লেখিকা:Ayrah Rahman
part:04
“আয়াত”
মিরার কন্ঠ শুনে পিছনে তাকালাম, দেখি মিরা রুমের দরজায় দাড়িয়ে আমার দিকে ই তাকিয়ে আছে।
ক্লাস শেষ হয়েছে প্রায় অনেক ক্ষন হলো। কিছু ভালো লাগছিলো না তাই ক্লাস থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে এই ফাঁকা রুমে জানালার পাশে দাড়িয়ে ছিলাম, আমার মন যখন খুব বেশি খারাপ করে তখন গান গাই বা গান শুনি, কেন জানি এটা আমার এন্টিবায়োটিক এর মতো কাজ করে, মুহূর্তে ই মন ভালো হয়ে যায়।
” কিরে কিছু বলবি?”
” তোর গানের গলা টা অসাধারণ,”
আমি কিছু না বলে মুচকি হাসলাম, আমার কথা শুনে মিরা খানিকটা সামনে এগুলো।
” বাসায় যাবি না? অনেকটা দেরি হয়ে গেলো তো”
“নাহ এখন যাবো না, পরে”
” তাহলে কোথায় যাবি এখন?”
আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,
“যেখানে সবসময় যাই, মন যখন খুব ভালো থাকে আর যখন খুব খারাপ থাকে!”
আমার কথা শুনে মিরা আর কিছু ই বলল না, “-ঠিক আছে চল”
আমি আর মিরা গাড়িতে গেলাম, আমি ড্রাইভিং সিটে আর মিরা আমার পাশে।
আমার ছোট বেলা থেকে অনেক গুলা পেশন ছিলো, তার মাঝে কার ড্রাইভিং আর বাইক রাইডিং অন্য তম এন্ড আমি দুটোই পারি, আমার পার্সোনাল বাইক ও আছে।
গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে মিরা কে জিজ্ঞেস করলাম,
” কিরে সাজিন চলে গেছে?”
“হুম, বাসা থেকে আন্টি ফোন করছিল তাই চলে গেছে”,
” ওহ”
বেশ খানিক্ষন নিরবতা পালন করার পর মিরা বলল,
” মাহু…”
মেয়েটা যে আমাকে কত নামে ডাকে তার হিসেব মনে হয় এই জীবনে আমি তা হিসেব করতে পারবো না তাই ও যেই নামেই ডাকে আমি সাড়া দেই।
” হুম কিছু বলবি?”
” আজ তোর মন খারাপ কেন বললি না?”
“মন খারাপ কে বলল! মন আমার মোটেও খারাপ না তুই শুধু শুধু ই চিন্তা করছিস!”
বিভিন্ন কথা বার্তা মাঝখান দিয়েই আমি গাড়ির ব্রেক কষলাম,
মিরা তাকিয়ে দেখে এটা আমাদের গেরেজ।
মিরা আমার দিকে প্রশ্ন বিদ্ধ ভাবে তাকাতেই আমি হাসলাম,
“- এখানে আসলি কেন?”
“গেরেজে মানুষ কেন আসে? নিশ্চয়ই গাড়ি পার্ক করতে!”
“হুম তা ঠিক বাট গাড়ি রাখলে আমরা যাবো কিসে”
” ওয়েট বেবি, নামো এখন”
মিরা দরজা খুলে নেমে গেলো,
আমি গাড়ি টাকে পার্ক করে চাবি টা দারোয়ান কাকু কে দিলাম, আর বাইকের চাবি সবসময় আমার সাথে ই থাকে তাই বাইক আর দুটা হেলমেট নিয়ে বের হয়ে আসলাম।
আমাকে বাইকে বসে থাকতে দেখে মিরার চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা দিলো।
মেয়েটা বাইকে ঘুরতে বেশি পছন্দ করে কিন্তু আমিই বাইক টা এখন চালাই ই না বলতে গেলে, জীবনে অনেক কিছু ই প্রিয় ছিল যা এখন অপ্রিয় হয়ে গেছে তবে বর্তমানে বাইক টা আমার আমার অপ্রিয়র তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
মিরা হেলমেট নিয়ে আমার পিছনে বসে পড়ল,
আমিও বাইকের আয়নাতে ওর মুখ টা দেখে বাইক স্টার্ট করলাম।
আমরা শহর থেকে বেশ খানিকটা ভিতরে এসে পড়েছি, অনেকটা গ্রাম সাইড, জায়গাটা আমার খুব পছন্দের।
চারপাশে গাছপালা সামনে একটা বড় নদীর মতো আছে যদি সেটা নদী না, তবে ভালো লাগে।
আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি একটা আধভাঙ্গা টিনসেট ঘরের সামনে,
আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মিরা বলল,
“কিরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ডাক দে”
“দিচ্ছি তো দাড়া”
আমি ও আর কাল বিলম্ব না করে দরজাই ডাক দিতে লাগলাম,
বার কয়েক কড়া নাড়ার পর এক বৃদ্ধা মহিলা এসে দরজা খুলল,
আমি মহিলা টির দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকালাম,
“আরে আয়ু দিদি ভাই যে, কখন এলি?”
মহিলা টি এসে আমাকে জরিয়ে ধরল, আমিও মুচকি হেসে তাকে জরিয়ে ধরলাম,
“মাত্র ই আসলাম গো বুড়ি, কেমন আছো বলো?”
“এতক্ষণ ভালো ছিলাম না তবে এখন তুই এলি তাই ভালো হয়ে গেছি”
“ওমা তাই নাকি? “
” হ্যা রে, বাইরে দাড়িয়ে আছিস কেন ভেতরে আয়”
ভেতরে যেতে যেতে মিরা ন্যাকা কান্না করে বলে উঠলো,
“- আমাকে তো কেউ চিনে না, আজ পর বলে কেউ জরিয়ে ও ধরে না আদর ও করে না”
ওর কথা শুনে আমার খুব হাসি পেলো,
দিদি ভাই হেসে মীরার মাথায় হাত বুলিয়ে জরিয়ে ধরে,
” পাগলি মেয়ে, তোরা দুজন কে তো আমি সমান ভাবেই ভালোবাসি”
“হুম”
আমি আর মিরা খাটে বসলাম,
ওনার নাম হলো খুদেজা বেগম, স্বামি মজিদ মিয়া, উনাদের সাথে আমার পরিচয় প্রাই বছর ৩ আগে।
আমি তখন কলেজে পড়ি, কলেজ থেকেই আমি একা যাওয়া আসা করি।
সেদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে রাস্তাই অনেক ভীড় দেখে কৌতূহল বশত ভীড় ঠেলে সামনে গেলাম।
দেখি একটা বৃদ্ধ মহিলা রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে অথচ কেউ ওনাকে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছে না, তাই দেখে যতটুকু কষ্ট পেয়েছি তার চেয়ে বরং রাগ টাই বেশি হয়েছে, মানুষ জন কেমন!
তাই কথা না বাড়িয়ে কিছু মানুষের সাহায্যে ওনাকে হসপিটালে নিয়ে আসি,
ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানতে পারি ওনার প্রেসার লো, শরীরে রক্ত ও কম, শরীর দুর্বল থাকাই জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন।
আমি ডাক্তারের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওনার ঔষধ আর কিছু ফল মুল নিয়ে আসলাম, ওনার জ্ঞান ফিরে ছিল তার কিছু ক্ষন পরই, খুব ভাব হয়েছিল আমাদের, একদম দাদি আর নাতনির মতো!
সেই থেকে ওনার বাড়িতে আসি খাই গল্প করি আড্ডা দেই, এতদিনে দাদার সাথে ও ভাব হয়ে গেছে আমার।
এভাবেই চলছে দিন কাল….
_____________
রাতে…
মিস্টার এন্ড মিসেস চৌধুরী খাবার টেবিলে বসে আছে তার সামনেই গালে হাত দিয়ে বসে আছে রাইসা।
হঠাৎ কেউ পিছন থেকে রাইসার মাথায় টোকা মারলো,
রাইসা পিছন ফিরে দেখে কেউ নেই, তারপর পাশে তাকিয়ে দেখে আয়াস মাত্র বসলো টেবিলে।
আয়াস হলো রাইসার বড় ভাই, আবরারের ছোট আয়াস চৌধুরী, এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ারে,তবে আচার আচরণ সবটাই বাচ্চাদের মতো।
“কিরে পুচকি, খাওয়া শেষ হয়নি?”
“ভাই শোন তোর সাথে ঝগড়া করার মুড এই মুহূর্তে আমার নাই সো চুপ থাক”
” ওমা তাই নাকি পুচকি?”
রাইসা রেগে আয়াসের দিকে তাকাতেই আয়াস ইনোসেন্ট ফেস করে রাইসার দিকে তাকায়,
“ওই পুচকি কে হে? পুচকি কে? আমাকে তোর পুচকি লাগে?”
টেবিল থেকে কাটা চামচ নিয়ে আয়াসের দিকে তাক করে বলে,
“এই ডা দেখছোস, এই ডা দিয়া গুতা দিয়া এক্কেবারে ছিদ্র করে দিমু বেসতি কথা বললে, খাইতে আসছিস খা”
রাইসার মা আর বাবা বসে বসে তাদের ড্রামা দেখছে,
আয়াস তাকিয়ে দেখে খাওয়ার জন্য আবরার নিচে নামছে, এখন কোন কথা বললে নির্ঘাত পিঠে দু এক ঘা পড়বে, আবরার খাওয়াতে বসে কথা বলা মোটেও পছন্দ করে না তার মতে যেকোনো কাজ করতে হলে আগে মনোযোগ দরকার, তাই সবসময় সব কাজে যেন পুরো মনোযোগ থাকে।
আয়াস আর কথা বাড়াই না, বেচারি রাইসা মনে হয় কোন কারণে রেগে আছে আর আবরার তো আছেই তাই এখান থেকে যত আগে কেটে পড়তে পারবে ততই ভালো।
আবরার খাবার টেবিলে বসে,
সবার দিকে একবার তাকিয়ে খাওয়াতে মনোযোগ দিলো।
____________
রাত প্রায় ১০ টার কাছাকাছি,,
আয়াত বাসায় ঢুকে ড্রয়িং রুমে তাকিয়ে দেখলো…
চলবে….
[ প্লিজ কেমন হচ্ছে জানাবে সবাই🥰হ্যাপি রিডিং]