লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী
পার্ট:০৪
★★★দেখতে দেখতে নববর্ষ চলে এলো আজকে তাদের কলেজ অনেক সুন্দর করেই সাজিয়েছে,,
সবাই যে যার মত সেজেগুজে এসেছে মাহি অনেক কষ্টে বাসা থেকে ফোন নিয়ে আসছে,,,,
দুই বান্ধবী একদম সামনের দিকে বসেছে যেন ঠিক ভাবে ভিডিও করতে পারে,,
সিনিয়র ভাইয়া কয়টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গেস্টদেরকে বরন করার জন্য,,
বাড়ি থেকে কল আসার কারনে মাহি শ্রাবণী কে বসিয়ে রেখে একটু সাইডে গিয়ে কল রিসিভ করে কথা বলে আসার সময় একটা ডাক এলো,,
-এই সুন্দরী সুনো,,,
মাহি হাঠাৎ ডাকে পিছন পিরে দেখে রিমন দাড়িয়ে আছে একটা ফুলের ডালা নিয়ে যে গুলো দিয়ে গেস্টদের কে বরন করবে,,,
মাহি কথা না বাড়িয়ে শ্রাবণীর পাশে গিয়ে বসল রিমন ও কথা বাড়ালোনা গেস্টদের আসার সময় হয়ে গেছে,,, দুই বান্ধবী ছবি তোলাই ব্যাস্ত শ্রাবণীর কাধে একটা হাতের ইস্পর্স পেয়ে ঘাড় গুরিয়ে দেখলো সাইমা তার কাদে হাত দিয়ে আছে,,
কিরে তুইও দেখি সাজুগুজু করস নাই সুধু ড্রেস পরে আসলি শ্রাবণী সাইমার উদ্দেশ্য বলল
– তোরাতো বোরকা পরে আসলি দেখনা তোরা দুইটা ছাড়া আর কেউ পরছে কিনা,,,,
আসলেই তারা দুই বান্ধবী ছাড়া একটাও বোরকা পড়ে আসেনাই
**** হাঠাৎ চেচামেচিতে শুনাগেল গেস্টরা চলে এসেছে সব ইস্টুডেন্ট যে যার মতো করে বসে পড়লো,, তাদের ক্লাসে কয়েকটা মেয়েকে দেখে মনে হচ্ছে তারা গুরতে এসেছে,, সাইমাও তাদের সাথে বসে পড়লো,, গেস্টরা একএক করে ইস্টেজে উঠলো,,
মেয়েরা এমন ভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে অয়ন আর আরিয়ানকে কাচা গিলে খেয়ে পেলবে,, মাহিতো চমকে উঠলো আরিয়ানকে দেখে এই পাগল এইখানে কি করে? এর আসল পরিচয় কি? মাহি সাইমার কানে পিশ পিশ করে বললো তুইনা বললি এইটা তোর ভাই এইখানে কি করে,,
– হুম আমার ফুফাতো ভাই,,, আরিয়ান চৌধুরী
– মাহি নিজেই ব্যাভাচেকা খেয়ে গেলো সে কার খপ্পরে পড়লো শেষ পর্যন্ত,,,
আরিয়ান মাহিকে ভালোবাবে খেয়াল করেছে সবার প্রথমে বসায়,, মাহিতো সুধু এখন নিজের মুখ লুকাচ্ছে,, হঠাৎ মাইকে মাহির নাম গোষনা করতে দরপরিয়ে উঠে দাড়াল মাহি,, সে ইসলামিক নাসিদে নাম দিয়েছে তার সুন্দর একটি প্রতিভার মধ্যে এইটা একটা তার কন্ঠের সুর অনেক সুন্দর,,,
মাহি ফোনটা শ্রাবনীর হাতে দিয়ে ইস্টেজে উঠলো মাইক হাতে নিয়ে একটা একটা গজল দরলো,,,,,
“””” ঘুমিয়ে আছো মাগো মাটির ঘরে আমাকে একা করে চিরতরে “”””
আরিয়ানতো হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে মাহির দিখে তার চোখ দুটো যেন আটকে গেছে গাজল গাওয়া রমনীর দিকে,,,
আরেক জনে মনেযোগ দিয়ে বান্ধবীকে ভিডিও করতেছে তার চোখ দুটো একান্ত তার বান্ধবীর দিকে একচুলও নড়লোনা,
সব মেয়েদের মুখে আরিয়ান আর অয়নের প্রসংশা,,,, অয়ন ঠিকি খেয়াল করেছে সামনে বসে থাকা শ্রাবণীকে সব গুলোকে এক রকম লাগতেছে আর এই দুইটাকে এক রকম লাগতেছে,,
মুখুশ এর আড়ালে মুখ না বুঝা গেলেও চোখ দুটো দেখা যাচ্ছে ঠিকই কিছু মানুষ চেহারার মায়ায় পড়ে কেউ বা চোখের মায়ায় আবার কেউ পড়ে কন্ঠের মায়ায়।
,,,শ্রাবণী একবার এ তাকিয়েছে অয়নের দিকে,, ইস্টেজে উঠার সময়,,,
এইটা সত্যি যে আমাদের মানুষের দৃষ্টি কিন্তু সেইটার দিকে আকর্ষন হয় যেটা সব থেকে আলাদা যদি সেটা কনো জিনিস অথবা মানুষ, তেমন অয়ন এর দৃষ্টি কিন্তু শ্রাবণীর দিকে সব মেয়েরা তাকে নিয়ে গচিপ করতেছে সুধু এই একটা মেয়ে ছাড়া,,,,
মাহি গজল শেষ করে নিজের জায়গায় এসে বসে পড়লো,,
**** আরিয়ান তো এখনো ঘোরের মধ্যে আছে,,,
আরিয়ান অয়নকে বললো,, ভাইয়া,
– বল
– ওই দিন আমার ঘাড়ির কাচ এই মেয়েটা বেঙ্গছে
– কি বলিস
– হু,,,
– আচ্ছা বাদদে ছোট মানুষ,,
– ছোট দেকেইতো কিছু বলিনাই
– হুম
স্যার রা একে একে বক্তব্য শেষ করলো এখন একজন স্যার অয়নের উদ্দেশ্য বললো এখন একটা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিবে অয়ন চৌধুরী,,,
অয়ন মাইক হাতে নিয়ে তার বক্তব্য শুরু করলো মেয়ে গুলাতো ভিডিও করায় ব্যাস্ত আর দুই বান্ধবী নিজেদের ছবি তোলাই ব্যাস্ত,,,
*** অনুষ্ঠান শেষে দুই বান্ধবী গেটের সামনে গিয়ে ছবি তুলতেছে গেটটা অনেক সুন্দর করেই সাজিয়েছে
শ্রাবণী মাহির ছবি তুলতে তুলতে হঠাৎ মনে হলো কারো পিঠের সাথে ধাক্কা খেলো।