গল্প:মায়াবিনী(০২)

 

 

 

Writer :Ayrah Rahman

 

পর্ব:০২

 

আমি আপন মনে গাড়ি চালাচ্ছি হঠাৎ সামনে তাকিয়ে তার মেজাজ চরম খারাপ হয়ে গেছে,

সে দেখলাম, কোট টাই পরা এক ভদ্রলোক, বয়স বেশি হলে ৩০-৩২ হবে, মাঝরাস্তায় দাড়িয়ে এক রিকসাওয়ালা থাপ্পড় মেরে অপমান করছে, ভ্রু কুচকে ব্যাপার টা বোঝার চেষ্টা করছি.

বর্তমান জেনারেশন এর মানুষের সমস্যা কি? মানুষ কে তাদের মানুষ বলেই মনে হয় না বলেই সে সিট বেল্ট খুলে গাড়ি থেকে নেমে আসলাম,

ভীড় ঠেলে সামনে গিয়ে দাড়ালাম, চারপাশে তাকিয়ে দেখি সবাই দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে মজা নিচ্ছে, কেউ ভিডিও করছে আমি ঘাড় ঘুরিয়ে রিকশাওয়ালার দিকে তাকালাম, রিকশাওয়ালা চাচা টা মাথা নিচু করে লোকটার কথা শুনছে না কোন প্রতিবাদ করছে আর না মাথা তুলে তাকাচ্ছে উনার বয়স হ’য়েছে বয়স টা ৫০ কিংবা তার এপার বা ওপার,গাল ভর্তি সাদা দাড়ি।

আমি হেটে হেটে ভদ্রলোকটার ঠিক সামনে গিয়ে দাড়ালাম,
লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমার পড়নে এ্যাস কালারের শার্ট আর লেডিস প্যান্ট আর ক্যাডস চোখে পাওয়ারের চশমা,

— কি হয়েছে এখানে?

— আপনি কে এখানে কথা বলার? এই ফকিন্নির বাচ্চাকে আমি যদি আরেকটা থাপ্পড় না দেই বলেই লোকটা আরেকটা থাপ্পড় দেওয়ার জন্য হাত তুলতেই আমি লোকটা হাত ধরে উল্টো ঠাস ঠাস করে ভদ্রলোক টার গালে দুটো থাপ্পড় লাগাতার দেই,

থাপ্পড় খেয়ে লোকটা ভিষণ অবাক ই হলো,শুধু ওই ভদ্রলোক নয় এখানে যারা যারা তামাশা দেখছিলো সবাই ই অবাক চোখে আমাকে কে দেখছিলো,

লোকটা রেগে মেগে আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

— এই মেয়ে তোমার সাহস কত বড় তুমি আমার গায়ে হাত তুলেছো? তুমি জানো আমি কে?

— আরে রাখেন আপনার পরিচয়, যে মানুষ কে মানুষ বলে সম্মান করে না নিজের বাবার বয়সি এক লোকের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধা বোধ করে না তার আমার কি পরিচয় হবে নর্দমার কী*ট কোথাকার।

এখনো দাড়িয়ে আছেন কেন যান এখান থেকে নাকি আরো দুইটা খেতে ইচ্ছে করছে?

আমি বেশ রসিকতা করে কথা গুলো বললাম, লোকটা রেগে মেগে এখান থেকে চলে গেলো

এবার দর্শকদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলাম,

— আপনাদের সবার হৃদয় দেখে তো আমি অভিভূত, একজন বৃদ্ধ কে এই লোকটা কখন থেকে যা নয় তাই বলে অপমান করছে গায়ে পর্যন্ত হাত তুলছে আর আপনারা? আপনারা কি করছেন? দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে তামাশা দেখেছেন, ভিডিও করছেন,বাহ্ বাহ্ বাহ্

আমার কথা শুনে সবাই মাথা নিচু করে ফেলে,

আমি এবার বৃদ্ধ রিকশাওয়ালার দিকে তাকালাম,
উনিও অবাক চোখে তাকিয়ে আছে,,

— আপনার ও কি মান সম্মান কিছু নাই। ছেলের বয়সি একটা লোক এসে আপনাকে চর মারছে অপমান করছে আর আপনার লজ্জা করছে না,

কথা গুলো আমি বেশ রাগি স্বরেই বলল,

হঠাৎ পিছন থেকে কেউ আমার বাহু ধরে ঘুরিয়ে ঠাস করে থাপ্পড় মারলো, থাপ্পড় টা বেশ জোরে হওয়ায় তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে যাই,

বর্তমানে চারপাশ পিন পতন নিরবতা,

মাটি থেকে সোজা হয়ে দাড়ালাম, সামনে তাকিয়ে দেখতে পেলাম একটা ছেলে রেগে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, ছেলেটার রাগের কারণ বের করতে সক্ষম হলাম না।

— এই মেয়ে দাদার বয়সি একজন লোকের সাথে এভাবে কথা বলতে লজ্জা করছেনা,অপমান করতে লজ্জা লাগছে না?

ছেলেটার কথা শুনে বেশ অবাক ই হলাম, আদৌও কি ছেলেটা পুরো ঘটনা দেখেছে নাকি!

তবে কারো কাছে কোন কিছু এক্সপ্লেইন করা বা কৈফিয়ত আমি করি না, যে যা ভাবছে ভাবতে থাকুক,,

— শুনুন মিস্টার আমি কখন কি করব, কার সাথে কি ব্যবহার করবো সেটা আমি আপনার কাছ থেকে শিখব নাকি?

— বেয়াদব মেয়ে পরিবার থেকে কিছু শিখে আসো নি, অসভ্য মেয়ে কোথাকার

লোকটার কথা শুনে মুচকি হাসলাম,আমার বিন্দু মাত্র খারাপ লাগে নি কারণ এসব কথা আমি প্রতিদিনই শুনি,

এর মাঝে রিকসাওয়ালা চাচা এগিয়ে এসে ছেলেটিকে বলল..

— বাবা তোমার কোথাও ভুল হইতাছে, আ..

ওনাকে আর কিছু বলতে না দিয়ে ছেলে টি বলে উঠলো,

— আপনি চুপ থাকেন চাচা,এসব মেয়ে কে আমার খুব ভালো করে চেনা আছে, বাবার টাকা দিয়ে রাত দিন ফুর্তি করবে আর মানুষ কে মানুষ বলে মনেই করবে না।

ছেলেটার কথা শুনে মুচকি হেসে চলে আসলাম,

আমি আসার সময় দেখলাম একটা মেয়ে ভীড় ঠেলে ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে,

— ভাইয়া তুমি তো পুরো ঘটনা না জেনেই কথা বলছো..

— তুই চুপ থাকা রাইসা, এসব মেয়ে কে ভালো করে চেনা আছে, আর একটা কথাও না, তুই ভার্সিটি তে যা।

আমি আর সেখানে না থেকে গাড়ি নিয়ে ভার্সিটি তে চলে আসলাম,

পার্কিং লটে গাড়ি পার্ক করে মাঠ দিয়ে হাঁটছি, এমন সময় পিছন থেকে কেউ এসে চোখে হাত দিলো,

আমি জানি সে কে, কারণ পুরো ভার্সিটি তে মাত্র দুই জন মানুষের ই এই সাহস আছে,,

— মিরু বেবস, ছেড়ে দে তো.

আমার কথা শুনে মিরা গাল ফুলিয়ে আমার সাথে সাথে হাটা শুরু করলো,

আমি ওর দিকে তাকিয়ে হেসে দিলাম,মেয়েটার কেমন জানি অলৌকিক ক্ষমতা আছে ওর সাথে থাকলে আমার মন খারাপ করে রাখতেই পারি না,

আমাকে হাসতে দেখে মিরা আমার দিকে তাকিয়ে বলল,,

— এই একদম হাসবি না, আমি কত আশা নিয়ে ধরলাম আর তুই কি অমনি বলে দিলি, একটু এক্টিং ও তো করতে পারতি, নিরামিষ কোথাকার!

মিরা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড,পুরো নাম মিরা চৌধুরী আমার জীবনে এমন কোন কথা নেই যে মিরা জানে না, মেয়েটা ভিষণ ভালোবাসে আমাকে, ও ছাড়াও আমার আরেকটা বেস্ট ফ্রেন্ড আছে, ওইটা তো একদম জোকার। সাজিন, সাজিন তালুকদার, আমরা একই ডিপার্টমেন্টের।

আমি আর মিরা গিয়ে ভবনের সিড়ি তে বসলাম,

মিরা হঠাৎ ই জিজ্ঞেস করে,

— কি রে মন খারাপ? কিছু হয়েছে? তোর ওই কুটনি বুড়ী ফুপি কিছু বলছে?

— মন খারাপ তাও আমার? ব্যাপার টা হাস্যকর না?

— আয়ু তোকে তোর চেয়ে ভালো আমি চিনি তাই যা হয়েছে ফটাফট বলে ফেল,

— কিছু হয়নি বাবা, জোকার টা কই আসে নি?

— না আসে নি।

— আচ্ছা আয়াত তুই বস আমি ক্যান্টিন থেকে পানি নিয়ে আসি,

বলেই মিরা চলে যায়

হঠাৎ কোথা থেকে একটা মেয়ে আমার সামনে দৌড়ে এসে হাঁপাতে লাগলো,

মেয়েটা কে এই অবস্থায় দেখে আমি পানির বোতল দিলাম,
মেয়েটা খপ করে আমার হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে ডকডক করে পানি খেয়ে নিলো,

–Are you ok?

— yeah I’m fine.. Actually Apo..

–হুম? কিছু বলবে?

— হুম আপু, আসলে আমি সকালে আমার ভাইয়ের ব্যবহারের জন্য আমি অত্যন্ত দুঃখিত,,

— ইট’স ওকে আমি কিছু মনে করি নি. বসো এখানে।

মেয়েটি আমার পাশে বসলো,

— থ্যাংক্স আপু,

— ওয়েলকাম কিউটি। কোন ইয়ারে পড়ো?

— আমি প্রথম বর্ষে,ইংরেজি ডিপার্টমেন্ট।

— নাম কি তোমার?

— আমি রাইসা চৌধুরী, তুমি?

— আমি মাহাবীন খান আয়াত,

— কিরে রাসু এখানে তুই?

সামনে কারো কথা শুনতে পেয়ে রাইসা আর আমি সামনে তাকালাম।

দেখি..

চলবে?….

[প্লিজ সবাই গঠন গত মন্তব্য করবেন আর নিচে রেটিং অপশনে রেটিং দিবেন ধন্যবাদ ]

Loading spinner

Leave a Comment