গল্প: মায়াবিনী(Wri...
 
Notifications
Clear all

গল্প: মায়াবিনী(Writer:Ayrah Rahman)


Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago

গল্প: মায়াবিনী

Writer:Ayrah Rahman

 

এখন থেকে এইখানে বাকি পর্ব গুলো পোস্ট করা হবে, 

আর যাদের আগের পর্ব গুলো পড়া বাকি আছে তাদের জন্য নিচে লিংক দেওয়া হয়েছে। 

 

গল্পের:link

Loading spinner

Reply
4 Replies
Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago

part:-07

 

চলে আসার সময় আবরারের  সামনে গিয়ে বললাম,, 

-- ধন্যবাদ.. 

ভার্সিটি তে.....

বাইক নিয়ে ভার্সিটির মাঠে যেতেই দেখলাম মিরা আর সাজিন দাঁড়িয়ে কথা বলছে,

আমি বাইক নিয়ে ওদের কাছ ঘেঁষে ব্রেক করলাম,,
হঠাৎ এমন হওয়াতে সাজিন লাফ দিয়ে দুরে সরে গেলো,,

-- ওই ছেমড়ি হার্ট ফেল করাইয়া মাইরা লাইবি নাকি?

সাজিনের কথা শুনে আমি আলতো হাসলাম,,

বেচারা একটু বেশিই ভয় পেয়েছে,,সাজিন স্বভাবতই একটু না অনেকটাই ভীতু,,আমি আর মিরা ছাড়া ও আর কারো সাথে ঠিক করে কথাও বলে না,,

আমার আর মিরার সাথে বন্ধুত্ব টাও হয়েছে আমার আর মিরার জন্য,, ভার্সিটি তে ভর্তি হবার পর থেকে ই সবসময় একা একা থাকতো ইনফেক্ট কারো সাথে কথা ও বলতো না,,তারপর আমি আর মিরা যেচে পড়ে ওর সাথে কথা বলতাম,,এভাবেই আস্তে আস্তে আমাদের বন্ধুত্ব টা হয়ে যায়,,

আমি দেখলাম মিরা চোখ বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,,

আমি ভ্রু কুচকে ওর দিকে তাকাতেই ও বলল..

-- কিরে আজ হঠাৎ বাইক নিয়ে এলি যে,,তোর গাড়ি কোথায়?  তুই তো কখনো বাইক নিয়ে আসিস নি আজ হঠাৎ? 

মিরার দিকে তাকিয়ে আমি একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম,,

মেয়েটার এতো কৌতুহল! সব কিছু তেই তার প্রশ্ন করা লাগবেই,,

কথা ঘুরানোর জন্য বললাম,,

-- তোরা হাটতে থাক আমি বাইক টা পার্ক করে আসছি,,

বলেই আমি বাইক নিয়ে পার্কিং লটে চলে গেলাম,,

বাইক পার্ক করেই আমি চাবি টা আঙুলে নিয়ে ঘুড়াতে ঘুড়াতে ওদের দিকে এগিয়ে গেলাম।

মিরা আর সাজিন হাঁটছে আর কথা বলছে,, আমি শুধু শুনছি কেন জানি কথা বলতে ইচ্ছে করছে না,,

-- আপু..  আয়াত আপু.. 

কেউ একজন পিছনে থেকে জোড়ে চিৎকার দিলো,,

আমি, মিরা আর সাজিন পিছনে তাকিয়ে দেখি রাইসা,,

রাইসা আমার সামনে এসে হাঁপাতে লাগলো,,আমি মিরার হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে ওকে দিলাম,, 

মেয়েটা সারাদিন শুধু দৌড়ে,, যখন ই ওকে দেখেছি তখনই দৌড়তেই দেখেছি,,

-- আর ইউ ওকে? 

আমার দিকে তাকিয়ে রাইসা একটা সৌজন্য মুলক হাসি দিলো,,

-- ইয়াহ আই এম ফাইন,, থ্যাংক ইউ আপু এন্ড সরি,,

-- তুমি ফাইন বুঝলাম তবে ধন্যবাদ আর সরির কি হলো?

-- এই যে আমি না বলা সত্যেও তুমি পানি এগিয়ে দিলে তার জন্য ধন্যবাদ,, 

-- আর সরি?

-- সরি হলো ভাইয়ার পক্ষ থেকে,, আসলে ভাইয়া পুরো ঘটনা না জেনেই তোমাকে কতগুলো কথা শুনালো আর অপমান ও করলো,

,কিন্তু তুমি কিছু ই বললে না,,

কথা গুলো বলেই রাইসা মন খারাপ করে ফেলল,,

আমি মুচকি হেসে রাইসার গাল টিপে দিলাম,,

ওর গালে হাত দিয়ে বললাম,,

-- বোকা মেয়ে এর জন্য কেউ মন খারাপ করে?  আমি তো কিছু ই মনে করি নি,,এসব অপমান  আমার গায়ে সওয়া হয়ে গেছে এখন আর খারাপ লাগে না,,মন খারাপ ও হয় না,,

আমার কথা শুনে রাইসা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো,, 

ওর তাকানোর মানে বুঝতে পেরে আমি আলতো হাসলাম,,

-- ট্রাস্ট মি! আমি কিছু ই মনে করি নি গো ছোট আপুনি,,

-- তুমি সত্যি খুব ভালো আপুনি,,

আমি প্রতুত্তরে হাসলাম মাত্র,, 

_____________________ 

সবে মাত্র ক্লাস শেষ করে,, 

আমি, মিরা আর সাজিন বের হলাম,,

মাঠ দিয়ে যাবার সময় দেখি বটতলায় অনেকটা ভীড় জমে আছে,,

-- কি হয়েছে রে সামনে? 

প্রশ্ন টা কর্নগোচর হতে ই মিরা আমার দিকে তাকালো,, 

-- আয়ু.. তুই যেখানে আমিও সেখানে,, তাহলে তুই জানিস না আমি কি করে জানবো?

আমাদের কথার মধ্যে ই সাজিন বলে উঠলো,, 

-- আমার তো মনে হচ্ছে ওখানে র‍্যাগিং চলছে,,

-- আচ্ছা চল দেখি,,

কথা টা বলেই আমি সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম,,

ভীড় ঠেলে সামনে গিয়ে কি হচ্ছে দেখার চেষ্টা করলাম,,

ওখানে কয়েকজন ছেলের সামনে  ৩ টা মেয়ে দাড়ানো সবাই মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে,, 

--কি গো ফুলটুসি নাম কি তোমার,,

একটা ছেলে সাইডে থাকা মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বলল,,

-- নন..নাফিসা,,

মাঝখানের মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে বললে,,

মেয়েটা বলল..

-- জজ..জয়ন্তী,

 আরেক সাইডে থাকা মেয়েটার দিকে নজর দিতেই মেয়েটা ফেস ফেস করে কান্না করে দিলো,,

মেয়েটার কান্না দেখে সবগুলো ছেলে একসাথে হেসে উঠলো,,

এর মাঝে একটা ছেলে বলে উঠলো.. 

-- কি গো সুন্দরী কাঁদছ কেন? আমরা কি তোমায় আদর করেছি নাকি?

মেয়েটা কাঁদছে...

ছেলেটা ইশারা করতেই সাইডে থাকা মেয়ে দুটো চলে যায়,,

--তুমি চিনো গো আমাদের?  

-- মেয়েটি কেবলই মাথা নারে,,মানে সে চিনে..

-- আমরা কারা বলতো সুন্দরী? 

মজার ছলে ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো,,

-- সসসস.সিনিয়র 

কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো মেয়েটি,,

-- নাম কি তোমার ফুলটুসি? 

-- ররর.রাইসা,, রাইসা চৌধুরী 

-- সুন্দরী আমাদের একটা ডান্স করে দেখাও তো,দেখি তুমি কেমন ডান্স করতে পারো,,,

বলেই ছেলেগুলো হাসতে লাগলো,, 

কন্ঠ টা পরিচিত মনে হতেই আমি দৃষ্টিটা গাঢ় করলাম,

 মিরার হাতে ব্যগটা দিয়ে সামনে এগিয়ে আসলাম অনেকটা..

-- ভাইয়া দের মনে হয় নাচ দেখতে অনেক সখ তাই না ভাইয়ারা?

হাত দুটো আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করে ছেলেগুলোর সামনে গিয়ে দাড়ালাম,,

আমাকে দেখে  ছেলে গুলো দাড়িয়ে গেলো,,

এরা অনার্স ৪র্থ বর্ষের স্টুডেন্ট,, 

ভার্সিটি তে আমার ও অনেক টাই  বিশেষ খ্যাতি আছে, মারামারি,, পলিটিক্স আরো অনেক কিছু র জন্য , তাই এক নামে সবাই চেনে,,

এই দু বছরে অনেকটাই কুখ্যাতি অর্জন করায় অনেকেরই শত্রুর তালিকায় প্রথমেই আমার নাম টা দেখা যায়,,

আমাকে দেখে একজন সিনিয়র ভাই তৎক্ষনাৎ বলে উঠলো,, 

-- দেখো আয়াত তোমার সাথে এই মুহূর্তে আমাদের কোন দাঙ্গা হ য়নি,,তাই তুমি এখান থেকে যাও,, আমাদের কাজ আমাদের করতে দাও,,

-- ওহ রিয়েলি?  তো না করছে কে?  করেন

-- তুমি যাও,,

-- না আপনাদের তো নাচ দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে,, তাই আমি ছোট হয়ে একটা দায়িত্ব আছে না? তো কি নাচ দেখতে চান? ব্যালি ডান্স নাকি ক্লাসিকাল ডান্স? 

-- আয়াত তুমি যাও,, তোমার সাথে আমাদের কোন কথা হয়নি,,

-- মিরা,, মিরা( জোড়ে চিৎকার করে) 

মিরা দৌড়ে ভীড় ঠেলে আমার সামনে আসতে ই বললাম,,

-- মিরা যা তো আমার হকিস্টিকটা  নিয়ে আয় তো,,দেখি কে ডান্স দেখবে!

আমার এই কথা টা বলতে দেরি সব ভাগতে দেরি হয়নি..

তারা খুব ভালো করে ই জানে আমার হাতে একবার হকিস্টিক আসলে সবগুলা হসপিটালে ভর্তি হতে হবে,, 

ওদের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফের চারপাশে তাকিয়ে দেখলাম,,অনেকেই তাকিয়ে আছে,, 

-- কি সমস্যা?  এতক্ষণ যখন  মেয়েদের হ্যারাস করা হচ্ছিল তখন তো তামাশা দেখছেন,,কাপুরুষের দল কোথাকার! যান এখান থেকে,,( ধমক দিয়ে) 

সবাই একে একে চলে যেতেই আমি রাইসার দিকে তাকালাম,, 

মেয়েটা এখনও কাঁদছে,, 

আমি ওর সামনে গিয়ে দাড়ালাম,,

ওর সামনে দাড়াতেই ও চোখ তুলে একবার আমার দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে দিলো,,

ওর এক্সপ্রেশন দেখে মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেলো,,

ওর দুই বাহুতে চেপে ধরলাম,,তবে সাবধানে যাতে ব্যথা না পাই.. বললাম,,

-- এই মেয়ে মুখ নেই তোমার? কথা বলতে পারো না? আল্লাহ যে এত সুন্দর সুন্দর হাত দিলো শুধু কি খেতে আর চুড়ি পরে বসে থাকতে দিয়েছে হাত দুটো কাজে লাগাতে পারো না? প্রতিবাদ করতে পারো না,,

আর এই যে ফেসফেস করে কাঁদছ,, চোখের পানির মুল্য কি এতই সস্তা? 

এই একদম কাঁদবে বা,,চোখ মুছো চোখ মুছো বলছি,,

( অনেকটা চিল্লানি দিয়ে কথা গুলো বললাম)

আমার কথা শুনে রাইসা চোখ মুছতে নিলে,, 

হঠাৎ পিছনে থেকে কেউ বাহু ধরে টান দিয়ে ঠাস করে থাপ্পড় দিলো,,

আমি তাল সামলাতে না পেরে মিরার উপর গিয়ে পরলাম কোন মতে মিরা কে ধরে তাকাতেই দেখি,,আবরার রক্ত চক্ষু নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে,, 

-- এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি হে?  প্রথমে বাবার বয়সি এক লোককে,,তারপর ভাইয়ের বয়সি এক ছেলেকে আজ আমার বোন কে?  মারামারি, গুন্ডামি করতে হলে অন্য কোথাও যাও এটা ভদ্রলোকের জায়গা,,বোঝো তুমি?

উনার কথার মাঝখানে দিয়েই রাইসা বলে উঠলো,, 

-- ভাইয়া,,ভাইয়া তুই ভুল করছিস,, আপুর কোন দোষ নেই,,
রাইসাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলল..

-- তুই চুপ থাক,,এদের মতো মেয়ের হয়ে তোর সাফাই গাইতে হবে না,, 

আমার দিকে তাকিয়ে,, 

-- এই মেয়ে তুমি  মেনার্স সম্পর্কে কিছু জানো না? জানবে কিভাবে তোমার পরিবার তো তোমাকে কিছু শিক্ষা ই দেই নি,,

আর সহ্য করতে বা পেরে আমি বলে উঠলাম..

-- এনাফ,,এনাফ ইজ এনাফ,,এনাফ মিস্টার আবরার চৌধুরী,, অনেক বলে ফেলেছেন আর নই,,কি পেয়েছেন কি হে যখন যা ইচ্ছে তখন তাই বলবেন? অপমান করবেন আর আমি মাথা পেতে নিবো? আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলে না এতক্ষণে কবরে লাস টা পচন ধরা শুরু করতো,,নেহাত আপনি রাইসা আর মিরার ভাই,,না হলে মাহাবীন খান আয়াত কি জিনিস সেটা দেখিয়ে দিতাম,,

বলেই হন হন করে সেখান থেকে চলে আসলাম,,

বাইকে বসে বাইক ফুল স্পিডে চালানো শুরু করলাম,,

আজ কোথায় যাবো জানা নেই তবে আজ হয়তো বাসায় ফেরা হবে না,,

এটা আমার কাছে নতুন না,, যখনই মেজাজ খারাপ থাকে তখনি বাইক নিয়ে বহুদূর পারি জমাই,,

চলবে.....
 

Loading spinner

Reply
Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago
part:-08
 
 
"কিগো মেয়ে এখানে বসে আছো কেন? এই জঙ্গলের রাস্তা ভালো না তার ওপর আবার সন্ধ্যা নামবে বলে,,সেই কখন থেকে দেখছি এখানে বসে আছো,,বাড়ি যাবে না?""

পিছনে থেকে একটা পিচ্ছির কন্ঠ শুনতে পেয়ে পিছনে তাকালাম,, 

দেখি একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, বয়স টা পনেরো  কি ষোলো ,,

সেই ভার্সিটি থেকে বের হয়ে যেদিকে দুচোখ এসেছে সেদিকে ই এসেছি,,আমি এখন সেই শহর থেকে অনেক টা দুরে,,

চোখ গুলো বড় করে তাকিয়ে আছে মেয়েটা আমার দিকে.., 

আমি অবাক চোখে ই ওকে কাছে ডাকলাম,,মেয়েটাও ভালো মতো গুটি গুটি পায়ে আমার কাছ ঘেঁষে দাড়ালো,,

-- তোমার নাম কি বাচ্চা?

-- ফুল,,

আমি ওর দিকে ভালো করে তাকালাম,,
নাহ্ ফুল নাম টা ওর সাথে বড্ড মানিয়েছে,,

-- শুধুই ফুল? নাকি এর আগ পিছে কিছু আছে?

প্রশ্নটা করতেই কেন জানি না ওর চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেলো,,

 শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো,, 

-- না না শুধু ফুল না,,আমার নাম  ফুল কলি,,সবাই   ফুল ডাকে..তোমার নাম কি গো?

-- আমার নাম? আমার নাম তো আয়াত,, 

-- আচ্ছা তুমি এই সন্ধ্যা য় এই খানে বসে আছো কেন?  তোমার মা বুঝি চিন্তা করবে না? আর এই রাস্তা টা অনেক নিরব থাকে এই সময়,, ক্ষন কয়েক পরেই তো মাগরিবের আজান দেয়া শুরু করবে,,

বুঝলাম মেয়েটা বয়সের তুলনায় বড্ড ম্যাচিউর,,অনেক কিছু ই বুঝে,,

আমি হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললাম,,

-- আজানের তো আরো অনেকটা সময় বাকি,,তুমি কি আমার সাথে বসবে এখানে?

মেয়েটা আমার প্রশ্নের প্রতুত্তর না দিয়ে আমার গা ঘেঁষে বসে পড়লো,,

নিরবতা ভেঙে আমি বললাম,,

-- তুমি কার সাথে থালো ফুল?

-- সেই ছোট্ট বেলা ই মা মারা যাবার পর থেকে আমি আমার বাবা আর সৎ মায়ের সাথে থাকি,,

আমি বেশ অবাক হয়ে বললাম,,

-- তোমার মা নেই? 

মেয়েটা শান্ত গলায় উত্তর দিলো,,

-- না,,

আমি আর কিছু ই জিজ্ঞেস করলাম না,,

কিছু ক্ষন বসে থাকার পর মেয়েটা বলল,

-- তুমি বাসায় যাবে না?

-- যাবো

-- তোমার পরিবারের মানুষ চিন্তা করবে না? একা একটা মেয়ে এত দেরি করছো? বাসা কোথায় তোমার?.. 

-- আমার বাসা ঢাকা,,আর যেখানে আমি মরলেও কারো কিছু যায় আসবে না সেখানে আমাকে নিয়ে চিন্তা করা টা নিতান্তই হাস্যকর..

সে যাই হোক,,তোমার বাসা কোথায় চলো তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আমি ঢাকা ব্যক করি,

আমার কথা শুনে ফুল বলে উঠলো,, 

-- না না তার দরকার নেই,,এই যে সামনে আমার বাড়ি,,আমি চলে যেতে পারবো,,তুমি চলে যাও,,

আমি খানিকটা রাগ দেখিয়ে বললাম,,

-- বড় বোন হয় তোমার,,তাই যা বলছি তাই করো,,

এটা বলে বসা থেকে উঠে দাড়ালাম,,বাইকের কাছে গিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়ে ওকে কাছে ডাকলাম,

ওর চোখে মুখে বিস্ময় নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে,

-- তুমি বাইক চালাতে জানো?

-- হুম জানি তো,,আরো অনেক কিছু জানি,,এবার কথা না বাড়িয়ে ওঠো,,

-- আমি কখনো বাইকে উঠি নি,, যদি পড়ে যাই,,

কথাটা বলেই ফুল মন খারাপ করে ফেলে,,

আমি একটা মুচকি হাসি দিয়ে বললাম,

-- সমস্যা নেই বাচ্চা,,আমি আছি তো তুমি জাস্ট উঠে আমার পেটে আকড়ে ধরো তাতেই হবে,,

ফুল চোখ বন্ধ করে বিসমিল্লাহ,, আয়তুল কুরসি সহ যাবতীয় সকল দোয়া মনে হয় ওর পড়া শেষ এবার আস্তে করে আমার পিছনে বসে পরে,,

আমি বাইক স্টার্ট দেই,,বেচারি অনেকটাই ভয়ে আছে যদি পরে যাই,,

এভাবে কিছুক্ষন চলার পর একটা বড় উঠোনের সামনে এসে ও থামতে বলে,,

আমি বাইক ব্রেক করতেই ও লাফ দিয়ে নেমে পড়ে,, 

এটাই নাকি ওদের বাড়ি,,আমাকে সাবধানে যেতে বলে ফুল  ভেতরে চলে যায়,, আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফের ঘাড় ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম,, আকাশ টা প্রায় অন্ধকার হয়ে আসছে,,

হঠাৎ বাড়ির ভেতরে থেকে চিল্লাচিল্লির আওয়াজ আসতেই আমার ভ্রু কুঁচকে এলো,,

বাইক টা সাইড করে একটু এগিয়ে যেতেই দেখি একটা মহিলা রাগি চোখে ফুলের দিকে তাকিয়ে আছে আর হাতে একটা মোটা কাঠ,,

সামনেই ফুল গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে,,, 

--- হতচ্ছারি মাইয়া,,এতক্ষণ লাগে তোর আইতে? কোন নাগরের লগে টাংকি মারতে গেছিলি,,রাইত হইয়া গেছে গা ওনার আইবার নামে খবর নাই,,তো বলছি কি বাড়ির কাম গুলা কেডাই করবো? আমারে কি দাসী বান্দি মনে হয় তোগোর কাছে,,হগ্গল কাম বাহি আছে এই নি নাগরের লগে পেরেম আলাপ করতে করতে রাইত ফুরাইয়া লাইতাছিলো,,
আরেক দিন যদি দেখছিনা,,আমার কথা না হুনলে,,এই কাঠ দিয়ে বাইরাইয়া তোরেও তোর মার কাছে পাঠামো,,

বলেই মহিলা আবার বাড়ি দিতে হাত উদ্দত করতেই আমি গিয়ে মহিলার হাত মুচরে পিছনে নিয়ে গেলাম,,

ফুল অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,,

-- ওই ওই কেডারে এই ডা,,, ছাড় আমারে ছাড় কইতাছি,,,

আমি উনার হাত মুচরে ধরেই বলে উঠলাম,,

-- আমি তো আজরাইল,, 

বলেই উনার হাত টা ছেড়ে দিলাম,,

মহিলাটি আমার আপাদমস্তক পর্যবেক্ষন করলো,,

আমার পরানো সাদা শার্ট আর জিন্সের প্যান্ট,,, 

-- তুই কেরে,,আমার হাত মুচড়ানোর সাহস কি করে হয় তোর,,

মহিলার ক্ষিপ্ত গলা শুনে আমি মুচকি হাসলাম,,

--আমার সাহসের দেখেছেন টা কি?

ফুল কে এভাবে মারছেন কেন?  হে?

-- সেটা কি আমার তোকে বলতে হইবো?

আমি মুচকি হেসে আমার পকেটে থেকে  চাবির রিং টা বের করলাম,,যেখানে ছোট বাট ধারালো ছুরি আছে,, 

আমি ফট জরে আমার হাতে থাকা নাইফ নিয়ে মহিলার গলা চেপে ধরলাম,,

-- কি বলছিলেন জানি? আমাকে কেন বলবেন তাই তো?

আমি ফুলের বড় বোন সো যা করবেন ভেবে করবেন,কারণ আমি যদি একবার শুনি ফুলের গায়ে ফুলের টোকা টাও লাগে তাহলে কিন্তু এটা আপনার গলায় ঢুকাতে আমার বেশি সময় লাগবে না,,( নাইফ টা দেখিয়ে)

বলেই উনাকে ছেড়ে দিলাম,,আমার থেকে ছাড়া পেয়ে মহিলা টি যেন প্রান ফিরে পেয়েছে
মহিলা রিতিমত হাঁপাচ্ছে।। 

আমি  ও কে না জানিয়ে চলে আসলাম,,

___________________

"" ভাইয়া কাজ টা কি তুমি ঠিক করছো?ঘটনা না জেনেই তুমি আপুকে অপমান করছো,,,

চলবে... 

[ আজকের পর্বটা কেমন জানি এলোমেলো হয়ে গেছে তাই আমি ক্ষমা প্রার্থী,, ছোট হবার জন্য দুঃখী ত কাল ইনশাআল্লাহ বড় করে দেবো]

Loading spinner

Reply
Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago
part:-09
 
 
"" ভাইয়া কাজ টা কি তুমি ঠিক করছো?ঘটনা না জেনেই তুমি আপুকে অপমান করছো,,,

রাতে খাবার টেবিলে হঠাৎ রাইসা ভাত মাখতে মাখতে কথাটা বলে উঠলো,,, 

রাইসার কথা শুনে মিস্টার আর মিসেস চৌধুরী, আয়াস অবাক চোখে তাকালো রাইসার দিকে,, রাইসা এক নজরে আবরারের দিকে তাকিয়ে আছে,,

 কিছু শুনার অপেক্ষায়,,

আবরার খাবারের দিকে তাকিয়ে ই গম্ভীর কন্ঠে  বলে উঠলো.. 

-- সেটা আমি তোকে বলতে বাধ্য নই,,সেই কৈফিয়ত আমি তোকে দেবো না,,যা করছিস কর,,মন দিয়ে খা আর ফালতু কথা বলবি না,,

-- ভাইয়া তুই কিন্তু ভুল করছিস,,সবসময় তুই যা করবি তা কিন্তু সঠিক না ও হতে পারে,,চোখের দেখা সবসময় ঠিক হয় না,,এমন যেন না হয় এখন করা কোন কাজের জন্য ভবিষ্যতে তোকে পস্তাতে হই,,

রাইসার কথা শুনে আবরার রাইসার দিকে শান্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো,,

রাইসার আর কোন কথা বাড়ালো না,,রাইসা জানে,,

আবরার যখন খুব বেশি রেগে যায় তখন একদম শান্ত হয়ে যায় যা ঝড় আসার পূর্ব লক্ষন,,

টেবিলে আর কোন কথা হয়নি,,যে যার মতো খেয়ে উঠে গেলো,,, 

আবরার রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছে আসলে ই কি সে কোন ভুল করছে?

________________

সকাল প্রায় ৬ টা,,, 

আমি ধীর পায়ে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলাম,,এই মাত্র সে বাসায় এসেছি,,সারারাত বাইক চালিয়েই সময় কাটিয়ে এসেছি ,কখনো নদীর পাড় তো কখনো ফুটপাতে বসে নিজের জীবনের অংক কষিয়েছি,,

এটা আমার এক রকম বদঅভ্যেস বলতে গেলে,,

কখনো যদি মেজাজ অনেক খারাপ করে কিংবা মন খারাপ করে তখন সে বাইক নিয়ে বের হয়ে যায় যখন যেখানে মন সেখানেই যায়,,

-- দাঁড়াও,,, 

কারো কন্ঠ কানে যেতেই আমার পা থেমে যায়,,পিছনে তাকিয়ে দেখে বাবা দাঁড়িয়ে,,, 

--- সারারাত কোথায় ছিলে?

-- সেই জবাব আমি আপনাকে দিতে বাধ্য নই মিস্টার খান,, 

--অবশ্যই দিবে কারণ আমি তোমার বাবা,,

-- বাবা! ওহ্ হ্যা আপনি তো আমার বাবা,, আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম,,কিন্তু জানেন তো মিস্টার খান জন্মদিলেই পিতা হওয়া যায় না,, 

এই নিয়ে এই মুহূর্তে আপনার সাথে আমি কথা বলতে চাচ্ছি না,,

বলেই ঘরে চলে গেলাম,

,ফ্রেস হয়ে ছোট ফুপির ঘরে গেলাম,,গিয়ে দেখি ফুপি খাটে বসে আজকের পেপার টা উল্টে পাল্টে দেখছে,,আমি গিয়ে ফুপির কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পরলাম,,

ফুপি আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল,, 

-- কি হয়েছে সোনা বাচ্চা? মন খারাপ? 

-- না কিছু না বাবুই[ চোখ বন্ধ করে ]

-- কাল সারারাত কোথায় ছিলে সোনা? জানো তোমার দুই ভাই কতটা রাগ করেছে তোমার উপর,, 

-- এমনি বাইক চালিয়েছি,,

-- তোমাকে না কত করে বলি রাতে বাইক নিয়ে যাবা না,,আর এত স্পিডে চালাবা না,,

-- হুম,,ভাইয়ারা কোথায়,,

-- সকালে তোমাকে দেখেই ঘুমাতে গেছে সারারাত জেগে ছিলো,

-- ওহ,,

কিছুক্ষন নিরবতা পালন করার পর ফুপি৷ বলে উঠলো,, 

-- বাচ্চা এখানে বসো আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসি,,

-- আচ্ছা যাও,,

আমার অভয় বানি শুনা মাত্র ই ফুপি খাবার আনতে চলে গেলো,,, 

আমি খেয়ে রেডি হয়ে  বাইক নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম, 

ভার্সিটিতে গিয়ে বাইক টা এক সাইডে পার্ক করার পর একটু সামনে এগুতেই পিছনে থেকে কেউ একজন ডাক দিতেই পিছনে তাকিয়ে দেখি রাইসা,,

আমাকে দেখা মাত্র মেয়েটা মুচকি হাসলো,,

আমিও মুচকি হেসে ওর গালে হাত দিয়ে বললাম

-- আরে কিউটি যে কেমন আছো?

--আলহামদুলিল্লাহ আপু তুমি? 

-- আমিও আলহামদুলিল্লাহ , 

আবরার দুর থেকে রাইসা আর আয়াতের কথা বলা দেখছে আর রাগে ফুসছে,,

রাইসা তুই এখনো এখানে দাড়িয়ে আছিস কেন?

পিছনে থেকে আবরারের কথা শুনতে পেয়ে রাইসা পিছন ফিরে তাকালো,,

আমিও এক নজর আবরারের দিকে তাকালাম,, 

-- তোকে না বলেছি এসব বাজে মেয়ের সাথে কথা না বলতে যা ক্লাসে যা আর যদি কখনো দেখেছি ওর সাথে তোকে তাহলে তোর পড়াশোনা অফ করে দিবো মনে থাকে যেন,,

বলেই আবরার চলে গেলো,,

আবরার এসেছিল রাইসাকে ভার্সিটি ড্রপ করে দিতে,,,

-- আপু ভাইয়ার কথায় কিছু মনে করো না আসলে ভাইয়া এমন ই একটু গম্ভীর আর রাগী,,আচ্ছা আমার ক্লাস শুরু হবে আমি ক্লাসে গেলাম,,

আমি রাইসাকে চোখ দিয়ে ইশারা করতেই ও হেসে বিদায় নিয়ে চলে গেলো,, 

আমি ঠাই দাঁড়িয়ে রইলাম,,

-- কিরে স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো সং সেজে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?

মিরার কন্ঠ কর্নগোচর হতেই পর দিকে তাকালাম,, 

-- না কিছু হয় নি,,চল ক্লাসে চল,, 

-- হুম,,আয়াত!

-- কি কিছু বলবি?

-- পৌশু নবীন বরণ,, 

-- তো হোক নবীন বরণ আমি কি করব?

-- আমি না তোর নাম ও দিয়ে দিয়েছি! 

মিরার  কথা শুনা মাত্রই ওর দিকে চোখ ছোট করে তাকালাম,,

-- মানে কি? আমার নাম দিয়েছিস মানে?

-- মানে তুই অনুষ্ঠানে গান গাইবি,,

-- না সম্ভব না 

-- কেন সম্ভব না,,তুই গাইবি মানে গাইবি,,

-- না

-- প্লিজ দোস্ত তুই ছাড়া কে আছে আমার?  আমার সকল আবদার তো তুই পুরন করিস,,প্লিজ না করিস না( ইনোসেন্ট ফেস করে) 

ওর কথা শুনে আমি এক ভ্রু উচু করে বললাম

-- ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল?

-- হতেও পারে তাও তুই গাইবি

-- ওকে যাহ গাইবো গান,,

ভার্সিটি শেষ করে বাসায় গিয়ে দেখি বাসায় উৎসব উৎসব ভাব,,

আমার ভ্রু খানিকটা কুচকে গেলো,, 

দেখি ছোট ফুপি দাঁড়িয়ে আছে,,আমি তার কাছে গেলাম,,

-- বাসায় কি কিছু হবে?

ফুপি আমার কথা শুনে মন খারাপ করে বলে,,

-- হুম

-- কি হবে?

-- সায়রা আর সাফা আসবে,,

ফুপির কথা টা শুনার পর আমি কোন রিয়েক্শন দিলাম না,,না রাগ আর না ক্ষোভ,, 

ধীর পায়ে নিজের রুমের দিকে অগ্রসর হলাম,,

আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ফুপি দীর্ঘ শ্বাস ফেললেন,,না জানি সব কবে আগের মতো হয়,,

আমি ঘরে গিয়ে ফ্রেস হয়ে খাটে শুয়ে সাথে সাথে ই ঘুমিয়ে পড়লাম,,কাল রাতের জার্নি নির্ঘুম সব মিলিয়ে অনেকটা ই টায়ার্ড ছিলাম,,

তাই ঘুমিয়ে গেলাম,,

ঘুম ভাঙ্গলো রাত প্রায় ৮ টার দিকে.৷ সোয়া থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে নিচে নামতে যাবো অমনি দেখি ডাইনিং টেবিলে সার্কাস চলছে,,আমার বড় ফুপির দুই মেয়ে এসেছে,,

আমি কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা ফ্রিজে গিয়ে এক বোতল ম্যাংগু জুস আর ফল নিলাম,,

ফিরে আসার সময় সায়রা পিছনে থেকে ডাকে,,

-- আয়ু আপু... 

সায়রার কন্ঠ শুনতে পেয়ে আমি পিছনে তাকালাম,,

-- হুম সায়রা বল..

-- কেমন আছো?

-- ভালো তুই?

-- এই তো চলছে বিন্দাস,,

সায়রা মেয়েটা খুবই ভালো,,নম্র ভদ্র, রুচিশীল মিষ্টভাষী,, সব দিক দিয়েই পার্ফেক্ট,,আর তার বোন সাফা পুরোই সায়রার উল্টো,, যেমন বদমেজাজি তেমনি অহংকারী,, 

আমার জীবনে সকল কষ্টের পিছনে সাফার অবদান অনেক,,

সায়রার দিকে টুকটাক কথা বলে চলে আসলাম,,সবাই আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো,,

আমি কোন দিকে না তাকিয়ে চলে এলাম,,

আমি রুমে এসে দরজা লক করে বারান্দায় চলে গেলাম,,,

আকাশটা মেঘ জমতে হয়তো কিছুক্ষণের মাঝেই বৃষ্টি আসবে,,

আজ হঠাৎ মব খুলে গান গাইতে ইচ্ছে হচ্ছে,, তাই রুম থেকে গিটার টা নিয়ে এসে বারান্দায় ডিভানে বসে পড়লাম,,

গিটারের টুংটাং আওয়াজ তুলে গাইতে লাগলাম,,,

যখন নিঝুম রাতে
সব কিছু চুপ,
নিষ্প্রাণ নগরীতে
ঝিঝিরাও ঘুম!
আমি চাঁদের আলো হয়ে,
তোমার কালো ঘরে;
জেগে রই সারা নিশি
এতটা ভালবাসি….(২)

এ কি অপরূপ সুন্দর
তার স্বপ্নের বর্ষা রাতে;
আমি ভিজে ভিজে মরি
মিছে মগ্ন প্রভাতে…
দেখি ভিষণ অন্ধকার মাঝে
আলো ছায়ায় তার নূপুর বাজে!
আমি যে ভেবে ভেবে শিহরিত…

আমি সূর্যের আলো হয়ে
তোমার চলার পথে
ছায়া হয়ে তোমায় দেখি
এতটা ভালবাসি।
হুম….. এতটা ভালবাসি….

চলবে....

[ 🌸কেমন হচ্ছে প্লিজ জানাবেন,, আর রিয়েক্ট দিয়ে সাথে থাকবেন,,হ্যাপি রিডিং, 🥰]

Loading spinner

Reply
Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago
part:-10
 

রাত প্রায় ১২ টা ছুই ছুঁই... 

রাতের আধারে বারান্দায় ডিভানে গিটার কোলে নিয়ে এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি,,

নাহ্ কাঁদছি না,, কান্না করা তো সেই কবেই থামিয়ে দিয়েছি। এখন  চাইলেও কান্না টা আর আসে না। 

হঠাৎ.. 
মোবাইলে টুং করে মেসেজ রিং বেজে উঠলো,, এই নিস্তব্ধতার মাঝে হঠাৎ শব্দ টা আমার ভাবনার বেঘাত ঘটালো,,হাতিয়ে মোবাইল টা পেলাম বারান্দার রেলিং এর উপর,, মোবাইল হাতে নিয়ে মেসেজ অপশনে গিয়ে মেসেজ অপেন করলাম,,

মেসেজ টা এসেছে আরাফ ভাইয়ার নাম্বার থেকে,, 

"" আয়ু.. 
জানি তুই এখনো জেগে আছিস,,ঘুমাসনি,,বারান্দায় বসে বসে আকাশ দেখছিস,,আর সারারাত এভাবেই কাটাবি,,তাই বলছি ছাদে আয় তো তাড়াতাড়ি একটু

তোর হাবলামার্কা ভাই
   আরাফ""

ভাইয়ার এমন মেসেজ দেখে আমি হাসলাম,,এই টা আমার কাছে নতুন না,,ভাইয়া সবসময় ই এমন করে বিশেষ করে যখন আমার খুব বেশি মন খারাপ থাকে ভাইয়া কিভাবে জানি বুঝতে পারে, 

হয়তো এটাই আত্মার টান,,রক্তের টান আমি বলব না কারণ এটা আমার কাছে এখন নিতান্তই ভেলুলেস..

আমি আর কাল বিলম্ব না করে গিটার টা রুমে রেখে ছাদের উদ্দেশ্যে রওনা হই,,

ছাদের দরজা টা হালকা ফাক ছিলো,,আমি ভ্রু কুচকে দরজা ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে গেলো..

ছাদে গিয়ে আমার ভ্রু জোড়া আরো কুচকে গেলো,,

কারণ পুরো ছাদ অন্ধকারে ঢাকা,,কোথাও কোন আলোর হদিস নেই,,আমি বার কয়েক ভাইয়াকে ডাকলাম,,কিন্তু কোথাও কারো সাড়া শব্দ নেই,, 

পকেটে হাত দিয়ে দেখি মোবাইল টাও নেই,,ভুলে হয়তো বারান্দায় ফেলে এসেছি,,

ছোট বেলা থেকে ই ভয় জিনিস টা আমি কখনোই পাইনা,,

মাঝে মাঝে যখন খুব একা মনে হয় গভীর রাতে ছাদের রেলিঙে পা ঝুলিয়ে বসে থাকি,, আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা গুনি,,

আমি ধীর পায়ে সামনে এগুতে নিলেই চারপাশ হঠাৎ আলোকিত হয়ে উঠে,, 

-- "" হ্যাপি বার্থডে টু ইউ,,হ্যাপি বার্থডে টু ইউ..
 হ্যাপি বার্থডে টু ইউ আয়ু পাখি,,হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ.. ""
আমি সামনে তাকিয়ে দেখি,, আরাফ ভাইয়া,, মাহির ভাইয়া আর ছোট ফুপি হাসি মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,,
চারপাশে তাকিয়ে দেখি বিভিন্ন রঙিন লাইট দিয়ে পুরো ছাদ সাজিয়ে আছে,,কিছু টা সামনে বড় বড় করে লেখা,,

"" শুভ জন্ম দিন মাহাবীন খান আয়াত ( আয়ু পাখি) ""
আমার হঠাৎ মনে হলো আজ আমার জন্ম দিন,,হায় নিজের জন্ম দিনের কথায় ভুলে গেলাম!!

-- কিরে এভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি কেক টা কাটবি?

মাহির ভাইয়ার কথায় আমি ভাবনা থেকে বের হলাম..

ভাইয়ারা আর ফুপি সামনে আমার প্রিয় চকলেট কেক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে,, 

আমিও আলতো হেসে তাদের কাছে গেলাম,,

ছোট ফুপির কাছাকাছি যেতেই ফুপি আমাকে ধরে আমার কপালে ভালোবাসার পরশ একে দিলো,,কিছুক্ষন জড়িয়ে রেখে ভাইয়াদের মাঝখানে দাড়া করালো,,আমিও বাধ্য মেয়ের মতো দাড়ালাম,

আরাফ ভাইয়া আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি,হেসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো,,আমিও প্রতিউত্তরে মুচকি হাসলাম,,

মাহির ভাইয়া আমার হাসে নাইফ ধরিয়ে দিয়ে বলল..

-- নে এবার কেক টা কাট,,সেই কখন থেকে দাড়াইয়া আছি,,

বেশি দেরি করলে কিন্তু আমিই কেটে ফেলমু,,

ভাইয়া কথাটা মজার ছলে বললে,, আমি ভাইয়ার দিকে ফিরে একটা মুখ ভেচকি দিয়ে নাইফ টা কেকের উপর রাখি,,আমার হাতের উপর আমার দুই ভাইয়ের হাত,,আমি এক নজর আমার দুই ভায়ের দিকে তাকিয়ে কেক কাটলাম,,

প্রথম পিছ টা আরাফ ভাইয়ার মুখে যেহেতু সে মাহির ভাইয়ার বড় তাই ভাগটা তার আগে পাওনা,,পরের টা মাহির ভাইয়া,,তারাও আমাকে খাইয়ে দিলো,,পরে খাওয়ালাম ছোট ফুপি কে,,

কেক কাটার পর্ব শেষ হতেই,,হঠাৎ মাহির ভাইয়া আমার চোখ কাপড় দিয়ে বেধে দেই,,

-- এই এই কি করছিস কি ভাইয়া,,?

-- চুপ করে থাক আর যেখানে নিয়ে যাচ্ছি আয়,,

বলেই আমার এক হাত ধরল মাহির ভাইয়া আর আরেক হাত আরাফ ভাইয়া,, ধরে সামনে দিকে এগিয়ে গেলো,,

আস্তে আস্তে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলাম,,আমাকে ভাইয়ারা বাড়ির বাইরে নিয়ে আসলো,,

এতক্ষণ আমি একটা কথাও বললাম না, কিন্তু এখন চুপ করে থাকতে না পেরে ভাইয়া কে জিজ্ঞেস করলাম,,

-- এই তোরা আমাকে চোখ বন্ধ করে কোথায় নিয়ে এলি এটা তো মনে হচ্ছে বাসার বাইরে,,

তখন ই মাহির ভাইয়া বলে উঠলো,, 

-- মাহু তোর ধৈর্য শক্তি এতো কম কেন হে? একটু অপেক্ষা কর না বাবা,,

হঠাৎ মনে হলো আমার চোখের বাধন টা হালকা হতে লাগলো,,

চোখ থেকে কাপড় টা সরানোর পর আলতো করে চোখ খুললাম,, সামনে তাকিয়ে দেখি

একটা গাঢ় নীল রঙের"" BMW Car"",, আমি দেখে তো প্রচন্ড অবাক সেই সাথে প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে,, 

ছোট বেলা থেকে ই গাড়ির প্রতি আমার ভিষণ দুর্বলতা,,

বাবা যেই গাড়ি টা দিয়েছিলো এর চেয়ে বর্তমান টার দাম অনেক বেশি..

হঠাৎ কানের কাছে কেউ এসে বলল..

-- পছন্দ হয়েছে? 

আমি তাকিয়ে দেখি আরাফ ভাইয়া,, আমি চোখে জল  নিয়ে মাথা উপর নীচ করলাম কয়েকবার,,উত্তেজনা ই আমার মুখ দিয়ে কথাই বের হচ্ছে না,,

আমি পিছনে ঘুরে আরাফ ভাইয়া কে ঝাপটে ধরে কেঁদে দিলাম,,

আজ শব্দ করে কাঁদছি,,ভাইয়া আমার মাথার পিছনে  হাত রেখে আরেকটু শক্ত করে জরিয়ে ধরে বলল..

-- হুসসস কাদে না বোন টি,,তুই কাদলে কি আমার ভালো লাগবে বল,,,

হঠাৎ মাহির ভাইয়া এসে আমাকে আর আরাফ ভাইয়া কে সহ ঝাপটে ধরলো,,

আমি তখন ও ভাইয়ার বুকে মুখ গুজে কাদছি,,

আরাফ ভাইয়া আমার মুখ টা তুলে চোখের পানি মুছে দিলো,,

-- আয়ু তোর মনে আছে? তুই যখন মাত্র ১০ বছর বয়স তখন আমরা পারুল আন্টি দের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়েছিলাম তখন তাদের একটা নীল রঙা গাড়ি দেখে সে কি বায়না তোর এই গাড়ি নিয়েই তুই বাসায় আসবি,আর না হলে আসবি না,,সেদিন মা তোকে খুব বকা দিয়েছিলো আর বাবা তো মেরেও ছিলো,,তারপর কাঁদতে কাদতে ,আমাকে ঝাপটে ধরে বলেছিলিস,, 

"" ভাইয়া তুই যখন বড় হবি তখন এই রঙের আমাকেও একটা গাড়ি কিনে দিবি, সেদিন আমি তুই আর মাহির ভাইয়া ঘুরতে যাবো..  মা বাবা কে নিবো না তারা খুব পঁচা আমাকে শুধু মারে আর বকা দেই,,""

বলেই তুই সেদিন ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলিস,,

আমি কোন কথা না বলে ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে মাথা উপর নীচ করলাম,, 

আমি সেদিন ই কথা দিয়ে ছিলাম,,আমার মিস্টি বনুটাকে একটা নীল রঙের গাড়ি কিনে দিবো,,

আজ আমি খুব খুশি আমি আমার বোনের কথা রাখতে পেরেছি,,

আমি ভাইয়ার দিকে অপলক নয়নে তাকিয়ে আছি,,

ভাইয়ার চোখেও জল চিকচিক করছে,, 

আমি ভাইয়ার বুক থেকে উঠে ঘাড় ঘুরিয়ে ফুপির দিকে তাকালাম,, 

ফুপি চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমি ছুটে গিয়ে ফুপিকে জরিয়ে ধরলাম,,,ফুপিও পরম যত্নে আগলে নিলো আমাকে,,

আমার মুখে অজস্র চুমুতে ভরিয়ে দিলো,,

আমাকে দাড় করিয়ে মাহির ভাইয়া কে কিছু একটা ইশারা করতেই ভাইয়া এগিয়ে এসে ফুপির হাতে একটা বক্স দিলো,,

ফুপি সেখান থেকে একটা গোল্ডের চেইন বের করলো যেখানে একটা লকেট ছিলো যেখানে,খুব সুন্দর কারুকাজ করে আয়াত লিখা যা হীরা খচিত,, 

আমি অবাক দৃষ্টিতে ফুপির দিকে তাকালেই ফুপি মুচকি হাসলো,,

চেইন টা পরিয়ে দিতে দিতে বলল..

-- এটা  আহনাফ খানের  টাকায় না,, আমি টিউশনি করিয়ে বেশ কিছু টাকা জমিয়ে ছিলাম, আর বাবা ও কিছু টাকা রেখে গিয়েছিল ,এত দিন শুধু ই ব্যাংকে পরো ছিলো তাই ভাবলাম তোকে কিছু দেই,,

বলেই ফুপি মুচকি হাসলো,, আমিও হাসলাম,,

আরাফ ভাইয়া আমার কাছে এসে গাড়ির চাবি টা হাতে দিলো,,

-- নে চাবি..

আমি সোজা গিয়ে গাড়ি লক খুলে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে জানালা দিয়ে মাথা বের করে বললাম,,

-- আপনাদের কি ইনভাইটেশন কার্ড দিতে হবে গাড়ি তে উঠার জন্য,,,? 

আমার কথা শুনে আরাফ ভাইয়া মুখ ভর্তি করে হাসে,, ভাইয়া সোজা এসে ফ্রন্ট সিটে বসে আর মাহির ভাইয়া আর ছোট ফুপি পিছনে,,

আমিও কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিলাম,,

আজ সারা শহর ঘুরবো,,হাসি ঠাট্টা করতে করতো গাড়ি সামনে এগিয়ে যাচ্ছে,, 

এই রাতটা আমার জীবনে বেস্ট রাত,,

বাড়ি আসতে আসতে প্রায় ৪ টা বাজতে চলল..

_____________

এত দেরিতে ঘুৃমিয়েও সকালেই উঠতে হলো কারণ একটাই ভার্সিটি আছে,, আজ নিয়ত করলাম,,ভার্সিটি যাবো না,,আজকের দিনটা পথশিশুদের সাথে থাকব,,

সেই অনুযায়ী রেডি হয়ে নিচে নামলাম,,,

হুয়াইট শার্ট আর ব্ল্যাক প্যান্ট,,চুল বরাবরের মতো ই খোপা করা,, 

ব্যাগ নিয়ে বের হতেই দেখি সবাই খাবার টেবিলে,, সায়রা বাসায় নেই,, সে তার ফুপুর বাসায় গেঋে কালকেই,,আর বাকি আমার দুই ভাই আর ছোট ফুপি তারা কেউই ঘুম থেকে উঠে নি,,

আমি সবার দিকে এক নজর তাকিয়ে বেরিয়ে গেলাম,,

চলবে....
 

Loading spinner

Reply
Share:

Loading spinner