Golpo:Domka Premer ...
 
Notifications
Clear all

Golpo:Domka Premer Golpo(Writer:Ayrah Rahman)


Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago

Golpo:Domka Premer Golpo

Writer:Ayrah Rahman

 

এখন থেকে এইখানে বাকি পর্ব গুলো পোস্ট করা হবে, 

আর যাদের আগের পর্ব গুলো পড়া হয় নি তাদের জন্য নিচে লিংক দেওয়া হয়েছে। 

 

গল্পের: link

Loading spinner

Reply
2 Replies
Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago
পর্ব:০৪
 
__________________
 
অরিত্রা হাত ঘড়িতে সময় দেখে বাহিরে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো,  বৃষ্টির জোর কমে আসছে মনে হচ্ছে।  হুটহাট এমন বৃষ্টি ভালো লাগে না তার।  যাতায়াতের বড্ড সমস্যা হয়। ত্রস্ত পায়ে উঠে দাঁড়ালো টেবিল ছেড়ে, রিমঝিমদের বাসায়  এসেছে প্রায় ঘন্টা দুই হতে চলল, ক্লাস ফাইভের ছাত্রী,  বেশ লক্ষী আর বুদ্ধি মতী মেয়ে।  অরিত্রার ওকে বেশ লাগে।  
মেয়েটাকে বাড়ির কাজ দিয়ে ভাবলো বেরিয়ে যাবে পরক্ষণেই ব্যাগটা হাতরে মোটে ত্রিশ টাকা খুচরা পয়সা ছাড়া বাড়তি একটা টাকাও নেই।  ভেতর থেকে দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো,  মাসের এই শেষ সময় টা বেশ টানা পোড়নে পড়ে যায় সে।  মনে মনে হিসাব কষে দেখলে আজ মোটে আটাশ তারিখ,  ফেব্রুয়ারির শেষ উনত্রিশে।  একদিন আগে মাইনে চাইলে কি বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে?  মন কে বারংবার প্রশ্ন করতেই মনে মনে বলল, ভিক্ষা তো আর চাইছে না!  নিজের হকের টাকাই তো! 
" রিমঝিম "
পড়াই মনোযোগী মেয়েটা তৎক্ষনাৎ ম্যামের দিকে তাকালো, 
" জি ম্যাম? "
অরিত্রা ঠোঁট ভিজিয়ে বলল,
" তোমার আম্মুকে একটু ডেকে দেবে?"
মেয়েটা মাথা ঝাকিয়ে দৌড়ে গেলো মায়ের কাছে।  তার মিনিট দুয়েক পরই রুমে প্রবেশ করলেন রিমা আহমেদ।  রিমঝিমের মা।  পেশায় তিনি একজন গৃহিণী। 
" কিছু বলবা অরিত্রা?"
অরিত্রা ঠোঁট ভেজায়,  ইতস্তত করে বলল,
" আসলে আপু,  এই মাস তো প্রায় শেষ হতে চলল! যদি এই মাসের টাকা টা দিয়ে দিতেন তাহলে উপকার হতো!"
অরিত্রা থামে।  কথাটা কানে যেতেই মহিলার মুখটা থমথমে হয়ে যায়।  ঠোঁট বাকিয়ে বলল, 
" মাস তো এখনো শেষ হয় নি!  এখনি টাকা চেয়ে বসে আছো!  এমন টাকা টাকা করলে আমি বাপু তোমার কাছে মেয়ে পড়াতে পারবো না।  এমনি তেও তো কাজের কাজ কিচ্ছু ই করো না। সময়ের পরে আসো আর আগেই চলে যাও।  ভালো করে এক ঘন্টা পড়াও কি না তাও সন্দেহ।  থাক আমি বাপু এতো কাঠখোট্টা না তুমি দাঁড়াও আমি টাকা নিয়ে আসছি "
অপমানে অরিত্রা চোখ নামিয়ে রাখলো, চোখ দুটো টলটল করছে পানিতে কিন্তু তা গড়িয়ে পড়ার আগেই সংগোপনে মুছে ফেলল না।  কোন প্রকার দূর্বলতা প্রকাশে অনিচ্ছুক সে।  ভেতর থেকে হাহাকার করে উঠলো,  হায়রে টাকা!  তোর জন্য কত অপমানই না সহ্য করলাম! 
________________
" কাল থেকে রেগুলার অফিসে বসবে তুমি মুনতাসিম! "
খাবার টেবিলে পিনপতন নীরবতার মাঝে ব্যঘাত ঘটিয়ে কথাটা বলে উঠলো  মেহেরাব মজুমদার।  মুনতাসিমের কোন প্রকার হেলদোল না দেখতে পেয়ে দাঁতে দাঁত চাপলো মেহেরাব ।  ছেলেটার এমন গা ছাড়া ভাব মোটেও পছন্দ না তার।  
দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 
" তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো মুনতাসিম? "
মুনতাসিম খাবারের দিকে তাকিয়ে চামচ দিয়ে প্লেটে টুংটাং আওয়াজ করতে করতে বলল, 
" খাবার সময় বেশি কথা বলা ভালো না মজুমদার সাহেব! "
মুনতাসিমের কথাটা কর্নোগোচর হওয়ার সাথে সাথে ই মাথায় অদৃশ্য চাপড় দিলো মুনতাসিমের বাবা মাহমুদ মজুমদার।  ছেলেটার এতো বড় বুকের পাটা যেখানে নিজেই ভাইয়ের ভয়ে বিড়ালের বাচ্চা হয়ে থাকে সেখানে নিজের ছেলের এতো অধপতন!  
" আহ মুনতাসিম এসব কি কথা!  "
মাহফুজ মজুমদারের কথা শুনে চোখ তুলে তাকালো মুনতাসিম।  খাবার নাড়তে নাড়তে বলল,
" খারাপ কিছু বলেছি? "
মেহেরাব মজুমদার শক্ত কিছু বলার জন্য মুখ খুলতেই তৃষা বেগম বলে উঠলো, 
" খাবার খেতে বসে এতো কথা বলেন কেন?  চুপচাপ খাওয়া যায় না!  দেখছেন বাচ্চাটা খাচ্ছে তবুও এটা সেটা বলে মেজাজ খারাপ করছেন!  নিজেও খান আমার বাচ্চাটাকেও খেতে দেন "
বলেই মুনতাসিমের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলল, 
" খা বাবা,  তুই খা "
মেহেরাব মজুমদার চোখ মুখ শক্ত করে খেতে লাগলো।  ছেলেটাকে মুখের কথা বলা যায় না,  বাড়ির নারী সমাজ এক প্রকার ঝাপিয়ে পড়ে তার উপর আর তাদের লিডার নিজের ই বিয়ে করা বউ।  
" এই বড় বউ মাছের তরকারি টা আনো নি? "
তৃষা বেগমের কথায় টেবিলে চোখ বুলালো অরুনা বেগম মুনতাসিমের মা।  দাঁত দিয়ে জীভ কেটে মাথার কাপড় টা টেনে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলো রান্না ঘরের দিকে।  তখন ই রান্না ঘর থেকে ত্রস্ত পায়ে এক বাটি রুই মাছের তরকারি হাতে ডাইনিং রুমে প্রবেশ করলো মুনারা আক্তার  মাহফুজ মজুমদারের বউ। 
" আর যেতে হবে না ভাবি আমি নিয়ে এসেছি "
বলেই মাথার কাপড় টা আরেকটু টেনে টেবিলের কাছে এসে দাড়ালো।  
" বড় ভাবি আমাকে একটু তরকারি দেন তো "
মাহমুদ মজুমদারের কথায় তৃষা বেগম মুনারার হাত থেকে তরকারির বাটিটা নিয়ে মুনতাসিমের পাতে এক টুকরো মাছ দিয়ে বাতিটা মুনরার হাতে দিয়ে বলল, 
" ভাইজান কে একটু দিয়ে দে তো ছোট।  আমি মাছের কাটা টা বেছে দেই ওকে "
মুনতাসিম তৎক্ষনাৎ নাকচ করে বলল, 
" না না বড় মা মাছ বাছতে হবে না আমি পারবো তুমি বরং খাবার খেতে বসে পরো,  দিনে দিনে শুকিয়ে কি হচ্ছো সে খবর কি কেউ রাখে নাকি! "
কথাটা কানে যেতেই তৃষা বেগম কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, 
" কি আর বলব বাবা!  পুরাতন হয়ে গেছি তো তাই এখন আর আমাকে ভালো লাগে না তার। খোঁজ খবর নেয় না উল্টো ভালো করে কথাও বলে না  "
" থাক বড় মা তুমি মন খারাপ করো না।  আমি আছি না!  তোমার ছেলে থাকতে কিচ্ছু হবে না।  আর কারো কোন খোঁজ খবর নিতে হবে না "
" হ্যা বাবা তুই আছিস বলেই তো কেউ তো একটু খোঁজ নেয়,  আর কেউ তো চোখেই দেখে না আমাকে "
কথাটা মেহেরাব মজুমদারের দিকেই বললেন তৃষা বেগম।  বাকিরা ঠোঁট চেপে হাসছে। 
এতোক্ষণ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে সায়র আর ইফতেখার।  
মেহেরাব মজুমদার এতোক্ষণ সব কিছু অবলোকন করে নিচের দিকে তাকিয়ে বিরবির করে বলল, 
" শুরু হয়েছে মেলোড্রামা!  বজ্জাত ছেলে আর তো কোন হাতিয়ার পায় না শেষ মেষ আমার বউটাকেই হাতিয়ার বানায়! "
" মিনু আর মেধা কোথায় আসে নি? "
কথাটা বলেই মুনারা আশেপাশে তাকালো,  অরুনা বেগম শাড়ির আচলে হাত মুছতে মুছতে বলল, 
" মেধা তো এখনোও আসে নি হল থেকে,  আজ তো ছুটি দেওয়ার কথা ছিলো।  আর মিনু খাবে না বলে দরজায় খিল লাগিয়ে বসে আছে "
মুনারা কথা বাড়ায় নি। একে একে সকলের খাবার শেষ করে রুমে চলে গেলো। মুনতাসিম রুমে গিয়ে দেখে সায়র তার রুমেই বসে আছে। 
" এই তুই আমার রুমে ঘাপটি মেরে বসে আছিস কেন?  তোর রুম নেই ফাজিল ছেলে? "
মুনতাসিমের রুড় কথাটা কানে যেতেই নড়েচড়ে বসলো সায়র।  মনে হলো কথা টা কানের পাশ দিয়ে উড়ে চলে গেছে।  মুনতাসিম ভ্রু কুঁচকালো এই ছেলে কি শুনতে পাচ্ছে না!  
মুনতাসিম এগিয়ে গেলো ডিভানের দিকে যেখানে সায়র একটা ম্যাগাজিন নিয়ে পড়ছে। সরি পড়ছে বললে ভুল হবে পড়ার ভান ধরছে।  
মুনতাসিম সামনে আসা চুল গুলো পিছনে ঠেলে ঘাড় চুলকাতে চুলকাতে চোয়াল শক্ত করে শান্ত কন্ঠে  বলল, 
" কথা কি কানে যায় না!  নাকি কানে গরম শিক ঢুকাতে হবে? "
সায়র ম্যাগাজিনে চোখ রেখেই মিনমিন করে বলল, 
" ভাইয়া ম্যাগাজিন পড়ছি তো!  আর তোমার রুম টা আমার বরাবর ই ভালো লাগে তাই তো এখানেই বসলাম "
মুনতাসিম ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো,  
" ম্যাগাজিন বুঝি উল্টো করে পড়তে হয়?  জানতাম না তো "
সায়র চমকে ম্যাগাজিনের দিকে তাকালো,  দাঁত দিয়ে জিভ কেটে  তৎক্ষনাৎ সোজা করে ধরলো ম্যাগাজিন। মুনতাসিম চোয়াল শক্ত করে ই দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বিছানায় আধশোয়া হয়ে হেলান দিয়ে বসলো,  কোলের উপর বালিশ রেখে তার উপর ল্যাপটপ রেখে আড়চোখে এক পলক সায়রের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করলো,  ছেলেটা যে এখানে শুধু শুধু এসে বসে নেই সেটা তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কবেই জানিয়ে দিয়েছে। 
" কি বলবি বল!  নয়তো এখান থেকে যা "
সায়র এতোক্ষণ এটারই অপেক্ষায় ছিলো,  ভাইয়ের অভয় বানী শুনতে পেয়ে তড়িৎ গতিতে ম্যাগাজিন টেবিলের উপর রেখে সোজা হয়ে বসলো, 
" ভাইয়া একটা কথা বলবো? "
মিনতাসিম কিছু ই বলল না,  সায়র আর উত্তরের অপেক্ষা করলো না সে জানে মুনতাসিম উত্তর দেবে না। এমন ঘাড় ত্যাড়া মানুষ! 
" আজকে সকালের মেয়েটার দিকে খেয়াল করেছো ভাইয়া?  ওই মেয়েটাকেই তো সকালে দেখেছিলাম! "
মুনতাসিমের দৃষ্টি তখনো ল্যাপটপে নিবদ্ধ।  সায়র দীর্ঘ শ্বাস ফেলল।  ঠোঁট ভিজিয়ে আবারো বলতে শুরু করলো, 
" ভাইয়া মেয়েটার চেহারার সাথে কারো মিল পাচ্ছো তুমি?  আমার কাছে ছোট চাচ্চুর মতো লাগছে!  মেয়েটার কথা বলার ধরন,  ভ্রু গোছানো সব কোথাও না কোথাও গিয়ে আমার পরিচিত মনে হচ্ছে,  তোমার হচ্ছে না? "
মুনতাসিম নিজের চোখ ল্যাপটপের স্ক্রিনে রেখেই চোয়াল শক্ত করে বলল,
" পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে একই চেহারার।  তাই এটা নিয়ে এতো লাফানোর কিছু হয় নি।  ছোট চাচ্চু আসার হলে অনেক আগেই আসতে পারতো কিন্তু সে আসে নি তাই এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের পড়া পড়।  এমনি তেই এক বছর গ্যাপ গিয়েছে,  কভার কর। "
সায়র ঠোঁট উল্টালো, " আজ পর্যন্ত আমার কোনো কথায় পাত্তা দিলা না তুমি! দেখবা একদিন পস্তাতে হবে আমার কথায় পাত্তা না দেওয়ার কারনে!  গরীবের কথা বাশি হলেও ফলে "
মুনতাসিম এক ভ্রু উঁচু করে বলল,
" তুই গরীব?  "
সায়র আমতাআমতা করে বলল, 
" এটা কথার কথা। "
মুনতাসিমের চোয়াল শক্ত।  দাঁতে দাঁত চেপে বলল, 
" তুই কি এখান থেকে যাবি নাকি একটা লাত্থি দিয়ে ফ্যানের মধ্যে  বানরের মতো ঝুলিয়ে রাখবো বল "
সায়র ঠোঁট বেঁকিয়ে উঠতে উঠতে বলল, 
" যাচ্ছি তো!  এতো অপমান করার কি আছে!আমার ও তো একটা মান সম্মান আছে!  "
"এই সায়র শোন "
সায়র মুখ গোমড়া করে ফিরে তাকালো,
" বলো "
" ইফতেখার কোথায়? "
" আর কোথায়,  পাবলিক রুম মানে আমার রুমে "
মুনতাসিম ল্যাপটপের দিকেই নজর রেখে বলল, 
" ঠিক আছে,  ঘুমিয়ে যাস তাড়াতাড়ি।  দুই বাদরে আবার একসাথে বাদরামী করিস না "
সায়র চোখ মুখ কুঁচকালো, 
" তুমি কি ইনডিরেক্টলি আমাকে বাদর বললে? ''
" ডিরেক্টলিই বলেছি "
মুনতাসিমের স্বাভাবিক কন্ঠ। সায়র যেতে যেতে বলল, 
" অপমানসস "
বলেই জিনিস পত্র বগলদাবা করে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে। মুনতাসিম আড় চোখে সেদিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে পকেটে হাত দিয়ে ফোন বের করে কারো নাম্বারে কল করলো, 
" একটা এড্রেস পাঠাচ্ছি,  সেখান কার প্রতিটি সদস্যের ইনফরমেশন আমার চাই,  এট এনি কস্ট এন্ড যত দ্রুত সম্ভব। "
অপর পাশ থেকে উত্তর আসার আগেই ফোন টা কেটে দিলো সে।  পুনরায় মনো নিবেশ করলো নিজের কাজে।  পেন্ডিং প্রচুর কাজ তার উপর সামনে নির্বাচন,   নিজ দলের লোক নির্বাচন করলে এই এক সমস্যা, দলের সভাপতি হয়েও গাধারখাটুনি খাটতে হয়।  গত এক বছর  যাবত সকল কাজ একা হাতে সামাল দিচ্ছে জাহিদ।  মুনতাসিম ছিলো না বিধায় চাপ টা জাহিদের উপর একটু বেশিই হয়েছিলো কিন্তু নির্বাচন যত কাছিয়ে আসছে ততই যেন চাপ বাড়ছে আর বেচারা জাহিদ সব কিছু সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে তাই আজিজুল  খন্দকার  ইমিডিয়েটলি শহরে ফিরতে তাগিদ দিয়েছে মুনতাসিম কে।  আজিজুল খন্দকার দলের সবচেয়ে পুরাতন সদস্য সেই খাতিরেই তাকেই এবারের মেম্বার পদে দাড় করানো হয়েছে যদিও দলের সকলের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 
চলবে,....
[ কেমন লাগলো জানাবেন কিন্তু ]
Loading spinner

Reply
Posts: 13
Topic starter
(@ayrah-hahman)
Joined: 5 months ago
পর্ব:০৫
__________________
 
" আপনার কি শরীর খারাপ?  মাথা টিপে দেবো? "

কথাটা মিনমিনে কন্ঠে বলে স্বামীর শিয়রে বসলেন তৃষা বেগম।  মেহেরাব মজুমদার বিছানার উপর লম্বা হয়ে শুয়ে আছে।  ডান বাহু চোখের উপর রাখা।  মুনতাসিম কে অত্যাধিক ভালেবাসার জন্যে সবসময় ওর সাইড টানলেও স্বামী কে যথেষ্ট ভয় পান তৃষা বেগম ।  ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে আরেকবার শব্দ টা কন্ঠ ভেদ করলো।  

" শুনছেন? "

মেহেরাব মজুমদার নড়েচড়ে উঠলেও কোন কথা বলে নি।  বেজায় চটে আছে লোকটা।  তৃষা বেগম জীভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে কাপাঁ হাতের চিকন আঙুল ধারা স্বামীর মাথা স্পর্শ করলো,

" মাথা টিপে দিবো? "

" না "

সামান্য এক শব্দের বাক্য খানা এমন ভাবে বলল মেহেরাব মজুমদার  তৃষা বেগমের আত্না, রুহু গুটিয়ে এলো একসাথে।  স্বামীর মন মেজাজে ভাটা পড়লে এমন কন্ঠের স্বাক্ষী হন তিনি প্রতিবারই আর সাথে ভয়ে আড়ষ্ট হন শঙ্কায়।  ভেতরে ভেতরে খানিক টা সাহস জুগিয়ে  টেবিলের উপর থেকে মলম টা এনে মাথায় ডলতে ডলতে বললেন, 

" এমন করছেন কেন?  বাচ্চা মানুষ বুঝে না,  সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে "

" হ্যা হ্যা ঠিক হয়ে যাবে যাবে বলতে বলতে আজ ছেলের পঁচিশ পেরোলো।  তন্ময়  তো নিজের ইচ্ছে মতো ডাক্তারী পড়তে গেলো আমি কি কিছু বলেছি?  তোমার আদরের দুলাল কে পই পই করে বলছি অফিসে বসতে বসে সে?  কানে ঢুকে আমার কথা! "

স্বামীর কথার পরিপ্রেক্ষিতে কথা খুঁজে পেলেন না তৃষা বেগম।  ছেলেটা সত্যি ই কারো কথা শুনে না!  এমন গা ছাড়া ভাব মেহেরাব মজুমদারের কশ্মিন কালেও পছন্দ না।  তৃষা বেগম জীভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে আমতাআমতা করে বলল, 

" একটা কথা বলব?"

" বলো "

স্বামীর গম্ভীর কন্ঠে খানিকটা নড়েচড়ে উঠলেন তিনি,

" অনেক বছর তো হলো মাহাবুব ভাইয়ের কোন খবর নেয়।   শুনেছিলাম একটা মেয়ে আর একটা ছেলে হয়েছিলো,  পরে আর কিছু জানি না। ছেলে মেয়েরাও তো মনে হয় এতো দিনে মাশা আল্লাহ বড়ো হয়ে গেছে। একটা বার খোঁজ নিয়ে দেখবেন?  নাহিদার খবর ও তো পাই না,  ওদের ও তো অধিকার আছে বাবার বাড়ি তে থাকার "

" তোমাকে বলেছি এসব নিয়ে আমার সাথে কিছু ই বলবে না তুমি!  বাংলা ভাষা বোঝো না? "

এবারে আর তৃষা বেগম ধমে না গিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বলল, 

"  আজ বিশ বাইশ বছর হয়ে এলো মাহাবুব ভাই আমাদের সাথে থাকে না তার কোন খোঁজ খবর ও নেন নি আপনারা।  এতো নির্দয় কি করে হতে পারেন।  সে তো আপনাদের নিজের মায়ের পেটের ভাই। আপনাদের যতটুকু অধিকার আছে এই বাড়ির প্রতি তার ও কিন্তু সমান অধিকার।  আপনাদের তো অঢেল সম্পত্তি।  তিনি তো পারতো এই সম্পত্তির ভাগ চাইতে কিন্তু তিনি আসে নি।  কেন আসে নি জানেন?  হয়তো জানেন হয়তো না।  আপনাদের তো আবার ইগো বেশি।  তিনি আসেন নি কারণ তার ধীর বিশ্বাস ছিল আপনারা তাকে একবার হলেও কাছে ডাকবেন কিন্তু আপনারা? আপনারা আপনাদের তথাকথিত আত্মসম্মান নিয়ে বসে ছিলেন এবং আছেন।  মাহাবুব ভাই কিন্তু তার পরিবারের কথা চিন্তা করে নি যদি করতো তাহলে আজ তারা আমাদের সাথে ই থাকতো।  মেধা,  মিনুর মতো মাহাবুব ভাইয়ের মেয়েও সমান অধিকার পেতো।  মানলাম সে প্রেমের বিয়ে করে ভুল করেছে কিন্তু মেয়েটা?  শুনেছিলাম ধনাঢ্য পরিবারের একমাত্র মেয়ে ছিলো অথচ সে তার স্বামীর হাত ধরে এক কাপড়ে বেরিয়েছিলো। আজ তারা কেমন আছে? কোথায় আছে জানেন?  জানেন না।  আদৌও তারা বেঁচে আছে কি না তাও জানেন না।  বড় ভাই হিসেবে দায়িত্ব টা কি  আপনার না?  "

তৃষা বেগম থামলো।  বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ডটা  ধরাস ধরাস করছে।  এতো সাহস আজ হলো কিভাবে সেটাই ভাবছেন তিনি। 

প্রতিবারের মতো এবারেও স্বামীর বাজখাঁই ধমকের জন্য ও নিজেকে প্রস্তুত করলো তৃষা বেগম।  যতবার ই মাহাবুব মজুমদার কিংবা তার পরিবার সম্পর্কে কথা উঠে ততবার ই স্বামীর বাজখাঁই ধমকের স্বীকার হন তিনি। তৃষা বেগম কে অবাক করে দিয়ে মেহেরাব মজুমদার কিছু ই বললেন না। ছোট করে দুটো শব্দ আউরালেন, 

" দেখব আমি "

তৃষা বেগম ও মুখে কুলুপ এঁটে  মেহেরাব মজুমদারের মাথা ডলে  দুরুত্ব বজাই রেখে পাশে শুয়ে পড়লেন। 

_____

"চুমকি চলেছে একা পথে,
সঙ্গী হলে দোষ কি তাতে 
রাগ করো না সুন্দরী গো
রাগলে তোমাই লাগে আরোও ভালো"

রুমের মাঝে ই দরজা চাপিয়ে ধুম ধারাক্কা নেচে চলছে সায়র আর ইফতেখার।  সায়রের মাথায় লুঙ্গি দিয়ে ঘোমটা দেওয়া,  লুঙ্গি টাও নিজের না বাপের রুম থেকে চুরি করে আনা সাধের লুঙ্গি।  কোমড় হেলে দুলে নাচতে নাচতে কাকের চেয়েও বেসুরা গলায় গান গেয়ে চলেছে সায়র।  সাথে সঙ্গ দেওয়ার জন্য আছে ইফতেখার।  দুই পাগলের মধ্যে ইফতেখার ছেলের রুল প্লে করছে আর সায়র মেয়ে।  খাটের উপর নাচতে নাচতে সায়র ঘুরে এসে ইফতেখারের উপর পড়তেই ইফতেখার সায়রের কোমড় জরিয়ে ধরে রোমান্টিক স্টাইলে ঠিক সেই সময়েই ইফতেখারের চোখ যায় দরজার দিকে।  মুনতাসিম দরজার সাথে হেলান দিয়ে দু হাত ভাজ করে বুকের উপর রেখে ভ্রু কুচকে তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।  ইফতেখার হন্তদন্ত হয়ে  সায়রের কোমড় ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলো।  হঠাৎ এমন হওয়ায়   খাট ছেড়ে সোজা মেঝে তে ঠাস করে পড়ে গেলো সায়র।  বেচারা যেই রোমান্টিক মুডে ছিলো তার হলো দফারফা। নাক মুখ কুঁচকে ইফতেখারের দিকে তাকিয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলল, 

" এটা কি করলে ইফু ভাই!  ব্যথা পাইছি তো।  আমাকে ছাড়লে ছাড়লে বৌ রে এভাবে ছাড়লে কপালে ঝাটাপেটা আছে বলে দিলাম!  ওফফ কি ব্যথা! "

বলেই ইফতেখারের দিকে তাকালো।  ইফতেখার কে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিজেও তাকালো সে দিকে।  মুনতাসিম কে দরজার সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে তৎক্ষনাৎ উঠে দাড়ালো,  ব্যথা ট্যাথা সব ভুলে বসলো এক নিমিষেই।  কানের মধ্যে শুধু বাজছে কিছু ক্ষন আগে বলে দেওয়া মুনতাসিমের বার্তা।  

"ঘুমিয়ে যাস তাড়াতাড়ি।  দুই বাদরে আবার একসাথে বাদরামী করিস না "

শুকনো ঢুক গিলে হাসার চেষ্টা করে বলল, 

" হে হে ভাই,  তুমি কখন আসলা?  "

মুনতাসিম চোয়াল শক্ত করে রুমের ভিতরে প্রবেশ করে হাটতে হাটতে সায়রের সামনে এসে গম্ভীর কন্ঠে বলল, 

" তোরা যখন থার্ড লিঙ্গের মানুষের মতো কোমড় ঝুলাচ্ছিলি"

সায়র ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

" তুমি কি আমাদের হিজরা বললা ভাই? "

মুমতাসিম ভ্রু জোড়া গুছিয়ে আড়চোখে তাকিয়ে বলল, 

" তোর কি তাই মনে হয়?  "

সায়র আমতাআমতা করে বলল, 

" না মানে হ্যা।  থার্ড লিঙ্গ তো হিজরাদের ই বলে "

" এতো মানে মানে করার কি আছে।  সোজা বাংলায় আমি তোদের হিজরাই বললাম "

সায়র নাক ফুলালো,

" আবার অপমানসসস"

ইফতেখার ততক্ষণে বিছানা ছেড়ে নিচে নেমে দাড়িয়েছে।  মুনতাসিম ইফতেখারের দিকে ভ্রু বাঁকিয়ে  তাকাতেই ইফতেখার বোকা বোকা হাসি দিয়ে বলল, 

" ভাই এভাবে তাকাস না কলিজা ছলাৎ  ছলাৎ করে। "

মুনতাসিম বিরক্তিকর দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ইফতেখারের দিকে, 
" সায়র হলো একটা গাধা আর তুই হলি তার লিডার, গর্ধব কোথাকার!  "

দু'জনের দিকে তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করে শব্দ যুক্ত কদমে ঘর ছাড়লো এরপর।  পিছনে থেকে মিনমিনে কন্ঠে ইফতেখার বলে উঠলো, 

" কিছু বলতে এসেছিলি? "

" মুড নেই "

পদশব্দ আর শোনা গেলো না।  সায়র  ত্রস্ত পায়ে দরজা লাগালো রুমের।  বিছানায় এসে চার হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ধপ করে পড়লো বিছানার উপর। 

" বড় বাবার সেকেন্ড এডিশন আমার মায়ের পেটের আপন ভাই "

হঠাৎ মনে পড়ে গেলো তার ব্যথার কথা।  তৎক্ষনাৎ নাক মুখ কুঁচকে আর্তনাৎ করে বলল,

" ওমা গো ইফু ভাই!  আমার জীবনের হাফ আয়ু তুমি নষ্ট করে ফেলছো,  আমার বউয়ের কপাল পুড়ছে গোওও,  ও বউ তুমি কই! "

ইফতেখার ভ্রু কুচকে সায়রের দিকে তাকালো,  মাথায় শুধু একটা কথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, 

" দুইটা কি আসলেই আপন ভাই? "

চলবে...

[ আজকের পর্ব কেমন লাগলো জানাবেন কিন্তু ]

Loading spinner

Reply
Share:

Loading spinner