সিয়ানা হেড স্যার এর রুম থেকে বের হয়ে সোজা ক্যান্টিন এরিয়া তে চলে যায় যেখানে ওর সব ফ্রেন্ডসরা বসে আছে।
হঠাৎ,,,,,,
ক্যান্টিন এরিয়া তে যাওয়ার সময়ে ভাঙচুর এর আওয়াজ হতে থাকে।সিয়ানা তড়িৎ গতিতে সেখানে যেতে থাকে গিয়ে দেখে।তার ফ্রেন্ডসদের উপর কারা যেনো এট্যাক করেছে।সিয়ানা তার প্যান্ট এর পিছনের পকেট থেকে তার গান দুই টা বের করে যারা তার ফ্রেন্ড দের কে মারছিল তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে গুলি ছুড়তে লাগে।প্রথম গুলি গিয়ে একজন এর মাথায় লাগায়।তারপর আরেকজন এর বুকে। দেহ ভেদ করে একেকটা বুলেট বের হয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর,,,,,,,
সমস্ত কিছু ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে কোথাও কোনো প্রকার কোলাহল নেই।সব স্টুডেন্টরা আগে থেকেই বের হয়ে গিয়ে ছিলো বিদায় কোনো স্টুডেন্ট এর কোনো প্রকার ক্ষতি হয় নাই।পুরো ক্যান্টিন এর মাঝে সিয়ানা একা দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে একটা ছেলে পরে আছে।সেই ছেলেটার হাতে গুলির আঘাত লেগেছে।আর সে সিয়ানার সামনে পরে কাতরাচ্ছে।আর নিভু নিভু স্বরে বলছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।সিয়ানা ওই ছেলেটার এমন ছটফটানি দেখে বলে,,,,
-"তোকে কে পাঠিয়েছে এখানে?আর আমার ফ্রেন্ডদের কে মারতে চেয়েছিলি কেনো বল।
সিয়ার কথায় ওই ছেলেটা কিছু বলছে না দেখে সিয়া ধমকিয়ে উঠে।সিয়ার ধমক শুনে এবার ছেলেটি বলে,,,,
-"আমাকে ড্রাগন গ্রুপ এর লিডার পাঠিয়েছে আপনাকে আর আপনার সাথে থাকা ফ্রেন্ডদের মারার জন্য।
সিয়ানা ছেলেটার কথা শুনে তার দিকে শীতল চাহনি নিক্ষেপ করে তার দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ী হাসি দেয় যেটা জানান দিচ্ছে আগামীর কোনো বার্তা।সিয়া বলে উঠে,,,,
-"রকি তোকে পাঠিয়েছে।হাউ ফানি,তোর কি আমাকে দেখে গাধা মনে হয়।
ছেলে টা একবার মাথা নাড়িয়ে বলে হ্যা।ছেলেটার মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলাতে সিয়ার ভ্রু যুগল উঁচু হয়ে যায়।ছেলেটা সিয়াকে রাগতে দেখে আবার ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে না বলে।ছেলেটির এমন কাণ্ডকারখানা দেখে পিলারের পিছনে লুকিয়ে থাকা মামুন বিরবির করে বলে,,,,,
-"আজ তো তু গায়া কামছে বেটে।কার হাতে পড়ছোছ সেই খেয়াল আছে।সাক্ষাত যমের হাতে এখন তোর কি হইবো উপর ওয়ালা ছাড়া কেউ জানে না।
মামুন এই কথা বলেছে কি বলেনি সামনে থেকে পর পর চারটা গুলির শব্দ হয়।গুলির শব্দ শুনে সবাই বেরিয়ে আসে যে যেখানে লুকিয়ে ছিল।বেরিয়ে এসে দেখে সিয়া ওই ছেলেটার মাথায় পর পর চারটা গুলি করেছে।আর সবাই এই কান্ড দেখে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।সকলের কথা যেনো বন্ধ হয়ে গেছে।কারো গলা থেকে একটু টু শব্দ বের হচ্ছে না।তাদের রিয়েকশন এমন ছিল যে এখন একটু কথা বললে গর্দান যাবে।সিয়ানা ওই লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,,,,,
-"আমি ছাড় দেই কিন্তু ছেড়ে দেই না।"
তারপর সে সেখান থেকে বেরিয়ে চলে যায়।আর যেতে যেতে যে সমস্ত ক্ষতি ক্যান্টিন এর হয়েছে সব কিছু তার ম্যাজিক দিয়ে ঠিক করে দেয় আর যতো গুলো লাশ এদিক সেদিক পরে ছিল সব গুলো গায়েব করে দেয়।সিয়ানা চলে যাবার পর তারাও এক প্রকার দৌঁড় দিয়ে বেরিয়ে পরে সিয়ানার সাথে।এখন তারা স্টুডেন্ট দের নিয়ে বের হবে কলেজ এ যাওয়ার উদ্দেশ্যে।
,
,
,
,
দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এসেছে।এখন ৩ টা ২৫ বাজছে।সিয়ারা স্টুডেন্টদের তাদের হোটেল এ রেখে বাসায় এসেছে অনেকক্ষন হয়ে গেছে।তারা সবাই ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে আছে।শুধু সিয়ানা বাদে।সে বসে আছে জঙ্গলের ম্যাপ নিয়ে।জঙ্গলে গিয়ে কোথায় যাবে বা যাওয়া লাগবে সেগুলো বসে দাগাচ্ছে।কিছুক্ষণ পর সে দাগিয়ে রেখে চলে যায় বারান্দায়।তার রুমের সাথের বারান্দাটা খোলা মেলা উপড়ে তাকালে আকাশ দেখা যায়।বারান্দার এখানে সেখানে রয়েছে জিম করার সরঞ্জাম।তার বাড়িটাও কম বড় নয় ।সিয়ার বাড়িটা তিন তোলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স বাড়ি।পুরো বাড়ি টা দেখলে যে কেউ মনে করবে তারা ২০৪০ বা ২০৫০ সালে বসবাস করছে।সিয়ানার বাড়ি টায় উচ্চ আধুনিকতার ছোঁয়া রয়েছে।
সন্ধ্যা সাত টা বাজে,,,,
সবাই ঘুম থেকে উঠে পরেছে আর যে যার রুম এ ফ্রেশ হচ্ছে,সবাই যখন নিচে নামে তখন দেখে সিয়ানা বসে বসে কফি খাচ্ছে।সবাই কে নিচে নামতে দেখে সিয়ানা বলে,,,
-"তাড়াতাড়ি খেয়ে দেয়ে তৈরি হয়ে নে।আমাদের কে নয় টার আগে বের হতে হবে।
সিয়ানার কথা শুনে সবাই একটু অবাক হয়ে যায়।যে এত রাতে তারা কোথায় যাবে।তাই সবাই ওর দিকে তাকিয়ে থাকে সিয়ানা তাদের সবাইকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,,,
-"কি হলো এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো যা গিয়ে খেয়ে দেয়ে তৈরি হো।
তখন রিমি বলে,,,,
-"আমরা কোথায় যাচ্ছি।
ওর এই কথা শুনে সিয়া তার দিকে তাকায়।সবাই তার চোখের চাহনি দেখে ভয় পেয়ে যায়।আর রিমির তো জান যায় যায় অবস্থা ও ভয়ে ভয়ে বলে,,,
-"ভুল কিছু বলে ফেললাম নাকি।
-"ভুল"
-"হুম"
-"হুম,ভুল তো বলেছিস,এখানে আসার সময় কি বলেছিলাম তোদের।
-"কি,,,,?
-"তোদের বলেছিলাম যে,এখানে আসার একমাত্র কারণ হচ্ছে ব্লাড ফরেস্ট এ যাওয়া,এবার মনে পড়েছে।
-"হুম,সরি রে ঘুমের তাড়নায় ভুলে গিয়েছিলাম।
-"হুম,হয়েছে এখন যা।
-"ওকে।
তারপর সবাই হালকা পাতলা কিছু খেয়ে রেডি হতে যায়।আর সিয়া ও রেডি হতে চলে যায়।সিয়া,রিমি,দিয়া একই স্যুট পড়েছে ব্ল্যাক জিন্স আর ব্ল্যাক শর্ট টপস সাথে ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেট।আর আরিফ,মামুন,সাঈম,সাইফ এরা ও ব্ল্যাক টি-শার্ট আর ব্ল্যাক জ্যাকেট, ব্ল্যাক জিন্স পড়ে তৈরি হয়।তাদের সবার ব্যাক প্যাক এ নানা ধরণের হাতিয়ার যেমন স্নাইপার,ছুড়ি, রিভলভার আর বিশেষ ধরণের অস্ত্র যেমন:সিলভার নাইফ(এটা ভ্যাম্পায়ার দের প্রতিহত করতে এই অস্ত্র টা ব্যবহৃত হয়),রেড ওয়াটার(এটা মনস্টার দের কাবু পেতে এই ওয়াটার সব চেয়ে প্রয়োজনীয়),তলোয়ার(এটা একটা বিশেষ তলোয়ার যেটা প্রত্যেকের কাছেই আছে) আর এটা কোনো সাধারণ তলোয়ার নয় সবার তলোয়ার এর মধ্যে সিয়ানার টা বেশি শক্তিশালি, তাদের প্রত্যেকের শক্তি অনুযায়ি এই তলোয়ার গুলো তৈরি করা হয়েছে।তারপর তারা জিপ এ গিয়ে বসে তারা জিপ এ করে যাবে।মোট দুই টা জিপ রয়েছে তারা কিছু খাবার ও সাথে করে নিয়েছে।আর যাওয়ার সময় সিয়া বাড়ির ওপর একটা জাদু করে যায়।তারপর তারা বেরিয়ে পরে তাদের গন্তব্যে।
,
,
,
ব্লাড ফরেস্ট,,,,,,,,
ব্লাড ফরেস্ট এ পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘন্টা লেগে যায়।আট টার সময় বের হয়েছে তারা।আর এখন নয় টা ত্রিশ বাজে।তারা ব্লাড ফরেস্ট এ পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে নেমে যায়।তারপর তারা জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করে,আর সাথে করে নিয়ে যায় তারা যা কিছু এনেছে।তারা হাঁটতে থাকে,হাঁটতে হাঁটতে এক সময় জঙ্গলের অনেক গভীরে চলে আসে।জঙ্গলের গভীরে এসে তারা সবাই ভাগ হয়ে যায় এক জন এক দিকে যাবে তো আরেক জন আরেক দিকে এভাবে তারা ভিন্ন হয়ে যায়।সিয়ানা জঙ্গলের অনেক টাই ভিতরে চলে যায়।আর সে এক সময় সামনে তাকিয়ে দেখে তার সামনে একটা বড় মহল।এত টাই বড় যে এর ভিতরে কেউ একবার প্রবেশ করলে সে পথ হারিয়ে যাবে।এই মহল টা দেখার সাথে সিয়ানা তার কাছে থাকা হকিটকি এর মাধ্যমে তার বাকি বন্ধুদের কাছে খবর পাঠায় যে সে এখানে একটা মহল পেয়েছে।তারাও বলে তারাও নাকি তাদের এখানে কিছু গুহা পেয়েছে।তারা এখন সেটার ভিতরে ঢুকার প্রস্তুতি নিচ্ছে।সিয়া বলে,,,,
-"ঠিক আছে তোরা যা আমি ও এই মহলের ভিতর ঢুকছি।এই বলে সে তার হাতে থাকে হকিটকির সিগনাল ডিসকানেক্ট করে দেয়।