গল্প: তুমি এলে তাই (০৫)

লেখিকা:নুর নাহার শ্রাবণী

পার্ট  : ০৫

****** হঠাৎ কারো পিঠের সাথে ধাক্কা খাওয়াই শ্রাবণী পিছন পিরে দেখে অয়ন তার দিকে তাকিয়ে আছে,,,
-সরি স্যার আমি খেয়াল করিনি আমাকে ক্ষমা করবেন
– কেনো দেখে চলতে পারোনা,,
শ্রাবণী চোখ নিচু করে রেখেছে ভয়ে লজ্জাই,,
– এই মেয়ে আমার দিকে তাকাও তুমি কি মাটির সাথে কথা বলতেছো নাকি আমার সাথে কথা বলতেছো হুম,,
শ্রাবণী চোখ উঠালোনা
– আমাকে মাপ করবেন, এই বলে শ্রাবণী মাহিকে নিয়ে দোড়ে পালালো সেই জায়গা থেকে,,

**অয়ন কি বলবে কিছু বুঝতে না পেরে নিজের চুল খমছে দরে শ্রাবণীর পানে তাকিয়ে আছে আর মনে মনে আওড়ালো ভিতু মেয়ে সত্যি এই মেয়ে অনেক দামি যার দাম টাকা দিয়ে নয় সম্মান ভালোবাসা দিয়ে কিনতে হবে ,,,
আরিয়ান অয়নের সামনে দাড়িয়ে অয়নের চোখ বরাবর সেও তাকালো দেখলো শ্রাবণী আর মাহি ঘাড়ির জন্য দাড়িয়ে আছে,,
– কি হলো ভাইয়া কি দেখছো এমন করে?
– কনো এক মহিয়সী নারী
– কি বললে তুমি?  তুমি কি দেখতেছো,,
অয়ন যখন বুঝতে পারল কি বললো সে নিজে নিজে বোকা বনে গেল,,
– কিছু বলিনি যা শুনছত ভুল শুনছত  আরিয়ানের পিঠে থাপ্পড় মেরে বললো।

** দুই ভাই বাসায় চলে এলো,,,  সঙ্গে সাইমা ও ছিলো
যে যার রুমে চলে গেল।
অয়ন ফ্রেশ হয়ে নিচে নামতেই দেখলো মাহিম চৌধুরী টিভিতে খবর দেখতেছে,,
একজন সাংবাদিক বলতেছে মিস্টার আমিন খান এর অফিস পুড়ে গেছে কিভাবে হলো কেউ বুজতে পারলোনা,, অয়ন এর মুখে জয়ের হাসি,,
– অয়ন সব ঠিকঠাক আছে আমাদের অফিসে?
– জি চাচ্চু সব ঠিক আছে তুমি চাইলে সব দেখে আসতে পারো
– নাহ বাবা তোমার উপর বিশ্বাস আছে আমি জানি তুমি সব সামলে নেবে, আর হ্যা কাল থেকে দুই ভাই এক সাথে অফিস এ যাবা তুমি আরিয়ানকে সব কিছু বুঝিয়ে দিও ও ভুল করলে তুমি শাসন করে ঠিক করে দেবে,,
– আচ্ছা চাচ্চু,,
আরিয়ান দাড়িয়ে এতক্ষণ বাবা ভাইয়ের সব কথা শুনলো,, বাহ বাহ আমাকে নিযে এত কথা,, অয়ন মুখ ছেপে হাসতেছে রুপা চৌধুরী নাস্তা দিয়ে গেল তাদের কে।
অয়নকে নাস্তা করে আবার অফিসএ যেতে হবে ,,,, অনেক কাজ পড়ে আছে।

** শ্রাবণীর পথেই রিফাত এর সাথে দেখা,,, কেমন আছেন শ্রাবণী?
– আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?
– আলহামদুলিল্লাহ ভালো,,  শ্রাবণী রিফাত এর চোখের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেনা তাই চোখ নিচু করে পেলল রিফাত এর হাতে একটা গিপ্ট বক্স সে গিপ্ট বক্সটা শ্রাবণীর দিকে বাড়িয়ে দিলো
– জর্ন্ম দিনের অগ্রিম শুভেচ্ছা,,
শ্রাবণী নিজের চোখ কে বিশ্বাস করাতে পারছেনা এইটা সত্যি নাকি স্বপ্ন নিজের ঘোর কাটানোর জন্য নিজে নিজের হাতে একটা চিমটি কাটলো
– উজ
– কি হলো শ্রাবণী
– না, তেমন কিছুনা আমি এই গিপ্ট নিতে পারবোনা, আর আপনি জানেন কিভাবে আমার কালকে আমার জর্ন্মদিন
– যেই মানুষ টা প্রতি পদে পদে আমার উপর তিক্ন দৃষ্টি রাখে তার জর্ন্মদিন এই টুকু জানতে পারবোনা?
শ্রাবণীতো খুশিতে কান্না করে দিছে এইটা সত্যি ,, রিফাত শ্রাবণীর হাতে গিপ্ট বক্স দিয়ে বাড়ির দিকে হাটা দরলো,,, ভালো থাকবেন,,,
শ্রাবণী এখনো বুঝে উঠতে পারছে কি করবে সে গিপ্ট বক্সটা ব্যাগের মধ্যে নিয়ে বাড়ির দিকে যেতে লাগলো,,,

***রাত নয়টার কাছাকাছি শ্রাবনী ফোন হাতে নিয়ে মাহিকে কল করছে,,,
– কিরে কল দরতে এত দেরি হয় কেন?
– সরি জানু ফোন আমার কাছে ছিলোনা আচ্ছা কি বলবি বল আমার মনে হচ্ছে কনো ইনপটেন্ট কথা  বলে পেল,,
শ্রাবণী মাহিকে সব বললো রিফাত সবার আগে শ্রাবণী কে উইশ করলো মাহির মন খারাপ হয়ে গেল সে চেয়েছিলো সে সবার আগে উইশ করবে,,,গিপ্ট টা আনবক্স কর আমি দেখবো কি দিছে,,
– জানু রাগ করিসনা আমি কালকে আনবক্স করবো ওকে,,,
-আচ্ছা ঠিক আছে,, দুই বান্ধবী তাদের কথা শেষ করে কল কেটে দিছে,,

*** কি করতেছো আপু তাসনুবা সাইমার উদ্দেশ্য বলল
– কালকে আমার ফ্রেন্ড একটার Brith day  ওই কারনে গিপ্ট বক্সটা ঠিক করছি
– ওহ আচ্ছা,,  তুমি আপুটাকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসিও
– আচ্ছা দেখা যাক কি হয়
– ওকে আপু,,,
হঠাৎ আরিয়ান এসে তাসনুবার মাথায় গাড্ডা মেরে বললো কিরে বইনা কি করছ তোরা আমিও একটু দেখি
– আচ্ছা ভাইয়া তুমি ছোট?  তোমার এইখানে কাজ কি?
– তুই বেশি কথা বলতেচিস বনু,,  সাইমা হাসতেছে দুই ভাই বোনের দুষ্টু মিষ্টি ঝগড়া দেখে,,
– এই সাইমা তুমি হাসতেছো কেন, আমাকে দেখে জোকার মনে হয়?
– আরে নাহ ভাইয়া জোকার কেন মনে হবে আমারতো গর্ব হয় তোমার মতো একটা ইসর্মাট সুদর্শন ভাই আছে
– দেখলি তাসনুবা সাইমার থেকে কিছু শিখ
– হইছে হইছে এত খুশি হওয়ার কিছু নেই সাইমা আপু তোমাকে পাম দিছে,,
– যাহ তোর সাথে কনো কথাই বলবোনা
– ভাইয়া রাগ করোনা আমি দুষ্টামি করছি, তুমি সত্যি আমার সুদর্শন ভাই”””
আরিয়ান হাসতে হাসতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল,,

★★★ চলবে,,,,,ভুল হলে ক্ষমর দৃষ্টিতে দেখবেন 🙏

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x