গল্প:মাই বিলাভড সানফ্লাওয়ার(০৫)

লেখা – আসফিয়া রহমান

পর্ব:০৫

অনুমতি ছাড়া কপি করা

কঠোরভাবে নিষিদ্ধ❌

অর্ণব এহসান,
ঢাকা মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন করছে। ওর দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে হাসপাতালের ওয়ার্ডে। ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত থাকা এই ছেলেটা নিজের এবং নিজের অনুভূতির ব্যাপারে সব সময়ই বড্ড উদাসীন। একজন দায়িত্বশীল ডাক্তার হওয়ার চেষ্টা আর মানুষের সেবা করা— এটাই ওর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

অন্যদিকে,
বিনীতা নাওয়ার,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ওর জীবনে, পৃথিবী শুধু বই আর পাঠ্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; পুরো পৃথিবীটাকে ও নিজের মতো করে দেখতে চায়, বুঝতে চায়। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, ক্যাম্পাসের বিশাল বটবৃক্ষের নিচে একাকী বসে প্রকৃতিকে অনুভব করা, অথবা কোনো এক ঝিম ধরা দুপুরে মোটা উপন্যাসের বইয়ের পাতায় ডুবে যাওয়া— এসবেই স্বস্তি খুঁজে পায় ওর হৃদয়। পৃথিবীর জটিলতাকে সব সময়ই উপেক্ষা করতে চেষ্টা করে মেয়েটা।

এই দুই ভিন্ন পৃথিবীর মানুষের যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল টিএসসির এক ছোট্ট চায়ের দোকানে; অর্ণব সেদিন বেগুনি শাড়ি পরা কাজল চোখের সাধারণ মেয়েটির মাঝে আবিষ্কার করেছিল অসাধারণ কিছু। কিন্তু বরাবরই ও নিজের অনুভূতির প্রতি উদাসীন, তাই পরেরবারও যখন মেয়েটার হৃদস্পন্দন শুনে অনুভব করেছিল ভেতরের উথাল পাথাল, তখনও বরাবরের মতই উপেক্ষা করেছে নিজের অনুভূতিকে।

___________________________

“আজ ক্লাসে কী যে কান্ড হলো!”‌ অজানা রহস্য ফাঁস করতে যাওয়ার মতো নাটকীয় ভঙ্গিতে বলে উঠল তুহিন।

“কী হলো আবার?” রাহাত চায়ের কাপ নামিয়ে কৌতূহলী চোখে তাকাল ওর দিকে।

“বিশাল নাটক! আমাদের পাশের সারির হিমেল—  ও হঠাৎ ক্লাসের মাঝখানে উঠে দাঁড়িয়ে নিশাতকে সরাসরি প্রপোজ করে দিল!”

“কিহ্?! সত্যি?” মিথিলা বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে ফেলল।

“হ্যাঁ রে! পুরো ক্লাসে কয়েক সেকেন্ডের জন্য পিনপতন নীরবতা…”

“তারপর? নিশাত কিছু বলল?” বিনীতা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল।

“ও বলার সুযোগই পায়নি! ঠিক তখনই স্যার এসে পড়লেন। ব্যস, মুহূর্তেই সব শেষ! হিমেল তো একেবারে লাল হয়ে গিয়েছিল!”

এই কথায় সবাই একসঙ্গে হেসে উঠল।

হাসাহাসির মাঝেই রূপন্তি হঠাৎ একটু চুপ হয়ে গেল। যেন কোথায় হারিয়ে গেল মুহূর্তের জন্য।

বিনীতা খেয়াল করল প্রথমে,
“এই যে মিস রূপন্তি, হঠাৎ করে এমন ভাবুক হয়ে গেলেন কেন?”

রূপন্তি চমকে উঠলো বিনীতার করা এমন সম্বোধনে,
“কিছু না! এমনি…”

“এমনি? নাহ, কিছু একটা তো নিশ্চয়ই চলছে!”
মিথিলা সন্দেহজনক দৃষ্টিতে তাকালো।

“তুই আমাদের থেকে কিছু লুকাচ্ছিস নাকি?”
রাহাতও যোগ দিলো মিথিলার সাথে।

রূপন্তি এবার ধরা পড়ে যাওয়া লুকাতে তাড়াতাড়ি বলে উঠলো, “ধুর, তোরা সবসময় এমন সন্দেহ করিস কেন?”

তুহিন তীক্ষ্ণ চোখে তাকালো,
“সন্দেহ নয়, নিশ্চিত! তোর চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে!”

রূপন্তি গালের রক্তিম আভাটা লুকাতে ব্যর্থ হয়ে চায়ের কাপে মনোযোগ দিল।

মিথিলা উত্তেজিত গলায় বলল, “এই যে! কিছু একটা তো আছেই!”

রূপন্তি কিছু না বলে চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে লাজুক হাসল। ওর এই হাসি দেখে সবাই হৈ হৈ করে উঠলো এবার। তারপর ওকে চেপে ধরে ওর পেট থেকে বের করে ফেলল লুকানো প্রেমের খবর।

“ঢাকা মেডিকেলের ওই সাফিন?”
বিনীতা এবার সরাসরি জিজ্ঞেস করল ওকে।

এক মুহূর্তের জন্য যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ। রূপন্তি চমকে তাকাল বিনীতার দিকে, যেন পুরোপুরিভাবে ধরা পড়ে গেছে ও। বাকিরা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল ওদের দিকে।

মিথিলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
“মানে তুই জানতিস?”

বিনীতা হাসল, “আরো আগেই আন্দাজ করেছিলাম! কিন্তু তোর মুখ থেকে শোনার অপেক্ষায় ছিলাম!”

রূপন্তি এক মুহূর্ত চোখ ছোট করে বিনীতার দিকে তাকাল, তারপর নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “হুঁ, আমি জানতাম তুই ঠিকই টের পেয়ে যাবি!”

মিথিলা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, “আর এতদিন আমরা কিছুই বুঝিনি!”

তুহিন গম্ভীর মুখে বলল, “আচ্ছা, তাহলে আমাদের বলা হয়নি কেন?”

রূপন্তি একটু হাসার চেষ্টা করল, “আরে! তোদের বলার জন্য একটা পারফেক্ট সময় খুঁজছিলাম!”

রাহাত ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো, “ওহহো, পারফেক্ট সময়! তা, আমাদের বাদ দিয়ে কতদূর এগিয়েছে?”

রূপন্তি চায়ের কাপটা দুহাতে ধরে নিয়ে বলল, “উফফ, তোরা থামবি? একদম গোয়েন্দাদের মতো জেরা করছিস!”

“তাহলে আমরা কী এবার তোর বিয়ে খাওয়ার প্ল্যান করব?” তুহিন হাসতে হাসতে বলল।

রূপন্তি একরকম কাঁদো কাঁদো মুখে বলল,
“উফ! তোরা থামবি না, তাই না?”

সবাই হেসে উঠল। হাসি-ঠাট্টায় জমে উঠল বিকেলের আড্ডাটা; চায়ের কাপের ধোঁয়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যেতে লাগল বাতাসে।

_________________________

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার মুহূর্ত, বাতাসে ঠান্ডা ঠান্ডা ভাব। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে অর্ণব ক্লান্ত হয়ে হাঁটছিল। ইন্টার্নশিপের চাপ কম নয়, দিনের পর দিন একঘেয়ে শিডিউল, রোগী সামলানো, সিনিয়রদের নির্দেশ মেনে চলা— এসবের মধ্যে নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির জন্য সময় রাখা যেন বিলাসিতা।

আজকের দিনটা ছিল অন্যদিনের মতোই, কিন্তু এক জায়গায় এসে যেন আলাদা হয়ে গেল সহসাই।

হসপিটাল থেকে অর্ণবের বাসার দূরত্ব খুব বেশি নয়। তাই হেঁটে হেঁটেই বাসায় ফিরছিল ও। ওর বাসা আর হাসপাতালের মাঝখানে একটা পার্ক আছে। সেই পার্কের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল অর্ণব। পরিকল্পনা ছিল সরাসরি বাসায় চলে যাবে, কিন্তু হঠাৎই চোখে পড়ল স্বল্প চেনা এক অবয়ব।

বিনীতা পার্কের একটা বেঞ্চে একা বসে আছে, সামনে একটা বই খুলে রেখেছে, কিন্তু পড়ার দিকে মন নেই। মাঝেমাঝে আকাশের দিকে তাকাচ্ছে, কখনো বা উদাস ভঙ্গিতে চোখ রাখছে লেকের পানিতে।

অর্ণব খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল, যাবে কি যাবে না?
তারপর দ্বিধা কাটিয়ে এগিয়ে গেল বেঞ্চের কাছাকাছি।

“বইটা কী বলছে?”

চমকে তাকালো বিনীতা, দেখল অর্ণব ওর বেঞ্চের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, যেন বাস্তবে ফিরছে ধীরে ধীরে। বইটা বন্ধ করে‌ অর্ণবের দিকে তাকিয়ে অবাক হলো, তারপর মুখে হাসি টেনে বলল,

“আপনি এখানে? বসুন?”
বেঞ্চের একপাশে চেপে জায়গা করে দিল ও।

“এইদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম, হঠাৎ পার্কের দিকে চোখ পড়তেই পিছন থেকে আপনাকে দেখে মনে হল চেনা কেউ। তারপর কাছে এসে দেখি আপনি।”

“ওহ্।” বিনীতার ছোট্ট উত্তর।

“তারপর বললেন না, বইটা কি বলছে?” অর্ণবের গলার কৌতুকের সুরটা আবার ফিরে এসেছে।

বিনীতা এক পলক তাকালো অর্ণবের দিকে, ওর গাঢ় বাদামী চোখের দৃষ্টিতে যেন একটা অদ্ভুত মাদকতা আছে। ওই গভীর চোখদুটো বিনীতাকে পরোক্ষভাবে আকর্ষণ করছে সেই প্রথম দিন থেকে।

অর্ণবের উচ্চতা ছ’ফুটের কাছাকাছি, সুঠাম গড়ন, ত্বক উজ্জ্বল শ্যামলা। গায়ে ডার্ক নেভি ব্লু রঙের শার্ট, হাতে এপ্রোন। হসপিটাল থেকে যে সরাসরি এখানে এসেছে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এক পলকেই যেন বিনীতা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে ফেলল, তারপর চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,

“বই তো অনেক কিছুই বলছে, আমিই শুনছি না ঠিকমতো।”

অর্ণব হেসে বলল,
“তাহলে বইয়ের দোষ নেই, সমস্যাটা মনোযোগে!”

বিনীতা একটু হাসল, তারপর বইটা খুলে পাতা উল্টাতে উল্টাতে বলল, “আপনি হঠাৎ এদিকে? মেডিকেলের পড়াশোনার এত ব্যস্ততা সামলে লেক পাড়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় পান?”

“না, আজ একটু সময় পেয়েছি তাই এদিক দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফিরছিলাম। কিন্তু আপনি এখানে কী করছেন?”

“আসলে… মাঝে মাঝে একা বসতে ভালো লাগে। বেশি ভীড় বা শোরগোল যখন অসহ্য লাগে, এখানে এসে বসি।”

অর্ণব মাথা নাড়ল,
“হ্যাঁ, মাঝে মাঝে নিজেকে সময় দেয়াটা দরকার। কিন্তু আপনাকে কেমন যেন বিষণ্ণ দেখাচ্ছে। সব ঠিক আছে?”

বিনীতা প্রথমে কিছু বলল না। এক সেকেন্ডের জন্য গভীরভাবে শ্বাস নিল, তারপর বলল,
“উফফ্, আপনারা ডাক্তাররা সবকিছু এত গভীরভাবে নেন কেন? সবসময় যেন কোনো না কোনো লক্ষণ খুঁজতে ব্যস্ত!”

কথাটা বলার পরই নিজের উত্তরের তীক্ষ্ণতা বুঝতে পারল যেন। একটু অস্বস্তি নিয়ে চোখ নামিয়ে ফেলল ও।
“সরি, আসলে…আমি আসলে এভাবে বলতে চাইনি!”

তারপর একটু গভীর শ্বাস নিয়ে বলল,
“কিছু না… আসলে মাঝেমধ্যে এমন হয়। মাথা ঠান্ডা করতে এখানে চলে আসি। আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন?”

অর্ণব ওর দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, যেন ওর মনের অস্থিরতাটা বুঝতে চাইছে। তারপর হালকা হেসে বলল, “বিরক্ত? না, না, বিরক্ত হচ্ছি না। ডাক্তার হিসেবে আমরা শুনতে অভ্যস্ত, তাই যদি কখনো বলতে ইচ্ছে করে, বলতে পারেন।”

বিনীতা একটু হাসল,
“আপনার কি সব সময় ডাক্তারি ভাবনা মাথায় ঘোরে?”

অর্ণব হেসে মাথা নাড়ালো,
“তা একটু-আকটু ঘোরে আরকি!”

বিনীতা কিছু বললো না।

অর্ণব মৃদু হাসল,
“ডাক্তারদের জন্য কিন্তু নীরবতাও একটা লক্ষণ, মিস!

বিনীতা চোখ ছোট করে তাকালো, “আবার শুরু হলো! আপনাদের ব্রেইন আরেকটু সাধারণভাবে চিন্তা করতে পারে না?”

“পারে তো, কিন্তু তখন আমরা ডাক্তার থাকি না, সাধারণ মানুষ হয়ে যাই।”

কথাটা শুনে বিনীতা একটু থেমে গেল। তারপর প্রসঙ্গ পাল্টে হালকা গলায় বলল, “আপনার সঙ্গে বারবার দেখা হয়ে যাচ্ছে, খেয়াল করেছেন?”

লেকের পাড়ে তখন মৃদু বাতাস বইছে, পানির উপর ছোট ছোট ঢেউ উঠছে, বিকেলের শেষ আলোটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা আকাশে।

অর্ণব এবার ভালো করে তাকাল বিনীতার দিকে। বাতাসে মেয়েটার চুলগুলো উড়ছে, চোখের কোণে কাজলের হালকা আঁচড়, ও একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে লেকের পানির দিকে। পার্কের ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলে উঠেছে, তার আলো এসে পড়ছে বিনীতার চুলের ওপর।

বিনীতার গায়ে একটা সাদা রংয়ের জামা। গলায় বেবি পিংক কালার স্কার্ফ ঝোলানো। সাদা রংটা যেন ওর স্নিগ্ধতাকে আরো বাড়িয়ে তুলছে।

অর্ণব একটু ম্লান হাসল, তারপর বলল,
“হুম… এটা কি কাকতালীয়, নাকি অন্য কিছু?”

বিনীতাও একটু হাসল। ও বুঝতে পারছিল অর্ণব ওকে লক্ষ্য করছে, কিন্তু কেন?

“আপনার কী মনে হয়?” বিনীতা নিচের দিকে তাকিয়ে স্কার্ফের কিনারটা আঙুলে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে জিজ্ঞেস করলো।

অর্ণব কিছু বলল না, বেঞ্চের সাথে হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকালো। ওর চোখে মুখে ফুটে উঠেছে সারাদিনের ক্লান্তি।

“হয়তো কাকতালীয়ই!” কিছুক্ষণ পর বলল অর্ণব, গলার স্বরে যেন একটুখানি দ্বিধার আভাস।

কয়েক মুহূর্ত ওরা দুজনেই চুপচাপ বসে লেকের পানির দিকে তাকিয়ে থাকল। দূরে একটা পানকৌড়ি ডুব দিয়েছে পানিতে, মৃদু বাতাসের ছোঁয়ায় লেকের পানি কেঁপে উঠল।

নিরবতা ভেঙ্গে বিনীতা হঠাৎ বলল,
“কবিতা শুনবেন?”

অর্ণব অবাক হলো। ওর চোখে দেখা দিল কৌতুহল।
“শুনতে পারি!”

বিনীতা ধীর গলায় আবৃত্তি করতে শুরু করলো,

❝ আমাকে খোঁজো না তুমি বহুদিন— কতদিন আমিও তোমাকে খুঁজি নাকো;-
এক নক্ষত্রের নিচে তবু— একই আলো পৃথিবীর পারে আমরা দুজনে আছি;
পৃথিবীর পুরনো পথের রেখা হয়ে যায় ক্ষয়,
প্রেম ধীরে মুছে যায়, নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়…
হয় নাকি..? ❞

অর্ণব মুগ্ধ হয়ে শুনছিল। সন্ধ্যার আধো আধো আলোতে বিনীতার কণ্ঠ কেমন মায়াময় শোনাচ্ছে।

বিনীতা কবিতা শেষ করল, শেষের দিকে একটু ধীর হয়ে এল ওর কণ্ঠ। যেন ও হারিয়ে গেছে কবিতার ভেতর। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বিনীতা হাসল।

“জীবনানন্দের কবিতায় একটা বিষণ্ণতার ছোঁয়া আছে…
কেন যেন এই বিষন্নতাটা আমাকে খুব টানে।”

অর্ণব তাকিয়ে রইল ওর দিকে। ওর চোখে তখনও মুগ্ধতার রেশ।

বিনীতা এক মুহূর্ত তাকালো অর্ণবের দিকে, তারপর বলল,
“আপনি কবিতা পড়েন?”

অর্ণব হেসে বলল,
“পড়ি না, তবে আপনাকে শুনতে ভালো লাগছিল।”

বিনীতা হাসলো।

“কবিতার জগতে কি শুধুই বিষন্নতা?” অর্ণব জিজ্ঞেস করলো।

“না, অনেক কিছু আছে। কখনো প্রেম, কখনো বৃষ্টি, কখনো নিঃসঙ্গতা। কবিতা তো আমাদের অনুভূতির গল্প বলে।”

অর্ণব মাথা নেড়ে বলল, “তাহলে, কবিতা শুধু শব্দের মালা নয়, অনুভূতি প্রকাশের ভাষা…”

“হ্যাঁ…”

অর্ণব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“আপনার সাথে আজকের এই ছোট্ট আলাপটা ভালো লেগেছে।”

বিনীতা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে, তারপর ওর চোখের কোণে একটি ছোট্ট, মিষ্টি হাসি ফুটে উঠলো। কোনো উত্তর না দিয়ে, স্কার্ফটা একটু ঠিক করে নিলো ও। তারপর ওর কোলের উপর থাকা বন্ধ বইটা ব্যাগে ঢুকিয়ে গুছিয়ে নিতে নিতে বলল,
“তাহলে আসি? আবার দেখা হবে নিশ্চয়ই!”

অর্ণব এক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল,
“নিশ্চয়ই! ভালো থাকবেন।”

বিনীতা একবার পেছন ফিরে তাকিয়ে হালকা হাসল, তারপর ধীর পায়ে হাঁটতে শুরু করল। বাতাসে ওর চুল এলোমেলো হয়ে গেছে। অর্ণব বসে রইল কিছুক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত লেকের পানিতে মিশে যাচ্ছিল সূর্যাস্তের শেষ আলো….

To be continued…

বি:দ্র: গল্পটা আপনাদের কেমন লাগছে বলুন তো? 😶

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments