গল্প: যদি আবার ভালোবাসো (০৩)

লেখনীতে:আইরা নূর

পর্ব:০৩

 

‼️কার্টেসি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ‼️

হাতের ব্য’থা সহ্য করতে না পেরে সাইনা এবার মৃদু চিৎকার দিয়ে উঠে। সাইনার চিৎকার শুনে সায়ের থমকে দাঁড়ায়। পিছনে ঘুরে দাঁড়াতেই সায়ের লক্ষ্য করে সাইনার হাতের র’ক্তে তার হাত ভিজে যাচ্ছে। তখনই সাইনা কম্পিত স্বরে বলে উঠে,

সাইনা:- আমার হাত ছাড়ো নির, আমার হাতে লাগছে ছাড়ো আমার হাতটা। এইভাবে কেনো আমাকে আ’ঘা’ত করছো বারে বারে..?? এবার কিন্তু আমি চিৎকার করে লোকজন জড়ো করবো।

সায়ের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে সাইনার চোখে চোখ রেখে বলে,

সায়ের:- ওহ রিয়েলি তুমি চিৎকার করবে। ও হো দেখেছো আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম। তুমি তো পারোই খালি চিৎকার চেঁচামেচি করে লোকজন জড়ো করতে তাইনা। ওকে করো কিন্তু এটা মনে রেখো এখনো কিন্তু ভোরের আলো ঠিক ভাবে ফোটে নি। আশেপাশে মানুষজনের সমাগম ও তেমন একটা চোখের পড়ার মতো নয়। এখন যদি আমি তোমার সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করি তাহলে তোমার জীবন নষ্ট হবে আমার না কারণ আমি ছেলে আর তুমি মেয়ে। তোমার গায়ে কলঙ্কের দাগ লাগবে। মুখ দেখাতে পারবে না। তার থেকে আমি যা বলছি তাই করো এতে তোমারই ভালো।

সায়েরের কথা শুনে সাইনা কাঠ কাঠ গলায় জবাব দেয়,

সাইনা:- তোমার যা করার তাই করো। তবুও আমি তোমার মতো একটা ছেলে কে কিছুতেই বিয়ে করব না। তুমি জানো না যে আমি অন্য একজন কে ভালোবাসি। একজন কে ভালোবেসে অন্যজনের সাথে কীভাবে সংসার করবো আমি..??

সাইনার কথা গুলো যেনো সায়েরের বুকে কোনো ধারালো ছু’রি’র মতো এসে বিধছে। প্রিয় মানুষটার মুখে অন্য কাউ কে ভালোবাসার কথা শুনে সায়ের আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না। সায়ের হিংস্র কন্ঠে বলে,

সায়ের:- ওকে তুমি যখন বলছোই তাহলে এখনি শুরু করি কি বলো। তারপর আমি ও দেখবো যে তুমি কিভাবে ইরাজের সামনে মুখ দেখাও। (বাঁকা হেসে)

বলেই সায়ের সাইনা কে টেনে নিজের খুব কাছে নিয়ে আসে আর তার একহাত সাইনার কোমরে রাখে। আস্তে আস্তে সাইনার কোমরের জায়গার শাড়িটা খাঁমচে ধরে সে। সায়েরের হঠাৎ অতর্কিত আক্রমণে সাইনার জানের পানি যেনো শুকিয়ে যায়। সাইনা শুকনো ঢোক গিলতে শুরু করে।

সে বার বার আশেপাশে তাকাচ্ছে তবে এখানে লোকজন নেই বললেই চলে। সাইনার ভয়ে হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে যেটা সায়ের ও খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে তাই সে শাড়িটা আরো শক্ত করে খাঁমচে ধরে।

সায়ের মুখটা সাইনার আরো কাছে নিয়ে গিয়ে হাস্কি স্বরে বলে,

সায়ের:- কি হলো, এখন ভয় কেনো পাচ্ছ..?? আমি কি শুরু করবো নাকি তুমি আমার কথা শুনবে। এখনো সুযোগ দিচ্ছি ভালোই ভালোই মেনে নাও আমার কথা না হলে,,,,

সাইনা ঠিক কি করবে তা সে ভেবে পাচ্ছে না। সেতো সায়ের কে কষ্ট দিতে চাই না তাই তো সে সায়ের কে ২ বছর আগেই ছেড়ে চলে এসেছিল। আবার এখন যদি সে সায়ের কে বিয়ে না করে তাহলে সায়ের যদি সত্যি সত্যি তার সাথে উল্টা পাল্টা কিছু করে বসে।

এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎই সাইনার মাথায় ব্যা’থা শুরু হয়ে যায়। সাইনা আর কিছু ভাবতে পারছে না। সায়ের ও আর বেশি কথা বাড়ায় না। সে সাইনা কে আবারো টানতে টানতে ভিতরে নিয়ে যায়। ভেতরে প্রবেশ করেই সায়ের কাজী সাহেবের উদ্দেশ্যে গম্ভীর স্বরে বলে,

সায়ের:- কাজী সাহেব সব কিছু রেডি..??

—হুম বাবা সব কিছু রেডি। খালি সাইন করলেই হয়ে যাবে।

সায়ের:- আর সাক্ষী..??

—হ্যাঁ, সাক্ষী ও তৈরি আছে। এখন খালি এখানে সাইন করে দিলেই হবে।

বলেই কাজী সাহেব একটা পেপার এগিয়ে দেন সায়েরের দিকে। সায়ের কিছু না ভেবেই ফট করে পেপারে সাইন করে দেয় এবার সাইনার পালা। কিন্তু সাইনা কিছুতেই সাইন করছে না। যা দেখে সায়ের সাইনার হাতের ক্ষ’ত স্থানে খুব জোরে চে’পে ধরে। সাইনা ব্য’থা’য় কুকড়িয়ে উঠে। একেই তো তার মাথায় ব্যা’থা করছে তার ওপর সায়ের তার ক্ষ’ত বি’ক্ষ’ত হাতখানা খুব জো’রে চে’পে ধরেছে।

সাইনা দাঁতে দাঁত চেপে ব্য’থা সহ্য করছে। সায়ের, সাইনার দিকে একটা কলম এগিয়ে দিয়ে নিচু স্বরে বলে,

সায়ের:- জলদি পেপারে সাইন করো।

সাইনা কলম টা নেয় ও না আর পেপারে সাইন ও করে না। সে নিজের হাত চেপে ধরেই বসে আছে। সায়ের আবারো নিচু কন্ঠে বলে,

সায়ের:- কি হলো, সাইন করতে বললাম না। তাড়াতাড়ি সাইন করো।

সাইনা এবার ও সায়ের কে পুরোপুরি ভাবে এড়িয়ে যায়। আর যেটা সায়েরের কাছে একদমই ভালো লাগে না। তাই এবার সে উঁচু স্বরে বলে,

সায়ের:- তুই সাইন করবি নাকি না..!!

সায়েরের মুখে তুই ডাক শুনে সাইনা ছলছল নয়নে তার দিকে মাথা তুলে তাকায়। কারণ এর আগে সায়ের কখনোই তাকে তুই বলেনি। সবসময় তুমি করেই ডেকেছে। সাইনা কে এইভাবে তাকাতে দেখে সায়ের ফোস করে একটা শ্বাস ফেলে আবারো সাইনার উদ্দেশ্যে রাশ ভারী কন্ঠে বলে,

সায়ের:- ভালোই ভালোই সাইন করে দে। নাহলে তোর কপালে ঘোর দুঃখ আছে।

সায়েরের কথা শুনে সাইনা বুক ভরা এক ভারী শ্বাস ফেলে মুখ অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে অনেক ক’ষ্ট বলে,

সাইনা:- না আ~আমি বিয়ে ক~করবো না। তোমার মতো ছেলেকে তো আরোই নয়। আর বললে না যে আমার কপালে ঘোর দুঃখ আছে। এতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না। আর কি বা দুঃখ বাকি আছে আমার মতো মেয়ের কপালে..!!

সাইনার কথাই সায়ের এবার বেশ রেগে যায়। সে হিংস্র কন্ঠে বলে,

সায়ের:- কি বললি তুই আমার মতো ছেলেকে বিয়ে করতে পারবি না।

বলেই সাইনার চুলের মুঠিটা খুব শ’ক্ত করে চেপে ধরে আর আবারো বলে,

সায়ের:- বল বিয়ে করবি নাকি না।

সাইনা ও দৃঢ় কন্ঠে বলে,

সাইনা:- না, আমি বললাম না যে আমি তোমাকে করবো না।

সায়ের, সাইনার চুলের মুঠি ছেড়ে দিয়ে কাজী সাহেবের উদ্দেশ্যে রাগী কন্ঠে বলে,

সায়ের:- বেশ, কাজী সাহেব এখানে কি কোনো আলাদা রূম আছে আমি একটু ওর সাথে আলাদা করে কথা বলতে চাই।

কাজী সাহেবের ও এতক্ষণে সায়েরের রাগ সম্পর্কে অল্প হলেও ধারণা হয়ে গিয়েছে। তিনি বেশ ভয়ে ভয়ে উত্তর দেন,

—হ্যাঁ বাবা ঐদিকে একটা রুম আছে।

সায়ের দেরি না করেই সাইনা কে পূর্বের ন্যায় টানতে টানতে সেই রুমের দিকে নিয়ে যায়। সাইনা ছটফট করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য।

সাইনা:- ছাড়ো আমাকে আমি যাব না, ছাড়ো। কথা কি কানে যাচ্ছে না তোমার। এতটা অসভ্য কবে থেকে হলে তুমি..? ছাড়ো আমাকে, যেতে দাও নির।

সায়ের বাঁকা হেসে বলে,

সায়ের:- ছাড়ার জন্য তো ধরিনি বেইবি। তোমার আগে বলা উচিত ছিল যে তুমি বিয়ে ছাড়ায় আমার সাথে বা’স’র করতে চাও। Ok no problem. আমি তোমার এই ইচ্ছা পূরণ করে দিচ্ছি। কিন্তু বিয়ে তো তোমার আমাকেই করতেই হবে।

সায়ের, সাইনা কে সেই রুমে এনে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেয়। এরপর সাইনা কে ধা’ক্কা দিয়ে খাটের ওপর ফেলে দেয় আর ধীরে ধীরে সাইনার দিকে এগোতে থাকে। সায়ের কে এগোতে দেখে সাইনা ও ধীরে ধীরে পিছাতে থাকে। সাইনা কে পিছাতে দেখে সায়ের একটা ডেভিল স্মাইল দিয়ে সাইনার উদ্দেশ্যে বলে,

সায়ের:- আরে বেইবি তুমি পিছাচ্ছো কেনো। Come on. তোমার তো বিয়ের আগেই আমার সাথে বা”স’র করার ইচ্ছা জেগেছে। আর তোমার কোনো ইচ্ছাই তো আমি অপূর্ণ রাখিনি। তাহলে আজকে কেনো রাখবো বলো তো। এসো কাছে এসো।

সাইনা ভয় ভয় কন্ঠে বলে,

সাইনা:- প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও নির। আমি তোমার পায়ে পড়ি আমাকে ছেড়ে দাও। কেনো আমার সাথে এমনটা করছো তুমি..? আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই না নির। জোর করে কোনো সম্পর্ক হয় না। আমি তো ২ বছর আগেই তোমাকে বলেছি যে আমি তোমাকে মোটে ও ভালোবাসি না। তাহলে এখনো কেনো আমার পিছনেই পড়ে আছো। নতুন করে নিজের জীবনটা কে আবার শুরু করো আর আমাকে আমার মতো করে ছেড়ে দাও প্লিজ।

সাইনার বুকের ভেতর টা যেনো দুমড়ে মুছড়ে যাচ্ছে। ঠিক কতটা কষ্ট নিজের বুকের মধ্যে চেপে রেখে সাইনা, সায়ের কে এতো বড় একটা মিথ্যে কথা বললো সেটা শুধুমাত্র সে আর তার আল্লাহ্ ই জানেন। একটা সময় যেই মানুষটা কে নিজের থেকে ও বেশি ভালো বেসেছে। একটা সময় বললে ভুল হবে।

সাইনা তো এখনো সায়ের সেই আগের মতোই ভালোবাসে। কিন্তু তার জীবন তো আর আগের মতো নেই। এই ২ বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। তার জীবনটা একটা উদ্দেশ্য হীন ভেলার মতো মাঝ সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছে। সে তো এখন ভোরে ঘাসের উপর জমে থাকা শিশির বিন্দু মাত্র।

তার জীবনের কোনো ঠিক নেই। সেখানে এই অনিশ্চিত জীবনের সাথে সাইনা কিছুতেই সায়ের কে জড়াতে চাই না। ছেলেটা নিজের সব কিছু হারিয়েছে। এখন যদি তাকে ও চোখের সামনে থেকে চলে যেতে দেখে তাহলে হয়তো সায়ের কে কেউ আটকাতে পারবে না।

সাইনার ভাবনার মাঝেই সায়ের বলে উঠে,

সায়ের:- বিয়ে তো তোমার আমাকেই করতে হবে। তুমি যদি এই বিয়ে না করো তাহলে আমি তোমার সাথে এই খানেই জোর জবরদস্তি করবো। তখন আমাকে বিয়ে করা ছাড়া তোমার হাতে আর কোনো উপায় থাকবে না। আর তারপর তোমাকে তোমার ফুপির কাছে রেখে আসবো। জানো তো তোমার ফুপি না অনেক রেগে আছেন সাথে মাহবুব রহমান ও। ও তোমাকে পেলে আবার বিয়ের পিড়ি তে বসবে। ঐ বুড়োর সাথে বিয়ে করার থেকে ভালো নয় কি আমার সাথেই বিয়ে করে নাও।

সাইনা এবারও কাঠ কাঠ গলায় জবাব দেয়,

সাইনা:- আমি বললাম না তোমার যা করার তাই করো কিন্তু আমি তোমাকে বিয়ে করবো না, কিছু তেই না।

সায়ের একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাইনা কে বলে,

সায়ের:- ঠিক আছে এতক্ষণ ভালোভাবে বুঝালাম কিন্তু তুমি বুঝলে না এখন তাহলে আমাকে আমার কাজ করতেই হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল তো বাঁকাতেই হবে।

বলে সায়ের, সাইনার অতি নিকটে চলে আসে। সায়ের যেই না সাইনার শাড়ির আঁচল ধরতে যাবে ঠিক এমন সময় সাইনা চি’ৎ’কা’র করে বলে,

~চলবে~

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x