Story : There Is So...
 
Notifications
Clear all

Story : There Is Someone (Writer : Jafrin Jerin)

Page 2 / 2

Posts: 8
Topic starter
(@jafrin-jerin)
Joined: 5 months ago
Part:05
 

সিয়ানা হেড স্যার এর রুম থেকে বের হয়ে সোজা ক্যান্টিন এরিয়া তে চলে যায় যেখানে ওর সব ফ্রেন্ডসরা বসে আছে।

হঠাৎ,,,,,,
ক্যান্টিন এরিয়া তে যাওয়ার সময়ে ভাঙচুর এর আওয়াজ হতে থাকে।সিয়ানা তড়িৎ গতিতে সেখানে যেতে থাকে গিয়ে দেখে।তার ফ্রেন্ডসদের উপর কারা যেনো এট্যাক করেছে।সিয়ানা তার প্যান্ট এর পিছনের পকেট থেকে তার গান দুই টা বের করে যারা তার ফ্রেন্ড দের কে মারছিল তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়তে লাগে।প্রথম গুলি গিয়ে একজন এর মাথায় লাগায়।তারপর আরেকজন এর বুকে। দেহ ভেদ করে একেকটা বুলেট বের হয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর,,,,,,,

সমস্ত কিছু ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে কোথাও কোনো প্রকার কোলাহল নেই।সব স্টুডেন্টরা আগে থেকেই বের হয়ে গিয়ে ছিলো বিদায় কোনো স্টুডেন্ট এর কোনো প্রকার ক্ষতি হয় নাই।পুরো ক্যান্টিন এর মাঝে সিয়ানা একা দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে একটা ছেলে পরে আছে।সেই ছেলেটার হাতে গুলির আঘাত লেগেছে।আর সে সিয়ানার সামনে পরে কাতরাচ্ছে।আর নিভু নিভু স্বরে বলছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।সিয়ানা ওই ছেলেটার এমন ছটফটানি দেখে বলে,,,,
-"তোকে কে পাঠিয়েছে এখানে?আর আমার ফ্রেন্ডদের কে মারতে চেয়েছিলি কেনো বল।
সিয়ার কথায় ওই ছেলেটা কিছু বলছে না দেখে সিয়া ধমকিয়ে উঠে।সিয়ার ধমক শুনে এবার ছেলেটি বলে,,,,
-"আমাকে ড্রাগন গ্রুপ এর লিডার পাঠিয়েছে আপনাকে আর আপনার সাথে থাকা ফ্রেন্ডদের মারার জন্য।
সিয়ানা ছেলেটার কথা শুনে তার দিকে শীতল চাহনি নিক্ষেপ করে তার দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ী হাসি দেয় যেটা জানান দিচ্ছে আগামীর কোনো বার্তা।সিয়া বলে উঠে,,,,
-"রকি তোকে পাঠিয়েছে।হাউ ফানি,তোর কি আমাকে দেখে গাধা মনে হয়।
ছেলে টা একবার মাথা নাড়িয়ে বলে হ্যা।ছেলেটার মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলাতে সিয়ার ভ্রু যুগল উঁচু হয়ে যায়।ছেলেটা সিয়াকে রাগতে দেখে আবার ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে না বলে।ছেলেটির এমন কাণ্ডকারখানা দেখে পিলারের পিছনে লুকিয়ে থাকা মামুন বিরবির করে বলে,,,,,
-"আজ তো তু গায়া কামছে বেটে।কার হাতে পড়ছোছ সেই খেয়াল আছে।সাক্ষাত যমের হাতে এখন তোর কি হইবো উপর  ওয়ালা ছাড়া কেউ জানে না।
মামুন এই কথা বলেছে কি বলেনি সামনে থেকে পর পর চারটা গুলির শব্দ হয়।গুলির শব্দ শুনে সবাই বেরিয়ে আসে যে যেখানে লুকিয়ে ছিল।বেরিয়ে এসে দেখে সিয়া ওই ছেলেটার মাথায় পর পর চারটা গুলি করেছে।আর সবাই এই কান্ড দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।সকলের কথা যেনো বন্ধ হয়ে গেছে।কারো গলা থেকে একটু টু শব্দ বের হচ্ছে না।তাদের রিয়েকশন এমন ছিল যে এখন একটু কথা বললে গর্দান যাবে।সিয়ানা ওই লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,,,,,
-"আমি ছাড় দেই কিন্তু ছেড়ে দেই না।"
তারপর সে সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যায়।আর যেতে যেতে যে সমস্ত ক্ষতি ক্যান্টিন এর হয়েছে সব কিছু তার ম্যাজিক দিয়ে ঠিক করে দেয় আর যতো গুলো লাশ এদিক সেদিক পরে ছিল সব গুলো গায়েব করে দেয়।সিয়ানা চলে যাবার পর তারাও এক প্রকার দৌঁড় দিয়ে বেরিয়ে পরে সিয়ানার সাথে।এখন তারা স্টুডেন্ট দের নিয়ে বের হবে কলেজ এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
,
,
,
,
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এসেছে।এখন ৩ টা ২৫ বাজছে।সিয়ারা স্টুডেন্টদের তাদের হোটেল এ রেখে বাসায় এসেছে অনেকক্ষন হয়ে গেছে।তারা সবাই ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে আছে।শুধু সিয়ানা বাদে।সে বসে আছে জঙ্গলের ম্যাপ নিয়ে।জঙ্গলে গিয়ে কোথায় যাবে বা যাওয়া লাগবে সেগুলো বসে দাগাচ্ছে।কিছুক্ষণ পর সে দাগিয়ে রেখে চলে যায় বারান্দায়।তার রুমের সাথের বারান্দাটা খোলা মেলা উপড়ে তাকালে আকাশ দেখা যায়।বারান্দার এখানে সেখানে রয়েছে জিম করার সরঞ্জাম।তার বাড়িটাও কম বড় নয় ।সিয়ার বাড়িটা তিন তোলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স বাড়ি।পুরো বাড়ি টা দেখলে যে কেউ মনে করবে তারা ২০৪০ বা ২০৫০ সালে বসবাস করছে।সিয়ানার বাড়ি টায় উচ্চ আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে।

সন্ধ্যা সাত টা বাজে,,,,
সবাই ঘুম থেকে উঠে পরেছে আর যে যার রুম এ ফ্রেশ হচ্ছে,সবাই যখন নিচে নামে তখন দেখে সিয়ানা বসে বসে কফি খাচ্ছে।সবাই কে নিচে নামতে দেখে সিয়ানা বলে,,,
-"তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে তৈরি হয়ে নে।আমাদের কে নয় টার আগে বের হতে হবে।
সিয়ানার কথা শুনে সবাই একটু অবাক হয়ে যায়।যে এত রাতে তারা কোথায় যাবে।তাই সবাই ওর দিকে তাকিয়ে থাকে সিয়ানা তাদের সবাইকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,,,
-"কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো যা গিয়ে খেয়ে দেয়ে তৈরি হো।
তখন রিমি বলে,,,,
-"আমরা কোথায় যাচ্ছি।
ওর এই কথা শুনে সিয়া তার দিকে তাকায়।সবাই তার চোখের চাহনি দেখে ভয় পেয়ে যায়।আর রিমির তো জান যায় যায় অবস্থা ও ভয়ে ভয়ে বলে,,,
-"ভুল কিছু বলে ফেললাম নাকি।
-"ভুল"
-"হুম"
-"হুম,ভুল তো বলেছিস,এখানে আসার সময় কি বলেছিলাম তোদের।
-"কি,,,,?
-"তোদের বলেছিলাম যে,এখানে আসার একমাত্র কারণ হচ্ছে ব্লাড ফরেস্ট এ যাওয়া,এবার মনে পড়েছে।
-"হুম,সরি রে ঘুমের তাড়নায় ভুলে গিয়েছিলাম।
-"হুম,হয়েছে এখন যা।
-"ওকে।
তারপর সবাই হালকা পাতলা কিছু খেয়ে রেডি হতে যায়।আর সিয়া ও রেডি হতে চলে যায়।সিয়া,রিমি,দিয়া একই স্যুট পড়েছে ব্ল্যাক জিন্স আর ব্ল্যাক শর্ট টপস সাথে ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেট।আর আরিফ,মামুন,সাঈম,সাইফ এরা ও ব্ল্যাক টি-শার্ট আর ব্ল্যাক জ্যাকেট, ব্ল্যাক জিন্স পড়ে তৈরি হয়।তাদের সবার ব্যাক প্যাক এ নানা ধরণের হাতিয়ার যেমন স্নাইপার,ছুড়ি, রিভলভার আর বিশেষ ধরণের অস্ত্র যেমন:সিলভার নাইফ(এটা ভ্যাম্পায়ার দের প্রতিহত করতে এই অস্ত্র টা ব্যবহৃত হয়),রেড ওয়াটার(এটা মনস্টার দের কাবু পেতে এই ওয়াটার সব চেয়ে প্রয়োজনীয়),তলোয়ার(এটা একটা বিশেষ তলোয়ার যেটা প্রত্যেকের কাছেই আছে) আর এটা কোনো সাধারণ তলোয়ার নয় সবার তলোয়ার এর মধ্যে সিয়ানার টা বেশি শক্তিশালি, তাদের প্রত্যেকের শক্তি অনুযায়ি এই তলোয়ার গুলো তৈরি করা হয়েছে।তারপর তারা জিপ এ গিয়ে বসে তারা জিপ এ করে যাবে।মোট দুই টা জিপ রয়েছে তারা কিছু খাবার ও সাথে করে নিয়েছে।আর যাওয়ার সময় সিয়া বাড়ির ওপর একটা জাদু করে যায়।তারপর তারা বেরিয়ে পরে তাদের গন্তব্যে।
,
,
,
ব্লাড ফরেস্ট,,,,,,,,
ব্লাড ফরেস্ট এ পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘন্টা লেগে যায়।আট টার সময় বের হয়েছে তারা।আর এখন নয় টা ত্রিশ বাজে।তারা ব্লাড ফরেস্ট এ পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমে যায়।তারপর তারা জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করে,আর সাথে করে নিয়ে যায় তারা যা কিছু এনেছে।তারা হাঁটতে থাকে,হাঁটতে হাঁটতে এক সময় জঙ্গলের অনেক গভীরে চলে আসে।জঙ্গলের গভীরে এসে তারা সবাই ভাগ হয়ে যায় এক জন এক দিকে যাবে তো আরেক জন আরেক দিকে এভাবে তারা ভিন্ন হয়ে যায়।সিয়ানা জঙ্গলের অনেক টাই ভিতরে চলে যায়।আর সে এক সময় সামনে তাকিয়ে দেখে তার সামনে একটা বড় মহল।এত টাই বড় যে এর ভিতরে কেউ একবার প্রবেশ করলে সে পথ হারিয়ে যাবে।এই মহল টা দেখার সাথে সিয়ানা তার কাছে থাকা হকিটকি এর মাধ্যমে তার বাকি বন্ধুদের কাছে খবর পাঠায় যে সে এখানে একটা মহল পেয়েছে।তারাও বলে তারাও নাকি তাদের এখানে কিছু গুহা পেয়েছে।তারা এখন সেটার ভিতরে ঢুকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।সিয়া বলে,,,,
-"ঠিক আছে তোরা যা আমি ও এই মহলের ভিতর ঢুকছি।এই বলে সে তার হাতে থাকে হকিটকির সিগনাল ডিসকানেক্ট করে দেয়।

চলবে......
Loading spinner

Reply
Posts: 8
Topic starter
(@jafrin-jerin)
Joined: 5 months ago

পর্ব:06

মহল এর সামনে একটা পানির ফোয়ারা রয়েছে যেটা থেকে এখনও পর্যন্ত পানি পরছে।আর তার পিছনে রয়েছে একটা ছোটো খাটো পুকুর যেখানে কয়েকটা হাঁস ভেসে বেড়াচ্ছে।আর মহল এর দুই পাশে কয়েকটা মূর্তি দেখতে প্রহরী দের মত লাগে।এখান কার আকাশ টা অদ্ভূত সুন্দর।আকাশে চিকন চাঁদ উঠেছে আসে পাশে জোনাকি উড়ে বেড়াচ্ছে।সিয়ানা ধীরে ধীরে সেই মহল এর মূল ফটকের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।আর তার বাম হাত সেই দরজার উপর রাখলো।দরজার উপর হাত রাখার সাথে সাথে তার মস্তিষ্কে কোনো কিছুর ঝিলিক খেলা করলো।অদ্ভূত কিছুর ভিশন দেখলো অস্পষ্ট।কোনো কিছুই ঠিক ভাবে বুঝা যাচ্ছে না।সে তার নিজের মস্তিষ্কে চাপ প্রয়োগ করে বুঝার চেষ্টা করলো, যে আসলে এটা কিসের ভিশন সে দেখছে।কিন্তু তাতে সে ব্যর্থ হলো দেখতে পারলো না আর।তাই সিয়ানা আর কিছু মনে করার চেষ্টা ও করলো না।সিয়ানা ধীরে ধীরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে।ঢুকার সাথে সাথে তার শরীরে শীতল দমকা হাওয়া এসে লাগলো।বাতাস টা থেকে অদ্ভূত সুন্দর স্মেল আসছিল।সিয়ানা বলে উঠে,,,
-"এত বছর পুরোনো একটা রাজ প্রাসাদ এর হাওয়া থেকে এত তাজা আর সুমধুর হাওয়া কথা থেকে আসছে।রাজ প্রাসাদ টা দেখে তো অনেক বছর পুরোনো মনে হচ্ছে।তাহলে কিভাবে কি,,?
সিয়ানা সতর্কতার সাথে সামনে এগিয়ে যায়।প্রাসাদ এর ভিতর যেতেই সর্ব প্রথম বড়ো বসার ঘর পড়ে।যেখানে পাঁচটা বড় সোফা সেট আছে যেগুলো কালো কাপড় দিয়ে মুড়ানো।আর মাঝে রয়েছে সেন্টার টেবিল।বসার স্থান পেরিয়ে কিছুটা দূরে অবস্থিত বিশাল আর বিস্তৃত সিড়ি,যেটা উপরে গিয়ে দুই ভাগ হয়ে দুই পাশে চলে গিয়েছে।প্রাসাদটি তিন তলা বিশিষ্ট।নিচ তলায় রয়েছে এক পাশে চার টা আরেক পাশে চার টা করে মোট আট টা কক্ষ।প্রতিটা কক্ষ কোনো সাধারণ কক্ষ নয়।সেগুলোর মধ্যে একটা হচ্ছে নৃত্য শালা।আরেকটায় রয়েছে গান বাজনার সব ধরণের বাদ্যযন্ত্র(ইন্সট্রুমেন্ট)।তৃতীয় টায় রয়েছে আগের কার যুগের সমস্ত ধরণের অস্ত্র(যেমন:তীর,ধনুক, তলোয়ার ইত্যাদি)ছিল।কিন্তু সেগুলোতে মরিচা ধরে আছে।সিয়ানা এই পুরোনো মহলে এগুলো দেখে রীতি মতো অবাক হয়ে গিয়েছে।সে এগুলো সাইড এ রেখে উপরে চলে যায়।উপরের প্রত্যেকটা রুম ওই খালি।শুধু একটা রুম এ তালা দেওয়া।সিয়ানা আস্তে ধীরে সেই রুম এর সামনে দাঁড়ায় আর সেই তালা খুলার চেষ্টা করে।প্রথমে, গুলি করে তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করে কিন্তু তাও তালা ভাঙ্গে না।সে নিজের জাদু শক্তি প্রয়োগ করে তালা খুলার চেষ্টা করে তাও খুলে না।শেষে সে নিজের মায়াবী তলোয়ার দিয়ে প্রহার করে তাও তালা টার কিছুই হয় না।সিয়ানা এক সময় না পেরে যখন হাল ছেড়ে দিবে তখন সে দরজার উপর কিছু আঁকা দেখে।সিয়া সেটার উপর থেকে ধুল সরিয়ে দেখে সেখানে আগুন এর চিহ্ন।সিয়া তখন চিন্তিত হয়ে পড়ে যে এটার মানে কি।সিয়ানা দরজার উপর এমন চিহ্ন দেখে ক্ষণিকের জন্য চিন্তিত হয়ে পড়ে তারপর সে তালা টাকে ভালো করে দেখে যে এটার ওপর কোনো কিছু আছে নাকি।সিয়া ভেবেছিল ঠিক তাই হয়েছে তালা টাতে আগুন চিহ্ন ছিল।সে দরজা টাকে আরো ভালো করে দেখতে থাকে।দরজাটা ভালো করে দেখার পর দরজার ঠিক উপর কিছু লেখা দেখতে পায়।সেটা অনেকটা ধাঁধার মতো,,,,
**"আমি আগুন নই, তবু আগুনে আমার জন্ম।
আমি ধাতু নই, তবু ধাতুর চেয়েও শক্ত।
শত সহস্র বছর ধরে আমি হারিয়ে আছি,
তবু আমার খোঁজেই জেগে আছে এই দ্বার।
ছাইয়ের রাজ্যে আমার নিদ্রা,
শিখার হৃদয়ে আমার প্রাণ।
আমাকে খুঁজে পেলে খুলবে পথ,
নইলে থাকবে চিরকাল অজান।"**

সিয়া এটা পড়ে পুরো ভাবুক হয়ে যায়।সে দেখে তালা তে আগুন এর চিহ্ন দরজা তেও এমন কি ধাঁধা তেও আগুন এর কথা বলা হয়েছে।তাহলে কি দরজার চাবি কি অগ্নি চাবি যা আগুন দিয়ে তৈরি।সে অগ্নি চাবি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে কিন্তু দরজা খুলে না।তালা খোলার জন্য অগ্নিচাবি প্রয়োজন।তাই সিয়া তালা টাকে ভালো করে পরখ করে তারপর সে চোখ বন্ধ করে হাত মুঠো করে কিছু পরতে থাকে।চোখ খুলে হাতের মুঠো খুলার পর তার হাতে একটা চাবি দেখা যায় যেটা থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছে।সে সেই চাবি টা তালার ভিতর ঢুকিয়ে বাম পাশে মুড়ান দেয় আর সাথে ক্লিক করে শব্দ করে তালা খুলে যায়।সে তালা টা দরজা থেকে খুলে দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে যায়।সিয়া ভিতরে ঢুকে পুরো অবাক হয়ে যায়।তার সামনে আগুনের তৈরি একটা রাজ সিংহাসন।সিংহাসন থেকে আগুন এর ঝলকানি বের হচ্ছে।সে সামনে এগোতে থাকে।যখন সে সিংহাসন এর সামনে দাঁড়ায় তখন সে খেয়াল করে তার বাম পাশ থেকে এক তীব্র আলো আসছে।সিয়া সেই আলোর রেখা অনুসরণ করে সেখানে যায় আর গিয়ে তার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।আর সাথে তার ঠোঁটে আর চোখে খুশির ঝিলিক উঠে।সে এত বছর যাবৎ যেটা খুঁজে এসেছিল সেটা সে পেয়ে গেছে।সিয়া সেই অমর ফুল পেয়ে গেছে যেই ফুল তার শক্তির আর আত্মার একটা অংশ।সিয়া সেই ফুল টা ছোঁয়ার সাথে সাথে সেখানে আলোর ঝিলিক খেলে উঠে।ফুল থেকে বের হওয়া আলো দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে অগ্নিশিখা পদ্ম ফুল টা তার মালিক কে চিনতে পেরেছে বিধায় আলোর ঝলকানি দিচ্ছে।সিয়া আর সময় নষ্ট না করে সেখান থেকে ফুল টা নিয়ে নেয়।আর চোখ বন্ধ করে কিছু পড়তেই সেটা গায়েব হয়ে যায়।তারপর সিয়া সেই ঘর থেকে বের হয়ে যেতে শুরু করে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার হাতের সাথে ধাক্কা লেগে একটা পুরোনো বই পড়ে যায় তাক থেকে সিয়া সেটা তুলে দেখে সেখানে অগ্নি পাখি, ভ্যাম্পায়ার আর ময়ূর এর ছবি দেওয়া।সিয়া সেই বই টাও সাথে নিয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যায় আর যাওয়ার আগে সব কিছু আগের মত করে দেয়।
সিয়া মহল থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে তার কাছে থাকা হকিটকি এর মাধ্যমে তার বন্ধু দের খবর দিয়ে জানায় যে তার কাজ শেষ আর জিজ্ঞেস করে তাদের শেষ হয়েছে কিনা।তারা বলে তাদের ও কাজ শেষ।সিয়ানা তখন বলে,,
--"হেঁটে গাড়ির কাছে যেতে যেতে অনেক দেরি হয়ে যাবে।তার চেয়ে ভালো আমরা টেলিপোর্টিং করে গাড়ির কাছে যাই।"
তার কথায় সবাই সহমত পোষণ করে।আর সবাই একই সাথে টেলিপোর্টিং শক্তি ব্যবহার করে তারা গাড়ির কাছে চলে আসে।আর সবার কাছে কিছু না কিছু রয়েছে যেটা অদ্ভূত লেগেছে সেটাই উঠিয়ে নিয়েছে।তারপর তারা গাড়িতে উঠে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।তারা কিছুক্ষণ এর মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যায়।তখন মধ্য রাত চলে।বাড়িতে ফিরে যে যার রুম এ গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন সিয়া তাদের কে ডেকে নিচে আসতে বলে।সিয়ার ডাকে সবাই তড়িঘড়ি করে নিচে নেমে আসে।এসে দেখে সিয়া দাঁড়িয়ে আছে।রিমি এসে বলে,,,
--"কিরে,,,কি হয়েছে?এত রাতে আমাদের নিচে নামতে বললি কেন?
তখন সিয়া বলে,,
--"কারণ আছে তাই ডেকেছি।
তার জবাবে আরিফ বলে উঠে,,,
--"সেই কারণ টা কি?
তখন সিয়া বলে,,
--"আমরা কি কারণে ওই জঙ্গলে যাই।সেটা বলতে পারবি।
তখন আরিফ প্রতি উত্তরে বলে,,
--"তোর কি ফুল আছে সেটা খুঁজতে কিন্তু সেটা তুই ছাড়া কেউ দেখে নি।
সিয়া বলে,,,
--"হুম ঠিক।আর এটা দেখ।
তারপর সিয়া হাত সামনে এনে আবারো কিছু পড়তে থাকে।পড়ার সাথে সাথে তার হাতে সেই ফুল টা উদয় মান হয়।সিয়া কিছুক্ষণ নীরব থেকে ফুলটির দিকে তাকিয়ে রইল।তার চোখে যেন একসাথে বিস্ময়,স্বস্তি আর বহু বছরের অপেক্ষার সমাপ্তির ছাপ ফুটে উঠল।
"এটাই সেই অগ্নিশিখা পদ্ম......যাকে আমি এত বছর ধরে খুঁজে বেড়িয়েছি।অবশেষে আমি এটাকে খুঁজে পেয়েছি।"
সে ধীরে ধীরে ফুলটির দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।
"আমার আত্মার,আমার শক্তির অর্ধেক অংশ এই ফুলের মধ্যেই বন্দী ছিল।আমার কাছে শক্তি ছিল,কিন্তু এই পদ্ম ছাড়া আমি কখনোই সম্পূর্ণ শক্তিশালী ছিলাম না।আগের জন্মে যখন আমি মৃত্যুবরণ করি,তখন এই ফুলটিও আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হারিয়ে যায়।"
সিয়ার কণ্ঠ আরও গভীর হয়ে উঠল।
"সৃষ্টির আদিকালে,যখন আলো ও অগ্নি একসূত্রে বাঁধা ছিল, তখন মহাজাগতিক শিখার অন্তর থেকে জন্ম নিয়েছিল অগ্নিশিখা পদ্ম।এটি কোনো সাধারণ ফুল নয়।এর প্রতিটি পাপড়ির গভীরে সুপ্ত থাকে প্রাচীন অগ্নির শক্তি।দূর থেকে এটি গোলাপি-বেগুনি আভায় দীপ্তিমান দেখালেও অন্ধকারে এর অন্তর থেকে শিখার মতো আলো বিচ্ছুরিত হয়।"
সিয়া আরো বলে,,,,
"এই ফুল কেবল সেইসব স্থানে ফোটে,যেখানে যুগ যুগ ধরে লুকিয়ে থাকে দেবশক্তি,হারিয়ে যাওয়া জাদু কিংবা কোনো প্রাচীন রহস্য।এর আলো আগুনের মতো উজ্জ্বল,কিন্তু তা দহন করে না; বরং অশুভ শক্তিকে দূরে সরিয়ে পথপ্রদর্শক হয়ে ওঠে।"
সিয়া মৃদু হেসে বলল,
"এই অগ্নিশিখা পদ্মের শক্তির মাধ্যমেই আমি একসময় অগ্নি পাখিতে রূপান্তরিত হয়েছিলাম–সেই পৌরাণিক শুভ শক্তির অধিকারী সত্তায়,যার কথা আজও কিংবদন্তিতে শোনা যায়।"
অগ্নি—শক্তি,সৃষ্টি ও ধ্বংসের প্রতীক।
শিখা—জ্ঞান,আশা ও আলোর প্রতীক।
পদ্ম—পবিত্রতা,সৌন্দর্য ও আত্মজাগরণের প্রতীক।
তাই অগ্নিশিখা পদ্ম অর্থ—
"অগ্নির আলোয় জন্ম নেওয়া সেই পবিত্র ফুল,যা অন্ধকারের মাঝে জ্ঞান ও আশার শিখা জ্বালিয়ে রাখে।"
সিয়া ফুলটিকে ধরে ফিসফিস করে বলল,,,,
"আর এই পদ্মের কারণেই.....আমি আজও জীবিত।"

এই টুকু বলে সিয়া থামে।সিয়া বাকি সবার দিকে তাকিয়ে দেখে সব তার দিকে বিস্ময় চোখে তাকিয়ে আছে।তখন সিয়ানা তাদের উদ্দেশ্যে বলে,,,
--"এভাবে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে না থেকে রুম এ গিয়ে ঘুম।কালকে আমাদের বাকি ছাত্র দের নিয়ে বের হতে হবে।
সব তার কথা মত নিজ নিজ রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

চলবে........

Loading spinner

Reply
Page 2 / 2
Share:

Loading spinner