Story: Snigdhokothar Premopakan (02)

কলমেঃআফসানা শোভা

– বস, বাড়ি ফিরবেন না?

সাইফের ডাকে নেশায় ঢুলুঢুলু রক্তিম চোখদুটো তুলে তাকায় স্নিগ্ধ। গায়ের শার্ট, টাই, ভেস্ট, কোট সব ছড়িয়ে, ছিটিয়ে আছে ডিভানের উপর। সামনের টি-টেবিলে দামী ব্র্যান্ডের কয়েকটা হুইস্কির বোতল আর অনেকগুলো সিগারেটের ফিল্টার। এলকোহলের বোতলগুলো খালি পড়ে আছে। আঙুলের অগ্রভাগে এখনো জ্বলছে সিগারেট। আরেক হাতে মদের গ্লাস। গ্লাসে সামান্য মদ ছিল। গ্লাসের অবশিষ্ট মদটুকু গিলে নিয়ে চোখ কুঁচকে জড়ানো গলায় কণ্ঠে প্রশ্ন করে স্নিগ্ধ,

– ক’টা বাজে?

সাইফ হাতঘড়ি দেখে গলা ঝেড়ে বলে,

– রাত একটা বাজতে চলেছে বস।

স্নিগ্ধ ডিভানের হাতল আঁকড়ে ধরে উঠে দাঁড়ায়। কোটটা কাঁধে তুলে টালমাটাল পায়ে সামনে আগায়। কিন্তু কয়েক কদম এগোতেই টাল হারিয়ে পড়ে যেতে নেয়। সাইফ আঁতকে উঠে স্নিগ্ধকে ধরে ফেলে।

– বস, সাবধানে। আমি আপানাকে হেল্প করছি।

স্নিগ্ধ হাত তুলে সাইফকে থামিয়ে দেয়,

– আই উইল ম্যানেজ সাইফ। তুমি গাড়ি বের করো।

স্নিগ্ধ নিজে নিজেই এলোমেলো টালমাটাল পায়ে এলিভেটরের দিকে এগিয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে কয়েকবার হোঁচট ও খেল। সাইফ চাইলেও সাহায্য করতে পারলোনা। কারণ বসের উপর কথা বলার সাহস ওর নেই। তাই আস্তে করে বললো,

– ওকে বস।

গাড়িতে বসে স্নিগ্ধ সিটের সাথে মাথা এলিয়ে দেয়। নির্ঘুম চোখদুটো ক্লান্তিতে বুজে আসছে। শরীরের বেশভূষা খুবই এলোমেলো। সদা ফিটফাট স্নিগ্ধর এই রূপ সাইফকে অবাক করলো। ড্রাইভ করতে করতে ফ্রন্ট মিররে সাইফ উদ্বিগ্ন চোখে বারকয়েক মাতাল স্নিগ্ধকে দেখে। বস সচারাচর ড্রিংকস করেনা। করলেও খুবই অল্প মাত্রায়। কিন্তু আজ বসের কি হয়েছে সাইফ বুঝতে পারছেনা। হঠাৎ করেই আজ ওমন উগ্রমূর্তি ধারণ করে গোটা অফিস তছনছ করে ফেললো। এখন আবার বসে বসে মধ্যরাত পর্যন্ত মদ গিলেছে। স্ট্রেঞ্জ
বসের হয়েছেটা কি আজ?

সকালে কথার ঘুম ভাঙলো একটু সময় নিয়ে। বাইরে তখন চৈত্রের সোনা রোদ ঝিকিমিকি করছে। উত্তরের জানালার কার্ণিশে বসে দুটো চড়ুই পাখির কিচিরমিচির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কথা আড়মোড়া ভেঙে পাশে তাকিয়ে দেখে তার বুকের কাছে সিঁটিয়ে গালে হাত ঢাবিয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে স্নিগ্ধতা। মেয়েটার ঘুমকাতুরে ফোলা ফোলা আদর আদর মুখটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে কথার মনটা ভরে উঠল গভীর মমতায়। কাল থেকে যে ব্যথাটা বুকে আটকে ছিল, ঘুমে নিমগ্ন মায়া ভরা আদুরে মুখটা দেখতেই তা কর্পূরের মতো উবে গেল। একটু ঝুঁকে মেয়ের ফোলা গালে হাত বুলিয়ে মৃদু স্বরে ডাকল,

– স্নিগ্ধতা, মা!

স্নিগ্ধ ঠোঁট কুঁচকে কথার বুকের কাছে আরো খানিকটা সিঁটিয়ে গেল। কথা আহ্লাদী কন্ঠে ডাকে,

– আমার কুটু বুড়ি উঠবেন না। গুডি গুডি মর্নিং হয়ে গিয়েছে তো।

স্নিগ্ধতা এবার নড়েচড়ে উঠল। কথা মেয়েকে সোজা করে। স্নিগ্ধতা পিটপিট করে চোখ খুলে তাকায়। কথা মেয়েকে ধরে সাবধানে বসিয়ে দেয়। স্নিগ্ধতা দু’হাতে চোখ ঢলে ঘুমকাতুরে গলায় বলে,

– গুডি গুডি মনিং হয়ে গেসে মাম্মা?

কথা বিছানা থেকে নেমে ওর দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,

– হ্যাঁ মাম্মা অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। আসো মাম্মার কোলে আসো টিথ ব্রাশ করিয়ে দিই।

স্নিগ্ধতা কথার কোলে ঝাপ দেয়। কথা মৃদু হেসে ওয়াশরুমে ঢুকে মেয়েকে ফ্রেশ করিয়ে নিজেও ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর মেয়ের জন্য একটা ডিম ভেজে নেয়। দুধ গরম করে তাতে চকোস ভিজিয়ে টেবিলে রাখে। তারপর চটপট নিজের জন্য ফ্রিজ থেকে দুটো রুটি বের করে ভেজে নেয়। ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে ব্যস্ত হাতে স্নিগ্ধতাকে খাওয়ানোর পাশে পাশে নিজেও খেয়ে নেয়।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা ব্যস্ত হাতে তৈরী হচ্ছে। অলরেডি আটটা বেজে গিয়েছে। মেইলে আসা শিডিউল অনুযায়ী অফিস শুরু সাড়ে নয়টায়। রাস্তায় যে জ্যাম লেগে থাকে, যেতে যেতেও তো ঘন্টাখানেক লেগে যাবে। হাঁটুসমান লম্বা চুলগুলোয় প্রতিদিনের ন্যায় একটা বিনুনি গেঁথে নেয়। হঠাৎ গুটিগুটি পায়ে পেছনে দাঁড়িয়ে থেকে কেউ কথার ওরনা টেনে ধরলো। কথা পেছনে ফিরে তাকাতেই হা হয়ে গেল৷ নিজের মেয়ের ঐশ্বরিয়া অবতার দেখে মুগ্ধ হওয়ার চেয়ে অবাক হলো বেশি। স্বভাবতই স্নিগ্ধতা একটু ঢঙ্গী আর আহ্লাদী। জামা, কসমেটিকসের প্রতি তার অবসেশনের শেষ নেই। কথার কোন সাজগোজের জিনিসকেই সে আস্ত রাখেনি। হাতের কাছে পেলেই পুরো মুখে ঢলে ঢলে নষ্ট করে ফেলে। কিন্তু এই ভরা সকালে এই মেয়ে নতুন জামা কেন পরলো। কথার ভাবনার মাঝেই স্নিগ্ধতা পরনের জামাটা চারদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়ে আহ্লাদী কন্ঠে বলে,

– মাম্মা, দেখ আমি ছুন্দর জামা পলেছি, আমাকে অফিতে নেবে না?

মেয়ের কথা শুনে হাসবে না কাঁদবে বুঝে উঠতে পারলনা কথা। গ্রাজুয়েশন করা কালীন একটা কেজি স্কুলে চাকরি করতো সে। তখন স্নিগ্ধতা সব সময় ওর সাথেই স্কুলে যেত। সেই অভ্যাস বশত মেয়ে তার ধরে নিয়েছে অফিসেও তাকে বগলদাবা করে নিয়ে যাবে কথা। কিন্তু সেটা তো কস্মিনকালেও সম্ভব না। সবচেয়ে বড় কথা একজন প্রতারকের থেকে সে তার মেয়েকে আড়াল করে রাখতে চায়৷ সেই লোকটার ছায়াও তার সন্তানের উপর পড়তে দিতে চায়না। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কথা হাঁটু মুড়ে মেয়ের সামনে বসে। স্নিগ্ধতার কোমল মুখটা হাতের আজলায় নিয়ে নরম সুরে বলে,

– সোনা মা, তোমাকে তো অফিসে নেওয়া যাবে না।

স্নিগ্ধতার হাসিমাখা মুখটায় অমাবস্যার আঁধার নেমে আসে। ঠোঁট ফুলিয়ে শুধায় বাচ্চাটা,

– কেনোওওও?

কথা এক মুহুর্ত ভেবে বলে,

– অফিসে ছোট বাচ্চাদের নেওয়া নিষেধ। তুমি ফারহা খাম্মির সাথে তার বাসায় থাকবে মা।

মায়ের কথা শুনে স্নিগ্ধতা ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে দেয়। কথা কি করবে ভেবে পেল না। ও তো ভেবেছিল স্নিগ্ধতাকে ফারহার কাছে রেখে অফিসে যাবে সব সময়। তবুও কথা নিয়ে যেত নিজের সাথে। কিন্তু অফিসটা স্নিগ্ধ শাহরিয়ারের। সেখানে স্নিগ্ধতাকে নিয়ে যাওয়া কোন ভাবেই সম্ভব না। কিন্তু মেয়ের কান্না দেখে কথার হাঁসফাঁস অনুভব হলো। এবার মেয়েকে একা রেখে যাবে কিভাবে? ওর মন তো মেয়ের কাছে পড়ে থাকবে। আর এখন মেয়েকে কি বলেই বা মানিয়ে রেখে যাবে? হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই কথা চপল কন্ঠ বললো,

– সোনা, তোমার ফাইয়াজ ভাইয়ার মতো সাইকেল চাই না?

স্নিগ্ধতা ফোপাঁতে ফোপাঁতে উপরনিচ মাথা নাড়ায়। কথা স্মিত হেসে বলে,

– মাম্মা তোমাকে সাইকেল কিনে দেব। যদি তুমি ফারহা আন্টির কাছে থাক তবে।

সহসা স্নিগ্ধতার কান্না থেমে যায়। এক পশলা আলো ঝলমল করে উঠে ওর বাচ্চাসুলভ আদুরে চেহারায়।চকচকে চোখে কথার দিকে তাকিয়ে আদো কন্ঠে শুধায়,

– ছত্তি কিনে দেবে?

– দেব মা। মাম্মা স্যালারি পেলেই ফার্স্ট তোমার জন্য সাইকেল কিনব৷

স্নিগ্ধতা অতশত বুঝলো না। কিন্তু এটুকু বুঝলো মাম্মা তাকে ফাইয়াজ ভাইয়ার মতো সুন্দর সাইকেল টা কিনে দেবে। যেটাতে ফাইয়াজ ভাইয়া ওকে কখনো উঠতে দেয় না। কথা মায়া মায়া চোখে মেয়ের নিষ্পাপ মুখটায় চেয়ে রয়। আর সবার মতো তার মেয়েটা চাইলেও সব কিছু পেয়ে যায় না। এইতো কয়েকদিন ধরে ফাইয়াজের সাইকেল টা দেখার পর থেকেই ওরকম একটা সাইকেলের জন্য বায়না করছিল। সাইকেলটার দাম প্রায় পনেরো হাজার টাকা। অতগুলো টাকা দিয়ে মেয়েকে সাইকেল কিনে দেওয়া কথার পক্ষে সম্ভব ছিল না। মেয়েটা কত কেঁদেছে সাইকেলটার জন্য। কথা তিতিবিরক্ত হয়ে মেয়েকে কষে একটা ধমক দিয়েছিল সেদিন। কিন্তু ভেতরে কথার বুকটা ফেটে গিয়েছে। ছোট থেকে ও কত শৌখিনতার মাঝে বড় হয়েছে, না চাইতেও বাবা,ভাইয়া সব ওর মুখের সামনে হাজির করেছে। কিন্তু অদৃষ্টের বিচিত্র পরিহাসে ওর ছোট্ট সোনাটাকে ও একটা সামান্য সাইকেল কিনে দিতে পারেনি। স্নিগ্ধতা কেঁদেকুটে ঘুমিয়ে যাওয়ার পর মেয়েকে আঁকড়ে কথা হাউমাউ করে কেঁদেছে। পুরনো কথা মনে করে কথার বুক ছিঁড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বের হয়। একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামান্য বেতন দিয়ে ওর পক্ষে সম্ভব হয়নি বাড়তি কোন বিলাসিতা করবার।
কিন্তু এখন নতুন চাকরিটায় কথার স্যালারি বাড়বে। এবার থেকে ও মেয়ের ছোট ছোট শখ, আহ্লাদ গুলো মেটাতে পারবে, ভাবতেই একটা প্রশান্তিকর নিঃশ্বাস ছাড়ে কথা।

ছোট দুইরুমের ছিমছাম মধ্যবিত্তের উপযোগী ফ্ল্যাটটায় ভালো করে তালা লাগিয়ে কথা পাশের ফ্ল্যাটের ডোরবেল বাজাল। অনতিবিলম্বে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে অল্পবয়স্ক একজন পুরুষ৷ পুরুষটা ফারহার স্বামী নাহিদ। নাহিদ কথা আর স্নিগ্ধটাকে দেখে হালকা হেসে বলে,

– আরে কথা৷ এসো এসো।

– না ভাইয়া ভেতরে যাবনা। অফিসের জন্য লেইট হয়ে যাচ্ছে

নাহিদ স্নিগ্ধতাকে নিজ উদ্যোগে কোলে তুলে নেয়। কথা ব্যাগ থেকে একটা ঔষধের প্যাকেট বের করে বলে,

– ভাইয়া, ফারহাকে বলবেন দুপুরে ভাত খাইয়ে এই কফের ঔষধটা খাইয়ে দিতে। আসি।

– আচ্ছা। সাবধানে যেও।

কথা মাথা নাড়িয়ে মেয়ের গালে দুটো চুমু খেয়ে সস্নেহে বলে,

– সোনা, খাম্মিকে বিরক্ত করোনা। একদম ভালো বাচ্চা হয়ে থেক। তাহলে মাম্মা তোমার জন্য চকোলেট নিয়ে আসবে। স্নিগ্ধতা লোভাতুর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,

– কতা আনবে?

কথা হেসে শুধায়,

– তুমি বলো কয়টা নিয়ে আসব?

স্নিগ্ধতা আঙুল তুলে দেখায়। নাহিদ হেসে ফেলে। হাসল কথাও। মেকি আগ্রহের সহিত গুণে বলে,

– ওমা ছয়টা! এতগুলো?

স্নিগ্ধতা উপরনিচ মাথা নাড়ায়। কথা মেয়ের ফুলকো নরম গালে আরেকটা চুমু খেয়ে বলে,

– আমার তুরতুরি বুড়ি। আচ্ছা নিয়ে আসব।

কথা ওদেরকে বিদায় দিয়ে নিচে নেমে আসে। হাত দিয়ে একটা রিকশা দাঁড় করায়। রিকশাতে উঠার আগে কি মনে করে দোতলার বারান্দায় তাকাল। তাকাতেই কাঙ্ক্ষিত মুখটার দেখা পেল। বারান্দার রেলিং আঁকড়ে তার ছানাটা বিষন্ন মুখে ছলছলে চোখে চেয়ে আছে ওর পানে। কথার বুকটা খাঁ খাঁ করে উঠল। ভেতরটা ফুলেফেঁপে উঠল অসহায়ত্বে। আরেকবার নিজের ভাগ্য আর আপনজনদের উপর দারুণ ধিক্কার আসলো। উথলে আসা কান্না রুখে একটা ব্যথাতুর ঢোক গিলে কথা পাষাণের মতো রিকশায় উঠে বসলো। ওর ছোট্ট সোনাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ও কাউকে ক্ষমা করবে না। কোনদিন না।

অমসৃণ মুখটার উপর একটা নরম হাতকে অনুভব করে গাঢ় ঘুমটা পাতলা হয়ে এলো স্নিগ্ধর। ললাটে কয়েকটা ভাঁজ পেলে পাশ ফিরে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু বিধিবাম হাতের মালিক ঘুমাতে দিলে তো। সে তার ছোট ছোট হাতে স্নিগ্ধর ফর্সা গালে হাত বুলিয়ে টকাস টকাস করে লাতাতার চুমু দিতে লাগল। স্নিগ্ধ বহু কষ্ট চোখের ভারী পল্লব মেলে তাকাল। মূহুর্তেই চোখের সামনে একটা ছেলে বাচ্চার মায়াবী হাস্যমুখ ভেসে উঠে। ছেলেটার মুখটা দেখতেই স্নিগ্ধর ঠোঁটেও অটোমেটিক হাসি ফুটে উঠে। বাচ্চাটাকে বুকে ফেলে ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,

– গুড মর্নিং বাবা।

– গুড মর্নিং। উঠোনা। অফিসে যাবে না?

স্নিগ্ধ গা থেকে কম্পোর্টার সরিয়ে উঠে বসে। ঘড়ির দিকে এক পলক তাকিয়ে হতাশ কন্ঠে বলে,

– যাহ, ইটস অলরেডি নাইন ও ক্লক। তোর মাম্মি আজ আমাকে জাগালো না কেন বলতো?

ছেলেটা ভীষণ গম্ভীরমুখে বললো,

– মাম্মি তোমার উপর খুব এংরি হয়ে আছে।

স্নিগ্ধ একটা শুকনো ঢোক গিলে। আজ ওর উপর আইলা,সিডর সব বয়ে যাবে মনে হচ্ছে। এর মাঝেই খট করে রুমের দরজাটা কেউ খুলে ভেতরে ঢোকে। শাড়ি পড়া একজন রমনী থমথমে মুখে একটা ট্রে নিয়ে ভেতরে এসেছে। আলুথালু স্নিগ্ধর দিকে এক পলক তাকিয়ে রমনীটি চোখ ফিরিয়ে নেয়। স্নিগ্ধ নিজের উসকোখুসকো চুলে হাত বুলিয়ে বঙ্কিম কন্ঠে বলে,

– সায়ান তোর মাম্মি রেগে আছে নাকি জিজ্ঞেস করতো।

সায়ান আজ্ঞা পালন করে শুধায়,

– মাম্মি তুমি রেগে আছ?

রমনীটি ঠাস শব্দ তুলে ট্রেটা বেড সাইড টেবিলে রাখল। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো,

– না বাবা। আমি কেন রেগে থাকব? আমার রাগার অধিকার আছে নাকি? আমি তো এই বাড়ির আশ্রিতা। আমার কথার দাম কি এই বাড়িতে আছে৷

সহসা স্নিগ্ধর মুখটা থমথমে আকার ধারণ করে। রমণীটি একটা গ্লাস স্নিগ্ধর দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,

– লেমনেড খেয়ে মাতাল মাথাটা ঠান্ডা করে আমাকে উদ্ধার করুন। এমনিতেই মা রেগে বোম হয়ে আছে। অতিসত্বর আপনাকে যেতে বলেছে তার কক্ষে। স্নিগ্ধ আরেকটা শুকনো ঢোক গিললো। আজ আর ওর রক্ষে নেই।

চলমান……

[ আসসালামু আলাইকুম চড়ুইরা। যারা নতুন করে আমার গল্প ওয়েবসাইটে যুক্ত হচ্ছেন আর যারা আগে থেকেই আমার সাথে ছিলেন, সবাইকে ভালবাসা জানাই। নতুন গল্পটা আপনাদের কেমন লাগছে কমেন্টে দুটো লাইন লিখে জানাবেন প্লিজ। আপনারা রিয়েক্ট করলে রিচ বাড়ে। হ্যাপি রিডিং রিডার্স। 😊]

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x