পর্ব:০৫
লেখনীতে:অলকানন্দা ঐন্দ্রি
“ আদ্র, তুমি সত্যিই মিথির সন্তানের বাবা নও? মিথির গর্ভে অন্য কারোর সন্তান বলছো? ”
আদ্রর মায়ের ধমকে বলা কথা গুলো আদ্র শান্ত ভঙ্গিতেই শুনল। অতঃপর গড়গড় করে আবারও নাটক করে মিথ্যে বলল,
“ বললাম তো আম্মু, ওর সাথে আমার তেমন কোন সম্পর্ক হয়েই উঠেনি। তুমি তো জানো এই বিয়েটা আমি মানিনি। জানতে না? আমি তো মুহুকে ভালোবাসি আম্মু। তাহলে ও কি করে আমার সন্তানের মা হবে? আমি সত্যিই বলছি আম্মু, ওর গর্ভে আমার বাচ্চা নয়। ”
মিথি শুধু আদ্র নামক কাপুরুষটার এত আত্মবিশ্বাসের সহিত মিথ্যেগুলো দেখছিল। কি নির্দ্বিধায় বলে চলেছে একেকটা কথা। আদ্রর মা বোধহয় ছেলের উত্তরে সন্তুষ্ট হলেন না। এবার সোজা মিথির দিকে চাইলেন। শুধালেন,
“ ও সত্যি বলছে মিথি? বাচ্চাটা আদ্রর নয়?”
মিথি উত্তর শুনে আদ্রর দিকে একবার চেয়ে আদ্রর মায়ের দিকে তাকাল। যে বাবা ইতোমধ্যেই তার সন্তানকে অস্বীকার করেছেন, যে স্বামী ইতোমধ্যেই স্ত্রীকে চরিত্রহীনা প্রমাষ করেছে তাকে সন্তানের দাবীদার করাটা কি ভুল নয়? মিথি কি করে এই কাপুরুষকে সন্তানের বাবা বলবে? তাই শান্ত, স্থির অথচ দৃঢ় চাহনিতে তাকিয়ে ও উত্তর করল,
“ বাচ্চাটা শুধুই আমার ফুফি। শুধুই আমার,আর কারোর নয়।”
আদ্রর মা বোধহয় বুঝল না। মিথির থেকেও এমন উত্তর পেয়ে উনি ধমকে বললেন,
“ মিথি হেয়ালি করবি না। বল, বাচ্চাটা আদ্রর নয়? ”
ঠোঁটে তাচ্ছিল্যের হাসি এঁকে মিথি বলল,
“ যে ইতোমধ্যেই নিজের সন্তানকে অস্বীকার করেছে তাকে আমি কি করে আমার সন্তানের অংশীদার করি? একটা কাপুরুষকে অন্তত আমি কোনদিন আমার সন্তানের অংশীদার হতে দিব না ফুফি। ”
কাপুরুষ শব্দটা গিয়ে লাগল আদ্রর গায়ে। জ্বলে উঠল ও রাগে। মিথি ওকে কাপুরুষ বলেছে।আজই বলেছে। বহুবার ইঙ্গিত দিয়ে বহু কিছু বলেছে। মিথির কি সাহস বেড়েছে আজ মা হবে জানার পর থেকে? নাকি অন্যকিছু? আদ্রর রেগে বলল,
“ কাকে বললি কাপুরুষ? কাকে বললি? আমি কাপুরুষ? ”
আদ্রর মা ছেলের আচরণে বিরক্ত হলো যেন। বলল,
“ আদ্র,চুপ করো তুমি। বাকি কথা বাসায় বলবে বুঝেছো? বাসায় চলো দুইজনে। তোমার আব্বু আর দাদী ইতোমধ্যে চলে গেছে বাসায়। ”
আদ্র চুপ করে এবারে মায়ের ধমক শুনে। এখানে তো রাগ দেখাতে পারে না। তবুও রাগে নিশপিশ করছিল ওর হাতপা তা বুঝাই যাচ্ছে। তাই তো রাগে হাঁসফাঁস করে বেরিয়ে গেল ও। আদ্রর মা পিঁছুপিঁছু পাঠাল মিথিকেও। অতঃপর উপস্থিত ডক্টরকে সবটা জিজ্ঞেস করল যে মিথি কখন এসেছে, কেন এসেছে, কার সাথে এসেছে, একা এসেছে কিনা। ডক্টর ফাজরিন যদিও আদ্রর ফ্রেন্ড তবুও নিজের ভেতরে নারীত্ব, মাতৃত্ব এবং আদ্র উগ্র স্বভাব সম্বন্ধে জানে বলেই সবটা বলল।আদ্রর মা সবটাই শুনল, সবটাই জানল অতঃপর কিছুটা সময় থমকে দাঁড়িয়ে থাকলেন শুধু নিজের ছেলের মানসিকতার কথা ভেবে।
.
মিথির শরীরটা দুর্বল, ক্লান্ত। তাই তো ধীরে ধীরে পা চালিয়ে পা বাড়াচ্ছিল। যখন হসপিটালের সিঁড়ি বেড়ে নিচে নেমে আসবে ঠিক তখনই তার কানে এল অনাকাঙ্ক্ষিত একটা স্বর। একটা পুরুষালি গলা। মিথি পুণরায় কান খাড়া করে। পেছন থেকে আবারও কেউ ক্লান্ত গলায় ডাকল,
“ ফুল। ”
মিথি দ্রুতই পিছু ঘুরল এবারে। শরীর দুর্বল থাকার দরুন হাত পা কাঁপছিল কেমন। দৃষ্টি নড়বড়ে লাগছিল। তবুও তার থেকেই কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মুহিব ভাইকে সে স্পষ্টই দেখতে পেল। কতগুলো মাস পর! কতোগুলো মাস পর ও মুহিব ভাইকে দেখতে পেয়েছে। অথচ এবারে আগের মতো কোন আনন্দই লাগল না। হৃদয়ের ভেতর ধুকপুক করল না এবারে এই মানুষটাকে দেখে। হয়তো ঐ বয়সটা আবেগে পরিপূর্ণ ছিল বলেই হৃদয়ে কম্পন উঠত এই মানুষটাকে দেখে। দুই মাসের ব্যবধানে সে কম্পন, ধুকপুক করা সবই নিভে এল এক নিরব বোঝাপড়ায়? মিথি কেন জানি না আজ মুহবিকে বুঝতে পারছে। স্পষ্টই অনুভব করল মুহিবের চোখের অস্থিরতা, অসহায়তা। মিথি তাকিয়ে পরমুহুর্তেই নিজের মনকে সংযত করল। যায় হোক, সে এখন অন্য একজনের বউ। একজনের সংসার করছে। মিথি নজর সরিয়ে নিল দ্রুতই। ততক্ষনে এগিয়ে আসতে নিল মুহিব। অতঃপর এগিয়ে এসেই তার ফুলকে পরখ করল। ঠোঁটের কোণে কাঁটা আঘাত, কপালে ব্যান্ডেজ এমনকি গালে হাতের আঙ্গুলের ছাপ! চোখের নিচে কালি পড়েছে। চেহারাটাও ফ্যাকাশে। ইশশ! তার ফুলটা দুমড়ে মুঁছড়ে গেছে। কে করল এই হাল? তার ফুল কি ভালো নেই? মুহিবের হৃদয়ের ভেতর কেমন যেন করে। এক নিরব শূণ্যতা হাহাকার করে উঠে। মিথি মুখটা বেশিক্ষন না দেখিয়েই, কোন কথা না বলেই দ্রুত পা চালিয়ে পালিয়ে এল যেন ওখান থেকে।
.
মুহিব বন্ধুর সাথে সিগারেটে আগুন ধরিয়ে আকাশের দিকে ছুড়ে দিচ্ছিল সেই ধোঁয়া। অতঃপর অনেকটা সময় পর নিজের বন্ধু তাসিনকে সিগারেটের ধোঁয়ায় মগ্ন থেকেই বলতে লাগল,
“ আমার ফুলটা ভালো নেই তাসিন। একটুও ভালো নেই আমার ফুলটা। কতোটা প্রাণবন্ত,চঞ্চল, অনুভূতিপ্রবণ আর বোকা ছিল আমার ফুলটা জানিস তাসিন? অথচ আজ? আজ আমার ফুল পুরোপুরি ভিন্ন দেখলাম। ওর চোখে আমার জন্য মায়া নেই, অনুভূতি নেই, লজ্জা নেই, কোনকিছুই নেই তাসিন। যা আছে তা সম্ভবত অস্বস্তি। আমার ফুলটা ভালো নেই তাসিন। আমার ফুলটাকে দুমড়ে মুঁছড়ে কেমন অনুভূতিহীন ফুলে পরিণত করেছে ওরা। ”
তাসিন তাকাল বন্ধুর দিকে। মিথির দেওয়া শেষ চিঠির পর থেকেই মুহিবের হুট করেই পরিবর্তন এসেছে। হুট করেই ও সিগারেটে মগ্ন হলো।অথচ এই মিথি একটা সময় পাগলের মতো ভালোবাসি বলার পরও মুহিব সবসময় ওকে বুঝাত, ওটা ভালোবাসা নয়, আবেগ! শুধু আবেগ। অতঃপর নিজেই নিজের অজান্তে ঐ ছোট্ট ফুলের মায়ায় এমনভাবে পড়ল যে আজ হারানোর পর প্রতিটা রাত তার নির্ঘুম কাঁটে। বুক ব্যাথা হয় অজানা বিষাদে। নিকোটিনের ধোঁয়ায় রোজ কতশত দুঃখ ওড়ায় ও মিথির নামে।
.
মিথি,আদ্র আর ওর মা বাসায় ফিরল অনেকটা সময় পর। অতঃপর বাসায় ফিরেই আদ্রর মা যখন ওদের রুমে যেতে বলল এবং এই বিষয়ে সকালেই কথা বলবে বলল তখন আদ্র বেঁকে গেল। এমন একটা ভাব দেখাল যেন মিথির আশপাশে থাকাও পাপ! বলল,
“ ও চরিত্রহীন জেনেও আমি ওর সঙ্গে সংসার করব আম্মু? ওর প্র্যাগনেন্সির কারণ অন্য পুরুষ, অন্য কারোর বাচ্চা গর্ভে ধারণ করেছে জেনেও আমি ওর সাথে সংসার করব? কখনোই না আম্মু! ”
আদ্র কথাগুলো বলেই রাগ পুষল। যেন সত্যি সত্যিই মিথির গর্ভে অন্য পুরুষের সন্তান। মিথি তাচ্ছিল্য নিয়েই হাসল। ঠোঁটে বিদ্রুপভঙ্গিতে হাসি টেনে বলল,
“ কিছু খারাপ কখনো কখনো ভালো হয় আদ্র। এই যেমন চরিত্রহীনের অপবাদটা দিলেন? এটা আমার জন্য কতোটা আশীর্বাদস্বরূপ আপনি জানেনও না। এই যে এই চরিত্রহীন তকমা নিয়ে হলেও আমি আপনার থেকে মুক্তি পাব, আপনার মতো কাপুরুষের থেকে রেহাই পাব এটা ভেবেই আমার আনন্দ হচ্ছে। আমি এবং আমার সন্তানতো অন্তত আপনার মতো পিশাচ থেকে রেহাই পাব এর মাধ্যমে। একজন মা হয়ে সন্তানকে বাঁচাতে হলাম নাহয় চরিত্রহীন। ”
আদ্র দ্বিগুণ রাগ দেখাল। বলল,
“ তোর এসব নাটকীয় ডায়লগ তোর কাছেই রাখ মিথি। চরিত্রহীন, ছলনাময়ী। আমার রুমে এক পাও বাড়াবি না। ”
আদ্রর মা ছেলের নাটকীয়তা দেখে ইচ্ছে হলো চড় বসাতে। তবুও বহুকষ্টে নিজেকে সংযত রেখে ধমকে শুধাল,
“ আদ্র, হচ্ছে কি? এতরাতে এইসব ঝামেলা করছো কেন? ঘরে যাও, ওকেও যেতে দাও। সকালে উঠে কথা বলছি আমরা এই নিয়ে। ”
“ কেন করছি মানে? তুমি জানো না ও কি করেছে? কার না কার সন্তান গর্ভে ধারণ করে রাত বিরাতে এবরশন করাতে অব্ধি চলে গেল। আর তুমি বলছো কিছুই করব না আম্মু? ”
আদ্রর মা ছেলের দিকে চেয়ে বলল,
“ আমি অনেককিছুই জানি আদ্র। ওকে ঘরে যেতে দাও। এখন আমার চিৎকার চেঁচামেচি করতে ভালো লাগছে না। কি হলো, কানে শোন নি তুমি? ”
আদ্র এবারে কিছুই বলল না। রেগে হনহনিয়ে ঘরে চলে গেল শুধু। মিথি তা দেখল। কিন্তু ওর পিছুপিছু ও ঘরে গেল না। উল্টে আদ্রর মাকে বলল,
“ আমি দুঃখিত কিন্তু আমি উনার ঘরে সত্যিই পা রাখতে চাই না ফুফি। উনার কথামতো নয়, আমার নিজের ইচ্ছেতেই পা রাখতে চাই না ফুফি। আমি আজ রাতটা অন্য কোন ঘরে থাকি ফুফি? ”
“ কেন ? ”
মিথির ইচ্ছে হলো উত্তর করতে যে,“ একটা কাপুরুষ,অত্যাচারী পুরুষের সাথে আমি আর এক মুহুর্তও এক ঘরে থাকতে চাই না ফুফি। আমার ঘৃণা হয়। এই লোকটাকে ঘৃণা হয়। ” অথচ বলল না। উত্তর করল,
“ আমার বোধহয় দমবন্ধ ঠেকবে উনার সাথে একঘরে। আজকের পর আরো দমবন্ধ লাগবে ফুফি। শত হোক আমি তো চরিত্রহীন ফুফি। উনার মতো চরিত্রবান পুরুষের সাথে একঘরর থাকি কি করে?”
আদ্রর মা বোধহয় বুঝল কারণটা। অনেকটা সময় চুপ থেকে অতঃপর আবারও বলল,
“ মিথি, আজ রাতটা থাক। কিছুক্ষন পর এমনিই সকাল হয়ে যাবে।সকালে আমরা খোলাখুলি কথা বলব এই বিষয়ে হুহ?”
এইটুকু বলেই ছোটশ্বাস টানলেন। আবার বললেন,
“ আমি জানি তোর কষ্ট হচ্ছে। বুঝতে পারছি। তোর যদি বেশিই দমবন্ধ লাগে তাহলে আমি সত্যিই তোকে আলাদা রুমে থাকার ব্যবস্থা করে দিব কাল থেকে মিথি। তুই জিনিসপত্রই গুঁছিয়ে নে নাহয় আজ। ”
মিথি আর কথা বাড়াল না এবারে। যেখানে এই পিশা’চটার সাথে দু দুটো মাস সে একসাথে একঘরে থেকেছে সেখানে আর কয়েকটক ঘন্টা থাকা তো কঠিন না। নিজের জিনিসপত্র গুলো গুঁছিয়ে নিবে ও৷এইটুকু চিন্তা করেই ঘরে ডুকল ও। ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে নিজের পোশাকগুলোতে যখন হাত দিবে তখনই আদ্র বিদ্রুপ স্বরে বলল,
“ মিথি? গল্পের ভিলেইন হয়ে গেলি কিভাবে দেখলি? আম্মুর চোখেও তো খারাপ হয়ে গেলি। অথচ আমার কথামতো সুন্দরভাবে এবরশন করিয়ে ফেললে তো এতকিছু হতোই না। নাহ তো তোর উপর এমন একটা বদনাম রটত। ”
মিথি এবারেও তাচ্ছিল্য নিয়ে হাসে। উত্তর করে,
“ ঐ যে বললাম? কিছু বদনাম ভালোর জন্যই রটে আদ্র? একটা বদনাম আর আমার জীবনকে কতোটা কি করবে? কিন্তু নিজের সন্তানের জীবন শেষ করে আজীবন নিজেকে আপনার মতো অমানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে পারতাম না আমি। ”
আদ্র রাগে দাঁতে দাঁত চাপে। বলে,
“ আমি অমানুষ? ”
“ মানুষ নাকি? ”
“ খুব মুখে কথা ফুটেছে না? খুব বেশিই কথা বলছিস? ”
এটুকু বলতেই আদ্রর ফোন বাঁজল। আদ্রর ফোন স্ক্রিনে তাকিয়ে একটুও দেরি করল না কল তুলতে। মুহুর্তেই কল তুলে কানে নিয়ে বলল,
“ মুহু? ঘুমাওনি এখনো? কতদিন বলেছি রাত জাগবে না? ”
ওপাশ থেকে কে কি বলল তা বুঝতে পারল না মিথি। তবে স্পষ্টই আদ্রর চোখে মুখে অস্থিরতা ফুটে উঠল তৎক্ষনাৎ। ও পাগলের মতো অস্থির হয়ে শুধাতে লাগল,
“ মুহু, এই মুহু কাঁদছো কেন? কি হয়েছে বলো? এই মুহু, কাঁদছো কেন বলো? ভয় পেয়েছো? ”
আদ্র আবারও বলল,
“ মুহু, কুল। কুল মুহু। আদ্র আছে, তোমার সাথে আছে মুহু। ঘরের লাইট অন করো, উঠো মুহু।ভয় নেই, কোন ভয় নেই মুহু। ”
আবারও আদর নিয়ে মিষ্টি গলায় বলল,
“ পানি খাও। রিল্যাক্স হুহ পাখি? কোন ভয় নেই। ”
মিথি দেখছিল আদ্রর শান্ত, শীতল রূপটা। আদ্রর যে এমন সুন্দর একটা রূপও থাকতে পারে তা মিথির ধারণার বাইরে ছিল। সত্যিই অকল্পনীয়!মিথির তাকিয়ে থাকার মাঝেই দেখল আদ্র এবার ঠোঁট এলিয়ে হাসল। হেসেই সে বলল,
“ মুহুপাখি, খুব ভয় পেয়েছো হুহ? ”
আবারও বলল,
“ আদ্র আসছে পাখি। একটু অপেক্ষা করো।”
এটুকু বলেই ও বের হতে নিল ফোনটা রেখে। দুর্ভাগ্যবশত সামনে মিথি পড়ল। আদ্র পাশ কাঁটিয়ে না গিয়ে শুধাল,
“ সর সামনে থেকে মিথি। ”
মিথি তাচ্ছিল্য নিয়ে হেসে সরে গেল। আদ্র সে হাসিটা সহ্য করতে পারল না যেন। মিথির হাতটা চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল,
“ ওভাবে হাসলি কেন? সমস্যা কি মিথি? ”
মিথির স্পষ্টই সোজাসুজি দৃষ্টি ফেলে শুধাল,
“ হাত ছাড়ুন আদ্র, ব্যাথা লাগছে। ”
“ আগে বল হাসলি কেন? ”
“ আপনার ভিন্ন ভিন্ন রূপ দেখে হাসি এল তাই হেসেছি। ”
“ কি ভিন্ন রূপ? মুহুর সাথে কথা বলছিলাম তা সহ্য হয়নি না? ”
মিথি আদ্রর দিকে তাকাল। অন্য একজন নারীর প্রতি তার স্বামীর প্রেম,ভালোবাসা এবং যত্ন দেখে যেমন সে মুগ্ধ হয় তেমনই তাচ্ছিল্যের হাসি আসে মুখে। ঠোঁট এলিয়ে শুধাল,
“ আদ্র, মানুষ বলে না নারী ছলনাময়ী? আমার মনে হয় পুরুষরা তার থেকেও ভালো ছলনা জানে। তা নয়তে দেখুন না, একই আদ্র চৌধুরীই তার গার্লফ্রেন্ডের জন্য কতোটা কেয়ারিং পার্সন, কতোটা প্রেমিক পুরুষ! অথচ তিন কবুল বলে বউ করা মেয়েটার প্রতি আপনার কি ভীষণ অনীহা। এতোটাই অনীহা যে সে আপনার সন্তান ধারণ করেছে জানার পরও আপনি তাকে মেরেছেন, গলা চেপে ধরেছেন এমনকি আপনারই বাচ্চার দুনিয়াতে আসা থামিয়ে দিতে আপনি তাকে জোরজবদস্তি করে মারধর করে হসপিটালে নিয়ে এলেন এবরশন করাতে। বিস্ময়কর নয় আপনার রূপ? ”
আদ্র ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। মুহুর্তেই জানাল,
“ আমার রূপ বিস্ময়কর আর তুই খুব ভালো? হসপিটালে তোকে যে ছেলেটা ফুল বলে ডেকেছে সে? সে কে? তোকে ফুল বলে ডাকল কেন ছেলেটা? ”
চলবে…
( সন্ধ্যা থেকে জ্বর। সকাল থেকে মোটামুটি গলাব্যাথা, মগজ জ্বলছে মনে হচ্ছে। কি হাবিজাবি লিখেছি জানি না।এলোমেলো লাগতে পারে। যায় হোক, ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন। ]