শিমুকে শাড়ি পরিয়ে সাজুগুজু করিয়ে যখন পাত্রপক্ষের সামনে নিয়ে আসে বিথী, তখন শিমুর পরিবর্তে বিথীর সোন্দর্য সকলের নজর কারে,
সামাজিক ফর্মালিটি পূরণ করতে গিয়ে পাত্রপক্ষ শিমুর প্রসংশার গুনগান গেয়ে যায় বাড়ি থেকে,
" বাহ বাড়ি মিষ্টি মেয়ে তো তুমি, খুব সুন্দর করে কথা বলো আর হাসো, এসব নানা কথা, শিমু ভেবেছিল তারা সত্যি বলছে এসব কথা, এবার বুঝি বিয়েটা হয়ে যাবে,।
কিন্তু তার ধারনা ভুল প্রমান করে পর দিন সকালে পাত্রপক্ষের বাড়ি থেকে জানানো হয় তাদের শিমুকে নয় বরং বিথী কে পছন্দ হয়েছে।
রাজীব, তার মা এবং বড় বোন এসেছিলো কণে দেখতে। বিশাল ধনী পরিবার তাদের, আর রাজীব তাদের এক মাত্র ছেলে ৷ বলা যায় বিচাল এক রাজ্য আর রাজীব তাদের রাজপুত্র । সুতরাং রাজীবদের পরিবারের সাথে আত্মীয় করা মানে জামাই বাড়ির রাজ্য আর রাজপুত্র দুইটাই পাওয়া,,
আর সেখানে শিমুদের পরিবার মধ্যবিত্ত।
শিমুর বাবা চিন্তায় পরে যায়, এমন প্রস্তাব পায়ে ঠেলে দেওয়া কি ঠিক হবে?
তাদের মতো পরিবারের কাছে এমন ধনী পভাবশালী পরিবারের আত্মীয় করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া কি ঠিক. ?
মোটেই না,
শিমুকের বাবা খুব ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের সাথে কথা বলবে, এমন ঘর হাতছাড়া করা মানে নিজের কপালে নিজে লা'থি মা'রা।
বড় মেয়ে বা ছোট মেয়ে এক জনকে বিয়ে দিতে পারলেই হলো৷ এ আর এমন কি,,,,,
________
পাত্র পক্ষের সাথে কথা বলার জন্য শাজাহান নিজেই তাদের বাড়ি গিয়েছেন, তার মতে ফোনে কথা বললে মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না, মুখ আর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বললে অর্ধেক কথা চোখের ভাষায় বুঝা যেতে পারে, এমনকি যে কথাটা মুখ ফুটে বলা যায় না সে কথাটাও চোখে ভেসে বেড়ায়। তাই সরাসরি কথা বলা,
রাজীবদের বাড়িতে যাওয়ার সময় বাজার থেকে ভালো ভালো কয়েক কেজি মিষ্টি সাথে নিয়ে গেছে শাজাহান, বড়লোক বাড়ি বলে কথা, টাকা না থাকলে ধার করে হলেও নিয়ে যেতে হবে।নয়তো মান সম্মান থাকবে না,,
সাজাহান মির্জা বাড়িতে প্রবেশ করতেই তাকে অতিথি আপ্যায়ন শুরু করো দিলো রাজীবের পরিবার,,
" তা ভাইসাব কি ভাবলেন, ছোট মেয়েটা কে দিবেন তো আমাদের বাড়ি,,,
শাজাহান একটু করুণাময়ী কন্ঠে জবাব দিলো,
" দিতে তো চেয়েছিলাম, তবে আমার একটা কথা আছে,
জানেনই তো শিমু আমার বড় মেয়ে,,,,আর এখন তো বিথীকে বিয়ে দেওয়ার কোনো নিয়ত আমাদের আগে থেকে ছিলো না,,, হঠাৎ করেই আপনাদের পছন্দ হলো,
তাই বলছিলাম কি, এখন না হয় এনগেজমেন্ট টা হয়ে যাবে আর আপনারা যদি আমাকে একটা বছর সময় দিতেন বড় মেয়ের বিয়েটা দেওয়ার জন্য৷ তার পর না হয় ধুমধাম করে বিথীকে আপনাদের বাড়ির বউ করে আনলেন,,
রাজীবপর মা একটু ভাবান্তর হলো, পরপরই সাজাহানের কথায় সায় দিলেন, ঠিক আছে তবে তাই হোক,,, আপনি এক বছরের ভিতর বড় মেয়ের বিশের ব্যবস্থা করেন, আৃরা না হয় অপেক্ষা করলাম,
মহিলার কথায় যেন হাতে আসমান পেলো সাজাহান।
যতোই হোক বড় মেয়ে রেখে ছোট মেয়েকে বিয়ে দিতে দ্বিধায় বোগছিলেন তিনি, তার উপর মেয়ের গায়োর রং চাপা, মহল্লার মানুষ নানা কথা রটাতোএসব নিয়ে । এসব ভয় পেয়েই এখানে আসা,
শেষে রাজীবের পরিবার থেকে এক বছরের সময় পেয়ে তিনি বিরাট খুশি।
শাজাহান খুশি মনে বাড়ি এসে সবাইকে জানালো শিমুকে দেখতো আসা পাত্র রাজীবের সাথেই ছোট মেয়ে বিথীর বিয়ে দিবে,
কথাটা তীরে মতো এসে লাগলো শিমুর হৃদয়ে, শিমু সেদিন চুপ ছিলো। কোনো পতিবাধ করেনি,
তার মা রুবি বেগম অবশ্য স্বামীকে বলেছিল একবার, বড় মেয়েকে দেখতে এসেছিল ঐ পরিবারে ছোট মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবে?
সাজাহান গরম চোখে তাকালেরন স্ত্রীর দিকে,
তুমি বুঝো কি আর বলবে কি, আরে সারা জীবন তপস্যা করে অমন ঘরে আত্মীয় করার সুযোগ পাবে কি?
মেয়ে তো দুইটাই আমাদের তাইনা? বড় টার হয়নি তো কি হয়েছে ছোট মেয়ের হবে। আমাদেরই তো মেয়ে বাইরের কেউ তো না
।
স্বামীর কথায় ধমে গেলো রুবি বেগম,
তার মানে সকলের সম্মতি আছে, শিমু আর এক দন্ড দাঁড়ালো না, নিজোর ঘরে চলে গেলো বিনাবাক্যে , খুব কষ্ট হচ্ছে তার, সৃষ্টিকর্তাকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হচ্ছে,
শ্যামবর্ণ গায়ের রং কেন দিলে আমায়? জন্মের আহে কি আমি কোনো পাপ করেছিলাম যার অভিশাপ সরূপ আমাকে গায়ের রংটা ফর্সা করলে না,,আর বাবা কি সুন্দর বলে দিলো দুইটাই তাদের মেয়ে, আসলে কি দুইজনকে সমান চোখে দেখছেন তিনি? নাকি গায়ের রং চাপা বলে শিমুকে অবহেলা করছেন, শিমু যেন ছাই আর বিথী তাদের রত্ন,,
এসব ভাবতেই শিমুর চোখ জলে টুইটুমপুর হয়ে উঠলো,
বিথী দরজার বাইরে থেকে বুবুকে কাঁদতে দেখে বিথর বাবার কাছে গেলো,,
ছোট থেকে বাবাকে ভয় পায় সকলে, বিথী এবার মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে, চঞ্চল স্বভাবের সে। তবুও বাবাট সামনে কখনো ৃাথা উঁচু করে কথা বলেনি,
সে বিথী আজ বাবার সামনে এসে বললো,
" আমি এ বিয়ে করবো না বাবা,
চলবে,,,,,