গল্প:শখের পদ্মফুল (০১)

ইভান:- মম আমি ঐ মেয়েকে কিছুতেই নিজের স্ত্রী হিসেবে মানতে পারবো না।

মিসেস শারমিন:- কেনো কি সমস্যা আছে!!

ইভান:- কি সমস্যা আছে মানে। তুমি জানো না ঐ মেয়ের ভিতর কি সমস্যা আছে। একটা অন্ধ মেয়েকে আমার ঘা’ড়ে চাপিয়ে দিয়ে বলছ যে কি সমস্যা আছে।

মিসেস শারমিন:- ইভান তুই এই ভাবে ওকে অপমান করতে পারিস না। আর তাছাড়া ও তো জন্ম থেকে অন্ধ নয়। একটা এক্সিডেন্টের কারণে নিজের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছে মেয়েটা। এছাড়া তো আর কোনো কমতি নেই ওর ভেতর।

ইভান:- উফ্ এটাই তো ওর সবচেয়ে বড় কমতি মম। আচ্ছা মম একটা কথা বলো তো আমার ভেতর কি কোনো খুঁ’ত আছে। বা আমি কি দেখতে খা’রা’প যে এমন একটা অন্ধ মেয়েকে আমার ঘা’ড়ে চাপিয়ে দিলে।

মিসেস শারমিন:- ইভান,….

ইভান:- মম চেল্লাচ্ছো কেন?? ভুল কিছু তো বলিনি আমি। নিজের বান্ধবীর মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না বলে নিজে মহান সেজে ঐ অন্ধ মেয়েকে আমার ঘা’ড়ে চাপিয়ে আমার জীবনটা কেনো ন’ষ্ট করলে মম। এখন আমি কিভাবে সবার সামনে মুখ দেখাবো। সবাই যখন জানতে পারবে যে আমি একটা অন্ধ মেয়েকে বিয়ে করেছি তখন আমার মানসম্মান টা কি আর থাকবে। সবাই যখন বলবে 𝐑𝐚𝐡𝐦𝐚𝐧 𝐆𝐫𝐨𝐮𝐩 𝐨𝐟 𝐈𝐧𝐝𝐮𝐬𝐭𝐫𝐲 র 𝐂𝐄𝐎, ইভান রহমানের স্ত্রী একটা অন্ধ মেয়ে, তখন আমি কিভাবে সবার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো মম। এত দিন যেই আমি কারো সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়ায় নি সেই আমি এখন তোমার মহৎ কাজের জন্য সবার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়াবো। আমি পারবো না এটা করতে মম। তাই আজকেই আমি আবার 𝐂𝐚𝐧𝐚𝐝𝐚 𝐁𝐚𝐜𝐤 করব।

মিসেস শারমিন:- ইভান, তুই এভাবে কেনো বলছিস বাবা। মেয়েটার তো কোনো দোষ নেই। আর ও খুব ভালো মেয়ে। আমরা যদি কাউকে কিচ্ছু না জানাই তাহলে তো কেউ কিছুই জানতে পারবে না তাই না। আর আমরা ওর ট্রিটমেন্ট করবো। তাহলে তো আইরা সুস্থ ও হয়ে যেতে পারে। আর বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয় বাবা। বাবা তুই প্লিজ বাড়ি ছেড়ে যাস না। আইরা কে একা ফেলে যাস না। ওর কথা একটি বার ভাব। তুই চলে গেলে ওর কি হবে। ওর জীবনটাকে এই ভাবে শেষ করে দিস না।

ইভান:- ওহ্ তুমি ওর জীবন নিয়ে ভাবছো আর এইদিকে যে আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেলো তার বেলায় কি। একটা অন্ধ মেয়েকে সারাজীবনের জন্য আমার ঘা’ড়ে চাপিয়ে দিলে। ওকে তো আমি কারোর সামনে নিয়েও যেতে পারব না।

মিসেস শারমিন:- ইভান আমার কথাটা একবার শোন বাবা, প্লিজ।

মিস্টার ইমরান:- ছেলের জীবন টা ন’ষ্ট করে এখন দরদ দেখাতে এসেছ। খুব তো মহান হতে চাইছিল এখন দেখো।

মিসেস শারমিন:- তুমি এইভাবে কেনো বলছ। তুমি তো জানো ঐ বাড়িতে মেয়েটা কি অবস্থায় ছিল। আমি যদি ইভানের সাথে ওর বিয়েটা না দিতাম তো আজকে হয়তো মেয়েটা বেঁচে থাকত না। ও মেহুর রেখে যাওয়া আমানত। আমি কিভাবে সেটার খেয়ানত করতে পারি বলো তুমি।

ইভান:- বেশ তো তাহলে তুমি তোমার আমানত নিয়েই থাকো, আমি গেলাম। তোমার কাছে তো নিজের সন্তানের জীবনের থেকে বেশি দামী ঐ মেয়ের জীবন। ওকে নিয়েই থাকো তুমি।

মিসেস শারমিন:- যাচ্ছিস যা কিন্তু একটা কথা মনে রাখিস, আজকে আমি যে সিদ্ধান্ত তোর জন্য নিয়েছি এটা কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নয়। একদিন ঠিকই বুঝতে পারবি তুই।

ইভান, মিসেস শারমিন রহমানের কথা তো শুনে তবে এর কোনো প্রতিউত্তর না করেই বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। মিসেস শারমিন রহমান ও তাকে আর আটকানোর চেষ্টা করে না। কেনই বা আটকাবেন। যে নিজে থেকে চলে যেতে চাই তাকে কি আর আটকানো যায়।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

ইভান রহমান, বয়স ২৮ বছর। 𝐂𝐄𝐎 𝐨𝐟 𝐑𝐚𝐡𝐦𝐚𝐧 𝐆𝐫𝐨𝐮𝐩 𝐨𝐟 𝐈𝐧𝐝𝐮𝐬𝐭𝐫𝐲. এই অল্প বয়সে নিজের একটা কোম্পানি কে সফল ভাবে দাড় করানোটা ইভানের জন্য এত সহজ ছিলো না।

এর পিছনে ছিলো কঠোর পরিশ্রম আর মেধা। ছোট্ট থেকেই তার স্বপ্ন ছিল একদিন সে নিজের একটা বিসনেস দাড় করাবে। আর তার জন্য সে প্রচুর পরিশ্রম ও করেছে। দিন রাত এক করে পরিশ্রম করে গিয়েছে নিজের বিসনেসের পেছনে।

𝐔𝐧𝐢𝐯𝐞𝐫𝐬𝐢𝐭𝐲 𝐨𝐟 𝐓𝐨𝐫𝐨𝐧𝐭𝐨 থেকে 𝐌𝐚𝐬𝐭𝐞𝐫 𝐢𝐧 𝐌𝐚𝐧𝐚𝐠𝐞𝐦𝐞𝐧𝐭 নিয়ে পড়াশোনা করে নিজের একটা বিসনেস দাড় করিয়েছে সে। একটু একটু করে এই বিসনেস কে সে বড় করেছে। ছোট থেকেই সে কারো অধীনে কাজ করা পছন্দ করত না। নিজের যেটা ইচ্ছা হতো সেটাই ইভান করে এসেছে এত কাল।

তাই তো বাবার এত বড় কোম্পানি থাকার সত্ত্বেও সে জয়েন করেনি। সে কখনোই চাইনি যে কেউ তাকে বলুক বাবার টাকায় সে গরম দেখাই।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

পুষ্প সজ্জিত খাটে ঘাপটি মে’রে বসে আছে জীর্ণ শীর্ণ শরীরে লাল টুকটুকে বেনারসি জড়ানো এক অষ্টাদশী কন্যা। যার চোখ দিয়ে অঝোরে বৃষ্টির মতো পানি পড়ছে।

কারণ সে নিজের সদ্য বিবাহিত স্বামী আর শাশুড়ির সব কথাই ভেতর থেকে শুনেছে। তার স্বামী তাকে মেনে নেয়নি।

তাকে একা ফেলে চলে গিয়েছে সেই দূর বিদেশে। সেই বা কি করবে। তার কপালে হয়তো সুখ নামক বস্তুটাই লেখা নেই। সেই জন্যই তো তার মা তাকে একা রেখে চলে গিয়েছে। তার বাবা ও তাকে সহ্য করতে পারে না।
.
.
আইরা নূর, সবে আঠেরোর কোঠায় পা দিয়েছে সে। এই স্বল্প আয়ুর জীবনে সে অনেক কিছুই সহ্য করেছে। জন্মের সময় তার মা তাকে একা রেখে পাড়ি জমায় না ফেরার দেশে।

মায়ের মৃ’ত্যু’টা তার বাবা, মিস্টার আসিফ নূর মেনে নিতে পারেন নি। ভালোবাসার বিয়ে ছিল তাদের। এইভাবে অল্প বয়সে তাকে ছেড়ে চলে যাবে এটা যেনো তিনি বিশ্বাসই করতে পারেন নি।

ভালোবেসে বিয়ে করায় আইরার নানা ভাই আজিজুল হক, মিস্টার আসিফ নূর আর মিসেস মেহজাবিন নূরের এই সম্পর্ক মেনে নেননি। তাই আদরের মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি। তবে মেয়ের মৃ’ত্যু’র কথা শুনে আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি। একমাত্র আদরের মেয়ে কিনা।

আইরা কে অবশ্য নিজেদের সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কারণ আইরা তখন কেবল একদিনের দুধের শিশু। এতটুকু একটা বাচ্চা কিভাবে সামলাবে আসিফ নূর। তার ওপর আইরার দাদী, নূরজাহান বেগমের ও বয়স হয়েছে। সব দিক ভেবে তারা আইরা কে নিতে চেয়েছিল।

তবে নূরজাহান বেগম তাদের কাছে আইরা কে দিতে চাননি। তার ভাষ্য মতে নিজের বাড়ি থাকতে কেনো বাড়ির মেয়ে অন্যের বাড়িতে থাকবে। নূরজাহান বেগমের জন্য তারা আইরা কে নিজেদের সাথে নিয়ে যেতে পারেন নি।

কিন্তু নূরজাহান বেগম বয়স্ক মানুষ। সে কি আর এই দুধের শিশুকে সামলাতে পারে। তাছাড়াও আসিফ নূর তো পুরোপুরি ভাবেই আইরার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

তিনি তো আইরা কে সহ্যই করতে পারেন না। তার মনে হয় আইরার কারণেই মেহজাবিন নূর তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ছেলের এমন ভবঘুরে অবস্থা দেখে নূরজাহান বেগম সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি আসিফ নূরের আবার বিয়ে দেবেন।

যেই ভাবা সেই কাজ। অনেক বোঝানোর পর আসিফ নূর বিয়ে করতে রাজি হন। আইরা তখন কেবল একমাসের দুধের শিশু। মেহজাবিন নূরের মৃ’ত্যু’র একমাস যেতে না যেতেই আসিফ নূর ঘরে তুলেন মিসেস ইলা বেগমকে। আর আইরা পাই সৎ মায়ের সংসার।

বিয়ের পর মিসেস ইলা বেশ ভালোই যত্ন করতো আইরার। আইরার যখন ৭ বছর বয়স তখন নূরজাহান বেগম ও মা’রা যান। এরপর থেকে শুরু আইরার ওপর তার সৎ মায়ের অ’ত্যা’চার।

শুরু থেকেই মিসেস ইলা আইরা কে সহ্যই করতে পারতেন না আবার কিছু বলতেও পারতেন না নূরজাহান বেগমের জন্য। কারণ আইরা ছিল তার দাদির প্রাণ। একমাত্র নাতনি তো। আইরা কে নূরজাহান বেগম খুব ভালোবাসতেন।

এর অবশ্য আরেকটা কারণ ও আছে। আইরা দেখতে অনেকটা নূরজাহান বেগমের মায়ের মতন। যেমন দেখতে সুন্দর ঠিক তেমনই তার ব্যবহার। আইরার মাঝেই যেনো তিনি নিজের মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেতেন।

উনি কখনোই আইরার সাথে জোরে কথা বলেন নি। অবশ্য আইরা ও খুব শান্তশিষ্ট মেয়ে। ছোট্ট থেকেই কখনো কোনো দুষ্টুমি করত না। তাকে যদি কেউ আ’ঘা’ত ও করে তবুও সে মুখে একটা মিষ্টি হাসি ফুটিয়ে থাকতো।

আর আইরার এত নরম ব্যবহারই মিসেস ইলা বেগমের পছন্দ হতো না। তিনি মনে করতেন আইরা সবার সামনে ভালো সেজে থাকার জন্য এমন করে। তাইতো তিনি আইরা কে দু চোখে সহ্য করতে পারতেন না।

মিসেস ইলা, নূরজাহান বেগমের সামনে ভালো সেজে থাকতেন যাতে নূরজাহান বেগম বুঝতে না পারেন যে তিনি আইরা কে একদমই সহ্য করতে পারেন না। আইরার একটা সৎ বোন ও ভাই ছিল। তারা মিসেস ইলার আগের ঘরের সন্তান।

আইরার সৎ বোন, ইমা আর সৎ ভাই তাশিফ ও খুব খা’রা’প ছিল। তারা যখনই পারত তখনই আইরা কে অপমান থেকে শুরু করে মা’র ধর পর্যন্ত করতো। তাকে একটা কাজের লোকের মতো ট্রিট করত। কিন্তু আইরা সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে নিতো।

ধীরে ধীরে সে এই সবে অভ্যস্থ হয়ে যায়। আসিফ নূর ও বাড়িতে থাকতো না। আসিফ নূর নতুন বিয়ে করার পর তাও যা বাড়িতে থাকতো কিন্তু নূরজাহান বেগমের মৃ’ত্যু’র পর তিনি সেইভাবে বাড়িতে ফিরতেন না।

সবসময় কাজের মধ্যে থাকতেন। বিভিন্ন দেশে বিসনেস ট্রিপে চলে যেতেন ২,৩ মাসের জন্য। বাড়িতে তো সবসময় অশান্তি লেগেই থাকত আইরা কে নিয়ে। মিসেস ইলা চাইতেন মিস্টার আসিফ নূর যেনো আইরা কে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

কিন্তু মিস্টার আসিফ নূর মিসেস ইলার কথা শুনতেন না। কারণ নূরজাহান বেগম মৃ’ত্যু’র আগে আইরার নামে অর্ধেকেরও বেশি সম্পত্তি লিখে দিয়ে গেছেন।

আর আইরা কে বাড়ি থেকে বের করতে গেলে তাদেরই বাড়ি থেকে আগে বের হতে হবে। কারণ এই বাড়িটাও আইরার নামেই আছে। সব মিলিয়ে মিসেস ইলা সবসময়ই অশান্তি করতেন বাড়িতে। এইসবে বিরক্ত হয়েই বাড়িতে তার মন টিকতো না।

মিস্টার আসিফ নূর বাড়িতে না থাকায় অবশ্য মিসেস ইলার ভালোই হয়েছে। তিনি আইরা কে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করাতেন। ঠিক মতো খেতেও দিতেন না। উনি সবসময় ভাবতেন যে কিভাবে আইরা কে নিজেদের রাস্তা থেকে সরানো যায়। তখন অবশ্য আইরা চোখে দেখতে পেতো।

একদিন মিসেস ইলা আইরা কে বাজার করতে পাঠান। এর আগে আইরা কখনোই বাজার করতে যায় নি। আইরার বয়স তখন মাত্র ১৫ । মিসেস ইলা উনার ছেলে, তাশিফ কে বলেন, সে যেনো আইরাকে গাড়ি চা’পা দিয়ে চিরো দিনের মতো নিজেদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেই।

সেই কথা মতই তাশিফ গাড়ি নিয়ে আইরার এক্সিডেন্ট করাই। ভাগ্য ভালো হওয়ায় এই যাত্রায় আইরা বেঁচে যায়। তবে আইরা নিজের দৃষ্টি শক্তি হারাই। ভালোভাবে ট্রিটমেন্ট করলে সে নিজের দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবে। কিন্তু আইরার পিছনে তার সৎ মা মিসেস ইলা এত টাকা খরচ করতে চান না, কারণ তার ও ছেলে মেয়ে আছে। তাদের কথা তো ভাবতে হবে।

তাই তিনি আইরার ট্রিটমেন্ট করানোর নাম করে উল্টো পাল্টা ট্রিটমেন্ট শুরু করেন। যার ফলে আইরার আরো অবনতি হয়। যাও বা আইরা চোখে ঝাপসা দেখতে পেতো সেই রাস্তাও মিসেস ইলা উল্টো পাল্টা ট্রিটমেন্ট করে বন্ধ করে দেন।

আসিফ নূর কে মেয়ের এই অবস্থার কথা জানানো হলেও তিনি মেয়েকে দেখতেও আসেননি একবার ও। শুধু ট্রিটমেন্টের টাকা মাসে মাসে পাঠিয়ে দিতেন। কিন্তু মিসেস ইলা সেই টাকা নিজের প্রয়োজনে খরচ করতেন।

অন্ধ হওয়ার পর ও মিসেস ইলা আইরা কে ছাড় দেননি। এই অবস্থাতেও তাকে দিয়ে বাড়ির সব কাজ করাতেন তিনি। প্রথম প্রথম ক”ষ্ট হলেও ধীরে ধীরে আইরার সব কিছু সয়ে যায়।

এইভাবেই আইরার জীবন চলছিল। কিন্তু একদিন মিসেস শারমিন রহমান, খোঁজ করতে করতে আইরা দের বাড়িতে এসে পৌঁছাই। মিসেস শারমিন রহমান আর মিসেস মেহজাবিন নূর ছিল বেসফ্রেন্ড। বেস্টফ্রেন্ড বললে ভুল হবে, তারা ছিল আপন বোনের মতো।

আইরার জন্মের সময় মিসেস শারমিন রহমান দেশে ছিলেন না। তিনি তার পরিবার নিয়ে ইভানের জন্য আইরার জন্মের কিছুদিন আগেই 𝐂𝐚𝐧𝐚𝐝𝐚 তে চলে যান।

𝐂𝐚𝐧𝐚𝐝𝐚 তে যাওয়ার আগে মিসেস শারমিন রহমান, মিসেস মেহজাবিন নূরের সাথে দেখা করতে আসেন। মিসেস মেহজাবিন হয়তো তখন বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি আর বেশিদিন সবার মাঝে থাকবেন না। তাই তিনি মিসেস শারমিনের হাত ধরে বলেন,

মিসেস মেহজাবিন:- শারু আমার একটা কথা রাখবি। আমার যদি কিছু একটা হয়ে যায় তো আমার মেয়েটার একটু খেয়াল রাখিস বোন।

মিসেস শারমিন:- এটা তুই কি বলছিস মেহু। তোর কেনো কিছু হতে যাবে। তোর কিছুই হবে না সব ভালোই হবে। টেনশন করিস না। আর আমাদের ভিতর কি কথা হয়েছিল তুই ভুলে গিয়েছিস। তোর মেয়ে মানে আমার মেয়ে। ও বড় হলেই আমি আমার ইভানের সাথে ওর বিয়ে দেবো। তুই একদম চিন্তা করিস না কেমন।

মিসেস মেহজাবিন:- আমার মন কেমন কু ডাকছে রে শারু।

মিসেস শারমিন:- কিচ্ছু হবে না মেহু। এই সময় এইরকম মনে হয়। আমার খুব খা’রা’প লাগছে এটা ভেবে যে তোর এমন একটা সময় আমি তোর পাশে থাকতে পারছি না। ছেলেটার জন্য যাওয়ায় লাগবে জানিনা কবে দেশে ফিরবো।

মিসেস মেহজাবিন কিছু বলতেই যাবে এমন সময় মিস্টার ইমরান রহমান রুমে এসে বলে,

মিস্টার ইমরান:- দেরি হয়ে যাচ্ছে। ফ্লাইট মিস হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি চলো।

মিসেস শারমিন:- হুম। মেহু বোন ভালো থাকিস। আর চিন্তা করিস না। কিছুই হবে না তোর।

মিসেস মেহজাবিন মেকি হেসে বলে,

মিসেস মেহজাবিন:- হুম তুই ও ভালো থাকিস।

মিস্টার ইমরান:- ভালো থাকবেন আপা।

মিসেস মেহজাবিন:- হুম ভাই। সাবধানে যাবেন।

মিস্টার ইমরান:- হুম।

তারা চলে যায়। এর কিছুদিন পর মিসেস মেহজাবিনের ডেলিভারির ডেট চলে আসে। মিসেস মেহজাবিনের প্রেগন্যান্সি তে বেশ কম্লিকেশন ছিলো। আইরার জন্ম পরই মিসেস মেহজাবিন তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মিসেস শারমিন যখন জানতে পারেন যে মিসেস মেহজাবিন আর এই পৃথিবী তে নেই। বোনের মতো বেস্টফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে তখন তিনি অনেক ভেঙ্গে পড়েন। তিনি দেশে ফিরে যেতে চান তবে বিভিন্ন কারণে ফিরতে পারেন নি।

এরপর যখন তিনি দেশে ফেরেন তখন তিনি আইরা দের বাড়িতে যেতে চান তবে ততদিনে আইরা রা সেই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে। তিনি বিভিন্ন জায়গায় তাদের কে খোঁজেন তবে পান না।

চলবে………

 

সূচনা পর্ব
গল্প:শখের পদ্মফুল
লেখনীতে:লুনা আক্তার নূর

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x