গল্প:অপ্রত্যাশিত অনুরাগ(০১)

লেখিকা:মায়িশা নুরাইন

পর্ব:০১

“ভার্সিটির প্রফেসরদের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখলে নাকি সুবিধা পাওয়া যায়। আমি এতই ভালো সম্পর্ক রাখতে গিয়েছিলাম, যে সোজা বেডার বউ হয়ে বসে আছি।”
— “কি হলো, কি বিরবির করছো?”
— “কিছু না স্যার। ভাবছি আমি কোথায় থাকবো?”
— ” আমার মাথায় উঠে বসে থাকো। ইডিয়েট একটা,,,”
বলেই লোকটা সোজা গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো। তাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে লোকটা পুনরায় উঠে বসে বলে,,
— “সমস্যা কি তোমার? এমন ল্যাম্পপোস্টের মতো দাঁড়িয়ে আছো কেন?”
— “আমার ভবিষ্যৎ যে আলোকিত, দেখেছেন আপনি?
ল্যাম্পপোস্টের মতোই আলোকিত আমার জীবন,,”
— ” সাথে আমার জীবনে লাল বাতি জ্বা’লিয়ে দিয়েছো,
স্টুপিড মেয়ে। এভাবে দাঁড়িয়ে না থেকে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়ো। “
একথা শুনে মেয়েটির মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে ফ্লোরে দপ দপ করে শব্দ করে বিছানার কাছে এসে দাঁড়ায়। এমন শব্দে লোকটা বিরক্ত হয়ে উঠে বসতেই মেয়েটি লাফিয়ে খাটে উঠে যায়। লোকটা একটু বিছানার একপাশে চলে যেতেই মেয়েটি বলে,,,
— ” আমি নাওরা মুনতাহা,, নিজের অধিকার ভালোভাবে বুঝে নিতে পারি। বিয়ে যখন করেছেন, তখন আপনার বিছানাতেও আমায় জায়গা দিতেই হবে। আপনার বউ হয়ে আমি সোফায় শুইতে যাবো কেন? “
— ” দেখো নাওরা,,,,,”
— ” কিছুই দেখতে পারবো না। এখন আমার ঘুম পাচ্ছে, আমি ঘুমাবো। এই বিছানাতেই ঘুমাবো। কাছে আসার চেষ্টা করলে আপনার খবর আছে বলে দিচ্ছি। “
— ” তোমার মতো অভদ্র মেয়েকে এই নাওয়াফ জাবিন খান দেখতেই পারে না,,,সেখানে কাছে যাওয়া তো দূরের কথা। “
— “আসতেও বলি নি। খুব ক্লান্ত আমি, ঘুমাতে দেন আমায়,,,, “
বলেই নাওরা সোজা বিছানার একপাশে শুয়ে পরে।
নাওরা মুনতাহা,,,খুবই দুষ্টু একটা মেয়ে।
বয়স ২০ বছর। বাবা-মা নেই, মামা-মামীর সাথে থাকে। একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মাধ্যমে নাওয়াফ এর সাথে তার বিয়ে হয়ে গেছে।
তারা দুজনের কেউ-ই এই বিয়েতে রাজি ছিলো না। এক প্রকার বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে।
বেশ একটা ভাব দেখিয়ে শুয়ে পরলেও এখন নাওরার একটু ভয় ভয় করছিলো। যতই হোক, বিছানার অপর পাশে থাকা লোকটি একজন পুরুষ মানুষ, তার উপর তার স্বামী। যতই না মানুক, লোকটির তার উপর সকল অধিকার আছে। কিছু করতে আসলে সে বাধাও দিতে পারবে না।
অপরদিকে নাওয়াফ বিছানার অপর প্রান্তে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝতেই পারলো না। এখন এই অভদ্র মেয়েটা নাকি তার ওয়াইফ। যে কিনা তারই ডিপার্টমেন্টের ছাত্রী।
নাওয়াফ জাবিন খান,,, বয়স ২৯ এর কোঠায়। ভার্সিটির প্রফেসর। নাওয়াফ যেই ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর, নাওরা সেই ডিপার্টমেন্টেরই ছাত্রী।
অনেক দুষ্টু একটা মেয়ে, তবে বেয়াদব না। এখনো তেমন কোন বেয়াদবী দেখে নি নাওয়াফ।
তবুও নাওরা মেয়েটাকে তার একদমই পছন্দ না। বেশি কথা বলে মেয়েটা, তার উপর অনেক চঞ্চল।
এখন এই অপছন্দের মেয়েটাই নাকি তার ওয়াইফ, এটা সে কোনভাবেই মানতে পারছে না। তার সাথে একই বিছানায় থাকা তো অসম্ভব। তাই নাওয়াফ উঠে পাশের রুমে চলে যায়৷
নাওয়াফ চলে যেতেই নাওরা উঠে বসে। এতক্ষণে শান্তি, লোকটা চলে গিয়েছে। এখন একটু আরামে ঘুমাতে পারবে। এমনিতেও তার ঘুমের যা অবস্থা, যে কেউ দেখলে অ’ক্কা পাবে।
সবই এমনিতে ঠিক ছিলো,,তবে একটা সমস্যা হয়ে গেছে। রুমে এসি অন করা, কিন্তু সে কোন রিমোট খুঁজে পাচ্ছে না। কমাবে কিভাবে,,,তার উপর বিছানায় একটা কাঁথা কিংবা কম্বল কিছুই নেই। নাওরার একটু ঠান্ডা লাগছিলো। তাই নিজের থ্রিপিচের ওরনা দিয়েই নিজেকে কোনরকম ঢেকে নেয়। তারপর শুয়ে কোন রকমে ঘুমিয়ে যায়।
সকালে নাওয়াফ ঘুম থেকে উঠে নিজেকে অন্য রুমে দেখে একটু অবাক হয়। রাতে কথা সে বেমালুম ভুলে গিয়েছে। এটা স্বাভাবিক, এই ফ্ল্যাটে সে একাই থাকে। পরিবার অন্য জায়গায় থাকে। ভার্সিটির জন্য নাওয়াফ আলাদা ফ্ল্যাটে থাকে।
নাওয়াফ উঠে নিজের রুমে গিয়ে হটাৎই একটা মেয়েকে তার বিছানায় দেখে অবাক হয়ে যায়। হটাৎই মনে পরে গতরাতের কথা। নাওরাকে রেখেই তো নাওয়াফ অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে পরেছিলো। মেয়েটা কি রকম এলোমেলো ভাবে শুয়ে আছে। কামিজ সরে গিয়ে কোমড়ের একপাশ দেখা যাচ্ছে। পায়ের কাছ থেকে প্লাজু কিছুটা উপরে উঠে গিয়েছে। তার উপর পড়নের ওরনাটাও একপাশে পড়ে আছে। যেন একটা বাচ্চা মেয়ে এলোমেলোভাবে বিছানায় শুয়ে আছে।
নাওরাকে দেখে নাওয়াফের মনে অন্য অনুভূতি তো দূরের কথা, উল্টো প্রচুর রাগ উঠতেছে। মেয়েটা জানে সে অন্য কারও বাসায় আছে। তারপরও কিভাবে শুয়ে আছে। তবে এখন হুট করে রুমে ঢুকে গেলে মেয়েটা উঠে গেলে লজ্জা পাবে। আবার ডাকলেও সমস্যা। মেয়েটার কথাবার্তার কোন ঠিক নেই, কখন কি বলে দেয় তার ঠিক নেই।
তাই নাওয়াফ কোন শব্দ না করে নাওরার দিকে না তাকিয়েই রুমে প্রবেশ করে। আলমারি থেকে নিজের ড্রেস নিয়ে পাশের রুমে চলে আসে। সেখানেই ফ্রেস হয়ে নিবে। ততক্ষণে নিশ্চয়ই নাওরা উঠে যাবে।
অন্যদিকে নাওরা এখনো পরে পরে ঘুমাচ্ছে। ঘুমের ঘোরে হাসছে, মনে হয় কোন ভালো স্বপ্ন দেখছে। হটাৎ তার হাসি মিলিয়ে যায়। মুখে যেন আধার নেমে এসেছে।
তারপরই হটাৎ একটা চিৎ’কার দিয়ে নাওরা উঠে বসে।
নাওয়াফ মাত্রই শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। পড়নে শুধু একটা টাউজার পড়া।
টাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বের হয়েছে। তখনই নাওরার চিৎ’কার তার কানে আসে।
নাওয়াফ কোনরকমে টিশার্টটা পড়ে রুমে চলে যায়।
নাওরা বিছানায় বসে কেমন যেন হাঁপাচ্ছে। এসি তো অন করা, তাও কেমন ঘেমে গেছে মেয়েটা। বিছানার চাদরটা যেন খাম’চে ধরে রেখেছে।
নাওয়াফ কি করবে বুঝতে পারছে না, তার কি নাওরার কাছে যাওয়া উচিত এখন। শেষে সব ভাবনা বাদ দিয়ে নাওরার কাছে এগিয়ে যায়।
— “কি হয়েছে তোমার, নাওরা? কোন দুঃস্বপ্ন দেখেছো কি? এভাবে হাঁপাচ্ছে কেন?”
পাশে কারও উপস্থিতি টের পেয়ে নাওরা না দেখেই নাওয়াফকে খা’মচে ধরে। নাওয়াফ একটু ব্যাথা পেলেও কিছুই বলে না। নাওরা চোখ বন্ধ করে নিজেকে ধাতস্হ করলে পরে বুঝতে পারে কেউ আছে সাথে।
পাশে তাকিয়ে নাওয়াফকে এতটা কাছে দেখে থতমত খেয়ে যায়।
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে তার অবস্হা বেহাল। শরীরে ওরনাটাও নেই। নাওয়াফকে ছেড়ে দিয়েই তাড়াহুড়ো করে নিজের ওরনাটা গায়ে জড়িয়ে নেয়।
— ” আ-আপনি এখানে কেন,স্যার? “
নাওরাকে ঠিক হতে দেখে নাওয়াফ একটু দূরে গিয়ে দাড়িয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলে,,
— ” ঘুম কি এখনো ভাঙেনি? আমি না, বরং তুমি আমার বাসায়, আমারই বেডে বসে আছো।”
নাওরা চারপাশ দেখে তার গতকালের কথা মনে পরে।
কিভাবে সে এখানে এসেছে সব মনে পরে।
নাওয়াফকে দেখেই বুঝা যাচ্ছে সে মাত্রই হয়তো শাওয়ার নিয়ে বেরিয়েছে। এলোমেলো ভেজা চুলে নাওয়াফকে অনেক স্নিগ্ধ লাগছে। ভেজা মাথা থেকে তখনো টুপটুপ করে পানি পড়ছে। বিছানার একদিকে যেখানে নাওয়াফ বসেছিলো, সেখানেও কিছু অংশে পানি দিয়ে ভিজে গেছে। সেটা দেখেই নাওরা বলে,,
— ” কি করলেন আপনি? মাথায় করে কি পুরো ট্যাংকির পানি নিয়ে চলে এসেছেন নাকি? জায়গাটা পুরো ভিজিয়ে দিয়েছেন।”
নাওরাকে অস্বাভাবিক দেখে নাওয়াফ একটু ভালো ব্যবহার করছিলো। এখন তো দেখছে তার ভালো ব্যবহার করা উচিত হয় নি৷ মেয়েটা আগের রুপে ফিরে এসেছে। তাই সেও গম্ভীর ভাবে উত্তর দেয়,,,
— ” লিসেন, এটা আমার রুম। তোমাকে কোন কৈফিয়ত দিতে আমি বাধ্য নই।”
— ” আর আমি আপনার ওয়াইফ। আমি আগেই বলেছি আমার অধিকারের ব্যাপারে আমি কোন ছাড় দিবো না।”
— ” কিসের অধিকারের কথা বলছো? তোমাকে বউ হিসেবে মেনেছেটা কে? “
— “সে তো আমিও আপনাকে স্বামী হিসেবে মানি নি। তাই বলে তো সব মিথ্যা হয়ে যাবে না।”
— ” তোমাকে আমি শীঘ্রই ডি’ভোর্স দিয়ে দিবো। “
— ” ততদিনে আপনাকে জ্বা’লিয়ে আপনার হাড়-মাংশ আমি একাকার করে দিবো। নয়তো আমার নামও নাওরা না, হুহ। “
বলেই নাওয়াফ এক প্রকার পাশ কাটিয়ে নাওরা ওয়াসরুমে চলে যায়। নাওয়াফ যেন হতভম্ব হয়ে দাড়িয়ে আছে। মেয়েটা যে এভাবে তার জীবনের সাথে জড়িয়ে যাবে, সে চিন্তাও করে নি। এই বিপদ সে পার করবে কিভাবে!
নাওরা ড্রয়িং রুমে এসে চারদিকে তাকিয়ে দেখতে থাকে। কি সুন্দর করে সবদিক সাজানো-গোছানো।
একজন পুরুষ মানুষও কি এত গোছানো হয় নাকি। তখন নাওয়াফ আসতেই নাওরা এক মুহুর্তের জন্য সেদিকে হা হয়ে তাকিয়ে থাকে। নাওয়াফকে ফর্মাল ড্রেসে অনেক সুন্দর লাগে, এটা নাওরা সেই শুরু থেকেই স্বীকার করে। নাওরাকে তার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নাওয়াফ বলে,,
— ” কি সমস্যা? “
— ” কিছু না। ব্রেকফাস্ট বানান নি, স্যার? খাবো কি?”
— ” এটা কার কাজ? তুমি না আমার বউ। এত অধিকারের
কথা বলছো, তাহলে এসব রান্না করাটাও তো তোমারই কাজ। “
— ” আমাকে বউ হিসেবে মেনেছেন আপনি?”
— ” নাহ, মানি নি। জীবনেও মানবো না।”
এভাবে এককথার উত্তরটা যেন নাওরার কলিজায় গিয়ে লাগে। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বলে,,
— ” তবে এসব কাজও আমার না। লাগবে না আপনার খাবারের, আমি চললাম। “
নাওরা চলে যেতে নিলে পেছন থেকে নাওয়াফ তাকে ডেকে আটকায়৷
— ” দাঁড়াও। খেয়ে যাও। নাস্তা বানানো আছে। “
নাওয়াফ আগেই একটু নাস্তার ব্যবস্হা করে রেখেছিলো। নাওরারও বেশ ক্ষুধা লেগেছে। তাই আর বেশি কিছু না বলে সোজা খাবার টেবিলে গিয়ে বসে। খাবার দেখে তো নাওরার মুখ কুঁচকে যায়। এসব কি খাবার। কি সব দিয়ে একটা সালাদ বানানো, স্যান্ডউইচ আর জুস। কি সব বড়লোকী খাবার। নাওরা তো টিভিতে সিনেমাতেই দেখে এসেছে এসব বড়লোকেরা খায়। নাওরাকে খাবার সামনে রেখে কিসব ভাবতে দেখে নাওয়াফ বলে,,
— ” সমস্যা কি? খাচ্ছো না কেন?”
— ” স্যার, আপনি কি বড়লোকের ছেলে?”
নাওরার প্রশ্ন শুনে নাওয়াফ ভ্রু কুঁচকে তাকায়। নাওয়াফকে এভাবে তাকাতে দেখে নাওরা বুঝতে পারে সে ভুল প্রশ্ন করে ফেলেছে।
আরে যেই লোক ভার্সিটিতে নিজের গাড়ি নিয়ে যায়, সে বড়লোক না হয়ে যাবে কোথায়। আর এই ফ্ল্যাটটা দেখেই তো বুঝা যাচ্ছে কত সুন্দর করে সাজানো।
তাদের তো এসব কিছুই নেই। মামার যে বেতন, তা দিয়ে তাদের কোন রকম চলে যায়। মামা-মামী যে মামাতো ভাই-বোনদের পাশাপাশি তাকেও ভালোবাসা দিয়ে রেখেছে, সেটাই কি কম নাকি।
নাওরাকে আর কিছু না বলতে দেখে নাওয়াফ বলে,,
— ” সম্পূর্ণ খাবার শেষ করে পরে উঠবে। আর ভার্সিটিতে যাতে কেউ আমাদের বিয়ের কথা না জানতে পারে।
এমনকি তোমার ফ্যামিলিতেও জানাবে না। আমি তাড়াতাড়ি এই বিয়ের কোন ব্যবস্হা করবো। “
তারপর নাওরাকে কিছু না বলতে দেখে নাওয়াফ একটু ধ’মকের সুরে বলে,,
— ” কি বলেছি কানে ঢুকেছে কি?”
— ” হুম।”
মুখে হুম বললেও মনে মনে বলে,, খুব শীঘ্রই নাওয়াফের মাথা খেয়ে তারপর নাওরা যাবে। বউ মানে না আবার শাসন করা শুরু করে দিয়েছে। ভার্সিটিতে তো তাকে কম জ্বা’লায় নি। প্রজেন্টেশনের সময় কি অপমানটাই না করলো। ওই জন্যই তার মার্কটাও কমে গিয়েছিলো। এত তাড়াতাড়ি তো নাওয়াফকে সে ছাড়বে না। বুঝিয়ে দিবে নাওরা কি জিনিস,হু।
— ” স্যার, আমার ব্যাগটা কোথায়?”
— ” রুমেই আছে হয়তো৷”
নাওরা গিয়ে রুম থেকে ব্যাগ নিয়ে আসতেই নাওয়াফ বলে,,
— ” দাঁড়াও, আমি তোমাকে ভার্সিটিতে নামিয়ে দিবো। “
— ” ধন্যবাদ স্যার,,আমার অলরেডী অনেক উপকার করেছেন৷ আর করতে হবে না। আমি একাই যেতে পারবো, আসি। “
বলেই নাওরা ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যায়। নাওয়াফ রা’গে কটমট করে তাকিয়ে ছিলো। তবে নাওরা তাকে কোন পাত্তাই দিলো না। নাওয়াফ তো ভেবেছিলো মেয়েটা এমনি দুষ্টু হয়তো, এখন তো দেখছে চরম লেভেলের বে’য়াদব। দোষ কি তার একার ছিলো নাকি,,নাওরারও তো ছিলো। তবুও সব দোষ তার উপর চাপিয়ে দিচ্ছে মেয়েটা। নাওরা নাতো, আস্ত একটা ঘা’ওড়া মেয়ে,,,,

চলবে….

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments