে নিয়ে এসেছিলাম। ওহ মিতার পরিচয় তো আপনাদের দেয়া হয় নি। আচ্ছা শুরু থেকেই শুরু করি। আমি আতিকুর রহমান। ঢাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে হিসাবরক্ষক। মিতা আমার সহকর্মী। দুজনেই খুব ভালো বন্ধু। মিতা হয়তো আমার কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে একটু বেশি কিছু আশা করে। তবে আমি সে বিষয়ে এখনি ভাবতে চাইছি না। সবেমাত্র চাকরিতে যোগদান করলাম। আগে গ্রামের বাড়িতে একটি সুন্দর ঘর বানাবো। মায়ের চিকিৎসা করাবো। মা ভালো হওয়ার পর এগুলো নিয়ে ভাববো।
.
মিতাকে এখানে স্ত্রীর পরিচয়ে এনেছিলাম ঠিক। কিন্তু একটি অবিবাহিত মেয়েকে কয়দিন বা রাখা যায়। বাড়ি ভাড়া নেয়ার পর মিতা বাড়িতে মিথ্যা বলে পাঁচদিন এখানে থেকেছিলো। কথাছিলো মাঝে মাঝেমাঝেই সে এখানে আসবে এসে পাঁচ ছয়দিন থাকবে কিন্তু মাস না যেতেই সব ফাঁস হয়ে গেলো। এখন কোথায় বাড়ি খুঁজবো কী করবো কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। বাড়ির চিন্তা করতে করতেই আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।

চলবে_____

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x