লেখিকা: ফাতেমা তুজ নৌশি
পর্ব :০৫
বিনি দরজা খুলে দিয়ে বলল,”এত দেরি কেন করলেন মনসুর ভাই? বিকেল তো হয়ে গেছে!”
মনসুর দাঁত কেলিয়ে হাসল। তারপর পকেট থেকে একটা জিনিস বের করে করে বলল,”এটা আনতে গেছিলাম। শালার আশ পাশে কোথাও নাই।”
বিনির সমস্ত শরীর রি রি করে উঠল। মনসুর পুনরায় দাঁত কেলিয়ে বলল,”মনসুর কাঁচা কাম করে না রে।”
বিনির ভয় হচ্ছে। মনসুর ম দ গিলে এসেছে। তার শরীর থেকে প্রায়ই মদের গন্ধ ভেসে আসে। মনসুর আরাম করে বসল। তারপর সিগারেট ধরাল।
“মনসুর ভাই,আমার ভয় হচ্ছে।”
“ভয় কিসের? প্রটেকশন আনছি না?”
বিনির ভয় তবু যাচ্ছে না। কিন্তু নগদ টাকার লোভ ও সামলাতে পারছে না। মনসুর হাত নাড়িয়ে কাছে ডাকল।
“এদিকে আয়। তোরে আগে দেখি।”
বিনি কাছে গিয়ে বসল। তবে ওর নজর বার বার দরজার কাছে। বুকের ভেতর ভয় জমেছে। মনে হচ্ছে এখনই দরজায় আ ঘা ত পড়বে। মনসুর বিনির মুখটা উঁচু করে ধরল। ওর নজর ভালো না। বিনি হাতটা সরিয়ে বলল,”আমি পারব না মনসুর ভাই। আপনি চইলা যান।”
মনসুর মেয়েটিকে টেনে ধরল। তারপর বলল,”ভয় পাইতেছিস কেন?”
“জানি না। এসব ঠিক হবে না।”
“ঠিক না হওয়ার কি?”
“যাই হোক, আমার টাকা লাগবে না। আপনে চইলা যান।”
“চইলা যাম মানে? শা লী, এতদিন কম কিছু দিছি তোরে?”
“মুখ খারাপ করতেছেন কেন?”
“তো তরে চুমা দিমু। বে শ্যা কোথাকার।”
“মনসুর ভাই, আর একটা কথা বলবেন না।”
“বললে কি করবি?”
“লোক জড়ো করব।”
“তুই কি করবি। আমিই করতেছি।”
এরপর ই মনসুর হুংকার দিয়ে উঠল। বিনি ভয় পেয়ে গেল।
“থামেন। কি করতেছেন এসব।”
“তো,আমি তোর তামাশা দেখুম?”
বিনির কান্না পাচ্ছে। কি বিপদে পড়ল সে। টাকার লোভে পড়ে নিজের শরীর বিক্রি করার মতো নিকৃষ্ট কাজ করতে বসেছিল। এখন কি উপায়? মনসুর হুট করেই ওকে চেপে ধরল। বাজে ভাবে স্পর্শ করতে শুরু করল।
“ছাড়েন, ছাড়েন বলতেছি।”
“কোনো ছাড়াছাড়ি নাই। আজ তোরে ভোগ করেই যাম আমি।”
বিনি কি করবে বুঝে পারল না। মনসুর অনেক আগেই ওর ওড়না ফেলে দিয়েছি।
“মনসুর ভাই, বেশি হইতাছে কিন্তু।”
“তুই লোক ডাক। আমিও দেখতেছি।”
বিনি দুঃখের চোটে কান্না করে দিল। মনসুর থামছে না। ওমন সময় দরজায় নক পড়ল।
“বিনি, বিনি দরজা খোল। দরজা দিছিস কেন।”
বিনি কি করবে বুঝল না। ওর মুখ দিয়ে আর্তনাদ বেরিয়ে এল। যা স্পষ্ট শুনতে পেলেন বিলকিস। ওনি দরজায় কড়াঘাত শুরু করলেন।
“বিনি, বিনি, এই বিনি দরজা খোল। কি হয়েছে।”
বিনি মাত্রই হাতটা আলগা করতে পেরেছে। তারপরই ছুটে এসে দরজা খুলল। মা কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল।
“মা, মা, মা গো।”
মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন বিলকিস। ওর হৃদয়ের গতি বেড়েছে।
“কি হইছে মা। এমন করতেছিস কেন?”
ওমন সময় ঘরের ভেতর নজর এল মনসুর কে। মেঝেতে পড়ে আছে ওড়না। বিলকিস র ক্ত চোখে তাকালেন।
“কু ত্তা র বাচ্চা তুই, এখানে আমার মেয়ের সর্বনাশ করতে আসছস।”
চিল্লাচিল্লির মধ্যে লোকজন জড়ো হয়ে গেল। বিনি কি করবে বুঝতে পারছে না। মনসুর ভাবলেশহীন। সে আনন্দ নিয়ে সিগারেট ফুকছে।
বিলকিস ইশারায় বিনিকে অন্য ঘরে নিয়ে যেতে বলল। শিমাত লেট করল না। তৎক্ষণাৎ নিয়ে এল ওকে। পানি এনে দিল। মাথায় হাত বুলাচ্ছে এখন।
“তোকে বলেছিলাম ওনার সাথে যোগাযোগ না রাখতে। তুই শুনলি না আমার কথা।”
বিনি কথা বলল না। পানিটা খেল। ওড়না এনে দিল শিমাত।
“কিছু হয় নি বোন। তুই শান্ত হ।”
বিনি এবার ও নিশ্চুপ। ওর মাথায় কিছু আসছে না। এখন কি হবে এটাই বুঝতে পারছে না। ওদিকে কি হচ্ছে কে জানে। হঠাৎ ই উঠে এল ও। মনসুর তখনও পায়ের উপর পা তুলে বসেছে। বিনি এবার বিলকিসকে জড়িয়ে ধরল।
“এখানে কেন এসেছিস মা? ঘরে যা।”
“মা, মা এসব শিমাত করেছে। শিমাত তাই ইচ্ছে করে তোমার সাথে গিয়েছে মা।”
বিলকিস একটু চুপ রইলেন। বিনি পুনরায় বলল,”বাগানের ঘটনা মনে আছে মা? ও কেমন মিথ্যে বলেছিল। তুমি মে রেছিলে সেই জন্যেই এমনটা করেছে মা। মনসুর ভাইকে ও পাঠিয়েছে মা।”
মনসুর হেসে চলেছে। এই মেয়েটা কত ধরনের মিথ্যে বলতে পারে তা ওর জানা আছে। তবে ও কিছু বলছে না। মজা দেখছে। বিলকিস এবার সবটা মিলিয়ে নিলেন। বিনির কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে। তিনি প্রচন্ড আক্রোশে শিমাতের ঘরে এলেন। শিমাত বই পত্র গুছিয়ে রাখছিল।
“কু ত্তার বাচ্চা। তুই এত খারাপ। এত নোংরা। তোরে কী না মেয়ের মতো আদর দিছি।”
শিমাত কিছুই বুঝল না। খালি বলল,”আম্মা কি বলতেছ এগুলো।”
এক উঠান লোকের সামনে সমানে মা রতে লাগলেন তিনি। শিমাত কান্না করে দিল।
“আম্মা, আম্মা আমারে মা রতেছ কেন? আমার অন্যায় কি আম্মা।”
বিলকিসের এই রূপ দেখে বিনি নিজেও কিছুটা ভরকে গেল। ওর চোখ পড়ল মনসুরের দিকে। মনসুর ইশারায় কি যেন বলল। বিনি নজর ঘুরিয়ে ফেলল। চার পাশ থেকে লোকজন বলছে এভাবে না মা রতে। তবে বিলকিস শুনছেন না। তিনি মে রে চলেছেন। শিলা নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। এগিয়ে এল।
“চাচি, কি করতেছেন। এত বড়ো মেয়েকে এভাবে মা রতেছেন। থামেন চাচি।”
“সরো বউ। এই মেয়ে আমার জীবনটা শেষ করছে। এখন আমার মেয়ের জীবন তছনছ করতেছে। পাপী, কালসাপ ও।”
শিমাত অঝোরে কাঁদতে লাগল। কোন এক ফাঁকে বিনি মনসুর কে বলে এল,”দেখেন মনসুর ভাই আপনার সাথে আমার আর কিছু নাই। ভালোই ভালোই যা করতেছি স্বীকার কইরা নিবেন। এতে আপনে শিমাত রে পাইয়া যাবেন।”
প্রস্তাব মন্দ নয়। বরং অনেক ভালো। শিমাত যথেষ্ট সুন্দরী, অল্পবয়সী। তাছাড়া জল ঘোলা করলে বিপদ তার ও হবে। বিনির প্রস্তাবে এক চোট হেসে নিল মনসুর। এক পর্যায়ে উঠে বলল,”শুনেন সবাই। আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এ কথা সত্য শিমাত আমারে পাঠাইছে। আমার সাথে ওর সম্পর্ক আছে।”
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে শিমাত কেন পাঠাবে। তাই মনসুর আগে ভাগেই বলল,”সবাই জানেন বিনি ওর সৎ বোন। ওর প্রতি অনেক রাগ। তাই পাঠাইছিল ওরে একটু শায়েস্তা করতে। আমি বুঝতেছি শিমাত সব অস্বীকার করবে। তাই আগেই সব পরিষ্কার কইরা দিলাম।”
বিনি আড়ালে এসে নিশ্বাস ফেলল। ট্রিকস কাজে লেগেছে। শিমাত কে সরিয়ে এনেছে শিলা। ওকে পানি খাওয়াচ্ছিল। তবে কথা গুলো কানে আসতেছিল।
“মিথ্যে, মিথ্যে কেন বলতেছেন ওনি? আমি কেন ওনাকে পাঠাব। কি বলতেছে ভাবী। এসব কেন বলতেছে?”
কথা গুলো বলতে বলতে কান্নায় ভে ঙে গেল শিমাত। তার হৃদয়ে ভীষণ যন্ত্রণা করছে।
“ভে ঙে পড়ো না শিমাত। আল্লাহ কে ডাকো। বুঝতেছি না কি হবে।”
শিমাত আল্লাহ কে স্মরণ করতে লাগল। এই বিপদে তিনিই সাহায্য করতে পারেন। তবে ওর জীবনের ঝড়টা এত সহজে থামবে না। অনিশ্চিত জীবনের দিকে তাকিয়ে শিমাতের ভেতর আনচান করে উঠল। রক্ষা বুঝি আর হবে না।
চলবে…