গল্প: কাছে আসা বারণ (০৫)

লেখিকা:হুমায়রা মুর্তজা

পর্ব — ৫

 

 

ওয়াশরুমের মেঝেতে নিথর অবস্থায় বসে আছে রিমঝিম। শাওয়ারের কলটা ছাড়া। বরফ শীতল পানির ধারাটা চুইয়ে পড়ছে। শাওয়ারের পানির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়েছে ওর চোখের জল। দুহাতের নখ চেপে বসেছে বাহুর উপর। আজ নিজেকে ঘেন্না হচ্ছে ওর। দীর্ঘসময় ভেজার কারণে ফ্যাকাশে লাগছে ঠোঁট জোড়া। পানিতে ভীষণ জ্বলছে ওগুলো। পুরোটা সময় শুদ্ধ নামক মানুষটা আক্রমণ চালিয়ে ওষ্ঠজোড়ার উপর। থেকে থেকে কেঁপে উঠছে রিমঝিম। কেন এসেছিল এই মানুষটা ওর জীবনে? হাঁটুতে মুখ গুঁজে বসে রইল ঠায়। বিড়বিড়িয়ে বলল, — ‘ আপনাকে আমি খু ন করব ওয়াহিদ শুদ্ধ। আমার সঙ্গে সংসার করার ইচ্ছে আপনার কোনোদিন পূরণ হবেনা। ‘

ওয়াশরুমের দরজায় কড়া নাড়ছে কেউ। রিমঝিম জানে। সেই মানুষটা কে। ধৈর্য্য নিয়ে ধীরে ধীরে টোকা দিচ্ছে সে। কিন্তু রিমঝিম জানে। ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা জানো য়ার রুপী মানুষটার ধৈর্য্যের বাঁধ অত্যন্ত ঠুনকো। ভাংতে সময় লাগবেনা। তাই তো উত্তর নেবার প্রয়োজন অব্দি করল না সে। ঠিক তখনই শুনল ওপাশের মানুষটার গাঢ় কন্ঠস্বর, — ‘ রিমঝিম। এক্ষুনি বাইরে বেরিয়ে এসো। রাইট নাও। ‘

জবাবে কিছুই বললনা রিমঝিম। ঠিক তখনই খুলে গেল ওয়াশরুমের দরজা। লম্বা পা ফেলে শুদ্ধ ভেতরে এলো৷ দ্রুত কদমে এগিয়ে গেল রিমঝিমের কাছে। কনুই চেপে ওকে টেনে ওঠাল। ওঠিয়ে ঠেসে ধরল ওয়াশরুমের দেয়ালে। রাগে চোখ জোড়া লাল হয়ে আছে শুদ্ধর। দুহাত উচিয়ে রিমঝিমের হাতজোড়াও বন্দি করল। নিজের অবস্থার প্রতি করুণা হল ওর। তাচ্ছিল্যের সহিত বিষন্নভাবে হাসল। হেসে বলল, — ‘ আপনার কাছ থেকে পালানোর কোনো পথ নেই আমার তাইনা?

রিমঝিমের বিষন্ন চেহারা, ঘৃ ণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়া কিছুতেই তোয়াক্কা করল না শুদ্ধ। হাতজোড়া দৃঢ় ভাবে দেয়ালে চেপে হিসহিসিয়ে বলল, — ‘ আমি ডাকলে কথা কানে যায়না? উত্তর নিচ্ছেলে না কেন? তোমার জন্য আমার চিন্তা হয় রিমঝিম। কেন বোঝো না? ‘

— ‘ না। যাইনা। আপনার কোনো কথা আমি শুনতে চাইনা। বুঝেছেন? আর কি বললেন? আমার জন্য আপনার চিন্তা হয়? হাসালেন আপনি আমাকে। আপনার চিন্তা শুধুমাত্র আমার শরীর নিয়ে। যেন আপনি আবার পশুত্ব জাহির করতে পারেন।’

নিজেকে আরোও এগিয়ে রিমঝিমের মুখোমুখি দাঁড় করাল শুদ্ধ। শ্বাস-প্রশ্বাসে বাড়ি খায় একে অপরের। কপালের শিরা দপদপ করতে থাকে শুদ্ধর। শীতল কণ্ঠে থেমে থেমে আওড়ালো,

 —’ এনাফ! অনেক বলেছো। আমি আমার কাজে বিন্দুমাত্র লজ্জিত নই। ইয়েস। ইউ হার্ড মি রাইট। কাম ইনসাইড। এত নাটক করার মত কিছু হয়নি। তোমার স্বামী তোমাকে ছুঁয়েছে। ইউ আর নট এবিউসড। যে এভাবে মরণ কান্নাকাটি জুড়ে রেখেছো। নাটকবাজ মহিলা!’

বলেই শাওয়ার বন্ধ করে রিমঝিমের ঠান্ডা শরীরটা কোলে উঠিয়ে নিয়ে বাইরে এলো শুদ্ধ। ভেজা শার্টের দুটো বাটন খোলার সময় ঊনত্রিশের শুদ্ধর সমস্ত সত্ত্বা কেঁপে উঠল। যত্নসহকারে ভেজা শার্টটা খুলে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলল দূরে৷ রিমঝিমের উন্মুক্ত শরীরের দিকে একবারও নজর না দিয়ে কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে দিল ওকে। তোয়ালে দিয়ে নিতম্ব ছাড়ানো চুল গুলোকে পেঁচিয়ে দিল। বলল, — ‘ যা হবার হয়ে গিয়েছে। আমি খাবার অর্ডার করে দিচ্ছি। কিছুটা খেয়ে মেডিসিন নাও। তারপর আমি নিজ দায়িত্বে তোমাকে বাসায় পৌছে দিয়ে আসব। ওদিকে অফিসে যেতে হবে৷ বউয়ের আঁচলের নিচে থাকতে ইচ্ছে করলেও আপাতত উপায় নেই। হুহ্। সবাই আমাকেই পাই অত্যাচার করার জন্য!’

— ‘ আপনি এতটা নির্লজ্জ কিভাবে হতে পারেন? আপনি? আপনি একজন রে **। ‘

বিস্ময় নিয়ে কথাটা বলেই ফের চুপ বনে গেল রিমঝিম। কম্বলটা ভালোমত গায়ের সঙ্গে পেঁচিয়ে হাঁটুরে মুখ গুঁজল।

মুর্তির মত বসে থাকা রিমঝিমের দিকে চেয়ে একটা সুপ্ত গেলো রুমের এক পাশে রাখা কফি কর্ণারের দিকে। আর পুরোটা সময় অনুভূতিহীন ভাবে এক দৃষ্টিতে শুদ্ধর দিকে চেয়ে থাকল সে। কয়েকটা পল অতিবাহিত হতে যেন সম্বিত ফিরে পেল শুদ্ধ। নিজেকে স্বাভাবিক রেখে এগোলো কফি কর্ণারের দিকে।

এক মগ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি এনে রিমঝিমের হাতে ধরিয়ে দেয় শুদ্ধ। ঠোঁটের কোনের হাসিটা চওড়া হলো ওর। উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল,

— ‘ কফিটা টেস্ট করে দেখো ওয়াইফি।’

হাঁটুতে লুকানো মাথাটা উঁচু করে তাকাল রিমঝিম। চোখজোড়া অশ্রুবিন্দুতে টলমল করছে। এবং শুদ্ধকে বিস্মিত করে দিয়ে কফির মগটা হাতে নেয় রিমঝিম। একধ্যানে কফির দিকে চেয়ে থেকে শুদ্ধর মুখের উপর ছুঁড়ে মারল গরম কফি! উদ্ভ্রান্তের মত হেসে বলল,

 — ‘ কফিটা খুব ভালো বানিয়েছিলে শুদ্ধ। একদম পারফেক্ট। তাইনা?’

শরীরের তীব্র দহনের যন্ত্রনা নিয়ে জ্বলজলে দৃষ্টিতে চেয়ে থাকল শুদ্ধ কিছুক্ষণ। তারপরই ছুঁটে এসে চেপে ধরল রিমঝিমের চোয়াল। চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,— ‘ অন্যভাবে শরীর গরম করতে চাইছো ওয়াইফি? হু? আগেই বলতে? শুদ্ধকে বারবার খারাপ হবার জন্য তুমি উস্কে দাও। কেন?’

সাড়াশির মত চেপে বসা হাতটা সরানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে রিমঝিম, — ‘ আমি কিছুই চাইনা। তবে আপনার পশুত্ব জেগে উঠেছে বোধহয়? ‘ বলে কম্বলটা সরিয়ে দেয় রিমঝিম। ক্ষোভ নিয়ে বলল,— ‘ নিন। আমি নিজেই নিজেকে উন্মুক্ত করে দিলাম। মাংসপিন্ডটা আবার মন মতো ব্যবহার করে, অনেক দূরে ছুঁড়ে ফেলুন। যেখানে আপনার ছায়া থাকবেনা। আপনাকে দেখলে আমার ম রে যে তে ইচ্ছে হয়। ‘

রিমঝিমের চোয়ালে রাখা হাতটা সরিয়ে কম্বল পেঁচিয়ে ওকে আবৃত করল শুদ্ধ। শব্দ করে কফির মগটা ফ্লোরে আছড়ে ভেঙে ছুটে এলো রিমঝিমের কাছে। চোখ জোড়া র ক্ত বর্ণ ধারণ করেছে ওর। গরম কফিতে ফর্সা চেহারা পুড়ে লালচে হয়ে গিয়েছে ওর। দুপাশে হাত রেখে ঝুকে এলো রিমঝিমের দিকে। বলল,— ‘ নট ইন দিস লাইফ, ওয়াইফি। আমার কাছ থেকে তোমার নিস্তার নেই।’ বলেই দরজাটা খুলে বেরিয়ে গেল শুদ্ধ। দড়াম করে লাগিয়েও দিল সেটাকে যেন সমস্ত রাগ দরজার উপর উগড়ে দিতে চাইছে সে।

————

সময়টা শীতের কাল ছিল। শুদ্ধ বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠোঁটে জলন্ত সিগারেট। সাদা পাঞ্জাবির উপরের দুটো বোতাম খোলা। কাঁধের পেছনে ঠেলে রেখেছে পাঞ্জাবির কলার। যার দরুণ রোদে পোড়া প্রশস্ত বক্ষপট উন্মুক্ত। গলায় ঝুলছে স্টাইলিশ সানগ্লাস। জিন্সের হাঁটুর কাছে বেশ কয়েক জায়গায় ছেঁড়া। এটাকে ফ্যাশনেবল ট্রেন্ডি ‘রিপড জিন্স’ বলে। পাঞ্জাবির হাতা কনুই অব্দি গোটানো। সব সময়ের রুক্ষ্ণ, এলোমেলো চুলের ছন্নছাড়া যুবকের একহাতে সিগারেট আর অন্যহাতে ধরা কোকের ক্যান। এক চুমুকে অর্ধেক ক্যান খালি করে সিগারেটে লম্বা একটা টান দিল সে। দিয়ে আবার কোকের ক্যান শেষ করে পা দিয়ে দুমড়েমুচড়ে দেয় বেচারা টিনের ক্যানটাকে। শেষমেষ অভিজ্ঞ ফুটবলারের মত এক কিকে উড়িয়ে দেয় ক্যানটা বেশ দূরে। আর এতক্ষণ ওর কার্যকালাপ মনোযোগ দিয়ে অবলোকন করছিল রাফিদ হক। তামাটে বর্ণের, ছোট করে ছাঁটা চুল গম্ভীর, গভীর চোখ, চওড়া কপাল, সিগারেটে পোড়া পুরু ওষ্ঠপুটের রাফির উচ্চতা শুদ্ধর কাছাকাছি। গায়ে রংজ্বলা, ফ্যাকাশে কালো টিশার্ট। বহুল ব্যবহারের দরুন রঙ নষ্ট হওয়া টিশার্টেও রাফি অত্যন্ত সুদর্শন যুবক। শুদ্ধ আর সে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকলে উঠতি বয়সী কিশোরীরা আড়চোখে দেখে নেয় তাদের। কাষ্ঠ কণ্ঠে আওড়ালো রাফি,

 — ‘মেয়েটা কে? ‘

সিগারেটের ধোঁয়াটা ছেড়ে রাফির দিকে না তাঁকিয়েই স্মিত হাসল শুদ্ধ। এই ছেলের চোখ থেকে কিছু আড়াল করা যায়না! বলল,

— ‘ কোন মেয়ে?’

— ‘ যাকে দেখে একটু আগে ফ্রিজ হয়ে গেলি। বিরাশি ছিক্কার ঘুষি দেয়া হাতটা কেঁপে উঠল তোর। চোয়ালের পেশী নরম হলো। শোন শুদ্ধ আমার চোখ ফাঁকি দেয়া এত সহজ নয়। এবার খুলে বল তো?’

— ‘ ছাড় ওসব। তুই বল পড়াশোনা ফেলে হঠাৎ গুন্ডাদের কথা মনে হল তোর?’ শুদ্ধর ছোঁড়া প্রশ্নের জবাবে হেসে ছিনিয়ে নিল ওর হাতের সিগারেট। ঠোঁটে চেপে অভ্যস্তভাবে লম্বা টান দিয়ে ঠোঁটে ফিল্টার চেপে রেখেই ধোঁয়া ছাড়ল। ছেড়ে বলল, — ‘ বাবার শরীরটা আজ ভালো নেই। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। বাবাকে বাসায় পৌছে দিয়ে ভাবলাম তোর সঙ্গে দেখা করে আসি?’ বাইকের উপর রাখা সিগারেটের প্যাকেট থেকে নতুন একটা সিগারেট বের করে ধরালো শুদ্ধ। কাঁধ ঝাকিয়ে উদাসভাবে বলল,— ‘ দেখেছিস? ‘

— ‘ না। ‘

— ‘ কিন্তু তোকে আমার আর দেখতে মন চাইছে না রাফি। বিদায় হ এক্ষুনি। নয়তো তখনকার ঘুষিটা তোর চোয়ালে পড়বে। ‘ শুদ্ধ যেতে বললেও গেলো না রাফি। বরং আবার টেনে নিল শুদ্ধর হাতে ধরা সিগারেট। ফুকতে ফুকতে বলল,

— ‘ সোজা ভাষায় আমার পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, বিসিএস এ টিকতে হবে, সংসারের হাল ধরতে হবে,বোনের বিয়ে দিতে হবে সামনে, আমার মত অকর্মন্যর সঙ্গে মিশে সময় নষ্ট করিস না রাফি এসবই বলতে চাইছিস তাইনা? বন্ধু হিসেবে আমাকে সুপরামর্শ দিলে তোর কোনো সর্বনাশ হবেনা শুদ্ধ। এটা জরুরি নয় সামনের জন সবসময় তোর না বলা কথা বুঝে যাবে। আল্লাহ আমাদের সেই ক্ষমতা দিয়ে দুনিয়ায় পাঠাননি।’

রাফির কথায় হো হো করে হাসল শুদ্ধ। বলল,

— ‘ আমার কোন ঠেকা যে তোকে পড়তে বলব হু? নাটক না করে বিদেয় হ। আর তোকে লাস্ট ওয়ার্নিং দিলাম আরেকবার আমার সিগারেট কেড়ে নিলে আজ আর পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে পারবিনা।’

বলতেই রাফি আবারও শুদ্ধর সিগারেট টেনে নিয়ে গিয়ে বসল শুদ্ধর বাইকে। ঠোঁট ছাড়িয়ে সুন্দর করে হেসে বলল, — ‘ পায়ে হেঁটে বাড়ি আজ এমনিতেও যাব না রে দোস্ত । আমাকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে আয়। ‘

বিনা বাক্য ব্যয়ে বাইকে চেপে বসল শুদ্ধ। সুবোধ বালকের ন্যায় বাইক স্টার্স্ট দিতেই রাফি ফের বলল, — ‘ মেয়েটা কে ছিল শুদ্ধ?’

জবাবে সামান্য হাসল শুদ্ধ। হেসে টান দিল বাইকে। আপাতত রাফিকে দেয়ার মত সদোত্তোর ওর কাছে নেই।

———–

ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যস রিমঝিমের অনেকদিনের পুরোনো। ভার্সিটিরে ছুটি থাকলেও সে উঠে কাক ডাকা ভোরে। ফজরের পর আর ঘুমোতে পারেনা। ভোরে তখনও বেশ কুয়াশা পড়েছে। বারান্দায় দাঁড়ালে শিউলি ফুলের ঘ্রাণ আসে কোত্থেকে যেন। আজও গিয়ে দাঁড়াল বারান্দায়। কালো শাল চাদর, মাথায় টুপি পড়ে আপদমস্তক প্যাকেট হয়ে অনুভব করতে থাকে ভোরের স্নিগ্ধ, শীতল আবহ। বারান্দায় এলে রিমঝিম উঁকি দিয়ে তিন তালার খোলা ছাদটা দেখে। ওখানে যাবার ওর ভীষণ ইচ্ছে। শিউলির ঘ্রাণের উৎসও সেই ছাদ। ঠিক তখনই চোখে পড়ল এক পুরুষ অবয়ব। উপুড় হয়ে টানটান অবস্থায় পুশ আপ করছে। ছেলেটার পরণে চিকন স্লিভের কালো গেঞ্জি আর ট্রাউজার। শীতের ভোরেও তার গায়ের ঘামে চকচক করছে। উপুড় হয়ে থাকায় ছেলেটার মুখ দেখতে পারছেনা রিমঝিম। অভ্যস্ত কায়দায় শুধু পুশ আপ করা দেখল। পুশ আপ দেয়া শেষ করে ছেলেটা উঠিয়ে নিল পাশে রাখা ডাম্বেল। হাতের উঠানামা করার মাঝেই তার বাহুর পেশী, চওড়া কাঁধের মাসল গুলো ফুলে উঠতে থাকে। আচমকা পরণের টিশার্ট খুলে দূরে ছুড়ে দিল ছেলেটা! ওদিকে রিমঝিম হতবম্ভ হয়ে গেল। ঘামে ভেজা দীর্ঘদেহী শরীরের পেছনের অংশটা পুরোপুরি দৃশ্যমান ওর সামনে। রিমঝিম খুবই শিষ্ট একজন তরুনী। এমনভাবে অনুমতিব্যতীত একজন পুরুষের ব্যায়াম করার সময় তার দিকে হাভাতের মত চেয়ে থাকা যে উচিত নয় এতটুকু সে জানে। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে বারান্দা থেকে সরে গেল না রিমঝিম। ডাম্বল নিয়ে কেরামতি শেষে ছেলেটা হন হন করে হেঁটে চলে গেল ছাদ থেক। একটু আশাহত হল রিমঝিম। যাহ! এটা কোনো কথা! ছেলেটা চলে গেলেও সেখানে বিমূর্ত হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল রিমঝিম। ঠিক তখনই দেখল একজন মাঝবয়সী মহিলা ট্রে সমেত এলেন সেখানে। চেয়ারের সামনে রাখা টি-টেবিলের উপর ট্রে রেখে চেয়ারে বসলেন ঠিক রিমঝিমের সামনা-সামনি। কাউকে উদেশ্যে করে বলছেন, — ‘ তোকে নিয়ে আমি আর পারিনা। একটু অফিসের দিকে খেয়াল রাখলে তোর বাবার কতটা সাহায্য হয় বল তো? তোর বাবার বয়স হয়েছে। এই বয়সে এসেও এত বড় দামড়া ছেলে থাকা সত্ত্বেও অফিসের ঘানি টানছে লোকটা। শুনছিস আমার কথা? এইই ছেলে? ‘

বারান্দার ঠান্ডা মেঝেটা কেঁপে উঠল যেন রিমঝিমের পায়ের নিচের। মাথা ঘুরতে লাগল ওর। বিস্ফোরিত নেত্রে চেয়ারে বসা মহিলার দিকে চেয়ে রইল রিমঝিম। উনি এখানে কেন? কার সঙ্গে কথা বলছে? অস্ফুটস্বরে ডাকল,

 — ‘ আম্মু?’

 

0
গল্পের বিষয়ে কিছু বলুন x

চলবে…..

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x