গল্প: দ্বিতীয় সূচনা (১০)

পর্বঃ১০

লেখনীতেঃআফসানা শোভা


[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔]

কোন এক অদৃশ্য তলোয়ার যেন ঐশীর হৃদপিন্ডটাকে বিদীর্ণ করে বের হয়ে গেল। ঠিক সেই রকম যন্ত্রণা এই মুহুর্তে ওর অনুভব হচ্ছে৷ মনে হচ্ছে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এই বুঝি মরেই যাবে৷ যেই মানুষটাকে ও দীর্ঘ চার বছর যাবত অন্তরের মণিকোঠায় অতিযত্নে লালিত করে আসছে। যাকে সংগোপননে ও নিজের আত্মা সঁপেছে। আজ তাকে এই রুপে ঐশী মানতে পারছেনা। টলমলে নেত্রে ঐশী তাকিয়ে দেখে একটা পুতুলের মতো বাচ্চাকে কোলে নিয়ে শ'খানেক চুমু খাচ্ছে ড.আহান খন্দকার। আচ্ছা তাহলে আহানের চোখের ভাষা, ইশারায় প্রেম ওসব কি ছিল তবে? যার বধূ হওয়ার স্বপ্ন একজন তরুণী রোজ দেখে। হঠাৎ ঐশীর হাত ধরে থাকা ওয়াফা হুট করে তার হাত ছাড়িয়ে দৌড় মারে। এতক্ষণ বিষাদ বিভ্রমে ডুবে থাকা ঐশীর হুশ ফিরে তড়িৎ। ও আঁতকে উঠে ডাকে,

-- ওয়াফা মামনি? কোথায় যাচ্ছ?

কিন্তু ততক্ষণে ওয়াফা তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য তার সুইটি আন্টির কাছে পৌঁছে গিয়েছে। আবৃতি ওয়াফাকে দেখে হেসে কিছু বলবে কিন্তু ঐশীর চিৎকারে সবাই ভ্রু কুঁচকে আগত শব্দ উৎসের দিকে তাকায়। আহান ঐশীকে এখানে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। নিজের একটু বেশিই প্রিয় ছাত্রীটাকে এখানে এইসময় আশা করেনি যে! ঐশী এগিয়ে এসে ওয়াফাকে একটু কঠোর গলায় বললো,

-- ওয়াফা এভাবে কাউকে দেখলেই ছুটে আসতে হবে? যদি পড়ে গিয়ে ব্যথা পেতে? তাহলে তোমার পাপাকে কি জবাব দিতাম আমি?

আবৃতি অবাক হলো। তাহলে এই মেয়েটা ওয়াফার মা। কিন্তু মেয়েটাকে অনেক ছোট মনে হচ্ছে না? 
আবৃতির ভাবনার মধ্যেই ওয়াফা ঐশীর হাত ধরে টেনে আবৃতিদের কাছে নিয়ে আসে। গদগদ সুরে বলে,

-- পিপ্পি দেখ তোমাকে বলেছিলাম সুন্দরী আন্টিটার কথা। এই সেই সুইটি আন্টি। আর এ হচ্ছে সেই দুষ্ট ছেলেটা যে আমার চুল টেনে দিয়েছিল ওইদিন। 

এতক্ষণ ভদ্র হয়ে মামুর কোলে চড়ে থাকা আরশান চোখ বড়বড় করে তাকালো। এই মেয়েটা ওকে অপমান করলো? 

ওয়াফার কথায় আবৃতি ফিক করে হেসে দিলো। কিন্তু আবৃতি সুশ্রী মুখ আর নজরকাড়া হাসিটা কেন যেন ঐশীর ভাল লাগলো না। রোষ আর যন্ত্রণার তোড়ে বুদ্ধিমতী ঐশী এটাও খেয়াল করলোনা আহান আর আবৃতির সাদৃশ্যপূর্ণ চেহারা যুগল। আহান আড়চোখে 
এক দৃষ্টিতে ঐশীর আপাদমস্তক দেখে চলেছে চোখে অপার মুগ্ধতা নিয়ে। হঠাৎ আহানের সাথে চোখে চোখ পড়লেও ঐশী নির্লিপ্ত ভুমিকা পালন করলো। আবৃতির দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললো,

-- মাইসেল্ফ ঐশীতা চৌধুরী। ওয়াফা'স আন্ট।

আবৃতি মনে মনে নিজেকে বকে দিল। মেয়েটাকে কিনা 
ও ওয়াফার মা বানিয়ে দিয়েছিল। ও নিজেও আন্তরিক হেসে জবাব দিল, 

-- আমি আবৃতি। আরশানের মা। আর ও... 

আহানকে ইশারা করে পরিচিত করাতে নেবে। কিন্তু আবৃতির পুরো কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ঐশী আহানের দিকে তাকিয়ে কাটকাট গলায় বলে, 

-- আমি চিনি ওনাকে। 

আহান হাসলো। আবৃতি অবাক হয়ে বললো,

-- আপনি আহানকে চিনেন? বাট কিভাবে?

-- উনি আমার সিনিয়র ডক্টর।

-- ওমা তাই নাকি। তাহলে তো আপনারা পূর্ব পরিচিত। 

আহান হেসে মাথা দোলালো। বললো,

-- তাহলে তুমি ওয়াফার ফুপি? এই জন্যই তো বলি ওয়াফা মামনি এত দুষ্ট কার মতো হয়েছে।

ঐশীর চোখজোড়া ছলছল করে উঠলো। এই কথাগুলো এখন বিষের মতো লাগছে। হঠাৎ আরশান বিরক্তিকর গলায় বললো,

-- মামু চলোনা। তুমি না জয়ল্যান্ড নিয়ে যাবে আমাকে? চলোনা৷ 

ঐশী চমকে আরশানের দিকে তাকালো। কি বললো বাচ্চাটা? মামুনা? ঐশী দ্বিধান্বিত চোখে একবার আরশান তো আরেকবার আহানের দিকে তাকালো। দুরুদুরু বুকে নিশ্চিত হতে শুধালো,

-- স্যার আপ....নি? আই মিন আপনি আরশানের মামা?

আহান হেসে আরশানের গালে একটা চুমু খেয়ে বললো,

-- হ্যাঁ আমি আরশানের একমাত্র মামা। যেমন আপনি ওয়াফা মামনির একমাত্র পিপ্পি। তাইনা ওয়াফা মামনি?

ওয়াফা দ্রুত উপরনিচ মাথা দোলালো। এদিকে ঐশীর শরীরটা কাঁপতে লাগলো। মনে হলো বুক থেকে বড় কোন পাথর সরে গিয়েছে এইমাত্র। নিজের হঠকারী চিন্তা আর অজ্ঞতাকে নিয়ে মনে মনে বেশ লজ্জিত হলো। এদিকওদিক তাকিয়ে নিজেকে খানিকটা স্বাভাবিক করে আবৃতিকে জিজ্ঞেস করলো, 

-- স্যার তাহলে আপনার আপন ভাই?

আবৃতি মুচকি হেসে বললো, 

-- আহান আমার জমজ ভাই। 

-- হ্যাঁ?

অবাক চোখে ঐশী আহান আর আবৃতি দেখলো। এতক্ষণে ও উপলব্ধি করলো কত বড় উন্নত প্রজাতির একটা গাধা সে। আহান আর আবৃতির চেহারার মিল দেখে যে কেউ বলতে পারবে এরা আপন ভাই-বোন। আর সে কিনা পাগলের মতো কি না কি ভেবে নিয়েছিল ছিঃ ছিঃ। ঐশী বোকার মতো মাথা চুলকে হেসে বলে,

-- আপনারা বোধহয় কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন না?

-- হ্যাঁ আরশানকে একটু সাফারি পার্ক থেকে ঘুরিয়ে আনব ভাবছি৷ 

-- পিপ্পি আমিও যাব। আমিও যাব। সুইটি আন্টি আমাকেও পিপ্পি আজকে ঘুরু ঘুরু করাবে। 

আহান এক ভ্রু উঁচিয়ে বলে,

-- তাই নাকি? তো মিস. ঐশী যাবেন নাকি আমাদের সাথে। 

ঐশী বুঝি আহানের সাথে সময় কাটানোর সুযোগটা ছেড়ে দেবে ? এও সম্ভব? আহানের সাথে সময় কাটানোর জন্য যে সবসময় আহানের শিফট এর ব্যাচে ক্লাস করে সে নাকি এত সুন্দর একটা অফার ছেড়ে দেবে। 

-- আচ্ছা যেহেতু একটু ঘুরাঘুরি করবোও। তাহলে একসাথেই যাই৷ 

ওয়াফা আনন্দে হৈ হৈ করে উঠে৷ আবৃতিকে পেয়ে তার পাপা না আসার আক্ষেপ সে ইতোমধ্যে ভুলে বসেছে। নাহয় আজ মহারাণী সারাদিন মুখ ফুলিয়ে থাকতেন।

আরশান নাক কুঁচকে বললো,

-- মামু চলোনা৷ দেরী হয়ে যাচ্ছে তো! 

ঐশী সংকোচে বলে, 

-- কিছু না মনে না করলে সবাই আমার গাড়িতে যাবেন? তাহলে একসাথে যেতে পারতাম৷ 

-- কিন্তু আহানের বাইক?

আহান ধীমি স্বরে বলে,

-- সমস্যা নেই৷ আমি যুবায়েরকে কল করে দিচ্ছি ও এসে নিয়ে যাবে। তোমরা সবাই গাড়িয়ে গিয়ে বসো। যুবায়ের কলেজ মোড়েই আছে৷ দুইমিনিট লাগবে আসতে। 

আহানের কথামতো সবাই ঐশীর গাড়িতে দিকে যায়। ঐশী পারেনা আনন্দে ওয়াফার মতো লাফাতে। ইশ আজ সে আহানের সাথে ইচ্ছেমতো সময় কাটাবে। ভাবতেই শরীরটা কাটা দিল৷

গাড়ির কাছে আসতে আরশান বলে,

-- আমি মামুর কোলে বসবো৷ ঐশী হেসে আবৃতিকে বলে, 

-- আপু আপনি তাহলে পিছনে বসুন। 

আবৃতি মাথা নাড়িয়ে গাড়িতে উঠে বসলো। ওয়াফা হড়বড় করে বলে,

-- আমি সুইটি আন্টির সাথে বসবো। 

বলে আর অপেক্ষা না করে একদম আবৃতির পাশ ঘেঁষে বসে পড়লো৷ পারলে ওর কোলেই উঠে যায়। ঐশী ড্রাইভিং সিটে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো নিজের কাঙ্ক্ষিত সহযাত্রীর।
নিজের বাইকটা চাচাতো ভাই যুবায়েরকে বুঝিয়ে দিয়ে আহান গাড়ির ফ্রন্ট ডোর খুলে সহজ ভাবেই ঐশীর পাশে বসলো। কিন্তু বেচারী ঐশী এতেই কুপোকাত। আহান অমায়িক হেসে বলে,

--যেহেতু লাঞ্চ টাইম হয়ে গিয়েছে। আগে লাঞ্চটা কোন রেস্তোরাঁয় সেরে ফেলা যাক। কি বলো? 

ঐশী ঈষৎ হেসে বললো,

-- গুড আইডিয়া স্যার। 

তারপর ঐশীর চার চাকার যানটি ছুটলো ওদের গন্তব্যের উদ্দেশে। 

★★★

দীর্ঘ দু'ঘন্টার বিরতি নিজের কেবিনে ঢুকলো ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত ঐক্য। হাতের কোটটি একপ্রকার ছুড়ে ফেললো অদূরের ডিভানে। চেয়ারে বসে মাথাটা খানিকটা হেলিয়ে একটু টানা দীর্ঘশ্বাস নিল। হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করলো। দ্রুত হস্তে ফোনটার লক প্যাটার্ন খুলতেই সামনে ভেসে উঠলো ওয়াফার হাসোজ্জল আনন। ঐক্য মুচকি হাসলো। যতবার এই চেহারা সামনে আসে ঠিক ততবার অজান্তেই ঐক্যর ঠোঁটে ফুটে ওঠে এক অকৃত্রিম হাসির ফোয়ারা। মেয়েটা একদম নিজের দাদা ওয়াসিম চৌধুরীর আদল পেয়েছে। যেন বাবাকে হারিয়ে ওয়াফাকে পেয়েছে সে। ঐক্য দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার শত না পাওয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় পাওয়া হচ্ছে এই নিষ্পাপ প্রাণটি। যার মায়ায় ঐক্য এখন অবধি টিকে আছে। নাহয় বিশ্বাসঘাতকতার করাল গ্রাসে সে কবেই নিঃশেষ হয়ে যেত। কলার হাতড়ে ঐশীর নাম্বারে কল করে ঐক্য। একবারেই ফোনটা রিসিভ হয়। ঐশী ফোন রিসিভ করে হ্যালো বলে। ওপাশে অত্যাধিক পরিমাণে শোরগোল শোনা যাচ্ছে। ঐক্য ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,

-- ঐশী তোরা কোথায় আছিস? এত আওয়াজ কেন?

ঐশী একটু উচ্চস্বরে জবাব দেয়,

-- ভাইয়া আমি ওয়াফাকে নিয়ে একটু জয়ল্যান্ড এসেছি। 

ঐক্য গমগমে আওয়াজে বলে,

--আমি তোকে বলেছি ওকে পিজ্জা খাইয়ে সোজা সেইফলি বাসায় পৌঁছে দিতে। আর তুই কিনা ওকে এত নয়েজি আর আনহাইজেনিক পরিবেশে নিয়ে এসেছিস?

ঐশী কৈফিয়তের সুরে বলে, 

-- ভাইয়া ওয়াফা ওর এক ফ্রেন্ডের সাথে এসেছে। তুমি চিন্তা করোনা একদম। ওকে আমি সেইফলি বাড়ি নিয়ে আসব। 

ঐক্য চিন্তিত কন্ঠে বললো,

-- ওয়াফা এমন কোলাহল পূর্ণ পরিবেশে কম্পোর্ট ফিল করেনা৷ এক্ষুনি ওকে নিয়ে সোজা বাসায় আসবি। আধঘন্টার মধ্যে তোদের যেন বাসায় পাই আমি।

এই বলে ঐক্য খট করে লাইন কেটে দেয়৷ ঐশী মুখ লটকে দাঁড়িয়ে রইলো। আহানের প্রেমিক নজর এতক্ষণ ধরে উন্মত্ত প্রেয়সীর পানেই ছিল। ঐশীকে এভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখে একটু কাছাকাছি এসে দাড়ায়। 

-- কি হলো ঐশী? এনিথিং রং?

ঐশী মুখ কাল করে বলে,

-- ভাইয়া এইমাত্র ফোন করে থ্রেট দিয়েছে যেন ওয়াফাকে নিয়ে এক্ষুনি বাসায় চলে যাই। 

-- কিন্তু এসেছি তো মাত্র অল্প কিছুক্ষণ। আর বাচ্চাদের মন সন্তুষ্ট না করে চলে গেলে তো ওরা দুঃখ পাবে। 

-- কিন্তু কি করব। ভাইয়া খুবই রাগী। কথার হেরফের হলে আজ আর রক্ষে নেই। ভাইয়া ওয়াফাকে নিয়ে খুবই পসেসিভ।

আহান একমিনিট কিছু একটা ভাবলো। হঠাৎ বলে উঠলো, 

-- ঐশী তোমার ফোনটা দাও। 

ঐশী অবুঝ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফোনটা এগিয়ে দিল। আহান ফোনটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 

-- পাসওয়ার্ড? 

ঐশী ঘোরেই বলে দিল,

-- আপনার বার্থডে ডেট। 

আহান চমকে তাকায়। ঐশীরও ঘোর ভাঙে। চোর ধরা পড়ে যাওয়ার মতন এদিকওদিক তাকায়। ইশ! গেল গেল মান-ইজ্জত বাকিটাও গেল৷ ঐশী এবার নিশ্চিত ও সত্যিই একটা উন্নত প্রজাতির আবাল । মেয়েটাকে এভাবে লজ্জা পেতে দেখে আহান নিজেকে দ্রুতই সামলে নিল।
ফোনের লকটা খুলে সামনের চোখ শীতল করা দৃশ্যপটটি ক্যামেরায় বন্দি করলো। তারপর ঐশীর দিকে ফোনটা বাড়িতে দিল। ঐশী বিভ্রান্ত হয়ে তাকিয়ে আছে। বুঝলোনা কিছুই। আহান হেসে বললো,

-- ভিডিও ক্লিপটা তোমার ভাইয়াকে সেন্ড করো। 

ঐশী এতক্ষণে বুঝলো সব। উৎফুল্ল মনে ক্লিপটা ঐক্যকে সেন্ড করে দিল। অফিস রুমে বসে টেবিলে থাকা ওয়াফার আরেকটু ছোটবেলার ছবির ফ্রেমটা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিল ঐক্য। মাঝে বেশ কয়েকটা চুমুও খেয়ে নিচ্ছিল। হঠাৎ টেবিলে থাকা সেলফোনটার নোটিফিকেশন বেজে ওঠে। ঐক্য ফোনটা নিয়ে দেখে ঐশী হোয়াটসঅ্যাপে একটা ভিডিও ক্লিপ সেন্ড করেছে। ঐক্য কৌতুহলে ভিডিও টা প্লে করে৷ প্লে করেই ও স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে। 

চলমান........

[ আসসালামু আলাইকুম পাঠক। অসুস্থতা, ব্যস্ততা আমার পিছু কোনদিন বোধহয় ছাড়বেনা। চাইলেও নিজের শখের পিছনে যথাযথ সময় ব্যয় করতে পারছিনা]
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments