গল্প:রিদ মায়ার প্রেমগাঁথা (০২)

লেখিকাঃরিক্তাইসলাম মায়া

পর্ব:০২


মায়া সুফিয়া খানের সঙ্গে আলাদা বাড়িতে থাকছে বিগত এক মাস হতে চলল। সেবার রিদ-এর সঙ্গে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে ফিরেই মায়া বেঁকে বসে আনুষ্ঠানিক বিয়ে করবে বলে। যদিও এটা মায়ার একা চাওয়া ছিল না, দুই পরিবারের যৌথ চাওয়ায় মায়া রিদ-এর কাছে আবদার করেছিল আনুষ্ঠানিক বিয়ের, কিন্তু রিদ এতে রাজি ছিল না। তাই মায়া রাগ দেখিয়ে সুফিয়া খানের সঙ্গে আলাদা বাড়িতে ওঠে। এতে রিদের অবশ্য আপত্তি ছিল না। বরং রিদের ধারণা ছিল, মায়ার মাথা থেকে আনুষ্ঠানিক বিয়ের ভূত সরে গেলেই তার কাছে পুনরায় ফিরে আসবে। কিন্তু দেখতে দেখতে একটি মাস পেরিয়ে গেল, অথচ মায়ার জেদ ছাড়ল না।

মূলত মায়া তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে সামঞ্জস্যতা করতে চাই। রিদের সঙ্গে মায়ার পরিবারের আজও কারও বনিবনা নেই। মায়া চায় অতীত ভুলে দুই পরিবারের মাঝে আন্তরিকতা সৃষ্টি হোক, কিন্তু রিদের জন্য তা আদৌও সম্ভব হচ্ছে না। সে বরাবরই জেদি, একগুঁয়ে মানুষ। সে যা ভাবে, তাই ঠিক—বাকি সব দেখার দরকার নেই তার। এক্ষেত্রে মায়ার ভাবনা অন্যরকম। মায়া রিদের মতো উদাসীন নয়। আর না সে বাপের বাড়ি, স্বামীর বাড়ির—কোনোটার একটা ছাড়তে পারবে। মায়ার দুই পরিবারকেই চাই। আর এজন্য মূলত মায়া রাগ দেখিয়ে সুফিয়া খানের সঙ্গে থাকছে।

কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছুই হলো না। সুফিয়া খানও যেকোনো সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর হতে পারে চিরতরে। সুফিয়া খান মূলত উনার পেশাগত ইস্তফা জমা দিতে এবং হাতে যে কেইসগুলো ছিল, সেগুলো মিমাংসা করার জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। মায়ার ধারণা ছিল, সুফিয়া খানের কাজ শেষ হওয়ার আগে আগে সেই সুযোগে রিদকে নিজেদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের জন্য মানিয়ে নিবে। কিন্তু সেটাও হলো না। আর কয়েক দিন বাদে সুফিয়া খান চট্টগ্রামে চলে গেলে মায়ার না চাইতেও রিদের বাড়িতে গিয়ে উঠতে হবে তখন রিদকে ওদের আনুষ্ঠানিক বিয়ে জন্য কোনো ভাবেই রাজি করানো যাবে না ওহ। অস্থির দিশাহীন মায়া কিভাবে রিদকে আনুষ্ঠানিক বিয়ের জন্য রাজি করাবে সেই ভেবে ঘরজুড়ে পায়চারি করতে লাগল অস্থিরতায়।

জুঁই বাংলাদেশে নেই। আয়নের সঙ্গে লন্ডনে আছে শ্বশুরবাড়িতে। কবে দেশে আসবে তারও ঠিক নেই। রাফাও আশুগঞ্জে আছে নিজের শ্বশুরবাড়িতে। এই অসময়ে মায়া কার কাছ থেকে সাহায্য চাইবে? আচ্ছা মায়া একবার রাদিফ ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলবে? রাদিফ তো এখন চট্টগ্রামে আছে বাবার দলে সঙ্গ দিচ্ছে। এখন কল দিলে নিশ্চয়ই মায়াকে ফিরাবে না রাদিফ। অস্থির উত্তেজিত মায়া হাতের ফোনটায় রাদিফকে কল করার আগে ভাবল রিদের সঙ্গে একবার কথা বলে নিবে। তাই মায়া প্রথমে রিদকে কল করল। আজ দুপুরে মায়া রিদের সঙ্গে ঐভাবে রাগারাগি করে চলে এসেছিল, এরপর আর দু’জনের কথা হয়নি। এখন রাত ৮:১৪। রিদ নিশ্চয়ই অফিসে আছে? মনস্তাত্ত্বিক ভাবনায় মায়া রিদের নাম্বারে কল মিলিয়েও তৎক্ষণাৎ কেটে দিল কী মনে করে। পুনরায় রাদিফের নাম্বারে কল মিলাতে প্রথমবারই কল রিসিভ করল রাদিফ। মায়া সালাম দিয়ে বলল—
‘ আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া। কোথায় আছেন আপনি?

মায়ার ব্যস্ত গলার স্বরে রাদিফ সালামের উত্তর দিয়ে বলল—

‘ এইতো ভাবি, পার্টি অফিসে আছি। কেন কোনো প্রয়োজন?

‘ হ্যাঁ
‘ কী?

মায়া হাঁসফাঁস করল রাদিফের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের ব্যাপারটা শেয়ার করতে। মায়াকে হঠাৎ চুপ করে যেতে দেখে রাদিফ মায়ার নিশ্চুপ থাকার কারণ বুঝে চট করে বলে উঠল—

‘ রিদ ভাই এখনো রাজি হয়নি ভাবি আপনাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের ব্যাপারে?

‘ না।

রিদ-মায়ার আনুষ্ঠানিক বিয়ের প্রস্তাবটা মায়ার পরিবার থেকে,আরিফ রেখেছিল প্রথমে। সেই প্রস্তাবে রিদের পরিবারের সকলেই সম্মতি প্রকাশ করে, এমনকি সুফিয়া খান নিজেও। কিন্তু রিদ রাজি না থাকায় এই বিষয়ে কেউ আর এগোতে পারেনি।
সেজন্য এই বিষয়ে মায়া সেদিন রাদিফের পরামর্শে রিদের বাড়ি ছেড়ে সুফিয়া খানের বাড়িতে উঠেছিল। তাদের ধারণা ছিল, মায়া রাগ দেখিয়ে সুফিয়া খানের সঙ্গে আলাদা বাড়িতে থাকলে তখন রিদ হয়তো এই বিয়েতে রাজি হয়ে যাবে। কিন্তু রিদ তো রাজি হলোই না, উল্টো মায়াকে জোর করেনি রিদের সঙ্গে ফিরে যেতে। এতে মায়া ভীষণ হতাশ। আর এই বিষয়টা রাদিফ আগে থেকেই অবগত ছিল। মায়ার হতাশা বুঝে রাদিফ ফের মায়াকে বুদ্ধি দিয়ে বলল—

‘ ভাবি, আমরা একটা ভয়ংকর কাজ করতে পারি। যদি আপনি ভয় না পান তো।

মায়া উৎসাহ দেখিয়ে বলল..
‘ কি কাজ?

‘ তেমন কিছু না। আপাতত আমরা রিদ ভাই-কে না জানিয়ে আমাদের দুই পরিবারের মাঝে আপনাদের বিয়ের অ্যানাউন্সমেন্ট করে দেই তাহলে কেমন হবে? জানি একটু ছেলেমানুষি আর একটু রিস্ক হয়ে যাবে কিন্তু তারপরও এটা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না ভাবি। আমাদের কার্য হাসিল করতে হলে ভাইকে না জানিয়ে সবাইকে বলতে হবে রিদ ভাই আপনাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের জন্য রাজি হয়েছে সেটা।

রাদিফের কথায় মায়া মিনমিন করে বলল..

‘ মিথ্যা বললে যদি আপনার ভাই রেগে যায় তো?

‘ ভাই রেগে গেলেও আমাদের কিছু করার নেই ভাবি। এতটুকু রিস্ক আমাদের নিতেই হবে, আর নয়তো আপনাদের আনুষ্ঠানিক বিয়েটা হবে না, রিদ ভাইয়ের সাথেও আপনার পরিবারের বনিবনা করাতে পারবেন না এটা না করলে।

রাদিফের কথায় মায়া খানিকটা সময় চুপ থেকে মেনে নিল। মায়া যখন দিশাহীন হয়, তখন ভুল পথেও পা বাড়ায়। সেখানে মায়া তো চতুর্থ বিয়ে করতে চাচ্ছে একই স্বামীকে। এটা অবশ্যই দোষের কিছু না আর না অপরাধ হবে। মায়া রাদিফের কথায় সম্মতি দিতেই রাদিফ উৎফুল্লতায় বলল—

‘ তাহলে ভাবি, আমি আমাদের পরিবারের সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছি রিদ ভাই আনুষ্ঠানিক বিয়ের জন্য রাজি হয়েছে সেটা, আপনিও আপনাদের পরিবারে বিষয়টা জানিয়ে দেন। কেমন?

‘ আচ্ছা।

‘ আরেকটা কথা ভাবি। আমি এখন আম্মুকে ফোন করে আপনাদের বিষয়টা জানালে আম্মু নিশ্চয়ই রিদ ভাইকে ফোন করে জানাবে বিষয়টা। আর রিদ ভাই যে মিথ্যা সহ্য করতে পারে না, সেটা আপনিও জানেন। সেজন্য আপনার নিরাপত্তার জন্য সবসময় আম্মুর সাথে সাথেই থাইকেন কেমন। তাহলে রিদ ভাই আম্মুকে ঠেঙিয়ে আপনাকে কিছু বলতেও পারবে না, আর না কিছু করতে পারবে বুঝেছেন?

‘ জি, আচ্ছা।

দেবর-ভাবি মিলে আরও কিছুক্ষণ পরামর্শ করল। দুজনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মায়া নিজের পরিবারে, আর রাদিফ খান পরিবারে রিদ-মায়ার আনুষ্ঠানিক বিয়ের ঘোষণা করে দিল। মায়া আরিফের বউ ফিহা-কে ফোন করে জানাল বিয়ের বিষয়টা, আর রাদিফ প্রথমে সুফিয়া খান, তারপর নিহাল খান, এরপর একে একে খান পরিবারের সকলকে রিদ-মায়ার আনুষ্ঠানিক বিয়ের ঘোষণা করতে দুই পরিবারের মাঝে হৈচৈ পড়ে গেল রিদ-মায়ার বিয়ে নিয়ে। কে কী করবে, সেটা নিয়েও আলোচনা বসে গেল সেইরাতে। অথচ রিদ তখনো অজ্ঞাত/জানত না তার বিয়ে খবরটা।

সুফিয়া খান প্রায় বারোটা নাগাদ রিদ-কে ফোন করে জানাল, তাদের আনুষ্ঠানিক বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে আগামী সপ্তাহে। আয়ন, জুঁই সামনের সপ্তাহেই লন্ডন থেকে পরিবার নিয়ে ফিরবে। সুফিয়া খানের কথায় রিদ তৎক্ষণাৎ উত্তর করতে পারল না। তার বিয়ের খবর সে জানে না। অথচ দুই পরিবারের মধ্যে আয়োজনের হৈচৈ পরে গেল তার অজান্তে। রিদ সুফিয়া খানের কল কাটতেই একে একে রিদের ফোনে কল আসতে লাগল নিহাল খান, হেনা খান, আরাফ খান, এবং রিদের ফুফিদেরসহ। রিদ কারও ফোন রিসিভ করল না। কারণ ততক্ষণে রিদের বুঝা হয়ে গেছে সকলেই তার বিয়ের আনন্দে বিমোহিত। কিন্তু রিদ এটা বুঝতে পারছে না তার সম্মতি বিহীন তার বিয়ের ডেট ফিক্সড করল কে? তার বউ?

রিদ সবে বাড়ি ফিরছিল সারাদিনের ক্লান্তি শেষে। সামনে ড্রাইভারের সাথে আসিফ বসে। রাত তখন বারোটার ঊর্ধ্বে। এমনিতে রিদের সচরাচর নয়টার ভেতর বাড়ি ফেরা হয়। আজ নতুন প্রজেক্টের কাজে তাদের এত দেরি। এর মাঝে রিদ নিজের বিয়ের খবর মায়ের কাছ থেকে পেয়েই রিদ হঠাৎ আসিফ-এর উদ্দেশ্যে বলল—

‘ আসিফ গাড়ি থামা।

রিদের হঠাৎ আদেশে মাঝরাস্তায় গাড়ি থামাল ড্রাইভার। আসিফ পিছন ফিরে রিদ-এর দিকে তাকিয়ে বলল—
‘ ভাই, কোনো সমস্যা?

রিদ গাড়ি থেকে বের হতে হতে বলল—
‘ ড্রাইভারকে নিয়ে বাড়ি যা। গাড়ি আমার লাগবে।

‘ ভাই, আপনার সিকিউরিটি…
‘ নো নিড।

আসিফ আরও কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়, পাছে যদি রিদ রেগে যায় তাই। রিদের কথা মতো আসিফ ড্রাইভারকে নিয়ে বেরিয়ে যেতে রিদ ড্রাইভার সিটে বসল। চোখের পলকে দক্ষ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে টানল সুফিয়া খানের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে। দীর্ঘ ত্রিশ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করে রিদ সুফিয়া খানের ফ্ল্যাটে পৌঁছাল। মধ্যরাতে কলিংবেল বাজাতে, সার্ভেন্ট দরজা খুলে দিতে রিদ সরাসরি গিয়ে পৌঁছাল মায়ের রুমে। যেন সে আগে থেকে অবগত ছিল মায়া সুফিয়া খানের সঙ্গে ঘুমাবে এই নিয়ে। হলোও তাই। সুফিয়া খানের ঘরের আটকানো দরজাটা ঠেলে রুমে প্রবেশ করতে আবছায়া আলোয় মায়াকে দেখতে পেল—সুফিয়া খানের পাশাপাশি বিছানায় শুয়ে, গায়ে কম্বল গলা অবধি টেনে রাখতে। গম্ভীর রিদ টু-শব্দটিও করল না। বরং এগিয়ে গিয়ে ঘুমন্ত মায়াকে কোলে তুলে বেরিয়ে যেতে সুফিয়া খানের ঘুম ভাঙল। তিনি মাথা তুলে দরজার দিকে তাকাতে রিদ মায়াকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখে তিনি পুনরায় বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে গেলেন।

রিদ ঘুমন্ত মায়াকে সামনের সিটে বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিয়ে সে ঘুরে গিয়ে বসল ড্রাইভার সিটে। দক্ষ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে মায়ার পাশের জানালার কাচ নামিয়ে দিতেই মায়ার মুখে সা সা বাতাস ঢুকে গেল মুহূর্তে। সেই বাতাসের তোপে একটা সময় মায়ার ঘুম ভেঙে গেল। ঝাপসা চোখ মেলে পাশে তাকাতে রিদ-কে ড্রাইভিং করতে দেখে মায়া নিস্ক্রিয় মস্তিষ্কে ঘুম জড়ানো গলায় বলল—

‘ আপনি অনেক সুন্দর, নেতা সাহেব।

মায়া তখনো ঘুমের রেশ কাটাতে পারেনি। রিদ ড্রাইভিং করতে করতে মায়ার সেই ঘুম জড়ানো মুখটার দিকে কপাল কুঁচকে তাকাতে মায়া ফের একই ভঙ্গিতে বলল—

‘ জামাই সুন্দর হলে নাকি বউকে পাত্তা দেয় না। সেজন্য আপনিও আমায় পাত্তা দেন না নেতা সাহেব। আমার কথাও শোনেন না। বলি আরেকটা বার বিয়ে করতে, তাও করেন না।

রিদ বুঝতে পারছে মায়া ঘুমের রেশ কাটাতে না পেয়ে তাকে এসব বলছে। তাই রিদও সেইভাবে ড্রাইভিং করতে করতে উত্তর দিয়ে বলল…

‘ তিনবার বিয়ে করেও তোমার কম মনে হচ্ছে?

‘ কম না, বিজোড় মনে হচ্ছে। আমার জোড়া বিয়ে পছন্দ….

কথাটা বলতে বলতে হঠাৎ গাড়ি রাস্তার গর্ত পার হতে গিয়ে ঝাঁকিয়ে উঠতে মায়ারও হুঁশ ফিরল গাড়ি সাথে দুলে সামনে ঝুঁকে পড়ে। মায়ার ঘুমের রেশ তক্ষুনি কেটে যেতেই তড়িঘড়ি করে উঠে বসল। অস্থির, উত্তেজিত মায়া নিজেকে গাড়িতে বসা পেয়ে বলল—

‘ এই, আমি এখানে কেন? আমি তো আম্মুর সাথে ঘুমিয়ে ছিলাম! এখানে কিভাবে আসলাম।

মায়া চিৎকার করে পাশে তাকাতে রিদ-কে দেখে ভয়ে লাফিয়ে উঠে বুকে থুথু ছিটিয়ে ফের বলল—

‘ আল্লাহ মাবুদ আপনি কি ভূত? যখন তখন ভয় দেখেন শুধু। আপনি এখানে কেন? আমাকে কোথায় পেয়েছেন আপনি?

‘ রাস্তায়।

‘ রাস্তায়? রাস্তায় পাবেন কীভাবে! আমি তো আম্মুর সাথে ঘুমিয়ে ছিলাম!

‘ তাহলে উড়ে এসেছো।

‘ মিথ্যা কথা উড়ে আসব কীভাবে?
‘ তাহলে হেঁটে এসেছো।
‘ আমিতো ঘুমিয়ে ছিলাম হাঁটব কীভাবে?
‘ তাহলে কোলে করে এসেছো বোধহয়।

‘ আপনি কোলে করে এনেছেন আম্মুর রুম থেকে তাই না? ছিঃ, কী লজ্জাজনক ব্যাপার! আম্মু কী ভাববেন? আমাকে এক্ষুনি দিয়ে আসুন। গাড়ি থামান বলছি। থামান!

রিদ ড্রাইভিং করতে করতে বিরক্তির চোখে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল…

‘ তোমার খায় আমি যে তোমার কথা শুনব?

রিদের কথায় মায়াও সেইভাবে উত্তর দিয়ে বলল…

‘ আমার না খান, আমার স্বামীর তো খান। আমার স্বামীর টাকা মানে আমার টাকা। এবার গাড়ি থামান বলছি। নয়তো চিৎকার করব কিন্তু।

মায়ার কথায় রিদ ভাবলেশহীন ভাবে বলল..
‘ ওকে।
‘ করব কিন্তু।

মায়া ফের হুমকি দিতেই রিদ হঠাৎ গাড়ি থামাতে মায়া খানিকটা সামনে ঝুঁকে পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নিল। রিদ নিজের সিটবেল্ট খুলে মায়ার দিকে এক হাত বাড়িয়ে ধীরেস্বরে ডাকল…

‘কাছে এসো।

মায়া সিটের সাথে সেঁটে বসে বলল…

‘না, আপনি মারবেন।
‘মারব না। আসো।

রিদের কথায় মায়া ভরসা পেয়ে সিটবেল্ট খুলতেই রিদ মায়ার এক পা ধরে হেঁচকা টেনে নিজের কোলে নিতে মায়া গাড়ির দরজার সাথে ঠেসে গিয়ে আহাজারি করে বলল —

‘এই আপনি আমার পা টানছেন কেন? আমার পা ছাড়ুন। পাপ হবে আমার। ছাড়ুন বলছি।

মায়া আহাজারি করে নিজের পা রিদ থেকে ছাড়াতে চেয়ে মোচড়ামুচড়ি করতে রিদ বিরক্তির চোখে মায়ার দিকে তাকাতে মায়া ভয়ে চুপ হয়ে গেল। মিনমিন করে বলল…

‘আপনি আমার স্বামী হোন। আর আপনি যদি আমার পায়ে হাত দেন, তাহলে আমার পাপ হবে। সেজন্য বলছি পা ছাড়তে।

রিদ মায়ার কথার তৎক্ষণাৎ উত্তর করল না। বরং গাড়ি ডেস্কের ডয়ার খুলে একটা বক্স বের করল। সেই বক্স থেকে সাদা টিস্যুতে মোড়ানো দু’টো সোনার পায়েল বের করে পরপর মায়ার দুই পায়ে পরাতে লাগল। আজ দুপুরেই রিদ লক্ষ করেছিল মায়ার খালি পা দুটো। সুফিয়া খানের দেওয়া সোনার দুটো পায়েল মায়ার পায়ে ছিল না, যেটা রিদের মোটেও ভালো লাগেনি। সেজন্য রিদ সেই দুপুরেই মায়ার জন্য দুটো সোনার পায়েল অর্ডার করে সঙ্গে রেখেছিল মায়াকে দিবে বলে। রিদ মায়ার দু-পায়ে দুটো পায়েল পরাতে পরাতে বলল…

‘বিয়ে শেষ! বাসর করাও শেষ। এরপরও আবার আমাকে নতুন করে কষ্ট দেওয়ার মানে কী, রিত? বউ ছাড়া রাতে ঘুম হয় না আমার। কবে বুঝবে তুমি আমাকে?

রিদের পায়েল পড়ানো শেষ হতেই মায়া চট করে নিজের পা দুটো নামিয়ে নিতে নিতে বলল…

‘ঐসব বিয়ে, বাসর সব ভুলে গেছি আমি। বলতে গেলে আমি এখনো ভার্জিন। তাই আমাকে আম্মুর কাছে দিয়ে আসুন। আপনার কষ্ট বুঝার সময় নাই আমার।

মায়ার কথায় রিদ কপাল কুঁচকে মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল…

‘তাই তুমি ভার্জিন? আসো দেখি তুমি কতটুকু ভার্জিন।

কথাটা বলতে বলতে রিদ দক্ষ হাতে মায়াকে টানতে মায়া চেঁচিয়ে উঠে বলল…

‘এই না প্লিজ। সামনে আমার বিয়ে, ছুঁবেন না প্লিজ। তাহলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।

রিদ মায়ার চিৎকার শোনল না। বরং মায়াকে সেইভাবেই নিজের কোলে চেপে গাড়ী টানল নিজের বাড়ির উদ্দেশ্য। মায়া হৈচৈ চিৎকারে রিদ নিজের মতো করে বলল…

‘আমার কলঙ্কিত বউ চলবে জান। কিন্তু রিদ খানের বউ ভার্জিন, সেটা চলবে না জান।

চলিত…..

Leave a Comment