
লেখিকা:রাহিচৌধুরী তোহা
পর্ব :৩
অনেক সাহস নিয়ে নরম স্বরে বলে„”শুভ ভাই…”
শুভ গভীর গলায় „“ হ্যাঁ…”
“একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?”
“হ্যাঁ, কর।”
রিক্তা একটু ভয়ভয়ে বলে„”আপনার কি হয়েছে? চোখ লাল কেনো? আপনি কি আপনার gf এর জন্য কাঁদছেন?”
Gf শব্দ টা উচ্চারণ করতে রিক্তার খুব কষ্ট হচ্ছিল কিন্তু তার তো জানতে হবে
শুভ কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়ে থাকে রিক্তার দিকে তার পর চোখে চোখ রেখে বলে „“ জিএফ মানে?”
রিক্তা নিচু স্বরে বলে „“ মানে… তার সাথে কি কোনো ঝামেলা হয়েছে? তার জন্য আপনি কি কেঁদেছেন?”
শুভ মৃদু হাসে রিক্তার কথায় „“ আরে না পিচ্চি!”
“তাহলে?”
“আমার কোনো জিএফ টিয়েফ নাই। আর চোখ লাল এমনি।”
শুভর মুখ থেকে জিএফ নেই কথাটা শুনে রিক্তা খুশিতে নাচতে ইচ্ছে করছে নিজের ইচ্ছেকে দাবিয়ে বলে„“ সত্যি?”
“হ্যাঁ, পিচ্চি।”
রিক্তা তৎক্ষণাৎ বলে„“আমাকে শিখান আপনার চোখ এমনিতেই লাল হয়ে আছে “
শুভ মনে মনে বলে „“ তা যদি বুঝতি পিচ্চি, তাহলে আর অভিমান করতি না!”
শুভ উঠে দাঁড়িয়ে বলে „“ তেমন কিছু না। তুই যা, ওরা তোকে খুঁজছে।”
রিক্তা আর কোনো কথা বলল না চুপচাপ বেড়িয়ে চলে যায় রিয়ার রুমের দিকে ।
নিচ থেকে সৈয়দ আহমেদের ডাক এলো „“ কি রে তোরা, কই? রিয়াকে নিয়ে আয়।”
মেয়েরা মিলে রিয়াকে নিয়ে নিচে আসে।
রিয়ার গায়ে হলুদ শাড়ি, মাথার উপর সোনালী রঙের জর্জেট ওড়না, ফুলের গহনা — অপূর্ব সুন্দর লাগছে।
রিয়ার মাথার উপর ওড়না ধরে রেখেছে সামনে রিক্তা আর শিখা।
পিছনে রিতু ও সুরাইয়া।
তারা নিচে নামে।
রিয়া সোয়েল আহমেদকে সালাম করতে গেলে, তিনি আটকে দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন।
“তোর জায়গা ওখানে না রে মা, তোর জায়গা আমার বুকে।”
এই বলেই তিনি কাঁদতে শুরু করেন।
রিয়াও কান্নায় ভেঙে পড়ে।
সৈয়দ আহমেদ ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বলেন „“ নিজেকে সামলাও ভাইজান।”
সোয়েল আহমেদ কান্না থামিয়ে বলেন „“ যা মা, তোর ছোট আব্বুকে সালাম কর।”
রিয়া সালাম করতে গেলে, সৈয়দ আহমেদ তাকে বুকে টেনে নেন „“ মারে, আমার আশীর্বাদ সবসময় তোর সঙ্গে আছে।”
রিয়া কিছু বলতে পারলো না, কেবল কাঁদলো ।
সৈয়দ আহমেদও কেঁদে ফেলেন।
“তোর ফুফুকে সালাম কর।”
রিয়া সালাম করে।
ফুফুও কাঁদে।
স্বাভাবিক বাড়ির বড় মেয়ে কাল থেকে অন্যের বাড়ির মেয়ে হয়ে যাবে।তাদের কাদাটা স্বাভাবিক।
সবাই কাঁদছে।
সৈয়দ আহমেদ রিক্তাকে বলেন –
“তোরা ওকে নিয়ে যা।”
রিক্তা আর বাকি মেয়েরা রিয়াকে নিয়ে চলে যায় স্টেজে।
রিয়াকে স্টেজে বসানো হয়। বড়রা এসে হলুদ পর্ব শুরু করে। রিক্তা শিখা একটু পাশে যায় ঘুরে দেখার জন্য।
এক কোনে দাড়িয়ে শিখা রিক্তা হাত চেপে ধরে বলে„“ রিক্তা ভাইয়া কি করেছে?
রিক্তা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে „“ তোর ভাই যা করেছে তা মুখে বলা যাবে না।
শিখার মাথায় আসমান ভেঙে পড়ে সে কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে „“যা বলিস সব সত্যি?
” তোর সাথে কি সিরিয়াস বিষয় মজা করবো।”
শিখার মাথা ঘুরছে„“ আমি ভাইয়াকে কতো ভালো জানতাম আর ভাইয়া এতো নিচে নামবে তা আগে ভাবতে পারি নাই।”
রিক্তা ফিক করে হেসে দেয়।
শিখা ভ্রু কুঁচকে বলে „“ কি হলো তোর? তুই কি শোকে পাগল হয়ে গেছিস?”
রিক্তা হাসতে হাসতে বলে „“আরে মজা করছি। শুভ ভাই কিছুই করে নি। সে তো সামান্য মলম লাগিয়ে দিয়েছে হাতে। আর কিছুই না।
শিখা রাগী কন্ঠে বলে „“ তোর জন্য আমার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাচ্ছিল আর তুই হাসছিস।
পিছন থেকে শুভ ভেবলার মতো সব শুনে আওড়ায় „“ পিচ্চি মানুষ অভিনয়ের জন্য সেরা তা আমি এখন জানলাম।
শুভর কন্ঠ পেয়ে দুজনে ঘুড়ে তাকায়। রিক্তা শিখা ভয় পেয়ে যায়।
দুজনে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
রিক্তা স্টেজের কাছে যেতেই রিয়া ডাক দিয়ে পাশে বসায়।
শুভ স্টেজের সামনে বসে । কি যেন করছে ফোনে। রিক্তা শুভকে দেখতে থাকে। হঠাৎ সে খেয়াল করলো শুভ নীল পাঞ্জাবী পরেছে। গলায় সাদা একটা ওড়নার মতো। রিক্তা এক ধ্যান তাকিয়ে থাকে। শুভ ফোন থেকে চোখ সরিয়ে স্টেজের দিকে তাকাতেই শুভ রিক্তার চোখাচোখি হয়ে যায়। শুভ উঠে অন্য পাশে চলে যায়।
শুভ দূরে গিয়ে রিক্তাকে পরখ করে নেয় মোলায়ম কন্ঠে বলে „“মাশাল্লাহ নীল জিনিসে ভালোই মানিয়েছে তোকে পিচ্চি।”
হঠাৎ শুভ তার বুকের বা পাশে হাত রেখে বলে„“ আমি যদি জানতাম নীল জিনিসে তোকে মারাত্মক লাগবে তাহলে আর এগুলো আনতাম না। এতো সুন্দরী কেন তুই?”
পিছন থেকে রাহাদ ঠাট্টার স্বরে বলে „“ গেলো গেলো ডাক্তার সাহেব শেষ হয়ে গেলো।”
সাথে তাল দেয় সাকিব, ইব্রাহিম, ফাহিম, সিয়াম প্রত্যেকে।
শুভ পিছনে ঘুরে তাকায় ওদের দিকে। বিরক্ত হয়ে বলে„“ ভাই তোরা আমার পিছনে কেন লেগে থাকিস বলতো।?”
সোহান ভাব নিয়ে বলে „“সম্মান দিয়ে কথা বলো তোমার বউয়ের বড় ভাই হই।”
শুভ দাঁত চেপে বলে „“ তাহলে চলেন ভাইজান আপনাদের চিপায় নিয়ে একটু সম্মান দেই।”
সাকিব বলল„“ থাক হইছে আপনি যা সম্মান দিবেন তা আমাদের জানা আছে।”
হলুদ পর্ব শেষ হতেই এবার নাচ গানের পালা।
রিক্তাদের। টিম নাচ দিবে। তার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।তারা এস্টেজে উঠে যে যার মতো দাঁড়ায়।
রিক্তা সামনে, রিক্তার ডান পাশে শিখা, আর বাম পাশে রিতু। গান চালু হয় হঠাৎ সব লাইট বন্ধ হয়ে যায়।
রিক্তা বেশ অবাক হয় তার প্ল্যানে এরকম কিছুই ছিল না তো।
আস্তে আস্তে লাইট চালু হচ্ছে লাইটের মৃদু আলোতে দেখা যাচ্ছে তিন বান্দর থুক্কু শুভ, রাহাদ, সাকিব। তারা বলতে বলতে আসছে
~ Chunnari chunnari.
তারা সবাই একরকম পোশাক। সবার গলায় সাদা ওরনা ঝুলানো।
রিক্তা হতভাগ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে ভাবছে কি হচ্ছে এ সব। শুভ রিক্তার পিছন দিয়ে গা গেশে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলে „“পিচ্চি নাচো না কেন সবাই তাকিয়ে আছে।”
শুভর কথায় রিক্তার দেন ভাঙে। সে না চাইতেও নাচ শুরু করলো –
~ chunnari chunnari (iii)
Aja na chhu le mari chunnari sanam.
Kuch namain bolum tujhe meri kasam.
Aayi jowaani sar pe mere.
Tere bin kya karoon jawaani berham.
Aja na chhu le mari chunari sanam
নাচ শেষ হতেই সবাই কর তালি দিতে থাকে।
তারা এস্টেজ থেকে নেমে আসে। এখন রিক্তার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। যত বার শুভ রিক্তাকে স্পর্শ করেছে ততবারই রিক্তা কেঁপে উঠেছে।
রিক্তা একটা চেয়ারে বসে। শিখার উদ্দেশ্য বলে „“বোন আমাকে এক গ্লাস পানি এনে দে।”
শিখা রিক্তা নাজেহাল অবস্থা দেখে দৌড়ে গিয়ে এক গ্লাস পানি এনে দেয়।
রিক্তা কাঁপা কাঁপা হাতে পানিটা শিখার হাত থেকে নিয়ে খেয়ে ফেলে।
শিখা রিক্তার পাশের চেয়ারে বসে।
রিক্তা কিছুটা ধাতস্থ হয়ে রাগ নিয়ে বলে „“ এই প্ল্যান তো আমার ছিল। তাহলে ওনারা আসলো কিভাবে?”
শিখা ইতস্তত করতে করতে বলে „“ ইয়ে মানে। আমরা সবাই মিলে করেছিলাম।”
রিক্তা হাত তালি দিতে দিতে বলে„“ বাহ বাহ। তোরা আমার সাথে এরকম মির্জাফরি করলি বাহ বাহ।”
শিখা হালকা রাগ নিয়ে বলে „“দেখ রিক্তা আমাদের দোষ দিবি না তোকে কতবার বলতে চেয়েছি আর আপনি মহাশয় গাল ফুলিয়ে বসে থাকতেন। তাই আর বলা হয় নাই।”
রিক্তা শিখাকে মুখ ভেংচি কেটে সামনের দিকে নজর দেয়।
শিখা রিক্তার দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বলে „“তুই যাই বলিস নাচ টা কিন্তু সেই ছিল।”
(বানান ভুল হলে একটু মানিয়ে নিয়েন)