গল্প: দ্বিতীয় সূচনা (০৯)

পর্বঃ০৯

লেখনীতেঃআফসানা শোভা

 

 

[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔]

 

ঐক্য নিজের আহ্লাদী মেয়েকে কোলে তুলে নিল। আবৃতি আর আহানকে লক্ষ্য করে ভরাট গলায় বললো,

— ওয়াফার পক্ষ থেকে স্যরি।

আহান হেসে বললো,

— ইটস্ ওকে স্যার। স্যরি বলার কিছু নেই। বাচ্চাদের কান্ডকারখানা। ওদের কান্ডের এত বিচার করতে নেই।

বাচ্চাদুটোর হুলোস্থলের মধ্যেই স্কুলের ঘন্টা বেজে উঠে। আর ইস্তফা দিয়ে স্কুলে ঢুকে গেল। আবৃতি আরশানকে নিয়ে অফিস রুমের দিকে গেল। আর ঐক্য ওয়াফাকে ক্লাসে বসিয়ে মেয়ের দু’গালে দুটো চুমু খেয়ে বললো,

— আম্মাজান একদম দুষ্টুমি করবেনা কিন্তু। আর লাঞ্চ বক্স কিন্তু পুরোটা ফিনিশ করা চাই। তাহলে পাপা তোমাকে ছুটির শেষে পিজ্জা খেতে নিয়ে যাবে।

ওয়াফা পাপার কথা শুনে আনন্দে ফেটে পড়ে,

— পাপা সত্যি?

— তিন সত্যি আম্মাজান।

— আমরা ঘুরি ঘুরি ও করবো?

— হ্যাঁ মা। নিজের খেয়াল রাখবে। কোন সমস্যা হলে মিসের ফোন থেকে পাপাকে কল করবে। এখন পাপা অফিসে যাই। বাই।

— বাই পাপা।

ক্লাস শুরু হলে হেড মিস আরশানকে ক্লাসে নিয়ে আসেন।
আরশানকে নিজের ক্লাসে ঢুকতে দেখে ওয়াফা মনে হয় দিনের বেলায় ভূত দেখার মতো চমকে উঠে। বাচ্চারা সবাই আরশানকে হ্যালো বলে স্বাগত জানায়। সবার সাথে আরশানের পরিচয় করিয়ে দিয়ে হেড মিস আরশানকে সামনের বেঞ্চের ওয়াফার পাশে বসতে বলেন। আরশান মুখটা গম্ভীর রেখে ওয়াফার পাশে একদম টেবিলের একদম কোণায় গিয়ে বসে। ওয়াফা গোলগোল চোখে বড়দের মতো গম্ভীর মুখ করে রাখা আরশানের দিকে তাকায়৷ ক্লাস মিসের অগোচরে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে,

— এই ছেলে তুমি আমার ক্লাসে কি করছো?

আরশান বেশ ভাব নিয়ে বলে,

— কেন ক্লাস কি তুমি কিনে নিয়েছ?

আরশানের দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে থাকা ওয়াফা থতমত খেয়ে বলে,

— তুমি তো ছোট। তুমি তো নার্সারি পড়বে। ওয়ানের ক্লাসে কি করছো?

ওয়াফার এত প্রশ্নে আরশান বিরক্ত হয়ে বলে,

— কে বলেছে আমি ছোট? ছোট তো তুমি। আ’ম ফাইব ইয়ার্স ওল্ড। আর আমার মাম্মাম আমাকে এখানে ভর্তি করিয়েছে। তুমি চুপ করোতো। তুমি অনেক কথা বলো৷

আরশানের ধমক খেয়ে ওয়াফা মুখ ফুলিয়ে বসে থাকে। ও এই দুষ্ট ছেলেটার সাথে কখনো ফ্রেন্ডশিপ করবেনা। চকোলেটও শেয়ার করবেনা কখনো। হুম।

— মেয়ের বয়স ৩০। হোক ঐক্যর থেকে এক বছরের বড় সমস্যা কি? একটা নামি-দামি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির লেকচারার। বনেদী বংশ। দেখতেও সুন্দরী। ভাবী দেখো ঐক্যর খুব পছন্দ হবে।

ইয়া বড় একটা মিষ্টি মুখে পুরে গদগদ হেসে কথাটা বলেন ঐক্যর বড় ফুফু ওয়াহিদা চৌধুরী।
মিসেস জোবায়দা চৌধুরী পাত্রীর ছবিটা সেন্টার টেবিলের উপর রাখেন। চোখের চশমাটা খুলে হাতে নিয়ে চিন্তিত সুরে বলেন,

— কিন্তু ওয়াহিদা আমি চাইছিলাম ঐক্যর জন্য বিধবা বা ডিভোর্সি কোনো মেয়ে দেখতে।

ঐক্যর ফুফুর চিবোতে থাকা মুখটা হঠাৎ থেমে গেল। কোনমতে মিষ্টিটা গিলে নিয়ে অবাক গলায় তিনি বললেন,

— ভাবি কি বলছো এসব তুমি? যেখানে আমার ভাতিজাকে বিয়ে করার জন্য অবিবাহিত মেয়েরা বসে আছে সেখানে তুমি যেচে পড়ে ওর জন্য বিধবা, ডিভোর্সি মেয়ে খুঁজছো কোন দুঃখে?

জোবায়দা বেগম মুখ খুলে কিছু বলবেন কিন্তু ঐক্যর ফুফু আবার বলে উঠেন,

— আর শোনো ভাবি। তোমার যদি নিতান্তই ডিভোর্সি বা বিধবা মেয়ে ছেলের বৌ করার ইচ্ছে থাকে তাহলে বন্ধ্যা বা যার আগের ঘরের কোন সন্তান নেই এমন কাউকে দেখো। না হলে আমার নাতনিটার অযত্ন হবে। এরা সারাক্ষণ নিজের সন্তান নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।

জোবায়দা বেগম আনমনে বললেন,

— সেটাই তো আমার আসল চিন্তা ওয়াহিদা। নাহলে ছেলের জন্য পাত্রীর তো অভাব নেই৷ কিন্তু আমিতো আমার ফুলটার জন্য একজন মমতাময়ী মা চাই, আমার ছেলেটার জন্য চাই একজন আগলে রাখার মানুষ।

★★

স্কুলের টিফিন পিরিয়ডের ঘন্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সব বাচ্চাটা নিজের টিফিন বক্স হাতে ক্যান্টিনের দিকে চলে গেল। ওয়াফা নিজের বক্স,হট ওয়াটার বোতল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর ঐক্যর দেওয়া ওর ফেবারিট ডার্ক বেরী চকোলেট টা নিয়ে লাফ দিয়ে বেঞ্চ থেকে নেমে ক্যান্টিনের দিকে গেল। ক্যান্টিনের ভেতর আসতেই ওয়াফার চলন্ত পা যুগল হঠাৎ থেমে গেল৷ আবৃতি আরশানকে নিজের পাশে বসিয়ে অতি যত্নে ফ্রাইড রাইস খাইয়ে দিচ্ছে। মাঝে ছেলের ঠোঁটের আশে-পাশে নিজের ওড়নার কোণা টেনে মুছিয়ে দিচ্ছে। ভেতরে না গিয়ে বাচ্চাটা এক দৃষ্টিতে এক মমতাময়ী মাকে দেখে যেতে লাগলো। যে কিনা তার সন্তানকে পরম যত্নে হাতে তুলে খাইয়ে দিচ্ছেন৷ সেই দৃশ্যে কি ছিল জানা নেই ছোট্ট ওয়াফার মুখটা মলিন হয়ে গেল। হয়তো নিজের ছোট্ট জীবনে এই আদরটুকু অভাবটা বাচ্চা হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। হঠাৎ আবৃতির চোখ গেল মুখ মলিন করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকা ওয়াফার দিকে। ও অবাক হলো বাচ্চাটাকে এই জায়গায় মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে৷ হাতটা উঁচিয়ে ওয়াফা নিজের কাছে ডাকলো,

— এদিকে আসো বাচ্চা।

আবৃতির ডাকে ওয়াফার চোখটা জ্বলজ্বল করে উঠে। ওর ডাকতে দেরী ওয়াফার ছুটে আসতে দেরী হয়না৷ ওয়াফা কাছে আসতেই আবৃতি ওকে তুলে নিজের পাশের চেয়ারটাতে বসালো। আরশান আবার কপালটা কুঁচকে ওয়াফার দিকে তাকিয়ে আছে। বেচারা মহা মুশকিলে পড়েছে তো৷ মেয়েটা তো তার মাম্মামের লেজই ছাড়ছেনা৷ আবৃতি আদুরে স্বরে বললো,

— ওয়াফা তুমি আমাদের সাথে বসে লাঞ্চ করো কেমন?

ওয়াফা মাথারা একপাশে হেলিয়ে সায় জানিয়ে নিজের বক্সটা খুললো। আজ বুয়া ওকে ওটস্ এর খিচুড়ি রান্না করে দিয়েছে। সাথে দিয়েছে কিছু ফলমূল। রোজকার মতো আজকেও অপছন্দের খাবারটা দেখে ওয়াফা নাকমুখ কুঁচকে ফেললো। আজ আবার পাপা এসব পঁচা খাবার দিয়েছে টিফিনে। এসব পঁচা খাবার দেয় বলেই তো ওয়াফা খাবার গুলো ফিনিশ করেনা। বিনে ফেলে দেয় নয়তো আবার বাসায় ব্যাক নেয়। আদুরে মেয়েটার কোঁচকান মুখশ্রী দেখে আবৃতি মৃদু হাসে। বুঝলো বড় লোকের আদুরীর এসব খাবার পছন্দ না। সত্যি বলতে আবৃতিরও খাবারের মেন্যু টা পছন্দ হয়নি। ওটস্ এর খিচুড়ি হেলদি ঠিকাছে কিন্তু খেতে তো কোন মজা নেই। বাচ্চা মানুষের জন্য হেলদি ওয়েতে তারা মজা করে খেতে পছন্দ করবে এমন অনেক খাবার ইস্যিলি বানিয়ে দেয়া যায়। যেমন সে বানিয়েছে আরশানের জন্য। ব্লকলি,ক্যাপসিকাম, গাজর,ফুলকপি, ডিম, চিকেনের কিমা দিয়ে ফ্রাইড রাইস। খেতে যেমন খুব মজা তেমনই স্বাস্থ্যসম্মত। তাইতো ওর তৈরী করা যেকোন খাবারই আরশান মজা করে খায়। কোনরুপ নখরাপনা করেনা। ওয়াফাকে বক্স হাতে নিয়ে মুখ লটকে বসে থাকতে দেখে আবৃতি বেশ নরম সুরে বললো,

— কি হয়েছে ওয়াফা বেইবি। তুমি খাচ্ছো না কেন?

ওয়াফা মুখ ফুলিয়ে বলে,

— আমি ওটস একদম লাইক করিনা। পাপা অলওয়েস আমাকে পঁচা টিফিন দেয়৷ আমি এসব খেতে পারি বলো?

— কিন্তু এটা তো অনেক হেলথি বাচ্চা।

— না আমার এটা খেলে বমি পায়।

আবৃতি নিজের বক্সটা এগিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বললো,

— ফ্রাইড রাইস খাবে?

ওয়াফা একবার আবৃতির দিকে তাকালো আরেকবার আবৃতির হাতের ফ্রাইড রাইসের দিকে ওয়াফার বিভ্রান্ত দৃষ্টি দেখে আবৃতি বললো,

— আমি বানিয়েছি৷ একচামচ টেস্ট করে দেখ। এই বাও।স্পুন।

আবৃতি চামচটা ওয়াফার দিকে বাড়িয়ে দিল।
ওয়াফা চোখ পিটপিট করে আবৃতির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ বড্ড সরল গলায় আবদার করলো,

— তুমি খাইয়ে দেবে সুইটি আন্টি?

কি সরল আবদার মেয়েটার। আবৃতির অনেক মায়া লাগলো। কেন জানি আনমনেই ওর মেয়েটার প্রতি মায়া জাগে। হয়তো মেয়েটা নিজে থেকেই ওর গা ঘেঁষে থাকে বলেই। ও হেসে চামচটা নিয়ে নিজের হাতে তুলে ওয়াফাকে এক চামচ ফ্রাইড রাইস খাইয়ে দিল।

— কি? কেমন?

ওয়াফা খুশিমনে চিবোতে চিবোতে বললো,

— অন্নেক টেস্টি আন্টি।

আবৃতি হেসে মুখভর্তি খাবার চিবোতে থাকা কিউট ওয়াফার মাথায় চুমু দিল। তারপর খুশিমনেই অবশিষ্টাংশ খাবারটুকু ওয়াফাকে খাইয়ে দিল। আর এদিকে হিংসুটে আরশান মনে মনে হিংসায় ফুঁসতে লাগলো। কিন্তু আবৃতি আর ওয়াফার সেদিকে কোন ধ্যান নেই। তারা দুটিতে খুশি মনেই গল্প করতে করতে খাবারটা শেষ করতে লাগলো। খাবার শেষে ওয়াফা হাতের বিশাল চকোলেটের প্যাকেটটা খুললো। চকোলেট টাকে তিন ভাগে ভাগ করে এক ভাগ আবৃতিকে দিল, একভাগ নিজের জন্য রাখলো আর আরেক ভাগ আরশানের দিকে বাড়িয়ে দিল। চকোলেট দেখে আরশানের চোখ চকচক করে উঠে। মনের সব রাগ গলে পানি হয়ে যায় চকোলোট পেয়ে৷ তবে ও খেয়াল করেছে দুষ্ট মেয়েটা সবচেয়ে বড় পিসটাটা তার মাম্মামকে দিয়েছে৷ আর সবচেয়ে ছোট পিসটা দিয়েছে তাকে৷ আরশান খুশি হলেও মনে মনে ওয়াফাকে বকে দিতে ভুললোনা।

ছুটির শেষে ঐশী নিজের গাড়ি নিয়ে ওয়াফাকে পিক করতে এলো। আজ ওর ডে শিফট ছিল। তাই ভাতিঝিকে নিজেই পিক করে নিয়ে যাবে। আরেকটা বিশেষ কারণ হলো ওয়াফাকে পিজ্জা খেতে নিয়ে যাওয়া। যদিও ঐক্যর আসার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ক্লাইন্টের সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ফিক্সড হওয়ায় তার পক্ষে আসা পসিবল না। তাই ফোন করে ঐশিকে বলে দিয়েছে। সাথে ঐশির একাউন্টে পাঠিয়েছে মোটা একাউন্টের টাকা। ঐশি দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িটা পার্ক করলো৷ ওর ভাই হয়তো টাকা দিয়ে নিজের দায়িত্বটা পুষিয়ে নিতে চাইছে। কিন্তু টাকা দিয়ে আসোলেই কি একটা বাচ্চার আদর, যত্ন, আহ্লাদ, বাবা-মায়ের সঙ্গ পাওয়ার অভাব পুষিয়ে নেওয়া যায়? ওয়াফা এসবে কতটা কষ্ট পায় সেতো জানে। মেয়েটা বুঝ হওয়ার পর থেকেই তো জানেনা মায়ের আদর কেমন হয়?তাইতো সবসময় বাবার আদরের ভুখা হয়ে থাকে। কিন্তু একজন কর্মজীবী বাবা যে কখনোই মায়ের অভাব পূরণ করতে সক্ষম হয়না৷ তার ভাই যতই বড় মুখে বলুক ওয়াফার জন্য সেই যথেষ্ট। কিন্তু এইযে এখন উৎসুক নয়নে পাপার আশায় বসে থাকা ওয়াফা যখন দেখবে তার পাপা প্রতিবারের মতো এবারেও তার কথা রাখতে পারেনি তখন নিষ্পাপ বাচ্চাটার মনের অবস্থা কি হবে? পিপ্পিকে দেখে খুশি তো হতে পারবেনা । এসব ভাবতে ভাবতে ঐশি স্কুল এরিয়ার ভেতর ডুকলো।

একই সময়ে সময়ে আহানের বাইকটাও স্কুলের সামনে থামলো। আবৃতি জানিয়েছে আরশানের স্কুল ছুটি হতে আর বেশি দেরী নেই। ও আর ভেতরে গেলনা। বাইরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো ওদের জন্য। আহান ঠিক করেছে আজ বোন আর ভাগ্নেকে একটু ঘুরিয়ে আনবে। আবৃতির মনের অবস্থা ভাল নেই। একটু ঘুরলে
মনটা ফ্রেশ হবে। এরিমধ্যে স্কুলের ছুটির বেল বেজে ওঠে । বাচ্চাটা কেউ কেউ একা একা কেউবা নিজেদের পেরেন্টসদের হাত ধরে সারি সারি বের হয়ে এলো। আরশান আর আবৃতি বের হয়ে আসলে আহান এগিয়ে গিয়ে টুপ করে আরশানকে কোলে তুলে চুমু খেল। আবৃতি পাশে দাড়িয়ে মামা ভাগ্নের আহ্লাদী পনা দেখলো। আহান জিজ্ঞেস করলো,

— কেমন স্কুল কাটলো আমার বাবাটার?

কিন্তু এই দৃশ্যে যেন কারো পায়ের তলার জমিন কেঁপে উঠলো৷ ঐশির যেন মাথা ঘুরে ওঠে আহানকে আবৃতি আর আরশানের সাথে দেখে। কানে বেজে চলেছে বাবা শব্দটি। কখন যে চোখ বেয়ে একফোঁটা জল টুপ করে মাটিতে গড়িয়ে পড়লো টের পেলনা!

 

চলমান…..

( শরীরের উপর এক প্রকার জুলুম করে লিখেছি। কেমন হয়েছে জানিনা। ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন। আর নেক্সট না লিখে দুই সেকেন্ড সময় ব্যয় করে একটু মন্তব্য করবেন প্লিজ। তাহলে আমি অনেক খুশি হই। হ্যাপি রিডিং। )

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments