গল্প: মায়াবিনী (০৩)

লেখিকা:Ayrah Rahman

part:03

“কিরে রাসু এখানে তুই?”

সামনে কারো কথা শুনতে পেয়ে রাইসা আর আমি সামনে তাকালাম,

দেখি মিরা চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে.

“কিরে তুই ওকে চিনিস?”

আমার কথা শুনে মিরা রাইসা থেকে চোখ সরিয়ে আমার দিকে তাকালো।

“আরে চিনব না কেন? রাইসা আমার চাচাত বোন, আমার বড় চাচ্চুর মেয়ে,”

“ওহ তাহলে তো ভালো ই হয়েছে”

মিরা রাইসার দিকে তাকিয়ে বলল,

“তুই যে এই ভার্সিটি তে এডমিশন নিবি বললি না তো! “

রাইসা মুচকি হাসলো,

“আরে তোমাকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম,পুরো ভার্সিটি খুঁজেও তোমাকে পাওয়া যায় না কোথায় থাকো তুমি?”

“আজকেই ফার্স্ট আসলি নাকি?”

“না আজ নয় কাল এসেছি,ভাইয়া নিয়ে এসেছিলো,আজকেও ভাইয়া নামিয়ে দিয়ে গেছে..”

“আবরার ভাইয়া এসেছিল? “

“হুম”

ওদের কথার মাঝখান দিয়েই আমি কানে হেডফোন গুঁজতে গুঁজতে বললাম,

-“তো তোমাদের নবীন বরণ কবে? ডেট দিয়েছে? “

আমার কথা শুনে রাইসা ঠোঁট উল্টালো, মানে সে কিছু জানে না।

আমি মুচকি হেসে ওর গাল টেনে দিলাম,

“মিরা চল ক্লাসে চল, জোকার টা মনে হয় আজ আসবে না।
কিউটি তুমিও ক্লাসে যাও আর কেউ কিছু বললে সোজা আমার কাছে আসবে, ওকে?

রাইসাও মুচকি হেসে মাথা নাড়ালো,

“আচ্ছা আপু আজ আসি পরে কথা হবে” বলেই রাইসা ক্লাসে চলে গেলো,,

আমি আর মিরা হাটতে লাগলাম,

“কিরে শাক*চুন্নিরা কই যাস?”

পিছন থেকে কারো কন্ঠ শুনে আমি আর মিরা পিছনে তাকালাম।
দেখি আমাগো জোকার মহাশয় সাজিন বুকে দুই হাত গুজে নায়ক স্টাইলে দাঁড়িয়ে আছে।

আমি এক ভ্রু উচু করে ওর আপাদমস্তক পর্যবেক্ষন করলাম, সাদা শার্ট আর ব্লেক প্যান্ট আর চোখে কালো চশমা।

“এভাবে দেখছো কেন জান! চোখ লেগে যাবে তো!”

আমি চোখ ছোট করে ওর দিকে তাকাতেই,

সাজিন তার বিশ্ববিখ্যাত বেক্কেল মার্কা হাসি উপহার দিলো।

– “ওই শা*লা তোর জান কে? হে?”

“ওমা জান কে হবে! তুই ই তো আমার জান, আমার কলিজা, হাড্ডি, নাড়িভুড়ি সব!”

আমিও ওর কাছে গিয়ে খপ করে ওর কান ধরে দিলাম মোচর,

“ওমা গো আমার কান শেষ গো, বইন বইন আমার কান ছাড় দোহাই লাগে”

— “আমি তোর জান?”

“না না কে বলল তুই আমার জান, তুই তো আমার মার পেটের ভাগ্নি লাগছ, তাও কান ছাড় বইন প্লিজ!”

আমি আর থাকতে না পেরে  ওর কান ছেড়ে হো হো করে হেসে দিলাম,

“আমি তোর মায়ের পেটের ভাগ্নি হই, জীবনে প্রথম শুনলাম মায়ের পেটের ও ভাগ্নি হয়।”

আমার কথা শুনে মিরা ও হেসে দিলো।

বেচারা সাজিন কান ডলতে ডলতে  একবার আমার দিকে  আরএকবার  মিরার দিকে তাকালো,

আমি হাসি থামিয়ে বললাম..
– অনেক হয়েছে চল এবার ক্লাসে যাই,

_______________

অপরদিকে আবরার ডেস্কে বসে কাজ করছে,

কিন্তু কাজে তার বিন্দু মাত্র জ্ঞান নেই, তার মাথায় শুধু
সকালের ঘটনা টাই ঘুরছে।

মেয়েটা কতটা উগ্র তা তার পোষাক দেখেই বোঝা যায়, মানুষ কে মানুষ বলে ই মনে করে না কি রকম বাজে বিহেভ করছিলো রিকশাওয়ালা চাচার সাথে, সামনে যদি পেতো না আবার কষিয়ে আরো দু একটা চটকনা লাগিয়ে দিতো, বেয়াদব, অসভ্য মেয়ে!

আবরারের এসব ভাবনার ফাকে দিয়েই কেউ দরজায় নক করলো,

“মে আই কাম ইন স্যার?”

“ইয়েস কাম”

আবরার তাকিয়ে দেখে তার পার্সোনাল এসিস্ট্যান্ট মিস লিজা, মেয়েটাকে তার ভিষণ অপছন্দ, অনেকটা গায়ে পড়া স্বভাবের মেয়েটা। চাকরি তে জয়েন হয়েছে মোটে এক মাস ও হলো, বেশ আহ্লাদি স্বরে কথা বলে।

এসব মেয়েদের প্রতি আগ্রহ আবরারের কোন কালেই ছিলো না,

আবরার ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে ই লিজা কে বলল.

“মিস লিজা কিছু বলবেন? “

” জি স্যার, একটা ফাইলে সাইন লাগবে”

“ঠিক আছে রেখে যান আমি করে রাখবো”

“না স্যার ফাইলটা এখনই লাগবে”

“বললাম তো করে রাখব আপনি একটু পর এসে নিয়ে যাবেন”

“না না স্যার এখনই করে দেন”

বলতে বলতে লিজা আবরারের গা ঘেষেঁ দাড়াল , এমনিতেই সকাল থেকে মেজাজের অবস্থা খারাপ ছিলো তার উপর এই ছেঁচড়া মেয়ে এসে ছেঁচড়ামি শুরু করছে,
আর সহ্য করতে না পেরে আবরার বসা থেকে দাঁড়িয়ে ঠাস ঠাস করে লিজার দুই গালে দু টা থাপ্পড় লাগালো।

বেচারি লিজা তাল সামলাতে না পেরে পড়তে পড়তে টেবিলে ধরে বেঁচে গেলো।

“আপনাকে না আমি এর আগে অনেক বার বলেছি আমার সাথে গা ঘেঁষা ঘেঁষি করবেন না তার ফল ভালো হবে না, আপনি এক্ষুনি অফিস থেকে বের হয়ে যান আর আসতে হবে না কাল একবার এসে রিজাইন লেটার নিয়ে যাবেন এখন আসতে পারেন।

অনেক টা চিৎকার করে ই আবরার কথা গুলো বলল,

আবরারের চিৎকার শুনে বেচারি লিজা কেঁপে উঠে,

ভয়ে ভয়ে বলল,

“স্যার প্লিজ এবারের মতো মাফ করে দেন আর কখনো হবে না,”

“আমি কি বললাম আপনার কানে কি যায় না,বের হতে বলছি আমি, গেট আউট, আই সেইড গেট আউট”

লিজা আর কথা না বলে রুম থেকে বের হয়ে যায়।

আবরার চুল মুঠ করে ধরে বৃথা রাগ কমানোর চেষ্টা করছে,

হঠাৎ আবরারের ফোন বেজে উঠলো,
সে ফোন হাতে নিয়ে দেখে রাইসা ফোন করেছে,

“হ্যালো”

“হে বল কি বলবি?”

” ভাইয়া ভার্সিটি শেষে আমাকে নিয়ে যাবি প্লিজ”

” কেন তুই কি ছোট বাচ্চা? “

” প্লিজ প্লিজ ভাইয়া”

-“ওকে ডান, কয়টাই আসবো?”

“৪ টাই আসলেই হবে, ওকে”

_____________

বেশ খানিকক্ষণ ধরে আবরার রাইসার ভার্সিটির সামনে দাড়িয়ে আছে কিন্তু রাইসার আসার খবর নাই,

হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিলো, ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে ঘড়িতে এখন ৪ টা ১৫ বাজে।

আবরার আর থাকতে না পেরে ভেতরে এসে খুজতে লাগলো,

হঠাৎ একটা গানের স্বরে তার পা থমকে গেলো,

অলির কথা শুনে বকুল হাসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো!
ধরার ধূলিতে যে ফাগুন আসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার কাছে কভু আসো না তো!

আকাশ পাড়ে ঐ অনেক দূরে
যেমন করে মেঘ যায় গো উড়ে
আকাশ পাড়ে ঐ অনেক দূরে
যেমন করে মেঘ যায় গো উড়ে
যেমন করে সে হাওয়ায় ভাসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার স্বপ্নে কভু ভাসো না তো!

অলির কথা শুনে বকুল হাসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো!

চাঁদের আলোয় রাত যায় যে ভরে
তাহার মতো তুমি করো না কেন ওগো ধন্য মোরে?
চাঁদের আলোয় রাত যায় যে ভরে
তাহার মতো তুমি করো না কেন ওগো ধন্য মোরে?

যেমন করে নীড়ে একটি পাখি
সাথীরে কাছে তার নেয় গো ডাকি
যেমন করে নীড়ে একটি পাখি
সাথীরে কাছে তার নেয় গো ডাকি
যেমন করে সে ভালোবাসে
কই, তাহার মতো তুমি আমায় তবুও ভালোবাসো না তো!

অলির কথা শুনে বকুল হাসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার কথা শুনে হাসো না তো!
ধরার ধূলিতে যে ফাগুন আসে
কই, তাহার মতো তুমি আমার কাছে কভু আসো না তো!

কি মিষ্টি গলা তার,  কোন একটা ফাকা রুম থেকে গান টা আসছে, খালি গলার গান তাও মন কারা স্বর তার, আবরারের মনে স্বরের মালিক কে দেখার ইচ্ছে জাগলো, সামনের দিকে পা বাড়াবে অমনি পিছন থেকে কারো কন্ঠে থেমে গেলো,

” কোথায় যাস ভাইয়া, চল বাসায় যাই,এমনি লেট হয়ে গেছে, চল চল”

আবরার খেয়াল করে দেখলো গান টা শেষ হয়ে গেছে। কোথাও কোন সাড়া শব্দ নেই তাই আর চিন্তা না করে রাইসার হাত ধরে নিয়ে এসে গাড়ি তে বসিয়ে সোজা বাসায় চলে আসলো,,

__________

অপরদিকে…

চলবে….….

[ প্লিজ সবাই গঠন গত মন্তব্য করবেন কেমন লাগছে আপনাদের কাছে রেটিং অপশন থেকে রেটিং দিয়েন]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Most Voted
Newest Oldest
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x