Golpo: Your Eyes (02)

লেখিকা: আইরা নূর

পর্ব:০২

পর্ব:০১ এর লিংক 

 

—————————

এতো বড় বাড়ি আমি একা হাতে কি পরিষ্কার করতে পারি..!! আমি তো আগে কক্ষনোই এইসব কাজ করিনি তাই না। বাবাই আমাকে ও তোমার সাথে নিয়ে যাও। ”

—————————

ফায়াজ পরের পৃষ্ঠা উল্টাই। সেখানে একটু একটু র’ক্তে’র ফোঁটা লেগে আছে। লেখা গুলো ও কেমন একটা লাগছে। মনে হচ্ছে কেউ খুব ক’ষ্টে লেখা গুলো লিখেছে।

“ বাবাই ও বাবাই আমাকে তোমার সাথে নিয়ে চলো না। আজকে না চাচী আমাকে চ্যালা কাঠ দিয়ে অনেক মে’রে’ছেন।

আমাকে না অনেক বড় বড় বালতি তে করে পানি আনতে বলেছিল। আমি ৫ বালতি পানি এনে আর পানি আনতে পারছিলাম না।

সারাদিন আমাকে কিছু খেতে ও দেইনি। দুর্বল শরীর নিয়ে আবার ১০ বালতি পানি ও আনতে বলেছিল। আমার অনেক ক’ষ্ট হচ্ছিলো তাও আমি অনেক ক’ষ্টে ৫ বালতি পানি এনেছি।

কি করবো বলো পানি না আনলে তো চাচী আম্মু কে কিছুই খেতে দেবেন না। আর আম্মুর তো শরীর অনেক খারাপ খেতে না পারলে কীভাবে চলবে।

আমি না লিখতে ও পারছি না। হাতে খুব বাজে ভাবে মে’রে’ছেন চাচী। ”

লেখা গুলো পড়ে ফায়াজের চোখ গুলো ঘোলাটে হয়ে আসছে। মেয়েটার জীবনে এতো ক’ষ্ট। একটা মানুষ কতটা খারাপ হলে আরেকটা মানুষের সাথে জা’নো’য়া’রে’র মতো ব্যবহার করতে পারে।

ফায়াজ ডাইরি টা আরো পড়তে লাগলো। যত ডাইরি টা পড়ছে ততই বুক টা ভারী হয়ে আসছে। চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে তার।

কত বাজে ভাবেই না মেয়েটাকে আ’ঘা’ত করেছে তার চাচী। শুধু আ’ঘা’ত করেই থামে নি। তাকে যত রকমের ক’ষ্ট দেওয়া যায় সবই দিয়েছে।

ফায়াজ আর পড়তে পারছে না। সে ছেলে হয়েই পড়তে পারছে না তাহলে আইরিনের কি অবস্থা ছিল। তাও ফায়াজ বুকে সাহস নিয়ে ডাইরির পরের পাতাটা পড়তে শুরু করে।

“ বাবাই আজকে আমি আম্মু কে তানির কাছে রেখে আসবো। চাচী অনেক ক’ষ্ট দেই আমাকে আর আম্মু কে। ঠিক মতো খেতে ও দেই না আমাদের। তানির কাছে থাকলে হয়তো ভালো মতো খেতে পারবো আমরা। ”

ব্যাস এইটুকুই লেখা ছিল ফায়াজ পরের পেইজ উল্টাতেই দেখতে পাই আর কিছুই লেখা নেই। মানে এই ডায়রির লেখা এখানেই শেষ।

তবে একদম শেষ পাতায় একটা ঠিকানা আছে। ফায়াজ দেখতে পাই ঠিকানাটা তার লোকেশনের কাছাকাছি। ফায়াজ ঘড়ির দিকে তাকাই। ফজরের আজানের সময় হয়ে গিয়েছে।

তাই সে তাড়াতাড়ি উঠে ওয়াশরুমে চলে যায় আর ওযু করে বের হয়। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান ও দিয়ে দেই। নামাজ পড়ে সে একটু রেস্ট নেয়।
,,,,,,

আইরিন:- চাচী, ও চাচী আমাকে মাফ করে দিন। আপনার পায়ে পড়ি। এমন ভুল আর কখনোই হবে না। (কাঁদতে কাঁদতে)

—হ তরে মাফ করি আর তুই আবারো আমার সর্বনাশ কর। ঐ অপয়া তুই ম’র’তে পারস না। আল্লাহ্ সবার ম’র’ণ লেখে আর তোদের ম’র’ণ কেনো লেখে না।

আইরিন:- চাচী আমার ভুল হয়ে গিয়েছে। যা শাস্তি দেওয়ার আমাকে দিন।

মহিলাটি আইরিনের চুল ধরে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলেন,

—হ শাস্তি তো তরে দিমুই।

মহিলাটি আইরিনের কে টানতে টানতে মাটির চুলার কাছে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ আগেই চুলায় রান্না হয়েছে। সেখানে একটা চ্যালা কাঠ অর্ধেক পোড়া অবস্থায় ছিল।

আইরিনের চাচী মিলা বেগম সেই চ্যালা কাঠ টা চুলা থেকে বের করে আইরিনের ডান হাতে চেপে ধরেন আর বলেন,

—মাংস কি তর ম’রা বাপে কিন্না দেই হ্যাঁ..???

জ্বলন্ত চ্যালা কাঠ চেপে ধরায় আইরিনের শ্যামবর্ণ হাতখানা ঝলসে যায়। আইরিন চিৎকার করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য কিন্তু মিলা বেগম তাকে তো ছাড়ছেই না বরং আরো বেশি করে চেপে ধরেছে।

—বল মুখ পুড়ি। তর ম’রা বাপে কি দেই মাংস..?? রান্না ফেইল্লা কোন না’গ’রে’র সাথে দেখা করতে যাস..?? কথা কস না কেন..??

আইরিন:- চাচী ছাড়ুন লাগছে। জ্বলে যাচ্ছে হাত, ছাড়ুন।

আইরিন ছটফট করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য কিন্তু মিলা বেগম ছাড়ছেন না। এই সব কিছুই ফায়াজের চোখের সামনে ঘটছে। কিন্তু ফায়াজ আইরিন কে বাঁচাতে যেতে পারছে না।

তার পা যেনো ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে। ফায়াজ চেষ্টা করছে নড়ার কিন্তু পারছে না। আইরিনের ক’ষ্ট গুলো যেনো ফায়াজ ও অনুভব করতে পারছে। ফায়াজের চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে।

হঠাৎ করেই ফায়াজ চোখ খুলে ফেলে। মানে সে আবারো আইরিনের কে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছে। চোখ বন্ধ রাখার ফলে কখন যে ঘুমিয়ে গিয়েছিল বুঝতেই পারে নি।

ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখতে পাই ১১ বেজে গিয়েছে। ফায়াজ তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে বের হয়ে পড়ে ডাইরি তে লেখা সেই ঠিকানার উদ্দেশ্যে।
,,,,,,

ফায়াজ:- এটাই তো সেই ঠিকানা। হয়তো এখানেই আমি আইরিন কে পাবো। আজকেই আমি আমার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবো।

ফায়াজ কলিং বেল বাজাচ্ছে। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর একটা মেয়ে এসে দরজা খোলে।

—কাকে চাই…???

ফায়াজ:- আচ্ছা আইরিন কি এখানেই থাকে..??

ফায়াজের কথা শুনে মেয়েটি একটু অবাক হয়। মেয়েটি বলে উঠে,

—আপনি কে..? আর আইরিনের কে কেনো খুঁজছেন.???

ফায়াজ:- আমাকে আপনি চিনবেন না। আপনি নাহয় আইরিন কেই ডেকে দিন।

—কিন্তু আপনার পরিচয় না জেনে আপনার সাথে আইরিনের দেখা কেনো করাবো..??

ফায়াজ:- আসলে আমি সেই যাকে আইরিন নিজের কর্নিয়া ডোনেট করেছে। আপনি তো তানি তাই না..!!

তানি তখন কিছুটা সন্ধিহান দৃষ্টি নিয়ে ফায়াজ কে বলে,

তানি:- আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে..???

ফায়াজ তখন আইরিনের ডাইরি বের করে তানির সামনে ধরে আর বলে,

ফায়াজ:- এই ডায়েরি থেকেই জানতে পেরেছি।

তানি আর কথা না বাড়িয়ে ফায়াজ কে ভেতরে আসতে বলে।

তানি:- আপনি বসুন আমি আন্টি কে ডেকে আনি।

ফায়াজ:- আইরিন কে ও ডাকবেন প্লিজ। ওর সাথেও আমার কথা আছে।

তানি কিছুই বলে না। সে চলে যায় আইরিনের মা মিসেস ছোঁয়া কে ডাকতে। কিছুক্ষণ পর তানি মিসেস ছোঁয়া কে নিয়ে আসে ড্রয়িং রুমে। তবে আইরিন আসে না।

মিসেস ছোঁয়া কে দেখে ফায়াজ দাঁড়িয়ে তাকে সালাম জানাই। মিসেস ছোঁয়া বসেন। ফায়াজ বলে,

ফায়াজ:- ভালো আছেন আন্টি..??? এখন আপনার শরীর কেমন আছে..??

—এই তো বাবা, চলছে কোনো রকমে। তুমি কে বাবা..?? তোমাকে তো চিনলাম না।

ফায়াজ:- আইরিন আপনাকে বলেনি। আপনার মেয়ে আমাকে কর্নিয়া ডোনেট করেছে। ওর ব্যাপারেই কথা বলতে এসেছি আমি।

আইরিনের কথা শোনা মাত্রই মিসেস ছোঁয়া ডুকরে কেঁদে উঠেন। ফায়াজ বুঝতে পারে না যে মিসেস ছোঁয়া হঠাৎ কাঁদতে শুরু করলেন কেনো।

ফায়াজ:- আরে আন্টি আপনি কাঁদছেন কেনো…???

—বাবা তুমি চাঁদের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছো। কিন্তু ও তো নেই।

ফায়াজ:- নেই মানে কোথায় ও..?? অন্য সময় তো আমার আশেপাশেই থাকে। কালকে সন্ধ্যা অব্দি ওকে আমি রাস্তায় দেখলাম..?? মেয়ে মানুষ একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছিল..??

ফায়াজের কথা শুনে তানি আর মিসেস ছোঁয়া দুইজনই বেশ অবাক হয়ে যায়। মিসেস ছোঁয়া তখন বলেন,

—কি বলছো বাবা, চাঁদ কে তুমি কালকে কিভাবে দেখলে…??? তোমার নিশ্চই কোথাও ভুল হচ্ছে।

ফায়াজ:- না না ভুল হবে কেনো। ও আমার সাথে অনেক কথা ও বলেছে।

মিসেস ছোঁয়া আবারো ডুকরে কেঁদে দিলেন। কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন,

—আমাদের কোত্থাও ভুল হচ্ছে না বাবা। আমার মেয়ে টা তো এই দুনিয়ায় নেই। তাহলে তুমি ওকে দেখলে কিভাবে..??

মিসেস ছোঁয়ার কথা শুনে ফায়াজের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে। কারণ কোথাও না কোথাও গিয়ে আইরিনের প্রতি তার একটু হলেও ভালোবাসার জন্ম হয়েছে। ফায়াজ নিজেকে সামলিয়ে বলে,

ফায়াজ:- দুনিয়ায় নেই মানে…!!! (কাঁপা কাঁপা গলায়)

তখন মিসেস ছোঁয়া বলতে শুরু করেন,

—হ্যাঁ বাবা। আজ থেকে পাঁচ দিন আগে মেয়েটা আমার এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছে। ১০ দিন আগে ওর একটা গুরুতর এক্সিডেন্ট হয়। আমার চাঁদ আমার জন্য ঔষুধ আনতে গিয়েছিল। কোথা থেকে একটা গাড়ি এসে ওকে ধাক্কা দেই। আর আমার চাঁদ লুটিয়ে পড়ে পিচ ঢালা রাস্তার ওপর। ওর খুব খারাপ অবস্থা ছিল।

আর বলতে পারলেন না মিসেস ছোঁয়া। তার আগেই কান্নাই ভেঙ্গে পড়লেন। তানি উনাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। কিন্তু উনি কেঁদেই যাচ্ছেন। তাই তানি উপায় না পেয়ে মিসেস ছোঁয়া কে উনার রুমে রেখে আসে।

ফায়াজ এখনো একটা ঘোরের ভেতর আছে। সব কিছু তার মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। কি বলে গেলেন মিসেস ছোঁয়া এইসব। আইরিন যদি পাঁচ দিন আগেই মা’রা যায় তাহলে সে কালকে কাকে দেখলো..??

ফায়াজ ঘোর ভাঙ্গে তানির কথাই। তানি বলে,

তানি:- ১০ দিন আগের এক্সিনডেন্টে ওর খুব খারাপ অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা ওকে হসপিটালে নিয়ে যায়। ওকে আইসিইউ তে নেওয়া হয়। হসপিটালে ২ দিন ওর চিকিৎসা হয়। ডক্টর বলেছিলেন ওর হাতে বেশি সময় নেই। আইরিন ও হয়তো বুঝতে পেরেছিল। আমার সাথে শেষ বার ও কথা বলতে চেয়েছিল। যখন আমি ওকে দেখি ওর চেহারা দেখার মতো ছিল না। মাথা ফেটে অবস্থা খারাপ। মুখের অর্ধেকের বেশি জায়গা জুড়ে ব্যান্ডেজ করা ছিল। আমার হাত ধরে বলেছিল। ওর মৃ’ত্যু’র পর ওর কর্নিয়া যেনো ডোনেট করা হয়। আর ওর লেখা সেই ডাইরি টা যেনো তাকেই দেওয়া হয় যে ওর চোখের মাধ্যমে এই পৃথিবীটাকে দেখবে।

ফায়াজ:- এইসব কি বলছ..?? আইরিন, আইরিন মা’রা গিয়েছে। তাহলে সেইদিন যে আমি ওকে দেখেছি। ওর সাথে আমার কথা হয়েছে। ও আমাকে বার বার বলছিল আমি যেনো ওর ডাইরি টা পড়ি। ও যদি মা’রা’ই যাবে তাহলে আমার সাথে কীভাবে কথা বলছে ও.??

তানি:- জানি না। হয়তো আপনি ওর ডাইরি টা পড়ে ওকে হ্যালুসিনেট করছেন।

ফায়াজ:- কিন্তু আমি ওকে এর আগে কোনো দিনো দেখিনি। ওর কর্নিয়া ডোনেট করার পর থেকেই আমি ওকে দেখতে পাই স্বপ্নে। কিন্তু গত দুইদিন ধরে ওর সাথে আমার কথা হচ্ছে।

তানি:- আইরিন আমাকে আরো একটা কথা বলেছিল।

ফায়াজ:- কি কথা..??

তানি:- আপনি আইরিন কে আগে না দেখলে ও, আইরিন আপনাকে আগে থেকেই চেনে।

ফায়াজ:- মানে.??!!

তানি:- একদিন আইরিন আর আমি ফার্মেসি তে গিয়েছিলাম আন্টির জন্য ঔষুধ কিনতে। তখন আইরিন দেখতে পাই আপনি রাস্তার একদম ধারে দাঁড়িয়েছিলেন। আরেকটু হলেই হয়তো কোনো গাড়ি আপনাকে ধা’ক্কা দিয়ে দিত। আইরিন গিয়ে আপনাকে বাঁচায়।

তানির কথা শুনে ফায়াজের মনে পড়ে যায় সেইদিনের কথা। নাঈম একটা জিনিস শপিং মলেই ফেলে চলে এসেছিল সেটা আনতেই ভেতরে গিয়েছিল। ফায়াজ কে ও নিতে চেয়েছিল কিন্তু ফায়াজ ই যায় নি। সে ভুল বশত একেবারে রোডের ধারে চলে যায় তখন একটা মেয়ে এসে তাকে বাঁচাই।

তখন নাঈম তার নাম ধরে ডাক দিয়েছিল। হয়তো সেইসময়ই আইরিন তার নাম টা মনে রেখেছিল।

ফায়াজ:- তুমি তো আমাকে চিনতে.???

তানি:- না আমি আপনাকে চিনি না। আমি আপনার মুখ দেখিনি। শুধু আইরিনের থেকে নাম টা শুনেছিলাম। আইরিন প্রথম দেখায় আপনাকে পছন্দ করে ফেলেছিল। কিন্তু মেয়েটার ভাগ্য দেখুন।

আইরিনের জন্য আজকে কেনো তার বুকের ভেতরটা এমন হচ্ছে..?? কেনো বুকটা খালি খালি লাগছে..?? একটা মেয়ে যাকে সে কখনো দেখে ও নি..?? তাও মেয়েটার জন্য হঠাৎ করে এতো মায়া কেনো হচ্ছে..??

ফায়াজ:- আইরিনের কবরটা কোথায়..? (ভাঙ্গা কন্ঠে)

তানি তাকে আইরিনের কবর কোথায় আছে বলে দেই। ফায়াজ আর বসে থাকতে পারে না। সে উঠে বের হয়ে যায় আইরিনের কবর জিয়ারত করতে।
,,,,,,

ফায়াজ দাঁড়িয়ে আছে আইরিনের কবরের সামনে। কবরের আশপাশ টা একদম পরিষ্কার। ২০ বছর যাবত ফায়াজ প্রতিদিন আইরিনের কবর জিয়ারত করতে আসে আর নিজ হাতে কবরের আশপাশ টা পরিষ্কার করে যায়।

ফায়াজ:- আজ ২০ বছর যাবত তোমার কবর জিয়ারত করি। প্রতিটা দিন তোমার কবরের আশপাশ টা পরিষ্কার করি। তোমায় ভালোবেসে আর কাউকে নিজের এই ছোট জীবনে জায়গা দেইনি। কি মায়ায় জড়ালে চাঁদ..? এই মায়া থেকে বের হওয়া যে অসম্ভব। তুমি আমার জীবনে আরো আগে এসেছিলে অথচ আমি জানতামই না। একটা মৃত মানুষের কে ও কি এতটা ভালোবাসা যায় চাঁদ..??

তখনই পিছন থেকে আইরিন বলে উঠে,

আইরিন:- ভালোবাসা পবিত্র। এই পৃথিবীর হাজারো নোংরা সম্পর্কের মধ্যে আমাদের সম্পর্কটা একদম খাঁটি। আপনি জানেন আপনার সাথে আমার মিল কোনোদিনও সম্ভব নয় তবু ও আপনি আমার মায়ায় পড়েছেন। আমাকে ভালোবেসেছেন। আমার মতো শ্যামকন্যার মায়ায় পড়েছেন আপনি।

বলেই আবারো মিলিয়ে যায় আইরিন।

ফায়াজ মুচকি হেসে বলে,

ফায়াজ:- আমাদের মিলন কখনোই হবার নয়। কিন্তু তাই বলে কি আমি তাকে ভালোবাসিনি..!! আমি তার চোখের মাধ্যমেই এই পুরো পৃথিবীকে দেখি। তার সকল অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ করি। এটা কি ভালোবাসা নয়…!!

চলবে………

কেমন হলো সবাই জানাবে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x