ওহে হৃদয়ের রজনীগন্ধা (০২)

  
লেখক:DRM Shohag

পর্ব:০২


——————–
[বিঃদ্রঃ নায়কের নাম দিয়েছি, ‘শাহরিয়ার হৃদয়

নওরোজ’। ‘নওরোজ’ পদবি হিসেবে ব্যবহার করেছি।

কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।]



রজনী ভীত চোখে চেয়ে আছে হৃদয়ের রাগান্বিত দৃষ্টির

দিকে।




এই অপরিচিত শহরে মেয়েটি হৃদয় ছাড়া আর কাউকে

ভরসাও করতে পারছে না,


আবার হৃদয়ের মতো নি’র্দয় মানুষের কাছে সাহায্য

চেয়েও ভুল করেছে বলে মনে হচ্ছে তার।


কারণ এতক্ষণে রজনী বুঝে গেছে হৃদয় মেয়েদের দিকে

ভালোভাবে না তাকালেও,


উনার মধ্যে মেয়েদোষ না থাকলেও, হৃদয় মানুষটা

আসলে নি’র্দয়।


সে কাউকে সাহায্য করার মতো মানুষ নয়। ভাবনার

মাঝেই হৃদয়ের কঠোর স্বর ভেসে আসে,


“আমার পিছু ছেড়ে দাও।


 আদারওয়াইজ, এর ফল ভালো হবেনা।”






হৃদয় তার ডান হাত উঠিয়ে, দু’আঙুলের সাহায্যে দু’বার

চুটকি বাজিয়ে রজনীর দিকে একটি আঙুল তাক করে

কথাটা রজনীর উদ্দেশ্যে বলে উঠল।


এরপর সে আর এখানে দাঁড়ায় না।


উল্টো ঘুরে গটগট পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

রজনী টলমল চোখে চেয়ে রইল হৃদয়ের গমনপথে।


এবার সে কোথায় যাবে?


এতো বড় শহরে কাকে বিশ্বাস করবে? কার কাছে সাহায্য

চাইবে? কেউ কি তাকে আদোও সাহায্য করবে?



না-কি সাহায্যের নামে দু’ষ্টু লোকেরা তার সুযোগ নিতে

আসবে?


তার বোধয় একা একা এই অচেনা শহরে আসা উচিৎ

হয়নি।


কথাগুলো ভেবে রজনীকে তীব্র অসহায়ত্ব ঘিরে ধরল।


মেয়েটা অনবরত আশেপাশে তাকিয়ে দেখল ভরসা করার

মতো কাউকে পায় কি-না!


 কিন্তু প্রতিটি মানুষকে দেখে রজনীর ভরসা তো দূর, বরং

ভীতির পরিমাণ তড়তড় করে বেড়ে গেল।


রজনী আবারো তাকালো হৃদয়ের দিকে।


ছেলেটা অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে।

রজনী ভ’য়ে ভ’য়ে আবারো হৃদয়কে ফলো করতে


লাগলো। তবে এবার পায়ের গতি বাড়ালো না।


দূর থেকেই হৃদয়কে ফলো করে হাঁটতে লাগলো। হাতের

ছোট্ট ব্যাগটি বুকে চেপে,


শাড়ির আঁচল কোমরে ভালোভাবে গুঁজে এগিয়ে যেতে

লাগলো কিছুদূর যেতেই রজনী হৃদয়কে হারিয়ে ফেলে।


মেয়েটির বুক ধুকধুক করছে।


 হৃদয়ের পিছু পিছু আসতে গিয়ে অনেকটা ফাঁকা

জায়গায় চলে এসেছে।


আশেপাশে দু’একটা মানুষ চলাচল করছে।


রজনী শুকনো ঢোক গিলল।


পায়ের গতি বাড়িয়ে খুঁজল ছেলেটাকে৷ কিন্তু আর চোখে

পড়ে না। ভ’য়ে মেয়েটার বুক ধুকধুক করছে।


এ কোথায় এসে পড়ল সে? এখনই বা কোথায় যাবে?

মেয়েটির দিশেহারা হলো।


 ভ’য় পেলো। আশপাশ থেকে কু’কু’রের ডাকে রজনী

লাফ দিয়ে একপাশ থেকে আরেকপাশে যায়।


 ধুকপুক বুক নিয়ে এক পর্যায়ে মেয়েটি ফুঁপিয়ে ওঠে। এ

পর্যায়ে এসে তার মনে হলো,


তার হয়ত বাড়ি ছেড়ে আসা একদমই উচিৎ হয়নি।


বাবা, মা,


ছোট বোন রূপা সবার কথা খুব মনে পড়ছে।

গতরাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে সবাই কি তাকে অনেক

খুঁজেছে?


সবাই কি তার জন্য কি চিন্তা করছে? না-কি তার

অ’ন্যা’য়ের কারণে বাবা তাকে ভুলে যেতে চাইছে?


 কথাগুলো ভেবে রজনীর ভীষণ দুঃ’খ হলো।


আবার ভাবলো, সে অ’ন্যায় করলে তার বাবাও অ’ন্যা’য়

করেছে।


কারণ তার বাবা না জেনে হলেও তাকে খারাপ ছেলের

সাথে জুড়ে দিতে চাইছিল।


 কিন্তু রজনীর যে খুব দুঃখ হচ্ছে।


একে তো এই অচেনা শহরে নিজেকে বড্ড একলা লাগছে,

এর উপর নিজ গ্রাম ছেড়েছে, পরিবার ছেড়েছে।


রজনী ছোট ছোট পায়ে এগিয়ে এসে রাস্তার একপাশে

চুপটি করে বসলো।


ভ’য়, দুঃ’খ নিয়ে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলতে লাগলো। 

______________




হৃদয় মসজিদের এরিয়ার ভেতর প্রবেশ করেছে।


 হাতঘড়িতে একবার সময় দেখে নিল।


নামাজ শুরু হতে এখনো পাঁচ,মিনিটমিনিট বাকি।



 হৃদয় ব্যস্তপায়ে ওজুখানার দিকে এগোতে নিলে

একজনের সাথে জোরেসোরে ধাক্কা খায়।



সে নিজের জায়গা থেকে বিন্দুমাত্র না সরলেও

ভদ্রলোকটি ধাক্কা খেয়ে তার জায়গা থেকে দু’হাত সরে

গিয়েছে। 



এদিকে গতরাত থেকেই হৃদয়ের মনমেজাজ ভালো ছিল

না। এমনি ট্রেন থেকে নামার পর পর্যন্ত ওই মেয়েটির জন্য

মন-মাথা চ’র’ম খারাপ ছিল।



আর এখন এই ঘটনায় হৃদয়ের মাথায় যেন আরও

কয়েকশ গুণ রা’গ চেপে ধরল। সে কোনো কিছু না দেখেই

সামনের লেকটিকে মা’রা’র জন্য ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে

লোকটির মুখ বরাবর এগিয়ে নেয় হাতটি,





কিন্তু সামনে দাঁড়ানো ভদ্রলোককে দেখে হৃদয়ের হাত

থেমে যায়। দৃষ্টিতে জমা রা’গ হুট করেই নিভে যায়।

সামনে দাঁড়ানো ৬৮ বছরের ভদ্রলোকটি গমগমে স্বরে

বলে,




“কি হলো থামলে কেন?”



হৃদয় কিছু বলল না। ধীরে ধীরে মুষ্টিবদ্ধ ডানহাতটি

নামিয়ে নিল।


 আরমান নওরোজকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে গেল

ওজুখানার দিকে।


আরমান নওরোজ উল্টো ঘুরে বিরক্তি কণ্ঠে বলে,


“হৃদ আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করেছি?”




হৃদয় তার কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে বসার জায়গায় রাখে।

বলে, “আমি শুনেছি দাদু।”




আরমান নওরোজ চোখ ছোট ছোট করে বলে,


“তাহলে উত্তর দিচ্ছ না কেন?




হৃদয় গাছাড়াভাবে বলে, “ইচ্ছে করছে না।”




ভদ্রলোক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,



“আমার জায়গায় অন্যকেউ থাকলে তুমি থেমে যেতে না,

তার গায়ে হাত তুলতে, তাইনা?”



হৃদয় ওজুখানায় বসায় জায়গায় বসে শার্টের হাতা কনুই

পর্যন্ত গোটাতে গোটাতে বলে,


“অভিয়েসলি!”



আরমান নওরোজ হতাশার শ্বাস ফেলে বলে,


“তোমার আচরণ অত্যন্ত ঔ’দ্ধ’ত্য’পূর্ণ হৃদ। এসব আমি

পছন্দ করি না।”



হৃদয় ততক্ষণে ওজু করতে ব্যস্ত হয়েছে। মাথা মাসেহ

করতে করতে গম্ভীর গলায় বলে,

“আই ডোন্ট কেয়ার।”




আরমান নওরোজ কি বলবেন বুঝলেন না।


 হৃদয় ওজু শেষ করে এসে তার দাদুর সামনে দাঁড়ায়।

দু’হাতের শার্টের গোটানো হাতা কব্জি পর্যন্ত নামিয়ে নেয়।

এরপর ডান হাতে মুখে লেগে থাকা ছিটেফোঁটা পানি



ছিটকে ফেলে বলে,

“এখানে কেন এসেছ?”

আরমান নওরোজ মৃদুস্বরে বলে,

“সারারাতে কতবার কল দিয়েছি, দেখেছিলে?

আমাদের কারো কল রিসিভ করলে না।

স্টেশনে পৌঁছে পর্যন্ত একটা কল করলে না।



যদিও তোমাকে কিছু বলে লাভ নেই। এসব বাদ দিই।



 আমি তোমাকে নিতে এসেছি। নামাজ পড়। বাইরে গাড়ি

আছে।”




হৃদয় দৃঢ় কণ্ঠে বলে,


“আমাকে কি তোমাদের প’ঙ্গু মনে হয় দাদু? গাড়ি তোমার,



তোমার ছেলের, তোমার ছেলের বউয়ের। নট মি।



আমার দু’টো পা আছে। আমি দিব্যি চলে যেতে পারবো।

তোমাদের গাড়ি তোমরা ইউজ কর।

চিন্তা কর না, সময়মতো আমিও গাড়িতে উঠব।


তবে যেদিন নিজের টাকায় গাড়ি কিনতে পারবো, সেদিন-

ই উঠবো।

আলহামদুলিল্লাহ, সেদিন খুব বেশি দূরে নয়।”


আরমান নওরোজ অবাক হলেন না। অসহায় কণ্ঠে বলে,

“ছোট থেকে তোমাকে অনেক আদর ভালোবাসা দিয়ে



বড় করেছি দাদুভাই। তার প্রতিদান এভাবে দিচ্ছ?”



হৃদয় তার দাদুকে দেখল ক’সেকেন্ড। অতঃপর বলে,

“তোমার ভালোবাসা অস্বীকার করিনা বলেই আজও

তোমার বাড়ি থাকি।


আই থিংক এটাই অনেক বেশি।”




কথাটা বলে হৃদয় নিচু হয়ে দু’পায়ের প্যান্ট গিরার উপর

পর্যন্ত গোটায়।


এরপর উঠে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গিয়ে তার ব্যাগটি নিয়ে

নামাজের কাতারে দাঁড়ায়৷ হৃদয়ের দাদু আরমান

নওরোজ মলিন মুখে চেয়ে রইল নাতির দিকে।



এরপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে এগিয়ে গিয়ে হৃদয়ের পাশে এসে

পায়ে পা মিলিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ায় তখনই সামনে

থেকে শব্দ করে ভেসে আসে, ‘আল্লাহু-আকবার।’


সাথে সাথে সকলে একসাথে দু’হাত তুলে বুকে হাত বাঁধে। 
.


দশ মিনিটের মাথায় নামাজ শেষে হৃদয় তার জায়গা

থেকে উঠে পিছন থেকে তার ব্যাগ পিঠে চেপে ব্যস্ত পায়ে

বেরিয়ে আসে মসজিদ থেকে। ততক্ষণে আরমান

নওরোজ-ও নামাজ শেষে হৃদয়ের পিছু পিছু আসে আর

ডাকে,


“হৃদ দাঁড়াও? আমার কথাটা শোনো। হৃদ?”



হৃদয় শুনলো না। ডান হাত চুলের ভাঁজে দু’বার চালিয়ে

বড় বড় পায়ে এগিয়ে যেতে লাগলো৷ পিছন থেকে

আরমান নওরোজ হাঁপিয়ে গিয়ে একপর্যায়ে দাঁড়িয়ে

গেলেন।


 পিছন থেকে ড্রাইভার দৌড়ে এসে দাঁড়ায় আরমান

নওরোজ এর পাশে। বলে, 


“ছোট বাবুরে আমি কি ডাইকা আনমু বড় বাবু?”




আরমান সাহেবের চোখের কোণে জল চিকচিক করছে।

দৃষ্টি হৃদয়ের পানে। যে সামনের দিকে গটগট পায়ে এগিয়ে

যাচ্ছে তো যাচ্ছেই। ভদ্রলোক নিজেকে সামলে দীর্ঘশ্বাস

ফেলে বলে,

“ও কারো কথা শুনবে না রে রহিম। ব’ড্ড অবাধ্য ছেলে

আমাদের হৃদ। গাড়ি সামনে এগিয়ে নে। আমি আশেপাশে

কিছুক্ষণ হাঁটবো।”



৩৬ বছরের রহিম মাথা নেড়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।


আরমান নওরোজ ধীরে ধীরে এগোলো সামনের দিকে। 
.
.


দিনের আলো ফুটতে শুরু করেছে। চারিদিক থেকে

মিটিমিটি হাওয়া ভেসে আসছে।


পাখির কিচিরমিচির ডাক শুরু হয়ে গেছে।


স্নিগ্ধ, স্বচ্ছ এক সকাল।


 সেই সকালে খোলা আকাশের নিচে হৃদয় হাঁটছে।


দৃষ্টি সামনে। দু’হাতের শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গুটিয়ে

নিয়ে হাত দু’টো প্যান্টের পকেটে রাখে।ন্ত



 উজ্জ্বল শ্যামলা গড়নের ছেলেটির মুখাবয়ব অত্যন্ত দৃঢ়!

সাথে চিরাচরিত গাম্ভীর্য। হাঁটার গতি মনে হচ্ছে তার বাড়ি

ফেরার ভীষণ তাড়া! কিন্তু সেটা কি আদোও সঠিক?

হৃদয়কে দেখে তা অস্পষ্ট।


মাথার উপর দিয়ে একঝাঁক পাখি উড়ে যায়।


 হৃদয় হাঁটতে হাঁটতেই মাথা উঁচু করে একবার তাকালো


সেদিকে।


সে এসব পরিবেশের সাথে পরিচিত, ভীষণ পরিচিত।

হাঁটতে হাঁটতেই উঁচু মাথা নিচু করলে একদম মুখের সামনে

কোনো মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুঝতে পেরে হৃদয় ঝটকা

খাওয়ার মতোন করে দু’পা পিছিয়ে যায়।



ভ্রু কুঁচকে সামনে তাকালে চোখে পড়ে পিঠ ফিরিয়ে

একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

এদিকে রজনী কারো পায়ের শব্দ পেয়ে তখন-ই উল্টো


ঘুরে দাঁড়ায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সারারাত পাশে

বসে জার্নি করা মানুষের সাথে। মেয়েটি শুকনো ঢোক

গিলল। 



হৃদয় গম্ভীর মুখে রজনীর দিকে চেয়ে আছে। চেহারা

দেখেই বোঝা যাচ্ছে ছেলেটা রজনীর উপর চরম বিরক্ত।

মেয়েটি তো তার পিছু-ই ছাড়ছে না মনে হচ্ছে।


সে বিরক্ত না হয়েই বা কি হবে? রজনী আগের মতো


হৃদয়কে ধমকাতে না দেখে একটু সাহস সঞ্চয় করে

হৃদয়ের উদ্দেশ্যে মিনমিন করে বলে,


“বিশ্বাস করুন, আমি অনেক বিপদে পড়েছি।”



হৃদয় বিরক্তি কণ্ঠে বলে, “বিশ্বাস করেছি। দ্যান?”



হৃদয়ের কণ্ঠে গাম্ভীর্যতা আর বিরক্তি থাকলেও আগের

মতো রা’গের আভাস না পেয়ে রজনী আরেকটু সাহস

পেল। সে আবারো একই স্বরে বলে, “আসলে আমি

সত্যিই অনেক বড় বিপদে পড়েছি ভাইয়া।”



হৃদয় দাঁতে দাঁত চেপে বলে,


“তো আমি কি করব?”


হৃদয়ের শ’ক্ত কণ্ঠে রজনী ভ’য় পেল। মেয়েটা কিছুক্ষণ

আগে বসে বসে কেঁদেছে। গতরাতেও কেঁদেছে। চোখমুখ

লাল আর ফোলা।


দেখেই বোঝা যাচ্ছে, মেয়েটি কেঁদেছে।

কিন্তু হৃদয় কি বুঝেছে? বুঝেছে হয়ত! কিন্তু তার মধ্যে

রজনীর জন্য মায়া, মমতার ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না।



 উল্টে তার দু’হাত নিশপিশ করছে। ইচ্ছে করছে মেয়েটার

দু’গালে চটাশ চটাশ করে থা’প্প’ড় লাগাতে। গতরাতে

ট্রেনে ওঠার পর থেকে তাকে জ্বা’লি’য়ে যাচ্ছে। সে যাস্ট

নিতে পারছে না। 



রজনী কম্পিত কণ্ঠে বলে,


“আপনি আমাকে শুধু একবার সাহায্য করুন ভা…..



মাঝখান থেকে হৃদয় ধমক দেয়,


“সাটআপ।



রজনীর কথা তো থেমেছেই। সাথে হৃদয়ের কণ্ঠে সে

ঝাঁকি দিয়ে ওঠে।


আগের চেয়েও ভ’য়ে ভ’য়ে তাকায় মেয়েটি।


হৃদয় রাগান্বিত স্বরে বলে,


“বিপদে পড়তে পড়তে ইন্ডিয়ায় ভেসে যাও,


আই ডোন্ট কেয়ার! বাট বার বার আমার সামনে আসছ


কোন সাহসে,



রজনী বারবার শুকনো ঢোক গিলছে। হৃদয় এদিক-ওদিক

তাকিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করল। এরপর

রজনীর দিকে তাকিয়ে আবারো কঠোর স্বরে বলে,


আমাকে এতোবার ডিস্টার্ব করার পরও তুমি এখনো

আমার হাতে মা’র খাওনি কেন জানো?



কথাটা বলে হৃদয় থামলো। বা হাতে ডান হাতের গোটানো

শার্ট আরেকটু আরেকটু উপরে উঠালো। এরপর বা হাত

দ্বারা ডান হাতের কব্জির চারপাশে শ’ক্তহাতে ঘোরাতে

ঘোরাতে ঠান্ডা গলায় বলল,



বিকজ ইউ আর আ গার্ল। আর আমি মেয়েদের গায়ে হাত

তুলি না। ইট’স মাই রুল। ছেলে হলে এতক্ষণে তোমার


জায়গা হসপিটালে হত।”



হসপিটাল শব্দটা শুনে রজনীর ভীতি কয়েকশ গুণ বেড়ে

গেল। ভ’য় সাথে সাথে আরও দু’টো মিশ্র অনুভূতি হলো

রজনীর।


 সে যে কারণে চেয়ারম্যান এর ছেলেকে বিয়ে করবে না

বলে গ্রাম থেকে পালিয়ে এসেছে, সেসব কারণ সে

হৃদয়ের মধ্যে দেখেনি।


সোজা বাংলায় যাকে বলে মেয়ে দোষ। এজন্যই রজনী

বারবার হৃদয়ের কাছেই হেল্প চাইছে।


কিন্তু ছেলেটা তো আরেকদিন দিয়ে ভালো নয়,


কারণ বিপদগামীকে একটুও হেল্প করতে চায় না, শুধু

ধমকায়।



 রজনী ভ’য় আর দু’টো মিশ্র অনুভূতি নিয়ে মলিন মুখে

দাঁড়িয়ে রইল।




রজনীকে নিজের দিকে এভাবে হ্যাবলার মতো তাকিয়ে

থাকতে দেখে হৃদয় দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “ছেলে দেখলে

চোখ সরে না কেন তোমার?”



কথাটা শুনে রজনী বিস্মিত হয়। কথার মর্মার্থ বুঝতে

পেরে সাথে সাথে মাথা নিচু করে নেয় সে।


মেয়েটা বুঝেছে তার সামনে দাঁড়ানো ছেলেটা তাকে

খারাপ মেয়ে ভাবছে।



কিন্তু সে তো খারাপ মেয়ে নয়, তবুও কেন তাকে খারাপ

মেয়ে ভাবছে? ভাবনার মাঝেই হৃদয় রজনীকে পাশ

কাটিয়ে গটগট পায়ে এগিয়ে গেল।


যেতে যেতে রজনীর উদ্দেশ্যে বিরক্তি কণ্ঠে আওড়ায়  



‘ম্যানারলেস মেয়ে।’






কথাটি রজনীর কানে এসেছে। সে মাথা নিচু ষ্ট দাঁড়িয়ে

রইল। ভীষণ খারাপ লাগছে।


মনে হচ্ছে, গ্রামে ফিরে যাওয়া ছাড়া তার কোনো উপায়



 নেই কিন্তু রজনী আবারো ওই গ্রামে কি করে ফিরে যাবে?

গেলেই তো তার বাবা ওই ন’ষ্ট ছেলেটার সাথে তাকে বিয়ে

দিয়ে দিবে।


কিন্তু আবারো গ্রামে না ফিরেই বা কোথায় যাবে সে?

ননধীরে ধীরে ঘাড় বাঁকিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখল, হৃদয়

ছেলেটা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।


রজনীর চোখদু’টো টলমল করে উঠল।


এই অপরিচিত শহরে বুঝি তাকে সাহায্য শেষ কেউ নেই?

কই তাদের গ্রাম তো এমন নয়। তাদের গ্রামে অপরিচিত

মানুষকেও তারা পেট ভরে ভাত খেতে দেয়। যেই বিপদে

পড়ে, তাকেই তারা সবাই সাহায্য করে। কিন্তু এখানের

মানুষরা বুঝি এতো অদ্ভূত হয়? সে কত করে বলল, কিন্তু

ছেলেটা তাকে কিছুতেই সাহায্য করল না। রজনী মলিন

কণ্ঠে আওড়ায়, 



“নি’র্দয় ব্যাটাছেলে!”


রজনী সময় নিয়ে নিজেকে সামলে এগিয়ে গিয়ে রাস্তার

পাশে বসে। পায়ের পুরোনো চটি দু’টো খুলে রাখে পাশে।

এরপর দু’পা মেলে দিয়ে পায়ের উপর তার ছোট্ট ব্যাগটি

রাখে। ব্যাগের চেইন খুলে ভেতর থেকে অনেকগুলো

টাকা বের করে। সবগুলো দশ, বিশ টাকার নোট।

দু’তিনটে পঞ্চাশ টাকার নোট আর কিছু পাঁচ টাকার

কয়েন। রজনী টাকাগুলো ধীরে ধীরে গুণতে শুরু করল।

অনেকটা সময় নিয়ে টাকাগুলো গুণে শেষ করে দেখল,

এখানে ৮৫০ টাকা আছে। রজনীর প্রায় তিন বছরের

জমানে টাকা এগুলো। বাবা ভ্যান চালক। তাদের

সংসারেই অনেক অভাব ছিল। বাবা তাদের সংসার

চালাতেই হিমশিম খেত। তার মধ্যে টুকটাক মেয়েদের

টুকটাক শখ পূরণ করত আর রজনী স্কুল যাওয়ার সময়

মাঝে মাঝে রজনীকে দশ-বিশ টাকা দিত। সেই

টাকাগুলো রজনী তার একটি ছোট্ট ব্যাংকে জমিয়েছিল।

বাবার র’ক্ত পানি করা টাকা রজনী কখনো উড়ায়নি।


কখনো কিছু কিনে খায়নি৷ বরং পঞ্চাশ টাকা দিয়ে একটি

মাটির ব্যাংক কিনে সেই ব্যাংকে খুব যত্নে করে বাবারর’ক্ত

পানি করা টাকা জমিয়ে রাখতো। কাল রাতে সেই

ব্যাংক ভেঙে সব টাকা সাথে নিয়ে এসেছে। বাবা বাড়ি

থাকলেই তাকে একটু পর পর একটা করে ডাক দিত, ‘মা

রজনী?’



রজনীর বুকটা ধ্বক করে উঠল। মেয়েটির টলমলে

চোখদু’টো থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। অস্পষ্ট স্বরে

আওড়ালো, “আব্বা?”

আরমান নওরোজ হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা সামনের দিকে

এগিয়ে গিয়েছে। তার গাড়ি তার থেকে আরেকটু সামনে।

ভদ্রলোকের পরনে সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা। পায়ে জুতো।



বেশ বড়সড় দাড়ি। চুলদাড়ি অর্ধেকের বেশি পাকা। বয়স

অনুযায়ী ততটা শ’ক্তি হারায়নি সে এখনো। হাঁটছে বেশ

জোরে। হঠাৎ-ই তার পা থেমে যায় কান্নার আওয়াজ

কানে আসলে। ভদ্রলোক ডানদিকে ঘাড় বাঁকায়। চোখে

পড়ে রাস্তার পাশে বসে একটি মেয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে,

যোখান থেকেই মৃদু কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।

ভদ্রলোকের কপালে ভাঁজ পড়ল। এই সাত-সকালে রাস্তার

পাশে বসে মেয়েটি এভাবে কাঁদছে কেন? আরমান

নওরোজ ব্যাপারটি বোঝার জন্য মেয়েটির দিকে এগিয়ে


গিয়ে মেয়েটির সামনে এসে দাঁড়ায়। মেয়েটির উদ্দেশ্যে


গলা ঝেড়ে বলে,



“কাঁদছ কেন দিদিভাই?”



অপরিচিত কণ্ঠে রজনীর ধ্যান ভাঙে। সাথে সাথে কান্না

থামায়। দ্রুত দু’হাতে চোখের জল মুছে মাথা তুলে


তাকায়। অপরিচিত বয়স্ক একজন লোককে দেখে রজনী

ভ’য় পাবে না-কি সাহস পাবে বুঝল না। তবে লোকটাকে

দেখে হুজুরদের মতো লাগছে। এজন্য রজনী ততটা ভ’য়

পেল না। 

ওদিকে আরমান নওরোজ রজনী মেয়েটার দিকে

অদ্ভূতভাবে তাকিয়ে আছে। একে তো মেয়েটিকে দেখেই

বোঝা যাচ্ছে, মেয়েটি গ্রামের মেয়ে। তবে গ্রামের মেয়ে

হলেও আজকাল তারা রজনীর মতো বেশভূষায় থাকে

না। সবকিছু অনেক আধুনিক হয়েছে। তার মতে, রজনীর


মতো সাজসজ্জা বিলুপ্তি পথে প্রায়। ভদ্রলোকের সবচেয়ে

বেশি যেটা চোখে লাগলো, সেটা হলো রজনীর নাকের


মাঝ বরাবর ঝুলন্ত নাকফুল। এমন নাকফুল সে তার মাকে

পড়তে দেখেছিল। অর্থাৎ এর মাঝে বোধয় কয়েক প্রজন্ম

পেরিয়ে গেছে। এতোগুলো বছর পর রজনীকে সেই সাজে

দেখে আরমান নওরোজ ভীষণ মুগ্ধ হলেন। ব্যাপারটা

এমন নয় যে সে এই সাজকে ভীষণ পছন্দ করে। কিন্তু

এতোগুলো বছর পর পুরোনো ঐতিহ্য দেখতে পেয়ে বেশ


ভালো লাগলো। মেয়েটি দেখতেও বেশ ফুটফুটে। কিন্তু


কোনো গ্রামের এই ফুটফুটে মেয়েটি রাস্তার ফুটপাতে বসে


কাঁদছে কেন? ভদ্রলোক দু’পায়ের উপর ভর দিয়ে রজনীর

সম্মুখ বরাবর বসে। নরম স্বরে জিজ্ঞেস করে,



“তুমি তো গ্রামের মেয়ে দিদিভাই, তাহলে এই শহরে কি

করছ?”



ভদ্রলোককে এতো সুন্দরভাবে কথা বলতে দেখে রজনী

ভীষণ অবাক হলো। সে গ্রাম থেকে এসেছে, এটা লোকটি

জানে ভেবে আরও বেশি অবাক হলো৷ রজনী ঢোক গিলে



বলে,


“আপনি কিভাবে জানলেন আমি গ্রামের মেয়ে?”




আরমান নওরোজ মৃদু হেসে বলে,


“তোমার বেশভূষা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তোমার নাম কি

দিদিভাই?”



রজনী উত্তরে বলে, “রজনী।”



আরমান নওরোজ আবারো হেসে বলেন,


“বাহ্ বেশ মিষ্টি নাম তো! 


একটু থেমে আবারো বলেন,


আমি কি তোমার সমস্যাগুলো জানতে পারি দিদিভাই?”

লোকটির কথা শুনেই বোঝা যাচ্ছে, উনি ভালো মানুষ

হবেন। রজনী মাথা নেড়ে মলিন গলায় বলে,



“আমি অনেক বড় বিপদে পড়েছি।”



“কি বিপদ? নিশ্চিন্তে আমাকে বলো। আমি তোমাকে


অবশ্যই সাহায্য করব দিদিভাই।”



ভদ্রলোকের কথায় রজনী বড্ড স্বস্তি পেল। এতক্ষণ পর

তার মনে হলো, এই শহরেও ভালো মানুষ থাকে। যারা

নিজ থেকেই মানুষকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে।

রজনী ধীরে ধীরে তার ঘটনাটি আরমান নওরোজকে

বলল। বলতে বলতে মেয়েটি বেশ কয়েকবার চোখের

পানি ফেলেছে আবার কখনো চোখের জল মুছেছে। সব

শুনে আরমান নওরোজ বেশ অনেকটা সময় চুপ

থাকলেন। চেয়ে রইল তার সামনে বসা একেবারে সহজ-

সরল গ্রাম্য মেয়েটির পানে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন,



“তোমার বাবা তোমার কথা না শুনে কাজটি ঠিক করেনি।

কিন্তু তুমি বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেও তো ঠিক করনি

দিদিভাই!”



রজনীর চোখদু’টো আবারো ভরে উঠল। আরমান

নওরোজ এসব রেখে বললেন,


“আচ্ছা এসব বাদ দাও। তুমি কোনো চিন্তা কর না। আমি

তোমাকে তোমার বাবার কাছে পৌঁছে দিব।”



কথাটা শুনতেই রজনীর চোখেমুখে ভীতি দেখা গেল। তার

বাবার কাছে দিয়ে আসলে তার বাবা তাকে আবার

মা’র’বে না? আর তারপর যদি ওই খারাপ লোকটার

সাথেই তাকে আবারো বিয়ে দিয়ে দেয়? রজনীর ভীতু

মুখখানা আরমান নওরোজ খেয়াল করে মৃদু হেসে

বললেন,


“চিন্তা কর না দিদিভাই। তুমি আপাতত আমার বাড়ি

চলো। এরপর ধীরেসুস্থে আমি তোমাকে সাহায্য করব।

আর তোমাকে সেই ছেলের সাথে বিয়েও করতে হবে না,

সে ব্যবস্থাও করব। বুঝেছ?”



রজনী অবাক চোখে দেখল তার সামনে বসা বয়স্ক

লোকটির দিকে। লোকটিকে দেখে বয়স্ক লাগলেও

কথাবার্তা, আর চালচলনে মোটেও তেমন লাগেনা। কিন্তু

লোকটার বাড়ি যাবে ভেবে রজনী দোনামোনা করল।

আরমান নওরোজ তাড়া দিল। বলল,




“এই শহরের রাস্তা ভালো নয় দিদিভাই। তুমি ছোট মানুষ

না বুঝে ভুল করেছ। এখন আমার সাথে না গেলে তোমার

আরও বড় ভুল হবে। বুঝেছ?”




কথাটা বলে বেশ কিছুক্ষণ রজনীর দিকে চেয়ে রইল

আরমান নওরোজ। এরপর উঠে দাঁড়ালো। ভদ্রলোককে

উঠে দাঁড়াতে দেখে রজনীও ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।

পায়ের চটি পরে নিল। এরপর আরমান নওরোজ পিছু

পিছু হাঁটতে লাগলো।


_____________________



সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে তার ঘর থেকে বেরিয়ে

আসে নিলয়৷ বাড়ির ভেতরে কাউকে চোখে পড়ল না।

প্রকৃতির হাওয়া নিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বারান্দায়

আসে। বারান্দা থেকে নামলে সামনে বড়সড় উঠান। নিলয়

দু’হাত উঁচু করে শরীর টানা দিল। পরনে লুঙ্গি, গায়ে সাদা

সেন্ডো-গেঞ্জি। ফজর নামাজ পরে সাধারণত সে ঘুমায়না।

তবে ক’দিন বন্ধুদের সাথে থেকে বেশি রাত জেগে ফজর

নামাজ পরে আর চোখ খুলে রাখতে পারেনা। আজও


তেমনি ফজর নামাজ শেষে সে ঘুমিয়েছিল। নিলয় উঠানে

চোখ বুলালো। চোখে পড়ল, উঠানের একপাশে মাটির

রান্নাঘরে তার মা রান্না করছে। আরেকপাশে রিয়াদ চেয়ার

পেতে বসে আছে৷ দেখে বোঝা যাচ্ছে ছেলেটা বেশ রে’গে

আছে। নিলয় চোখ ছোট ছোট করে তাকালো। এ কি

রাতে ঘুমায়নি না-কি? গতরাতে রিয়াদের বিয়ের কনে

পালিয়ে যাওয়ায় কাল যা হুলস্থুল কান্ড বাঁধিয়েছিল,

সেসব ভেবে নিলয় শব্দহীন একটু হেসে নিল৷ যদিও

এভাবে হাসা ঠিক নয়, কিন্তু তার হাসি পেলে কি করবে?

নিজেকে সামলে বারান্দার এক কোণায় চার্জে রাখা তার

ফোন চার্জ থেকে খুলে নিয়ে বারান্দা থেকে নেমে পায়ে

সেন্ডেল পরে উঠানে বসা রিয়াদের সামনে এসে দাঁড়ায়।

রিয়াদের কোনো হেলদোল না দেখে নিলয় লুঙ্গি গুটিয়ে

নিয়ে পায়ের উপর দিয়ে ভর দিয়ে বসে। মাথাটা একটু

বাঁকিয়ে রিয়াদের দিকে চেয়ে ডান হাত নেড়ে হেসে বলে,



“অ’শুভ সকাল!”



রিয়াদ বিরক্তি কণ্ঠে বলে, “দাঁত কেলাচ্ছিস কেন?”



নিলয় ভ্রু কুঁচকে বলে, “তো কি করব?”



রিয়াদ দু’হাত গালে রেখে বলে,


“আমার হবু বউ পালিয়েছে, তাই শোক পালন কর।”





নিলয় ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে,


“দুঃখ আসছে না ভাই!”



রিয়াদ রে’গে বলে,


“তা আসবে কেন? তুই তো ভাই নামের ক’ল’ঙ্ক! তোর

মতো ভাই আমি জীবনে দেখিনি!”



নিলয় একটু ভাব নেওয়ার চেষ্টা করে। ডান হাতে রিয়াদের

থুতনির নিচে রেখে আদুরে ভঙ্গিতে বলে,

“দেখতে পাবি না তো! কারণ তোর মতো বোকা’চো’দা

ভাইয়ের কপালে আল্লাহ আমার মতো ইন্টেলিজেন্ট ভাই

ফেলে না, বুঝলি?”

রিয়াদ রে’গে তার থুতনি থেকে নিলয়ের হাত ছিটকে

সরিয়ে দেয়। সে কিছু বলার আগেই ভেতর থেকে নিলয়ের

বড় চাচা অর্থাৎ এই গ্রামের চেয়ারম্যান রিয়াদের বাবার

কণ্ঠ পেয়ে নিলয় একেবারে ভদ্র ছেলের মতো রিয়াদকে

বোঝানোর স্বরে বলে,



“দেখ ভাই, তুই গ্রামের চেয়ারম্যান এর ছেলে। তোর জন্য

মেয়েরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে। তুই এসব রজনী

টজনীকে বাদ দে। আমি তোকে প্রভাত, ঊষা, সন্ধ্যা সব

এনে দিব, বুঝলি?”




রিয়াদ গমগমে স্বরে বলে,


“আমার ওকেই চাই।”



নিলয় বেজায় বিরক্ত হলো। এ শা’লা বোঝে না কেন! সে


কাল রাতেও তার অনেক সময় খরচ করছে। অথচ এই

শা’লা তো তার সময়ের দাম-ই দিল না। বিড়বিড়িয়ে মুখ

বেঁকিয়ে আওড়ালো, ‘এ্যাঁহ মামার বাড়ির আবদার! শা’লা

তোর বিয়েই হতে দিব না।’ অতঃপর নিজেকে সামলে

বলে,


“তোর ওকেই লাগবে তো?”



রিয়াদ একই স্বরে বলে, 


“হ্যাঁ আমার রজনী মানে রজনীকেই লাগবে।”


নিলয় দেখল তার বড় চাচা বাড়ির উঠান থেকে বেরিয়ে

যেতে দেখে সে গলার আওয়াজ বাড়িয়ে দাঁত কিড়মিড়

করে বলে,


“তাহলে যা ঘুমা। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নের মাঝে ওকে নিয়ে

থাকতে থাকতে স্ব’প্ন’দো’ষ করে ফেল যা। যতসব ন’ষ্ট

রিয়াদ কোনহানকার! ছ্যাহ!”



কথাটা শুনে রিয়াদ বিস্ময় দৃষ্টিতে তাকায়। রে’গে বলে,

“কি বললি তুই?”



নিলয় চোখ ছোট ছোট করে বলে,


“যা হয় তাই বললাম। কেন তোর কি প্রবলেম আছে না-

কি? তোর রিয়েকশন দেখে তো তাই মনে হচ্ছে। তার মানে


ও মেয়ে আসল সত্য জানতে পেয়ে পালিয়ে গিয়ে নিজের

কপাল বাঁচিয়েছে। তুই চিন্তা করিস না ভাই। আমি তোকে

চিকিৎসার জন্য কলিকাতা নিয়ে গিয়ে কলিকাতার

হারবাল খাওয়াবোই খাওয়াবো।”



শেষ কথাগুলো বলতে বলতে নিলয় রিয়াদের মাথায় হাত


বুলালো। নিলয়ের মুখ দেখে মনে হচ্ছে, সে এবার সত্যিই

তার ভাইয়ের জন্য ভীষণ ক’ষ্ট পাচ্ছে। এদিকে রিয়াদ

রা’গে কাঁপছে। হঠাৎ-ই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে


ওঠে,


“নিলয়ের বাচ্চা???”


নিলয় দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে দু’পা পিছিয়ে যায়। ঠোঁটের

কোণে মিটিমিটি হাসি। তখনই পিছন থেকে নিলয়ের মা

রা’গী কণ্ঠে ডাকে, “নিলয়?”



মায়ের কণ্ঠ পেয়ে নিলয় কেশে ওঠে। নিজেকে সামলে

দ্রুত উল্টো ঘুরে মায়ের দিকে চেয়ে বলে,


“মা তুমি কখন এখানে এলে?”



ভদ্রমহিলা রে’গে বলে,


“ছেলেটাকে তুই এসব উল্টাপাল্টা কি বলছিস?”



নিলয় গলা ঝেড়ে বলে,


“আরে মা, আমি তোমাকে দেখতে পাইনি। তুমি থাকলে


আমি এসব ন’ষ্ট কথা বলি না তো। শুধু স্পষ্ট কথা বলি।

তুমি না থাকলে আমার কথা হত ন’ষ্ট। তুমি আছো, তাই

হয়ে গেছে স্পষ্ট। সহজ হিসাব।”



রিয়াদ তার বড় আম্মার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে


বলে, “বড় আম্মা তোমার ছেলেকে কিছু বলবে? দেখো

তো সকাল সকাল এসে আমার পিছে লেগেছে।”


ভদ্রমহিলা অসহায় চোখে তাকালো রিয়াদের দিকে। সে

কি বলবে? এই ছেলে কি তার কথায় থামবে? এদিকে

নিলয় রিয়াদের মতো করে মুখ ভেঙিয়ে সেইম কথা রিপিট

করে আর তার মায়ের দিকে আসতে নেয়। নিলয়ের মা

হাতের খড়ি তোলে নিলয়কে মা’রার জন্য। রিয়াদও

এগিয়ে এসে তার চেয়ার তোলে রিয়াদকে মা’রতে। অবস্থা

বেগতিক দেখে নিলয় বাড়ির উঠানের বাইরের দিকে দৌড়

দেয়। অসহায় কণ্ঠে বলে,



“ছিঃ ছিঃ কি নি’র্ল’জ্জ তোমরা! আমার মতো এক নিরীহ

বাচ্চা ছেলে নিলয় পাটোয়ারীকে মা’রার জন্য কি না

করছ! ভুলে যাবে না আমি কিন্তু তোমাদের বাড়ির

ছেলে!”



রিয়াদ চেঁচিয়ে বলে,


“তুই আমাদের বাড়ির ছেলে বলে, সেই দুঃখে আমার কচু

গাছের সাথে গ’লায় দ’ড়ি দিতে ইচ্ছে করে।”



নিলয় উঠানের শেষ মাথায় এসে বলে,


“তবুও বলছে না বটগাছের সাথে গ’লায় দ’ড়ি দিবে! তুই

তো আসলেই ন’ষ্ট রে! শা’লা ম’র’তেও চায় না।”




নিলয়ের কথা শুনে রিয়াদ আবার তার চাচির দিকে চেয়ে

অসহায় কণ্ঠে বলে,


“বড় আম্মা তোমার সামনে তোমার ছেলে আমাকে

ম’র’তে বলছে। দেখলে তুমি?”



ভদ্রমহিলা কি বলবেন বুঝলেন না। ছোট থেকে তার

ছেলেটার বিচার শুনতে শুনতেই তার দিন কাটে। ছেলেটা

এতো বড় হলো, তবুও শুধরালো না। নিলয়ের মা হাতের

খড়ি ফেলে দিয়ে রিয়াদের হাত থেকে চেয়ার নিয়ে মাটিতে

রেখে রিয়াদকে চেয়ারে বসালো। এরপর রিয়াদের মাথায়


হাত বুলিয়ে বলে,


“ওর কথা ধরিস না আব্বা। জানিসই তো ও কিরকম!

আজ তো নতুন নয়। তুই বোস। আমি তোকে খাবার দিচ্ছি!”



রিয়াদ কিছু বলল না। হাঁপিয়ে গেছে সে। 
.
.

এদিকে নিলয় যখন রিয়াদের উদ্দেশ্যে কথাটা বলে সামনে

তাকায়, তখনই সামনে তার বড় চাচাকে দেখে নিলয়


একদম ভদ্র ছেলের মতো দাঁড়িয়ে যায়। নিলয়ের বড় চাচা

ইমদাদুল পাটোয়ারী নিলয়ের উদ্দেশ্যে বলে,


“কি হয়েছে, এভাবে দৌড়াচ্ছ কেন? আর কি বলছিলে?

বটগাছ, গ’লায় দ’ড়ি এসবের মানে?”



নিলয়ের মাথা নিচু। চাচা কিছু শুনতে পায়নি ভেবে স্বস্তি

পেল। কিছু একটা প্ল্যান করে মিটিমিটি হাসছে সে।

বহুক’ষ্টে নিজেকে সামলে ভীষণ ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে


মাথা তুলে তাকায়। মলিন কণ্ঠেের ভান করে বলে,


“আসলে চাচা, আপনার ছেলে বলছিল, যে বাবা তার

ছেলের হবু বউকে সঠিকভাবে পাহাড়া দিতে পারে না, হাত

ফসকে পালিয়ে যায়। সেই বাবার না-কি বটগাছের সাথে

গ’লা’য় দ’ড়ি দিয়ে মরে যাওয়া উচিৎ।”



কথাটা শুনে ইমদাদুল পাটোয়ারী চটে গেলেন। বললেন,


“কিহ! রিয়াদ এই কথা আমাকে বলেছে?”



নিলয় মন খারাপের ভান করে মাথা উপরনিচ করে বলে,

“জ্বি চাচা। আমার খুব ক’ষ্ট হচ্ছে। আহারে চাচা!”



ইমদাদুল পাটোয়ারী রাগান্বিত স্বরে বলে,


“ও এতো বেড়ে গেছে? আমি ওকে দেখে নিব!”


নিলয় সাথে সাথে তার সামনে থেকে সরে সাইডে দাঁড়িয়ে

বা হাতে পথ দেখিয়ে বলে,


“জ্বি চাচা। এক্ষুনি গিয়ে দেখে নিন। আমাদের প্রিয় রিয়াদ

উঠানেই আছে। যান চাচা যান।”



ইমদাদুল পাটোয়ারী নিলয়ের কথার অপেক্ষা করলেন না।

সে গটগট পায়ে এগিয়ে গেলেন বাড়িতে। 


নিলয় মিটিমিটি হাসতে হাসতে কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটতে

লাগে। হাহ! নিলয় পাটোয়ারীর সাথে লাগতে আসে! মাকে

নাহয় ছাড় দেয়া যায়, কিন্তু এই বে’দ্দ’প রিয়াদ! এবার

ঠ্যালা সামলা। বেশ লাগছে তার! ভাবলো সকাল সকাল

গ্রামটা একটা চক্কর দিয়ে আসবে। সাথে গরম গরম

ঝামেলা পাঁকানোর ভাব তো আছেই। মজাই আলাদা।


হাতের ফোন অন করলে কারো অনেকগুলো মিসডকল

ভেসে ওঠে। সর্বশেষ একটি মেসেজ। 



‘কি রে আমাদের হৃদয় তো বিয়ে করেনি। কিন্তু হৃদয়ের

দাদু একটা কমবয়সী মেয়ে নিয়ে ঘুরছে কেন বুঝলাম না!

জানিস কিছু?’



মেসেজটি পড়ে নিলয়ের কপালে ভাঁজ পড়ল। ছেলেটা

তাদেরই ব্যাচমেট। খুব বেশি দহরম মহরম সম্পর্ক না

হলেও মোটামুটি সম্পর্ক ভালো। নিলয় কিছু একটা ভেবে

হৃদয়দের গাড়ির ড্রাইভার রহিমকে কল করে। ভদ্রলোকের

সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলে সবটা ক্লিয়ার হয়। কিন্তু

মাথায় কিছু একটা খেলতেই সে ফটাফট হৃদয়ের দাদির

নাম্বারে কল করে। ওপাশ থেকে সাথে সাথেই কল রিসিভ

হয়। নিলয় সালাম দেয়। হৃদয়ের দাদি সালামের উত্তর

নিয়ে জিজ্ঞেস করেন, “কে?”



নিলয় বলে,


“দাদি আমি নিলয়।”



ওপাশ থেকে বয়স্ক মহিলা বলে, 


“হৃদের বন্ধু নিলয়?”



নিলয় হেসে বলে, “হয় দাদি হয়।”





বয়স্ক মহিলা হেসে বলেন,


“বলো দাদুভাই। কবে বাড়ি আসবা?”



“আসবো দাদি। আমি তোমাকে খুব ইম্পর্ট্যান্ট একটা কথা


বলতে কল করলাম। শোনো।”



“বলো।”



নিলয় গলা ঝেড়ে কণ্ঠে ভীষণ দুঃখ মিশিয়ে বলে,


“স’র্ব’নাশ হয়ে গেছে গো দাদি। তোমার স্বামী মানে

দাদুভাই তো কচি মেয়ে বিয়ে করে ফেলেছে দাদি।”



হৃদয়ের দাদি হতভম্ব কণ্ঠে বলেন, “কি বললে?”



নিলয় আগের চেয়েও দুঃখী দুঃখী মুখ করে বলে,


“বিশ্বাস না হলেও, একটু পরেই বিশ্বাস হয়ে যাবে। কারণ

তোমার স্বামী তাকে নিয়ে তোমাদের বাড়িতেই ফিরছে।

এখন আমি রাখি গো দাদি। আমার খুব ক’ষ্ট হচ্ছে বুঝলে!

আহারে দাদি! আহারে দাদুভাই! আহারে তোমাদের

সংসার!”


এটুকু বলেই কল কেটে দেয় নিলয়। এতক্ষণের চেপে রাখা

হাসি উগলে দেয়। শব্দ করে হাসতে থাকে। উফ!

আজকের সকালটা এতো ভালো কেন! এ তো গরম গরম

জিলাপির থেকেও মজাদার সকাল!



___________________


পুরো নওরোজ বাড়ির পরিবেশ হযবরল। ড্রয়িং রুমের


সোফায় আরমান নওরোজ এর স্ত্রী নাওমি নওরোজ বসে

বসে হা-হুতাশ করছে। নিলয়ের কথা অনুযায়ী তার স্বামী

সত্যি সত্যিই কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে করে এনেছে। এসব

ভেবেই ভদ্রমহিলা তখন থেকে আহাজারি করছে। 


চারিদিকে বাড়ির মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তারা চেয়েও নাওমি নওরোজকে সামলাতে পারছেন না। 



একপাশে আরমান নওরোজ দাঁড়ানো। তার সাথে সামান্য


দূরত্বে দাঁড়িয়ে রজনী। আরমান নওরোজ এর মুখ শুকিয়ে

গেছে। বেচারা ঠিক করে কিছু বুঝতেই পারছে না। তার

বউ এসব উল্টাপাল্টা কথা কেন বলছে। একবার ভাবছে

মাথার প্রবলেম হলো না-কি! আরেকবার ভাবছে অন্যসব

হুশ-জ্ঞান তো ঠিকই আছে। তাহলে পা’গ’ল হয়নি। কিন্তু

বাচ্চা একটা মেয়েকে নিয়ে কিসব ভেবে পুরো বাড়ি মাথায়

তুলেছে ভেবে যেমন রা’গ হচ্ছে তেমনি অসহায় লাগছে।

তাকে এক পা এগোতে পর্যন্ত দিচ্ছে না। কি জ্বা’লা! এ

কার মাঝে পড়লো সে? তার নাতির বয়সী মেয়েকে নিয়ে

পুরো বাড়ির সামনে কিসব বলছে। ছেলে মেয়ে, নাতি-


নাতনিদের সামনে ল’জ্জায় মাথা কা’টা যাচ্ছে তার। 


এদিকে রজনীর মুখখানা ভীষণ মলিন। মেয়েটি এরকম


সিচুয়েশনে এর আগে কখনো পড়েনি। সে আশায় কেমন

একটা উদ্ভট সিচুয়েশন ক্রিয়েট হয়েছে যে তার কাঁদতে


ইচ্ছে করছে। 



বাড়ির দরজা পুরোপুরি খোলা দেখে হৃদয় ধীরপায়ে

ভেতরে প্রবেশ করে। দাদির আহাজারি কণ্ঠ তার কানে

পৌঁছেছে। তার দৃষ্টি সোজা সোফায় বসা তার দাদির

দিকেই গিয়েছে। সে দৃষ্টির নড়চড় হয়নি। হৃদয়ের কপালে

ভাঁজ। ব্যস্ত পায়ে এগিয়ে এসে তার দাদির সামনে দাঁড়ায়।

জিজ্ঞেস করে, “কি হয়েছে দাদি?”


হৃদয়কে দেখে নাওমি নওরোজ আগের চেয়েও হা-হুতাশ

করে বলে,


“আমার সব শেষ হয়ে গেছে দাদুভাই।”



ওদিক থেকে আরমান নওরোজ রে’গে বলে,


“হ্যাঁ শেষ তো হয়েছেই৷ তবে তোমার মাথা। তোমার বয়স্ক

মাথায় জঙ ধরেছে। এবার তোমার নাতিকে বলো, তোমার

জঙ ধরা মাথার চিকিৎসা করাতে।”






নাওমি নওরোজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে,


“তোমার বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে বলেই তো কচি

মেয়ে বিয়ে করে এনেছ। তোমার ল’জ্জা করে না? 



এরপর হৃদয়ের দিকে চেয়ে বলে,


ও আমার হৃদ সোনা দাদুভাই, তুমি এর বিচার কর। আমি


এই বুড়োর সংসার আর করবো না।”



হৃদয় তার দাদির কথা শুনে বিস্মিত হয়, তার চেয়েও বেশি

বিস্মিত হয় তার দাদুভাইয়ের পাশে রজনীকে দেখে।

রজনী হৃদয়কে দেখে তখন থেকে ভ’য়ে বারবার ঢোক

গিলছে। হৃদয় তাকে দেখে নিয়েছে বুঝতে পেরে মেয়েটির


মুখ কাঁদোকাঁদো হয়ে যায়। মেয়েটি হৃদয়ের আড়াল হতে


চায়। লুকাতে চায়। এজন্য আরমান নওরোজ এর পিছে

ধীরে ধীরে সরতে থাকে। হৃদয় চোয়াল শ’ক্ত করে তাকিয়ে

আছে রজনীর দিকে। 



আরমান নওরোজ হৃদয়ের দিকে চেয়ে স্বস্তি পায়। তার

এই নাতিটাই তার দাদিকে বুঝিয়ে সামলে নিবে সে জানে।

এজন্য সে হৃদয়ের উদ্দেশ্যে বলে,


“হৃদ, তোমার দাদিকে বুঝিয়ে বলো তো, আমি মেয়েটিকে

হেল্প করার জন্য বাড়িতে এনেছি। আর তোমার দাদি

উল্টাপাল্টা বকছে।”



হৃদয় রজনীর দিকে চেয়েই রে’গে বিড়বিড় করে,


‘রাস্তার মেয়েকে হেল্প করার মজা বোঝাচ্ছি তোমাকে

দাদুভাই, ওয়েট!’


এরপর হৃদয় রজনীর দিকে চেয়েই আরমান নওরোজ এর

উদ্দেশ্যে শ’ক্ত কণ্ঠে বলে,



”খারাপ লাগছেনা। দু’জনকে বেশ মানিয়েছে। বিয়ে

করেছ, এবার সংসার কর। আমার দাদির থেকে দূরে

থাকো। 


এরপর হৃদয় তার দাদির দিকে চেয়ে গম্ভীর গলায় বলে, 


দাদি তুমি ছেলে চুজ কর। নেক্সট ফ্রাইডে ভালো দিন

আছে। সেদিনই তোমার বিয়ে। নো টেনশন, ডু ফূ’র্তি!”



আরমান নওরোজ হতভম্ব চোখে তাকায় নাতির দিকে।

হৃদয়ের মতো বিচক্ষণ ছেলে যে তাকে ভুল বুঝে এ কথা

বলেনি তা সে জানে। তাহলে? শেষমেশ এই ছিল কপালে?

বুড়ো বয়সে এসে বউয়ের বিয়ে দেখতে হবে? 


ওদিকে হৃদয়ের কথা শুনে কেউ কাশছে তো কেউ

মিটিমিটি হাসছে। আর রজনী হৃদয়ের রা’গী দৃষ্টি দেখে

ভ’য়ের চোটে তার ব্যাগ দিয়ে মুখ ঢেকে নিয়েছে। ভ্যাঁ ভ্যাঁ

করে কাঁদছে ইচ্ছে তার। সে এ বাড়ি আসলে এতো বড়


কে’লে’ঙ্কা’রি হবে জানলে সে জীবনেও এখানে আসতো


না। 




চলবে……

Leave a Comment