লেখিকা: মায়িশা নুরাইন
পর্ব:০২
(নাওয়াফ বদলে নাফসান নাম দেওয়া হয়েছে)
নাওরা ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে বাসার নিচে নেমেই আশেপাশে একটু তাকায়। আশেপাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তারপর চোখে-মুখ হাত দিয়ে ডেকে লজ্জা পাওয়ার মতো ভান ধরে একটু লাফালাফি করে। মনে মনে ভাবতে থাকে,,
~~ “ইসস,,আমার জামাইটা এত সুন্দর কেনো? আমি কি এখনো স্যার ডাকবো নাকি জামাই ডাকবো!! শাওয়ারের পর এত্ত কিউট লাগছিলো, লজ্জায় একটুও ভালোভাবে দেখতে পারলাম না। আর ফর্মাল ড্রেসের কথা তো বাদই দিলাম। ওনাকে তো এইভাবে বেশি সুন্দর লাগে। ইসস, লোকটা নাকি এখন আমার স্বামী,, “
ভেবেই লজ্জা পেতে থাকে। তখনই কারও পায়ের আওয়াজ পেয়ে দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যায়। রাস্তায় গিয়ে ভাবতে থাকে,,
— ” বাসে যাবো কি? না না, অসম্ভব। এই বাসটাই যত নষ্টের গোড়া। অন্য গাড়ি গিয়ে যাবো, তাও বাসে আর যাতায়াত করবো না। “
ভেবেই নাওরা অন্য গাড়ি করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বাস না নিলে কয়েকবার গাড়ি চেঞ্জ করে যাতায়াত করতে হয়। অনেক ঝামেলার কাজ।
নাওরা আজ আর ভার্সিটি যাবে না। এমনিতেও গত রাতে বাসায় ফিরে নি। মামা-মামীকেও জানানো হয়নি। না জানি কি ভাবছে।
গাড়িতে বসেই নাওরা ভাবতে থাকে নাফসানের ডিভোর্স দিবে বলা কথাটা। ভাবতেই কেন যেন একটু খারাপ লাগা কাজ করে। কিন্তু নাওরা তো নাফসানকে নিয়ে কখনো তেমন কোন ভাবনা ভাবে নি। তবে কেন এখন এমন খারাপ লাগছে। তাদের বিয়ে হয়ে গেছে ভাবলেই শরীরে কেমন একটা শিহরণ ভয়ে যায়।
সবাই যে ক্রাশ এর কথা বলে,,নাফসানও তার কাছে একপ্রকার ক্রাশের মতো ছিলো। ভালোলাগা আরকি। তাদের ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে সুন্দর নাফসান। পড়াও খুব ভালো বুঝায়। যদিও পড়ানোর সময় একটু গম্ভীর থাকে, সেটা ব্যপার না। কেউ কোন টপিক না বুঝলে বললেই বুঝিয়ে দেয়।
নাফসানের সাবজেক্টেই নাওরা একটু কাঁচা। বেশ অনেকবার নাওরা এই পড়া বুঝা নিয়ে নাফসানকে জ্বা’লিয়েছে। স্যাররা যতই বলুক,
~~তোমরা না বুঝলে আমাকে হাজারবার বললেও বুঝিয়ে দিবো। আদতে তা না, বারবার বুঝানোর কথা বললে তারাও রাগ করে।
নাওরা এই কাজটাই বেশি করে। তাছাড়া ক্লাসে কথা বলা, টুকটাক দুষ্টুমি তো আছেই। মাঝে মাঝে নাওরার পড়া বুঝানোর কথা বললে নাফসান যেই লুক টা দেয়, সেটা ভাবলেই নাওরার হাসি পায়।
এখনো হেসে দিয়েছিলো, আবার গাড়ির অন্যান্য যাত্রীদের চাহনি দেখে নিজেকে সামলে নিয়েছে। তারপরও যতবার নাফসানের সেই লুকটা চোখের সামবে ভাসছে, ততবারই মিটিমিটি হেসেছে।
এসব কাহিনী করতে করতে নাওরা বাসার সামনে চলে আসে। গাড়ি থেকে নেমে ভাড়া মিটিয়ে বাসার দিকে যায়। তাদের বাসাটা রাস্তার কাছেই। বাসে করে আসলে একটু হেঁটে আসতে হয়, তবে অটো করে সোজা বাসার সামনেই নামিয়ে দেয়।
বাসার কলিং বেল দিতেই মামাতো বোন এসে দরজা খুলে দেয়।
— “নাওরা আপু, তুমি আসছো,,,গতকাল কোথায় ছিলে। একটাও খবর দাও নি। সবাই কত টেনশন করছিলো। আম্মু তো রেগে বো’ম হয়ে আছে।”
— “আরে, কথার মাঝে দম নে। আসলে একটু ঝামেলা হয়ে গিয়েছিলো, তাই আরকি।”
— “কিসের ঝামেলা যে সারারাত বাহিরে কাটাতে হলো। একটা খবরও দেওয়া গেলো না।”
মামীর গম্ভীর রাগান্বিত কন্ঠ শুনে নাওরা একটু ভয় পেয়ে যায়। এখন মামীকে ম্যানেজ করতে হবে।
— “আসলে ম-মামী, আমার একটা বান্ধবী না অ-অসুস্হ হয়ে পরেছিলো। তো তাকে ডাক্তার দেখিয়ে বাসায় নিয়ে গিয়েছিলাম। রাত হয়ে যাওয়ায় তার বাবা-মা আমাকে আসতে দেয় নি।”
— “তোর মামা কি তোকে ফোন কিনে দেয় নি? ভার্সিটি উঠেছিস বলে ওইসব বড় ফোনও কিনে দিয়েছে। ওইটা কি খেয়ে বসে আছিস নাকি?”
— “না মামী, ফোন তো ব্যাগেই আছে।”
বলেই ব্যাগে হাত দিয়ে দেখে ফোনটা নেই। সাথে সাথে নাওরার সারা শরীরে ঘাম ঝরা শুরু হয়ে যায়। তারপরও মামীকে না বুঝতে দিয়ে ব্যাগের ভিতর হাত রেখেই বলে,,
— “ব-ব্যাগেই আছে মামী। আসলে চার্জ শেষ আরকি। চার্জ দিতে ভুলে গিয়েছিলাম।”
মামী একটু তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে নাওরার দিকে তাকিয়ে থেকে কিছুই না বলে চলে যায়। যেতে যেতে নাওরাকে ফ্রেস হয়ে খেতে আসতে বলে।
মামী চলে যেতেই নাওরা একটা শ্বাস ফেলে নিজের রুমে চলে যায়। মামা বোধহয় এতক্ষণে অফিসে চলে গিয়েছেন।
নাওরার মামা সায়েদ ইসলাম খুবই ভালো মনের মানুষ। নাওরাকে নিজের আরেক মেয়ের মতো ভালোবাসে। নাওরার মা মারা যাওয়ার পর সায়েদ ইসলাম নিজে থেকে চেয়ে নাওরাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। তখন নাওরার বোধহয় দশ বছর বয়স। নাওরাকে বাসায় আনায় মামীর কোন সমস্যা ছিলো না। মামী রুবিনা বেগম নিজেও নাওরাকে ভালোবাসে। তবে যথাযথ শাসনও করে। মাঝে মাঝে একটু বকা’ঝকাও করে, নাওরা এসবে কিছুই মনে করে না। যতই হোক, এরাই তো তার গার্ডিয়ান।
— ” আপু, তোমার ফোনটা দিবা? গেইম খেলবো,,,”
নাওরার মাথায় যেন বা’জ পরে। এ হচ্ছে এ বাড়ির সবচেয়ে ফা’জিল সদস্য। নাওরার মামাতো বোন। বয়স ৮ হলেও অনেক পাকনা মেয়ে। নাম মাহরু ইসলাম। বড় বোন সাফিয়া ইসলাম এইবার ইন্টারে পরে। অনেক শান্তশিষ্ট মেয়ে। তবে মাহরু তার পুরোই উল্টো।
— ” আপু দেও না। একটুই গেইম খেলবো।”
নাওরা চিন্তায় পরে যায়। এখন ফোন না দিলে কান্না শুরু করবে। পরে মামী যদি জানে ফোনটা হারিয়ে ফেলেছে, তাহলে তাকেই ব’কা দিবে।
হটাৎই মনে পরে তার ব্যাগে তো একটা চকলেট আছে। এটা তো সে খাবে বলে কিনেছিলো, পরে আর খাওয়া হয় নি। তাই সে মাহরুকে মানানোর চেষ্টা করে,,,
— আপু এদিকে আসো তো, তোমাকে কোলে নেই।
— আগে ফোন দাও। পরে কোলে,,,
নাওরা মনে মনে বলে, ফোনটা হাতের কাছে থাকলে আগে তোকে দুইটা লাগিয়ে তারপর ফোনটা দিতাম। ব’জ্জাত মেয়ে। তারপর আবারো মিষ্টি হেসে মাহরুকে বলে,,
— “আপুর ফোনটার যে চার্জ নেই। আগে চার্জ করি, তারপর দিবো হ্যা।”
— “আমি চার্জে দিতে পারি। আমাকে দেও, আমি দিয়ে দেই,,,”
— “তুমি পারবা না আপু। ওইখানে কারেন্ট আছে তো।এদিকে আসো তোমাকে একটা মজা দেই।”
— “কি মজা? চকলেট আনছো তুমি?”
— “হ্যা তো। শুধু তোমার জন্যই আনছি। বড় আপুকে বলবা না, তুমি একাই খাবা।”
বলেই ব্যাগ থেকে চকলেট বের করে দিতেই মাহরু খুশি হয়ে যায়।
— “বড় আপু কলেজে যাবে। এর মধ্যেই আমি খেয়ে শেষ করে ফেলবো। আপু তো জানতেই পারবে না।”
বলেই খুশিতে নাচতে নাচতে চলে যায়। এখনের মতো তো মাহরুকে শান্ত করা গেছে। আবার ফোনের কথা তুলার আগেই ফোনটা উদ্ধার করতে হবে।
মামীর ডাক শুনে নাওরা তাড়াতাড়ি করে ফ্রেস হয়ে মামীর কাছে চলে যায়। নাওরাকে দেখেই মামী বলে,,
— “বান্ধবীর বাসা থেকে কি খেয়ে এসেছিস? পেট ভরেছে কি?”
সাথে সাথে নাওরার মনে পরে নাফসানের বানানো ওই স্যান্ডউইচ, স্যালাড, জুসের কথা। ভাবতে ভাবতেই পেটে ডাক দিয়ে উঠে। নাওরা মামীর দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে বলে,,
— “মামী গো, যা খেয়েছি, তাতে আমার পেটের এক কোনাও ভরে নি। তোমার হাতের খাবার না খেলে পেট তো দূর, মনও ভরে না।”
— “কেনো রে, কি খাইয়েছে তোকে?”
— “আর জিজ্ঞাসা করো না গো। ভাবলেই পেটের ভিতর মোচর দিয়ে উঠছে। তাড়াতাড়ি খাবার দাও আমায়।”
ততক্ষণে সাফিয়াও কলেজ ড্রেস পড়ে তৈরি হয়ে চলে এসেছে।
— “আম্মু, আমাকেও খাবার দাও তাড়াতাড়ি। দেরী হয়ে গেলো,,,”
— “হ্যা, আরও দেরীতে ঘুম থেকে উঠ। কলেজ তোর জন্য অপেক্ষা করবে, চিন্তা নেই। মেয়ে
দুইটা একই ঢংয়ের হইছে।”
নাওরা আর সাফিয়া দুইজনই মুখ ভোতা করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। কারণ দুই মেয়ে বলতে তাদের দুইজনের কথাই বলা হয়েছে। মাহরু তো মায়ের সাথে সাথে উঠে যায়। তারপর নাওরা আর সাফিয়াকে উঠাতে ধাক্কা’ধাক্কি শুরু করবে।
তবে নাওরা তো জন্মগত ঘাওড়া। তাকে ডাকতে ডাকতে মাহরু নিজেও অতিষ্ঠ হয়ে যায়, তবুও নাওরা তে’ড়ামি করে উঠে না। নাওরার কথা হচ্ছে, এত ডাকাডাকির কি আছে। তার সময় হলে তো উঠবেই। তারপর মামীর চি’ল্লানো শুনে তড়িঘড়ি করে উঠে বাথরুমে দৌড় দিবে। এটাই নাওরার প্রতিদিনের রুটিন।
— “আপু, আমি তো এখনি কলেজে দৌড় দিবো। তুমি কি করবা? আম্মুর ভা’ষন যে শুরু হলো বলে,,”
— “কি আর করবো,, হজম করবো।”
বলেই দুজনে হাসতে থাকে। মামীর বকা’ঝকা শুনলেও নাওরার অন্যরকম প্রশান্তি ফীল হয়। তার মা বেঁচে থাকলে তিনি নিশ্চয়ই এভাবে একবার ব’কা দিতো, আবার পরক্ষণেই ভালোবাসতো। মামীকে দেখলেই মায়ের মতোই ফীল হয় নাওরার। অবশ্য মায়ের বান্ধবী বলে কথা। মামার কাছেই শুনেছে, রুবিনাকে তিনি প্রথম নাওরার আম্মুর সাথেই দেখে। ধীরে ধীরে ভালোবাসা, তারপর পরিবারে জানিয়ে বিয়ে। আর এখন এই সুখের সংসার তাদের।
সাফিয়া কলেজে চলে যেতেই নাওরা মামীর কাছে এগিয়ে যায়।
— “মামী, কিছু করা লাগবে?”
— “তোকে বলেছি কি? যা রুমে যা, হয় পড়তে বস, নয়তো ঘুমা।”
— “বলছি মামী,, তোমার ফোনটা একটু দিবা?”
— “টেবিলের উপর আছে, নিয়ে যা।”
মামী এই ব্যপারে কিছুই জিজ্ঞাসা করে না দেখে নাওরা স্বস্তি পায়। টেবিল থেকে মামীর ফোন নিয়ে রুমে চলে যায়। রুমে গিয়ে তার ফোন নাম্বারে লাগাতার ফোন দিতে থাকে, তবে কেউ ফোন ধরছে না। ফোনটা এখনো অন আছে, তারমানে কারও কাছে তো আছে। তাহলে কি নাওরার ফোন চুরি হয়ে গেলো। এ আবার কেমন চোর, ফোন চুরি করে আবার অন করে রেখেছে। পুলিশের ভয়-ডর নেই নাকি!
— “মিস. মুনতাহা? মুনতাহা আসে নি?”
— “না স্যার। আজকে আসে নি।”
— “কেউ কি মুনতাহার খবর জানেন? কেন আসেনি, কাউকে জানিয়েছে?”
— “না স্যার। ফোন দিয়েছি, তবে ধরছে না। ফোন বেজে গিয়ে কেটে যাচ্ছে।”
— “মুনতাহার আজকে প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা ছিলো। এভাবে ক্লাস করবে না, তারপর স্যারদের পিছনে দৌড়াবে শুধু। এভাবে পড়াশোনা হয় নাকি?”
ক্লাসরুমে সবার মাঝ থেকে একটা মেয়ে উঠে দাড়িয়ে বলে,,
— “আসলে স্যার, নাওরা গতকালকে আমাকে বলেছিলে সে এই টপিকটা বুঝতে পারে নি। আপনার কাছ থেকে বুঝে নিবে বলেছিলো। হয়তো প্রেজেন্টেশন তৈরি করতে পারে নি, তাই ভয়েই আর আসে নি।”
— “আমি যখন ক্লাসে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এই বিষয়ে কারো কোন সমস্যা আছে নাকি। তখন বলে নি কেন?”
এবার রুপার মুখ অফ হয়ে যায়। সে কি বলবে এখন। নাওরা তো তখন তার সাথে গল্প করতে ব্যস্ত ছিলো। ক্লাসের দিকে একদমই মনোযোগ দেয় নি।
নাফসান একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে পড়ানোতে মনোযোগ দেয়। এই নাওরা মেয়েটা তাকে অনেক ডিস্টার্ব করছে। আগে তো ক্লাসের মাঝেই তা সীমাবদ্ধ ছিলো, এখন তো সেটা জীবনের মাঝে ডুকে গেছে।
সাধারণভাবেই নাওরার নাম ডাকতে গিয়ে মিস. বলবে নাকি মিসেস. সেটাতেই কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলো। মেয়েটা সত্যিই মাথার ভিতর ঢুকে গেছে সরাসরি।
ক্লাস শেষে নাফসান নিজের কেবিনে বসে নাওরার কথাই ভাবতে থাকে,,
~ “নাওরা তো সকালে একাই বেরিয়ে গেলো। তাহলে ভার্সিটি না এসে গেলো কোথায়। বাসায় চলে গেলো নাকি? একবার জানিয়ে গেলে কি হতো?”
রাতেও নাওরা বসে বসে নিজের নাম্বারে ফোন দিচ্ছিলো। সারাদিন পর হটাৎ কেউ ফোনটা রিসিভ করে। নাওরা সাথে সাথেই বলা শুরু করে,,
— “এইযে চোর মশাই,,আপনি তো অনেক সাহসী দেখছি। জানেন না ফোন চুরি করলে ফোনটা বন্ধ করে রাখতে হয়। আপনি এত ব’লদ কেন? লোকেশন চেক করে আপনাকে যদি ধরিয়ে দিতাম, তবে কেমন হতো বলুন তো? নেহাত আমি ভালো মেয়ে বলে কিছুই করলাম না। ভালোয় ভালোয় আমার ফোনটা আমাকে দিয়ে দিবেন। কমদামী ফোন, বেঁচে দিয়ে লাভ করতে পারবেন না একদমই।”
—
“যাস্ট স্টপ, নাওরা। বিহেভ ইউরসেল্ফ,,”
— “কিসের বিহেভ। যথেষ্ট ভালো করে কথা বলেছি। চোরের সাথে এর থেকে ভালো কথা আমার আসে না।।
-এই ওয়েট,,আপনার কন্ঠটা কেমন যেন নাফসান স্যারের মতো লাগছে। আপনি কি নাফসান স্যারের ভাই-টাই হন নাকি? আহারে, স্যার বুঝি একাই সব সম্পত্তি নিয়ে নিয়েছে। আপনার এখন চুরি করে চলা লাগছে। আমি আপনার কষ্টটা বুঝতে পারছি। আমাদের এলাকায়……”
— “সাট আপ নাওরা,,,অনেকক্ষণ ধরে তোমার বকবক শুনছি। আমি নাফসান। তোমার ফোন আমার কাছে আছে। কালকে এসে নিয়ে যাবে।”
— “স্যার আপনি? আপনি আমার ফোন চুরি করেছেন? কেন স্যার?”
— “আজব, আমি চুরি করতে যাবো কেন? আর ইউ ক্রেজি? নিজের জিনিস সামলে রাখতে পারো না, উল্টো আমাকে দোষ দিচ্ছো,,,,”
— “এই যে স্যার,,একদম জামাইয়ের মতো শাসন করবেন না। বউ মানেন না, আবার জামাইয়ের মতো শাসন করছেন,,,”
— “নাওরা, এখন কিন্তু অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে।”
নাফসানের গম্ভীর কন্ঠ শুনে নাওরা চুপ হয়ে যায়। আসলেই অনেক করে ফেলেছে। তাই এবার শান্ত স্বরে বলে,,
— “স্যরি স্যার, আর হবে না। কালকে ভার্সিটিতে আমার ফোনটা নিয়ে আসবেন প্লিজ।”
— “আজকে ভার্সিটি যাও নি কেন?”
— “ইচ্ছে হয়নি স্যার। কালকে যাবো শিউর। ফোনটা নিয়ে আসবেন প্লিজ,,,”
— “পারবো না আমি। নিজের জিনিস নিজে এসে নিয়ে যাবে।”
— “আপনি কি আমাকে ইন্ডাইরেক্টলি আপনার ফ্ল্যাটে যেতে বলছেন স্যার,,আসতাগফিরুল্লাহ। আমি ওমন মেয়ে না স্যার। এসব পাপের কথা বলবেন না স্যার।”
সাথে সাথে ফোন কেটে যায়। নাফসান বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে দিয়েছে। নাওরা হাহা করে হাসতে থাকে। ইস, স্যারকে ভালোই জব্দ করতে পেরেছে। স্যার থেকে জামাই হওয়ায় সুবিধা হয়েছে। ভার্সিটিতে তাকে এতদিন বাঁশ দিয়ে এসেছে,,এবার বউ হয়ে নাওরা বাঁশ দিবে। যতদিন এই বিয়ের সময় আছে, নাফসানকে ইচ্ছেমতো জ্বা’লাবে নাওরা।
অপরদিকে নাফসান ফোন কেটে দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে। একটা মেয়ে এতো কথা কিভাবে বলে। মাথা ব্যাথা করে ছাড়লো। এই মেয়েটা তার ভাগ্যেই ছিলো কেন। তার মতো শান্তিপ্রিয় ছেলের কপালে এমন বাঁচাল মেয়েই কেন জুটলো, নাফসান ভেবেই পাচ্ছে না।