পর্বঃ১১
লেখনীতেঃআফসানা শোভা
[কার্টেসি ব্যতিত কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।⛔]
সম্পূর্ণ বাচ্চাভর্তি জয়ল্যান্ডের কিড রাইডারটা শব্দ তুলে ছুটছে। যন্ত্রটি হতে নির্গত শব্দের সাথে বাচ্চাদের উৎফুল্ল ধ্বনি মিশে এক অদ্ভুত সুন্দর শব্দের সৃষ্টি করেছে! ঐক্য এক মুহুর্তর জন্য থমকে গেল। কৌতুহলী চোখ দুটোতে নিমিষে বদলে ভরে উঠলো মুগ্ধতায়!রাইডারে মধ্যখানের একটা সিটে আবৃতি হাসোজ্জল মুখে বসে আছে। তার পাশের দুটি সিটে বসে আছে আরশান আর ওয়াফা। দুহাতের বাঁধনেসে সযত্নে আগলে রেখেছে দূরন্ত বাচ্চাদুটিকে। ওয়াফা দুহাত মেলে খুশিতে মেতে উঠেছে। ফোকলা দাঁতে খিলখিলিয়ে হাসছে। তার উল্লাস ধ্বনিতে ঐক্যর বুকটা শীতল হয়ে যায়। তার কলিজাটাকে সে কোনদিন এত মন খুলে হাসতে দেখেছে কিনা মনে পড়ছেনা। হঠাৎ ঐক্যর চোখ গেল ওয়াফাকে সযত্নে আঁকড়ে ধরে থাকা আবৃতির দিকে। মেয়েটাকে তার চেনা চেনা লাগলো। হঠাৎ মানসস্পটে ভেসে উঠলো সেইদিনের একজোড়া বিব্রত মুখ আর লজ্জালু দৃষ্টি।
না চাইলেও ঐক্যর মনোযোগী দৃষ্টি নিজের মেয়েকে আগলে রাখা অতি সুশ্রী দেখতে রমণীটির দিকে গেল। বাতাসের দাপটে তার চুলগুলো মুখে উড়ে এসে ভীষণরকম বিরক্ত করছে। তবুও সে বাচ্চাদের থেকে হাতটা সরিয়ে চুল ঠিক করছেনা। ঐক্য কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে আবৃতিকে দেখলো। কেন দেখলো জানেনা। দুটো শিশুকে পরম মমতায় সাবধানে আগলে রাখা এক আশ্চর্য সুন্দর রমণীর থেকে ঐক্য চাইলেও নজর সরিয়ে নিতে পারলোনা ! ভিডিওটি শেষ হলে ঐক্য কিছু মুহুর্ত থম মেরে বসে থাকে। হঠাৎ উপলব্ধি করলো তার মেয়েকে এভাবে আগলে রাখার জন্য একজন মায়ের অভাব!
–
সন্ধ্যা সবে সাড়ে সাতটা। ঐক্য আজ বহুদিন পর তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছে। ওয়াফা তখন স্টাডি রুমে বসে টিউটরের কাছে হোমওয়ার্ক করছিল। পাপার গাড়ির আওয়াজ পেতেই বাচ্চাটা চমকে উঠে। নিশ্চিত হতে চেয়ার ছেড়ে হুড়মুড় করে একলাফে নেমে জানালা দিয়ে দেখে সত্যিই তার পাপা এসেছে।
— পাপা এসেছে। ইয়েহ! কি মজা! পাপা এসেছে৷
বলতে বলতে ছুটে নিচতলার দিকে ছোটে। টিউটর সাবধান করে বাচ্চাটাকে এভাবে ছুটতে,
— ওয়াফা। তুমি পড়ে যাবে। আসতে যাও সোনা।
কিন্তু কে শোনে কার কথা। নিচে নেমে দেখে ঐক্য টাই ঢিলে করতে করতে ভেতরে ঢুকেছে। ওয়াফা তাকে দেখে পাপা বলে চিৎকার করে ছুটে আসে৷ ঐক্য মেয়েকে দেখে অকৃত্রিম হেসে ল্যাপটপের ব্যগটা সোফায় ছুঁড়ে ঝুঁকে দু’হাত মেলে দেয় মেয়ের দিকে। ওয়াফা একদৌড়ে এসে বাবার বুকে ঝাপিয়ে পড়ে। ঐক্য পরম মমতায় কোলে তুলে নেয় পাখি নরম অস্তিত্বখানি। মেয়েকে বুকে জড়াতেই প্রশান্তিতে ওর বুকটা জুড়িয়ে যায়। ওয়াফা পাপার কাঁধ থেকে মুখ তুলে অবাক স্বরে জিজ্ঞেস করে,
— পাপা আজ এত্ত তাড়াতাড়ি ফিরে এলে?
— হ্যাঁ মা। আজ পাপা তার আম্মাজানের সাথে অনেক অনেক সময় কাটাব।
ওয়াফা উচ্ছাসিত গলায় বললো,
— তাহলে চলো খেলি।
— খেলবোতো আম্মাজান তার আগে তোমার বাকি হোমওয়ার্ক টা কমপ্লিট করো ফেলো৷
— ওকে।
— তোমার দিদুন আর পিপ্পি কোথায়?
— পিপ্পি চারটা চোখ লাগিয়ে পড়ছে। আর দিদুনের হেডেক হচ্ছিল তাই ঘুমুচ্ছে।
ঐক্য সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে জিজ্ঞেস করে,
— কি খেয়েছেন আজ আম্মাজান?
— পিপ্পি কাস্টার্ড বানিয়েছিল ওটা খেয়েছিলাম পাপা। জান পাপা আজ আমাকে একটাও চকলেট দেয়নি কেউ। বলে কিনা আজ অনেক গুলো চকলেট খেয়েছ। বেশি খেলে টিথে জার্মস হবে। বেশি কোথায় খেলাম মাত্র পাঁচটাই তো খেলাম। তার মধ্যে একটু তো ওই দুষ্ট ছেলেটাকেই দিয়েদিলাম৷
ওয়াফা মুখ ফুলিয়ে বলে। ঐক্য শব্দ করে হেসে দেয় ওয়াফার নালিশ শুনে। মেয়ের ফুলকো গাল দুটোতে চুমু খেয়ে নিজের পকেট থেকে কিটক্যাটের একটা প্যাকেট বের করে দেয়। ওয়াফা খুশিতে ছোঁ মেরে চকলেট টা নিয়ে ঐক্যর গালে ঠাশশ করে চুমু খেয়ে বলে,
— থ্যাংকস পাপা৷
বলে আর দেরী না করে চকলেটের প্যাকেট টা খুলে খেতে শুরু করে।
ঐক্য হেসে ওয়াফাকে স্টাডি রুমের সামনে নামিয়ে বললো,
— তুমি যাও হোমওয়ার্ক কর। পাপা ফ্রেশ হয়ে আসছি।
ওয়াফা মাথা দুলিয়ে স্টাডিরুমে চলে যায়। ঐক্য শার্টের বোতাম খুলতে খুলতে নিজের রুমে ঢোকে। শাওয়ার নিয়ে বুয়াকে একমগ কপি বানাতে বলে ঐক্য ওয়াফার স্টাডি রুমের দিকে যায়।
— মিস টিয়া। আজ আপনি যেতে পারেন। ওয়াফার হোমওয়ার্ক আজ আমি করাব৷
চোখের চশমাটা একটু ঠেলে দরজার দিকে তাকায় ওয়াফার হোম টিউটর টিয়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থীর কাজ হলো নিয়মিত ওয়াফার হোমওয়ার্ক কমপ্লিট করে দেওয়া।
ঐক্যকে আজ এইসময় দেখে মেয়েটার চোখজোড়া চকচক করে উঠে। গদগদ হেসে বলে,
— স্যার আপনি? এত তাড়াতাড়ি? না মানে আজ এত তাড়াতাড়ি ফিরলেন।
ঐক্য মনে মনে বিরক্ত বোধ করলো। মেয়েটার এই অতিরিক্ত তোষামোদি ঐক্যর পছন্দ হয়না। ঐক্য ওয়াফার গভর্নেস থেকে শুরু করে সব মহিলা টিচারদের সাথে সবসময় প্রফেশনাল সম্পর্ক মেইনটেইন করে। তাদের সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলা হয় শুধুমাত্র ওয়াফাকে কেন্দ্র করে। বাট এই মেয়েটাই শুধুমাত্র লিমিটক্রস করে ঐক্যকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে বিরক্ত করে।
— এমনিই। আপনি এখন যেতে পারেন। সাবের আপনাকে বাসায় সেইফলি পৌঁছে দেবে।
ঐক্যর কাটকাট গলায় মেয়েটার মুখের হাসিটা মুছে গেল। মন খারাপ করে বললো,
— তার দরকার নেই স্যার। আমি চলে যেতে পারব অটো নিয়ে।
— মিস টিয়া আপনাকে বলা হয়েছেই আপনি অলওয়েজ বাড়ির গাড়িতে করে ফিরবেন। আপনি যেহেতু আমার মেয়েকে পড়াতে আসেন। সেক্ষেত্রে আপনাকে সেইফলি বাসায় পৌঁছে দেওয়া আমার দায়িত্ব।
ঐক্যর গম্ভীর গলায় মেয়েটা আর কোন কিছু বলার সাহস পায়না৷ মনে মনে ঐক্য নামক বদরাগী লোকটাকে সে ভয় পায় তাতো সত্যি৷ মাথা দুলিয়ে নিজের টোট ব্যগটা নিয়ে ওয়াফার থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়ে যায়।
মেয়েটি যেতেই ঐক্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। সে কোন কচি খোকা নয়। একজন মেয়ের অস্বাভাবিক চোখের ভাষা সে বোঝে। একবাচ্চার বাবার প্রতিও এই বয়সের মেয়েদের ফ্যান্টাসি দেখে ঐক্য আশ্চর্য হয়ে পারেনা৷ ওয়াফাকে ধরে ঐক্য বাকি হোমওয়ার্ক করাতে চাইলো। কিন্তু মেয়ের মোচড়মুচড়ি আর অনিহায় বুঝলো এসব তার কর্ম নহে। তাই মেয়েকে কোলে নিয়ে নিজের রুমের ছাদ বারান্দার দোলনায় বসলো। ঐক্য বসতে না বসতেই ওয়াফা গল্প জুড়ে দিল। ভীষণ উচ্ছ্বাসের সহিত আজকের সারাদিনের বর্ণনা দিতে লাহলো। ঐক্য কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে মনোযোগী শ্রোতার ন্যায়
মেয়ের বকবক শুনতে লাগলো।
— পাপা জান আজ না আমি আর পিপ্পি অনেক মজা করেছি। জয়ল্যান্ডে হর্সের পিঠে চড়েছি৷ নারদোলায়ও চড়েছি ।
— ওটা নাগরদোলা মা।
— হ্যাঁ হ্যাঁ এটাই। সুইটি আন্টি না প্রথমে অনেক ভয় পেয়েছিল জান?
বলতে বলতে মুখে হাত দিয়ে ওয়াফা হেসে কুটিকুটি হয়। ঐক্য ভ্রু কুঁচকে বলে,
— সুইটি আন্টি কে?
ওয়াফা অবাক স্বরে বলে,
— তুমি সুইটি আন্টিকে চেনোনা পাপা? ওমা ওই যে দুষ্ট ছেলেটার মা। যে আমার চুল টেনে দিয়েছিল৷
ওয়াফার এমন অবাক স্বর শুনে ঐক্যর মনে হচ্ছে তার সুইটি আন্টিকে না চিনে সে মস্ত বড় কোন অপরাধ করে ফেলেছে।
— কি হলো পাপা মনে পড়েছে?
–হ্যাঁ? হুম আম্মাজান মনে পড়েছে।
তারপর নিজেনিজে বিড়বিড় করে বললো,
— মনে থাকবেনা আবার৷
ওয়াফা বলে যায় নিজের মতো। তার কথার বেশিরভাগই তার সুইটি আন্টি আর দুষ্ট ছেলে আরশানকে ঘিরে। কখনো সুইটি আন্টির গুণগান করছে তো কখনো সুইটি আন্টির ছেলের নামে নালিশ।
ঐক্য সেইসব খুবই মন দিয়ে শুনে চলেছে৷ ওয়াফা হঠাৎ করে বলে উঠে
— সুইটি আন্টিকে না খুব মা মা ফিল হয়েছিল পাপা।
ঐক্য হতবাক হয় যায় মেয়ের কথা শুনে। স্তব্ধ হয়ে তার দিকে নিষ্পাপ চোখে তাকিয়ে থাকা মেয়ের দিকে চেয়ে থাকে।
★★★
-কেমন আছো আম্মু?
ওপাশের ভদ্রমহিলা রাশভারী আওয়াজে বললেন,
— এইতো আল্লাহ যেমন রেখেছেন। তুমি কেমন আছো?
— ভাল আছি।
— খেয়েছ?
— না ধ্রুবর সাথে খাব একসাথে।
— এই অবস্থায় এত রাত অবধি এখনো না খেয়ে আছ? কোথায় তোমার স্বামী?
— ও এখনো বাসায় ফেরেনি৷
ভদ্রমহিলা ভ্রু কুঁচকে বললেন,
— রাত সাড়ে এগারোটা বাজতে চললো এখনো বাসায় আসেনি তোমার স্বামী? ইরা ধ্রুব কি প্রতিদিন লেইট করে বাসায় ফেরে?
মায়ের প্রশ্নে ইরা নিরুত্তর রইলো। ইরার নিশ্চুপতায় ভদ্রমহিলা সন্দিগ্ধ গলায় জিজ্ঞেস করলেন,
— ইরা সত্যি করে বলো তোমার আর ধ্রুবর মধ্যে সব ঠিক আছেতো?
ইরা দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে বলে,
— হ্যাঁ মা সব ঠিক আছে।
— তাহলে…
–মা বাবা কোথায়? তোমাকে আমার সাথে কথা বলতে আবার দেখে নেবে না তো?
ভদ্রমহিলা বুঝলেন ইরা বিষয়টা এড়িয়ে যেতে চাইছে।
— তোর বাবা প্রেশারের ঔষধ খেয়ে ঘুমোচ্ছেন।
— ইশান কোথায়?
— কি জানি খেয়েদেয়ে রুমের খিল দিয়েছে। ছেলে-মেয়েরা বড় হলে তাদের বিষয়ে বাবামায়ের হস্তক্ষেপ মানা। নিজেরা যা করবে সেটাই সঠিক, সেটাই নীতি।
ইরা মায়ের খোঁচা হজম করে জিজ্ঞেস করে,
— মা বাবা কি আমার সাথে কোনদিনও কথা বলবেনা?
— আমি আর কি বলব বলো। তুমি যেটা করেছ তার পরে তোমার বাবার এই প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক!
ইরার চোখ ভরে উঠে অকারণে। ধরা গলায় বলে উঠে,
— আমি কি অনেক বড় অন্যায় করে ফেলেছি মা? যে বাবা আমার মুখটাও দেখা বন্ধ করে দিয়েছে?
— তুমি যে অন্যায় করেছ দোয়া কর তোমার পাপের ভার যেন তোমার পেটের সন্তানের উপর না পড়ে।
ইরা আঁতকে উঠল,
— মা এসব কি বলছো তুমি?
— আমি শুধু সত্যিটা বলছি মা৷ তুমি আমার খুবই আদরের সন্তান। কিন্তু মা বলে তো নীতি আর বিবেকবোধ খুইয়ে অন্যায়কে অন্যায় বলা ছেড়ে দেবনা তাইনা? ধ্রুবর একটা ভরা সংসার ছিল মা! চাঁদের মত ফুটফুটে এক সন্তান ছিল৷ কিন্তু তুমি কি করলে? সেই সংসারটাকে ধ্বংস করে ছাড়লে। একটা নির্দোষ মেয়ের থেকে তার স্বামী ছিনিয়ে নিলে।
এক শিশুর মাথার উপর থেকে বাবার ছায়া কেড়ে নিলে৷ এবার তুমিই বলো তোমার এইসব পাপের প্রতিফল কি তোমার সন্তানের উপর পড়বেনা?
ইরা নিশ্চুপ রইলো। হঠাৎ করেই ওর বুকটা ভার ভার লাগছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ও বড় করে একটা নিঃশ্বাস টেনে বললো,
— ধ্রুবকে আমার ভালোবাসা ছিল মা। তাহলে আবৃতি ওকে বিয়ে করে আমার থেকে কেন কেড়ে নিয়েছিল?
ইরার মা হেসে বললেন,
— ইরা মা তোমার বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়েছে।
ইরা তাচ্ছিল্য হেসে বললো,
— তোমাদের দৃষ্টিতে ইরাই ভিলেন। কিন্তু যাকে আমি পাগলের মতো ভালোবাসতাম। যে শুধু এবং শুধুমাত্র আমার ছিল। তাকে কেউ হঠাৎ এসে আমার থেকে ছিনিয়ে নিল। তাতে নেই কোন অন্যায়। আর আমি খারাপ কেননা আমি কারো স্বামী ছিনিয়ে নিয়েছি। সমাজের চোখে এটা পাপ! কেন? শুধুমাত্র বৈধ বলে?
ওপাশের ভদ্রমহিলা হতাশ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন,
— ইরা না আমি তোমাকে আগে বোঝাতে পেরেছি। না বোধহয় কোনদিন পারব। তুমি সবসময় তোমার মর্জি মাফিকসই চলে এসেছ। এবার সেটা হোক পাপ। সে যাইহোক আমি তোমার মা। একজন মা কোনদিন চাইবেনা তার সন্তান কষ্টে থাকুক।
ইরা কিছু বলতে নেবে কিন্তু হঠাৎ ঘরের কলিং বেল বেজে ওঠে।
— আম্মু আমি রাখছি। ধ্রুব এসেছে বোধহয়। পরে কথা বলব।
–
দরজা খুলে ধ্রুব দেখে ইরা থমথমে মুখে দাড়িয়ে আছে৷
— কি হলো তুমি এখনো জেগে আছ কেন?
— আমার স্বামী বাইরে আছে৷ আর তুমি বলছো আমাকে ঘুমিয়ে থাকতে৷
ধ্রুব প্রশ্ন এড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো,
— ঔষধ সবগুলো খেয়েছ ঠিকভাবে?
— আমি এখনো ডিনার করিনি৷
ধ্রুব অবাক গলায় বলে,
–হোয়াট? কেন?
— আমি অপেক্ষা করে ছিলাম তুমি আসলে একসাথে ডিনার করব। এই বাড়িতে আসার পর থেকে তো আমাদের একসাথে ডিনার করাই হয়না৷ কিন্তু তুমি এত লেইটে ফিরবে কে জানতো? তা এত লেইট করার কারণটা কি ধ্রুব?
ধ্রুব গম্ভীর গলায় বললো,
— আমার কাজ থাকে ইরা। শখে তো আর বাইরে পড়ে থাকিনা।
ইরা শক্ত কন্ঠে বললো,
— আমি আসাদ ভাইকে ফোন করেছিলাম ধ্রুব। সে বলেছে তুমি সেই সাড়ে সাতটায় বের হয়ে গিয়েছিলে। তাহলে কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলে এত রাত অবধি?
ধ্রুব হঠাৎ রেগে গিয়ে চিৎকার করে উঠে,
–আমার সব কাজের কৈফিয়ত কি এখন তোমাকে দেওয়া লাগবে ইরা? আমার কি প্রাইভেট স্পেচ বলে কিছুই নেই। প্রতিদিন ঘরে অশান্তি। তাই দেরী করে বাসায় ফিরি একটু শান্তির জন্য। এখন দেখি এতেও জ্বালা। আমি কি এবার মরে যাব? তাহলে হবে তোমার শান্তি?
ধ্রুবর চিৎকারে কেঁপে ওঠে দুই পা পিছিয়ে যায় ইরা। ওর দু’চোখে অবিশ্বাস!
চলমান….