গল্প : আমি তার সন্ধ্যামালতী (০৩)

লেখক:DRM Shohag

পর্ব:০৩



আকাশের কথা অরুণের কানে গেল না। আর না তো তার খেয়ালে আসল আকাশের কর্মকান্ড। সে আকাশের মুখটার দিকে চেয়ে আছে। আজ প্রায় চার মাস পর আকাশকে দেখে অরুণের ভেতরটা শীতল হয়। জেডি তার মানে সত্যি বলেছিল। আকাশ বেঁচে আছে। এইতো তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এই তো তার বন্ধু আকাশ৷ আকাশের লা’শ খুঁজে না পাওয়ায় তারা কেউ না কেউ কখনো না কখনো ভেবেছে, তাদের সবার প্রিয় মানুষ কোথাও না কোথাও যদি বেঁচে থাকত। জানত, সেসব ভাবনা অবাস্তব, তবুও ভাবত। বিশেষ করে সন্ধ্যা। মেয়েটা কত পা’গ’লা’মি-ই না করেছে। সারাবাড়ি পা’গ’লের মতো ছুটে ছুটে আকাশকে খুঁজত। বলত, আকাশ লুকিয়ে আছে। সেই বাড়িতেই লুকিয়ে আছে। আকাশ তার উপর অভিমান করে এমন করছে। এমন কতশত আহাজারি দিনের পর দিন করেছে। সন্ধ্যার ওসব পা’গ’লা’মি দেখে তাদের চোখ ভিজত। আজ সন্ধ্যার পা’গ’লা’মি করে বলা কথাগুলোই বোধয় ফলে গেল। আকাশ সত্যিই কোথাও লুকিয়ে ছিল? কেন লুকিয়ে ছিল? আকাশ কি জানতো না তার কত কত প্রিয় মানুষ আছে? সবচেয়ে বড় কথা, আকাশের ভালোবাসার সন্ধ্যামালতী। যার জন্য আকাশ কত বদলে গিয়েছিল! অরুণের চোখ ভিজে উঠল। আন্টি আকাশকে দেখলে নিশ্চয়ই ভীষণ খুশি হবে? আর সন্ধ্যা? মেয়েটা এতোদিন ক’ষ্ট পেয়ে পা’গ’লের মতো করছিল। এখন হয়ত খুশিতেই পা’গ’ল হয়ে যাবে। অরুণ কয়েক পা এগিয়ে এসে থেমে যায়৷ দৃষ্টিগোচর হয়, সন্ধ্যা-ও এখানে। খুশির ঠেলায় সে কিছু খেয়াল করছেনা ঠিক করে। হাস্যজ্জ্বল মুখে সন্ধ্যাকে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। হাস্যজ্জ্বল মুখ নিভু নিভু হয় আকাশকে সন্ধ্যার কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে রাখতে দেখে।
অরুণ আকাশকে দেখে যতটা না অবাক হয়েছিল, তার চেয়ে হাজারগুণ বেশি অবাক হচ্ছে সন্ধ্যার মাথায় আকাশকে পিস্তল ঠেকিয়ে রাখতে দেখে। সবচেয়ে বড় কথা আকাশের কাছে পিস্তল কেন? অরুণ আকাশের পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলায়, আকাশের বেশভূষায় অরুণের অবাকের মাত্রা আরেকটু বাড়লো। কয়েকমাস আগে যে আকাশকে সে চিনতো, এটা সেই আকাশ? অরুণ দ্রুত আকাশের সামনে দাঁড়িয়ে বিচলিত কণ্ঠে বলে,
“আকাশ এটা কি করছিস তুই?”
আকাশের দৃষ্টি সন্ধ্যার কান্নামাখা চোখের দিকে। কিছুক্ষণ আগের কঠোর দৃষ্টি নরম হয়ে গিয়েছে। পি’স্ত’ল ধরে রাখা হাতটি-ও ঢিলে হয়ে এসেছে। মাথায় কি যেন কিলবিল করে, ফলস্বরূপ মাথা ব্য’থারা হাজির হয়৷ আকাশের হাত এক পর্যায়ে পুরোপুরি ঢিলে হয়ে যায়, পিস্তল রাস্তায় পড়ে যায়। দৃষ্টি অস্বাভাবিক। ভীষণ অস্থির লাগছে। আকাশ এদিক-ওদিক মাথা নাড়ালো। না পেরে বা হাতে সন্ধ্যার কাঁধে হাত রেখে সন্ধ্যাকে জোরে ধাক্কা দেয়। সন্ধ্যা কয়েকপা পিছিয়ে যায়। লামিয়া আগলে নেয় সন্ধ্যাকে। দুই বান্ধবীর চোখেমুখে বিস্ময়। অরুণ আকাশকে ঝাঁকিয়ে বলে,
“এ্যাই আকাশ, কি হয়েছে তোর? এরকম করছিস কেন?”
আকাশ ঢোক গিলল। দৃষ্টি সন্ধ্যার পানে। সন্ধ্যা ছলছল দৃষ্টিতে আকাশের দিকে চেয়ে আছে। মেয়েটা না তো আকাশের কার্যকলাপের মানে বুঝল, আর না তো আকাশের এই দু’চোখ চিনল। আকাশের চোখের মণি ছিল কালো কিচকিচে। অথচ তার সামনে দাঁড়ানো আকাশের চোখের মণি দু’টো সোনালি। যা চোখে লাগছে ভীষণ। এটা কি সত্যিই তার আকাশ? সেই আকাশ? যে তাকে সামান্যতম আ’ঘা’ত করত না। সে হাজার অবাধ্য হলেও, হাজারটা কথা না শুনলেও আকাশ নিজেকে সামলে নিত, তার সন্ধ্যামালতী ক’ষ্ট পাবে বলে! এতোগুলো মাস পর আকাশ তাকে দেখল। অথচ মানুষটা তাকে একবার জড়িয়ে ধরা তো দূর, তাকে একেবারে থাপ্পড় মে’রে দিল! মে’রে ফেলার জন্য মাথায় বন্দুক ঠেকালো! আর এখন…. সন্ধ্যার দমবন্ধ লাগে। চোখ বেয়ে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ে।
অরুণ আকাশকে টেনে তার দিকে ফেরায়। ডান হাত আকাশের গালে রেখে কাতর স্বরে বলে,
“আকাশ? এরকম করছিস কেন? কোথায় ছিলি তুই? এতোদিন পর কোথা থেকে ফিরলি? আর…..”
আকাশের দৃষ্টি সন্ধ্যার পানে। অরুণের কথার মাঝখানে সে ভ্রু কুঁচকে বলে, “মেয়েটি কে?”
আকাশের কথা শুনে অরুণ, লামিয়া, সন্ধ্যার দৃষ্টিতে আবার-ও বিস্ময় ভর করে। আকাশের দৃষ্টি এখনো সন্ধ্যার পানে। তাহলে কি আকাশ সন্ধ্যাকে মিন করেই কথাটা বলল? তিনজনের মাথায় বা’জ পড়েছে মনে হলো। তারা কি রিয়েকশন দিবে, নিজেরাও জানেনা৷
অরুণ কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়, আকাশ তার দিকে ফিরলে। কারণ আকাশের সোনালি রঙের চোখের মণি। অরুণ বিস্ময় দৃষ্টিতে চেয়ে বলে,
“তোর চোখ……”
আকাশ বিরক্তি কণ্ঠে বলে, “কি?”
অরুণ বলে, “তোর চোখের মণি কালো ছিল।”
আকাশ অদ্ভুদভাবে তাকায় অরুণের দিকে। যেন এই প্রথম এরকম আশ্চর্যজনক কথা সে শুনলো৷ রে’গে বলে, “কি প্রবলেম? উল্টাপাল্টা বকছিস কেন? থা’প্প’ড় খেতে চাইছিস?”
অরুণের মাথা ঘুরছে৷ সে উল্টাপাল্টা বকছে না-কি আকাশ উল্টাপাল্টা বকছে? বিস্মিত কণ্ঠে বলে,
“সত্যি বলছি, তোর চোখ কালো ছিল।”
আকাশ এবার মারাত্মক রা’গ’লো। রাস্তায় পড়ে থাকা পিস্তল উঠিয়ে অরুণের পেটে ঠেসে ধরে দাঁত কিড়মিড় করে বলে, “তোর স্বপ্নে ছিল। আর একটা বাজে বকলে একদম উড়িয়ে দিব বলে দিলাম।”
অরুণের মুখ থমথমে হয়ে যায়। আকাশ তার পেটে পিস্তল ঠেকানোয় তার মাঝে আহামরি ভাবান্তর হলো বলে মনে হয়না। সে হিসাব মিলাতে ব্যস্ত। রাস্তার অপর পাশ থেকে আসা হাসির শব্দে অরুণ তাকায় সেদিকে। তবে আকাশ তাকালো না। জেডিকে দেখে অরুণ রে’গে তাকায়।
জেডি তার গাড়ির ছাদের উপর দু’পা ঝুলিয়ে বসে আছে। ডান হাতে একটি আধখাওয়া আপেল। হাসি থামিয়ে কৌতুক স্বরে বলে,
“এভির চোখ কালো ছিল! নাইস জোক্স! অরুণ আপনি প্লিজ দ্রুত মরুণ! এসব মিথ্যা ছড়ালে আপনার কপালে খুদের ভাত-ও জুটতে দিবে না আমার সত্যবাদী এভিজান।”
অরুণ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। তার মাথা এবার সত্যিই ঘুরছে। এরা এসব কি বলছে? জেডির কথা মানতে পারলেও আকাশের কথা মানতে পারছে না। জেডি আধখাওয়া আপেলটির দিকে তাকিয়ে অসহায় কণ্ঠে বলে,
“সারাদিন কিচ্ছু খাইনি। এখানে আমার কেউ নেই বলে এক প্লেট ভাত কপালে জুটলো না! ঠিকই আছে। আমার কপাল তো এমন-ই! এ আর নতুন কি!”
কথাটি বলে জেডি মাথা সামান্য উঁচু করে আড়চোখে আকাশের দিকে তাকায়। আকাশকে থমথমে দৃষ্টিতে নিজের দিকে চেয়ে থাকতে দেখে জেডি চোখ নামায়৷ ভীষণ ইনোসেন্ট মুখ বানিয়ে রাখে।
অরুণ একবার জেডির দিকে তাকায়, তো একবার আকাশের দিকে। খুব ভালোই বুঝেছে কাহিনী। অতঃপর জেডির পানে চেয়ে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,
“তুই ওর কথা বিশ্বাস করছিস আকাশ? আমি সিইওর ও মাত্র রেস্টুরেন্ট থেকে পেট ভরে খেয়ে এসে তোকে ডাহা মিথ্যা বলছে। ওর কাজ-ই তো এটা।”
আকাশ ততক্ষণে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়েছে জেডির থেকে। এদিকে জেডি অরুণের কথাটা শুনেই মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকায়। আকাশকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে ক্রোধ চাপলো নিজের মাঝে। জ্ব’ল’ন্ত চোখে তাকায় অরুণের দিকে। ইচ্ছে করছে একে যাস্ট খু’ন করে ফেলতে। এক লাফ দিয়ে গাড়ির উপর থেকে নেমে একপ্রকার ঝড়ের বেগে এসে দু’হাতে অরুণের গলা চেপে ধরে। হুংকার ছেড়ে বলে,
“তোকে বাঁচিয়ে রাখাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল।”
অরুণের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। সন্ধ্যা, লামিয়া এতক্ষণ এদের সকলের কান্ড অবাক হয়ে দেখছিল। এখন তাদের অবাকের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সন্ধ্যা দ্রুতপায়ে এগিয়ে এসে জেডির পাশে দাঁড়ায়। অরুণের অবস্থা খারাপ দেখে সন্ধ্যা ঢোক গিলল। অপরিচিত লোকটির উদ্দেশ্যে রাগান্বিত বাণী ছুড়ে দেয়, “অরুণ ভাইয়াকে ছেড়ে দিন।”
অরুণের অপর পাশে আকাশ দাঁড়ানো। ভস্ম করে দেয়া দৃষ্টিতে জেডির দিকে চেয়ে আছে। দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
“জেডি ওকে ছাড়।”
জেডি কারো কথা শুনলো না। সে বোধয় আজ পণ করেছে, অরুণের নিঃশ্বাস থামা না পর্যন্ত সে অরুণকে ছাড়বে না। এক পর্যায়ে আকাশ গায়ের জোরে জেডিকে ধাক্কা দেয়। শ’ক্ত ধাক্কা খেয়ে জেডি কয়েকপা পিছিয়ে যায়। অরুণ গলায় হাত সমানে কাশছে। জেডি অরুণের দিকে আবার-ও তেড়ে আসতে নিলে আকাশ জেডির গালে জোরেসোরে একটা থা’প্প’ড় মে’রে দেয়। জেডি রে’গে আকাশকে ধাক্কা দিয়ে চিৎকার করে বলে,
“এভি তুই সবসময় ওর পাশে থাকিস। সবসময় ওর কথা বিশ্বাস করিস। ও একটা মিথ্যাবাদি। আমার নামে সবসময় তোর কানে বি’ষ ঢালে ও। ওর জন্য আমাদের মাঝে….
জেডি থেমে যায়। শ্বাস নেয়। হাইপার হয়ে গিয়েছে৷ নিজেকে সামলে আকাশের দিকে এগিয়ে এসে রাগান্বিত স্বরে বলে,
“তুই আমার সাথে ঠিকভাবে কথা না বললে, আমি কিন্তু ওকে সত্যি সত্যি মে’রে পুঁতে দিব এভি।”
অরুণ শব্দ করে হাসে। জেডি চোখ বুজল। অরুণের হাসি তার পুরো শরীর জ্বা’লি’য়ে দিচ্ছে। অরুন ডান হাত একবার গলায় বুলিয়ে বলে,
“তোর দুঃস্বপ্নগুলো শুনতে আমার ভালো লাগে। সময় করে আসিস একদিন! লিস্ট ধরে শুনবো। আফটার অল, তোর তো শোনার মানুষ নেই।”
জেডি আবার-ও অরুণের দিকে তেড়ে যেতে নিলে, আকাশ জেডির কলার ধরে রে’গে বলে,
“আমার বন্ধুর থেকে দূরে থাকবি। এক কথা বারবার বলতে ভালো লাগে না আমার।”
জেডি অসহায় চোখে তাকায়। ঢোক গিলে বলে, “আমিও তো তোর বন্ধু এভি।”
“ছিলি।”
“এখন নেই?”
আকাশের কাটকাট জবাব, “নো।”
কথাটা বলে আকাশ উল্টো ঘুরে জায়গাটি প্রস্থান করার উদ্দেশ্যে এগোয়। জেডির করুণ কণ্ঠস্বর,
“তোর প্রায়োরিটি লিস্টের শীর্ষে সবসময় আমি ছিলাম এভি। তুই সব ভুলে গিয়েছিস?”
আকাশ উত্তর করল না। জেডি মলিন মুখে চেয়ে বলে, “আমি সত্যিই খাইনি এভি।”
আকাশ শ’ক্ত করে বলে,
“এতো না খেয়ে থাকিস, তো ম’রে যাস না কেন? এখনো বেঁচে থাকার মানে কি?”
বন্ধুর এতো তাচ্ছিল্যপূর্ণ বাক্যে জেডির বুকে চিনচিন ব্য’থা হলো। মাথা নিচু করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
সন্ধ্যা, লামিয়া এবারেও নীরব দর্শক হয়ে এদের কান্ড দেখছিল। সব মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। আকাশকে চলে যেতে দেখে সন্ধ্যা দ্রুতপায়ে এগিয়ে গিয়ে পিছন থেকে আকাশের হাত টেনে ধরে। আকাশের পা থেমে যায়। ঘাড় বাঁকিয়ে তাকায় তার ধরে রাখা হাতের দিকে। সন্ধ্যা আকাশের হাত ছেড়ে আকাশের সম্মুখ বরাবর এসে দাঁড়ায়। সূক্ষ্ম চোখ বুলায় আকাশের পুরো মুখে। শুধু চোখের মনি সোনালি, আর দাঁড়িগুলো চাপ দাঁড়ির তুলনায় সামান্য বড়। এটুকুই পার্থক্য। এছাড়া আর কোনো পার্থক্য নেই আগের আকাশ আর এই আকাশের মাঝে। সন্ধ্যার চোখজোড়া ভরে ওঠে। এতক্ষণের ঘটে যাওয়া সব ঘটনা তার মস্তিষ্ক থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। মেয়েটা ভাঙা গলায় বলে,
“আপনি সত্যিই আকাশ?”
আকাশ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। চোখেমুখে বিরক্তি। সন্ধ্যা আবার-ও বলে,
“এতোদিন কোথায় ছিলেন আপনি? আমার কণ্ঠ শুনতে চেয়েছিলেন যে! আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু আর এলেন না! আমি মিথ্যে মিথ্যেও অপেক্ষা করেছি। আমার এখনো বিশ্বাস-ই হচ্ছে না আমার মিথ্যে অপেক্ষার পর, আপনি সত্যি সত্যি চলে আসবেন। আচ্ছা আপনি এতোদিন কোথায় ছিলেন? আর আপনার চোখ এরকম হয়ে গেল কিভাবে?”
কথাগুলো বলতে বলতে সন্ধ্যার দু’চোখের পাতা বেয়ে অশ্রু গড়ায়। মলিন মুখে চেয়ে আকাশের উত্তরের অপেক্ষা করে। আকাশকে নির্লিপ্ত দেখে সন্ধ্যা ভাঙা গলায় বলে,
“আপনি কি আমার উপর রা’গ করেছেন? বিশ্বাস করুন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি, তাই রে’গে গিয়ে থা’প্প’ড় মেরেছি। আপনি আমার উপর রা’গ করে থাকবেন না।”
অরুণ, লামিয়া আকাশের রিয়েকশন দেখার অপেক্ষা করছে। জেডি সন্ধ্যার দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে৷ মনে হচ্ছে আজব কিছু তার চোখের সামনে ঘটছে। এদিকে আকাশ সন্ধ্যার কথাগুলো শুনে চরম বিরক্তিতে ঘাড় এপাশ-ওপাশ করে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, তার সামনে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভাষণ দিচ্ছে, আর সে তাতে ভীষণরকম বিরক্ত।
সন্ধ্যা আকাশকে এখনো নির্লিপ্ত দেখে দু’হাতে আকাশের হাত ধরে কিছু বলতে চায়। আকাশ সে সুযোগ দিল না। সন্ধ্যা হাত ধরায় মনে হলো তার গায়ে ফোসকা পড়েছে। রে’গেমেগে আকাশ তার হাত ঝাড়া মে’রে ছাড়িয়ে নিয়ে সন্ধ্যার বাম গালে ক’ষিয়ে একটা থা’প্প’ড় মে’রে দেয়৷ সন্ধ্যা পড়তে পড়তে বেঁচে যায়। অরুণ, লামিয়া হতভম্ব হয়ে যায়৷ সন্ধ্যা ডান হাত তার বাম গালে রেখে ফুঁপিয়ে ওঠে। ছলছল দৃষ্টিতে তাকায় আকাশের দিকে। ভাঙা গলায় বলে,
“আপনি আমাকে এভাবে থা’প্প’ড় মা’রতে পারলেন আকাশ?”
আকাশ আর সহ্য করতে পারলো না। যাস্ট নিতে পারছে না। সন্ধ্যার দিকে তেড়ে গিয়ে ডান হাতে সন্ধ্যার গলা চেপে ধরে হিসহিসিয়ে বলে,
“শুধু থাপ্পড় নয়, এবার তোকে মে’রেই ফেলব। চেনা নেই জানা নেই, আমার সাথে জড়াতে আসার সাহস হয় কি করে? ভাষণ শোনাতে শোনাতে পুরো মাথা ধরিয়ে দিয়েছে।”
সন্ধ্যার চোখ উল্টে আসে। লামিয়া দৌড়ে এসে সন্ধ্যার পাশে দাঁড়ায়। অরুণ দৌড়ে এসে আকাশকে টেনে সন্ধ্যার থেকে জোর করে সরিয়ে নেয়। আকাশ এখনো রা’গে ফুসছে। আবারও তেড়ে যেতে নিলে অরুণ আকাশকে টেনে ধরে। হাঁপানো কণ্ঠে বলে,
“আকাশ? কি করছিস তুই? পা’গ’ল হয়ে গেছিস? ও সন্ধ্যা। তুই বারবার ওকে এভাবে আ’ঘা’ত করছিস কেন?”
আকাশের দৃষ্টি কঠোর। চেঁচিয়ে বলে,
“এই মেয়ের কি প্রবলেম? আসার পর থেকে ভুলভাল বলছে। লিমিস ক্রস করছে পুরো।”
অরুণ অবাকের উপর অবাক হয়। বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। কি বলা উচিৎ তার?
ওদিকে সন্ধ্যা লামিয়াকে আঁকড়ে ধরে সমানে কাশছে৷ দু’চোখ বেয়ে টুপটুপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
জেডি তার গাড়ি থেকে একটি পানির বোতল এনে, বোতলের মুখ খুলে সন্ধ্যার সামনে পানির বোতল ধরে ছোট করে বলে, “পানি খাও। রিল্যাক্স লাগবে।”
সন্ধ্যার এক মুহূর্তের জন্য মনে হলো, আকাশ তাকে পানি দিতে এসেছে। দ্রুত মাথা উঁচু করলে আকাশের জায়গায় অপরিচিত ছেলেকে দেখে সন্ধ্যার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
লামিয়া জেডির হাত থেকে পানির বোতল নেয়ার জন্য হাত বাড়ায়। তখন-ই আকাশ হনহন করে এগিয়ে এসে জেডির হাত থেকে পানির বোতল কে’ড়ে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এরপর দু’হাতে জেডির কলার ধরে রাগান্বিত স্বরে বলে,
“তোর প্রবলেম কি? আমি যাদের লাইক করিনা৷ তুই তাদের গুনে গুনে হেল্প করিস আমার সাথে শ’ত্রু’তা করতে? হোয়াই জেডি? হোয়াই?”
আকাশের কান্ডে সকলে অবাক হয়। জেডি হেসে বলে, “কারণ আমিও তোর অপছন্দের তালিকার মানুষ। তাই তোর অপছন্দের মানুষ আমার হেল্প ডিজার্ব করে জান।”
আকাশ নিভে যাওয়া দৃষ্টিতে তাকায়। শান্ত গলায় বলে, “ওকে। মনে থাকে যেন। নেক্সট টাইম আমার সামনে আসলে একদম কু’র’বা’নি করে দিব।”
কথাটা বলে আকাশ জেডির কলার ছেড়ে জেডির পাশ কাটিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়। জেডি হেসে বলে,
“নাটকবাজ এভিজান! কু’র’বা’নি করার কথা বলে, অথচ পি’স্ত’ল তাক করার সাহস হয়না।”
আকাশ দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করল। পায়ের গতি বাড়ালো। সন্ধ্যা লামিয়ার হাত ছেড়ে আকাশের পিছু পিছু যায়। লামিয়া সন্ধ্যাকে আটকাতে চাইলেও পারলো না। সন্ধ্যা মানলো না। অরুণ সন্ধ্যার পিছু পিছু যায় আর বলে,
“সন্ধ্যা দাঁড়াও। আমি আকাশের সাথে কথা বলে ক্লিয়ার হয়ে তোমাকে বলব। সন্ধ্যা?”
সন্ধ্যা শুনলো না। মেয়েটা বড় বড় পায়ে আকাশের পিছু হাঁটে। ভাঙা স্বরে বলে,
“আকাশ থামুন বলছি৷ আপনি আমাকে বারবার আ’ঘা’ত কেন করছেন বলুন? আকাশ দাঁড়ান। আকাশ?”
আকাশের ইচ্ছে করল এই মেয়েটাকে আজ সত্যি-ই মে’রে ফেলতে। কিন্তু মেয়েটা কিভাবে যেন তাকায়। সে মেয়েটির চোখে চোখ রাখতে পারেনা। কেমন অস্থির লাগে। কিন্তু মেয়েটির মুখে নিজের নাম হজম হচ্ছে না তার। বাচ্চা একটা মেয়ে তার নাম ধরে ডাকছে, এসব সে হজম করবে? ভাবলেই রা’গে শরীর রি রি করছে। সন্ধ্যার কণ্ঠ ভেসে আসে,
“আকাশ জবাব দিয়ে যান। আকাশ??”
রা’গে আকাশের মাথা দপদপ করছে। কখন থেকে এই বাচ্চা মেয়ে তার নাম ধরে ডাকছে! আর সহ্য করতে পারলো না। দ্রুত উল্টো ঘুরে সন্ধ্যার দিকে রে’গে তাকায়। পিস্তল বের করতে নেয়, তার আগেই সন্ধ্যা কিছু একটার সাথে বেঁধে হুমড়ি খেয়ে পড়ে পিচঢালা রাস্তার উপর। ব্য’থা পেয়ে মৃদু আ’র্ত’নাদ করে ওঠে। আকাশ বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। পি’স্ত’ল আর বের করল না। দ্রুত দু’পা এগোয় সন্ধ্যার দিকে। সন্ধ্যা ভেজা চোখে তাকায় আকাশের দিকে। সন্ধ্যার দৃষ্টিতে দৃষ্টি মিললে আকাশের পা থেমে যায়। ঢোক গিলল ছেলেটা।
সন্ধ্যা পেটে ভীষণ ব্য’থা পেয়েছে। লামিয়া দৌড়ে এসে সন্ধ্যার পাশে বসে সন্ধ্যাকে তুলতে চায়, অরুণ অপর পাশে বসে সন্ধ্যাকে উঠতে সাহায্য করে। অবাক হয় আকাশকে নির্লিপ্ত দেখে। আকাশ তাকে বাড়িতে থাকতে দিত না, সন্ধ্যা বাড়ি থাকত বলে! আর আজ সে সন্ধ্যাকে ধরল, অথচ আকাশ নির্লিপ্ত? অরুণের অবাক হওয়ার মাত্রা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে এবার।
সন্ধ্যা রাস্তায় হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকলো আকাশ তার কাছে আসবে সে আশায়। অথচ সন্ধ্যার ভাবনায় এক বালতি জল ঢেলে আকাশ সন্ধ্যার দিকে তাকিয়েই উল্টোদিকে যায়। সন্ধ্যা বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। আকাশ কয়েকপা উল্টেদিকে গিয়ে হঠাৎ উল্টোঘুরে বড় বড় পা ফেলে আগায়। সন্ধ্যা ফুঁপিয়ে ওটে। দুর্বল কণ্ঠে ডাকে,
“আকাশ?”
আকাশ পায়ের গতি বেশ। জোরে হাঁটার ফলে পরনের ওভারকোর্ট অনেকটা পিছনদিকে উড়ে ওঠে। আকাশ আরও কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে তার গাড়ির সামনে দাঁড়ায়। বা হাত গাড়ির দরজায় রেখে ডানদিকে ঘাড় ফিরিয়ে একবার তাকালো সন্ধ্যার দিকে। সন্ধ্যা এদিক ফিরে নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে। আকাশ সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিয়ে গড়িতে উঠে বসে। ড্রাইভারের উদ্দেশ্যে বলে,
“গাড়ি স্টার্ট দাও। ফার্স্ট।”
ছেলেটি গাড়ি স্টার্ট দেয়। ধীরে ধীরে গাড়ি চলতে শুরু করে।
সন্ধ্যা আকাশের গাড়ি চলতে দেখে দ্রুত উঠে দাঁড়ায়। পেট ব্য’থায় পেট ছিঁড়ে যাবে মনে হচ্ছে। কিন্তু সে থামলো না। তার মনে হলো, আকাশ এবার চলে গেলে আবারও হারিয়ে যাবে। সে আর দেখতে পারবে না আকাশকে। সে নাহয় আকাশের এসব চড়-থা’প্প’ড়-ই খাবে, তবুও আকাশ তার সামনে থাকুক। তীব্র পেট ব্য’থা গায়ে না মেখে সন্ধ্যা গাড়ির পিছু পিছু যায়, এক পর্যায়ে দৌড়ায়। চিৎকারে করে ডাকে, “আকাশ?
ফোঁপায় আর বলে, যাবেন না আকাশ। থেকে যান।”
অরুণ, লামিয়া বিস্ময় চোখে তাকায় সন্ধ্যার দিকে। লামিয়া সন্ধ্যার পিছু পিছু দৌড়ে বলে,
“সন্ধ্যা দাঁড়া। এ্যাই দাঁড়া। ব্য’থা পাবি।”
সন্ধ্যা শুনলোই না। ওইতো ওই গাড়ি করে তার আকাশ চলে যাচ্ছে। সে কি করে থাকবে? অরুণের চোখজোড়া ঝাপসা হয়ে এসেছে। কি হচ্ছে এসব? তার নিজেরই তো দমবন্ধ লাগছে। তাহলে সন্ধ্যার কেমন লাগছে?
আকাশের ড্রাইভার গাড়ির পিছু পিছু এক মেয়েকে এভাবে দৌড়াতে দেখে আকাশের উদ্দেশ্যে বলে,
“স্যার একটি মেয়ে আপনাকে ডাকছে। গাড়ি সাইড করব কি?”
আকাশের দৃষ্টি সামনের আয়নায়। যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সন্ধ্যা দৌড়াচ্ছে। আকাশের অস্থিরতা বাড়ে। হাসফাস করে। তীব্র মাথা ব্য’থায় মাথা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আকাশ এপাশ-ওপাশ করে, দু’হাতে মাথার চুল টেনে চিৎকার করে বলে,
“গাড়ির স্পিড বাড়া বে’য়া’দ’ব। নয়তো তোকে গাড়ির নিচে পি’ষে ফেলব।”
ড্রাইভার কেঁপে ওঠে। আকাশের কথা অনুযায়ী গাড়ির স্পিড বাড়ালো। কিছুসময় পর, গাড়িটি সন্ধ্যার নাগালের বাইরে চলে আসে। আকাশ বোধয় একটু শান্ত হয়। সিটে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বুজে নেয়। মাথা ব্য’থার তীব্রতা সময়ের সাথে সাথে বাড়ছে।
.
.
আকাশের গাড়ি মিলিয়ে যেতে দেখে সন্ধ্যা রাস্তার মাঝে হাঁটুমুড়ে বসে পড়ে। দু’হাতে মাথা চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। আবারো তার আকাশ তাকে রেখে চলে গেল। সে এখন কোথায় খুঁজবে তার আকাশকে?
সৌম্য অনেকক্ষণ থেকে সন্ধ্যাকে খুঁজছিল। কলেজের আশেপাশে খোঁজা শেষ করে এদিকটায় এসেছে। চিন্তায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। এমনিতেই তার বোনুর অবস্থা ভালো না। এর মধ্যে একটু উনিশ-বিশ হতে না হতেই চিন্তায় মাথা ফেটে যায়। রাস্তার পাশে লামিয়ার স্কুটি দেখে বুঝল এরা এদিকেই এসেছে। ভেবে একটু স্বস্তি পেল। দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেল সামনের দিকে। সামনে তাকালে মনে হলে রাস্তার মাঝে স্কুল ড্রেস পড়া কেউ বসে আছে। পিছনে আরেকজন মেয়ে, সাথে আরেকটি ছেলে। সৌম্য আরেকটু সামনে এগোলে সকলকে চিনতে তার একটু-ও অসুবিধা হয়না। সৌম্য বড় বড় পায়ে এগিয়ে যায়৷ সন্ধ্যার কান্নার আওয়াজ পেয়ে একপ্রকার দৌড়ে গিয়ে সন্ধ্যার সামনে রাস্তায় হাঁটুমুড়ে বসে। বিচলিত কণ্ঠে বলে,
“কি হয়েছে বোনু? এভাবে কাঁদছিস কেন?”
ভাইকে দেখে সন্ধ্যার কান্নার গতি বাড়লো। ভাইয়ের বুকে মাথা ঠেকিয়ে বিড়বিড় করে, “আকাশ আবার চলে গেল! আবার গেল। উনি আর আসবে না সৌম্য ভাইয়া?”
বোনুর কথায় ভাঙা ভাঙা হলে সে সব বুঝল। কিন্তু বলার মতো কিছু পেলনা। আবার কি হয়েছে কে জানে! সে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। মাথা উঁচু করে লামিয়া আর অরুণের দিকে তাকায়। দু’জনের এরকম থমথমে চেহারা দেখে সৌম্য অবাক হয়৷ জিজ্ঞেস করে, “কি হয়েছে অরুণ ভাইয়া?”
অরুণ তার লালিত চোখজোড়া একবার সৌম্য’র পানে ফেলে। তবে কিছু বলে না। সাথে সাথে উল্টোদিকে পথ ধরে। বড় বড় পায়ে এগিয়ে যায়৷ চোখেমুখে রা’গ৷ উদ্দেশ্য জেডি। সে যা আন্দাজ করছে এরকম কিছু হলে সন্ধ্যার সাথে খুব খারাপ হবে।
সৌম্য অরুণকে দেখে ভীষণ অবাক হয়। বড় কোনো কিছু কি হয়েছে? সন্ধ্যার কান্নার বেগ বাড়ে। সৌম্য সন্ধ্যার মুখ তুলে, সন্ধ্যার দিকে তাকালে অবাক হয়। উজ্জ্বল শ্যামা গালের দু’গালে দু’টো থা’প্প’ড়ের দাগ স্পষ্ট ভেসে উঠেছে। সৌম্য বিস্মিত কণ্ঠে বলে, “তেকে কে মে’রেছে বোনু?”
সন্ধ্যা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আকাশ আমায় চেনেনা ভাইয়া। উনাকে একটু বলো না, আমায় যেন চেনে! আমার নিঃশ্বাস নিতে ক’ষ্ট হচ্ছে। উনাকে এনে দাও। এনে দাও আমার কাছে।”
সৌম্য অবাক হলো। আকাশ ভাইয়া কোথা থেকে আসছে? সন্ধ্যার কথার আগামাথা কিছুই বুঝল না। কিন্তু তার বোনু যে ভীষণ ক’ষ্ট পাচ্ছে এটুকু বুঝল। সৌম্য’র বুকে চিনচিনে ব্য’থা হয়। তার বোনুর জীবনের শেষ কোথায়?
.
.
“সন্ধ্যামালতী????”
হঠাৎ চেঁচানোর শব্দে ড্রাইভার ভ’য় পেয়ে গাড়ির ব্রেক ক’ষে। আকাশ চোখ মেলে তাকায়। ড্রাইভার ঢোক গিলে ভীতি কণ্ঠে বলে, “কি হয়েছে স্যার?”
আকাশ নিজেই বুঝতে পারছে না। সে তো চোখ বুজে ছিল। ভীষণ মাথা ব্য’থা করছিল। হঠাৎ কি হলো কে জানে, নামটি মুখ দিয়ে বের হয়ে এলো। আকাশ ড্রাইভারের দিকে চেয়ে থমথমে কণ্ঠে বলে, “সন্ধ্যামালতী কি?”
ছেলেটি মিনমিন করে বলে,
“শুনেছি এটা একটা ফুলের নাম।”
আকাশ ছোট করে বলে,
“ওহ। দেখতে কেমন?”
ছেলেটি দ্রুত তার ফোন থেকে গুগলে সার্চ করে সন্ধ্যামালতী ফুল বের করে আকাশের দিকে ফোন বাড়িয়ে দেয়। আকাশ ফোনটি তার হাতে নিয়ে ফুলটির দিকে তাকালো। আগে কখনো দেখেছে বলে মনে পড়ল না। বেশ অনেকক্ষণ ফুলটির দিকে চেয়ে হাসফাস করে। একপর্যায়ে বিতৃষ্ণা কণ্ঠে বলে, “জ’ঘ’ণ্য!”
এরপর ফোনটি ছুঁড়ে ফেলে আবার-ও চোখ বুজে গাড়ি স্টার্ট দিতে বলে। ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দেয়।
আকাশ হঠাৎ-ই শব্দ করে বলে,
“সন্ধ্যামালতী সুন্দর!
ড্রাইভার আড়চোখে আকাশের দিকে তাকালো। ভাবছে, আকাশের মাথার তার ছিঁড়লো নাকি? একবার বলে জ’ঘ’ণ্য,, দু’মিনিট পরেই বলে, সুন্দর! আজব পাবলিক!

চলবে ইনশাআল্লাহ~~

Leave a Comment