গল্প: আমার প্রথম প্রেম (০১)

(এতদিন শুধু গল্প পড়েছি আজ নিজেলেখার চেষ্টা করছি। আমার জীবনের কিছুটা বাস্তব আর কিছুটা কাল্পনিকতা মিশিয়ে লেখা হবে। কাচা হাতে লেখা ভালো না লাগলে মাফ করবেন।)

লেখক: রেহান ইসলাম

 

আজ অফিসের কাজে সকাল থেকে মতিঝিল। কাজের প্রচন্ড চাপ কিন্তু কাজে আমার মন একদমই নেই।
বিকেল ৪ টায় কাজ শেষ করে অফিস থেকে বের হয়ে পরলাম। আকাশ টা আমার মনের মতই ভার হয়ে আছে।
যেন যে কোন মুহূর্তে আছরে পরবে। গরম ও পড়েছে বেশ। এমনিতে গাড়ি ড্রাইভ করতে আমার ভালই লাগে বলা যায় এটা আমার হবি। কিন্তু আজ অসহ্য লাগছে।
কি করা যায় ভাবতে ভাবতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে ড্রাইভ করতে লাগলাম।

মনে পড়ে যাচ্ছে আজ থেকে ১৬ বছর আগের কথা।তাকে প্রথম দেখে ছিলাম।
তখন নতুন ক্লাস সিক্স এ ভর্তি হয়েছি। জানুযারি মাসের ১৮ তারিখ নতুন একটা কোচিং এ ভর্তি হয়েছি। সেদিন ছিলো কোচিং এ ১ম দিন।
কোচিং এ ডুকে ক্লাস সিক্স এর ক্লাস কোন রুমে হয়ে খুজছি।
একজন স্যার রুম দেখিয়ে দিলো।

ক্লাসে গিয়ে দেখলাম শুধু একটা মেয়ে বসে আছে। আমি ডুকতেই সে আমার দিকে তাকালো আমার কাছে মনে হলো মেয়েটা পরীর মত সুন্দর।

আমি ডুকে একটা বেঞ্চ এ বসতেই মেয়েটা বলো উঠলো ভালো হলে আরেকজন তাহলে ভর্তি হয়েছে। গত তিনদিন যাবত আমি একা ক্লাস করছি।

আমি হা করে তাকে দেখছি মেয়েটা কি আসলেই এত সুন্দর নাকি আমার কাছে সুন্দর লাগছে। ও নিজে থেকেই ওর নামটা বললো মনিষা আমাকে আমার নাম জিজ্ঞেস করলো আমি বললাম রেহান। ক্লাস শুরু হবার কথা ৩ টায় এখন ঘড়িতে দেখলাম ৩টা ১৮ বাজে স্যারের দেখা নেই।

মনিষা বললো গত তিনদিন ধরে শুধু গণিত ক্লাস নিচ্ছে আমি একা তাই অন্য ক্লাস ও নিচ্ছে না।
আরও বললো ওর বাসা কোচিং এর পাশেই দুই গলি পরের গলিতে।
আমিও আমার বাসার ঠিকানা বললাম। আরও নানা রকম কথা হলো।
ঘড়িতে তখন ৩ টা ৪৪ স্যার আসে না তাই দুজনেই ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে কোচিং এর অফিস রুমের দিকে গেলাম।

সেখানে পরিচালক স্যারের রুমে সব স্যার জটলা পাকিয়ে আছে।
কিছু ছাত্র ছাত্রী ও আছে একজনকে জিজ্ঞেস করতে বললো পরিচালক স্যারের নাকি সকাল থেকে মাথার চুল আস্তে করে টান দিলেই উঠে আসছে। পরিচালক স্যার টান দিয়েও দেখালো যে কটা ধরে টান দিচ্ছে সব গুলোই উঠে আসছে। মনিষা পাশ থেকে বললো তাহলে আজ আর ক্লাস হবে না বাড়ি যাই। বলে সে অফিস রুম থেকে বের হয়ে আসলো।

কোচিং এর বাইরে বের হয়ে সে বললো কালকে কিন্তু পুরো ৩ টা তেই চলো এসো। আমি বললাম ঠিক আছে। সে চলে যাচ্ছে আমি দাড়িয়ে দেখছি।

বাসার দিকে হাঁটা দিলাম মেয়েটার কথাই বার বার মনে আসছে এত সুন্দর একটা মেয়ে। এমন অনুভুতিতো আমার জিবনেও হয় নাই। ভাবতে ভাবতে কখন যে বাড়ি চলে আসলাম বুঝতেই পারলাম না।
বাসাতে ব্যাগ রেখে বের হয়ে গেলাম আমি আবার আমার মামাতো ভাইয়ের সাথে সেই সময় খুব আড্ডা দিতাম ও তখন ও ক্লাস নাইনে পরে- ২-৪ টা প্রেম ও করেছে।

ওকে বলেই বসলাম মনিষার কথা যে তাকে আমার কেন জানি খুব ভালো লেগেছে ও বললো আরে পাগল এটা ভালো বাসারে।
এখন বড় হচ্ছিস ক্লাস সিক্স উঠলি তাও বুঝলি না আমি বললাম দুর ভাই মেয়েটা! ও বললো তাতে কি ভালবাসা ধর্ম মানে না।
আরও কয়েকদিন যাক তারপর একদিন সাহস করে বলে দিবি তুই ওকে পছন্দ করিস তাহলেই তো হলো।

সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম ভাবলাম কালকে কোচিং এ ৩ টার আগেই যাবো। ও নিশ্চয়ই ৩টার আগেই আসবে। রাত যেন আর কাটছেই না।
সকালে স্কুল গেলাম স্কুল থেকে ফিরে তাড়াতাড়ি কোচিং এ গেলাম। না মনিষা এখন ও আসে নি আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম এর মধ্যে দেখলাম আর ২ টা ছেলে ২ টা মেয়ে ক্লাসে ডুকলো তারা নতুন ভর্তি হয়েছে বুঝলাম আজকে রাইট টাইমে ক্লাস শুরু হয়েছে কিন্তু মনিষার দেখা নেই।

ক্লাস চলছে আমার তো ক্লাসে মনেই নাই।
হঠাৎ পরিচালক স্যার ক্লাসে আসলো কথায় কথায় বললো যে মেয়েটা সবার আগে ভর্তি হলো সে মেয়েটা আজকে বলে গেল আর আসবে না।
ওর বাবার বদলি হয়েছে তাই অন্য জেলায় চলে যাবে ২-৩ দিনের মধ্যে।
শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল এটা একটা কথা।
কোচিং শেষ করে বের হলাম। কোচিং এর পাশে ৩ টা গলিই ২ বার করে চক্কর দিলাম এই আশায় যদি দেখা পাই।
না কপাল খারাপ আর দেখা পেলাম না। রাগে আমিও কোচিং বাদ দিলাম। বাড়ি থেকে বললো কোচিং কেন করবো না বললাম স্কুলের স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়বো।
ক্লাস সিক্স শেষ সেভেনে উঠলাম। বছরের মাঝামাঝি ছেলে পেলে বলাবলি করছে শুনলাম আমাদের ক্লাসে একটা নতুন মেয়ে ভর্তি হয়েছে।

পরেরদিন স্কুলে গিয়ে আমি অবাক আরে এতো মনিষা। আমি তাকে মোটামুটি ভুলেই গেছিলাম।

তাকে দেখে এবার যেন মনে সত্যিই প্রেম জেগে উঠলো। তার সামন দিয়ে ২-৩ বার যাওয়া আশা করলাম চেয়েও দেখলো কিন্তু কোন কথা বললো না।

তাহলে কি ভুলে গেছে আমাকে চিনতে পারে নাই। মনে হচ্চে মেয়েটা এই দেড় বলরে আরও সুন্দর হয়ে গেছে। মাত্র কিছু দিনের মধ্যে দেখলাম সব স্যারেদের পছন্দে ছাত্রী হয়ে উঠেছে। ভালো পড়া শুনা পারে আমি হলাম গর্দভ ছাত্র! বুঝলাম কিছু দিনের মধ্যে সম্ভব না। আমার পক্ষে তাকে বলা আমি তাকে পছন্দ করি।

শেষে কোন ভাবে ক্লাসের সবাই যেনে গেলে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি তার মধ্যে আবার আমি মুসলিম ও * ।

যত দিন যায় ওর প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়তে থাকে। একি ক্লাসে পড়ি তাই বন্ধু হিসেবে কখনও কখনও কথা হয়। না স্কুল জীবন শেষ করে ইন্টারের কলেজেও এক সাথে পড়াশুনা করলাম কিন্তু বলার সাহস হলো না আমার আমি ওকে কতটা ভালোবাসি।

ইন্টার শেষ আমি চলে আসলাম ঢাকা। ভর্তি হলাম ঢাকা কলেজে ও ভালো ছাত্রী ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে গেল। দুরত্ব হয়ে গেল।

বছরে ২-১ বার নিজ শহরে দেখা হলেও হতো। কিন্তু আমার মন থেকে ও কখনই দুরে যেতে পারে নি। এমন কোন দিন নেই আমি ওর কথা মনে করি নি।

সৃষ্টিকর্তার কাছে ওকে চেয়ে কত দোআ করছি কিন্তু আমি জানি সম্ভব না।

বর্তমানে আমি চাকুরী করছি। ঢাকায় একটা ফ্লাট ভাড়া নিয়ে ব্যাচেলর হয়েই আছি।

(গল্পের শুরুর সময়ে ফেরত)

গাড়ি ড্রাইভ করছি আর ভাবছি যাকে এত ভালোবাসি অথচ বলতে পারলাম না। গতকাল তার বিয়ে হয়ে গেছে। এজন্য মনটা এতটাই খারাপ লাগছে বলার মত না।

প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়েছে। ধুলোও সব অন্ধকার ঝড় নামবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের চত্বরের পাশে রাস্তায় গাড়িটা ব্রেক করলাম। প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হলো।

প্রায় ৩০ মিনিট যাবত বৃষ্টি হচ্ছে আমি গাড়িতে বসে। একটু সামনের দিতে আগালাম দুর থেকে দেখলাম একটা মেয়ে রাস্তার পাশেই বৃষ্টিতে দাড়িয়ে আছে পাথরের মত।

সবাই যতটা পরে বৃষ্টি থেকে বাচতে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে অথচ ওই মেয়ে পাথরের মত নিচের দিকে মুখ করে দাড়িয়ে আসে৷
আরেক টা সামনে এগুতেই কলিজাটা কেঁপে উঠলো মনে হলো মনিষা।
পরক্ষণেই ভাবলাম দুর কালকে ওর বিয়ে হয়ে গেছে আর আমি কি ভাবছি।

তবু সামনে এগিয়ে গেলাম!

মাত্র দশ হাত দুরে মেয়েটা গাড়ির গ্লাস নামিযে ভালো করে দেখলাম এবং এবার মনে হচ্ছে আমি সেন্সলেস হয়ে যাবো।

হ্যা এটা মনিষাই শিউর আমি শিউর মনিষা।

চলবে ———

 

( লেখক নতুন হিসেবে কিছু কিছু জায়গায় ভুল ছিলো তাই আমি যত দূর পারছি সংশোধন করেছি।)

 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments