–
বিয়ে বাড়ী হৈ হুল্লোড় আজ মেহেদী অনুষ্ঠান
সবাই মেহেদী দিতে ব্যস্ত,
আপা,
হ্যাঁ ।
তোমার মেহেদী দেওয়া শেষ।
হ্যাঁ শেষ
আমাকে একটু মেহেদী দিয়ে দিতে বলো না
কাউকে বলো প্লিজ আমার শখ দিব।
দিবি তুই।
হ্যাঁ।
ওফ মেহেদী এটা শেষ হয়ে গেছে যা কালোনী
আমার ঘরে শোকেসে মেহেদী আছে নিয়ে আয় ।
আচ্ছা।
কি করছ তুই।
আপু নাকি এখানে মেহেদী রাখছে বলল যে
নিয়ে দিতে কিন্তু খোঁজে পাই না।
তুই যেভাবে খোঁজা শুরু করছিস মনে হইতাছে
মেন্দি নয় বরং চুরি করতে ঘরে আইছত ছেড়ি ।
কি বলো তুমি,
যা যা বাইর হইয়া যা।
আমি একটু মেহেদী দিব তাই খুঁজছি।
মর্জিনা এতক্ষন পরীর সাথে কথা বলেছিলেন
এটা ওর ছোট ফুপি। পরীর কথা শুনে তিনি কিছু
বলার আগেই নাহিদা বেগম ওর বড় ফুপি বলল
এই আজকের দিন পর আমার মেয়েটার বিয়ে ।
পরী বলল হ্যাঁ জানি তো।
তোর মাকে বলছিলাম তোকে যেন না আনে
বাসায় রেখে আসতে তা তো শুনল না।
কেন আমি কি করছি।
এমনিতেই কালির ঘটি কড়াইয়ের তলি মুখটা
না জানি বিয়ের দিন কত মানুষ ভয় পাবে ।
পরী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
ডক নেই রূপ নেই দেখলেই ভয় লাগে আমার
তোকে কে আসতে বলেছিল এই বাসায় ছেড়ি
বিয়ে খাওয়ার জন্য চলে এসেছিস ।
বাবাই তো নিয়ে এল।
মেয়ের বিয়েতে যদি কোন ঝামেলা হয় তাহলে
কিন্তু তোকে ছাড়ব না। যা বাড়ি চলে যা এক্ষুনি
জীবনে মনে হয় ভালমন্দ খাস নি বিয়ের নাম
শুনলি আর কুক্তার মত দৌড়ে চলে এলি।
সখী মায়ের চেঁচামেচি শুনে দৌড়ে এল ভেতরে
কি হয়েছে তোমার এমন করছো কেন ওর সাথে।
কি হয়নি শুনি, ওরে নিয়ে এসেছে কেন।
ছিহ ছিহ এত নিচু মানসিকতা তোমার।
তুই চুপ কর।
তুমি মরলেও মানুষ হবে না নিজের ভাইয়ের
মেয়ের সাথে এমন আচরন কীভাবে কারো।
এই মাইয়া আমার ভাইর না।
চেঁচিয়ে উঠল সে, মা থামো বলছি।
আমার ভাইয়ের মাইয়া এইডা না আমি জানি
ওর মায় কই থিকা লইয়া আইছি কেডা জানে।
পরী আর কথা বলতে পারল না বেরিয়ে গেল
বাড়ির পিছনে ছোট ছোট কাশ বনের মধ্যে যায়
জুতা খুলে এক পাশে রেখে জুতার উপরে বসে
চোখ দুটো বাঁধ ছেড়ে দিচ্ছে জল গড়িয়ে পড়ল
সে কালো তবে অতিরিক্ত কালো না শ্যামলা রং
শহরে থাকলে বোঝা যায় পরী মায়াবী শ্যামলা
কিন্তু দেশে থাকে তাই একটু কালো বেশীই লাগে
রোদে ঘুরে ফিরে খেলাধুলা করে ,ঘরে থাকে না
দুই মিনিট , ১৩ বছর এখনোই খেলাধুলা করার
বয়স তাই তো সে খেলাধুলা করে, তিন ভাইয়ের
এক বোন নাম পরী । বড় ভাই পছন্দ করেন না
দূর দূর করে সর্বদা । ছোট জন পছন্দ ও করে
আবার ঝগড়াঝাঁটি ও করে । মেজু ভাই তাকে
ভীষণ পছন্দ করে , বলে তুই দুই চোখের মণি
অন্ধকারের আলো এভাবে কত কথা বলে সে।
তার মা পছন্দ করে তিনি মা সন্তান জন্ম দিচ্ছে
মায়া তো লাগবেই।
বাবা পছন্দ করে না, কিন্তু ঘৃণা ও করে না সে
দায়িত্ব পালন করেন, যা যা লাগবে এনে দেয়
তবে আছে না মেয়েরা বাবার সাথে বন্ধুত্ব করে
কত সুন্দর সম্পর্ক থাকে, সময় কাটায় দুজন
এমন সময় ওর জীবনে আসেনি ক্ষেত্রে বাবার
আদর কেমন ও বুঝে না,
কে গো তুমি।
পরী চমকে গেল সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অচেনা
লোকটিকে দেখে, ভয়ে কাঁপছে থরথর করে
কাঁপা গলায় বলল কে কে আপনি।
তুমি কে গো।
পরী।
কিহহ তুমি পরী।
মা মা মানে আমার নাম পরী।
তুমি কালো পরী নাকি।
আমি গেলাম। বলেই সে দৌড়ে চলে গেল
মনে মনে দোয়া দরুদ পাঠ করল।
পাশা বিড়বিড় করে বলল এই কালোনী কে
নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
পরী দৌড়ে গিয়ে সখীর পাশে বসে।
তুই এমন ভাবে হাঁটাতে হাঁপাতে এলি যে।
বাইরে কুক্তা দেখছি তাই।
হা হা হা, তুই না মেহেদী দিবি আয় দিয়ে দেই
একা কোথাও যাস না বিয়ে বাড়ি বুঝিস তো।
আচ্ছা।
সখী সুন্দর করে মেহেদী দিয়ে দেয়।
পরী ভীষণ খুশি হয়।
আহহহ যেই না রূপ আইছে সে মেন্দি দিতে
এমন কালো হাতে দেখা যাবে নাকি রং।
মুহূর্তেই ওর খুশি বিলীন হয়ে যায়।
সখী , পরীর অসহায় মুখ দেখে মেয়েটি খুব
কষ্ট পেয়েছে, সখী বুঝেছে সে চেঁচিয়ে বলল
মা থামো কিন্তু অনেক হয়েছে কিন্তু থামো।
পরীর মা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে মেয়েকে
চল মা এখানে থাকতে হবে না বাড়ি যাব।
মামী কি বলছেন আপনি এসব।
দেখ আমরা সবাই জানি পরী কালো তাই না
আল্লাহ সৃষ্টি করছে এতে ওর কি দোষ ছিলো
তাই বলে আপা এমন ভাবে কথা বলবে তিনি।
মামী আমার কথা শুনেন, যেতে হবে না থাকুন
আমি মাকে বুঝিয়ে ঠুঝিয়ে শান্ত করছি।
পিয়াস মাদবর বলে কি হয়েছে এখানে।
শারমিন বেগম চোখের জল মুছে বলে আমি
আগেই বলেছি আসব না জোর করে এনেছো
দেখো এখন তোমার বোন কীভাবে কথা বলে
পরীকে যা নয় তা বলে অপমান করছে তিনি।
তিনি বোনের দিকে তাকিয়ে বলল আপা শুন
ওরে আমরা হাত দিয়ে বানাইনি খোদা নিজেই
সৃষ্টি করছে তার সৃষ্টি ঘৃণা করতে নেই জানিস
তোর ভাল না লাগলে আমরা চলে যাই বাড়িতে।
বাদসা তালুকদার ছুটে এল কোথাও যেও না
পিয়াস শুনো তোমার আপা এমন জানো তো ।
দেখুন দুলাভাই বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া বিবাদ
শুরু করতে চাই না, পরী এখানে থাকলে তো
আপা মুখ বন্ধ করবে না, তাই চলে যাব বাড়ি।
আমি দেখছি ব্যাপারটা। তিনি স্ত্রীকে বললেন
তুমি এই বিষয়ে কথা বলবা না পরী খুব সুন্দর
মনের চোখ দিয়ে দেখো মায়ায় আচ্ছন্ন হবে।
তিনি কিছুই বলল না চলে গেল।
পিয়াস যেও না থাকো তোমরা।
আচ্ছা ঠিক আছে।
এদিকে পাশা বিয়ে বাড়ীতে এসে চোখ বুলিয়ে
খুঁজছে কাউকে কিন্তু পাচ্ছে না হুট করেই পরী
ঘর থেকে বেরিয়ে ভিন্ন ঘরে ঢুকলো পাশা হাসে
তাহলে এই কালোনী এই বাড়ির আত্মীয় স্বজন
কে এই কালোনী বিষয়টি জানতে আগ্রহী পাশা
সে সখী কে ডেকে বলে তোর বিয়েতে উপস্থিত
সবাইকে দেখলাম কিন্তু ঐ কালোনী কে রে।
কার কথা বলছিস।
একটু আগেই এই ঘর থেকে ঐ ঘরে গেল।
কতজন গেল ফের এল কীভাবে বুঝব।
পরী ঘর থেকে খাবারের প্লেট নিয়ে সখীর পাশে
দাঁড়িয়ে বলল আপু একটু খাইয়ে দাও আমাকে।
আমি কিভাবে দিব, হাতে মেহেদি দিচ্ছি।
আমি ও দিচ্ছি তাহলে কীভাবে খাব।
পাশা চোখের ইশারায় সখী কে বলে আরে
বোন এর কথাই বলছি তোকে এতক্ষণ ধরে,
সখী ভ্রু কুঁচকে বলল ওর কথা জেনে কি হবে
ওর সঙ্গে কিসের কথা, ওরে নিয়ে শব্দ করবি না
যা বাড়িতে যা, আমার আগামীকাল বিয়ে তাই
মেহেদী দিয়েছি হাতে ফ্যানের নিচে যাব এখন
নয়তো শুকাবে না, পরীকে বলে আয় কালোনী।
হ্যাঁ চলো।
পাশা অদ্ভুত চাহনিতে দেখল পরী কে।
চলবে……..
আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন সবাই
নতুন গল্প দিলাম কেমন হয়েছে তা জানাবেন
ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আশা করি
রিচেক দেইনি বানান ভুল থাকতে পারে।