গল্প : ভাগ্য রেখা (...
 
Notifications
Clear all

গল্প : ভাগ্য রেখা (Writer: Nusrat putul)


Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago
পর্ব :০১
 
 
 
বড় বোনকে দেখতে এসে ছোট বোনকে পছন্দ করেছে পাত্রপক্ষ,,, শিমুর গায়ের রং ফর্সা না, সামান্য একটু চাপা।  আর সেখানে ছোট বোন বিথীর যেন দুধে আলতা গায়ের রং,।  
শিমুকে শাড়ি পরিয়ে সাজুগুজু করিয়ে যখন পাত্রপক্ষের সামনে নিয়ে আসে বিথী, তখন শিমুর পরিবর্তে বিথীর সোন্দর্য সকলের নজর কারে,

সামাজিক ফর্মালিটি পূরণ করতে গিয়ে পাত্রপক্ষ শিমুর প্রসংশার গুনগান গেয়ে যায় বাড়ি থেকে, 
" বাহ বাড়ি মিষ্টি মেয়ে তো তুমি, খুব সুন্দর  করে কথা বলো আর হাসো, এসব নানা কথা, শিমু ভেবেছিল তারা সত্যি  বলছে এসব কথা, এবার বুঝি বিয়েটা হয়ে যাবে,।
কিন্তু  তার ধারনা  ভুল প্রমান করে পর দিন সকালে পাত্রপক্ষের বাড়ি থেকে জানানো হয় তাদের শিমুকে নয় বরং বিথী কে পছন্দ  হয়েছে। 

রাজীব,  তার মা এবং বড় বোন এসেছিলো কণে দেখতে।   বিশাল ধনী পরিবার তাদের,  আর রাজীব তাদের এক মাত্র ছেলে ৷ বলা যায় বিচাল এক  রাজ্য   আর রাজীব তাদের রাজপুত্র ।  সুতরাং রাজীবদের পরিবারের সাথে আত্মীয় করা মানে  জামাই বাড়ির রাজ্য আর রাজপুত্র দুইটাই পাওয়া,,
আর সেখানে শিমুদের পরিবার মধ্যবিত্ত।  

শিমুর বাবা চিন্তায় পরে যায়, এমন প্রস্তাব পায়ে ঠেলে দেওয়া কি ঠিক হবে? 
তাদের মতো পরিবারের কাছে এমন ধনী পভাবশালী পরিবারের আত্মীয় করার প্রস্তাব ফিরিয়ে  দেওয়া কি ঠিক. ? 

মোটেই না,

শিমুকের বাবা খুব ভেবে চিন্তে  সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সাথে কথা বলবে, এমন ঘর হাতছাড়া করা মানে নিজের কপালে নিজে লা'থি মা'রা। 
বড় মেয়ে বা ছোট মেয়ে এক জনকে বিয়ে দিতে পারলেই হলো৷ এ আর এমন কি,,,,, 

________

পাত্র পক্ষের সাথে কথা বলার জন্য  শাজাহান  নিজেই তাদের বাড়ি গিয়েছেন,  তার মতে ফোনে কথা বললে মনের ভাব পুরোপুরি  প্রকাশ করা যায় না, মুখ আর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে অর্ধেক কথা চোখের ভাষায় বুঝা যেতে পারে, এমনকি যে কথাটা মুখ ফুটে বলা যায় না সে কথাটাও চোখে ভেসে বেড়ায়।  তাই সরাসরি  কথা বলা,

রাজীবদের বাড়িতে যাওয়ার সময় বাজার থেকে ভালো ভালো কয়েক কেজি মিষ্টি  সাথে নিয়ে গেছে শাজাহান,  বড়লোক বাড়ি বলে কথা,  টাকা না থাকলে ধার করে হলেও নিয়ে যেতে হবে।নয়তো মান সম্মান  থাকবে না,,  

সাজাহান  মির্জা বাড়িতে প্রবেশ করতেই তাকে অতিথি  আপ্যায়ন শুরু  করো দিলো রাজীবের পরিবার,, 

" তা ভাইসাব কি ভাবলেন,  ছোট মেয়েটা কে দিবেন তো আমাদের  বাড়ি,,,

শাজাহান  একটু করুণাময়ী কন্ঠে জবাব দিলো,

" দিতে তো চেয়েছিলাম, তবে আমার একটা কথা আছে, 
জানেনই তো শিমু  আমার বড় মেয়ে,,,,আর এখন তো বিথীকে বিয়ে দেওয়ার কোনো  নিয়ত  আমাদের  আগে থেকে ছিলো না,,, হঠাৎ  করেই আপনাদের পছন্দ  হলো, 

তাই বলছিলাম কি, এখন না হয় এনগেজমেন্ট টা হয়ে যাবে আর আপনারা যদি আমাকে একটা বছর সময় দিতেন বড় মেয়ের বিয়েটা দেওয়ার জন্য৷ তার পর না হয় ধুমধাম করে বিথীকে আপনাদের  বাড়ির বউ করে আনলেন,,

রাজীবপর মা একটু ভাবান্তর হলো, পরপরই  সাজাহানের কথায় সায় দিলেন,  ঠিক আছে তবে তাই হোক,,, আপনি এক বছরের ভিতর বড় মেয়ের বিশের ব্যবস্থা করেন, আৃরা না হয় অপেক্ষা  করলাম, 

মহিলার  কথায় যেন হাতে আসমান  পেলো সাজাহান। 
যতোই হোক বড় মেয়ে রেখে ছোট মেয়েকে বিয়ে দিতে দ্বিধায় বোগছিলেন তিনি, তার উপর মেয়ের গায়োর রং চাপা, মহল্লার  মানুষ  নানা কথা রটাতোএসব নিয়ে । এসব ভয় পেয়েই এখানে আসা,
শেষে রাজীবের পরিবার  থেকে এক বছরের সময় পেয়ে তিনি বিরাট খুশি।  

শাজাহান  খুশি মনে বাড়ি এসে সবাইকে জানালো শিমুকে দেখতো আসা পাত্র রাজীবের সাথেই ছোট মেয়ে বিথীর বিয়ে দিবে,

কথাটা তীরে মতো এসে লাগলো শিমুর হৃদয়ে, শিমু সেদিন চুপ ছিলো। কোনো পতিবাধ করেনি,

তার মা রুবি বেগম অবশ্য স্বামীকে বলেছিল একবার,  বড় মেয়েকে দেখতে এসেছিল ঐ পরিবারে ছোট মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবে? 

সাজাহান গরম চোখে তাকালেরন স্ত্রীর দিকে,  
তুমি বুঝো কি আর বলবে কি, আরে সারা জীবন তপস্যা করে অমন ঘরে আত্মীয় করার সুযোগ পাবে কি? 
মেয়ে তো দুইটাই  আমাদের তাইনা?  বড় টার হয়নি তো কি হয়েছে ছোট মেয়ের হবে। আমাদেরই তো মেয়ে বাইরের কেউ তো না


স্বামীর কথায় ধমে গেলো রুবি বেগম, 

তার মানে সকলের সম্মতি আছে, শিমু আর এক দন্ড দাঁড়ালো না,  নিজোর ঘরে চলে গেলো বিনাবাক্যে , খুব কষ্ট হচ্ছে  তার, সৃষ্টিকর্তাকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে,  
শ্যামবর্ণ গায়ের রং কেন দিলে আমায়?  জন্মের  আহে কি আমি কোনো পাপ করেছিলাম যার অভিশাপ সরূপ আমাকে গায়ের রংটা ফর্সা করলে না,,আর বাবা কি সুন্দর  বলে দিলো দুইটাই তাদের মেয়ে, আসলে কি দুইজনকে সমান চোখে দেখছেন তিনি? নাকি গায়ের রং চাপা বলে শিমুকে অবহেলা করছেন,  শিমু যেন ছাই আর বিথী তাদের রত্ন,,
এসব ভাবতেই শিমুর চোখ জলে টুইটুমপুর হয়ে উঠলো,

বিথী দরজার  বাইরে থেকে বুবুকে কাঁদতে দেখে বিথর বাবার কাছে গেলো,, 
ছোট থেকে বাবাকে ভয় পায় সকলে,  বিথী এবার মাত্র  এসএসসি পরীক্ষা  দিয়েছে, চঞ্চল স্বভাবের সে।  তবুও বাবাট সামনে কখনো ৃাথা উঁচু করে কথা বলেনি,
সে বিথী আজ বাবার সামনে এসে বললো,

" আমি এ বিয়ে করবো না বাবা,

চলবে,,,,,

Loading spinner

Reply
1 Reply
Posts: 18
Topic starter
(@nusrat-putul)
Joined: 5 months ago

 শেষ পর্ব 

বিথীর সে কথাও মিনিয়ে গেলো বাবার অটুট সিদ্ধান্তের কাছে,,
সকলে আপত্তি  করলেও আবার সকলেই খুব স্বাভাবিক ভাবে মেয়েও নিলো বেপারটা,,,কেউ শিমুর মনের খবর করেনি একবার,

বিথীর ষোরাশী মনও হবু বরের প্রেমে পরে গেলো,,
শিমু আর বিথী একই ঘরে ঘুমালে শিমু লক্ষ  করতো কাথার নিচে মুখ লুকিয়ে  বিথীর ফিসফিস কথা বলা, 
বাবা মা ও যেন বিথীকে একটু বেশি যত্ন  করে, মাছের বড় টুকরো বিথীর বাসনেই যায়,,
শিমুর মনে প্রশ্ন জাগে, এসব দেখে আমার খারাপ কেন লাগে, আমি কি বোনকে হিংসা করি? নাকি ভালোবাসার অভাবে মন খারাপ হয়, না না হিংসা কেন করবো,,,

শিমুর অসহায় লাগতো নিজেকে, মনে হতো সব কিছুর বাধা যেন সে,  

এক বছরে অনেক ঘর থেকে বিয়ের জন্য  দেখতে আসলেও,  কেউ ঠিকঠাক পছন্দ করেনি শিমুকে,,আর যারা করতো তারা মোটা অঙ্কের যৌতুক চাইতো। তা দেওয়া সম্ভব হয়নি শাজাহানের। 

দিনদিন  যেন দম বন্ধ লাগে বাড়িতে,  লেখা পড়াটা ও বন্ধ  করে দিয়েছে শিমুর। 
বিথীর বিয়ের আর এক মাস বাকি, 
রাজীবদের বাড়ি থেকে বলেছে তারা আর সময় দিতে পারবে না,,,

শিমু বড় বোন হয়ে বিথীর মুখে বিয়ের জন্য  লজ্জায় লাল হতে দেখেছে,,

আজ এখানটায় তার থাকার কথা ছিল, 

শিমু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে,  ঠিক কোথায় যাবে জানে না সে,,,
তবে এ বাড়িতে থাকলে নিশ্বাস বন্ধ  হয়ে মা'রা জাবে এটা নিশ্চিত সে,,, 
 

দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে বের হয়ে শিমু এগিয়ে চলছে অজানা ঠিকানায়,,
সাথে কোনো ব্যাগ নেই,  এক কাপড়ে বের হয়েছে, কোথায় জাবে কি করবে জানা নেই  তার, 
হঠাৎ  এ ভাবে বের হওয়ার কারন, মা বলেছে কাল তাকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে,

আবার সেই একই কথা বলে বিয়ে ভেঙে যাবে জানে শিমু। তাই সকলের চোখকে ফাকি দিয়ে  ভরা সন্ধ্যায় বের হয়েছে বাড়ি থেকে। হেটে কিছু দূর যেতেই  একটা সিএনজির সাথে ধাক্কা খেলো,,

গাড়ির ড্রাইভারের কোনো দোষ নেই,  শিমু বেখেয়ালি হয়ে হাটার কারনে এমনটা হয়েছে,
গাড়ির ভিতরে একটাই লোক ছিল, দ্রুত এসে শিমুকে ধরেছে সে,  কপাল টা বেশ কেটে গেছে,,,

" একটু খেয়াল করে হাটবেন না? আর একটু হলেই তো নিচে পরতে,,, 
 বাড়ি কোথায় আপনার?? 
তক্ষুনি সিএনজি ড্রাইভার বললো, 
আরে এটা শাজাহান ভাই এর মাইয়া না? 
মা এই রাতে তুমি এখানে কেন??

শিমু কারো কথার কোনো উত্তর দিলো না, 

" কি অদ্ভুত কথা বলছেন না কেন,,
সোহানের বিরক্তিকর কন্ঠ  শোনে সিএনজি  ড্রাইভার বললো,  
ছেড়ে দেন ভাই মাইয়াডার মনে কষ্ট, ।  শিমু গাড়িতে বয় তোরে বাড়ি পৌঁছে দেই। 

তারা শিমুকে বাড়িতে পৌঁছে  দিলো,,,
আসার সময় ড্রাইভারের থেকে শিমুর সকল কাহিনি  শোনলো সোহান,,,

" এই সন্ধ্যায় কোথায় গিয়েছিলি, 
বাড়ির লোকেরা প্রশ্ন করেও কোনো উত্তর  পায়নি শিমুর থেকে,,,
 বরাবরই সে শান্ত  স্বভাবের ছিল, এখন আরও চুপচাপ হয়ে গেছে, 

পরদিন শিমুকে দেখতে আসলো,,
পাত্রপক্ষের সামনে যেতেই  সোহানকে দেখে চমকে উঠলো শিমু,,
এটাতো সেই লোক যে কাল রাতে তাকে বাড়িতে পৌঁছে  দিয়ে গেছে,,

দেখে চলে গেল সোহানরা, শিমু জানে এ বিয়েটাও হবেনা, তবে আশ্চর্য জনক ভাবে সোহানদোর বাড়ি থেকে খবর পাঠালো তারা এ সপ্তাহের ভিতর বিয়েটা সেরে ফেলতে চায়, 

শিমু কেন জেন খুশি  হতে পারছে না,, মানুষটা কি তাকে দয়া দেখিয়ে  বিয়ে করছে নাকি?
এতোসব ভেবে লাভ নেই,  পরিবারের বোজা হয়ে থাকতে হবে না, সকলের পথের কা'টা এবার বিদেয় হবে,, 
তার কপালে যা আছে তাই হবে আফসোস  নাই  আর। নিজের বাবা মা যখন বুঝেনি তখন অন্য  পরিবারোর থেকে ভালোবাসা আশা করেনা সে।  
ঘরুয়া ভাবেই শিমুর বিয়েটা সম্পূর্ণ হলো, বর সাংবাদিক,
শশুর মা'রা গেছে অনেক আগেই,  বৃদ্ধ শাশুড়ী আর স্বামীকে নিয়ে সংসার তার।  সোহান গম্ভীর ভিষন, 
ভালোবাসি না বলেই ভালোবাসা প্রকাশ করে,৷ 

সকল বিপদে ডাল হয়ে দাড়ায় শিমুর পাশে,
বিয়ের পর পাড়ার মহিলারা বউ দেখতে এসে শিমুর গাশের রং নিয়ে কথা তোলেছি,
"  বউটা তো ফর্সা না,  ভবিষ্যৎ বাচ্চা কাচ্চা ও মায়ের রং পাবে, 
তাদের এমন কানাঘুষা শোনে যখন শিমু চোখের জল বিসর্জনে ব্যস্ত সোহান তখন বলেছিল। , 

"  শোনেছি সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে মুখ বানায়, তিনি তার ইচ্ছে  মতো রং দেন। সেখানে যদি আমার বাচ্চা তার মাশের মতো হয় তাতে আমার সমস্যা  নেই,  কারন শিমুকে পছন্দ করেই আমি বিয়ে করেছি।  তাছাড়া  শ্যামবর্ণের মেয়ে আমার বেশ পছন্দের।  আমার মা ও শ্যামবড়নের।  কিছু  একটা কথা বুঝলাম না চাচি, আপনি তো সুন্দর ছিলেন আপনার মেয়েটা কিন্তু আপনার মতো রং পায়নি,
ভদ্রমহিলা সোহানের কথায় চুপসে গেলেন,  কোনো উত্তর দিতে না পেরে বের হয়ে গিয়েছিল। 

সোহানের মা বৃদ্ধ মানুষ, ছেলের সংসার নিয়ে তার মাথা ব্যাথা নেই,  তার দরকার দু বেলা দুমুঠো ভাত আর যত্ন।  যার কোনো কমতি রাখে না শিমু,।

এর মাঝে বিথীর বিয়েটা হয়ে গেলো রাজীবের সাথে,
ধনী পরিবারের আত্মীয় করে তাদের চাহিদা  পূরণ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছে শাজাহান, 
তাদের কতো কতো ফর্মালিটি হেনদেন, তার উপর মেয়ে নাকি সংসার মানিয়ে নিতে পারে না।
পারবেই বা কি করে সতেরো বছর বয়সী মেয়ে প্রেমের জন্য  পার্ফেক্ট হলেও সংসারের জন্য  না। । 

বিধাতাট কাছে  হাজার  শুকরিয়া  জানায় শিমু এখন। সত্যি  ভাগ্যে কি আছে তা এক মাত্র  আল্লাহ  জানে। সোহানের মতো একজন স্বামী  আর সংসার  পেয়ে অনেক খুশি  শিমু। 
কথায় আছে ধৈর্যের ফল ভালো হয়।

_________ সমাপ্ত _________

গল্পটাতে একটা জিনিস খুব করে বুঝার আছে, তা হলো ভাগ্য,,,,  ভাগ্য রেখার উপর কারো হাত নেই।  আর ধৈর্য ধারন কারীকে আল্লাহ  পছন্দ  করেন

Loading spinner

Reply
Share:

Loading spinner