লেখিকা: Jafrin Jerin
পর্ব:০১
•এই গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই।
নিঝুম এক রাত একা একটি কিশোরী মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে নির্জন এক রাস্তা দিয়ে।সে কোথায় যাচ্ছে কেনো যাচ্ছে সে নিজেও জানে না।তার হাত থেকে চুয়ে চুয়ে রক্ত পড়ছে।তার অবস্থা পুরোই বেগতিক সে কিছু দূর যেতেই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।
আপনাদের হয়তো বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে যে এই মেয়েটি কে তাহলে আসুন মেয়েটির পরিচয় দিয়ে দিই। এই মেয়েটির নাম হলো সিয়ানা চৌধুরী।তার সম্পর্কে জানার জন্য তার অতীত সম্পর্কে জানতে হবে তাহলে আসুন তার অতীত ঘুরে আসা যাক।
,
,
অতীত,,,
,
,
তারিখ:2018-09-24
সময়:৭ টা ৩০ মিনিট।
,
আজকে সকাল টা অন্য রকম মেঘ মেঘ আবেশ।সকালের আকাশ টা হালকা কালো মেঘে ঢাকা এমন মনে হয় এই যেনো বৃষ্টি নামবে।এই সময় এমন হয়ে থাকে মাঝে মধ্যে আকাশ মেঘে ঢাকা থাকলেও বৃষ্টির কোনো ছিটে ফোটা থাকে না।বাংলাদেশ মানেই এমন আবহাওয়ার দেশ।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মেন টাউন থেকে কোলাহল থেকে দূরে ঘন গাছপালা দিয়ে ঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি।মেন গেট বাড়িটির কিছুটা দূরে।মেন গেট হতে একটি পাকা রাস্তা রয়েছে যা বাড়িটির সিঁড়ির কাছে এসে থেমেছে।
রাস্তার দুই পাশে আছে সারি সারি নানা ফুলের বাহার।
বাড়ির ভিতরে ঢুকলে দেখা যায় দশ পনেরোর মতো স্টাফ।
একেক জন একেক কাজ করছে।
কেউ ঘর পরিষ্কার করছে তো কেউ ঘর গুছিয়ে রাখছে।আবার কেউ ফুল গাছে পানি দিচ্ছে।এই বাড়িটি তে মোট পনেরো টার মত রুম আছে এর মধ্যে পাঁচ টা রুম খোলা।
পাঁচ টা রুমের মধ্যে দুই টা রুম মাস্টার বেড রুম।বাকি রুমে তালা দেওয়া।তালা দেওয়া থাকলেও রুম গুলো গুছিয়ে রাখা হয়।
আর প্রতিটি রুমের সাথেই ওয়াশরুম রয়েছে।বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলে প্রথমে নজর কারে হল রুম টা সাদা আর নীল রঙের মিশ্রণ দিয়ে রঙ করা।
উপরে ঝাড় বাতি।আর তার ঠিক নিচে রয়েছে কত গুলো সোফা সেট।সব গুলোর রং ধূসর কালার এর।যা সাদা আর নীল এর সাথে বেশ মানায়।হল রুমের ওপর পাশে রয়েছে ডাইনিং এরিয়া।
তার মাঝে রয়েছে বিশাল ডাইনিং টেবিল একসাথে দশ জনের বেশির মানুষ বসতে পারবে।ডাইনিং এরিয়া থেকেই কিচেন কাউন্টার দেখা যায়।সেখানে এই বাড়ির কর্তি রান্না করছে আর তার পাশেই কিচেন শেফ তাকে সাহায্যে করছে।
আগে তিনি রান্না করতেন না কিন্তু আজ তার মেয়ের ভার্সিটি যাবে তার সাথে তার বড় ছেলে বাড়ি আসবে।এই বাড়িতে মাত্র পাঁচ জন থাকে।আগে পাঁচ টা রুম এর মধ্যে দুই টা রুম বন্ধ একটা রুম এ তার বড় ছেলে থাকতো।
আর আরেকটা রুম এর মধ্যে কি আছে কেউ জানে না ওই রুম এ তার বড় মেয়ে ঢুকতে পারে আর কারো ঢুকার অনুমতি নেই।তাই কেউ ঢুকার সাহস ও করে না।সেই বন্ধ রুম টা মাঝে মাঝে খুলা হয়।কিন্তু ভিতরে ঢুকার সৌভাগ্য করো হয় না।আর যেই রুম টা আজকে খুলা হয়েছে সেটা একটা মাস্টার বেড রুম সেই রুমে এই বাড়ির বড়ো ছেলে থাকে।আজকে বড় ছেলে বাড়ি আসবে তাই রুম টা নিজ হাতে গুছিয়ে রেখেছে।বাকি রুম গুলোর মধ্যে দুই টা বেড রুম বড়।একটার মধ্যে থাকে এই বাড়ির বড়ো ছেলে আর আরেকটা তে থাকে এই বাড়ির বড়ো মেয়ে।তার বড় ছেলে কে আনতে এই বাড়ির কর্তা গিয়েছেন।
রান্না ঘরে,,,,
কর্তি কে এতক্ষণ ধরে রান্না করতে দেখে শেফ বলে,,,
-“মেম দিন আমি রান্না করছি।
শেফ এর কথা শুনে কর্তি বলে,,
-“নাহ আজ আমি রান্না করব।
মালিকন এর কথা শুনে শেফ বলে,,
-“আজকে কি কিছু আছে,যার জন্য এত রান্নার আয়োজন।
তার কথা শুনে মিসেস বলেন,,
-“হুম আছে তো আজকে আমার বড় মেয়ে ভার্সিটি যাবে
তাই তার জন্য ভালো কিছু রান্না করছি এমনি তেও সে কিছু খেতে চায় না।তাও আজ তাকে খাইয়ে ছাড়ব।আর আরেকটাও খবর আছে আজ আমার বড় ছেলে বাড়ি ফিরছে।তাই এত বেশি আয়োজন।কত বছর পর আমার ছেলেটা বাড়ির বাহিরে ছিল।
মিসেস এর কথা শুনে শেফ বলে,,,
-“ও আচ্ছা,,কিন্তু ছোটো মেম কোথায় তিনি কি ঘুম থেকে এখনো উঠে নাই।
তার কথার জবাবে তিনি বলেন,,,,
-“মহারানী কি এত সহজে উঠবে তাকে যতক্ষণ না জাগানো হচ্ছে সে ঘুম থেকে উঠবে না।
-“তাহলে আপনি গিয়ে জাগান।এই দিক টা আমি সামলে নিচ্ছি।
-“নাহ থাক রান্না শেষ পর্যায়ে আছে।রান্না শেষ করে তারপর যাবো।
,
যতো ক্ষণ তিনি নিজের রান্না করছে ততক্ষণ পরিচয় পর্ব শেষ করি।নায়িকার নাম হচ্ছে সিয়ানা চৌধুরী রিদ্দিমা।বয়স এবার আঠারো হয়েছে।
দেখতে মারাত্মক সুন্দর।যে একবার দেখবে চোখ ওই সরাতে পারবে না।চোখ দুটো হরিণের মতো টানা আর ছোটো।আর চোখের মণি দুটো হালকা বাদামী রঙের।
চুলগুলো কোমড় ছাড়িয়ে গেছে।তার পরিবার এ সেই এমন এক জন যে তার সামনে বিশ্ব সুন্দরীও টিক বে না তার সামনে।সে যখন কিশোরী ছিল সে বয়স থেকেই অনেকে প্রপোস ও করেছে রিলেশন করার জন্য কিন্তু সে না করে দিয়েছে।
তাদের মধ্যে অনেকে না করার কারণে তারা তাকে বাজে ভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করেছে।কিন্তু সিয়ানা তাদের উত্তম মাধ্যম দিয়েছে।সে যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর।তাই কলেজ এ তাকে ডেভিল কুইন বলে।
তার হাসি ও ডেভিল দের মত।ছোটো থেকে সে জেদি আর মিশুক টাইপ এর ছিল।বড় হয়ে সে গম্ভীর আর এক রোখা টাইপ হয়েছে।আর একটা কথা সে তার মার সাথে মিশুক ভাবে থাকে।তার উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি।
সে এবার অনার্স ফার্স্ট ইয়ার এ ভর্তি হয়েছে।সে অনেক কিছু তে পরিদর্শী যেমন নাচ, গান আর ফাইটিং। তার ফাইটিং স্কিল অনেক মারাত্মক।তার মতে দুনিয়ায় টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন তিন টি মানি, পাওয়ার এন্ড ফাইটিং।
ফাইটিং কারণ নিজেদের আত্ম সুরক্ষার জন্য এটা মাস্ট বি জরুরি।তাই সে একটি ফাইট ক্লাব খুলেছে যেখানে সে মেয়েদের কে আত্ম সুরক্ষার জন্য ট্রেন করে।সে কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না।তাই তার বিশ্বাস অর্জন করতে সবার বেগ পেতে হয়।
কেনো সহজে কাউকে বিশ্বাস করে না।এর ও এক কারণ আছে।আর তার বাবার নাম সামির চৌধুরী।ফর্সা তার গায়ের রঙ,বলিষ্ঠ দেহের ব্যাক্তি বয়স হলেও তাকে দেখে বুঝা যায় না তার তিন ছেলে মেয়ে।বয়স এবার ষাট এর কাটগোড়ায় আর মার নাম সায়রা জাহান চৌধুরী।
তিনি ও দেখতে অত্যাধিক সুন্দর ডাগর ডাগর চোখ।তার এখনো বয়সের ছাপ পরে নি।তাকে দেখলে বলবে কোনো গ্রিক দেবী(এই গ্রিক দেবী বলতে বাস্তবে কিছুই নাই)।
আর তারা দুই বোন এক ভাই।তার ভাই বড়,সে মেজো ওর পড়ে তার ছোটো বোন।সিয়ানার ভাইয়ের নাম আশিক চৌধুরী সিয়ান।ছোটো বোনের নাম রুহি চৌধুরী টিয়া।
ও তার বাবার মতো দেখতে সুন্দর এখন থেকেই তার জন্য অনেক প্রস্তাব এসেছে বিয়ের কিন্তু তার বাবার এক কথা আমার মেয়েকে পড়া লেখা করিয়ে ভালো ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে তার বিয়ে দিবো যেমন আমার বড় মেয়েকে বিয়ে দিবো তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর।
সিয়ানার বড় ভাই এত বছর পড়া লেখার সূত্রে বাহিরে ছিল এবার দেশে ফিরে বাবার ব্যবসার হাল ধরবে আর ছোটো বোন এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার এ উঠেছে।
হাইট পাঁচ ফুট।সে তার বড় বোনের মতই নাচ গান আর ফাইটিং এ এক্সপার্ট।তার বড় বোন ওই তাকে শিখিয়েছে।
,
,
মাত্র মিসেস চৌধুরীর রান্না শেষ হয়েছে সে উপরে যাওয়ার আগে শেফ কে বলে,,
-“আমি উপরে যাচ্ছি,,তুমি এগুলো টেবিল এ সাজিয়ে দেও।
এই বলে যখন সে উপরে যাবে তখন ডোর বেল এর আওয়াজ আসে।একজন স্টাফ গিয়ে দরজা খুলে দেয়।স্টাফ দেখে এই বাড়ির কর্তা মিস্টার সামির চৌধুরী এসেছে আর তার সাথে একটা লম্বা দেখতে ছেলেও এসেছে।তাদের দুই জন কে ভিতরে ঢুকতে দেয়।
দুই জন ঢুকে দেখে হল রুম এ মিসেস চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছে।তার চোখে পানি।তারা দুই জন ওই তার কাছে আসে।আর তার পিছে আসে আরো দুই টা ছেলে।
এই বাড়ির বড়ো ছেলে আশিক চৌধুরী সিয়ান এসেছে।সে তার মাকে এসে জরিয়ে ধরে।
নিজের ছেলেকে এত বছর পর কাছে পেয়ে মিসেস চৌধুরী কেঁদে দেন।তার মাকে কাঁদতে তে দেখে সিয়ান বলে,,,
-“মা এভাবে কাঁদছ কেনো।
মিসেস চৌধুরী কেঁদে কেঁদে বলে,,,
-“কত বছর পর তোকে দেখলাম বাবা।
মার কথায় আশিক বলে,,
-“মাত্র সাত বছরের জন্যই তো বাহিরে গেছিলাম।
মিসেস চৌধুরী ছেলেকে ছেড়ে তার কান মলে দিয়ে বলে,,,
-“তোর কাছে কম লাগলেও আমার কাছে সাত বছর সাত
যুগ লেগেছে।আর কত টা শুকিয়ে গেছিস দেখেছিস।
আশিক তার মার কথায় হেসে দেয়।সে নাকি শুকিয়ে গেছে।
পিছনে সেই দুই টা ছেলেও হেসে দেয়।আশিক দেখতে তার মার মতো সুন্দর যে একবার দেখবে তাকিয়ে থাকবে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো।
তার হাইট ছয় ফুট দুই ইঞ্চির মতো।জিম করা বডি।তখন আশিক বলে,,,,
-“আমার দুই বোন কোথায় তাদের কে দেখছিনা।
তখনই তার সিড়ির কাছ থেকে কারো মধুর গলার
আওয়াজ আসে।
-“ভাইয়া”
সবাই সেইদিকে তাকায় দেখে যে সাদা কালার ড্রেস এ একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মেয়েটি ধীর পায়ে তখন তাদের কাছেই আসছে।সে এসে তার ভাই কে জরিয়ে ধরে আর বলে,,,
-“ভাইয়া তুমি এসেছো।
-“হুম।
তখন তার পিছনে থাকা দুই ছেলে বলে,,
-“আশিক এটাই কি তোর সেই বাঁদরের মতো দেখতে
ছোটো বোন।
তাদের দুই জন এর কথা শুনে তারা সবাই তাদের দিকে তাকায়।তখন আশিক এর মা বলে,,
-“আশিক এরা দুই জন কারা।
তখন আশিক বলে,
-“মা এরা দুই জন আমার ফ্রেন্ড একজনের নাম হৃদয় খান।আরেকজন নাম দিয়ান রহমান।
হৃদয় আর দিয়ান এর সাথে আশিক এর ইংল্যান্ড এর কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি তে দেখা হয়েছে।দুই জন ওই এই দেশে থাকে।
তাই পড়া লেখা শেষ এ একই সাথে দেশে এসেছে।আর তারা পণ করেছে তারা আশিক এর বাড়িতে বেড়াবে।তাই যে ভাবা সেই কাজ।চলে এসেছে তারা।
তাদের তিন জন এর হাইট প্রায় সেম।জাস্ট গায়ের রং আলাদা।হৃদয় দেখতে উজ্জ্বল ফর্সা আর দিয়ান দেখতে মোটামোটি সুন্দর না বেশি সুন্দর না বেশি শ্যামলা।
তাদের প্রত্যেক এর মুখের আকার একটু বেশি সুন্দর।
তখন রুহি বলে,,
-“এই বাদর কাকে বলেন।
তখন হৃদয় বলে,,
-“কেনো তোমাকে বাই দ্যা ওয়ে তুমি আশিক এর ছোটো বোন রিদ্দিমা।
রুহি অবাক হয়ে বলে,
-“রিদ্দিমা।
তখন আশিক বলে,,
-“হুম রিদ্দিমা।
রিদ্দিমা নাম শুনে তার মা মাথায় হাত দেয় আর বলে,,
-“আয় হায় ভুলেই গেলাম।তোরা গিয়ে ফ্রেশ হ আমি উপরে যাই গিয়ে।আর শুনো বাবারা তোমরা আপাততঃ আশিক এর রুম এ ফ্রেশ হও আমি তোমাদের জন্য গেস্ট রুম এর ব্যবস্থা করছি।
এই বলে তিনি উপরে চলে যাওয়ার আগে স্টাফ কে বলে যায় তাদের জন্য গেস্ট রুম রেডি করতে।আর তখন রুহি বলে,,
-“আমি রিদ্দিমা না কি কে রিদ্দিমা সেটা নিচে এসে জানতে পারবেন আপনারা এখন উপরে জান গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিচে খেতে আসুন।ভাইয়া তুমিও যাও।
এই সে ডাইনিং টেবিল এর কাছে চলে যায়।তারা তার যাওয়ার দিকে চেয়ে থাকে।তারপর তারাও উপরে চলে যায়।আর মিস্টার চৌধুরীও ততক্ষণে ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং টেবিল এ চলে এসেছে।তারা তিন জন উপরে যেতে যেতে বলে,,
হৃদয়:আশিক শুন এইটা কি তোর সেই বাদর বোন।
আশিক:হুম ওই আমার সেই বাদর বোন।
দিয়ান:বাট ছবি তে যা দেখলাম একটুও মিললো না তো।আগে একটু শ্যাম বর্ণের ছিল এখন এতো সুন্দরী কি করে হলো।
এগুলো বলতে বলতে তারা রুম এ চলে যায়।রুম এ ব্যাগ রেখে একেক জন ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে যায়।
,,,,,,,
আর এই দিকে সিয়ানা কে তার মা জাগানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু এই মেয়ের উঠার নাম ও নেই।
-“কিরে তুই এখনও পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিস না।
সিয়ানা ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে,,,
-“আম্মু আরেকটু ঘুমাই না।এমন কেনো করছো।
সিয়ার কথা শুনে মিসেস সায়রা বলেন,,,
-“তোর না আজকে ভার্সিটি আছে।কখন যাবি তুই।
ব্যাস এই একটাই কথা ছিল সিয়াকে ঘুম থেকে তুলার জন্য।
সিয়া শোয়া থেকে উঠে বসে আর বলে,,,
-“হায় হায় কি বলো এগুলো।কয়টা বাজে লেট হয়ে গেলে আমি শেষ।
মেয়ের কথা শুনে মিসেস সায়রা বলেন,,,
-“কখন থেকে তকে ডাকছি তোর তো উঠার কোনো নাম গন্ধ নেই।এখন কথা না বাড়িয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নে।
আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি।আর আজকে তোকে খেয়েই যেতে হবে।আজকে তোর বড় ভাই এসেছে দেশে আর তার সাথে তার ফ্রেন্ড ও এসেছে দুই জন।
-“আচ্ছা ঠিক আছে।
তারপর মিসেস সায়রা সিয়ানাকে বকতে বকতে রুম থেকে বের হয়ে যান।
আর সিয়ানা বসে না থেকে ওয়াশরুম এ চলে যাই ফ্রেশ হতে।ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নেয়।
আজকে সিয়ানা কালো আর লাল কালার এর একটা লং টপস আর জিন্স প্যান্ট পরে নেয় আর টপস এর উপরে সেম কালারের হিজাব বেধে নেয়।সিয়ানার মেকআপ পছন্দ না।
তার মতে মেকআপ করলে মানুষ এর আসল সৌন্দর্য ঢেকে থাকে যার কারণে সে মেকআপ করে না তেমন কোনো ফাংশন ছাড়া।
সিয়ানা যাস্ট ঠোঁটে রেড কালার লিপস্টিক লাগিয়ে নেয়।তারপর সে নিচে চলে যায়।সিড়ি দিয়ে নামতে ডাইনিং টেবিল এ নজর যায়।
তার সেখানে তিন জন ছেলে বসে আছে।এর মধ্যে কে তার ভাই সেটা দেখতেই বুঝে যায়।তারপর সে সেখানে চলে যায়।
ডাইনিং এরিয়া,,,
ডাইনিং টেবিল এ আশিক, হৃদয়, দিয়ান যে যার চেয়ারে বসে আছে।প্রথমে আশিক তার পর হৃদয় তার পরে দিয়ান বসেছে।তারা রুহির সাথে কথা বলছে,,
হৃদয় বলে,,
-“তো মিস রিদ্দিমা এখন আপনি কোন ক্লাস এ পড়েন।
রুহি তার কথায় হেসে দেয় আর বলে,,,
-“আমি কোন ক্লাস এ পড়ি সেটা ম্যাটার করে না।আপনি রিদ্দিমাকে বাদর বলেছেন এটার ফল কি হবে ভেবে দেখেছেন।
আসলে রুহি সিয়ানাকে আসতে দেখে ছিল।তাই এই কথা বলেছে।
তখন দিয়ান বলে,,
-“না গো ভেবে দেখিনি,,তা কি হবে।
তাদের কথার মাঝেই আশিক এর মাথায় কে যেনো চাটা মারে।সাথে আশিক চিৎকার দেয়।আর বলে,,,
-“কে রে আমাকে মারে।
তারা তিন জন পিছনে তাকায় তাকিয়ে এত সুন্দরী একটা মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে টাশকি খায়।আর ওই দিকে এদের এই অবস্থা দেখে আর এর পরে কি হবে সেটা ভেবে হাসতে থাকে রুহি।সবাই চুপ হয়ে রয়েছে।তাদের মা বাবা ও চুপ হয়ে আছে তাদের বড় মেয়ের রাগান্বিত চেহারা দেখে।একের পর এক শুষ্ক ঢোক গিলছে।
হৃদয় নিরবতা ভেঙে বলে,,,
-“তুমি কে গো সুন্দরী।তোমার রূপ দেখে তো আমার চোখ ঝলসে গেলো।
সিয়ানা তাদের দিকে একবার তাকিয়ে তার জন্য বরাদ্দ কৃত চেয়ারে বসে পরে।তখন তাকে রুহি ভেবে আশিক গম্ভীর স্বরে বলে,,
-“কিরে রুহি বড়রা এখানে বসে আছে তোর আক্কেল জ্ঞান নেই কোনো সালাম না দিয়ে বসে পরলি।তোর বড় বোন কে দেখ আমরা আসার পর কত সুন্দর করে কথা বলছে আর তুই আগে তো তুই এমন ছিলি না।
তখন সিয়া রাশ ভারী আওয়াজে বলে,,,
-“কেমন ছিলাম?
তার এমন গলা শুনে তারা তারি আরেক দফা টাশকি খায়।আশিক বলে,,
-“গলার স্বর ঠিক কর।এভাবে কথা বলছিস কেনো যেনো তুই সিয়ানা আর ও রুহি।
আর কিছু বলবে তার আগেই দিয়া এসে হাজির।দরজা খোলা পেয়ে সে ঢুকে পড়েছে।দিয়া এসে সবার উদ্দেশ্যে বলে,,,
-“হ্যালো এভরিওয়ান।কেমন আছো তোমরা।
রুহি আর আশিক বলে,,
-“ভালো।
তাদের দুই জনকে দেখে বাকি দুই জন ও বলে,,
-“ভালো।
তারপর দিয়া গিয়ে সিয়ার পাশে যায়।আর চেয়ার টেনে বসে পরে।আর সিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখে সিয়া রেগে আছে।আর রুহি ঠোঁট চেপে হাসছে।তাই রুহিকে বলে,,
-“কিরে তুই হাসাচ্ছিস কেন?আর ওর কি হয়েছে এমন রেগে আছে কেন?
রুহি বলে,,
-“একটু পর বুঝবা তুমি।
রুহিকে তুমি করে বলতে শুনে আশিক বলে,,
-“কিরে রিদ্দিমা তুই তোর ফ্রেন্ড কে তুমি করে বলছিস কেন?
রুহিকে রিদ্দিমা বলতে শুনে দিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
আর বলে,,,
-“আপনি তাহলে সিয়ানার বড় ভাই সিয়ান।
আশিক জবাবে বলে,,,
-“হুম।আর তুমি দিয়া তাই না।
দিয়া জবাবে বলে,,,
-“হুম,,আমি দিয়া।আপনি আমাকে চিনতে পেরেছেন কিন্তু আপনি আপনার বোনে দের মধ্যে গুলিয়ে ফেলছেন।
আশিক হতবম্ব হয়ে বলে,,,
-“মানে?
-“মানে হলো আপনি কাকে কার নাম দিচ্ছেন।
-“মানে কাকে কার নাম দিচ্ছি।বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছো।
-“আমি এটা বুঝাতে চাচ্ছি যে এ হলো তার (পাশে দেখিয়ে) রিদ্,,,,,
-“রিদ্দিমা।
দিয়ার মুখের কথা ছিনিয়ে সিয়ানা রাশ ভারী কন্ঠে বলে উঠে।
-“আমি সিয়ানা চৌধুরী রিদ্দিমা।আর আমার পাশে যে বসে আছে সে হলো আমার ছোটো বোন রুহি চৌধুরী টিয়া।
সিয়ানার কথা শুনে তারা তিন জন আকাশ থেকে পড়লো।তারা ভাবছে তারা এই কি করলো কার নাম কাকে দিবে।
তখনি সিয়া উঠে দাঁড়ায় তাকে উঠে দাঁড়াতে দেখে তার মা বলে,,,
-“কিরে কোথায় যাচ্ছিস।
সিয়া রাশ ভারী আওয়াজে বলে,,,
-“ভার্সিটি।
এই টুকু বলে সে চলে যেতে নিবে তখন তার মার গলার আওয়াজ আসে,,,
-“খেয়ে যা।
তখনই সিয়া বলে,,
-“খিদে নেই।আর খিদে লাগলেও ক্যান্টিন থেকে খেয়ে নিব।
আর চলে যেতে নিবে তার আগে রুহিকে উদ্দেশ্যে করে বলে,,,
-“তোর কলেজ নাই।
রুহি জবাবে না বলে।সিয়া আবারো বলে,,
-“তাহলে এই তিন টার উপরে নজর রাখবি এই তিনজন যাতে বাড়ির বাহিরে না যেতে পারে।এদের খবর আমি এসে নিবো।
রুহি আবারো মাথা নাড়ায়।এরপর সিয়া চলে যায়।আর যাওয়ার আগে তিন জনের দিকে তাকাতে ভুলে না।সিয়ার সাথে দিয়াও চলে যায়।তাদের চলে যাওয়ার পর রুহি হু হু করে হাসতে থাকে।তারপর সে বলে,,,,
-“কি হলো ভাইয়া কথা বন্ধ হয়ে গেছে।এখন থেকে যা বলবে সাবধানে বলবে।
রুহির কথা শুনে আশিক বলে,,
-“তুই যে রুহি আগে কেন বলিস নি।এখন কি হবে।
-“বলি নাই।এখন যা হবে সব আপুর মর্জিতে হবে।এখন খাওয়ায় মন দেও।
এই বলে সে খাওয়ায় মন দেয় তার সাথে সবাই খাওয়ায় মন দেয়।
,
,
,
,
অন্য দিকে…..
আগন্তুক :মাই প্রিন্সেস।হোয়ার আর ইউ। কাম টু মি কুইকলি।আমি আর অপেক্ষা করতে পারছি না।আমি পারছি না তোমাকে ছাড়া থাকতে।আমি তোমাকে আমার সোনার খাঁচায় বন্ধি করতে চাই।
আগন্তুক এই কথা বলার সময় তাঁর মুখে লেগে ছিল এক রহস্যময় হাসি।সে বড় একটি পেন্টিং এর সামনে দাঁড়িয়ে কথা গুলো বলছিল।এই পেন্টিং টা কার ছিল।এই অজানা ব্যক্তিটার সাথে তার কি সম্পর্ক রয়েছে।তা গল্পের মাধ্যমে জানা যাবে।
আগন্তুক হচ্ছে গল্পের নায়ক। তার নাম রিয়ন কার্লেন।দেখতে অনেক আকর্ষণীয় সুন্দর।তার চোখ দুটো ছোটো ছোটো আর মনি দুটো হ্যাজেল কালার এর।চুলগুলো বাদামী কালার।
দেখতে যেমন সুন্দর আবার ভয়ঙ্কর ও আছে।আর রাগী ও একরোখা গোমরামুখো টাইপের।তার বসবাস হচ্ছে সুদূর ইংল্যান্ড এর লন্ডন শহরে।প্রচুর নাম ডাক আছে তার।
নামকরা টপ টেন বিজনেস ম্যানদের মধ্যে অন্যতম।সবাই জানে সে একজন রাগী আর বদমেজাজী টাইপের।তার বয়স সম্পর্কে কারো সঠিক কোনো ধারণা নেই।
ফ্যামিলিতে কে কে আছে তা জানা যায় না।আসলে সেই তার পার্সোনাল জীবন সম্পর্কে কারো কাছে বলে না।তাকে আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি।কারণ সে তার ফেস রিভিল করতো না।আর ভীতরে রয়েছে হাজারো রহস্য যা সম্পর্কে কেউ অবগত নন।কি আছে রিয়ন এর মাঝে তা আমরা পরে জানতে পারবো।
এদিকে সিয়ানা আর দিয়া পৌঁছে গেছে তাদের গন্তব্য। আজকে তার ফাস্ট ডে ভার্সিটি তে।দিয়া খুশির ঠেলায় বলে,,,
-“আহ কি আনন্দ যে হচ্ছে আমার বলে বুঝাতে পারবো না। সে আর কিছুই বলতে পারলো না তার আগে সিয়া বলে,,,
-“বাকিরা কোথায়।
-“জানিনা এখনো আসছে না কেনো।বলতে পারব না।
দিয়ার কথা শুনে সিয়া বাকি সবাই কে কল দিতে যাবে তখন বাকিরা এসে হাজির।
সবাই এসে সিয়া আর দিয়া কে বলতে থাকে,,,
-“এই রে সরি রে একটু লেট হয়ে গেল।
সিয়ানা তাদের কথা শুনে বলে,,,
-“একটু লেট হয়েছে তোদের।কখন থেকে এসে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু তোদের আসার নাম গন্ধ টুকু নেই।
রিমি বলে,,,
-“এই সরি রে দোস্ত। আর কখনো এত লেট হবে না।
সিয়ানা জবাবে বলে,,,,,
-“হুম।ওকে এটাই ফাস্ট এন্ড লাস্ট কিন্তু।
সবাই একসাথে ওকে বলে
ভাবছেন এর হয়তো এরা কারা।এরা হচ্ছে সিয়ানার ছোটো বেলার সঙ্গি।দিয়া, আরিফ, মামুন, সাঈম, রিমি, সাইফ আর সিয়ানা এটা ওদের ৭ জনের গ্রুপ। ছোটো বেলা থেকেই তারা একে অপরের সাথে রয়েছে কেউ কারো থেকে আলাদা হয় নাই।একজন আরেকজনের জীবন বলতে গেলে,,,প্রাণ ভমরা।
তারপর সিয়ানা বলে,,,
-“এখন চল অনেকটা লেট হয়ে গেছে।
সিয়ার কথায় সবাই ক্লাস এ চলে যায়।
তাদের প্রত্যেকটা ক্লাস ওই ভালো ভাবে কেটেছে।ক্লাস শেষ হওয়ার পর তারা আড্ডা দিতে থাকে।দিয়া বলে,,,
-“সিয়া শুন।আজকে যা হলো তারা যে তোকে এই ভাবে বললো তুই এর পর কি করবি তাদের সাথে।
তারপর সিয়া বলে,,,
-“স্পেশাল খাতির দারি করব।
তারা আর কিছুক্ষণ আড্ডা দিয়ে যে যার বাসায় চলে যায়।
সিয়ানা গাড়ি নিয়ে বাসায় ঢুকে।গেরেজ এ গাড়ি রেখে বাড়ি ঢুকে পড়ে।
তখন বেলা বারোটা বাজে।
সিয়া ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পায় তারা সবাই হল রুম এ বসে আছে।সিয়া উপরে যাওয়ার সময় একবার তাদের দিকে তাকায়।তখন তার মা তাকে ডেকে বলে,,,
-“সিয়া,আজকে তোর প্রথম দিন কেমন কাটলো।
সিয়ানা জবাবে ছোটো করে বলে,,
-“ভালো।
মিসেস সায়রা আবার বলে,,,
-“ভালো হলেই ভালো।এখন যা গোসল করে নে।তারপর খেতে আয়।
সিয়ানা:আচ্ছা আম্মু।
সিয়ানা যাওয়ার আগে তাদের তিন জন কে বলে তার রুম এ যেতে।
-“তোমরা তিন জন বিশ মিনিট পর আমার রুম এ যাবে।একটুও দেরি যাতে না হয়।নাহলে এর ফল কিন্তু ভালো হবে না।
এই বলে সে উপরে চলে যায়।বিশ মিনিট পর তারা রুম এ যায় গিয়ে তারা ভয় পেয়ে যায়।সিয়ার রুম দেখে।পুরো বাড়ি সাদা নীল কালার এর হলেও তার রুম ছিল কালো আর লাল কালার এর তার রুম এ ঢুকার জন্য পাসওয়ার্ড লাগে।
আর তার রুমে আধুনিক সব জিনিস পত্র।আধুনিক নাকি মায়াবী তারা বুঝতে পারলো না।আসার সময় আশিক কে তার মা সিয়ার রুম এর পাসওয়ার্ড বলে ছিল।তাই ঢুকতে অসুবিধা হয় নাই।তখন তাদের কাছে সিয়ার গুরু গম্ভীর আওয়াজ কানে আসে,,,
-“দাঁড়িয়ে থাকবে নাকি বসবে।
তারা তাড়াতাড়ি করে বসে পরে সোফায় তার।সিয়ার রুম টা আশিক এর রুম এর থেকেও বড় ছিল।তার রুম এর সাথে বারান্দা আছে।বারান্দা তো নয় যেনো জিমনেশিয়াম।তারা বসতেই সিয়া বলে,,,
-“তোমরা সব মেয়েদের সাথেই এমন ব্যবহার করো।
হৃদয় ঘাবড়ে বলে,,,
-“নাহ।
-“নাহ।
সিয়ার ভয়েস টুন শুনে তারা আরো ঘাবড়ে যায়।
-“নাহ মানে মাঝে মধ্যে।
-“মাঝে মধ্যে।
এবার তারা আর নিতে না পেরে।সিয়ার পা ধরে বলে,,,
-“ক্ষমা চাই বইন।ক্ষমা করি দেও।(হৃদয়)
-“প্লিজ আমাদের ক্ষমা করি দে।(আশিক)
-“ক্ষমা” তোদের কি মনে হয় ক্ষমা চাইলে আমি ক্ষমা করে
দেবো।শুনে রাখ আমার ডিক্সেনারিতে ফরগিভ নামের
কোনো ওয়ার্ড নেই।(সিয়ানা)
সিয়ানা আবার বলে,,,
-“মিস্টার হৃদয় খান হৃদ।খান ইন্ডাস্ট্রির ওনার সিয়াম খানের ছোটো ছেলে।আহিয়ান খানের ছোটো ভাই আর রায়হান খানের গ্র্যান্ডসান আপনি কি বলবেন। কোনো মেয়েকে দেখে কাব্যিক ভাবে ফ্লার্টিং করা এটা কথা থেকে শিখেছেন।আমি যতোটুকু চিনি আপনার ফ্যামিলি তে কেউ এমন নয়।তাহলে আপনি এরকম হলেন কি করে।আন্সার মি।
সিয়ার কথা শুনে দিয়ান হৃদয় কে বলে,,,
-“এই রে হৃদ এই মেয়ে তো তোর পুরো কুন্ডলি বলে দিলো তোর নাম কি বাপের নাম কি কয় ভাই বোন সব বলে দিলো।
-“শুধু মিস্টার খানের নয় আপনার ও বায়োডাটা আছে আমার কাছে মিস্টার রোদ রহমান এর একমাত্র পুত্র।আমার ফ্রেন্ড এর একমাত্র ভাই যে কিনা কথার ছোটে নিজের বোনকে দেখতেও ভুলে গেছে।
সিয়ার কথা শুনে দিয়ান অবাক কন্ঠে সুধায়,,
-“আমার ছোটো বোন।
-“হুম আপনার ছোটো বোন দিয়া রহমান।কয়েক ঘন্টা আগে যে এসেছিল।
-“কিইইইই।
দিয়ান চিৎকার করে উঠে।দিয়ানের চিৎকার শুনে সিয়া ধমক দিয়ে বলে,,,
-“চুপ,,এক দম চুপ আর এক টা কথাও না।এখন আমার রুম থেকে বের হ সব কয়েটা।
সিয়ার ধমক খেয়ে তিন জন চলে যায় নিচে।এরপর সিয়া ও নিচে আসে খাবার খেতে।ডাইনিং টেবিল এ সবাই শান্ত ছিল কেউ কিছু বলে নাই।খাবার খাওয়া শেষে যে যার রুম এ চলে যায়।ঘুমানোর জন্য।
,
,
,
,
অন্যদিকে………
কার্লেন প্যালেস,,,
রিয়ন:কাজ শেষ হয়েছে।
এসিস্টেন:হুম স্যার হয়েছে।আর মাত্র কিছুদিন তারপর মেম আপনার কাছে চলে আসবে।
রিয়ন:গুড।এখন তুমি যেতে পারো।
এসিস্টেন:ওকে।
তারপর তার এসিস্টেন সেখান থেকে চলে যায়। এখানে রিয়ন হাতে একটা গ্লাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে তার কেবিনে। এই গ্লাস টাতে লাল কালার এর তরল জিনিস রয়েছে যা সে পান করছে।আর বলছে,,,
-“আর কিছু দিন তার পর তুমি আমার কাছে আসবে।সব ব্যবস্থা হয়ে গেছে মেরি জান।
চলবে,,,,