লেখিকা: Jafrin Jerin
পর্ব:০১
•এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
নিঝুম এক রাত একা একটি কিশোরী মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে নির্জন এক রাস্তা দিয়ে।সে কোথায় যাচ্ছে কেনো যাচ্ছে সে নিজেও জানে না।তার হাত থেকে চুয়ে চুয়ে রক্ত পড়ছে।তার অবস্থা পুরোই বেগতিক সে কিছু দূর যেতেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।
আপনাদের হয়তো বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে যে এই মেয়েটি কে তাহলে আসুন মেয়েটির পরিচয় দিয়ে দিই। এই মেয়েটির নাম হলো সিয়ানা চৌধুরী।তার সম্পর্কে জানার জন্য তার অতীত সম্পর্কে জানতে হবে তাহলে আসুন তার অতীত ঘুরে আসা যাক।
,
,
অতীত,,,
,
,
তারিখ:2018-09-24
সময়:৭ টা ৩০ মিনিট।
,
আজকে সকাল টা অন্য রকম মেঘ মেঘ আবেশ।সকালের আকাশ টা হালকা কালো মেঘে ঢাকা এমন মনে হয় এই যেনো বৃষ্টি নামবে।এই সময় এমন হয়ে থাকে মাঝে মধ্যে আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলেও বৃষ্টির কোনো ছিটে ফোটা থাকে না।বাংলাদেশ মানেই এমন আবহাওয়ার দেশ।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মেন টাউন থেকে কোলাহল থেকে দূরে ঘন গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি।মেন গেট বাড়িটির কিছুটা দূরে।মেন গেট হতে একটি পাকা রাস্তা রয়েছে যা বাড়িটির সিঁড়ির কাছে এসে থেমেছে।
রাস্তার দুই পাশে আছে সারি সারি নানা ফুলের বাহার।
বাড়ির ভিতরে ঢুকলে দেখা যায় দশ পনেরোর মতো স্টাফ।
একেক জন একেক কাজ করছে।
কেউ ঘর পরিষ্কার করছে তো কেউ ঘর গুছিয়ে রাখছে।আবার কেউ ফুল গাছে পানি দিচ্ছে।এই বাড়িটি তে মোট পনেরো টার মত রুম আছে এর মধ্যে পাঁচ টা রুম খোলা।
পাঁচ টা রুমের মধ্যে দুই টা রুম মাস্টার বেড রুম।বাকি রুমে তালা দেওয়া।তালা দেওয়া থাকলেও রুম গুলো গুছিয়ে রাখা হয়।
আর প্রতিটি রুমের সাথেই ওয়াশরুম রয়েছে।বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলে প্রথমে নজর কারে হল রুম টা সাদা আর নীল রঙের মিশ্রণ দিয়ে রঙ করা।
উপরে ঝাড় বাতি।আর তার ঠিক নিচে রয়েছে কত গুলো সোফা সেট।সব গুলোর রং ধূসর কালার এর।যা সাদা আর নীল এর সাথে বেশ মানায়।হল রুমের ওপর পাশে রয়েছে ডাইনিং এরিয়া।
তার মাঝে রয়েছে বিশাল ডাইনিং টেবিল একসাথে দশ জনের বেশির মানুষ বসতে পারবে।ডাইনিং এরিয়া থেকেই কিচেন কাউন্টার দেখা যায়।সেখানে এই বাড়ির কর্তি রান্না করছে আর তার পাশেই কিচেন শেফ তাকে সাহায্যে করছে।
আগে তিনি রান্না করতেন না কিন্তু আজ তার মেয়ের ভার্সিটি যাবে তার সাথে তার বড় ছেলে বাড়ি আসবে।এই বাড়িতে মাত্র পাঁচ জন থাকে।আগে পাঁচ টা রুম এর মধ্যে দুই টা রুম বন্ধ একটা রুম এ তার বড় ছেলে থাকতো।
আর আরেকটা রুম এর মধ্যে কি আছে কেউ জানে না ওই রুম এ তার বড় মেয়ে ঢুকতে পারে আর কারো ঢুকার অনুমতি নেই।তাই কেউ ঢুকার সাহস ও করে না।সেই বন্ধ রুম টা মাঝে মাঝে খুলা হয়।কিন্তু ভিতরে ঢুকার সৌভাগ্য করো হয় না।আর যেই রুম টা আজকে খুলা হয়েছে সেটা একটা মাস্টার বেড রুম সেই রুমে এই বাড়ির বড়ো ছেলে থাকে।আজকে বড় ছেলে বাড়ি আসবে তাই রুম টা নিজ হাতে গুছিয়ে রেখেছে।বাকি রুম গুলোর মধ্যে দুই টা বেড রুম বড়।একটার মধ্যে থাকে এই বাড়ির বড়ো ছেলে আর আরেকটা তে থাকে এই বাড়ির বড়ো মেয়ে।তার বড় ছেলে কে আনতে এই বাড়ির কর্তা গিয়েছেন।
রান্না ঘরে,,,,
কর্তি কে এতক্ষণ ধরে রান্না করতে দেখে শেফ বলে,,,
-“মেম দিন আমি রান্না করছি।
শেফ এর কথা শুনে কর্তি বলে,,
-“নাহ আজ আমি রান্না করব।
মালিকন এর কথা শুনে শেফ বলে,,
-“আজকে কি কিছু আছে,যার জন্য এত রান্নার আয়োজন।
তার কথা শুনে মিসেস বলেন,,
-“হুম আছে তো আজকে আমার বড় মেয়ে ভার্সিটি যাবে
তাই তার জন্য ভালো কিছু রান্না করছি এমনি তেও সে কিছু খেতে চায় না।তাও আজ তাকে খাইয়ে ছাড়ব।আর আরেকটাও খবর আছে আজ আমার বড় ছেলে বাড়ি ফিরছে।তাই এত বেশি আয়োজন।কত বছর পর আমার ছেলেটা বাড়ির বাহিরে ছিল।
মিসেস এর কথা শুনে শেফ বলে,,,
-“ও আচ্ছা,,কিন্তু ছোটো মেম কোথায় তিনি কি ঘুম থেকে এখনো উঠে নাই।
তার কথার জবাবে তিনি বলেন,,,,
-“মহারানী কি এত সহজে উঠবে তাকে যতক্ষণ না জাগানো হচ্ছে সে ঘুম থেকে উঠবে না।
-“তাহলে আপনি গিয়ে জাগান।এই দিক টা আমি সামলে নিচ্ছি।
-“নাহ থাক রান্না শেষ পর্যায়ে আছে।রান্না শেষ করে তারপর যাবো।
,
যতো ক্ষণ তিনি নিজের রান্না করছে ততক্ষণ পরিচয় পর্ব শেষ করি।নায়িকার নাম হচ্ছে সিয়ানা চৌধুরী রিদ্দিমা।বয়স এবার আঠারো হয়েছে।
দেখতে মারাত্মক সুন্দর।যে একবার দেখবে চোখ ওই সরাতে পারবে না।চোখ দুটো হরিণের মতো টানা আর ছোটো।আর চোখের মণি দুটো হালকা বাদামী রঙের।
চুলগুলো কোমড় ছাড়িয়ে গেছে।তার পরিবার এ সেই এমন এক জন যে তার সামনে বিশ্ব সুন্দরীও টিক বে না তার সামনে।সে যখন কিশোরী ছিল সে বয়স থেকেই অনেকে প্রপোস ও করেছে রিলেশন করার জন্য কিন্তু সে না করে দিয়েছে।
তাদের মধ্যে অনেকে না করার কারণে তারা তাকে বাজে ভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছে।কিন্তু সিয়ানা তাদের উত্তম মাধ্যম দিয়েছে।সে যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর।তাই কলেজ এ তাকে ডেভিল কুইন বলে।
তার হাসি ও ডেভিল দের মত।ছোটো থেকে সে জেদি আর মিশুক টাইপ এর ছিল।বড় হয়ে সে গম্ভীর আর এক রোখা টাইপ হয়েছে।আর একটা কথা সে তার মার সাথে মিশুক ভাবে থাকে।তার উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি।
সে এবার অনার্স ফার্স্ট ইয়ার এ ভর্তি হয়েছে।সে অনেক কিছু তে পরিদর্শী যেমন নাচ, গান আর ফাইটিং। তার ফাইটিং স্কিল অনেক মারাত্মক।তার মতে দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন তিন টি মানি, পাওয়ার এন্ড ফাইটিং।
ফাইটিং কারণ নিজেদের আত্ম সুরক্ষার জন্য এটা মাস্ট বি জরুরি।তাই সে একটি ফাইট ক্লাব খুলেছে যেখানে সে মেয়েদের কে আত্ম সুরক্ষার জন্য ট্রেন করে।সে কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না।তাই তার বিশ্বাস অর্জন করতে সবার বেগ পেতে হয়।
কেনো সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না।এর ও এক কারণ আছে।আর তার বাবার নাম সামির চৌধুরী।ফর্সা তার গায়ের রঙ,বলিষ্ঠ দেহের ব্যাক্তি বয়স হলেও তাকে দেখে বুঝা যায় না তার তিন ছেলে মেয়ে।বয়স এবার ষাট এর কাটগোড়ায় আর মার নাম সায়রা জাহান চৌধুরী।
তিনি ও দেখতে অত্যাধিক সুন্দর ডাগর ডাগর চোখ।তার এখনো বয়সের ছাপ পরে নি।তাকে দেখলে বলবে কোনো গ্রিক দেবী(এই গ্রিক দেবী বলতে বাস্তবে কিছুই নাই)।
আর তারা দুই বোন এক ভাই।তার ভাই বড়,সে মেজো ওর পড়ে তার ছোটো বোন।সিয়ানার ভাইয়ের নাম আশিক চৌধুরী সিয়ান।ছোটো বোনের নাম রুহি চৌধুরী টিয়া।
ও তার বাবার মতো দেখতে সুন্দর এখন থেকেই তার জন্য অনেক প্রস্তাব এসেছে বিয়ের কিন্তু তার বাবার এক কথা আমার মেয়েকে পড়া লেখা করিয়ে ভালো ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে তার বিয়ে দিবো যেমন আমার বড় মেয়েকে বিয়ে দিবো তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর।
সিয়ানার বড় ভাই এত বছর পড়া লেখার সূত্রে বাহিরে ছিল এবার দেশে ফিরে বাবার ব্যবসার হাল ধরবে আর ছোটো বোন এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার এ উঠেছে।
হাইট পাঁচ ফুট।সে তার বড় বোনের মতই নাচ গান আর ফাইটিং এ এক্সপার্ট।তার বড় বোন ওই তাকে শিখিয়েছে।
,
,
মাত্র মিসেস চৌধুরীর রান্না শেষ হয়েছে সে উপরে যাওয়ার আগে শেফ কে বলে,,
-“আমি উপরে যাচ্ছি,,তুমি এগুলো টেবিল এ সাজিয়ে দেও।
এই বলে যখন সে উপরে যাবে তখন ডোর বেল এর আওয়াজ আসে।একজন স্টাফ গিয়ে দরজা খুলে দেয়।স্টাফ দেখে এই বাড়ির কর্তা মিস্টার সামির চৌধুরী এসেছে আর তার সাথে একটা লম্বা দেখতে ছেলেও এসেছে।তাদের দুই জন কে ভিতরে ঢুকতে দেয়।
দুই জন ঢুকে দেখে হল রুম এ মিসেস চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছে।তার চোখে পানি।তারা দুই জন ওই তার কাছে আসে।আর তার পিছে আসে আরো দুই টা ছেলে।
এই বাড়ির বড়ো ছেলে আশিক চৌধুরী সিয়ান এসেছে।সে তার মাকে এসে জরিয়ে ধরে।
নিজের ছেলেকে এত বছর পর কাছে পেয়ে মিসেস চৌধুরী কেঁদে দেন।তার মাকে কাঁদতে তে দেখে সিয়ান বলে,,,
-“মা এভাবে কাঁদছ কেনো।
মিসেস চৌধুরী কেঁদে কেঁদে বলে,,,
-“কত বছর পর তোকে দেখলাম বাবা।
মার কথায় আশিক বলে,,
-“মাত্র সাত বছরের জন্যই তো বাহিরে গেছিলাম।
মিসেস চৌধুরী ছেলেকে ছেড়ে তার কান মলে দিয়ে বলে,,,
-“তোর কাছে কম লাগলেও আমার কাছে সাত বছর সাত
যুগ লেগেছে।আর কত টা শুকিয়ে গেছিস দেখেছিস।
আশিক তার মার কথায় হেসে দেয়।সে নাকি শুকিয়ে গেছে।
পিছনে সেই দুই টা ছেলেও হেসে দেয়।আশিক দেখতে তার মার মতো সুন্দর যে একবার দেখবে তাকিয়ে থাকবে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো।
তার হাইট ছয় ফুট দুই ইঞ্চির মতো।জিম করা বডি।তখন আশিক বলে,,,,
-“আমার দুই বোন কোথায় তাদের কে দেখছিনা।
তখনই তার সিড়ির কাছ থেকে কারো মধুর গলার
আওয়াজ আসে।
-“ভাইয়া”
সবাই সেইদিকে তাকায় দেখে যে সাদা কালার ড্রেস এ একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মেয়েটি ধীর পায়ে তখন তাদের কাছেই আসছে।সে এসে তার ভাই কে জরিয়ে ধরে আর বলে,,,
-“ভাইয়া তুমি এসেছো।
-“হুম।
তখন তার পিছনে থাকা দুই ছেলে বলে,,
-“আশিক এটাই কি তোর সেই বাঁদরের মতো দেখতে
ছোটো বোন।
তাদের দুই জন এর কথা শুনে তারা সবাই তাদের দিকে তাকায়।তখন আশিক এর মা বলে,,
-“আশিক এরা দুই জন কারা।
তখন আশিক বলে,
-“মা এরা দুই জন আমার ফ্রেন্ড একজনের নাম হৃদয় খান।আরেকজন নাম দিয়ান রহমান।
হৃদয় আর দিয়ান এর সাথে আশিক এর ইংল্যান্ড এর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি তে দেখা হয়েছে।দুই জন ওই এই দেশে থাকে।
তাই পড়া লেখা শেষ এ একই সাথে দেশে এসেছে।আর তারা পণ করেছে তারা আশিক এর বাড়িতে বেড়াবে।তাই যে ভাবা সেই কাজ।চলে এসেছে তারা।
তাদের তিন জন এর হাইট প্রায় সেম।জাস্ট গায়ের রং আলাদা।হৃদয় দেখতে উজ্জ্বল ফর্সা আর দিয়ান দেখতে মোটামোটি সুন্দর না বেশি সুন্দর না বেশি শ্যামলা।
তাদের প্রত্যেক এর মুখের আকার একটু বেশি সুন্দর।
তখন রুহি বলে,,
-“এই বাদর কাকে বলেন।
তখন হৃদয় বলে,,
-“কেনো তোমাকে বাই দ্যা ওয়ে তুমি আশিক এর ছোটো বোন রিদ্দিমা।
রুহি অবাক হয়ে বলে,
-“রিদ্দিমা।
তখন আশিক বলে,,
-“হুম রিদ্দিমা।
রিদ্দিমা নাম শুনে তার মা মাথায় হাত দেয় আর বলে,,
-“আয় হায় ভুলেই গেলাম।তোরা গিয়ে ফ্রেশ হ আমি উপরে যাই গিয়ে।আর শুনো বাবারা তোমরা আপাততঃ আশিক এর রুম এ ফ্রেশ হও আমি তোমাদের জন্য গেস্ট রুম এর ব্যবস্থা করছি।
এই বলে তিনি উপরে চলে যাওয়ার আগে স্টাফ কে বলে যায় তাদের জন্য গেস্ট রুম রেডি করতে।আর তখন রুহি বলে,,
-“আমি রিদ্দিমা না কি কে রিদ্দিমা সেটা নিচে এসে জানতে পারবেন আপনারা এখন উপরে জান গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে খেতে আসুন।ভাইয়া তুমিও যাও।
এই সে ডাইনিং টেবিল এর কাছে চলে যায়।তারা তার যাওয়ার দিকে চেয়ে থাকে।তারপর তারাও উপরে চলে যায়।আর মিস্টার চৌধুরীও ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিল এ চলে এসেছে।তারা তিন জন উপরে যেতে যেতে বলে,,
হৃদয়:আশিক শুন এইটা কি তোর সেই বাদর বোন।
আশিক:হুম ওই আমার সেই বাদর বোন।
দিয়ান:বাট ছবি তে যা দেখলাম একটুও মিললো না তো।আগে একটু শ্যাম বর্ণের ছিল এখন এতো সুন্দরী কি করে হলো।
এগুলো বলতে বলতে তারা রুম এ চলে যায়।রুম এ ব্যাগ রেখে একেক জন ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে যায়।
,,,,,,,
আর এই দিকে সিয়ানা কে তার মা জাগানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু এই মেয়ের উঠার নাম ও নেই।
-“কিরে তুই এখনও পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিস না।
সিয়ানা ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,,,
-“আম্মু আরেকটু ঘুমাই না।এমন কেনো করছো।
সিয়ার কথা শুনে মিসেস সায়রা বলেন,,,
-“তোর না আজকে ভার্সিটি আছে।কখন যাবি তুই।
ব্যাস এই একটাই কথা ছিল সিয়াকে ঘুম থেকে তুলার জন্য।
সিয়া শোয়া থেকে উঠে বসে আর বলে,,,
-“হায় হায় কি বলো এগুলো।কয়টা বাজে লেট হয়ে গেলে আমি শেষ।
মেয়ের কথা শুনে মিসেস সায়রা বলেন,,,
-“কখন থেকে তকে ডাকছি তোর তো উঠার কোনো নাম গন্ধ নেই।এখন কথা না বাড়িয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নে।
আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।আর আজকে তোকে খেয়েই যেতে হবে।আজকে তোর বড় ভাই এসেছে দেশে আর তার সাথে তার ফ্রেন্ড ও এসেছে দুই জন।
-“আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর মিসেস সায়রা সিয়ানাকে বকতে বকতে রুম থেকে বের হয়ে যান।
আর সিয়ানা বসে না থেকে ওয়াশরুম এ চলে যাই ফ্রেশ হতে।ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নেয়।
আজকে সিয়ানা কালো আর লাল কালার এর একটা লং টপস আর জিন্স প্যান্ট পরে নেয় আর টপস এর উপরে সেম কালারের হিজাব বেধে নেয়।সিয়ানার মেকআপ পছন্দ না।
তার মতে মেকআপ করলে মানুষ এর আসল সৌন্দর্য ঢেকে থাকে যার কারণে সে মেকআপ করে না তেমন কোনো ফাংশন ছাড়া।
সিয়ানা যাস্ট ঠোঁটে রেড কালার লিপস্টিক লাগিয়ে নেয়।তারপর সে নিচে চলে যায়।সিড়ি দিয়ে নামতে ডাইনিং টেবিল এ নজর যায়।
তার সেখানে তিন জন ছেলে বসে আছে।এর মধ্যে কে তার ভাই সেটা দেখতেই বুঝে যায়।তারপর সে সেখানে চলে যায়।
ডাইনিং এরিয়া,,,
ডাইনিং টেবিল এ আশিক, হৃদয়, দিয়ান যে যার চেয়ারে বসে আছে।প্রথমে আশিক তার পর হৃদয় তার পরে দিয়ান বসেছে।তারা রুহির সাথে কথা বলছে,,
হৃদয় বলে,,
-“তো মিস রিদ্দিমা এখন আপনি কোন ক্লাস এ পড়েন।
রুহি তার কথায় হেসে দেয় আর বলে,,,
-“আমি কোন ক্লাস এ পড়ি সেটা ম্যাটার করে না।আপনি রিদ্দিমাকে বাদর বলেছেন এটার ফল কি হবে ভেবে দেখেছেন।
আসলে রুহি সিয়ানাকে আসতে দেখে ছিল।তাই এই কথা বলেছে।
তখন দিয়ান বলে,,
-“না গো ভেবে দেখিনি,,তা কি হবে।
তাদের কথার মাঝেই আশিক এর মাথায় কে যেনো চাটা মারে।সাথে আশিক চিৎকার দেয়।আর বলে,,,
-“কে রে আমাকে মারে।
তারা তিন জন পিছনে তাকায় তাকিয়ে এত সুন্দরী একটা মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে টাশকি খায়।আর ওই দিকে এদের এই অবস্থা দেখে আর এর পরে কি হবে সেটা ভেবে হাসতে থাকে রুহি।সবাই চুপ হয়ে রয়েছে।তাদের মা বাবা ও চুপ হয়ে আছে তাদের বড় মেয়ের রাগান্বিত চেহারা দেখে।একের পর এক শুষ্ক ঢোক গিলছে।
হৃদয় নিরবতা ভেঙে বলে,,,
-“তুমি কে গো সুন্দরী।তোমার রূপ দেখে তো আমার চোখ ঝলসে গেলো।
সিয়ানা তাদের দিকে একবার তাকিয়ে তার জন্য বরাদ্দ কৃত চেয়ারে বসে পরে।তখন তাকে রুহি ভেবে আশিক গম্ভীর স্বরে বলে,,
-“কিরে রুহি বড়রা এখানে বসে আছে তোর আক্কেল জ্ঞান নেই কোনো সালাম না দিয়ে বসে পরলি।তোর বড় বোন কে দেখ আমরা আসার পর কত সুন্দর করে কথা বলছে আর তুই আগে তো তুই এমন ছিলি না।
তখন সিয়া রাশ ভারী আওয়াজে বলে,,,
-“কেমন ছিলাম?
তার এমন গলা শুনে তারা তারি আরেক দফা টাশকি খায়।আশিক বলে,,
-“গলার স্বর ঠিক কর।এভাবে কথা বলছিস কেনো যেনো তুই সিয়ানা আর ও রুহি।
আর কিছু বলবে তার আগেই দিয়া এসে হাজির।দরজা খোলা পেয়ে সে ঢুকে পড়েছে।দিয়া এসে সবার উদ্দেশ্যে বলে,,,
-“হ্যালো এভরিওয়ান।কেমন আছো তোমরা।
রুহি আর আশিক বলে,,
-“ভালো।
তাদের দুই জনকে দেখে বাকি দুই জন ও বলে,,
-“ভালো।
তারপর দিয়া গিয়ে সিয়ার পাশে যায়।আর চেয়ার টেনে বসে পরে।আর সিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখে সিয়া রেগে আছে।আর রুহি ঠোঁট চেপে হাসছে।তাই রুহিকে বলে,,
-“কিরে তুই হাসাচ্ছিস কেন?আর ওর কি হয়েছে এমন রেগে আছে কেন?
রুহি বলে,,
-“একটু পর বুঝবা তুমি।
রুহিকে তুমি করে বলতে শুনে আশিক বলে,,
-“কিরে রিদ্দিমা তুই তোর ফ্রেন্ড কে তুমি করে বলছিস কেন?
রুহিকে রিদ্দিমা বলতে শুনে দিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
আর বলে,,,
-“আপনি তাহলে সিয়ানার বড় ভাই সিয়ান।
আশিক জবাবে বলে,,,
-“হুম।আর তুমি দিয়া তাই না।
দিয়া জবাবে বলে,,,
-“হুম,,আমি দিয়া।আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন কিন্তু আপনি আপনার বোনে দের মধ্যে গুলিয়ে ফেলছেন।
আশিক হতবম্ব হয়ে বলে,,,
-“মানে?
-“মানে হলো আপনি কাকে কার নাম দিচ্ছেন।
-“মানে কাকে কার নাম দিচ্ছি।বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছো।
-“আমি এটা বুঝাতে চাচ্ছি যে এ হলো তার (পাশে দেখিয়ে) রিদ্,,,,,
-“রিদ্দিমা।
দিয়ার মুখের কথা ছিনিয়ে সিয়ানা রাশ ভারী কন্ঠে বলে উঠে।
-“আমি সিয়ানা চৌধুরী রিদ্দিমা।আর আমার পাশে যে বসে আছে সে হলো আমার ছোটো বোন রুহি চৌধুরী টিয়া।
সিয়ানার কথা শুনে তারা তিন জন আকাশ থেকে পড়লো।তারা ভাবছে তারা এই কি করলো কার নাম কাকে দিবে।
তখনি সিয়া উঠে দাঁড়ায় তাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে তার মা বলে,,,
-“কিরে কোথায় যাচ্ছিস।
সিয়া রাশ ভারী আওয়াজে বলে,,,
-“ভার্সিটি।
এই টুকু বলে সে চলে যেতে নিবে তখন তার মার গলার আওয়াজ আসে,,,
-“খেয়ে যা।
তখনই সিয়া বলে,,
-“খিদে নেই।আর খিদে লাগলেও ক্যান্টিন থেকে খেয়ে নিব।
আর চলে যেতে নিবে তার আগে রুহিকে উদ্দেশ্যে করে বলে,,,
-“তোর কলেজ নাই।
রুহি জবাবে না বলে।সিয়া আবারো বলে,,
-“তাহলে এই তিন টার উপরে নজর রাখবি এই তিনজন যাতে বাড়ির বাহিরে না যেতে পারে।এদের খবর আমি এসে নিবো।
রুহি আবারো মাথা নাড়ায়।এরপর সিয়া চলে যায়।আর যাওয়ার আগে তিন জনের দিকে তাকাতে ভুলে না।সিয়ার সাথে দিয়াও চলে যায়।তাদের চলে যাওয়ার পর রুহি হু হু করে হাসতে থাকে।তারপর সে বলে,,,,
-“কি হলো ভাইয়া কথা বন্ধ হয়ে গেছে।এখন থেকে যা বলবে সাবধানে বলবে।
রুহির কথা শুনে আশিক বলে,,
-“তুই যে রুহি আগে কেন বলিস নি।এখন কি হবে।
-“বলি নাই।এখন যা হবে সব আপুর মর্জিতে হবে।এখন খাওয়ায় মন দেও।
এই বলে সে খাওয়ায় মন দেয় তার সাথে সবাই খাওয়ায় মন দেয়।
,
,
,
,
অন্য দিকে…..
আগন্তুক :মাই প্রিন্সেস।হোয়ার আর ইউ। কাম টু মি কুইকলি।আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।আমি পারছি না তোমাকে ছাড়া থাকতে।আমি তোমাকে আমার সোনার খাঁচায় বন্ধি করতে চাই।
আগন্তুক এই কথা বলার সময় তাঁর মুখে লেগে ছিল এক রহস্যময় হাসি।সে বড় একটি পেন্টিং এর সামনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো বলছিল।এই পেন্টিং টা কার ছিল।এই অজানা ব্যক্তিটার সাথে তার কি সম্পর্ক রয়েছে।তা গল্পের মাধ্যমে জানা যাবে।
আগন্তুক হচ্ছে গল্পের নায়ক। তার নাম রিয়ন কার্লেন।দেখতে অনেক আকর্ষণীয় সুন্দর।তার চোখ দুটো ছোটো ছোটো আর মনি দুটো হ্যাজেল কালার এর।চুলগুলো বাদামী কালার।
দেখতে যেমন সুন্দর আবার ভয়ঙ্কর ও আছে।আর রাগী ও একরোখা গোমরামুখো টাইপের।তার বসবাস হচ্ছে সুদূর ইংল্যান্ড এর লন্ডন শহরে।প্রচুর নাম ডাক আছে তার।
নামকরা টপ টেন বিজনেস ম্যানদের মধ্যে অন্যতম।সবাই জানে সে একজন রাগী আর বদমেজাজী টাইপের।তার বয়স সম্পর্কে কারো সঠিক কোনো ধারণা নেই।
ফ্যামিলিতে কে কে আছে তা জানা যায় না।আসলে সেই তার পার্সোনাল জীবন সম্পর্কে কারো কাছে বলে না।তাকে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি।কারণ সে তার ফেস রিভিল করতো না।আর ভীতরে রয়েছে হাজারো রহস্য যা সম্পর্কে কেউ অবগত নন।কি আছে রিয়ন এর মাঝে তা আমরা পরে জানতে পারবো।
এদিকে সিয়ানা আর দিয়া পৌঁছে গেছে তাদের গন্তব্য। আজকে তার ফাস্ট ডে ভার্সিটি তে।দিয়া খুশির ঠেলায় বলে,,,
-“আহ কি আনন্দ যে হচ্ছে আমার বলে বুঝাতে পারবো না। সে আর কিছুই বলতে পারলো না তার আগে সিয়া বলে,,,
-“বাকিরা কোথায়।
-“জানিনা এখনো আসছে না কেনো।বলতে পারব না।
দিয়ার কথা শুনে সিয়া বাকি সবাই কে কল দিতে যাবে তখন বাকিরা এসে হাজির।
সবাই এসে সিয়া আর দিয়া কে বলতে থাকে,,,
-“এই রে সরি রে একটু লেট হয়ে গেল।
সিয়ানা তাদের কথা শুনে বলে,,,
-“একটু লেট হয়েছে তোদের।কখন থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তোদের আসার নাম গন্ধ টুকু নেই।
রিমি বলে,,,
-“এই সরি রে দোস্ত। আর কখনো এত লেট হবে না।
সিয়ানা জবাবে বলে,,,,,
-“হুম।ওকে এটাই ফাস্ট এন্ড লাস্ট কিন্তু।
সবাই একসাথে ওকে বলে
ভাবছেন এর হয়তো এরা কারা।এরা হচ্ছে সিয়ানার ছোটো বেলার সঙ্গি।দিয়া, আরিফ, মামুন, সাঈম, রিমি, সাইফ আর সিয়ানা এটা ওদের ৭ জনের গ্রুপ। ছোটো বেলা থেকেই তারা একে অপরের সাথে রয়েছে কেউ কারো থেকে আলাদা হয় নাই।একজন আরেকজনের জীবন বলতে গেলে,,,প্রাণ ভমরা।
তারপর সিয়ানা বলে,,,
-“এখন চল অনেকটা লেট হয়ে গেছে।
সিয়ার কথায় সবাই ক্লাস এ চলে যায়।
তাদের প্রত্যেকটা ক্লাস ওই ভালো ভাবে কেটেছে।ক্লাস শেষ হওয়ার পর তারা আড্ডা দিতে থাকে।দিয়া বলে,,,
-“সিয়া শুন।আজকে যা হলো তারা যে তোকে এই ভাবে বললো তুই এর পর কি করবি তাদের সাথে।
তারপর সিয়া বলে,,,
-“স্পেশাল খাতির দারি করব।
তারা আর কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে যে যার বাসায় চলে যায়।
সিয়ানা গাড়ি নিয়ে বাসায় ঢুকে।গেরেজ এ গাড়ি রেখে বাড়ি ঢুকে পড়ে।
তখন বেলা বারোটা বাজে।
সিয়া ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পায় তারা সবাই হল রুম এ বসে আছে।সিয়া উপরে যাওয়ার সময় একবার তাদের দিকে তাকায়।তখন তার মা তাকে ডেকে বলে,,,
-“সিয়া,আজকে তোর প্রথম দিন কেমন কাটলো।
সিয়ানা জবাবে ছোটো করে বলে,,
-“ভালো।
মিসেস সায়রা আবার বলে,,,
-“ভালো হলেই ভালো।এখন যা গোসল করে নে।তারপর খেতে আয়।
সিয়ানা:আচ্ছা আম্মু।
সিয়ানা যাওয়ার আগে তাদের তিন জন কে বলে তার রুম এ যেতে।
-“তোমরা তিন জন বিশ মিনিট পর আমার রুম এ যাবে।একটুও দেরি যাতে না হয়।নাহলে এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।
এই বলে সে উপরে চলে যায়।বিশ মিনিট পর তারা রুম এ যায় গিয়ে তারা ভয় পেয়ে যায়।সিয়ার রুম দেখে।পুরো বাড়ি সাদা নীল কালার এর হলেও তার রুম ছিল কালো আর লাল কালার এর তার রুম এ ঢুকার জন্য পাসওয়ার্ড লাগে।
আর তার রুমে আধুনিক সব জিনিস পত্র।আধুনিক নাকি মায়াবী তারা বুঝতে পারলো না।আসার সময় আশিক কে তার মা সিয়ার রুম এর পাসওয়ার্ড বলে ছিল।তাই ঢুকতে অসুবিধা হয় নাই।তখন তাদের কাছে সিয়ার গুরু গম্ভীর আওয়াজ কানে আসে,,,
-“দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি বসবে।
তারা তাড়াতাড়ি করে বসে পরে সোফায় তার।সিয়ার রুম টা আশিক এর রুম এর থেকেও বড় ছিল।তার রুম এর সাথে বারান্দা আছে।বারান্দা তো নয় যেনো জিমনেশিয়াম।তারা বসতেই সিয়া বলে,,,
-“তোমরা সব মেয়েদের সাথেই এমন ব্যবহার করো।
হৃদয় ঘাবড়ে বলে,,,
-“নাহ।
-“নাহ।
সিয়ার ভয়েস টুন শুনে তারা আরো ঘাবড়ে যায়।
-“নাহ মানে মাঝে মধ্যে।
-“মাঝে মধ্যে।
এবার তারা আর নিতে না পেরে।সিয়ার পা ধরে বলে,,,
-“ক্ষমা চাই বইন।ক্ষমা করি দেও।(হৃদয়)
-“প্লিজ আমাদের ক্ষমা করি দে।(আশিক)
-“ক্ষমা” তোদের কি মনে হয় ক্ষমা চাইলে আমি ক্ষমা করে
দেবো।শুনে রাখ আমার ডিক্সেনারিতে ফরগিভ নামের
কোনো ওয়ার্ড নেই।(সিয়ানা)
সিয়ানা আবার বলে,,,
-“মিস্টার হৃদয় খান হৃদ।খান ইন্ডাস্ট্রির ওনার সিয়াম খানের ছোটো ছেলে।আহিয়ান খানের ছোটো ভাই আর রায়হান খানের গ্র্যান্ডসান আপনি কি বলবেন। কোনো মেয়েকে দেখে কাব্যিক ভাবে ফ্লার্টিং করা এটা কথা থেকে শিখেছেন।আমি যতোটুকু চিনি আপনার ফ্যামিলি তে কেউ এমন নয়।তাহলে আপনি এরকম হলেন কি করে।আন্সার মি।
সিয়ার কথা শুনে দিয়ান হৃদয় কে বলে,,,
-“এই রে হৃদ এই মেয়ে তো তোর পুরো কুন্ডলি বলে দিলো তোর নাম কি বাপের নাম কি কয় ভাই বোন সব বলে দিলো।
-“শুধু মিস্টার খানের নয় আপনার ও বায়োডাটা আছে আমার কাছে মিস্টার রোদ রহমান এর একমাত্র পুত্র।আমার ফ্রেন্ড এর একমাত্র ভাই যে কিনা কথার ছোটে নিজের বোনকে দেখতেও ভুলে গেছে।
সিয়ার কথা শুনে দিয়ান অবাক কন্ঠে সুধায়,,
-“আমার ছোটো বোন।
-“হুম আপনার ছোটো বোন দিয়া রহমান।কয়েক ঘন্টা আগে যে এসেছিল।
-“কিইইইই।
দিয়ান চিৎকার করে উঠে।দিয়ানের চিৎকার শুনে সিয়া ধমক দিয়ে বলে,,,
-“চুপ,,এক দম চুপ আর এক টা কথাও না।এখন আমার রুম থেকে বের হ সব কয়েটা।
সিয়ার ধমক খেয়ে তিন জন চলে যায় নিচে।এরপর সিয়া ও নিচে আসে খাবার খেতে।ডাইনিং টেবিল এ সবাই শান্ত ছিল কেউ কিছু বলে নাই।খাবার খাওয়া শেষে যে যার রুম এ চলে যায়।ঘুমানোর জন্য।
,
,
,
,
অন্যদিকে………
কার্লেন প্যালেস,,,
রিয়ন:কাজ শেষ হয়েছে।
এসিস্টেন:হুম স্যার হয়েছে।আর মাত্র কিছুদিন তারপর মেম আপনার কাছে চলে আসবে।
রিয়ন:গুড।এখন তুমি যেতে পারো।
এসিস্টেন:ওকে।
তারপর তার এসিস্টেন সেখান থেকে চলে যায়। এখানে রিয়ন হাতে একটা গ্লাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে তার কেবিনে। এই গ্লাস টাতে লাল কালার এর তরল জিনিস রয়েছে যা সে পান করছে।আর বলছে,,,
-“আর কিছু দিন তার পর তুমি আমার কাছে আসবে।সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে মেরি জান।
চলবে,,,,
নোট:এই গল্প টা আমি আরো আগেও দিয়েছিলাম।যখন আমি প্রথম লেখা শুরু করি।তখন এই গল্প টা দিয়ে শুরু করি।কিন্তু ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে আর দিতে পারি নাই।যখন নতুন ফোন হাতে আসলো তখন ভাবলাম এটা দেওয়া স্টার্ট করব কিন্তু পরে ভাবি এখন এটা কে পরবে।তাই আর দেই নাই।তাই ভাবলাম এটার বদলে আমি অন্য কোনো গল্প লেখি তাই মন মাতাল গল্প টা দেওয়া শুরু করলাম।এখন এই গল্প টা আমি আবার দিলাম আগের পর্ব গুলো থেকে এগুলো ভিন্ন হবে অনেকটা চেঞ্জ করে ও দিয়েছি।কিন্তু প্লট একই থাকবে।এখন আপনাদের মতামত চাচ্ছি দুই টা কি একসাথে চলবে নাকি একটা বন্ধ রেখে তারপর দিবো।তারপর সেটা শেষ হলে এটা দিবো।হ্যাপি রিডিং😊
পর্ব:০২(বিশেষ এলার্ট)
❌অনুমতি ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
❌প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য।
*
*
•এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
,
,
,
সাড়ে পাঁচ টা বাজে তখন সিয়া ঘুম থেকে উঠে পড়ে।তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।সুর্য পশ্চিম আকাশে ডুব দিতে শুরু করেছে।সিয়ার এই সময় কফি খেতে খুব ভালো লাগে।তাই সিয়া ফ্রেশ হতে ওয়াশ রুমে চলে যায়।হাত মুখ ধুয়ে বেরিয়ে চলে যায় নিচে নিজের জন্য কফি করার জন্য।নিচে যাওয়ার পর সিয়া দেখে আশিক,হৃদয় আর দিয়ান সোফায় বসে আছে।তারা কি নিয়ে জানি কথা বলছে।সিয়া এগুলোতে কান না দিয়ে কিচেন এ চলে যায়।অন্য দিকে সিয়া কে নামতে দেখে তাদের তিন জনের কথা বন্ধ হয়ে যায়।তারা এক জন আরেক জন এর চেহারা দেখে।কিছুক্ষণ পর সিয়া কফি বানিয়ে ছাদে চলে যায়।ফ্রেশ হাওয়া নিতে।সিয়া চলে যাওয়ার পর তাদের কথা শুরু হয়।হৃদয় আশিক কে উদ্দেশ্য করে বলে,,,
-"ভাই তুই কেমন ভাই হলি কোনটা কোন বোন।তুই বুঝতে পারলি না।
হৃদয়ের কথার সাথে সহমত হয়ে দিয়ান বলে,,,
-"ঠিক বলছিস তুই।আজকে তো এর চক্করে আমাদের ভবলীলাসাঙ্গ হতে হতে বেচেঁ গেছি,,,নাহলে এর বোনের যা চাহনি তার চোখের দিকে তাকালেও ভয় লাগে।আর এ সমস্ত কিছুর মধ্যে আমার বোন যে তোদের বাসায় আসছে সেটাও দেখি নাই।আর দশ কথার এক কথা আমার বোন কে তোরা কি করে চিনিস।
আশিক তাদের কথার জবাবে বলে,,,
-"আমি কি জানি যে আমরা যার সাথে প্রথম এসে কথা বলছি সেটা আমার ছোটো বোন বাহির হইবো।আর যদি জানতাম তাহলে তো আমি তোদের কে বলে দিতাম।আর রইলো দিয়ান এর বোন দিয়ার কথা ওরা দুই জন তো ছোটো বেলার ফ্রেন্ড ছোটো থাকতে অনেক বারই আসতো বাড়িতে।
আশিক এর কথা শুনে দিয়ান হতবাক হয়ে বলে উঠে,,
-"কীহ্,,তার মানে রিদ্দিমা ওই ছোট মেয়ে টা যে আমাদের বাড়িতে আসতো।শুধু সে একা নয় তার পুরো ফৌজ সহকারে আসতো।
দিয়ানের কথা শুনে ওরা দুই জন হতভম্ব হয়ে গেলো আর বললো,,,
-"ফৌজ"
-"হুম,,মানে তাদের ফ্রেন্ড দের ফৌজ বললাম।
-"ওহ্।
-"তো এই ফৌজ এ কে কে আছে?(আশিক)
-"তাদের সবার নাম হলো আরিফ, মামুন, সাঈম, রিমি, সাইফ আর লাস্ট তোর আর আমার বোন সিয়ানা আর দিয়া।
-"ও আচ্ছা।বাপরে রিদির এত ফ্রেন্ড মাশাল্লাহ।কারো এমন ফ্রেন্ড জোন দেখি না।
-"হুম।
এরপর তারা সিয়ানাদের নিয়ে আরো কিছুক্ষণ কথা বলতে থাকে।ছাদে,,,,,তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে সিয়ানা তখনও ছাদে দাড়িয়ে আছে।আর অন্যমনস্ক হয়ে আছে।সে গভীর ভাবে কিছু ভেবে চলেছে।সে মনে মনে আওরায়,,,
-"কাল বাদে পরশু আমাদের ভার্সিটি থেকে ট্যুর এ যাবে আমেরিকায় আর যেই কয়দিন লাগবে সেই কয়দিন এর মধ্যে আমার কাজ শেষ করতে হবে।
সিয়া যখন এগুলো ভাবছিল তখন তার ফোন বেজে উঠে।সে ফোন সামনে নিয়ে দেখে রিমি কল করেছে।সে ফোন পিক করে।
-"হ্যালো,,,,রিমি বল।
ওই পাশ থেকে রিমি বলে,,,,
-"দোস্ত তাড়াতাড়ি আন্ডার গ্রাউন্ড প্লেস এ চলে আয়।ওই শালা গুপ্ত চোর কে ধরে বেঁধে রেখেছি।
-"এখন তার কি অবস্থা বেঁচে আছে নি।
-"বেঁচে আছে কিন্তু জ্ঞান হীন হয়ে আছে।এখন তুই তাড়াতাড়ি আয়।
-"আচ্ছা,,,,,ঠিক আছে আমি আসছি।
এই বলে ফোন কেটে দেয়।তখন সূর্য ডুবে গেছে অনেক সময় পার হয়ে গেছে।তার হাতের কফি ও শেষ হয়ে গেছে।সে আনমনে কিছু ছোক কষছে।তারপর সে নিচে তার রুম এ চলে যায়।রুম থেকে একেবারে রেডি হয়ে চলে যায় হল রুম এ।কফি কাপ টা একটা স্টাফ এর হাতে ধরিয়ে দেয়।তখন সবাই উপস্থিত ছিল হল রুম এ।সন্ধ্যার নাস্তা করার জন্য বসে আছে।সিয়া কে রেডি হয়ে নামতে দেখে তার মা বলে উঠে,,,
-"কিরে তুই এই সময় কোথায় যাচ্ছিস।
তার মার প্রশ্নের প্রতি উত্তরে সিয়া বলে,,,
-"কাজ আছে।
-"খেয়ে যা।
-"বাহির থেকে খেয়ে নিব।
সিয়া যেতে নিবে তখন তার বাবা ডেকে উঠে,,,
-"সিয়া।
সিয়া তার বাবার ডাকে সাড়া দিয়ে বলে,,,
-"জী বাবা বলো।কি বলবে?
মিস্টার সামির চৌধুরী তাকে বলেন,,,
-"যখন যাচ্ছ তখন তোমার ভাই আর তার ফ্রেন্ড দের ও সাথে নিয়ে যাও তোমার সাথে একটু ঘুরে আসুক।
মিস্টার চৌধুরীর কথা শুনে সিয়া ছোটো ছোটো চোখ করে তাকায় তার বাবার দিকে আরেক বার তার ভাইয়ের দিকে যারা এই মুহূর্তে তার দিকেই চেয়ে আছে।সিয়া বুঝে গেছে তার সাথে যাওয়ার কথা তার বাবা কখনো উঠবে না এই কাজ তার ভাইয়ের তাই সে বলে,,,,
-"আমি ঘুরতে যাচ্ছি না।আমি আমার কাজে যাচ্ছি।
তখন আশিক বলে,,,
-"কি কাজ আমিও যেতে চাই।
আশিক এর কথা শুনে সিয়া শীতল চোখে তার দিকে তাকায় আর বলে,,,
-"এটা আমার ব্যাক্তি গত ব্যাপার যে কি কাজ।আমি আমার কাজের ভিতর কাউকে এলাউ করি না তা সে যেই হোক না কেনো।
আশিক সিয়ার কথা শুনে তার বাবার দিকে মুখ গোমড়া করে তাকায়।তাদের বাবা তার মুখ দেখে সিয়াকে বলে,,,
-"আগে দিতে না এখনো দিবে না।জাস্ট তুমি যেখানে যাচ্ছো সেখানে নিয়ে যাও।
মিস্টার চৌধুরী এইটুকু বলে থামে।তখন সিয়া বাঁকা হেসে বলে,,,
-"আর ইউ শিউর।
তার কথা শুনে মিস্টার সামির আবার বলে,,,,
-"হুম,,,,তারা একবার গেলে আর যেতে চাইবে না।
তখন আশিক বলে,,,
-"একবার গেলে আর যাইতে চাইবো না মানে।আমরা শত বার যাব কিরে বল তোরা।
হৃদয় আর দিয়ান একসাথে বলে,,,
-"হুম একবার গেলে আবার যাবো।
সিয়া তাদের কে বলে,,,
-"ওকে ফাইন।
এই বলে সে বাইক এর চাবি রেখে গাড়ির চাবি নেয়।আর পার্কিং লট এ চলে যায় গাড়ি আনতে।সিয়া গাড়ি নিয়ে বাড়ির সিঁড়ির কাছে নিয়ে আসে তখন তারা তিন জন নিচে নামছিল।তখন সিয়া হর্ন বাজায়।তারা তিন জন নিচে তাকিয়ে দেখে সিয়া গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তিন জন তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে গিয়ে বসে তারপর সিট বেল্ট লাগিয়ে নেয়।তারা বসার পর সিয়া গাড়ি চালিয়ে দেয়।আর গাড়ি চলতে থাকে তার আপন গতিতে।তখন রাত আট টার মত বাজে।সিয়া যখন গাড়ি চালাচ্ছিল তখন তার ফোন এ কল আসে।সে ফোন বের করে দেখে দিয়া কল করেছে।ফোনের সাথে ব্লুটুথ কানেক্ট করে সামনে ফোন স্ট্যান্ড এ ফোন রেখে দেয়।আর ব্লুটুথ এর সাইড এর বাটন এ প্রেস করে কল রিসিভ করে।ব্লুটুথ লাগানোর ফলে ওই পাশে কে কি বলে তা শোনা যায় না।কল রিসিভ করার পর সিয়া বলে,,,
-"হ্যালো!
-"(,,,,,,,,,,)
-"গাড়িতে আছি আসছি আমি।
-"(,,,,,,,,,,)
-"বেশি না দশ মিনিট লাগবে।
-"(,,,,,,,,)
-"গাড়ি আমি চালাচ্ছি।তো সময় অল্প তো লাগবে।তোরা তার খাতির যত্ন কর ততক্ষণ।আর শুন একটা রুম রেডি কর আমার সাথে তিন বাদর আছে।তাদের জন্য রুম লাগবে।
-"(,,,,,,,)
-"এলেই দেখতে পাবি।
এই বলে সে কল কেটে দেয়।সিয়ার কথা শুনে তাদের চক্ষু চরক গাছে।আশিক বলে,,,
-"তুই আমাদের বাদর বললি।
তার কথা শুনে সিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,,,
-"উপস আমি কি কারো নাম উচ্চারণ করেছিলাম নাকি।
আশিক ওর কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যায় আর কপালে চাটা মা/রে।নিজের কথায় নিজেই ফেঁসে গেছে।সিয়া আশিক এর এমন মুখ দেখে কিছু বলে না।সে গাড়ি চালানো তে মন দেয় তারপর ফাঁকা রাস্তা দেখে গাড়ির স্পিড হাই করে দেয়।হঠাৎ গাড়ির গতি বেড়ে গেছে দেখে তারা তিন জন ভয় পেয়ে গাড়ির সিট ধরে বসে।আশিক সিয়াকে গাড়ির স্পিড কম করতে বলে।কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয় না।তারপর হঠাৎ করে গাড়ি থেমে যায়।তারা তিন জন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।ভাগিস সিট বেল্ট বাধা ছিল নয় তো চেহারার নকশা চেঞ্জ হয়ে যেতো তাদের।তারা দেখে সিয়া গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছে তাই তারা তিন জনও নেমে পড়ে নেমে দেখে এটা একটা জঙ্গল।সিয়া কে জঙ্গলের ভিতর যেতে দেখে তারাও তার পিছু পিছু যায় আর তাকে ডাকতে থাকে।সিয়া থামে না বরং হাঁটতে থাকে।হাঁটতে হাঁটতে একটা কুঠুরির সামনে এসে থামে।সিয়া সেটার ভিতর চলে যায়।আশিক,হৃদয় আর দিয়ানও কুঠুরির ভিতরে ঢুকে পড়ে।আর ঢুকে দেখে সিয়া নিচে বসে আছে।সিয়া তাদের কে উদ্দেশ্য করে বলে,,,,
-"এখানে তোমরা নিজের ইচ্ছা তে এসেছো আমি আনি নি।যদি এমন কিছু দেখো যা সহ্য করার মতো নয় তা দেখে কিছু হলে সেটা আমার দায়িত্ব নয়।
এই বলে সে নিচে থাকা আন্ডার গ্রাউন্ড প্লেস এর দরজা খুলে দেয়।তারপর সে সেখানে ঢুকে পড়ে তার দেখা দেখি বাকি তিন জন ও ভয় নিয়ে ঢুকে পড়ে তারা ঢুকার সাথে সেই কুঠুরি টা অদৃশ্য হয়ে যায়।তারা সবাই নিচে নেমে আসে।আশিক,হৃদয় আর দিয়ান সামনে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায় এটা তো একটা আন্ডার গ্রাউন্ড প্লেস এখানে সিয়া কি করছে।সিয়া সামনে এগিয়ে যায় তার পিছু পিছু তারা তিন জন যায়।সিয়া একটা দরজার সামনে দাঁড়ায় দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে তারা তিন জন ও ঢুকে আর দেখে এটা একটা ছোটো খাটো হল রুম এর মতো।তারা সামনে তাকিয়ে দেখে সিয়ার পুরো বন্ধু মোহল এখানে উপস্থিত রয়েছে।সবাই বসে এখানে বসে সিয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলো।সিয়ার ফ্রেন্ড'রা
তাদের এখানে দেখে হতবাক হয়ে আছে।তখন দিয়া বলে,,,,
-"কিরে এরা কি তোর বলা সেই তিন বাদর।
সিয়া জবাবে কিছু বলে না শুধু তাদের দিকে আড়চোখে তাকায়।তখন রিমি দিয়াকে উদ্দেশ্য করে দিয়ান কে দেখিয়ে বলে,,,
-"এই দিয়া এটা তোর ভাই দিয়ান না।
রিমির ইশারা অনুযায়ি দিয়া দিয়ান এর দিকে তাকায় তখন দিয়া বলে,,,
-"কিসের ভাই?যদি ভাই হতো তাহলে আজকে আমাকে দেখে কথা বলতো।কিন্তু সে তো আমাকে দেখেই নি।
তখন দিয়ান বলে,,,
-"আরে বা'ল আমি কি জানতাম নি তুই সেখানে আসছিলি।আমি ভাবলাম অন্য কেউ হয়তো।
-"হইসে আর বলা লাগবো না।
এর মধ্যে হৃদয় বলে উঠে,,,
-"আচ্ছা তোমরা এখানে কি করো এই আন্ডার গ্রাউন্ড বেসমেন্ট এ।
তখন সিয়া বলে,,
-"জেনে কি করবে সরাসরি দেখে নেও যে এখানে কি করি। তোমাদের আবার আমার সাথে ঘুরতে আসার খুব শখ কিনা।
কাম ফাস্ট।
এই বলে সে রুম থেকে বের হয়ে যায়।তার পিছু পিছু সবাই বের হয়ে চলে যায় বেসমেন্ট এর আরো গভীর এ যেখানে দুই জন ছেলেকে বেঁধে রাখা হয়েছে।আশিক,হৃদয় আর দিয়ান এখানে এসে এদের বাঁধা অবস্থায় দেখে অবাক হয়ে যায় তারা কিছু বলতে নিবে।কিন্তু তাদের তিন জন কে চুপ করে থাকতে বলা হয়।
(বিশেষ এলার্ট:এখানে খুনের বীভৎস বিবরণ দেওয়া হয়েছে।যাদের হার্ট দুর্বল তারা এড়িয়ে যান।)
ওই দুইটা ছেলের সামনে সিয়া গিয়ে দাঁড়ায়।পুরো রুমটাতে রেড লাইট এর নিয়ন আলো ছড়িয়ে আছে।সেই আলোতে সিয়ার চেহারা টা ভয়ংকর দেখা যাচ্ছে।সিয়ার পাশে রয়েছে একটা টেবিল যেখানে রয়েছে নানা ধরণের ছোটো বড় ধারালো হাতিয়ার।সিয়া ধীরে ধীরে টেবিল এর কাছে গিয়ে দাঁড়ায়।আর ছেলে দুটো কে উদ্দেশ্য করে বলে,,,
-"কে তোদের এখানে পাঠিয়েছে।আমার পিছনে তোদের মত কুকুর দের কে লেলিয়ে দিয়েছে বল।"
এই বলে সে ছেলে দুই টার সামনে যায়।তার হাতে ছোটো একটা নাইফ।নাইফটা দেখতে ছোটো হলেও কিন্তু এর ধার অনেক।সিয়া একটা ছেলের থুতনির নিচে নাইফ টা ধরে আর বলে,,,
-"ভালোয় ভালোয় বলে ফেল নাহলে বলার জন্য সুযোগ পাবি না এমন ও হতে পারে,,,কে তোদের পাঠিয়েছে এটা জানার পর তোদের আমি ছাড় দেই।
তখন দুই টা ছেলের মধ্যে একটা ছেলে বলে,,,
-"কখনো না তোকে আমরা কখনো বলবো না।এমন তো হতে পারে তোকে বলার পর তুই আমাদের ছেড়ে না দিস।
ছেলেটার এই কথা শুনে সিয়া তার দিকে শীতল চোখে তাকায় তার ঠোঁটে বাঁকা হাসি।সিয়া বলে,,,
-"তোরা বললেও ম'র'বি না বললেও ম'র'বি।যদি না বলিস তাহলে তরপিয়ে ম'র'বি।যদি বলে দিস তাহলে তোদের আমি সহজ মৃ'ত্যু দিতে পারি।চোয়েজ ইস ইয়োরস্।একটা কথা মনে রাখিস,"আমি ছাড় দেই কিন্তু ছেড়ে দেই না।"
এই বলে সে সেখানে থাকা একটা ছেলের হাতে ছুড়ি ঢুকিয়ে দেয়।ছেলেটা গগণ বিদারী চিৎকার দিয়ে উঠে।তার চিৎকার এর আওয়াজে সিয়ার ঠোঁটে পৈশাচিক হাসি দেখা দেয়।সে ছেলেটার হাত থেকে নাইফ উঠিয়ে নেয়।ছেলেটা কে আরেকটু তরপানোর জন্য সিয়া প্রথমে ছেলেটার বাম হাতের কাঁধ থেকে হাতের কবজি পর্যন্ত আস্তে আস্তে করে চা'ম'ড়া তুলতে থাকে।চামড়া তুলার সাথে সাথে ছেলেটা আরেক দফা চিৎকার দিয়ে উঠে।বাম হাতের চা'ম'ড়া উঠানোর পর ডান হাতের চা'ম'ড়াও ঠিক একই ভাবে তুলতে থাকে।সিয়া যতো সময় নিয়ে তাদের চামড়া তুলেছিল তত জোরে তার চিৎকার এর আওয়াজ আসছিল।এক সময় চিৎকার করতে করতে তার গলা ভেঙে যায়।এটা দেখে সিয়া বলে,,,
-"এখনো সময় আছে বল।যদি সব সত্যি বলিস তাহলে তুই মুক্তি পাবি।
তারা তবুও কোনো কিছু বলছে না দেখে।যেই ছেলের হাতে চা'ম'ড়া উঠিয়ে ফেলেছে সেই ছেলেটার জিভ টেনে বের করে আর সেই নাইফ দিয়ে কেটে ফেলে।ছেলেটা ব্যথার চোটে কাতরাতে থাকে।এই ছেলেটার এই অবস্থা দেখে পাশের জন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।তাও সিয়া থামে নি।চা'ম'ড়া ছাড়া হাতে মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দেয়।লাল মরিচের গুড়া হাতে পড়ায় ছেলেটা যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।তার চোখ উল্টিয়ে আসে।তারপর সিয়া তার খেল খতম করার জন্য তার দেহের ভিতর ফ্লোরোঅ্যান্টিমোনিক এসিড(যা পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারএসিড হিসেবে ধরা হয়।প্রায় সবকিছুই ক্ষয় করতে পারে।)একটি বিশেষ সিরিঞ্জ এর মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেয়।এসিড ঢুকানোর সাথে সাথে ছেলেটা চোখের সামনে ছটফট করতে থাকে।তার দেহের থেকে চা'ম'ড়া খুলে পরতে থাকে।পুরো শরীর জ্বলতে থাকে দেখে মনে হচ্ছে কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।হাড়ের থেকে মাংসও খুলে পড়ে।একসময় ছেলেটা মারা যায়।ততক্ষণে পাশের ছেলেটাও জেগে উঠে।সে নিজের পাশের জনের এই অবস্থা দেখে আতকে উঠে সে থরথর করে কাপতে থাকে।সিয়া সেই ছেলেটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।সিয়াকে নিজের সামনে দাঁড়াতে দেখে ছেলেটা হাঁউমাউ করে কাঁদতে থাকে।বেচারা অনেক ভয় পেয়ে গেছে।ছেলেটা আর সহ্য করতে না পেরে।গড় গড় করে সব বলতে থাকে,,,,
-"আ,,আম,,,আমাকে ড,,,ডর,,,ড্রাগন গ্রুপ এর ল,,,লি,,,লিডার পাঠিয়েছে।আপনাকে খ,,,খ'ত'ম করতে।
কান্নার চোটে বেচারা ঠিক ভাবে কথাও বলতে পারছে না।অনেক কষ্টে এই দুই টা লাইন বলে শুধু।সিয়া ড্রাগন গ্রুপ এর নাম শুনে রেগে যায়।সে তৎক্ষণাৎ টেবিল থেকে একটা কুড়াল নিয়ে নেয় আর একের পর এক কো'প দিতে থাকে ছেলেটার গায়ে।একবার পিঠে, একবার বুকে,একবার মাথায়।তারপর একটা কো'প দেয় বাম হাতে কো'প দেওয়ার সাথে সাথে হাত কে'টে নিচে পড়ে।ওপর হাতেও কো'প দেয়।পর পর অনেক গুলো কো'প দিয়ে হাত পা আ'লা'দা করার পর শেষ কো'পে মাথা আ'লা'দা করে ফেলে।মাথাটা গিয়ে দূরে ছিটকে পড়ে।প্রথমে কো'প দেওয়ার সাথে সাথেই ছেলেটা তখন মা'রা গিয়েছিলো কিন্তু,,,,এতক্ষণ কু'পি'য়ে নিজের ক্ষো'ভ মিটাচ্ছিল।
নিজের রাগ মিটিয়ে সে সরে আসে।সিয়ার এই রূপ দেখে আশিক,হৃদয় আর দিয়ান থর থর করে কাঁপতে থাকে।আশিক তো ভয়ের চোটে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছে।সে নিজের বোন এর এই কি রূপ দেখছে।তারা তিন জন বেহুঁশ হওয়ার পর্যায়ে চলে এসেছে।সিয়াকে লাল বাতির এই নিয়ন আলোতে অনেক ভয়ংকর দেখা যাচ্ছে।তার পুরো শরীর রক্তে রঞ্জিত।তার জামা রক্তে ভিজে চিপচিপে হয়ে আছে।তার ঠোঁটে লেগে আছে সেই পৈশাচিক হাসি।সে আরিফ কে বলে এই দুই টা লাশ তার মালিক এর কাছে পার্সেল হিশেবে পৌঁছে দিতে তার সাথে একটা ক্ষুদ্র বার্তা।যে তাকে মা'রা এত সহজ না।যতোটা না সে ভাবছে।আরিফ শুধু মাথা নাড়ায়।সিয়া সেখান থেকে চলে যায় শাওয়ার নিতে।এতক্ষণ রক্তে গোসল করছিলো এখন পানি দিয়ে গোসল সারবে।
কিছুক্ষণ পর,,,,
সিয়া শাওয়ার নিয়ে একই রকম কাপড় পড়ে বেরিয়ে আসে।তার পড়নে ব্ল্যাক জিন্স,কালো লেডি'স টি-শার্ট আর কালো ডেনিম জ্যাকেট।তারা সবাই একই ধরণের ড্রেস আপ করেছে শুধু আশিক আর তার ফ্রেন্ড দুই জন ছাড়া।সিয়া যখন ওয়াশ রুম থেকে বের হয় তখন দেখে তারা তিন জন একই রকম আছে।তারা মূলত শোকের মধ্যে আছে।তার বুঝার চেষ্টা করছে যে কিছুক্ষন আগে কি হয়েছিলো।সিয়া তাদের সামনে গিয়ে তুরি বাজায়।তারা তিন জন ভাবনার মধ্যে থেকে বের হয়ে আসে।তিন জন তাদের সামনে সিয়া কে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঘাবড়ে যায়।সিয়া তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলে,,,
-"এখানে যা দেখেছো সেটা যাতে বাহিরের কেউ জানতে না পারে।যদি কেউ জেনেছে তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।এটা তো শুধু ডেমো ছিল পুরো পিকচার আমি তোমাদের দিয়ে শুরু করব নাহলে।আর আমার ফিরতে লেট হবে তোমাদের কে বাসায় দিয়ে আমি আরেক জায়গায় যাব।তাড়াতাড়ি এসো।
এই বলে সে সেখান থেকে চলে যায় বাহিরে বাকিরাও তার পিছন পিছন বের হয়ে যায়।সিয়ারা গাড়িতে উঠে বসে তারপর তারা চলে যায় বাড়ির দিকে।তাদের কে নামিয়ে দিয়ে সে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যায় তার গন্তব্যে।যাওয়ার আগে সিয়ানা তাদের তিনজনের দিকে চোখ দিয়ে ইশারা করে যায় যাতে কাউকে কিছু যাতে না বলে।তারাও ভিতরে গিয়ে কাউকে কিছু বলে না।
,
,
চলবে.........
❌অনুমতি ছাড়া কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
❌প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্তমনাদের জন্য।
*
*
•এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
,
,
,
,
আকাশ ছেদ করে উকি দিল সূর্য।সূর্যের আলো পুরো ধরণীকে আলোকিত করে দিল।সময় কখনো কারো জন্য থেমে থাকে না।সময় চলমান।তেমনি আমাদের জীবনো স্থির নয়।সে তার আপন গতিতে চলতে থাকে।
____________________________________________
সিয়ানা কালকে রাতে খুব দেরিতে বাড়ি গিয়েছিলো।কাজ শেষ করতে করতে রাত বারোটা বেজে গিয়েছিলো।ওই সময় রাস্তায় গাড়ি না থাকায় সে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে আসতে পেরেছিল।তার কাছে বাড়িতে ঢুকার জন্য একটা ডুপ্লিকেট চাবি থাকায় সিয়া বাড়িতে ঢুকতে পেরেছিলো।বাড়িতে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে জামা বদলে সে ঘুমিয়ে পড়েছিলো।
সিয়ানা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে গেছে।কাল রাতে তার ঠিক মতো ঘুম হয় নাই।রাতে ঘুমানোর পর সে অদ্ভুত এক সপ্ন দেখে।যেটা সে ছোটো বেলা থেকেই দেখে আসছে।যার কারণে সে আর ঘুমাতে পারেনি।সে বিছানায় শোয়া অবস্থায় ভাবছে।
সিয়ানা গভীর ভাবনায় থেকে মনে মনে আওরালো,,
-"কি হচ্ছে আমার সাথে।কেনো বারবার আমি একই সপ্ন দেখে আসছি।মা-বাবাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তো বলেন।এগুলো সাধারণ ব্যাপার স্ট্রেস নিলে এমন একটু হয়ই।
সে তার সপ্নে যা দেখতো তা হলো।দুটো ছেলে আর মেয়ে একটা উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে আছে।তাদের মধ্যেকার দূরত্ব প্রায় চার হাত পর্যন্ত।তাদের পোশাক দেখে মনে হচ্ছিল তারা কোনো যোদ্ধা।তাদের হাতে উজ্জ্বল কোনো ধারালো কিছু ছিল। যেটা দেখে মনে হচ্ছিল কোনো তলোয়ার।এক্ষুনি তারা যেন লড়াই করবে।এক পর্যায়ে দেখে তারা লড়াই করা শুরু করে দিয়েছে।লড়াই করার এক পর্যায়ে মেয়েটার পেটে তলোয়ার ঢুকে যায় তারপর ওই সিয়ানার ঘুম ভেঙ্গে যায়।সে তাদের চেহারাটা বুঝতে পারলো না।তাদের চেহারাটার সামনে ঘন কুয়াশা ছিল।এমন মনে হচ্ছিল।তারা যেই জায়গায়টায় ছিল শুধু সেটাই দেখতে পেরেছিল।
সে এই কথা ভাবছিলই হঠাৎ তার জানালায় কড়া আঘাতের শব্দ পেলো।সে তৎক্ষণাৎ শোয়া থেকে উঠে জানালার কাছে গেলো।কিন্তু সেখানে গিয়ে সে কিছুই দেখতে পেলো না।সিয়া ভাবলো হয়তো হাওয়ার কারণে শব্দ হয়েছে।তারপর সিয়া সেখান থেকে বারান্দায় চলে গেলো অশান্ত মনটাকে শান্ত করার জন্য।কিছুক্ষণ যাবৎ সে সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে ওয়াশরুম এ চলে গেলো ফ্রেশ হওয়ার জন্য।ফ্রেশ হয়ে এসে সে সোজা নিচে চলে গেলো।নিচে গিয়ে ড্রয়িং রুম পেরিয়ে সদর দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলো।উদ্দেশ্যে বাগানে যাওয়া। সিয়ানার পছন্দের ফুল গাছে ভরা পুরো বাগান।বাগানের মাঝ বরাবর রাস্তা রয়েছে গেইট দিয়ে বের হওয়ার জন্য।সে কিছুক্ষণ গাছগুলো পর্যবেক্ষণ করে বাড়ির ভিতর চলে গেলো।
তখন মিসেস চৌধুরী আর মিস্টার চৌধুরী হল রুম এ বসে ছিলেন সিয়ানা কে দেখে জিজ্ঞেস করে,,,
-"কালকে কখন এসেছো বাড়িতে?
বাবার কথা শুনে সিয়ানা দাঁড়িয়ে যায়।বাবার দিকে তাকিয়ে বলে,,
-"বারো টার পর।
সিয়ার বাবা বলেন,,,
-"এত দেরিতে কেনো আগে তো তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যেতো।
তখন সিয়া বলে,,,
-"কালকে কয়েকটা মিটিং ছিল আর কিছু পেন্ডিং ফাইল ছিল সেগুলো কমপ্লিট করতে দেরি হয়ে গেছে।
এর জবাবে মিস্টার সামির আর কিছু বলেন না।সিয়ানাও উপরে চলে রেডি হতে।তারপর নিচে নেমে খেয়ে দেয়ে ভার্সিটি চলে যায়।এভাবেই তার দিন যেতে লাগলো।ভার্সিটি থেকে বাড়ি।বাড়ি থেকে কোচিং।আর কিছু হলে আন্ডার গ্রাউন্ড প্লেস এ গিয়ে নিজে কে ঠান্ডা করা।আর ঘুমানোর সময় একই ভিশন দেখা।ওই দিন এর পর থেকে তার ভাই আর ভাইয়ের ফ্রেন্ডস'রা ভয়ে থাকে।
কিছুদিন পর.............
সে প্রতিদিন ওই ভার্সিটি যায়।তার দিন ও ভালো যায়।কিন্তু সেই দিনটা অন্যরকম ছিল।
ভার্সিটি,,,,,,
-"এই তোরা শুনেছিস।(দিয়া)
-"কি শুনবো।(রিমি)
রিমির কথার জবাবে দিয়া বলে,,,
-"আজকে নাকি প্রিন্সিপাল স্যার নাকি কি ঘোষণা করবেন।
দিয়ার কথা শুনে সাইফ তাকে জিজ্ঞেস করে,,,
-"কি নিয়ে রে ঘোষণা করবে রে দিয়ু।
-"তা তো জানি না।
তখন সিয়ানা বলে,,,,
-"আমাদের কলেজ থেকে কয়েক জনকে সিলেক্ট করবে।রিসার্চ এর জন্য।আর যারা রিসার্চ এর জন্য যাবে তাদের দেখাশোনা করার জন্য আমাদের কে নিয়োগ করা হবে।মোট চারটার গ্রুপ করবে।আর প্রত্যেক গ্রুপ এ দশ জন করে মেম্বার এর এক বা দুই জন করে লিডার থাকবে।
তার কথায় সবাই হতবাক হয়ে বলে,,,
-"রিসার্চ এর জন্য।আর আমাদের কেও যেতে হবে।
-"হুম।রিসার্চ এর জন্য।আর আমাদের কেও যেতে হবে।
সিয়ানা আবারো বলে,,,
-"ছয় টা গ্রুপ এর মধ্যে প্রথম গ্রুপ এ আমি লিড করব।দ্বিতীয়টাতে দিয়া আর সাইফ,তৃতীয়টাতে রিমি আর আরিফ,চতুর্থটাতে সাঈম আর মামুন।আর আরেকটা কথা তাদের রিসার্চ শেষ হয়ে গেলেও আমরা আসবো শুধু সেই চল্লিশ জনেকে পাঠিয়ে দিবো আর আমরা থেকে যাবো।
সিয়ার কথায় মামুন বলে,,,
-"কিসের রিসার্চ করবে।আর আমরা থেকে যাবো মানে।
তখন সিয়ানা বলে,,,,
-"তারা এমন সব প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করবেন।যার কোনো অস্তিত্ব আদেও আছে কিনা সেটা দেখার জন্য।তারা একটা রিসার্চটিম তৈরি করবেন।কাদের কে নিয়ে করবেন তা ঠিক জানি না।আর রইলো আমরা কেনো থেকে যাবো।সেটা গিয়েই বলবো।
-"ও আচ্ছা আর এমন সব প্রাণী যেমন।(আরিফ)
-"যেমন ভ্যাম্পায়ার'স,ওয়ারওলফ আর এন্জেল।এদের নিয়ে গবেষণা করবেন।এদের অস্তিত্ব আদেও আছে কিনা পৃথিবীতে তা খুঁজে বের করার জন্য এই পন্থা।
সবাই একসাথে বলে,,
-"ওওও আচ্ছা।
তখন সাঈম কিছু একটা ভেবে বলে,,,
-"তুই কিভাবে জানলি।এসব কিছু।
তার কথায় সিয়ানা বাঁকা হেসে জবাব দিল,,,
-"আই নো এভরিথিং।
সিয়ানার জবাব শুনে সবাই আর কিছুই বললো না।কারণ তারা জানে ওকে এখন কিছু বলেও লাভনাই।
তারপর সিয়া ভার্সিটি শেষে বাড়ি চলে আসে।
রাত্রে খাওয়ার সময়..........
সবাই টেবিল এ বসে খাবার খাচ্ছে।আশিক,হৃদয়,দিয়ান,রুহি,মিস্টার সামির,মিসেস সায়রা আর সিয়ানা।হঠাৎ,,,,
সিয়ানা তার বাবা কে বলে,,
-"আব্বু আম্মু আমাকে আমেরিকা যেতে হবে।
মিস্টার সামির সিয়ার কথা শুনে বলে,,,
-"হঠাৎ আমেরিকাতে কেন?
সিয়ানা তার বাবাকে বলে,,,
-"আমাদের কলেজ থেকে একটা রিসার্চটিম গঠন করা হয়েছে।আর তাদের দেখা শোনা করার জন্য আমাকে নিয়োগ করা হয়েছে সাথে আমার ফ্রেন্ডস দের।তাই আমাদের যেতে হবে।
মিসেস সায়রা সিয়াকে জিজ্ঞেস করে,,
-"কিসের রিসার্চ এর জন্য যাবি।
তখন সিয়ানা বলে,,,
-"আমাদের পৃথিবীতে আদেও কোনো এমন মানব আছে।যারা অন্য ধর্মীর যেমন ভ্যাম্পায়ার'স,ওয়্যারওলফ এগুলো সম্পর্কে রিসার্চ করতে বলছে।যার জন্য বাহিরের দেশে যেতে হবে।
সিয়ানা আবার বলে,,,
-"আর এভাবেও আমাকে আমেরিকাতে যেতে হতো।
মিস্টার সামির বলেন,,
-"কি জন্য।
জবাবে সিয়ানা বলে,,,
-"কিছু কাজ আছে আমার সেখানে।আর তোমরা তো জানোই আমি কেমন মেয়ে।
মিস্টার সামির বলে,,,
-"কবে যাচ্ছিস তাহলে।
-"কালকে।কালকে রাত্রে ফ্লাইট।সকালে বের হবো।
মিস্টার সামির চিন্তিত কন্ঠে বলেন,,,
-"সকালে বের হলে কোথায় থাকবে রাত্রে ফ্লাইট হলে।
তখন সিয়ানা তার বাবাকে চিন্তা মুক্ত করতে বলে,,,
-"আব্বু তুমি ভুলে গেলে।ঢাকায় আমার একটা বাড়ি আছে সেখানেই থাকবো আর রাত হলে বেরিয়ে পরবো।
সিয়ানার বাবা চিন্তা মুক্ত হয়ে বলে,,,
-"আচ্ছা,,তাহলে ঠিক আছে।সাবধানে যেও।
তখন আশিক সিয়ার উদ্দেশ্যে বলে,,,
-"তোকেই কেনো আরো তো অনেকেই ছিল।
সিয়া উত্তরে শুধু মুচকি হাসে।তারপর বলে,,,
-"তুই নিশ্চিত ওই দিন এর কথা ভুলে যাস নি।ভুলে গেলে সমস্যা নেই মনে করিয়ে দিতে পারি।
এরপর তারা আর কোনো কথা বললো না।খাওয়ার শেষে যে যার রুমে চলে গেলো।আর সিয়ানা রুমে এসে ভাবছে আর বলছে.......
-"আমি সেখানে যেই জন্য যাচ্ছি।সেটা কি আদেও খুঁজে পাবো।পাবো নাকি পাবো না সেটা সেখানে গেলেই জানতে পারবো।
অন্যদিকে.............
রিয়ন:জান আর শুধু আজকের দিন।তারপর কালকে তুমি আমার কাছে চলে আসবে।সুইটহার্ট, আমি আর পারছিনা এই অভিশপ্ত জীবন নিয়ে থাকতে।এই অভিশাপ কাটাতে হলে আমার তোমাকে প্রয়োজন।
এটা বলে রিয়ন দীর্ঘ শ্বাস ফেললো।
,
,
,
,
পরেরদিন সকাল সকাল সিয়ানা নাস্তা করে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যায় তার ঢাকার বাড়ির উদ্দেশ্যে সাথে তার ফ্রেন্ডরাও ছিল।
গাড়িতে,,,,,,
দিয়া সিয়ানাকে বলে,,,
-"সিয়ানা তুই হঠাৎ আমেরিকাতে যেতে চাচ্ছিস কেনো।
সিয়ানা তার উত্তরে বলে,,,
-"তোদেরকে তো বললাম ওই।আমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ একই রকম সপ্ন দেখে আসছি।আর যে জায়গাটা নিয়ে দেখেছি সেই জায়গাটা আমি চিনি কোন জায়গা।
-"কোন জায়গা সেটা?কোথায় আছে সেই জায়গাটা?
সিয়ানা সবাইকে বলে,,,
-"আমেরিকাতে।আমার বাড়ির ওখানেই।
তখন সাইফ বলে,,,
-"আমেরিকাতে আবার তোর বাড়ির ওখানে তোর বাড়ি তো আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে।
সিয়ানা এর জবাবে বলে,,
-"হুম সেখানেই।বাট আমার বাড়ির থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সেটা।
তারা আরো কিছু কথা বলতে থাকে।কথা বলতে বলতে তারা ঢাকার বাড়িতে চলে আসে।
বাড়িতে পৌঁছে তারা কিছুক্ষণ রেস্ট করে নেয়।তারপর আবার বেরিয়ে পরে কিছু ফরমালিটিস পূরণ করতে।এভাবেই তাদের দুপুর আর বিকেল চলে যায়।সন্ধ্যার দিকে তারা নিজেদের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস পত্র গুছিয়ে খাবার খেয়ে এক ঘন্টা পর বেরিয়ে পরে।এয়ারপোর্ট এর উদ্দেশ্যে।
এয়ারপোর্টে,,,,,,,,,
এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেখে তার কিছু স্যার আর মেম দাঁড়িয়ে আছে।আর তার সাথে সেই চল্লিশ জন জুনিয়র ছেলে মেয়েরা আছে।তারপর তারা সেখানে যাওয়ার পর তারা সবাই এয়ারপোর্ট এর ভিতরে চলে যায়।যাওয়ার আগে ছেলে মেয়েদের কে বলে গেছে যে সিনিয়র দের কথা মত চলতে।
তারপর তারা সকলে প্লেন উঠে পড়ে আর ওয়েট করতে থাকে টেক অফ করার জন্য।কিছুক্ষণ পর প্লেন টেক অফ করে উড়ে যায় সুদূর আমেরিকার উদ্দেশ্যে।
পর্ব:০4
কয়েকঘন্টার লম্বা জার্নির পর তাদের প্লেন এয়ারপোর্টে এসে নামলো।তাদের প্লেন বাংলাদেশের রাত নয়টা বাজে ছেড়ে ছিল। আর নিউইয়র্ক এর রাত বারোটার দিকে পৌঁছায় তাদের প্লেন।বাংলাদেশের সময় দুপুর একটার দিকে লেন্ড করে।প্রায় 16 ঘন্টার পর লেন্ড করে।
এয়ারপোর্টের বাহিরে,,,,,,,,,
সবার চোখেই ঘুম।সিয়ানার সব ফ্রেন্ডসরা ঘুমের কারণে দুলছে।কেউ ঠিক ভাবে দাঁড়াতেও পারছে না।সব স্টুডেন্ট দের নিতে দুই তলার একটা বাস আসে এয়ারপোর্ট এর সামনে।সিয়ানা সব ছাত্র-ছাত্রীদের আজকে রেস্ট নিতে বলে কালকে থেকে তাদের রিসার্চ শুরু হবে তার আগে এখানের বেস্ট কলেজ এ তাদের নিয়ে যাওয়া হবে।তাদের কে উঠিয়ে দিয়ে সিয়া তার ফ্রেন্ড'স দের কাছে যায় গিয়ে দেখে তাদের অবস্থা বেহাল দশা।মামুন সিয়ানাকে দেখে বলে,,,
-"কিরে বইন বাসায় কখন যাবো আমরা।ঘুমের জন্য দাঁড়াতেও পারছিনা।
সিয়ানা তার জবাবে বলে,,,,
-"পুরোটা সময় তোরা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আসছিস।আবার বলছিস তোদের এখনও ঘুম আসছে এতো ঘুম আসে কোথা থেকে তোদের।
মামুন তার কথা শুনে বলে,,,,
-"চুপ থাক তো।ঘুম হচ্ছে আমাদের পোরান আমাদের জান।
সিয়ানা তার কথা শুনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,,,
-"হু।তোদের তো ঘুম পাবেই।আর এখানে আমার বারোটা বেজে রয়েছে।এখন আর বেশি কথা বলার দরকার নাই। একটু পর গাড়ি চলে আসবে।
কিছুক্ষণ পর তাদের গাড়িও চলে আসে।সিয়ানা এই দেশে আসার আগেই সব রকম ব্যবস্থা করে রেখেছিল কোথায় থাকবে না থাকবে।আর যখন গাড়ি চলে আসে তখন সিয়ানার ফ্রেন্ডসরা তাড়াতাড়ি করে গাড়িতে ঢুকে পড়ে।তাদের এই কান্ড দেখে সিয়ানা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়ে।সেও গাড়িতে সব জিনিস পত্র রেখে সীটে গিয়ে বসে।আর গাড়িও তার আপন গতিতে চলতে থাকে।
অপরদিকে............
রিয়ন মুচকি হেসে বলে,,,,
-"এসেই পড়েছো তুমি এখানে এখন আমি তোমাকে আর কোথাও যেতে দেবো না প্রিন্সেস।এখন তুমি আমার দহনে পুড়বে যেমন আমি পুড়েছি তোমার দহনে।
তার কথা শুনে তার ভাই এবিক বলে উঠে,,,,
-"ব্রাদার প্রিন্সেস এলিনা তো এখন এখানে এসে পড়েছে।কিন্তু........
রিয়ন এবিক এর কথা শুনে তার ভ্রু কুঁচকে আসে সে বলে,,,
-"কিন্তু,,,,,,কি?
এবিক আবার বলে,,,,,,
-"কিন্তু তুমি তো আর যেতে পারবে না।কারণ তার আসে পাশে সুরক্ষিত বলয় রয়েছে।
রিয়ন তখন বলে উঠে,,,,
-"আমি যাবো না।ওর কাছে ও নিজেই আসবে আমার কাছে।এখন শুধু অপেক্ষা করার পালা।যেহেতু ও এখন এখানেই আছে।তাহলে আমার এখন অপেক্ষা করলেও কিছু হবে না।কারণ সে এখন আমার কাছেই আছে।
তার কথা শুনে তার বন্ধু এলেক্স বলে,,,
-"হুম তা ঠিক অপেক্ষা করতেই পারো।তবুও কোথাও একটা ভয় থেকেই যায়রে।
রিয়ন তার ফ্রেন্ড এর কথা শুনে বলে,,,
-"কিসের ভয়।আমি কোনো ভয় পাইনা।
রিয়ন এর কথায় এলেক্স হেসে বলে,,,
-"তুই ভয় পাছ না।যদি নাই ভয় পাছ তাহলে সেদিন,,,,
রিয়ন তাকে থামিয়ে বলে,,,,
-"ওই দিন এর কথা আর মুখেও আনবি না তোরা।ওই দিনেই তো আমি আমার প্রিন্সেসকে হারিয়েছি।আর কখনো তোরা ওইদিন এর কোথা উঠাবি না আর।মনে থাকে যেন।
রিয়ন এই কথা বলে কোথায় যেনো চলে যায়।
,
,
,
,
একটি রাত শেষ হয়ে আকাশ ফাক করে সূর্যের আলো প্রবেশ করে ধরণীকে আলোকিত করে দিল।শহরের কোলাহল থেকে বাহিরে
সিয়ানা তাদের কে এখন ঘুমাতে দেখে বলে,,
-"কিরে কয়টা বাজে তোরা এখনও ঘুম থেকে উঠছিস না।
সিয়ানার কন্ঠ শুনে সাইফ ঘুম ঘুম চোখ নিয়ে বলে,,,
-"ঘড়িতে দেখ কয়টা বাজে।
সিয়ানা এবার বিরক্ত হয়ে বলে,,,
-"উফ উঠবি নি।আজকে ইউনিভার্সিটিতে যেতে হবে জানিস না।আর সেখান থেকে এসে স্টুডেন্ট এদের নিয়ে ও তো যেতে হবে নাকি।
সবাই তখন একসাথে বলে উঠে,,,
-"কিহ,,,কোথায় যাবো?
তখন দিয়া বলে,,,
-"ইউনিভার্সিটি।
দিয়ার কথায় সিয়ানা বলে,,,
-"হুম,,ইউনিভার্সিটি।আজকে ইউনিভার্সিটিতে যেতে হবে।আর কালকে থেকে কাজ শুরু।আর তোরা কি ভুলে গেলি। আমরা এখানে কেনো এসেছি।স্যার মেমরা যেই রিসার্চ এর জন্য পাঠিয়েছে সেটা তো আমরা অলরেডি জানি যে সত্য।বাট তারা জানে না।এই জন্য তাদের কে বলেছি যে আমরা নিজেদের মতো খুঁজবো।
সিয়ার কথার প্রেক্ষিতে রিমি বলে,,,
-"টিচার'সরা কিছু বলে নাই।
রিমির কথার জবাবে সিয়ানা বলে,,,
-"বলছিল তো।যে আমরা এই দেশে হারিয়ে গেলে।আমি বললাম স্যার এই দেশটা আমাদের চিনা আছে।আমরা আগেও এখানে এসেছিলাম।তাই আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।
সিয়ানার কথায় রিমি চিন্তা মুক্ত হয়ে বলে,,,
-"ও আচ্ছা।তাহলে তো ভালোই হলো।
সিয়ানা তাদের তারা দিয়ে বলে,,,
-"হুম এবার যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নে।আমার আবার বের হতে হবে।
-"তুই কোথায় যাবি আবার?
-"একটু শপিং এ যাবো।(সিয়ানা)
-"হঠাৎ শপিং এ কেন যাবি?(দিয়া)
দিয়ার কথায় সিয়ানা বলে,,,,
-"কিছু দরকারি জিনিস কিনার আছে।আর আজকে যতো পারিস ঘুমিয়ে টুমিয়ে নে।কালকে আমাদের স্ট্রাগেল শুরু।
সিয়ানার কথার মানে বুঝতে না পেরে রিমি বলে,,,
রিমি:কালকে কিসের,,,,,,
রিমিকে বলতে না দিয়ে সিয়ানা বললো,,,
-"জঙ্গলে যাবো।আই মিন ব্লাড ফরেস্ট এ।
রিমি আর দিয়ার চোখ বড় হয়ে যায়।
সিয়ানা আবার বলে,,,
-"সাথে স্টুডেন্টদের নিয়ে।তারা শুধু সেই জিনিস খুঁজবে যারা এই পৃথিবীতে আছে কিনা আর আমরা খুঁজব আমাদের জিনিস।তাদের এই রিসার্চ শুধু এক সপ্তাহের জন্য হবে।এক সপ্তাহ পরে তারা সবাই চলে যাবে।
তারপর তারা ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে রেডি হয়ে বেরিয়ে যায় ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে।
আর এই ব্লাড ফরেস্ট এ কি আছে যে সিয়ানা যেতে চায়। হয়তো সে যেটার জন্য এসেছে সেটা এখানেই আছে।
,
,
,
সিয়ার সব ফ্রেন্ডসরা চলে যায় ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে।আর সে এখন যাবে শপিং এ।শপিং করা শেষ হলে সেখান থেকে চলে যাবে ইউনিভার্সিটিতে।
ইন ইউনিভার্সিটি,,,,,,,,
ভার্সিটির বাহিরে সবাই সিয়ানার জন্য অপেক্ষা করছে।যে সিয়ানা কখন আসবে।অনেক্ষণ যাবৎ নিরবতা বিরাজ করে।এক সময় নিরবতা ভেঙ্গে রিমি বলে,,,,
-"আমরা তো চলে আসলাম,বাট সিয়া কোথায় সে এখনো আসছে না কেন।
রিমির বলতে দেরি কিন্তু সিয়ানার সেখানে উপস্থিত হতে দেরি হয়নি।সিয়ানা এসে বলে,,,,
-"এই যে আমি এখানে।
সবাই পিছনে তাকিয়ে দেখে সিয়ানা দাড়িয়ে আছে।সিয়ানা তাদের কাছে এসে বলে,,,,,
-"কি হলো তোরা এখানে দাঁড়িয়ে আছিস,,,,,কেন?
সিয়ানার প্রশ্নে রিমি বলে,,,,,
-"তোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
সিয়ানা রিমির উত্তর শুনে বলে,,,,,
-"হু,আচ্ছা এখন চল।ভিতরে যাওয়া যাক।
তারা ভিতরে যাওয়ার সময় সিয়ানা বলে উঠে,,,,,
-"তোরা ক্যান্টিন এ যা আমি হেড অফিস থেকে আসছি। আর আমি বের না হওয়া পর্যন্ত কেউ ক্যান্টিন থেকে বের হবি না,ঠিক আছে।
-"ঠিক আছে।
এই বলে সবাই চলে যায়।আর সিয়ানা চলে যায় হেড স্যার এর রুম এ।
ইন ক্যান্টিন,,,,,,,,,
সবাই ক্যান্টিন এ বসে আছে।মুখ গুলো বাংলার পাঁচ করে রেখেছে।তখন ক্যান্টিন এ তারা ছাড়া আরো কিছু স্টুডেন্ট বসে ছিল।ক্যান্টিন রুম এ নিরবতা ছেয়ে আছে।রিমি তখন বিরক্ত হয়ে বলে,,,
-"ধুর ভালো লাগে না,এই সিয়ার যে কি হয় বুঝতে পারি না।
দিয়া ও তার কথায় সহমত হয়ে বলে,,,
-"হু,ঠিক বলেছিস।তখন আরিফ তাদের কে বলে,,,
-"তোরা দুইজন যা বলছিস।ঠিক আছে,কিন্তু,,,,
আরিফ কে চিন্তিত দেখে মামুন জিজ্ঞেস করে,,,
-"কিন্তু,,,,কি?
আরিফ মামুন কে বলে,,,
-"কিন্তু সে এসেই হেড স্যার এর রুম এ কেনো গেলো?এইটাই তো বুঝে আসছে না।
সাইফ ও তার সাথে তাল মিলিয়ে বলে,,,
-"ইয়াহ,রাইট ও স্যার এর রুম এ কি করতে গিয়েছে?সেটাই চিন্তার বিষয়।
তারা সবাই সিয়ানার হেড স্যার এর রুমে যাওয়া নিয়ে কথা বলছে,,,,,
আর ওই দিকে হেড স্যার এর রুমে।
ইন প্রিন্সিপাল অফিস,,,,,,,,
প্রিন্সিপাল এর সামনে সিয়ানা আয়েশিভঙ্গীতে বসে আছে।আর তার সামনে প্রিন্সিপাল মাথা নিচু করে বসে আছে।আর সিয়ানার হাতে ছোট একটা নাইফ ও আছে।যেটা দিয়ে সে প্রিন্সিপাল কে ভয় দেখাচ্ছে আর বলছে,,,,,
-"তো এবার বলুন।আমার আসবার খবর তাদের কেন দিয়েছেন।
সিয়ানার হাতে চাকু দেখে প্রিন্সিপাল ভয়ে বলে,,,,
-"আমি তাদের কিছু বলি নি তারা কোথা থেকে জেনেছে তাও জানি না,প্লিজ আমাকে বিশ্বাস করো।
প্রিন্সিপাল এর মুখে এই কথা শুনে সিয়ানা বলে,,,,,
-"হু,যদি আপনি না বলেন তাহলে কে বলেছে কেই বা থাকতে পারে এমন যে আমি এই দেশে আসছি সেটা বলতে পারে তাদের আপনি ছাড়া।সিয়ানার কন্ঠ ছিল শান্ত অথচ তার মুখের ভাব ছিল পুরোই আলাদা।সে পুরোটা সময়ে মুখ গম্ভীর করে রেখে ছিল।আর সে যতো বার প্রিন্সিপাল কে প্রশ্ন করত ঠিক ততবার ওই প্রিন্সিপাল একই কথা বলতো।প্রত্যেক বার একই কথা বলায় সিয়ানার রাগ বাড়তে থাকে।আর তার হাতের চাকু টা প্রিন্সিপাল এর গলায় ধরে রেখে বলে,,,,
-"অনেক শুনেছি তোর ফালতু কথা বার্তা।এতক্ষণ যাবৎ ভালো হয়ে ছিলাম বলে বুঝলি আমি ভালো হয়ে গেছি এটা ভাবাও তোর ভুল ছিল।তুই হয়তো ভুলে গিয়েছিলি আমি কে আর তুই কার সামনে বসে আছিস।আর আমি এটা ও জানি যে কে আমার এই দেশে আসার খবর দিছে।আর যদি আমি দেখি তোকে সেই দলের লোকেদের সাথে কথা বলেছিস তাহলে আমার থেকে খারাপ আর কেউ হবে না বলে দিলাম।সিয়ানা এক প্রকার হুশিয়ারি স্বরে এই কথাটা বলে চলে যায়।আর যাওয়ার আগে সে কয়েকটা ছবি প্রিন্সিপাল এর মুখে ছুড়ে মারে।আর প্রিন্সিপাল সেই ছবি গুলো দেখে অতিরিক্ত ভয় পেয়ে যায়।আসলে সেই ছবি গুলোতে ছিল প্রিন্সিপাল একটা গ্যাং এর সাথে হাত মিলাচ্ছে আর তাদের থেকে টাকা নিচ্ছে এটা দেখেই মূলত প্রিন্সিপাল ভয় পেয়েছে।আর ছবি তে যেই গ্যাং কে দেখানো হয়ে ছিল সেটা ছিল ড্রাগন গ্রুপ এটা দেশের অনেক বড় আর পাওয়ার ফুল গ্রুপ।আর এই গ্রুপ টা ছাড়াও আরও অনেক গ্যাং ও গ্যাংস্টার আছে তাদের মধ্যে মোস্ট পাওয়ার ফুল গ্যাং হচ্ছে দুই টা একটা কথা জেনেছি আরেকটার কথা পরে জানবো।
চলবে........