লেখনীতে:আইরা নূর
পর্ব:৭ (অন্তিম পর্ব)
🚫🚫 কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। গল্পটি শেয়ার করতে পারেন কিন্তু অবশ্যই হ্যাশট্যাগ গুলো লাগাবেন আর যদি কেউ গল্পটি নিজের টিকটক id তে দিতে চাই অবশ্যই আমার টিকটক id কে mention দেবেন🚫🚫
আরুহির পেটে হাত রাখাই পেটের ভেতর বাচ্চাটা জোরে কি’ক দিয়ে উঠে, যেটা নীলাধ্র ও ফিল করতে পারে। জোরে কি’ক দেওয়ার ফলে আরুহি বেশ ব্য’থা পাই কিন্তু দাঁতে দাঁত চে’পে সেই ব্য’থা সহ্য করে নেয় সে। নীলাধ্র র মনের ভেতর কেমন একটা অজানা অনুভূতির ঢেউ খেলে যাচ্ছে। নীলাধ্র নিজের হাতটা তৎক্ষণাৎ সরিয়ে নেয়। আরুহি তখন বলে,
আরুহি:- মানুষ কখনো নিজে থেকে হারাই না। তারা হারিয়ে যায় প্রিয় মানুষের করা অবহেলায়, তাদের দেওয়া ক’ষ্টে, তাদের করা আ’ঘা’তে। অথচ প্রিয় মানুষেরা জানতেই পারে না যে ঠিক কতটা ক’ষ্ট বুকে নিয়ে মানুষটা তাদের কাছ থেকে হারিয়ে যায়। আপনি একদিন পস্তাবেন, খুব আপসোস করবে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। কারণ তখন তো আমি আর ফিরব না আপনার কাছে। হাজারবার, লাখোবার ডাকলেও এই আরু আর আপনার কাছে ফিরবে না। আমি চাই আপনি সেই ক’ষ্ট অনুভব করুন। আপনার বুকেও ঠিক সে ক’ষ্ট’ই থাক যেই ক’ষ্ট নিয়ে আমি আপনার থেকে হারিয়ে গিয়েছি।
নীলাধ্র:- কি বলতে চাইছিস একটু পরিষ্কার করে বল।
আরুহি মেকি হেসে বলে,
আরুহি:- শে~শেষবারের মতো একবার কি জ~জ’ড়ি’য়ে ধরতে পা~পারি আপনাকে। আর তো কোনদিন ধরতে পারবো না। (কাঁদতে কাঁদতে)
আরুহি কথাটা গুলো এমন ভাবে বললো যে নীলাধ্র তাকে আর বারণ করতে পারে নি। আরুহির চোখ গুলো পানিতে টইটম্বুর। মনে হচ্ছে টোকা দিলে এখন ই পড়ে যাবে। নীলাধ্র বলে,
নীলাধ্র:- হুম।
নীলাধ্র র বলতে দেরি কিন্তু আরুহি র তাকে জ’ড়ি’য়ে ধরতে দেরি হয়না। আরুহি, নীলাধ্র কে এমন ভাবে জ’ড়ি’য়ে ধরেছে যে ছেড়ে দিলে এই বুঝি নীলাধ্র তাকে ছেড়ে চলে যাবে। আরুহি, নীলাধ্র কে জ’ড়ি’য়ে ধরেই বলে,
আরুহি:- “তুমি বড় প্রিয়,
আমার প্রিয়,
তুমি আমার মনের আঙ্গিনায় থাকো,
তুমি এতো প্রিয় আমার কাছে,
কত প্রিয় আমার কাছে,
এতো প্রিয় আমার কাছে,
জানো না।।।”
আপনার সাথে আমার সংসারের বয়স মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা। কিন্তু সেই কয়েকটা ঘণ্টা আমার জীবনের সেরা কিছু মুহূর্ত ছিল। হয়তো আপনার কাছে সেই কয়েকটা ঘণ্টার কোনো মূল্যই নেই, তবে আমার কাছে আছে। আপনি আমার জীবনের শেষ ৭ মিনিট নীলাধ্র। আপনি হয়তো জানেন ও না যে আমার জীবনে আপনার জায়গাটা ঠিক কোথায়। আপনি আমাকে যতই ঠ’কা’ন না কেনো, যতই অবহেলা করুন না কেনো আমি আপনাকে ভালোবেসেই যাবো। কারণ যাকে ভালোবাসা যায় তাকে যে ঘৃ’ণা করা যায় না। আপনার প্রতি কখনো আমার কোনো ঘৃ’ণা কাজ করে না নীলাধ্র। আপনাকে শুরুর দিন থেকে যেমন ভালোবাসি ঠিক তেমনই জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অব্দি ভালোবেসে যাবো। আজকে মনের কোণে জমে থাকা সকল কথা আপনাকে বলে দিলাম। আমি চাই আমাদের যেনো আর কোনোদিন ও দেখা না হয়। আর যদি হয় তখন যেনো আমি একটা শান্তির জায়গাই থাকতে পারি। আর আপনি আমাকে “না পাওয়ার” যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে জীবন কাটান। আমার অনুপস্থিতি আপনাকে পোড়াবে বড্ড বেশীই পোড়াবে।
বলেই আরুহি, নীলাধ্র কে ছেড়ে দেয়। তারপর কিছু না বলেই উল্টো ঘুরে চোখের পানি মুছতে মুছতে হাঁটতে শুরু করে। আরুহি আর পিছন ফিরে তাকাই না। শত ক’ষ্ট, শত যন্ত্রণা বুকে নিয়েই সে নীলাধ্র র থেকে বিদায় নেয়।
হয়তো আর কোনোদিনও নীলাধ্র র কাছে ফেরা হবে না তার। নীলাধ্র, আরুহির যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে। কেনো জানি আজকে খুব করে মন চাইছে আরুহি কে আটকাতে।
মন চাইছে আরুহি কে নিজের বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখতে। তখনই নীলাধ্র র কাঁধে কেউ হাত রাখে।
নিরা:- আরে নীলাধ্র, তুমি এইখানে আমি তোমাকে এত করে কল করছি ফোন কেনো উঠাছো না?? আবার আমাকে নিতেও গেলে না।
নীলাধ্র কিছুই বলে না। সে এখনো আরুহি যাওয়ার দিকেই ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে আছে। আরুহি তার দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে গিয়েছে তবুও নীলাধ্র তাকিয়েই আছে সেইদিকে।
নিরা:- নীলাধ্র আমি কিছু বলছি তোমাকে।
নীলাধ্র:- হু~হুম, বলো।
নিরা:- চলো দোকানে, শপিং করতে হবে না।
নীলাধ্র:- হুম চলো।
,,,,,,,,,,,,,
__:- না না আমরা এই ছেলের সাথে আমাদের মেয়ের বিয়ে দিয়ে তার জীবন তো ন’ষ্ট করতে পারব না।
নাজিয়া চৌধুরী:- এইসব আপনারা কি বলছেন। এইরকম ছেলে মানে!!
__:- বুঝতে পারছেন না নাকি না বোঝার নাটক করছেন। কি ভেবেছেন আমাদের কে সত্যিটা না জানালে আমরা কিছুই জানতে পারব না।
আদনান চৌধুরী:- কি হয়েছে সেটা না বলে কখন থেকে হেঁয়ালি করেই যাচ্ছেন। আসল কথাটা তো বলছেনই না।
__:- আপনার ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিলে সে কোনোদিনও মা হতে পারবে না। সে সুখী হবে না আপনার ছেলের সাথে বিয়ে দিলে। আপনারা আমাদের থেকে এত বড় একটা সত্যি কথা লুকিয়ে গেলেন কিভাবে। ভাগ্যিস আপনাদের ছেলে নিজের মুখে বলেছে না হলো তো আমার মেয়েটার জীবনই শেষ হয়ে যেতো।
নাজিয়া চৌধুরী আর আদনান চৌধুরী তাদের কথাই একটুও অবাক হন না। কারণ তারা জানতেন ই যে তারা কাউকে কিছু না বললেও নীলাধ্র চুপ থাকবে না। এই নিয়ে ২০ এর অধিক বিয়ে ভেঙ্গেছে নীলাধ্র নিজেই।
__:- আমরা এই বাড়িতে আমাদের মেয়ের বিয়ে কিছুতেই দেবো না। এই চলো এখান থেকে।
বলেই তারা সবাই চলে যায়। তারা চলে যেতেই নাজিয়া চৌধুরী কান্নাই ভেঙ্গে পড়েন। কি থেকে কি যে হয়ে গেলো তার ছেলের জীবনের সাথে। আদনান চৌধুরী, নাজিয়া চৌধুরীর কাছে গিয়ে বলে,
__:- এখন কেঁদে কি হবে। বার বার তোমাকে বলেছিলাম যে আরুহি কে মেনে নাও। তোমার ছেলের আর যতই বিয়ে দাও না কেনো বংশধরের মুখ তুমি দেখতে পাবে না। আর তাছাড়াও আরুহি, নীলাধ্র র স্ত্রী। হতে পারে ধর্মীয় ভাবে বিয়েটা হয়েছে কিন্তু হয়েছে তো নাকি। তুমি মেনে নিলেই আর কোনো সমস্যা হয় না।
নাজিয়া চৌধুরী নিজের চোখের পানি মুখে আদনান চৌধুরী কে বলে,
__:- ঠিক আছে তাহলে আরুহি কে খোঁজার ব্যবস্থা করো। আমি মেনে নেবো ওকে।
নীলাধ্র:- তার কোনো দরকার নেই। আমি নিজেই আমার স্ত্রী আর ছেলেকে আনতে যাবো।
নাজিয়া চৌধুরী, নীলাধ্র র কথাই তার দিকে তাকান। নীলাধ্র সুন্দর করে রেডি হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছে। নাজিয়া চৌধুরী বসা থেকে উঠে নীলাধ্র র কাছে যান আর বলেন,
__:- ছেলে মানে!!
নীলাধ্র:- হ্যাঁ আরুহির সাথে যখন আমার শেষবার দেখা হয়েছিল ও বলেছিল আমাদের ছেলে হবে। আমি ওকে ফিল করেছি আম্মু। তুমি তো জানোই যে এতদিন আমি কি অবস্থায় ছিলাম। এখন আমি সুস্থ্য। তাই আরু আর আমার সন্তানকে এই বাড়িতে নিয়ে আসবো। সসম্মানে ওদেরকে এই বাড়িতে ফিরিয়ে আনবো।
__:- যা বাবা তাড়াতাড়ি যা আরু আর আমার দাদুভাইকে ফিরিয়ে আন। যা তাড়াতাড়ি যা।
জাইরা:- বাহ্ আম্মু বাহ্, এখন তোমার দাদুভাই হয়ে গেলো। সেইদিন তুমি, ভাইয়া আর আব্বু মিলে আরুকে আর ওর পরিবারকে সবার সামনে যেভাবে অ’প’মা’ন করে বের করে দিলে তারপর ও কি তোমাদের মনে হয় যে ও আর এই বাড়িতে ফিরে আসবে!!
নীলাধ্র:- ওকে ফিরতেই হবে। দরকার পড়ে আমি ওর পা ধরে সবার সামনে ক্ষমা চাইবো। আমি যে অ’ন্যায় ওর সাথে করেছি তার জন্য যা যা প্রায়শ্চিত্ত করা লাগে আমি করবো। তবু ও ওকে আমি এই বাড়িতে ফিরিয়ে আনবোই।
জাইরা:- ভাইয়া তোর কি মনে হয় আরু আদেও তোর সাথে এই বাড়িতে ফিরে আসবে?? তোরা শুধু ওকে অ’প’মা’ন ই করিস নি, একটা পবিত্র সম্পর্ক কে ও নোং’রা করেছিস। ওর আত্মসম্মানে আ’ঘা’ত করেছিস। আর আরু এতটাও মেরুদণ্ডহীন মেয়ে নয় যে ওর আত্মসম্মানে যে আ’ঘা’ত করেছে ও সেইসব ভুলে গিয়ে আবার তার কাছে ফিরে আসবে। হতে পারে আমার সাথে আরুর কয়দিনের পরিচয় তবে ঐ কয়দিনে আমি ওকে যতটুকু চিনেছি তাতে ওর সাথে সেইদিন যা যা হয়েছে তারপর ও আর এই বাড়িতে ফিরবে না।
নীলাধ্র:- তোর থেকে আমি আরু কে বেশি চিনি। ও খুব সহজ সরল। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাইলেই ও আমাকে মাফ করে দেবে, আমি জানি। আর ওকে আমি যেভাবেই হোক এই বাড়িতে নিয়ে আসবো। ওকে অনেক ক’ষ্ট দিয়েছি এতদিন। অনেক অবহেলা করেছি কিন্তু আর নয়।
জাইরা তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
জাইরা:- সহজ সরল বলেই তো আরুর জীবনটা এইভাবে ন’ষ্ট করে দিলি। তোরা ছেলে মানুষ। তোরা কি বুঝবি একটা মেয়ের কাছে তার সতীত্ব কত বড় সম্পদ। সমাজের সকলের সামনে তার গায়ে একবার কলঙ্ক লাগলে মুছে ফেলা খুব কঠিন। অথচ মেয়েটার কোনো দোষই ছিলো না। আরু তো এইসব ডিজার্ভই করে না। আর তুই তো আরুর মর্মটাই বুঝিসনি। এখন আরু ছাড়া তোর কাছে কোনো পথ নেই দেখেই তুই আরু কে আবার ফিরিয়ে আনতে চাইছিস। সময় থাকতে যদি ওর কদর করতিস। ওকে সকলের সামনে স্বীকৃতি দিতিস তাহলে না আরুর জীবনটা ন’ষ্ট হতো আর না তোর এই অবস্থা হতো। তুই আরুর সাথে যা যা করেছিস তারপর ও কি আরু তোকে কোনোদিন ক্ষমা করতে পারবে? আমার তো তা মনে হয় না।
নীলাধ্র:- আমি জানি আমার আরু আমাকে ক্ষমা করে দেবে। ও বলেছিল ও চাইলেও কখনোই আমাকে ঘৃ’ণা করতে পারবে না। ওর জীবনের শেষ নিঃশ্বাস অব্দি আমাকে ভালোবেসে যাবে।
জাইরা:- ভালোবেসে যাবে, কিন্তু এটা ও তো বলে নি যে ও তোকে ক্ষমা করে দেবে।
জাইরার কথা গুলো নীলাধ্র কে ভাবতে বাধ্য করে। সত্যি তো আরু ভালবাসবে বললেও ক্ষমা করার কথা কখনোই বলে নি তাকে। তাহলে কি আরু তাকে ক্ষমা করবে না। নীলাধ্র আর ভাবতে পারলো না। নীলাধ্র সকলের উদ্দেশ্যে বলে,
নীলাধ্র:- আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। আর যতদিন না আমি আরু আমার আমাদের সন্তানকে এই বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারব ততদিন আমি ও এই বাড়িতে ফিরবে না।
বলেই নীলাধ্র বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় আরুহি আর তার সন্তান কে আনতে। তবে সে তো আর জানে না যে তার জন্য ঠিক কি অপেক্ষা করছে। আরুহি কি আদেও তার কাছে ফিরবে নাকি হারিয়ে যাবে সারাজীবনের মতো!!!!
,,,,,,,,,,,,,,,
আরুহির সাথে সেদিন কথা বলার পর নীলাধ্র আর নিরা দুইজন শপিংমলে যায় বিয়ের শপিং করতে। সব কিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু নীলাধ্র মন থেকে এই বিয়েটা করতে চাইছিল না। কারণ তার অজান্তেই তার মনের পুরোটা জায়গা জুড়ে বিরাজ করছিল আরুহি আর তার সন্তান।
তার বাবা আদনান চৌধুরী আর নাজিয়া চৌধুরী নিজেদের বিসনেসের জন্য হাফিজ কায়সারের কাছে অনেক অনুরোধ করাই তিনি রাজি হন নিজের মেয়ের সাথে নীলাধ্র র বিয়ে দিতে। একরকম নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে নীলাধ্র নিরাকে বিয়ে করতে রাজি হয়।
একটা ছোট্ট কাজের খাতিরে বাইরে যাওয়ায় বিয়ের শুরু হওয়ার ঠিক ২ ঘণ্টা আগে নীলাধ্র র একটা গুরুতর দুর্ঘটনা হয়। যার ফল স্বরূপ সে টানা ৫ দিন আইসিইউ তে ভর্তি ছিল। এই দুর্ঘটনার ফলে সে সারাজীবনের মতো নিজের বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সাথে সে কোমাই ও চলে যায়।
এই খবর জানার পর হাফিজ কায়সার নীলাধ্র র সাথে নিরার বিয়ে ভেঙ্গে দেন। ২ বছর কোমাই থাকার পর একদিন তার জ্ঞান ফেরে। তখন সে জানতে পারে নিজের ব্যাপারে।
এরপর নাজিয়া চৌধুরী বিভিন্ন জায়গায় নীলাধ্র র বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তবে প্রতিবারই নীলাধ্র নিজেই বিয়ে টা ভেঙ্গে দেই। সাথে সে আরুহির খোঁজ ও করতে শুরু করে। ১ বছর পর সে আরুহির খোঁজ পেয়েছে। তাই এখন সে আরুহির কাছে যাচ্ছে তাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে।
,,,,,,,,,,,,,,,
কলিং বেল বেজে ওঠায় ফারাহ যায় দরজা খুলতে। দরজা খুলতেই ফারাহ দেখতে পাই যে নীলাধ্র দাঁড়িয়ে আছে। নীলাধ্র কে দেখেই ফারাহ দরজা আটকে দিতেই যাবে এমন সময় নীলাধ্র হাত দিয়ে আটকিয়ে বলে,
নীলাধ্র:- ভাবী দরজা কেনো আটকাচ্ছেন?
ফারাহ:- এখানে কি কাজ তোমার?? (গম্ভীর কণ্ঠে)
নীলাধ্র:- আমি আরুর সাথে দেখা করতে এসেছি। শুধু দেখা না ওকে আমার সাথে নিয়ে যেতে এসেছি।
ফারাহ:- কিন্তু ও তো তোমার সাথে যাবে না।
নীলাধ্র:- জানি ও এত সহজে আমার সাথে যাবে না। ব্যাপার না আমার আরু আমার ওপর রা”গ করেছে, অ’ভি’মা’ন করেছে। আমি এসে গিয়েছি না। ওর সব রা’গ, অ’ভি’মা’ন আমি ভেঙ্গে দেবো। ওকে ডাকুন ভাবী, আমি ওর সাথে দেখা করতে চায়। (মুচকি হেসে)
ফারাহ:- তুমি দেখা করতে চাইলেই তো আর হবে না। আর তাছাড়াও আরু তোমার সাথে দেখা করতে পারবে না।
নীলাধ্র:- কেনো পারবে না ওকে ডাকুন। আমি ওর সাথে কথা বলবো।
ফারাহ:- একি কথা কতবার বলতে হবে তোমাকে হ্যাঁ। বললাম না আরু তোমার সাথে দেখা করতে পারবে না। চলে যাও এখান থেকে।
নীলাধ্র:- আরুর সাথে দেখা না করে আমি কোত্থাও যাবো না। ওকে ডাকুন।
ফারাহ:- বললাম না ও তোমার সাথে দেখা করতে পারবে না।
নীলাধ্র:- আমি….
রিহান:- কি হচ্ছে ফারাহ এখানে?? (গম্ভীর কণ্ঠে)
রিহানের আওয়াজ পেয়ে নীলাধ্র ঘুরে দাঁড়ায়। রিহান খেয়াল করেনি যে নীলাধ্র এসেছে। সে একটু দোকানে গিয়েছি কিছু টুকিটাকি জিনিস কিনতে।
বাড়ির সামনে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে কথা বলছে তাই জলদি সেখানে যায়। ছেলেটা ঘুরতেই রিহান হতভম্ব হয়ে যায়।
রিহান:- তু~তুমি এখানে!! এখানে কি করছ তুমি??
নীলাধ্র:- ভাইয়া আপনি এসেছেন ভালোই হয়েছে। দেখুন আমি কোনো ভনিতা না করেই বলছি। আমি আরু আর আমাদের সন্তানকে নিয়ে যেতে এসেছি। তাই ভাবী কে বলছিলাম যে আরুর সাথে যেনো আমাকে কথা বলতে দেন। কিন্তু উনি আমার কথা শুনছেন না।
নীলাধ্র র কথা শুনে রিহান চোয়াল শক্ত করে বলে,
রিহান:- ফারাহ তো ঠিক কথাই বলেছে। আরুর সাথে তোমার কোনো কথা হবে না। তুমি এখন আসতে পারো।
নীলাধ্র:- না আমি আরুর সাথে দেখা না করে কোত্থাও যাবো না।
রিহান:- তোমাকে বললাম না যে আরুর সাথে দেখা করা যাবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা ও তোমার সাথে দেখাই করতে পারবে না।
নীলাধ্র:- কেনো পারবে না। আপনারা যতক্ষণ না আরুর সাথে আমার দেখা করাবেন ততক্ষণ আমি এখানেই থাকব।
রিহানের চোখ গুলো হঠাৎই ভিজে উঠে। সে নিজের চোখের পানি মুছে চোয়াল শক্ত করে বলে,
রিহান:- আরু তোমার সাথে দেখা করার মতো অবস্থাতেই নেই। তাই এখন তুমি আসতে পারো। আর কক্ষনো এই বাড়িতে এসো না। ওর দেখা আর তুমি কক্ষনো পাবে না। যাও এখন এখান থেকে প্লিজ।
নীলাধ্র:- কেনো ওর দেখা পাবো না আমি?? আরু কি এখানে নেই? আচ্ছা আমাকে বলুন আরু কোথায় আছে আমি ওর সাথে দেখা করতে চায়। প্লিজ বলুন।
রিহান:- বললাম না ও তোমার সাথে দেখা করতে পারবে না। এক কথা কত বার বলা লাগবে। যাও এখান থেকে।
নীলাধ্র:- না আমি আরুর সাথে দেখা না করে কোত্থাও যাবো না।
রিহান:- তাহলে দাঁড়িয়ে থাকো।
বলেই রিহান বাড়ির ভেতর ঢুকে নীলাধ্র র মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেই। নীলাধ্র হাল ছাড়ে না। সে ঐখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। সে আজকে যায় হয়ে যাক না কেনো আরুহির সাথে দেখা না করে কোত্থাও যাবে না। দরকার হয় এখানেই বসে থাকবে সারাদিন।
,,,,,,,,,
সেই সকাল থেকেই নীলাধ্র দাঁড়িয়ে আছে রিহানের বাড়ির সামনে। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্য”থা হয়ে গিয়েছে তাই কিছুক্ষন বসছে আবার দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বিকেলের দিকে রিহান বাড়ির বাইরে বের হয়।
বের হয়েই রিহান দেখতে পাই যে নীলাধ্র এখনো বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। রিহান ভেবেছিল যে নীলাধ্র হয়তো চলে গিয়েছি। রিহান নীলাধ্র র কাছে গিয়ে বলে,
রিহান:- এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো এখানে, বললাম না চলে যাও আরুর সাথে তোমার আর কখনোই দেখা হবে না।
নীলাধ্র:- প্লিজ ভাইয়া ওর সাথে একবার আমাকে দেখা করতে দিন।
রিহান:- আচ্ছা নাছোড় বান্দা ছেলে তো তুমি যাও এখান থেকে ওর সাথে তুমি দেখা করতে পারবে না।
নীলাধ্র:- আমার…
রিহান, নীলাধ্র কথা না শুনেই চলে যায়। নীলাধ্র, রিহান কে আর কিছুই বলতে পারে না। রাত ৮ টার সময় রিহান বাড়িতে ফেরে। দরজার কাছে আসতেই রিহান খেয়াল করে যে নীলাধ্র দেওয়ালের সাথে মাথা ঠেকিয়ে ঢুলছে।
দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জার্নি করে ঢাকা থেকে সে বরিশালে এসেছে শুধু মাত্র আরুহি আর তার সন্তান কে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। সারারাত ঘুম ও হয়নি বাসে। তাই শরীর টাও বেশ ক্লান্ত তার ওপর সারাদিন বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল সে। একটু ও রেস্ট নেয়নি।
তাই দেওয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে বসতেই ঢুলতে শুরু করেছে নীলাধ্র। রিহান কিছু না বলে বাড়িতে ঢুকে যায়।
কিছুক্ষণ পর রিহান হাতে খাবারের প্লেট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে আর নীলাধ্র র সামনে দাঁড়িয়ে তাকে ডাকতে থাকে। বেশ কয়েক বার ডাকার পর নীলাধ্র উঠে পড়ে।
রিহান:- এই খাবার টুকু খেয়ে এখান থেকে চলে যাও। শুধু শুধু আরুর জন্য তোমার মূল্যবান সময় ন’ষ্ট করো না। তোমার অপেক্ষার ফল শূন্য ছাড়া আর কিছুই দাঁড়াবে না। যাদের জন্য তুমি এসেছো তারা আর কখনোই তোমার সাথে ফিরবে না। তাই চলে যাও।
নীলাধ্র:- আপনি বার বার একি কথা বলছেন কেনো ভাইয়া। আপনারা শুধু একটিবার আরুর সাথে আমাকে কথা বলতে দিন। আমি যেভাবেই হোক আরু কে আমার সাথে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।
রিহান:- সেটা আর সম্ভব নয়। আরু আর তোমাদের সন্তান কখনোই তোমার সাথে ফিরবে না। চলে যাও এখান থেকে।
নীলাধ্র কে আর কোনো কথা না বলতে দিয়েই রিহান সেখান থেকে চলে যায়।
নীলাধ্র:- আরু আমি আজ সারাদিন তোর জন্য বাইরে অপেক্ষা করছি আর তুই একবার ও আমার সাথে দেখা করতে আসলি না। এই ৩ বছরে তুই এতোটা পরিবর্তন হয়ে গেলি। তুই না আমাকে ভালোবাসিস। তাহলে আমি এসেছি জেনে ও কেনো আমার সাথে দেখা করতে আসছিস না। এতটা অ’ভি’মা’ন করেছিস আমার ওপর। অবশ্য তোর আমার ওপর অ’ভি’মা’ন করাটা খাটে। কোনো ব্যাপার না। তোর সকল অ’ভি’মা’ন আমি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেবো। তোকে আর কোনো ক’ষ্ট দেবো না, আর কোনো অবহেলা করব না।
,,,,,,,,,,,
সকালে রিহান আসে দেখতে যে নীলাধ্র এখানে এখনো আছে নাকি। রিহান বাইরে এসে দেখে যে নীলাধ্র এখনো বাড়ির সামনেই বসে আছে।
রিহান:- নীলাধ্র তোমাকে বললাম না যে এখানে অপেক্ষা করে তোমার কোনো লাভ নেই। আরুর সাথে তোমার দেখা হবে না তাও কেনো যাচ্ছ না। নিজের কাজ কর্ম ফেলে দিয়ে এখানেই পড়ে আছো। চলে যাও না।
নীলাধ্র:- না আমি বললাম না, আরুর সাথে দেখা না করে কোত্থাও যাবো না। ওকে ডেকে দিন না ভাইয়া। আমি জানি আমি যেই কাজ করেছি সেটা অ’ন্যায়। আমি আরু কে আর আমাদের সন্তান কে সবার সামনে অস্বীকার করেছি। আরুর আত্মসম্মানে আ’ঘা’ত করে অনেক বড় অ’প’রা’ধ করেছি। আমি ওর কাছে ক্ষমা চাইবো আর ওকে স্বীকৃতি দেবো। ওকে বলুন না যে আমি ওর সাথে কথা বলতে চাইছি।
রিহান কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,
রিহান:- তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছো নীলাধ্র, অনেক দেরি। আরুর সাথে দেখা করার জন্য তোমার আরো তিন বছর আগে আসার দরকার ছিল।
নীলাধ্র রিহানের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছে না। তাই সে জিজ্ঞেস করে,
নীলাধ্র:- দেখুন ভাইয়া আপনি একটু পরিষ্কার করে বলবেন আরু ঠিক কোথায় আছে। আমি আপনার কথার আগা মাথা কিছুই বুঝতে পারছি না।
রিহান:- আরুর সাথে দেখা করতে চাও না তুমি??
নীলাধ্র:- হ্যাঁ চাই কোথায় ও, ডাকুন ওকে।
রিহান:- এসো আমার সাথে।
রিহানের পিছন পিছন নীলাধ্র ও যায়। রিহান একটা বড় কাঠগোলাপ গাছের কাছে আসে। গাছটা শত শত সাদা কাঠগোলাপে ভর্তি। দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে গাছটা। রিহান, নীলাধ্র কে সামনে ইশারা করে বলে,
রিহান:- ঐ যে আরু আর তোমার সন্তান। যাও গিয়ে কথা বলো।
নীলাধ্র সামনে তাকাতেই দেখতে পাই কাঠগোলাপ গাছের নিচে দুইটা কবর। কবরের ওপর অনেক গুলো #মৃত_কাঠগোলাপ পড়ে আছে।
নীলাধ্র:- এখানে আরু আর আমার সন্তান আছে মানে?? (কম্পিত স্বরে)
তখন রিহান বলতে শুরু করে,
,,,,,,,,,,,
নীলাধ্র র সাথে কথা বলে আরুহি একা একাই হেঁটে যাচ্ছিল। নীলাধ্র র পিছু করতে করতে সে নিধি কে অনেকটা পেছনে ফেলে চলে এসেছে।
আরুহির চোখ জোড়া কোনো বাঁধ ই মানছে না আজকে। অঝোরে বৃষ্টি মতো তার চোখের পানি ঝরছে। বার বার চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসছে।
আরুহি বার বার চোখের পানি মুছছে কিন্তু বার বার তার চোখ জোড়া ভরে উঠছে। ফলে সামনের রাস্তা সে ঠিক মতো দেখতে পাচ্ছে না।
সে ধীরে পায়ে হেঁটেই চলেছে। হঠাৎ করেই তার পা একটা ইটের টুকরোর সাথে বেঁধে যায় ফলে সে গিয়ে পড়ে রাস্তার একদম মাঝ বরাবর।
ভারী পেট নিয়ে সে কিছুতেই উঠতে পারছে না। এদিকে পরে যাওয়ার ফলে ওয়াটার ব্রেক হয়েছে তার সাথে ব্লি’ডিং ও হচ্ছে খুব। পেটে অসহ্য ব্য’থা হচ্ছে।
পেটের ভেতর বাচ্চাটা ও বেশ ছটফট করছে। পড়ে যাওয়ার ফলে বাচ্চাটা বেশ ব্য’থা পেয়েছে, তাই হয়তো পেটের ভেতর ছটফট করেছে। যার ফলে আরো বেশি পেট ব্য’থা করছে আরুহির। ব্য’থা’য় হাত পা অবশ হয়ে আসছে। তাও চোখ মুখ খিঁচে সে ওঠার চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না।
থেকে থেকে দুই একটা গাড়ি যাচ্ছে। এইভাবে রাস্তার মাঝে পড়ে থাকলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা হতে পারে তার। সে যে রাস্তায় এইভাবে পড়ে আছে অথচ কেউই তাকে হেল্প করছে না। করবেই বা কিভাবে দুপুরের সময় রাস্তায় লোকজনই তো নেই।
আর যে কয়জন আছে তারা সবাই যে যার মতো কাজ করে যাচ্ছে। একটা মানুষ যে রাস্তায় এইভাবে পড়ে আছে তাদের এতে কোনো খেয়ালই নেই।
তখনই একটা গাড়ি বেসামাল ভাবে তার দিকেই এগিয়ে আসছে অথচ সেইদিকে আরুহির কোনো খেয়ালই নেই। সে উঠার চেষ্টা করেই যাচ্ছে। মুহুর্তের মধ্যেই গাড়িটা আরুহির পেটের ওপর দিয়ে উঠে একটা গাছের সাথে বাড়ী খাই।
আর এক বিকট শব্দে গাড়িটা ব্লাস্ট হয়ে যায়। বিকট আওয়াজ পেয়ে কিছু মানুষ নিজেদের কাজ ফেলে চলে আসে কি হয়েছে তা দেখতে।
রাস্তার মাঝে র’ক্তে’র ছড়াছড়ি। আরুহির তখন ও জ্ঞান ছিলো। ধীরে ধীরে শ্বাস ফেলছে আরুহি। আশপাশটা কেমন যেনো ঘোলাটে হয়ে আসছে তার। অনেক মানুষের আওয়াজ কানে ভেসে আসছে তবে সে কোনো কিছুই বলতে পারছে না।
হঠাৎ করেই তার মনে হচ্ছে শরীর টা খুব হালকা হয়ে গিয়েছে। আরুহি ধীরে ধীরে চোখ বুজে ফেলে। চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ে তার। চোখ বোজার আগেও সে যেনো ঘোলাটে চোখে নীলাধ্র কে দেখতে পেয়েছে।
সামনে এতো ভিড় দেখে নিধি থেমে যায়। কিছু মহিলা সেখান থেকেই আসছিল। নিধি তাদেরকে দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করে,
নিধি:- আচ্ছা ঐখানে কি হয়েছে? সবাই জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যে??
__:- একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। একটা মেয়ের ওপর দিয়ে নাকি গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে একজন। গাড়িতে ব্লাস্ট হয়ে গিয়েছে। ঐ গাড়ি চালক ও মা’রা গিয়েছে। মেয়েটার অবস্থাও বেশ একটা ভালো না, বেচারি। কে জানি বাঁচবে কি না। পেটের বাচ্চা টা মনে ম’রে’ই গিয়েছে।
মহিলার মুখে এমন কথা শুনে নিধির ভয় হতে লাগে। কারণ সে আরুহি কে কোথাও খুঁজে পাচ্ছে না। নিধি বুকে সাহস নিয়ে ভিড় ঠেলে দেখতে যায়।
নিধির হাত পা থর থর করে কাঁপছে সামনে পড়ে থাকা র’ক্তা’ক্ত আরুহির নিথর দেহ দেখে। নিধি একটা চি’ৎ’কা’র দিয়ে আরুহির নিথর দেহের কাছে ছুট্টে যায়।
,,,,,,,,,,
নিধি:- হে~লো হেলো ভা~ভাইয়া, আপনি কোথায় তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেলে আসুন। আ~আরু।
আর বলতে পারলো না নিধি তার আগেই কান্নাই ভে’ঙ্গে পড়ল। নিধি কে এইভাবে আরুহির কথা বলে কাঁদতে শুনে রিহানের বুক ধক করে উঠে।
রিহান:- নিধি এই নিধি আ~আরুর কি হয়েছে। নিধি চুপ করে থাকবি না। বল না আরু আমার বোনের কি হয়েছে, নিধি।
নিধি:- ভাইয়া আমি বলতে পারছি না। আপনি প্লিজ তাড়াতাড়ি হসপিটালে চলে আসুন।
,,,,,,,,,,
রিহান আজকেই ঢাকাতে ফারাহ কে নিয়ে এসেছিল ডাক্তার দেখাতে। রিহানের কালকে আসার কথা থাকলেও সে আজকেই এসেছিল।
রিহান:- আ~আরু আরু, নিধি আমার বোনু। ও কোথায়? নিধি চুপ করে আছিস কেনো।
নিধি কান্না করেই যাচ্ছে কিছু বলতেই পারছে না। ফারাহ ও কান্না করছে। কাঁদতে কাঁদতে নিধির কাছে যায় আর বলে,
ফারাহ:- নিধি কিছু বল। তোর ফোন পেয়ে ছুট্টে আসলাম। আরুর কিছু হয়নি তো, হ্যাঁ। ও ঠিক আছে? বল না নিধি চুপ কেনো তুই।
নিধি:- ভাবী আ~আরু।
ফারাহ:- হ্যাঁ বল কি, আরু কোথায় ও ঠিক আছে তো? বল না কি হলো। (অস্থির কন্ঠে)
নিধি:- ভাবী আমাদের আ~আরু আমাদের আরু আর আমাদের মাঝে নেই ভাবী। আরু আর নেই এই দুনিয়ায়। আমাদের আরু এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করেছে, ভাবী। আরু র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিল, ভাবী। ওর নিথর দেহটা র’ক্তা’ক্ত অবস্থায় পড়েছিল। কেউ ওকে সাহায্য করেনি ভাবী। ওরা কেউ যদি একটু সাহায্য করতো তাহলে আজকে আমাদের আ~আরু বেঁচে থাকতো, ভাবী। ও বেঁচে যেতো।
নিধির কথা শুনে ফারাহ ধপ করে নিচে বসে পড়ে। আর রিহান সে তো এই জগতেই নেই। আজকে তার একমাত্র আদরের বোন, তার বাবা মায়ের রেখে যাওয়া আমানত, তার প্রথম সন্তান আরু তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। রিহান যেনো বিশ্বাসই করতে পারছে না।
রিহান পড়ে যেতে নিয়েও নিজেকে সামলিয়ে নেয় তারপর নিধির কাছে গিয়ে বলে,
রিহান:- আমার আরু টা কোথায় নিধি। ওকে আমি দেখবো। কোথায় আমার বোনটা??
নিধি কান্না করার ফলে কিছুই বলতে পারছে না। তখন এক নার্স এসে বলেন,
__:- আপনারা কি লা’শে’র বাড়ির লোক??
রিহান নার্সের কথাই চিল্লিয়ে বলে,
রিহান:- এই আপনি কাকে লা’শ বলছেন হ্যাঁ। ও আমার বোন। আমার কলিজা। আপনার সাহস কিভাবে হয় ওকে লা’শ বলার, হ্যাঁ। ওর নাম আরু।
__:- লা’শ কে লা’শ বলব না তো কি বলবো!!
রিহান:- আবার ওকে লা’শ বলছেন আপনি? কোথায় আমার বোন? আমি দেখবো। আমাকে নিয়ে চলুন আমার বোনের কাছে।
__:- হ্যাঁ আসুন।
নার্সের পিছন পিছন রিহান, ফারাহ আর নিধি ও যায়। আরুর নিথর দেহটা পড়ে আছে হসপিটালের সাদা বেডে।
রিহানের পা ভীষণ কাঁপছে। চোখ গুলো টলমল করছে। সে ঢলতে ঢলতে আরুহির লা’শে’র কাছে আসে। আরুহির কাছে গিয়ে তার মুখখানা নিজের কম্পিত হাতে স্পর্শ করে।
রিহান:- আ~আরু বোন আমার। বা~বাবা মায়ের মতো তুই ও আ~আমাকে একা ফেলে চলে গেলি। ভাইয়াকে কেনো একা করে দিলি আরু। আ~আরু উঠনা বোনু প্লিজ উঠ। তোর ভাইয়া তোকে ডাকছে না। তুই তো তোর ভাইয়ার সব কথা শুনিস। তাহলে এখন কেনো শুনছিস না। উঠ বোনু উঠ। তোর ছেলেটা যে অনাথ হয়ে যাবে। তুই ছাড়া ওর কে আছে বল আ~আরু উঠ। (কাঁদতে কাঁদতে)
তখনই নার্স সাদা তোয়ালে মোড়ানো একটা বাচ্চা নিথর দেহ নিয়ে এসে বলে উঠে,
__:- এটা উনার বাচ্চা। আমরা বাচ্চাটাকে ও বাঁচাতে পারিনি। পেটের ওপর অতিরিক্ত প্রেসার পড়ায় বাচ্চাটা মাথায় গুরুতর আ’ঘা’ত পেয়েছিল। আর অক্সিজেন এর অভাব ও ছিল। যার ফলে হসপিটালে আনতে আনতেই বাচ্চা আর বাচ্চার মা দুইজনই মা’রা গিয়েছে।
ফারাহ নার্সের হাত থেকে বাচ্চা টাকে কো’লে নিয়েই কেঁদে দেই। একটা ফুটফুটে বাচ্চা, কি ভাগ্য। পৃথিবীর আলো দেখার আগেই এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলো।
ফারাহ বাচ্চাটা কে রিহানের কাছে নিয়ে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
ফারাহ:- দে~দেখো বাচ্চা টাকে একদম আমাদের আ~আরুর মতো হয়েছে। রি~রিহান এটা কি হয়ে গেলো। আ~আরু উঠ না, আরু। এই আরু উঠ না। সেইদিন তুই যখন আমাকে বললি ভাবী মা আর হয়তো তোমাদের সাথে কোনোদিন ও দেখা হবে না তখন আমার বুকটা খালি খালি লাগছিল। খুব ক’ষ্ট হচ্ছিল তোর জন্য। রিহান আমার আ~আরু ও উঠছে না কেনো। ওকে উঠতে বলো না। রিহান বলো না ওকে উঠতে। (কাঁদতে কাঁদতে )
রিহান, ফারাহ কে জ’ড়ি’য়ে ধরে জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো। আজকে যেনো তাদের দুইজনের বুকটা খালি হয়ে গেলো। তারা দুই জনই তো আরুহি কে নিজেদের সন্তানের মতো দেখতো।
,,,,,,,,,,
ফারাহ উঠানের এক কোণে পিলারের সাথে মাথা ঠেকিয়ে আরুহির লা’শে’র দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে আছে। কাঁদতে কাঁদতে চোখ দুইটা তার ফুলে গিয়েছে।
এখনি আরুহি আর বাচ্চাটার লা’শ নিয়ে যাওয়া হবে দাফনের জন্য। বাচ্চাটার লা’শ একজন কো’লে নিয়েছে আর রিহান আরুহির খাটুলি ধরেছে। সে কখনো ভাবতেও পারেনি যে কোনোদিন তার প্রাণ প্রিয় বোনের খাটুলী ধরতে হবে তাকে।
যাকে কো’লে পিঠে করে মানুষ করলো আজকে তার খাটুলী তুলছে রিহান। আরুহির কাঠগোলাপ খুব পছন্দ। প্রায় সময় মন খা’রা’প হলেই এই কাঠগোলাপ গাছের নিচেই বসে থাকতো।
সে প্রায়ই বলতো সে যদি ম’রে যায় তাহলে তাকে যেনো এই কাঠগোলাপ গাছের নিচেই দাফন করা হয়। আরুহির এমন কথা শুনে রিহান তাকে খুব বকাঝকা করতো। আর আজকে রিহান তাকে সেখানেই দাফন করে এলো।
,,,,,,,,,,
রিহান:- আমার বোনটা আজ থেকে তিন বছর আগেই এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে নীলাধ্র। কতটা ক’ষ্ট, কতটা যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমার বোনটা এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে জানো তুমি!! জানবে কীভাবে, তুমি তো বেশ সুখেই ছিল তখন। তুমি বড্ড নির্দয়, নীলাধ্র। তোমার তো কোনো দয়া মায়া নেই। কি দোষ ছিল আমার ছোট্ট বোনটার। শুধু তোমাকে ভালোই তো বেসেছিল। কি এমন অ’প’রা’ধ করেছিল তোমাকে ভালোবেসে যে তার প্রতিদান তুমি এইভাবে দিলে নীলাধ্র? কি ক্ষ’তি হতো ওকে একটু ভালোবাসলে। ছোট থেকে আমার বোনটা বাবা মা কাউকে পাইনি। বড্ড ভালোবাসার কাঙাল ছিল আমার আরু টা। যেই ওকে একটু ভালোবাসা দেখাতো ও তার জন্য নিজের জান টাও দিতে এক পায়ে খাড়া হয়ে যেতো। ও তো তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসতো। কেনো এমনটা করলে নীলাধ্র, কেনো। আজকে যদি তুমি আরুর সাথে এমনটা না করতে তাহলে হয়তো আমার বোনটার এমন পরিণতি হতো না। (কাঁদতে কাঁদতে)
রিহান আর একমুহুর্ত সেখানে দাঁড়ায় না। কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। নীলাধ্র এখনো থ মে’রে দাঁড়িয়ে আছে। ধীর পায়ে সে আরুহির কবরের কাছে যায়।
কবরের কাছে আসতেই সে ধপ করে বসে পড়ে। ধীরে ধীরে হাত বাড়ায় আরুহির কবর স্পর্শ করার জন্য। তার হাত প্রচণ্ড কাঁপছে। কবরে স্পর্শ করতেই আরুহির সেইদিনের বলা প্রত্যেকটা কথা নীলাধ্র র মনে পড়ে যায়।
আরুহি তাকে বলেছিল এটাই তাদের শেষ দেখা। হয়তো আর কোনো দিনও তার সাথে নীলাধ্র র দেখা হবে না। আর যদি হয় তবে সেইদিন সে থাকবে এক শান্তির জায়গাই আর নীলাধ্র, তার বুকে থাকবে “না পাওয়ার” যন্ত্রণা।
আরুহি ঠিকই বলেছিল আজকে সে আছে এক শান্তির জায়গাই আর নীলাধ্র র বুকে তাকে “না পাওয়ার” যন্ত্রণা।
নীলাধ্র হাত দিয়ে পা’গ’লে’র মতো করে আরুহির কবরের ওপর থেকে #মৃত_কাঠগোলাপ গুলো সরাচ্ছে আর তার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি ঝরছে।
নীলাধ্র:- ফিরে আই না আরু। আমি তোর সাথে অনেক অ’ন্যায় করেছি। আমাকে ক্ষমা করে দে আরু। তুই ঠিকই বলেছিলি তোর অনুপস্থিতি আমাকে পোড়াবে। সত্যি তোর অনুপস্থিতি আমাকে বড্ড বেশীই পোড়াচ্ছে। আরু আমি অ’প’রা’ধী, তুই আমাকে শাস্তি দে, আমাকে ক’ষ্ট দে তবুও আমার কাছে ফিরে আই না আরু। আর কখনো তোকে ক’ষ্ট দেবো না আরু। ফিরে আই না আরু, প্লিজ ফিরে আই। আমার বুকটা যে খালি খালি লাগছে, প্লিজ শেষবারের মতো ফিরে আই এই বুকে। বিশ্বাস কর এইবার আমি তোকে আগলে রাখবো। আমার আর কিছুই চাইনা। শুধু তুই একবার ফিরে আই, আরু।
পা’গ’লে’র মতো কাঁদতে কাঁদতে কথা গুলো বলল নীলাধ্র। দাঁত থাকতে মানুষ যেমন তার মূল্য দেই না, ঠিক তেমনি অবহেলিত মানুষ গুলো বেঁচে থাকতে তার মূল্য কেউই দেই না। যখন সেই মানুষটা আর কখনোই ফিরবে না তখনই মানুষ তার মূল্য বোঝে।
আরুহি যখন নীলাধ্র কে বার বার করে বলেছিল তাকে আর তার সন্তানকে স্বীকৃতি দিতে তখন নীলাধ্র, আরুহি কে অবহেলা করেছিল, ক’ষ্ট দিয়েছিল, সবার সামনে তার আত্মসম্মানে আ’ঘা’ত করেছিল। একবার ও ভাবে নি যে সেই মানুষটার ঠিক কতটা ক’ষ্ট হয়েছে নিজের প্রিয়জনের থেকে এমন ব্যবহার পেয়ে।
আজকে নীলাধ্র, আরুহির মর্মটা বুঝতে পেরেছে কিন্তু সত্যি সে অনেক দেরি করে ফেলেছে আরুহির মর্মটা বুঝতে। এখন আর বুঝেও কোনো লাভ নেই। কারণ সে তো আরুহি কে চিরো তরে হারিয়ে ফেলেছে।
,,,,,,,,,,,
আরুহি:- “কেনো রোদের মতো হাসলে না,
আমায় ভালোবাসলে না,
আমার কাছে দিন ফোরালেও আসলে না,
এই মনকে মনের জন্মদিন,
চুপ করে থাকা কঠিন,
তোমার কাছে খরস্রোতাও গতিহীন,
নতুন সকাল গুলো,
কপাল ছুলো তোমারই,
দূরে গেলেও এটাই সত্যি,
তুমি আমারই, শুধু আমারই”
হঠাৎই গান থামিয়ে আরুহি, নীলাধ্র র উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
আরুহি:- আপনি তো বলেছিলেন আপনি ভালো আছেন। তবে এখন আপনার এই অবস্থা কেনো নীলাধ্র!
নীলাধ্র:- আরু তুই ফিরে এসেছি??
আরুহি:- আমায় কেনো ভালোবাসলেন না নীলাধ্র?
নীলাধ্র:- আরু, ভালোবাসি তো তোকে। অনেক বেশিই ভালোবাসি। শুধু নিজের মনকে বুঝতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছে।
আরুহি:- একটু না অনেক বেশিই দেরি করে ফেলেছেন। আমি তো আর আপনার কাছে ফিরতে পারব না। আমি তো বলেছিলাম আপনি হাজারবার, লাখোবার ডাকলেও এই আরু আর আপনার কাছে ফিরবে না। তো কেমন লাগছে “না পাওয়ার” যন্ত্রণা! এখন কি একটু হলেও বুকে সেই ক’ষ্ট হচ্ছে যেই ক’ষ্ট আমি এতোগুলো দিন ভোগ করেছি।
নীলাধ্র:- মৃ’ত্যু যন্ত্রণা হচ্ছে রে আরু। তুই কিভাবে এই যন্ত্রণা নিয়ে এতো গুলো দিন পার করলি আরু। আমি তো একদিনেই হাপিয়ে যাচ্ছি। (টলমল নয়নে)
আরুহি মৃদু হেসে বলে,
আরুহি:- একদিনেই হাপিয়ে গেলে চলবে। এখনো তো আপনার গোটা জীবন টা বাকি আছে।
নীলাধ্র:- ফিরে আই আরু প্লিজ ফিরে আই।
আরুহি:- ঐ যে আমার কবরের ওপর #মৃত_কাঠগোলাপ গুলো দেখছেন। ঐ #মৃত_কাঠগোলাপ গুলো যেমন আর তার আগের জায়গায় ফিরতে পারবে না, ঠিক তেমনি আমিও আর ফিরব না।
বলেই আরুহি অন্ধকারে মিলিয়ে যায়। নীলাধ্র ধড়ফড়িয়ে উঠে পড়ে। কাঁদতে কাঁদতে কখন যে সে আরুহির কবরের কাছেই ঘুমিয়ে গিয়েছিল সে নিজেই জানে না। নীলাধ্র আবার আরুহির কবরের দিকে তাকাই আর দেখতে পাই অসংখ্য #মৃত_কাঠগোলাপ তার কবরের ওপর পড়ে আছে।
ফুল গুলোকে দেখে নীলাধ্র র সেইদিনের কথা মনে পড়ে যায়। আরুহি বলেছিল তার কাঠগোলাপ খুব পছন্দ। তার যতই মন খা’রা’প থাক না কেনো এই ফুল দেখলেই তার সকল মন খা’রা’প ভালো হয়ে যায়।
নীলাধ্র নিজের চোখের পানি মুছে সেখান থেকে চলে যায়। সে বুঝে গিয়েছে তাকে সারাটা জীবন এই “না পাওয়ার” যন্ত্রণা বুকে নিয়েই পার করতে হবে। যেটা মৃ’ত্যু’র যন্ত্রণার থেকে কম কিছুই না। জীবন্ত লা’শ হয়ে কাটাতে হবে তাকে সারাটা জীবন।
ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। যারা silent reader আছেন আজকে সবাই একটা করে কমেন্ট করে যাবেন। আর কেউ দয়া করে খা’রা’প কমেন্ট করবেন না। আমি এই গল্পটাকে অনেক আগে থেকেই এইভাবে সাজিয়েছি। গল্পের নামের সাথে মিল রেখেই এটা শেষ করলাম। নিচের কথা গুলো একটু দয়া করে পড়বেন।
”আশা করি নীলাধ্র কে তার উচিত শাস্তি দিয়েছি। সে সারাজীবনের মতো বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। ভালোবাসার মানুষকে “না পাওয়ার” যন্ত্রণা সারাজীবন বয়ে বেড়াবে সে।
এখন অনেকই বলবেন যে আরুহি আর বাচ্চা টাকে কেনো মে’রে ফেললাম। প্রথমত আমি আরুহি কে কেনো মে’রে ফেললাম??
যদি আরুহি বেঁচে থাকতো, তাহলে নীলাধ্র তাকে যেভাবেই হোক বুঝিয়ে পরিয়ে নিজের সাথে নিয়ে যেতো। কারণ আরুহি বরাবরই নীলাধ্র র প্রতি দুর্বল।
নীলাধ্র তাকে বুঝিয়ে পরিয়ে ঠিকই নিজের করে নিতো। আর সে যেহেতু নীলাধ্র কে ভালোবাসে তাই সে নীলাধ্র র কথাও ফেলতে পারত না।
আর দ্বিতীয়ত আরুহি কে মে’রে ফেলেছি ঠিক আছে অন্তত বাচ্চা টাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম, তাকেও কেনো মে’রে ফেললাম??
বাচ্চাটা বেঁচে থাকলে সে রিহানের কাছে মানুষ হতো। কিন্তু নীলাধ্র তো জানত যে তার সন্তান আছে। সে নিজের বাবা হওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে। তাই তাকে হয়তো কেউ বিয়ে করত না। তখন তো সে নিজের সন্তানের খোঁজ করতই তাই না।
কিন্তু এক সময় এই নীলাধ্র ই বাচ্চা টাকে অস্বীকার করেছিল সবার সামনে। সে যেহেতু বাবা, তাই বাচ্চাটার ওপর তার ও অধিকার আছে। সে আইনি ভাবে ঠিকই রিহানের থেকে নিজের ছেলে কে পেয়ে যেতো।
আর যদি বাচ্চা টাকে পেয়ে যেতো তাহলে তো তার শাস্তি হতো না। যেই সন্তান কে একসময় অস্বীকার করেছিল সেই অবহেলিত সন্তানকেই পেয়ে যেতো সে।
আর একটা সন্তানের মা না থাকা যে ঠিক কতটা ক’ষ্টের সেটা শুধুমাত্র সেই জানে। সব দিক ভেবেই আমি এন্ডিং টা দিয়েছি।
এখন নীলাধ্র র সারাটা জীবন কাটবে “না পাওয়ার” যন্ত্রণায়।
এখন যদি আপনাদের পছন্দ না হয় তাহলে আর কি বলব😅😅😅
✨ সমাপ্ত ✨
প্রতিটি গল্পের একটি শেষ থাকে, কিন্তু পাঠকের মনে তার রেশ থেকে যায় অনেকদিন।
এই গল্পের প্রতিটি পর্বে আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনার একটি মন্তব্য, একটি শেয়ার কিংবা একটি প্রতিক্রিয়াই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি।
📚 আরও অসংখ্য গল্প, উপন্যাস ও বিশেষ লেখার জন্য চোখ রাখুন Xgossip.fun-এ।
🌐 Website: xgossip.fun
ভালো থাকুন, পড়তে থাকুন, সঙ্গে থাকুন। ❤️ Xgossip Team