গল্প:মৃত কাঠগোলাপ(০২)


লেখনীতে:আইরা নূর


পর্ব:০২

 

 

 

🚫🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। গল্পটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু অবশ্যই হ্যাশট্যাগ গুলো লাগাবেন আর যদি কেউ গল্পটি নিজের টিকটক id তে দিতে চাই অবশ্যই আমার টিকটক id কে mention দেবেন🚫🚫

আদনান চৌধুরী:- দেখুন এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গিয়েছে। আপনারা প্লিজ এইভাবে বিয়ে ভে’ঙ্গে দিয়ে চলে যাবেন না।

হাফিজ কায়সার:- মিস্টার চৌধুরী, আপনি বুঝতে কেনো পারছেন না। আমার মেয়ের সাথে আপনার ছেলের বিয়ে দিতে পারব না আমি। আর আপনি বলছেন ভুল বোঝাবুঝি। গুজব যা রটে তার একটু হলেও সত্যি হয়। আর ঐ মেয়েটা তো আপনার নিজের ভাইয়ের মেয়ে তাই না। ওই বা কেনো মি’থ্যে কথা বলবে। একটা ভালো ঘরের মেয়ে কখনোই নিজের স’তী’ত্ব নিয়ে মি’থ্যে কথা বলবে না নিশ্চই।

নাজিয়া চৌধুরী:- হতে পারে ও চৌধুরী বংশের মেয়ে কিন্তু টাকার লোভ সবারই আছে। আর ওদের আর্থিক অবস্থাও তেমন একটা ভালো না। তাই হয়তো এমন কাজ করেছে।

আদনান চৌধুরী:- তাছাড়াও নীলাধ্র তো বলেছেই যে ও ঐ মেয়েকে বিয়ে করেনি। আর ওর পে’টে’র সন্তান ও নীলাধ্র র না।

হাফিজ কায়সার:- যদি তাই হয় তো ঐ মেয়েটা কেনো বার বার একি কথা বলছিল। কোনো মেয়েই সবার সামনে নিজের মান সম্মান ন’ষ্ট করবে না নিশ্চই। টাকার জন্য নিজের মান সম্মান কেনো বিলিয়ে দেবে। কিছু তো একটা ব্যাপার আছেই। হয়তো আপনি আমাদের থেকে কিছু লুকাচ্ছেন আর নয়তো আপনার ছেলে আপনাদের থেকে কিছু লুকাচ্ছে। যাইহোক, আমি এই বিয়ে কিছুতেই দেবো না। আমি জেনে শুনে আমার মেয়েকে তো আর সতীনের সাথে সংসার করতে দিতে পারি না। আর এটাই আমার শেষ কথা।

নাজিয়া চৌধুরী:- আপনি যে নিজের মেয়ের বিয়ে ভে’ঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা তো জানেন এই সমাজ কেমন। একটা মেয়ের বিয়ে ভে’ঙ্গে গেলে সেই মেয়ের বিয়ে দেওয়া কত কঠিন।

হাফিজ কায়সার:- মিসেস চৌধুরী, আপনি হয়তো আমার ক্ষমতা সম্পর্কে ভুলে যাচ্ছেন। আমার মেয়ের একটা কেনো ১০০ টা বিয়ে ভে’ঙ্গে গেলেও ওর বিয়ে হবে। ওর মধ্যে কোনো কমতি নেই। আর আমি আপনাদের সাথে বেশি কথা বলতে চাইছি না। মা এখানে আর থাকতে হবে না, চল আমার সাথে।

বলেই হাফিজ কায়সার, নিরার হাত ধরে চৌধুরী বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। আস্তে আস্তে সব অথিতিরা ও চলে যেতে শুরু করেন। আদনান চৌধুরী মাথায় হাত দিয়ে সোফায় বসে পড়েন।

এখন বাড়ি টা পুরো ফাঁকা। শুধু নাজিয়া চৌধুরী, আদনান চৌধুরী, নীলাধ্র আর নীলাধ্র র ছোট বোন জাইরা আছে।

আদনান চৌধুরী:- সব শেষ হয়ে গেলো সব শেষ। কোটি টাকার সম্পত্তি সব হাত ছাড়া হয়ে গেলো।

নাজিয়া চৌধুরী:- তুমি এত ভে’ঙ্গে পড়ছো কেনো।

আদনান চৌধুরী:- ভে’ঙ্গে পড়বো নাতো কি করবো। এই নীলাধ্র সত্যি করে বলতো বাবা। তুই আরুহি কে কি বিয়ে করেছিস?? আর ওর পে’টে’র সন্তান কি তোরই???

নীলাধ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে কোনো ভনিতা না করে বলে,

নীলাধ্র:- হ্যাঁ, আমি আরুহি কে বিয়ে করেছি। আর ওর পে’টে’র সন্তান ও আমার।

নীলাধ্র র এই কথাটা যেনো সবার মাথায় বা’জ ফেলার মতো মনে হলো। নাজিয়া চৌধুরী তো বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে তার ছেলে বিয়ে করেছে তাও আবার আরুহি কে।

আদনান চৌধুরী বসা থেকে উঠে এসে নীলাধ্র র দুই বাহু চে’পে ধরে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলেন,

আদনান চৌধুরী:- কি তুই ওকে সত্যি সত্যি বিয়ে করেছিস?? আর ওর পে’টে’র সন্তান ও তোর?? কেনো বিয়ে করেছিস ওকে, বল।

নাজিয়া চৌধুরী:- এই নীলাধ্র তুই ঐ ছোটলোক মেয়েটাকে কেনো বিয়ে করেছিস হ্যাঁ। কি হলো চুপ করে কেনো আছিস, বল কিছু।

নীলাধ্র:- প্র’তি’শো’ধ নেওয়ার জন্য। শুনেছ সবাই প্র’তি’শো’ধ নেওয়ার জন্য। কেউ আর আমাকে কোনো প্রশ্ন করবে না।

নাজিয়া চৌধুরী:- প্র’তি’শো’ধ!! কিসেস প্র’তি’শো’ধ হ্যাঁ। বল কিসের প্র’তি’শো’ধ।

নীলাধ্র কিছু না বলে নিজের রুমে চলে যায়।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

পিট পিট করে চোখ মেলে তাকাতেই আরুহির সামনে ভেসে উঠে ধবধবে সাদা সিলিং। সে বোঝার চেষ্টা করেছে তার অবস্থান। ধীরে ধীরে উঠতে নিলেই একজন নার্স তাকে বাধা দিয়ে বলেন,

:- উঠবেন না। স্যালাইন চলছে। বেশি নড়াচড়া করলে র’ক্ত উঠে যেতে পারে।

নার্সের কথাই আরুহি নিজের হাতের দিকে তাকাই। স্যালাইন চলছে তার। শরীর বেশ দুর্বল। ব্লা’ড প্রেসার ও লো। তাই তাকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে প্রেসার টা একটু তোলার জন্য।

আরুহি আবার শুয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর রিহান আর ফারাহ কেবিনে প্রবেশ করে। আরুহি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। রিহান, আরুহির মাথায় হাত বুলিয়ে দেই।

মাথায় কারো নরম স্পর্শ পেয়ে আরুহি চোখ খোলে। তার ভাই তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।

আরুহির চোখ জোড়া আবার ভিজে উঠে। সে শোয়া থেকে উঠে ভাইকে জ’ড়ি’য়ে ধরেই কান্না করে দেই। রিহান ও বোনকে জ’ড়ি’য়ে ধরে কাদঁছে।

আজকে সে প্রথম নিজের প্রাণ প্রিয় বোনের গায়ে হাত তুলেছে। অথচ তার বোনের কোনো দোষই ছিলো না। তার বোন যা যা বলেছে সবই সত্যি ছিল।

তখনই নিধি কেবিনে প্রবেশ করে। নিধিই সবটা জানিয়েছে রিহান আর ফারাহ কে। যদিও নিধি তাদের বিয়ের সাক্ষী ছিল না, আর না সেখানে উপস্থিত ছিল। তবুও সে জানে আরুহি কখনো মি’থ্যা কথা বলবে না।

আরুহি কেমন মেয়ে সেটা নিধি এই ৩ বছরে ভালোই চিনেছে। আজ অব্দি আরুহি কারোর সাথে কোনো ঝ’গ’ড়া বা অশান্তি করেনি। সব সময় সৎ থেকেছে। সেই মেয়ে বিয়ে নিয়ে কখনোই মি’থ্যা কথা বলবে না নিশ্চই।

রিহান ও জানে যে তার বোন কোনো খা’রা’প কাজ করতে পারে না। কিন্তু তার রা’গ হচ্ছিল এটা ভেবে যে তার বোন তাকে না বলেই বিয়ে করেছে। আর ওতো গুলো মানুষের সামনে সে আর আরুহি অ’প’মা’নি’ত হয়েছে। তাই রা’গে’র মাথায় সে আরুহি কে মে’রে’ছে।

রিহান:- আরু আমাকে ক্ষমা করে দে। তখন রা’গে’র মাথায় তোর গায়ে হাত তুলেছি বোনু।

আরুহি:- ভাইয়া তুমি বিশ্বাস করো আমি সত্যি কথাই বলছি। নীলাধ্র র সাথে আমার বিয়ে হয়েছে। ওনি কেনো আমার সাথে এমন ব্যবহার করছেন। (কাঁদতে কাঁদতে)

রিহান বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,

রিহান:- কাঁদিস না আরু, কাঁদিস। আমি তোকে একটা কথা বলতাম যদি কিছু মনে না করিস তো।

আরুহি চোখের পানি মুছে বলে,

আরুহি:- হুম বলো।

কথাটা বলতে রিহান বেশ ইতস্তত বোধ করেছে। তাও নিজেকে বুঝিয়ে কথাটা বলেই ফেলে রিহান।

রিহান:- জানিনা আরু তুই কথাটা ঠিক কিভাবে নিবি। আসলে আমি বলছিলাম যে তুই এবরশন করে নে।

রিহানের কথাটা শুনে আরুহি ঝট করে তাকে ছেড়ে দেই। রিহান আবার বলে,

রিহান:- দেখ আরু, আমরা বিশ্বাস করি যে তুই মি’থ্যা বলছিস না। কিন্তু নীলাধ্র, ওতো এই বাচ্চার বাবা। ও তো কিছুতেই স্বীকার করছে না। আর ও যদি স্বীকার না করে তাহলে বড় আব্বু আর বড় আম্মু তোকে মেনে নেবে না। আর আমার মনে ও হয়না যে নীলাধ্র তোকে নিজের স্ত্রী হিসেবে সবার সামনে স্বীকৃতি দেবে। তাহলে তুই কেনো তার সন্তান পে’টে ধারণ করে ক’ষ্ট করবি। আর তাছাড়াও গ্রামে যদি এ কথা জানা জানি হয় যে তুই প্রে’গ’নে’ন্ট তাহলে তারা ভুল বুঝবে। কারণ সত্যিটা আমরা জানি কিন্তু গ্রামের কেউ তো জানে না। তাই বলছি এবরশন করে নে। তোর ও ভবিষ্যৎ আছে। এইভাবে কেনো নিজের জীবনটা ন’ষ্ট করবি বল।

আরুহি:- না, না আমি এটা করতে পারব না। ও যেমন নীলাধ্র র সন্তান ঠিক তেমন আমারও সন্তান। আমি মা হয়ে কিভাবে ওকে হ’ত্যা করব!! আমি পারবো না। দরকার হয় আমি বাবুকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো। তবুও আমি ওকে মা’র’তে পারবো না। আর সবচেয়ে বড় কথা ও তো কোনো জা’র’জ সন্তান নয়। তাহলে ওকে কেন আমি মা’র’বো। ওর অধিকার আছে বেঁচে থাকার। আমি এবরশন করতে পারবো না।

আরুহির কথা শুনে ফারাহ বলে,

ফারাহ:- আরুহি যা বলছে সব কথাই তো ঠিক। আর তাছাড়া পৃথিবীতে কত দম্পতি থাকে যারা একটা সন্তানের জন্য হাহাকার করে সেখানে আরুহি কেনো একটা নির্দোষ প্রানকে হ’ত্যা করবে। আজ বারোটা বছর আমি একটা সন্তানের জন্য হাহাকার করছি সেখানে আরুহি কেনো ওর সন্তানকে হ’ত্যা করবে।

ফারাহ র চোখ ছল ছল করছে কথা গুলো বলতে গিয়ে। সব মেয়েই চাই মা হতে। ফারাহ ও চেয়েছিল। কিন্তু তার ভাগ্যে হয়তো মা হওয়াটা লেখা ছিলো না তাই তো বিয়ের বারো টা বছর পেরিয়ে গেলো তাও তাদের কো’ল আলো করে কোনো সন্তান আসেনি।

ফারাহ র কথা শুনে রিহান একটা শুকনো ঢোক গেলে। তার চোখ মুখ কেমন একটা হয়ে যায়। যেনো সে কিছু একটা লুকাচ্ছে। রিহান আর কাউকে কিছু বলতে না দিয়ে নার্সের উদ্দেশ্যে বলে,

রিহান:- স্যালাইন শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন কি আমরা ওকে নিয়ে যেতে পারি।

নার্স:- হ্যাঁ, এখন নিয়ে যেতে পারেন।

তারপর নার্স আরুহির হাত থেকে স্যালাইন খুলে কেবিন থেকে চলে যায়। রিহান সব ঔষুধ পত্র ঠিক করে আরুহি কে একহাতে ধরে নিয়ে যেতে লাগে। নিধি হোস্টেল থেকে আরুহির সব জিনিস পত্র প্যাক করে এনেছে। সেগুলো ফারাহ র হাতে দিয়ে আরুহি কে বিদায় জানিয়ে নিধি ও চলে যায় নিজের ক্লাসের জন্য।
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

__:- এই রকম দু’শ্চ’রি’ত্রা মেয়েকে তো এই গ্রামে থাকতে দেওয়া যাবে না। শহরে পড়তে গিয়ে কু’কাজ করে এসেছে। ঐ মেয়ের জন্য আমাদের গ্রামের অন্য মেয়েদের ও বদনাম হবে। ওকে দেখে তো অন্য মেয়েরাও ওর মতো কাজ করতে পারে।

__:- হ্যাঁ হ্যাঁ, রাইসুল ভাই ঠিক কথা বলেছেন, মোড়ল সাহেব। আজকেই এর একটা বিহিত করবেন আপনি। হয় আপনি ওদেরকে গ্রাম ছাড়া করবেন নয়তো আমরা ওদেরকে বের করে দেবো।

__:- ঠিক আছে আমি দেখছি। ওরা কোথায়, এখনো বাড়িতে আসেনি তো।

__:- শহরে গিয়েছে মোড়ল সাহেব।

__:- ফোন করো ওদের কে তাড়াতাড়ি আসতে বলো।

__:- ফোন করা লাগবে না মোড়ল সাহেব, ঐযে ওরা আসছে।

রিহান, আরুহি কে একহাতে ধরে নিয়ে আসছে। পিছনে ফারাহ আসছে আরুহির জিনিস পত্র নিয়ে। বাড়ির চৌকাঠে পা রাখতেই গ্রামের মোড়ল সাহেব বলে উঠেন,

__:- দাঁড়াও রিহান, তুমি আরুহি কে নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারবে না।

মোড়ল সাহেবের কথা শুনে রিহান, আরুহি আর ফারাহ দাঁড়িয়ে যায়। রিহান মোড়ল সাহেবের দিকে ঘুরে তাকাই আর বলে,

রিহান:- কেনো চাচা। আমি আরু কে নিয়ে বাড়িতে কেনো ঢুকতে পারবো না?? (ভ্রু কুঁচকে)

__:- কারণ আরুহির মতো ন’ষ্টা একটা মেয়েকে আমি এই গ্রামে থাকতে দেবো না।

মোড়ল সাহেবের কথা শুনে আরুহির চোখ জোড়া আবার ও ভিজে উঠে। কেনো বার বার সবাই তাকে ন’ষ্টা মেয়ের উপাধি দিচ্ছে সেতো ন’ষ্টা নয়। সে তো পবিত্র। ফারাহ আরুহি কে আগলে রেখেছে।

রিহান:- আপনি এইসব কি কথা বলছে চাচা। আপনি তো আরু কে চেনেন। আর আপনি ওকে ন’ষ্টা মেয়েই বা কেনো বলছেন।

__:- ন’ষ্টা মেয়েকে ন’ষ্টা বলব না তো কি বলব। কি ভেবেছো আমরা কিছুই জানি না। তোমার আদরের বোন যে শহরে গিয়ে অ’বৈ’ধ বাচ্চা পে’টে বাঁধিয়ে গ্রামে এসেছে সেটা কি আমরা জানি না ভেবেছো।

__:- হ্যাঁ হ্যাঁ মোড়ল সাহেব তো ঠিক কথাই বলেছেন। এই ন’ষ্টা মেয়েকে আমরা আমাদের গ্রামে থাকতে দেবো না।

__:- হ্যাঁ, এই ন’ষ্টা মেয়ের জন্য যদি আমাদের গ্রামের মেয়েরা ও ওর মতো হয়ে যায়। না না, এই মেয়েকে আমাদের গ্রামে থাকতে দেওয়া যাবে না। ও থাকলে আমাদের গ্রামের পরিবেশ ন’ষ্ট হয়ে যাবে।

আরুহি আর এইসব কথা নিতে পারছে না। সে হঠাৎই চি’ৎ’কা’র করে উঠে আর বলে,

আরুহি:- আমি ন’ষ্টা মেয়ে নই। কেনো বার বার আপনারা আমাকে ন’ষ্টা মেয়ে বলছেন, কেনো।

কান্না করতে করতে আরুহি নিচে বসে পড়ে। আরুহি দের বাড়ির সামনে কিছু মহিলা ও জড়ো হয়েছিল। তাদের মধ্যে মোড়ল সাহেবের স্ত্রী ও ছিলেন।

তিনি আরুহির কাছে গিয়ে বলেন,

__:- ঠিকই তো বলেছে সবাই তোকে। তুই তো একটা ন’ষ্টা মেয়ে। শহরে গিয়ে ন’ষ্টা’মি করবে আর সবাই ন’ষ্টা বললেই দোষ।

আরুহি রক্তিম চোখে ঐ মহিলার দিকে তাকাই আর দৃঢ় গলায় বলে,

আরুহি:- বললাম না আমি ন’ষ্টা মেয়ে নয়। আমার সন্তান জা’র’জ না, ও বৈ’ধ। শুনছেন আপনি, ও বৈ’ধ সন্তান।

ঐ মহিলা আরুহির চুলের মু’ঠি ধরে বলে,

__:- এই মেয়ে চোখ রঙ্গাছিস কাকে তুই হ্যাঁ। তোর সাহস তো কম না। আমাকে চোখ রাঙ্গাছিস তুই।

রিহান দ্রুত ঐ মহিলার কাছে যায় আর তার হাত থেকে আরুহির চুল ছড়িয়ে তাকে জ’ড়ি’য়ে ধরে ঐ মহিলার উদ্দেশ্যে বলে,

রিহান:- আপনার সাহস হয় কিভাবে আমার বোনের গায়ে হাত তোলার।

__:- তোর বোনের কিভাবে সাহস হয় আমার সাথে এইভাবে কথা বলার। আবার তুই ও আমার সাথে চোখ গরম করে কথা বলছিস।

বলেই ঐ মহিলা মোড়ল সাহেবের কাছে যান আর তাকে বলেন,

__:- এই এদের সব কটাকে গ্রাম থেকে বের করে দাও। যেমন ভাই তার তেমন বোন। সব গুলো একেকটা শ’য়’তা’ন। (মুখ বাঁকিয়ে)

__:- হ্যাঁ হ্যাঁ মোড়ল সাহেব ভাবী ঠিক কথাই বলেছেন। এদের সব কটাকে বের করে দিন এই গ্রাম থেকে।

একে একে সবাই বলতে শুরু করে যে আরুহি দের কে যেনো গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া হয়। মোড়ল সাহেব ও আর কি করবেন। গ্রামের সবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে তো আর তাদের কে গ্রামে থাকতে দিতে পারেন না। তাই তিনি বলেন,

__:- দেখো রিহান, গ্রামের কেউই চাইনা যে তোমরা এই গ্রামে থাকো। আর সবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে তো আর আমি তোমাদের কে গ্রামে রাখতে পারি না। তাই তোমরা বরং এই গ্রাম ছেড়ে চলে যাও।

রিহান:- এটা আপনি কি বলছেন চাচা। আমরা গ্রাম ছেড়ে চলে গেলে থাকবো কোথায়। এটা তো আমাদের বাপ দাদার ভিটে। এই বাড়ি ছাড়া তো আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা ও নেই।

__:- আমি কি জানি কোথায় যাবে তোমরা। এই কথাটা তো আরুহির আরো আগে ভাবার দরকার ছিল। এতো জানেই যে আমাদের গ্রামের মানুষেরা কেমন। ও শহরের মানুষের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে এমন কু’কাজ করলে তো আর এই গ্রামে থাকতে দেওয়া হবে না। আজকে ওকে যদি কোনো শা’স্তি না দিয়ে গ্রামে থাকতে দি তো কালকে আরেক জন এমন কাজ করবে। তাই ভালো হবে তুমি বাবা তোমার এই দু’শ্চ’রি’ত্রা বোনকে নিয়ে গ্রাম থেকে বের হয়ে যাও।

আরুহি এবার মোড়ল সাহেবের পা জ’ড়ি’য়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,

আরুহি:- চাচা দয়া করে এমন কাজ করবেন না, চাচা। আমরা এখন কোথায় যাবো বলুন। এটা তো আমাদের বাড়ি। ছোট থেকে এই বাড়িতেই বড় হয়েছি। এই বাড়ি ছেড়ে কোথায় যাবো আমরা।

মোড়ল সাহেব নিজের পা টা সরিয়ে নেন আরুহির কথা শুনে। পা সরিয়ে তিনি পা ঝাড়তে লাগেন। এমন ভাবে ঝাড়তে লাগেন যে মনে হচ্ছে খুব খা’রা’প কিছু তার পায়ে লেগে আছে। পা সরিয়ে নেওয়ায় আরুহি কিছু টা হেলে পড়ে।

__:- এই মেয়ে যাও এখান থেকে। ইস তোর ঐ অপবিত্র হাত দিয়ে ছোঁয়ার জন্য এখন আবার গোসল করতে হবে। (ব্যঙ্গ করে) রিহান আমি আর একটাও কথা বলব না। সোজা কথায় কাজ না হলে অন্য পথ অবলম্বন করতে হবে। সম্মানের সাথে যাতে চাইলে এখনি বের হয়ে যাও গ্রাম থেকে না হলে ঘা’ড় ধা’ক্কা দিয়ে বের করে দেবো।

রিহান, আরুহির কাছে গিয়ে ওকে দাড় করিয়ে দেই ফারাহ র কাছে।

রিহান:- আপনাদের আর ক’ ষ্ট করে ঘা’ড় ধা’ক্কা দিয়ে বের করতে হবে না। আমরা নিজেরাই বের হয়ে যাচ্ছি। (ভেজা কন্ঠে)

বলেই রিহান বাড়ির ভেতর ঢুকে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে।

{ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন আর কেমন হলো জানাতে ভুলবে না। শখের পদ্মফুল গল্পটা হয়তো বা আজকে নাও আসতে পারে। আজকে যদি না দেই তো কালকে দেবো ইনশাআল্লাহ্ 😊😊}

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Most Voted
Newest Oldest
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x