ক্যাটাগরি-থ্রিলার+রোমান্টিক+সামাজিক+ রিভেঞ্জ)
নায়ক এবং নাইকা দুই জনই স্ট্রং পারসোনালিটির।
প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুক্তমানদের জন্য উন্মুক্ত।💫
- লেখিকা:নাজনীন নাহার
part:01
– ‘আমি কোনো বিয়ে টিয়ে করতে পারবো না এখন মা। তুমি বুঝচ্ছো না কেনো!’
– ‘দেখ মা ছেলেটা অনেক ভালো তোর সাথে খুব মানাবে। ছেলের বংশও ভালো, আর ওদের ও তোকে খুব পছন্দ হয়েছে।’
-‘ ভাবি আন্নের মাইয়ার লগে কিন্তু হেব্বি মানাইবো, এই রহম পোলা কি বার বার পাওয়া যায় নাকি, পাইছেন হাত ছাড়া কোইরেন না ভাবি। আমি তো চাই একটা ভালো পোলার লগে একটা ভালো মাইয়ারে মিলাইতে চাই আর কি?’
– ‘এই শুনুন আমার বিয়ে নিয়ে আপনাকে এতো ভাবতে হবে না। এতো বিয়ের ইচ্ছে থাকলে নিজে আর একটা করেন। আর মা শুনো তুমি এই রকম করবে বুঝলে আমি কখনোই তোমার সাথে গ্রামে আসতাম না আর তুমি আমায় বিয়ের কথা এক বারও বল্লে আমি ঢাকায় চলে যাব।’
বলে জ্যোতি চলে গেল রুম থেকে।
-‘হোনেন ভাবি আমহের যে মাইয়ার তেজ এরে তো আর কয়দিন পড় কেউ বিয়া সাদি করবো না এহন ভালোয় ভালোয় এটার গলায় জুলাইয়া দেন, যে চোপা হোউর বাড়ি ভাত খাওনে কষ্ট আচে।’
কথা গুলো শুনে আসিয়া খান বসে রইলো। আসলেই তো তার মেয়ে একটুতেই রেগে যায় এমন কেনো এই মেয়ে আগে তো এমন ছিলো না দিন দিন যেন খুব রুড হয়ে যাচ্ছে না এবার বিয়ে দিতেই হবে স্বামীর এই মেয়েকে সামলাবে। কিন্তু তার মেয়ের যে মেজাজ আদৌও কোনো ছেলে তাকে সামলাতে পারবে?
– ‘তোর বোন তো বিয়ে করতে রাজিই হচ্ছে না জবা। কি করি বল তো?’
-‘ওকে জোড় করো না মা ও যখন নিজে থেকে চাইবে তখনই না হয় ওকে বিয়ে দিব আমরা। আর তোমায় ওর বিয়ের কথা কে বলে বার বার ওই রাশেদা ঘটক বুঝি?’
– ‘এখনই তো ওর বিয়ের ঠিক সময় মা। মেয়েদের বিয়ের একটা বয়স থাকে যে সময় সবাই তাদের পছন্দ করে। কিন্তু একটা সময় পড় এই চাহিদাটা আর থাকে না। ‘
কথাটা মনে হয় জবার খুব একটা পছন্দ হলো না।
– ‘কি ভাবে সবাই আমার বোনকে বাজারের সবজি নাকি যে চাহিদা থাকা লাগবে। আমার বোনকে আমি ওর পছন্দ মতো বিয়ে দিব। তোমায় ভাবতে হবে না।’
কথাটা বলেই জবা মায়ের কল টা কেটে দিল। উওরের অপেক্ষা করলো না তার বোন তার পুরো পৃথিবী আর তার পৃথিবী নিয়ে কারো কাছে একটু সমান কট্ট কথা সজ্জ হয় না এমন কি মায়ের কথাও নয়।
জ্যোতির মন খারাপ করার জন্য এই ঘটক একাই শ্রেয়। সেই দুপুর থেকে রুমের দরজা লক করে উপন্যাস পড়ছে। পুরো একটা উপন্যাস পড়া শেষ তাও মন ভালো হচ্ছে না। জ্যোতি এমনিতে উপন্যাস খুব একটা পড়ে না কিন্তু মন খারাপ থাকলে পড়া হয় কিন্তু আজ হচ্ছে না। এর মধ্যে দুবার মা এসে খেতে ডেকে গেছ কিন্তু জ্যোতি একটি বারও কোনো উওর দেনি।
-‘আচ্ছা আমি যদি আজকেই ঢাকায় চলে যাই তাহলে কেমন হবে? সবাইকে একটু ভয় দেখানো যাবে। তাহলে তারাতারি সব প্যাক করেনি আজ রাতেই ঢাকায়। ‘
যে কথা সে কাজ জ্যোতি শুরু করলো সব কিছু প্যাকিং করা। কিছুক্ষণের মধ্যে সব প্যাকিং হয়েও গেলো।
-‘কিন্তু আমি বাসা থেকে এখন তো বের হতে পাড়বো না মা ঘুমোলে বের হতে হবে।’
রাত ১১:৪৫। জ্যোতি খুব সাবধানে বাসা থেকে বের হয়ে সোজা বাস স্ট্যান্ডে গেলো। ঢাকার একটা টিকিট কিনলো কপাল ভালো ছিলো যে তার আসার দশ মিনিট পরেই বাস।
সকাল ৬ টা নাগাদ চলে আসলো ঢাকায়। বাসায় এসে ঘুমালো। ঘুম থেকে উঠে দেখে সন্ধ্যা ৩ টার বেশি বাজে।
– ‘আয় হায় এতো সময় ঘুমিয়েছি আমি এতক্ষণে তো সবাই জেনে গেছে। নিশ্চিতই খুজছে আমায়। খুঁজুক তাতে আমার কি আরও বলো বার বার বিয়ের কথা আমি তো আগামি পাঁচ দিনেও ফোন অন করবো না।’
একথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। জ্যোতি হকচকিয়ে দরজার কাছে গেল ভাবছে কে এলো। আবার চোর টোর নয় তো। আমি ও না কি যে বোকা চোর কি আর কলিং বেল বাজিয়ে আসবে। ডোর বিউয়ার দিয়ে দেখে জ্যোতি পুরো থমকে গেল।
-‘আপু এখাবে! এখন! কি করে! ‘
জ্যোতি ভয়ে ভয়ে দরজা খুললো আজ তার কপালে মার আছে নিশ্চিত।
– ‘আরে আপু তুই এখানে? এই সময়? কি মনে করে?’
-‘এতো গুলো প্রশ্ন করছিস কোনটা রেখে কোনটার উওর দিব?’
-‘আচ্ছা একটারই উওর দে। তুই এখানে কেন?’
– ‘তুই হঠাৎ করে ঢাকায় চলে এলি তাও আবার একা। আমাদের কি চিন্তা হয় না?আর মা যখন বললো তোকে খুজে পাচ্ছে না আমি তখনই বুঝছি তুই এখানে ছাড়া আর কোথায়ও বা যাবি তাই চলে এলাম।’
জ্যোতির খুব রাগ হলো আর প্লানটা কাজই করলো না। আপু কি করে সব বুঝে যায়। কিন্তু রাগ করলেও তাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না এই একমাত্র মানুষ যে জ্যোতিকে বুঝে।
-‘কি ভাবছিস তোর এই বাদরামি প্লান আমি যেনে যাই কি ভাবে? তুই হয়তো ভুলে যাচ্ছিস আমরা কিন্তু একই শুক্রাণু ডিম্বানুর। ‘
কথাটা বলে জবা আর জ্যোতি দুজনেই হেসে দিল জোরে। এ হাসি যেন থামবার হয়। দীর্ঘ পাঁচ মিনিট পর তাদের হাসি থামলো। যদিও থামতো না এর মধ্যেই আসিয়া খানের কল আসলো জবার ফোনে।
-‘পেয়েছিস ওকে?’
-‘হ্যাঁ। আর যাবে কোথায় ওর তো স্বামী বাড়িও নেই যে যাবে।’
আসিয়া খানের কথাটা যেন খুব পছন্দ হলো হেসে দিলো সে আর ফোনের এপাশ থেকে জবাও হাসছে। হাসি থামিয়ে জবা মাকে বলল- ‘আচ্ছা মা তুমিও চলে এসো আজই।’
– ‘না আমার কিছু জরুরি কাজ আছে সেটা গুছিয়ে এক সাথে আসবো। তুই জ্যোতির আর নিজের খেয়াল রাখিস।’
-‘ওকে মম। বায়য়য়য়য়’।
জবা এসে রান্না করলো। রান্না শেষে জবা জ্যোতিকে খেতে ডাকে-‘ এই যে আপা খেতে হবে না নাকি?’
– ‘খিদে নেই আমার খাবো না।’
– ‘এই সব বল্লে তো হবে না অনেক কষ্ট করে রান্না করেছি খেতেই হবে।’
– ‘আসছি।’
দুই বোন থাকলে এই একটা বড় সুবিধা বিশেষ করে যে ছোট তার। কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। পরিবার, খাওয়া-দাওয়া, টাকা পয়সা বা অন্য যে বিষয়ই হোক না কেনো ছোটরা এই সব জামেলা থেকে মুক্ত থাকে আর তার ফায়দা খুব ভালো করেই লুটছে জ্যোতি। তার বড় বোন যেনো একটু বেশিই দায়িত্বশীল নাকি জ্যোতি বেশি অলস সেটা জ্যোতি ভেবে পায় না।
জবা চলে গেলো তার পিছন পিছন জ্যোতিও গেল।
জবা বলল- ‘আয় আজ তোকে খাইয়ে দি আমি।’
জ্যোতি না বলতে যাবে তখন জবা আবার বলল- ‘আজ অন্তত না বলিস না। আমার হাতে খেলে কিই বা হবে? এই হাতে খাইয়ে বড় করেছি আর এখন এমন করিস।’
জ্যোতি হেসে দিয়ে জবার পাশে চেয়ার টেনে বসে খাওয়ার জন্য।
– ‘আব্বু মারা যাওয়ার পর এই প্রথম কারো হাতে ভাত খেলাম। জানিস আপু আমি না কারো হাতে খেয়ে এখন আর তৃপ্তি পাইনা। হয়তো মায়ের হাতেও পাবো না।’
– ‘এটা ভুল মায়ের হাতে খেয়ে তৃপ্তি পায় না এমন সন্তান এই ভূ অভন্তরে নেই।
তাহলে আজ আমার বোনের এই চার বছরের রেকর্ডটা ভেঙে দিলাম। ‘
জ্যোতি মুচকি হাসলো শুধু।
দুবোন গল্প করতে করতে খাওয়া শেষ করলো।
চলবে…