টক ঝাল মিষ্টি
==========
(১ম দিন)
(একটি ছেলে আর একটি মেয়ে রাস্তায় দেখা)
মেয়ে — এই যে, আপনার আচরণ কিন্তু আমার একদম ভালো লাগছে না।
ছেলে — কেন ?
মেয়ে — কদিন ধরেই দেখছি, আপনি ঠিক এই সময়টাতে এদিকে হেটে আসেন। কেন, আপনি কি অন্য সময়ে আসতে পারেন না ? কিংবা অন্য রাস্তায় ?
ছেলে — ওহ, এই কথা ! আমি তো আমার কাজে যাই। আমার কাজেরও সময় নির্ধারিত। তাই।
মেয়ে — তাহলে অন্য রাস্তায় যাবেন।
ছেলে — সরকারি রাস্তার উপরে তো কারো মালিকানা খাটানো ঠিক না। তবু আপনার ইচ্ছেকে সম্মান দেখিয়ে আগামী দিন থেকে আমি ঐ রেলপথ দিয়েই যাবো। ভালো থাকবেন।
মেয়ে — ধন্যবাদ।
০২
(৫ম দিনে দু’জনে আবার দেখা। তবে আগের পথে নয়। রেললাইনের পথে)
ছেলে — কি ব্যাপার আপনার ? সোজা পথ ছেড়ে আজকে এ রাস্তায় কেন ?
মেয়ে — এতে কি আপনার বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে ?
ছেলে — না, না। ক্ষতি হবে কেন ? বলছিলাম, আপনার সুবিধার জন্য আমি ঐ সহজ রাস্তা ছেড়ে এই কঠিন, নোংরা রাস্তা ধরেছি। এখন আপনি নিজেই কিনা…….
মেয়ে — দেখতে এলাম, এ রাস্তায় হাটতে আপনার কেমন লাগছে।
ছেলে — ওহ্, গুড। শুনে ভালো লাগলো।
মেয়ে — কেন ?
ছেলে — অন্যের দুঃখ- কষ্ট উপলব্ধি করার প্রয়াসকে স্বাগত না জানালে কি কার্পণ্য হয়ে যায় না ?
মেয়ে — থাকুন আপনার বদান্যতা নিয়ে। অন্যের মন না বুঝে কেবল মুখের কথাকেই যারা প্রাধান্য দেয়, তাদের বদান্যতা হিসেব করার সময় আমার নেই। আসি।
ছেলে — তাহলে আমি কিন্তু আর এ রাস্তায় আসবো না। আগের রাস্তাই ধরবো।
মেয়ে — ধরুনগে। আমাকে শুনানোর দরকার কি ?
ছেলে — ওকে। ভালো থাকবেন।
মেয়ে — আমি ভালোই থাকবো। সে নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না।
ছেলে — বাহ্, দারুণ তো !
(কথা না বাড়িয়ে মেয়েটা চলে যায়)
চলবে ————–