Part:05
বহমান সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
মাঝে কেটে গেছে তিনটে দিন। এই তিনদিনে লিলি সাদিদের মুখোমুখি হয়েছে হাতেগোনা কয়েকবার মাত্র। সেদিনের ঘটনাটিও সে আর আয়েশা বেগমকে জানায়নি।
আজকের সন্ধ্যাটা লিলির জন্য যেন একটু বেশিই গুমোট। না, বাইরের আকাশে কোনো মেঘ জমেনি; তবু ঘরের ভেতরের আবহাওয়ায় যেন এক অদৃশ্য গুমোট ভাব জমে উঠেছে। কারণ আজ আয়েশা বেগম ফিরে যাচ্ছেন রাজশাহী। যেহেতু সাদিদ শুধু ঢাকার ব্যবসাগুলোই সামলায়, তাই রাজশাহীসহ পরিবারের অন্যান্য ব্যবসার দায়িত্ব মূলত থাকে আয়েশা বেগমের কাঁধেই। তার ওপর এখন আবার সাদিদ নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছে। আশা করা যায়, এই ব্যস্ততার মাঝেও সে অন্তত ব্যবসার দায়িত্ব থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেবে না এতটুকু ভরসা তো করাই যায়।
কিন্তু আয়েশা বেগমের এই চলে যাওয়া লিলি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। তার কণ্ঠে অবুঝ শিশুর আবদারের সুর ভেসে ওঠে। সে আকুল হয়ে বলে ওঠে,
—“আমি আপনার সাথে যেতে চাই, শাশুড়ি আম্মু।”
বারবার একই কথা শুনে বিরক্ত হয়ে আয়েশা বেগম গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলেন,
—“দেখো মেয়ে, আর একবার যদি তুমি এই বাড়ি থেকে যাওয়ার কথা বলো, তাহলে সংসার আর পড়াশোনা দুটোই হারাবে।
আমি জানি, তুমি হয়তো ওকে ভয় পাও। কিন্তু ভয় পেয়ে দূরে সরে গেলে সবই হারাবে। ওর বাহ্যিক রূপের আবরণের আড়ালে যে মানুষটা লুকিয়ে আছে, তাকে জানার চেষ্টা করো।”
তারপর বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি লিলিকে দিয়ে গেলেন একগুচ্ছ উপদেশ। এই অল্প কয়েকদিনেই আয়েশা বেগম বুঝে গেছেন লিলি চঞ্চল, প্রাণবন্ত এক মেয়ে। আর তার দৃঢ় বিশ্বাস, এই মেয়েটিলাই একদিন পারবে তার গাম্ভীর্যে মোড়া ছেলেটাকে সত্যিকারের সংসারী করে তুলতে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আয়েশা বেগমের চলে যাওয়া লিলির মনে এক অদ্ভুত অপূর্ণ শূন্যতার জন্ম দিল। এই কয়েকদিনেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তার আপনজনের মতো। আর তার থেকেও বড় কথা—এখন এই বিশাল বাড়িতে তাকে থাকতে হবে ওই খারুস, অসভ্য লোকটার সঙ্গেই।তবুও শাশুড়ির বলা কথাগুলো মনে করে লিলি মনে মনে এক দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিল। এই স্বামী নামক আসামিকে সে একদিন জব্দ করেই ছাড়বে।
———
রান্না জিনিসটা লিলি ভালোই পারে। একপ্রকার শখের বসেই এটা শেখা তার। তবে এই শখ যে আজ এভাবে কাজে লেগে যাবে, তা কি আর বোকা লিলি জানত! শাশুড়ি না থাকায় আজ সাদিদের জন্য সে নিজেই রান্না করেছে। আয়েশা বেগম এই ক’দিনেই তাকে সাদিদের পছন্দসই খাবারগুলো রান্না করা শিখিয়ে দিয়েছেন। যদিও লিলির মতে ওগুলোকে ঠিক রান্না বলা যায় না। ঘাসপাতা সেদ্ধকে আবার রান্না বলে নাকি!
যাহোক, লিলি সেই “ঘাসপাতা” অর্থাৎ তেল-মশলা ছাড়া মিক্সড ভেজিটেবল কারি আর চিকেন স্যুপ । তবে ঠিক কেমন হয়েছে, তা সে বুঝতে পারছে না। নিজে চেখে দেখারও কোনো ইচ্ছে নেই তার। যদিও মনে মনে একটু ভয়ও কাজ করছে কিছু কম-বেশি হলে গোমড়া মুখোটা খাবে কি না সন্দেহ! বাহারি কাকাও আজ এখানে উপস্থিত নেই। থাকলে তাকে একটু টেস্ট করতে দেওয়া যেত।
বাহারি বাড়ির পেছনের তিন রুম বিশিষ্ট সার্ভেন্ট কোয়ার্টারে থাকে। আগে এই বাড়িতে তার অগাধ আসা-যাওয়া থাকলেও লিলি আসার পর থেকে শুধুমাত্র প্রয়োজনেই সে এই তল্লাটে আসে। তা ছাড়া তাকে খুব একটা দেখা যায় না।
টেবিলে সাদিদের খাবার সাজিয়ে রেখে নিজে বসে পড়ল গরম গরম ভাত আর গলদা চিংড়ি ভুনা নিয়ে। এটা শাশুড়ি দুপুরে রান্না করে রেখে গিয়েছিলেন। আর চিংড়ি মাছ তো লিলির ভীষণ পছন্দের। নিজের খাওয়ার পাট চুকিয়ে লিলি বসে রইল তার অপ্রিয় খারুস মশাইয়ের জন্য।
তবে বসে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, সে নিজেও টের পায়নি। দরজা খোলার শব্দে যখন তার ঘুম ভাঙল, তখন ঘড়ির কাঁটা বারোটার ঘর ছুঁয়েছে। ঘুমঘুম চোখে লিলি তাকিয়ে দেখল—সাদিদ এসেছে। কিন্তু সে লিলিকে দেখেও না দেখার ভান করে সোজা ভেতরের দিকে চলে গেল। সাদিদের এই নির্লিপ্ত ভাব দেখে লিলি যেমন অবাক হলো, তেমনি রেগেও গেল। তাই তো আচমকাই চেঁচিয়ে উঠল সে। না হলে এমনিতে সে অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত-শিষ্ট মেয়ে।
—“খাবার খেয়ে যান।”
সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকা সাদিদ থেমে গেল তার কথায়। কপালটা অজান্তেই কুঁচকে গেল। পেছন ফিরে তাকাল লিলির দিকে। তার সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেখে কিছুটা ভড়কে গেল লিলি, তবে বাইরে তা প্রকাশ করল না। পিটপিট করে তাকিয়ে রইল সাদিদের পানে। সাদিদ তাকে উপেক্ষা করে আবার এগিয়ে যেতে চাইলে লিলি আগের চেয়ে দ্বিগুণ জোরে বলে উঠল,
—“খাবাবাবার খেয়েয়েয়ে…”
—“শাট আপ, স্টুপিড!”
সাদিদের ধমক যেন গোটা ঘরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হলো। কেঁপে উঠল লিলি।
—“কি শুরু করেছ তুমি?”
পুনরায় তার গম্ভীর কণ্ঠে লিলি আবার কেঁপে উঠল। তার এই কাঁপাকাঁপি দেখে চরম বিরক্ত হলো সাদিদ।
—“মৃগী হয়েছে তোমার?”
লিলি অবাক হয়ে বলল,
—“তা কেন হবে?”
—“তাহলে এত কাঁপাকাঁপি করছ কেন, স্টুপিড?”
সাদিদের কথাকে অপমান হিসেবে নিয়ে সহসা মিলিটারিদের মতো সোজা হয়ে দাঁড়াল লিলি। বুকভরা শ্বাস নিয়ে আবার বলল,
—“খাবার খেয়ে যান।”
বিরক্ত সাদিদ গমগমে গলায় বলল,
—“তোমাকে ওয়ার্ন করিনি এমন বউগিরি দেখাবে না।”
মনে মনে সাদিদকে ভেংচি কাটল লিলি। এই খারুসকে বউগিরি দেখাতে তার বয়েই গেছে!
—“আমার কোনো ইচ্ছে নেই আপনাকে বউগিরি দেখানোর। আপনি খাবার খেয়ে যান।”
একই কথা বারবার শুনে ক্লান্ত সাদিদ আর ঝামেলা করতে চাইল না। তাই বলল,
—“খেয়ে এসেছি।”
—“এই এই, মিথ্যে কথা! আপনি আমার রান্না খাবেন না বলে এই কথা বলছেন, তাই না?”
—“বুঝেছ যখন, তাহলে এত বকবক করছ কেন?”
—“আমার কোনো শখ নেই আপনার সাথে কথা বলার। নেহাৎই শাশুড়ি আম্মু বলেছে তাই।”
সাদিদ তাকে ইগনোর করে চলে যেতে চাইল। সারাদিন এমনিতেই প্রচুর ধকল গেছে তার ওপর দিয়ে। এখন তার দরকার একটু বিশ্রাম। আর সেখানে এই মেয়ে বকবক করে তার মাথা খাচ্ছে। সাদিদকে চলে যেতে দেখে লিলি আবার বলে উঠল,
—“আপনি যদি না খান, তাহলে আমি মাইক লাগিয়ে বলে বেড়াব। আপনি আমাকে মেরেছেন! শাশুড়ি আম্মুকেও বলে দেব। সবাইকে বলে দেব!”
কিন্তু তার কথায় কোনো পাত্তা না দিয়ে হনহন করে নিজের কক্ষে চলে গেল সাদিদ। লিলির এবার সত্যিই তার ওপর অভিমান হলো। সে কত কষ্ট করে রান্না করল একটু খেলে কি এমন ক্ষতি হতো!
———
রাত কেটে নতুন দিনের আলো ফুটে উঠেছে। লিলি ফজরের নামাজ আদায় করার পর আর ঘুমোতে পারেনি। উত্তেজনায় তার চোখে ঘুমই আসেনি। আজ যে তার ভার্সিটিতে প্রথম দিন! তাই সকাল সকাল তৈরি হয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে আছে সে। নিজের হাতেই বানিয়েছে রুটি আর সবজি। সকালে আর সাদিদের জন্য আলাদা করে রান্না করেনি সে। সবকিছু ঠিকঠাকই আছে তবে একটা সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। আজ তাকে ভার্সিটিতে নিয়ে যাবে কে? শাশুড়ি আম্মুও তো নেই। আর রইল সাদিদ,সে কি আর লিলিকে নিয়ে যাবে!
ঠিক সেই সময় সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামল সাদিদ। পরনে ফর্মাল ড্রেস, হাতে রোলেক্সের ঘড়ি। চুলগুলো জেল দিয়ে সুন্দর করে সেট করা। সব মিলিয়ে একদম পারফেক্ট জেন্টলম্যান। না চাইতেও আড়চোখে কয়েকবার তার দিকে তাকাল লিলি। সাদিদ বরাবরের মতো লিলিকে এড়িয়ে গিয়ে চুপচাপ ডাইনিং টেবিলে বসে গম্ভীর গলায় ডাক দিল,
—“বাহারি কাকা!”
কিছুক্ষণের মধ্যেই বাহারি কাকা ছুটে এলেন।
—“কি হইয়েছে সাদিদ বাবা?”
—“আমার ব্রেকফাস্ট কোথায়?”
—“হামি এক্ষুনি লিয়ে আসছি।”
এরই মধ্যে বাহারি কাকা এনে দিল অ্যাভোকাডো, সালাদ আর সবুজ রঙের জুস। কিসের জুস কে জানে। লিলি একবার চোখ ঘুরিয়ে দেখে নাক সিঁটকালো, “এগুলো আবার কেউ খায় নাকি! একেবারে অখাদ্য! ছি!”
খাওয়া শেষ করে সাদিদ যখন উঠে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ লিলি বলে উঠল,
—“আজ আমার ভার্সিটির প্রথম দিন।”
সাদিদ ফিরে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
—“তো?”
ভীষণ রাগ হলো লিলির। তবুও নিজেকে শান্ত রেখে বলল,
—“আমাকে একটু পৌঁছে দেবেন?”
সাদিদ নির্লিপ্ত স্বরে বলল,
—“ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি, সে তোমাকে পৌঁছে দেবে।”
লিলি ঝট করে বলে উঠল,
—“শাশুড়ি আম্মু কাল ফোন করে বলেছে আপনি যদি আমাকে না দিয়ে আসেন, তাহলে যেন তাকে বলে দিই। যাই, আগে শাশুড়ি আম্মুকে বলে আসি।”
এই বলে লিলি ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ব্যাগ থেকে ফোন বের করল। সাদিদ তার দিকে কড়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। বাই এনি চান্স, এই মেয়ে কি কাল রাত থেকেই তাকে ব্ল্যাকমেইল করছে? এদিকে লিলি আপন মনে তখনও বকবক করে যাচ্ছে,
—“ইসস! যদি ড্রাইভার গাড়ি চালানোর সময় এক্সিডেন্ট করে ফেলে! তাহলে আমার কি হবে? এত কম বয়সে আমি মরে গেলে পৃথিবীর কত বড় ক্ষতি হয়ে যাবে—বুঝতে পারছেন বাহারি কাকা? থাক, আগে শাশুড়ি আম্মুকেই বলি।”
লিলির যুক্তিহীন কথায় বিরক্ত হলো সাদিদ। তর্ক করার মতো সময় বা ইচ্ছা—কোনোটাই আজ তার নেই। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে, তারপর আবার পার্টি অফিসেও যেতে হবে। তাই বিরক্ত হয়ে সামনে এগোতে এগোতে বিড়বিড় করে বলল,
—“ড্রামাকুইন! স্টুপিড একটা।”
এদিকে লিলি সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল,
—“কি বললেন? আমাকে সঙ্গে যেতে? আহা তার কি দরকার! আমি তো ড্রাইভারের সাথেই যেতে পারতাম। যাহোক, আপনি এতো করে যেহেতু বলছেন তাহলে নাহয় আপনার সাথেই যাই।”
চড়া গলায় কথাগুলো বলে সাদিদের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করল লিলি। সাদিদ গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে পড়তেই লিলি গিয়ে বসে পড়ল তার পাশের সিটে। কোনো কথা না বলে গাড়ি চালাতে শুরু করল সাদিদ। লিলি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে জানালার বাইরে চোখ ফেরাল। বাইরের যানজটভরা দৃশ্যটা আজ তার কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।
হঠাৎ সিগন্যাল এসে গাড়ি থেমে গেল। সাদিদের মুখে ফুটে উঠল বিরক্তির ছাপ। ঠিক তখনই তার চোখ গিয়ে পড়ল ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থাকা এক দম্পতির দিকে।
মেয়েটা ফুল চাইতেই ছেলেটা পাশের দোকান থেকে একগুচ্ছ ফুল কিনে এনে মেয়েটার হাতে ধরিয়ে দিল। চোখের সামনে এই দৃশ্যটা হঠাৎ করেই সাদিদ কে মনে করিয়ে দিল তার অতীতের এক স্মৃতিকে।
স্মৃতির পাতায়…
—“গোলাপি গোলাপ সৌন্দর্য, প্রশংসা ও বন্ধুত্বের প্রতীক। সাদা গোলাপ শুদ্ধতা, শান্তির প্রতীক। হলুদ গোলাপ বন্ধুত্বের প্রতীক।”
—“আর লাল?”
সাদিদের প্রশ্নে মেয়েটা হেসে বলল,
—“ভালোবাসার প্রতীক। কিন্তু আমার লাল গোলাপ পছন্দ নয়।”
সাদিদ মেয়েটার কথায় সামান্য হেসে ফুলের তোড়া থেকে লাল গোলাপগুলো সরিয়ে বলল,
—“এই জন্যই তুমি সবার থেকে ব্যাতিক্রম।”
থুতনিতে হাত ঠেকিয়ে মেয়েটা বলল,
—“ব্যাতিক্রম জিনিস কিন্তু খুব সহজেই হারিয়ে যায়, কাইরান সাহেব।”
—“হারাতে চাইছো নাকি?”
মেয়েটা উচ্চস্বরে হেসে উঠল। তারপর বলল,
—“হারাব তো বটেই। তবে তার আগে আপনার মনের সব ভালোবাসা নিংড়ে নিয়ে যাব, যাতে এই হৃদয় আর কখনো অন্য কাউকে ভালোবাসতে না পারে।”
তীব্র হর্নের শব্দে ভেঙে গেল সাদিদের স্মৃতির ঘোর। সিগন্যাল ছাড়ার অনেকক্ষণ পরেও গাড়ি না চলায় পেছনের গাড়িগুলো হর্ন দিতে শুরু করেছে। সাদিদের মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই দেখে লিলি পাশ থেকে বলল,
—“আপনি ঠিক আছেন?”
সাদিদ শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার গাড়ি চালু করল। লিলি চুপচাপ বসে রইল। সাদিদের চোখে লুকিয়ে থাকা স্মৃতির ধারা সে দেখতে পেল না। এক অজানা অথবা জানা যাত্রা পথে, দুই ভিন্ন পৃথিবীর মানুষ পাশাপাশি বসা সত্ত্বেও কত দূরত্বই না তাদের মাঝে বিদ্যমান!