
লেখক: Ibn imtiaj
পর্ব:০২
মেসেজটা দেখে গা কেঁপে উঠলো আমার। যার সাথে কিনা একটু আগে গা ঘেঁষে বসেছিলাম। যাকে এত কাছে টেনে নিজের হাতে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম , সে কিনা মৃত?
এই আজগুবি মেসেজের উত্তর দেওয়ার জন্য যখন কল লগ বের করে মাইকেলকে কল দিতেই যাব, তখন পেছন থেকে একটা ঠাণ্ডা হাত যেন ঘাড়ের উপরে আস্তে করে স্পর্শ করে। শরীরটা হঠাৎ এমন ঠান্ডা স্পর্শ নেওয়ার মত প্রস্তুত ছিল না কোনো ভাবেই। আচমকা ভয় পেয়ে হাত থেকে মোবাইল পড়ে যায়। কিছুক্ষণের জন্য শরীর জমে গিয়ে মনে হল, সত্যি হয়ত একটা মৃত হাত আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছে।
কিন্তু পেছনে তাকিয়ে দেখি ম্যাম জুসের গ্লাস হাতে নিয়ে কোমর বাঁকা করে আমার দিকে ঝুঁকে আছে। আমার এমন ফ্যাঁকাসে চেহারা দেখে ম্যাম তার চেহারা নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,” কি হয়েছে? ভয় পেয়ে গেছ নাকি ? এমন মুখ হয়ে আছে কেন?”
ঠিক কি উত্তর দিব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। একটা ভয়ঙ্কর দ্বিধাযুক্ত মুহূর্তে পড়ে গেছি আমি। মাইকেল মজা করে আমার সাথে। তবে এমন মজা কখনও সে করবে, মানতে ইচ্ছা করছেনা। তাছাড়া সত্যি আজ কোন কল ঢোকেনি আমার ফোনে। অথচ অন্য দিন কলের যন্ত্রণায় ঘুমোতে পর্যন্ত পারতাম না আমি। এই মুহূর্তে অনেক আজব লাগছে ব্যাপারটা।
আমি ম্যামের হাত থেকে জুসের গ্লাস নিয়ে হালকা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাম, এতো জলদি চলে এলেন যে? মাত্রই তো গেলেন।
বেশী তাড়াতাড়ি চলে এসেছি নাকি ? ফোনে কারো সাথে জরুরী কথা ছিল?
না। মাত্রই মেডিকেলের রেডিওলোজীতে ঢুকেছি। কেও কল বা মেসেজ দিয়েছিল কিনা দেখছিলাম।
ম্যাম কাফতানের আচল হাতে নিয়ে গা ঘেঁষে বসে আমার পাশে। কিন্তু আমার শ্বাসপ্রশ্বাস কেন যেন ধীরে ধীরে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। কেন হচ্ছে এমন তাও বুঝতে পারছিনা। কিছু একটা আমি বিশ্বাস করতে চাইছিনা। তবুও অস্থির করে তুলছে ভেতরটা আমার।
আমি কিছু বুঝার আগেই ম্যাম তার ওড়নার আচল দিয়ে আমার কপাল মুছে দেয়। কপাল মুছতে মুছতে তিনি খোঁচা মেরে বলেন, কিছু ভেবে কি ঘাম ছুটে গেছে? প্রেমিকাকে চিট করছ ভেবে কি কষ্ট হচ্ছে ? মোবাইলটা তুলতেও ভুলে গেছ। মুহূর্তেই এমন পরিবর্তন লাগছে কেন তোমাকে? বলেছিলাম পরিবর্তন না করতে কিছু। কত কষ্ট করে নিজেকে তোমার সাথে মিশিয়ে নিতে চেষ্টা করলাম। একজন মেয়ে হলে বুঝতে তুমি এটা।
আহ না ম্যাম।
কথাটা শেষ করার আগেই ম্যাম তার আকর্ষণীয় আঙ্গুল দিয়ে আমার ঠোঁট স্পর্শ করে। থামিয়ে দেয় আমাকে কথা বলা । তীক্ষ্ণ চোখ নিয়ে আমাকে বলে, “একান্ত এই মুহূর্তে আমাকে অন্তত ম্যাম ডেকোনা। কল মি লেনা। “
আমি এক চোখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলাম সেই চোখের দিকে। এই মুহূর্তে কিছুটা মনে হচ্ছে যে, আমি অন্য কোন কিছুতে আছি। জানিনা এটা মনের ভুল কিনা। ম্যাম কি আদৌ আমার সাথে এমন টা করবে? এটা বিশ্বাস করতে আমার মন আর সায় দিচ্ছে না।
ম্যাম তখন আস্তে করে আমার হাত থেকে জুসের গ্লাস নিয়ে নেয়। লিপিস্টিক মাখা ঠোঁট দিয়ে এক চুমুক গিলে নেয় নিজের ভেতর। এমন দৃশ্য চলমান মুহূর্তের মাঝে হলে অন্য কোন দিকে আমি চলে যেতাম। কিন্তু এখন ভেতর থেকেই যেন কিছু আসতে চাইছেনা। গলা শুঁকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে আরও। চুমুক শেষে উনি আমাকে বলে, আচ্ছা? এতটা শান্ত লাগছে কেন তোমাকে? কিছুক্ষণ আগেও তোমাকে অন্যরকম লাগছিল।
আমি তখন কাঁপা কাঁপা কন্ঠেই বললাম, “ম্যাম, একটা জরুরী কাজ পড়ে গেছে। সেটা শেষ করে আসা যাবে কি ?”
একা রেখে যাবে আমাকে ?
আমি এমন প্রশ্ন শুনে স্থির হয়ে গেলাম। ঠিক কি উত্তর দিব বুঝতে পারছিলাম না। আমি কিছু বলার আগেই উনি বলে বসে, আমার মোবাইলটা কেমন করে যেন ভেঙ্গে গেছে। কাওকে কল দিতে পারছিনা তোমাকে ছাড়া। স্ক্রিনে শুধু তোমার নাম্বার আসে। কি করে ভেঙ্গে গেছে তাও জানিনা। তাতেও সমস্যা নেই। শুধু যে তোমার নাম্বারটা উঠেছে, তাও কম নয়। এটা একটা অবাক করা বিষয় বলতে পারো। যদি তোমার নম্বর আজ না পেতাম, আমার সারাদিন চলে যেত এই মোবাইল ঠিক করার পেছনে।
বুকটা আমার ধড়াস করে উঠল। কি বলছে উনি এসব ? আমি আর কোন কথা জিজ্ঞেস না করে উঠে দাঁড়ালাম। আমি দাঁড়াতেই ম্যাম যেন অন্যরকম হয়ে যায়। ভাঙ্গা কণ্ঠে আমাকে বলে, কখন আসবে রেনাস?
বাঁকা ঠোঁটে বললাম তাঁকে , “আরও সময় চায় আপনার?”
একটি রাত চেয়েছিলাম পুরোটা। মাত্র সন্ধ্যার শেষে রাত শুরুর দিকে।
আমি কোমর বাঁকিয়ে হালকা ঝুঁকলাম। তাঁর গালে হাত রেখে বললাম,” তাহলে আসছি একটা কাজ শেষ করে। জরুরী অনেক। মন আমার পরিবর্তন হয়নি। ফিরে এসে ঠিক আগের মত পাবেন আমাকে।”
জুসটা শেষ করে যাও?
আমি হাত থেকে জুস নিয়ে কয়েক ঢোকেই শেষ করে দিই। কিন্তু ম্যাম যেন একটা ভয়ার্ত চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছিল এখনি টুঁটি চেপে ধরে সব রক্ত শুষে নিবে। এখন সত্যি ভয়ে আমার শরীরের পশম কাঁটা দিয়ে উঠেছে। আমি বড় বড় চোখ করে জিজ্ঞেস করলাম, এভাবে তাকিয়ে আছেন যে?
তোমাকে আমি ভিন্ন রকম ভেবেছিলাম। একদমই ভিন্ন। কিন্তু তুমি এতটা আনরোমান্টিক কিভাবে? জানই যে আমি গ্লাসের এখানে ঠোঁট দিয়েছি। তুমি সেখানে ঠোঁট না দিয়ে অন্য জায়গায় ঠোঁট দিলে কেন?
অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। তবুও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বললাম, “জীবন্ত একটা ঠোঁট সামনে দেখতে পাচ্ছি। গ্লাসের মাঝে কি সেই অনুভূতি পাওয়া যাবে?”
ম্যাম তখন দাঁড়িয়ে যায়। কিছুটা এগিয়ে এসে দুই হাত বাড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে। এভাবে আগে কখনও আমি কোন জড়িয়ে ধরার স্পর্শ পাইনি অন্য কোথাও। বুকের ধুকপুকানি হয়ত বন্ধ হয়ে গেছিল কিছু মুহূর্তের জন্য। জানিনা হয়েছিল কিনা। ঠোঁটটা মুখের কাছে এনে উষ্ণ নিঃশ্বাস ছেড়ে সে চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,” ছুঁয়ে দিলে আমি রাগ করবনা।” জীবন্ত একটা লাল রঙে রাঙ্গানো উষ্ণ শুষ্ক ঠোঁট। দ্বিধাহীন ভাবে খানিকটা ভিজিয়ে দিতে পার। তোমার সামনেই আছে।
আমি কপাল কুঁচকে সাহস নিয়েই একটা প্রশ্ন করলাম,”ম্যাম, কি হয়েছে আপনার?”
আমার এই প্রশ্ন শুনে তাঁর চেহারা সমান হয়ে যায়। সামান্য নিঃশ্বাস ছেড়ে সে বলে,” আমি কি বেশী বেহায়া হয়ে যাচ্ছি? জানিনা কি হয়েছে আমার।”
এটা বলেই হাত ছেড়ে দিচ্ছিল পিঠ থেকে মাথা নিচু করে। বিদ্যুৎ খেলে গেছিল সেই মুহূর্তে আমার পুরো শরীরে।
জীবনে এমন কিছু সময় আসে, সেই সময়ে শরীর আর মন দুটো দুই দিকের পরামর্শে বিভক্ত হয়ে যায়। আমি যেন সেই সময়ে আটকে গেছি।
কিন্তু শরীরের আকর্ষণ আমাকে হেরে যেতে বাধ্য করেছিল। চোখ বন্ধ করে আমার মিষ্টি মাখা দুটো ঠোঁটের পাপড়ি মিশিয়ে দিই তাঁর দুটো ঠোঁটের মাঝে। একটা বন্ধ নিঃশ্বাসের মাঝে তাঁর সব কিছু যেন টেনে নিচ্ছিলাম নিজের ভেতরে।
উষ্ণ নিশ্বাসের একটা সীমানা দরকার। সীমানা অতিক্রম করা কোন কিছুর জন্যই ভালো হয় না। জিহ্বার স্পর্শের আগেই ছেড়ে দিই তার ঠোঁট।
বুকের ওঠানামা দেখেই বুঝতে পারছিলাম, এখন হয়ত সে অন্যরকম অনুভূতি অনুভব করছে। কথা যেন তাঁর ঠোঁটে আঁটকে গেছিল। চোখের দিকে তাকিয়ে থেকেও কিছু বলতে পারছেনা সে। এই অন্ধকারেও তাঁর লাজুক চেহারার দৃশ্য স্পষ্ট ভেসে উঠছে।
আমি তখন আমার ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁটের উপরে হালকা করে ছুঁয়ে দিই। গলা নামিয়ে জিজ্ঞেস করি তাঁকে,”কিছু বলবেন না?”
ফিরে আসতে দেরি হবে কি ?
যদি আর না আসি ?
চোখের দিকে তাকায় সে আমার। বেশ অনেক্ষন ঠোঁট চেপে রাখার পর ভাঙ্গা কন্ঠে উত্তর দেয়,” প্রচন্ড খারাপ লাগবে। দয়া করে কাজ শেষ করে ফিরে এসো। অপক্ষায় থাকব আমি । কি খাবে তুমি রাতে? আমি রান্না করব তোমার জন্য।
আমি চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম। কি জবাব দিব বুঝতে পারছিলাম না। তবুও বললাম, এলে রান্না করে দিবেন। পাশে থেকে বিরক্ত করব আপনাকে।
বাসা থেকে বের হওয়ার পরে সব কিছুই কেন যেন অদ্ভুত লাগছিল। একটা জিনিস মেনে নিতে পারছিলাম না যে, আমি সেদিন সেই ফাঁকা জায়গায় তাঁর শরীরে হাত দিইনি। তার পিঠেও স্পর্শ করিনি আমি। তাহলে এটা আমার কল্পনায় কিভাবে এলো যে আমি তাঁর পিঠে হাত দিয়েছিলাম মাইকেলের কুমন্ত্রণায়? কোনভাবেই আমি এটার উত্তর বের করতে পারলাম না। সে সময় আমার কাছে হঠাৎ মনে হয়েছিল যে, আমি কয়েক মিলি সেকেন্ডে কয়েক বিলিয়ন স্বপ্নের পাতা দেখে ফেলেছি।
ছুটে চললাম মেডিকেলের দিকে। ফোন দিচ্ছি মাইকেলকে। সে কল ধরছেনা। হয়ত সে আসলেই মর্গে আছে এখন। আর না হয় সে আমার সাথে চরম অভদ্রতামির মজা করছে। এটা মেনে নেওয়া যায়না। যার ঠোঁটে এমন স্বাদ, সে কিনা মারা গেছে। একটা মৃত ঠোঁটের স্পর্শ এতটা আবেগপূর্ণ হতে পারে না। যার প্রতিটি রক্তবিন্দুতে কম্পন, তাকে কিনা ময়না তদন্ত করা হবে। খামোখা নিজের ভেতরে অসহ্যের মাত্রা বাড়ানো। এটা কোন গল্পের জগত নয় যে একটা কল্পনার চরিত্রকে বিশ্বাস করে ফেলব ।
মেডিকেলে যখন ঢুকলাম, তখন প্রায় সাড়ে আটটা বাজে। গেট পেরিয়ে ঢুকতেই মাইকেলের কল। দারুণ আজব ব্যাপার এটা। অবাক হয়ে তার কল রিসিভ করতেই মাইকেল আমাকে রাগ ঝাড়তে শুরু করে। আমি যে বিপরীতে তাকে কিছু কথা বলব , সেই সুযোগ সে দিতেই চাইছিল না। সোজা মর্গে ডেকেছে।
আমার ঘাম ছুটছে। এই মুহূর্তে অসম্ভব রকমের ঘামছি আমি। জীবনে কোনদিন আমাকে এরকম দোটানায় পড়তে হবে তা কখনো কল্পনা করতে পারিনি। লম্বা করিডোর যেন মরীচিকার মত আরও লম্বা হয়ে যাচ্ছে। হাটতেই ইচ্ছে করছেনা। মাইকেল বলেছে ম্যাম সকালে এক্সিডেন্ট করেছে। রাত দশটার মাঝে কাজ শেষ করার কথা ছিল। মর্গে রেডিওলোজীর কোন কাজ নেই। সেটা মাইকেলের ডিপার্টমেন্টের কাজ। তবুও সে পাশে আমাকে চেয়েছে। সে চাইলেও ব্যাপারটা আমি এখনও সিরিয়াস নিতে পারছিনা। অবশেষে করিডোর শেষ হওয়ার পরে যখন আমি মর্গের সামনে আসি, মাইকেল সহ পুরো টিমকেই আমি সামনে দেখি। নিজের ভেতরে চিৎকার করে বার বার বলছিলাম,” না না…।” এমনটা যেন সত্যি না হয়।
সাব্রিনা আমার সামনে এগিয়ে আসে। চোখ তার জ্বলজ্বল করছে। সে আমার হাতে মাস্ক দিয়ে বলে, শক্ত হ রেনাস। ভেঙ্গে পরিসনা। এমন না যে আমরা জানিনা তুই ম্যামকে কত পছন্দ করিস।
আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম । ফ্যাঁকাসে মুখ নিয়ে যখন মাইকেলের সামনে এসে জিজ্ঞেস করতে যাব কিছু। সে অগ্নি মূর্তি হয়ে ঝাঁজালো কন্ঠে চিৎকার দিয়ে ওঠে,“ সর এখান থেকে। সারা দিন কোন জাহান্নামের মধ্যে ছিলি? যে ,একটা বারের জন্য ফোনে তোকে পাওয়া যায়না?
আমি নিচু গলায় ভাঙ্গা কন্ঠে উত্তর দিলাম,”আমার ফোন সারা দিন অন ছিল। বরং তোরা কেও ফোন দিসনি।”
আমি একবার বলতে চাইলাম যে , লেনা ম্যামের সাথেই ছিলাম আমি। কিন্তু পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার মত আহাম্মকটাও আমি না। তারা বিশ্বাস করার বদলে আমাকে লাথি মারবে। অথবা আমি এই পরিস্থিতি অন্য দিকে নিয়ে চলে যাব।
মাইকেল আবার চিৎকার করে বলে, “তোর জন্য কত দেরি হয়ে গেছে তুই জানিস? আর একটা কথা বলবি না তুই এখন আমার সাথে। ভেতরে চল।
আধুনিক মর্গের সব সিস্টেম আর ফিচার আছে এখানে। ভেতরটা থমথমে ঠাণ্ডা। একা আসলেও ভয়ের কিছুই নেই। মনে হবে যে কোন কাঁচের রুমে এসেছি হয়ত। চারিদিকে আলো। মর্গের ভিতর এই প্রথম আসা না আমার। আগেও বহু মর্গে গেছি। কিন্তু এই প্রথম কোন মর্গে এসে আমার ভয় করছে। বুকের ভেতরের ধুকপুকানির শব্দটাও আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি এই মর্গের নীরবতায়।
মাইকেল যখন সেই ড্রয়ারের সামনে আমাকে নিয়ে যায়, আমি আরও অবাক হয়ে যাই। ড্রয়ারের উপরে লেনা ম্যামের নাম লেখা। এই নাম দেখে আমার পুরো শরীর অনিয়ন্ত্রিত ভাবে কাঁপতে থাকে। মনে হচ্ছিল কিছু একটা আমার উপরে ভর করছে। এক টান দিয়ে মাইকেল ড্রয়ার খুলে দেয়। কিন্তু সত্যি আমি যা দেখলাম , তা বিশ্বাস করার মত নই। এটা লেনা ম্যাম নয়, বরং মাইকেলের নব বিবাহিতা স্ত্রী।
চলবে……
Written by- ibn imtiaj